ভোলা সদরে জামায়াতের কেন্দ্রভিত্তিক প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটির প্রতিনিধি সমাবেশ ২০২৫ সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রায় ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে উপজেলার আওতাধীন প্রতিটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনী ভোটকেন্দ্রের গঠিত ১০১ ও ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কামাল হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভোলা-১ আসনের দলীয় মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা আমির মাস্টার মো. জাকির হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারুন অর রশিদ, মিডিয়া সম্পাদক অধ্যাপক আমির হোসাইন, অর্থ সম্পাদক মাস্টার বেলায়েত হোসাইন ও ভোলা পৌর আমির মাওলানা মো. জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ভোলা-১ আসনের নির্বাচন পরিচালক ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার মো. নুরুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনে তৃণমূল প্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা, অন্যায় ও জুলুম প্রতিরোধ এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংগঠনের কেন্দ্রভিত্তিক কর্মীদের সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, কোনও রক্তচক্ষু বা ভয়ভীতির কাছে নত না হয়ে ইসলামের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনা, কেন্দ্রভিত্তিক কার্যক্রম এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সংগঠনের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলে অংশগ্রহণকারীরা জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জাতীয় সমাবেশ শেষে অসুস্থ, এনজিওগ্রামে ধরা পড়ে ৪টি ব্লক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হৃদযন্ত্রে চারটি ব্লক ধরা পড়ায় আগামী শনিবার (২ আগস্ট) সকালে তার বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হবে। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে সকাল ৭টায় এই অস্ত্রোপচার পরিচালনা করবেন দেশের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, আমিরে জামায়াতের দ্রুত সুস্থতার জন্য নফল নামাজ, রোজা ও দান-সাদাকার মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দোয়া করার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের প্রিয় রাহবারকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন এবং পূর্ণ শক্তি নিয়ে দ্বীনের ময়দানে ফিরে আসার তাওফিক দেন—আমরা সেই দোয়াই করছি।”

তিনি আরও জানান, গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আমিরে জামায়াত। পরে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে বড় কোনো জটিলতা ধরা না পড়লেও, পরে ৩০ জুলাই ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনজিওগ্রামের মাধ্যমে জানা যায়, তার হৃদযন্ত্রে চারটি ব্লক রয়েছে।

বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন এবং স্বজনদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।

এদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে শুক্রবার দেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন দোয়ার মাধ্যমে এই সংকটে আমিরে জামায়াতের পাশে থাকেন।




শুল্ক কমলেও পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট নয়, চুক্তির বিস্তারিত জানতে চান আমীর খসরু

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত পাল্টা শুল্ক হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে নামায় রপ্তানি খাতের জন্য এটিকে একটি ‘সন্তোষজনক অবস্থা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এটি জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ২০ শতাংশ শুল্ক আমাদের জন্য তুলনামূলকভাবে একটি ভালো অবস্থান তৈরি করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন আছি ২০ শতাংশে, পাকিস্তান ১৯, ভিয়েতনাম ২০ আর ভারত ২৫ শতাংশে। এ দিক দিয়ে তুলনামূলকভাবে অবস্থানটা খারাপ নয়।”

তবে এই শুল্ক হ্রাসের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তাবলি বা আলোচনার অন্যান্য দিক জানা না থাকায় পুরো প্রক্রিয়ার প্রভাব নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

“এটা একটা প্যাকেজ ডিল। এখানে ট্যারিফ ছাড়াও আরও অনেক বিষয় রয়েছে। আমরা জানি শুধু ট্যারিফের হার, কিন্তু এর বিপরীতে আমাদের কী দিতে হয়েছে তা জানি না। এসব প্রকাশিত হলে বিষয়টি ভালোভাবে মূল্যায়ন করা যাবে,” বলেন আমীর খসরু।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা এই মুহূর্তে কিছুটা কমেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। “২০ শতাংশ শুল্ক এই মুহূর্তে আমাদের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। তাই আপাতত এটাকে একটি স্বস্তিকর পদক্ষেপ বলা যায়,” মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা।

সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণার সঙ্গে ট্যারিফ ইস্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কিনা— এমন প্রশ্নে খসরু বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ আরোপ মূলত তাদের স্বার্থে। আমাদের কী কী দিতে হয়েছে বা এর বিনিময়ে কী কিছু নেওয়া হয়েছে, তা না জানা পর্যন্ত মূল্যায়ন করা যাবে না।”

তিনি বলেন, “শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য দেশেও আমাদের পণ্য রপ্তানি হয়। সামগ্রিকভাবে রপ্তানি নীতির দিক থেকে আমাদের কোথায় অবস্থান সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি রপ্তানিকে আরও বহুমুখী করতে হবে। কেবল আমেরিকা নির্ভরশীল অর্থনীতি দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনের চুক্তি বা আলোচনার বিষয়গুলো সরকারের উচিত প্রকাশ করা, যাতে অর্থনীতির সার্বিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা যায়।




জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির প্রতিশ্রুতি

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সনদ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় প্রধান শেখ আহমেদ এবং মহাপরিচালক মুফতি খলিল আহমেদ কাসেমীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ৮২৬টি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ৫১টি বাদে বাকি সবকিছুতেই বিএনপি একমত। সনদের প্রতিটি ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিএনপি দলীয়ভাবে কাজ করছে এবং প্রক্রিয়াগত দিকগুলো প্রায় চূড়ান্ত।

সালাহউদ্দিন আহমেদের সাথে থাকা দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছি না। আশা করছি, সরকার খুব দ্রুত নির্বাচন বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবে।”

এ সময় বিএনপি নেতারা হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমীর মাওলানা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। ধর্মীয় অনুভূতি এবং রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই জিয়ারতকে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জুলাই সনদ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই আলোচনা তুঙ্গে। এই সনদকে সামনে রেখে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা ও নির্বাচনী কাঠামোর রূপরেখা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে আশার আলো হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবি জোরালো

বরগুনা জেলায় আগের তিনটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে স্থানীয়দের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের খসড়া তফসিলে এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

স্বাধীনতার পর বরগুনা-১ (সদর ও বেতাগী), বরগুনা-২ (পাথরঘাটা ও বামনা), বরগুনা-৩ (আমতলী ও তালতলী) এই তিনটি সংসদীয় আসনে বিভক্ত ছিল উপকূলীয় এই জেলা। কিন্তু ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বরগুনার আসন সংখ্যা তিন থেকে কমিয়ে দুটি করা হয়—বরগুনা-১ (সদর, আমতলী, তালতলী) ও বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বেতাগী, বামনা)।

এতে করে প্রশাসনিক জটিলতা ও নির্বাচনী সময় পরিবহন সমস্যা বাড়ে। বিশেষ করে পায়রা (বুড়িশ্বর) ও বিষখালী নদীর বিভাজন বরগুনার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থাকে করেছে জটিল। ফলে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে আমতলী ও তালতলীর অন্তত চার লাখ মানুষ।

বর্তমানে বরগুনা-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৪ জন এবং বরগুনা-২ আসনে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫৩০ জন। শুধুমাত্র আমতলী ও তালতলীতেই ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ জন, যা একটি পূর্ণ সংসদীয় আসনের জন্য যথেষ্ট।

এ অবস্থায় জেলার সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিকবার আবেদন করলেও খসড়া তফসিলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ নিয়ে জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আমিনুল ইসলাম লিটন বলেন, “২০০৮ সালে রাজনৈতিক সুবিধা দিতেই বরগুনা-৩ আসন বিলুপ্ত করা হয়। এবার নির্বাচন কমিশন সংশোধনের সুযোগ পেলেও সেটি গ্রহণ করেনি।”

আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “জনগণের কথা বিবেচনায় নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল তিনটি আসন ফিরিয়ে দেওয়া। কিন্তু তারা তা করেনি।”

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের বলেন, “উন্নয়নের জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। তিনটি সংসদীয় আসন ছিল বরগুনার জন্য প্রয়োজনীয়।”

বিএনপি ও আইনজীবী নেতারাও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক কাঠামো ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক বিবেচনায় আসন পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত জরুরি ছিল।

বরগুনাবাসী এখন নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তফসিলে তিনটি আসন পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চলছে” — নাহিদের পোস্টে সাদিক কায়েমের তীব্র প্রতিক্রিয়া

‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক মো. আবু সাদিক (কায়েম)।

তিনি দাবি করেন, “জুলাই আন্দোলনে আমার ভূমিকাকে খাটো করার চেষ্টা শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং তা ইতিহাস রচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

সাদিক কায়েম বলেন, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, কারফিউ এবং দমন-পীড়নের মধ্যেও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তার ও সহযোদ্ধাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, “আমি যতগুলো বক্তব্য রেখেছি, ৫ আগস্টের পর সেগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, আমি সব জায়গায়ই বলেছি—জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত নায়ক ছিলেন আমাদের শহীদ ও গাজীরা। তাদের আত্মত্যাগেই আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি।”

তিনি এ আন্দোলনকে ‘আপামর জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিস্ফোরণ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, “এখানে মতভেদ ভুলে সবাই একটি অভিন্ন লক্ষ্য—ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে একত্র হয়েছিল।”

নাহিদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাদিক কায়েম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি কোনোদিন সমন্বয়কের পরিচয়ে কোথাও দখল বা আত্মসাৎ করেছি—এমন একটি ডকুমেন্টও কেউ দেখাতে পারবে না।”

তিনি জানান, মূল সারির সমন্বয়করা যখন ১৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন, তখন তিনি নয় দফা ফরমেশন, কর্মসূচি প্রণয়ন, মিডিয়া হাউজে যোগাযোগ, দ্বিতীয় সারির নেতাদের সেফ হাউজে রাখার ব্যবস্থা এবং দেশি-বিদেশি অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন।

সাদিক সতর্ক করে বলেন, এসব ঘটনাগুলো জাতির সামনে না এলে ইতিহাস বিকৃতি ঘটবে। “৫ আগস্টের পর দেখা গেছে, কেউ কেউ গুমের নাটক করেছে, কেউ আত্মগোপনে ছিল, আবার কেউ আন্দোলনকে পাশ কাটিয়ে ক্যাম্পাস খোলার পক্ষে ছিল—এরাই পরে বিপ্লবের মহানায়ক হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু একই সময়ে কিছু মানুষ নিজেদের দখলদার সমন্বয়ক হিসেবে তুলে ধরেছে।”

সরকার গঠনের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ময়দানে বসেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কোনো সেনানিবাস বা দপ্তর থেকে নয়। আমরা সবাই মিলে এক দফা ঘোষণা দিয়েছিলাম। তখন সায়ের ভাই ও মাহফুজ আলমসহ সকলে ছিল।”

শেষে সাদিক কায়েম বলেন, “দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বিভাজন তৈরি না করে ইতিহাসকে সম্মান করা উচিত। কেউ যদি জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে রাজনীতি বা ব্যবসা করতে চায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন চলবে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, সাদিক কায়েম ৫ আগস্টের আগে কোনোভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘সমন্বয়ক’ ছিলেন না, বরং ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি ওই পরিচয় ব্যবহার করতে শুরু করেন।




জাতীয় ঐক্যের সনদ আইনের চেয়েও বড় জনগণের অভিপ্রায়: সালাহউদ্দিন

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অনির্বাচিত বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার চিন্তাকে গণতান্ত্রিক চেতনাবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা কেবলমাত্র জনগণের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হাতেই থাকা উচিত।”

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীতে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক সংলাপে অংশ নিয়ে চা-বিরতির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সনদে সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটি শুধুমাত্র একটি আইন নয়—বরং এটি হবে জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়। এ ধরনের সম্মিলিত প্রত্যাশা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যুক্ত করার জন্য বিএনপি অঙ্গীকার করেছে।

তিনি জানান, এই সনদ গণঅভ্যুত্থান ও ছাত্র আন্দোলনের পথ ধরে এসেছে এবং এটি সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধতা পাবে। উচ্চকক্ষ নিয়ে প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ আইন পর্যালোচনা ও সুপারিশ করতে পারবে, তবে সংবিধান সংশোধনের কোনো এখতিয়ার পাবে না।

সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বলেছি, উচ্চকক্ষের সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিত না হওয়ায় তাদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এটি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, কেউ কেউ পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতির মাধ্যমে উচ্চকক্ষে অনির্বাচিতদের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে চাইছে, যা অগ্রহণযোগ্য। আমরা প্রস্তাব করেছি, আইন প্রণয়নে উচ্চ ও নিম্নকক্ষের একটি যৌথ প্রক্রিয়া (shared legislative process) গড়ে উঠুক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে নিম্নকক্ষের হাতে।”

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদে কিছু ব্যতিক্রম রেখে সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব আগেই দিয়েছিল বিএনপি। সেটি গৃহীত হয়েছে। ফলে এখন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দলীয় চাপে না থেকে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের বাইরেও কিছু দায়িত্ব যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। আলোচনা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সালাহউদ্দিন বলেন, “সংসদে একটি মধ্যবর্তী বিধান অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমত কমিশন সিদ্ধান্ত দেবে।”

মৌলিক অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ের আলোকে ইন্টারনেটের অধিকারসহ কিছু আধুনিক অধিকার সংবিধানে যুক্ত করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। তবে যেহেতু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত অধিকারের বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের, তাই নতুন কোনো অধিকার যুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”

এছাড়া তিনি জানান, বিএনপি পঞ্চম সংশোধনীতে গৃহীত রাষ্ট্রের মূলনীতির সঙ্গে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির মতো বাক্য যুক্ত করার প্রস্তাবে একমত। তবে কিছু দলের আপত্তি থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।

শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা মতবিরোধ করব, আলোচনা করব, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের সার্বভৌম এখতিয়ারের ভিত্তিতেই আমরা এই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করছি।”




এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সমাপ্তি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাসব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। বুধবার (৩০ জুলাই) রাতে সাভারের বাইপাইলে একটি পথসভা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

দলটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও মিডিয়া সেলের সদস্য খান মুহাম্মদ মুরসালীন জানান, “রোদ-বৃষ্টি-ঝড় ও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে পদযাত্রার বহর সাভারের বাইপাইল হয়ে রাতে রাজধানীর এনসিপি প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছায়।” রাত সাড়ে ১১টায় শীর্ষ নেতাদের নিয়ে পদযাত্রার বহর কার্যালয়ে প্রবেশ করলে ঢাকা মহানগর কমিটির নেতারা ফুল দিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান।

জুলাই মাসজুড়ে এনসিপি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পথসভা, গণসংযোগ ও রাজনৈতিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে। দলটি বলছে, এই পদযাত্রার উদ্দেশ্য ছিল জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, জাতীয় রাজনৈতিক সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই পদযাত্রা তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।




সাদিক কায়েম ৫ আগস্টের আগে সমন্বয়ক ছিলেন না: দাবি নাহিদ ইসলামের




গণতন্ত্রে দ্বন্দ্ব থাকলেও দরকার পারস্পরিক সম্মান: মির্জা ফখরুল

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব থাকলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তিক্ততা সৃষ্টি হয়, যা ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান’ এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “রাজনীতিবিদদেরই সব কাজ করতে হয়। এ কারণে তারা অনেক সময় জনগণের সমালোচনার মুখোমুখি হন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সুস্থ বোঝাপড়া থাকলে তা দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।”

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে এখন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যারা সত্যিকারের পরিবর্তন চান, তারা বিপ্লবী দল ও সরকার গঠন করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে মানুষের চিন্তা ও রাষ্ট্রের কাঠামোতেও পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কার ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

সরকারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “সরকারি দলের অনেকে বলেন আমরা সুযোগ পেলেই আক্রমণ করি। আমি বলি—আক্রমণ তখনই করা হয়, যখন সরকার ব্যর্থ হয়। আমরা ৭ আগস্ট তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের দাবি করেছিলাম। তখন অনেকেই সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু এখন সেই দাবির যৌক্তিকতা বোঝা যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে মতবিরোধ থাকবেই, কিন্তু বোঝাপড়া না থাকলে শুধু কাদা ছোড়াছুড়িই বাড়ে, যার পরিণতি ভালো হয় না।”

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।