৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করবে এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামীকাল ৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করবে। শনিবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক ঘোষণায় এই তথ্য জানানো হয়।

ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, “আগামীকাল (৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার ঘোষণা দেওয়া হবে। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দেখা হচ্ছে আপনাদের সাথে।”

এর আগে গত বুধবার (৩০ জুলাই) নরসিংদী শহরের পৌরসভার সামনে আয়োজিত এক পথসভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম একই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “৩ আগস্ট আমরা শহীদ মিনার থেকে নতুন বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা দেব। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে সব দাবি আদায় করে ছাড়ব।”

এনসিপির নেতারা বলছেন, এই ইশতেহার হবে একটি রাজনৈতিক রূপরেখা, যা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো, ন্যায়বিচার, অংশগ্রহণমূলক শাসন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার বহন করবে।

ঘোষণার দিন সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের শহীদ মিনারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সময়ে এনসিপির ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ আগামী দিনের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।




জামায়াত আমিরের হার্টের বাইপাস সার্জারি সফল, আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হার্টের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

দলের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা তদারকির দায়িত্বে থাকা ডা. খালিদুজ্জামান জানান, শনিবার (২ আগস্ট) সকাল ৮টায় অপারেশন শুরু হয় এবং দুপুর ১২টার মধ্যে সার্জারি সম্পন্ন হয়।

অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন দেশের খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর কবির ও তার টিম। সার্জারি শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দলীয়ভাবে এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সেখানে জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “আমিরে জামায়াতের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে আছেন এবং শারীরিকভাবে স্থিতিশীল। দেশবাসীর কাছে আমরা তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করছি।”

উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




জুলাই বিপ্লব তরুণদের নতুন রাজনীতির সূচনা: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ দেশের তরুণ সমাজের চেতনার জাগরণ ঘটিয়েছে এবং এটি একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইতিহাসের সত্য ঘটনা প্রকাশ করাও যেন অপরাধ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বইমেলা ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের ইতিহাসে অনেক গৌরবময় ও মহিমান্বিত ঘটনা রয়েছে, যেগুলো যথাসময়ে প্রকাশিত হয় না। আজ সত্য কথা বলা, ইতিহাসভিত্তিক বই লেখা ও তা পাঠ করাও যেন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের বাস্তবতায় যারা সত্যের ভিত্তিতে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন, তারাই প্রকৃত অর্থে সমাজের সার্থক মানুষ।”

জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, “গত ১৬ বছর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে যারা নির্যাতন, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতার পটভূমিতেই এ দেশের মানুষ জুলাই বিপ্লবের সূচনা করেছে। দেশের মানুষ চায় না একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ পরিচালিত হোক; তারা চায় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দেশ চলুক।”

তিনি আরও বলেন, “তরুণরা কোনো মিথ্যা বয়ানে বিশ্বাস করেনি। তারা পারিবারিক গণ্ডি, শিক্ষাঙ্গণ অতিক্রম করে রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিল স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে। এক জন গুলিবিদ্ধ হলে অন্যজন পানি নিয়ে এগিয়ে গেছে। অথচ সেই সময়েও গুলি থামেনি।”

সরকারি প্রচারণা যন্ত্রের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “দিনরাত প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করে জনগণের মন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু তরুণরা সত্য বুঝে নিয়েছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস বিদ্রোহ আর প্রতিরোধে সমৃদ্ধ—পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭), সিপাহি বিদ্রোহ (১৮৫৭), ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তিতুমীরের লড়াই, সাঁওতাল বিদ্রোহ, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ—এই জাতিকে মিথ্যার বয়ানে চিরতরে দমন করা সম্ভব নয়।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সঞ্জয় দে রিপন, মনিরুজ্জামান মনির, জিকরুল হাসান প্রমুখ।




গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচার চর্চা করে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনছে অনেকে: এবি পার্টির অভিযোগ

ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় কয়েকটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র নিজেদের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

শুক্রবার (১ আগস্ট) এবি পার্টির যুব সংগঠন এবি যুব পার্টির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব হাদিউজ্জামান খোকন।

মঞ্জু বলেন, “রক্তের স্রোতের মধ্যে দিয়ে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি, সেই বাংলাদেশে আওয়ামী সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি আর ফিরে আসবে না – এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিছু রাজনৈতিক দল খুব দ্রুতই সেই ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আসে তারাই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। আর এতে তাদের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত হ্রাস পায়। এটি গণতন্ত্র ও দেশের স্থিতিশীলতার জন্য এক অশনি সংকেত।”

আলোচনায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “আমরা আগে ভয় ও নির্যাতনের মধ্যে ছিলাম, কিন্তু এখন এক নতুন বাংলাদেশের দ্বারপ্রান্তে। এই পরিবর্তনের জন্য ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছে, অথচ কোনো রাজনৈতিক নেতার সন্তান জীবন দেয়নি। আবু সাঈদের মৃত্যু জাতিকে নাড়া দিয়েছিল—এটি ছিল বিবেকের বিপ্লব।”

মঞ্জুর দাবি, “ইতিহাস বলে গণঅভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিবাদীরা আর ফিরে আসতে পারে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অনেকেই আওয়ামী চরিত্রে ফিরে যাচ্ছে, মজলুম থেকে পরিণত হচ্ছে জালিমে।”

ধর্মভিত্তিক দলগুলোর আচরণ নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আজ ধর্মভিত্তিক দলগুলো যেভাবে অহংকারে ভুগছে, তা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না। ক্ষমতার চক্র একটি ‘চাঁদাবাজি পদ্ধতি’ গড়ে তুলেছে। এই ব্যবস্থাকে ভাঙতেই আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছি।”

আলোচনায় তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে অতীতে যারা জনপ্রিয়তার চূড়ায় ছিলেন তারাও ইতিহাসে হারিয়ে গেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান তার বড় উদাহরণ।”




ফ্যাসিবাদী শাসনে মানুষ ছিল জীবিত থেকেও মৃতপ্রায় : জোনায়েদ সাকি

বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষের অবস্থা ছিল ‘বেঁচে থেকেও মৃতপ্রায়’—এ মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘জুলাই গণসমাবেশ’-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনে মানুষ খেয়ে পরে বাঁচলেও মর্যাদাহীন জীবনযাপন করছিল। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন আবু সাঈদ, জীবন দিয়ে জানান দিয়েছেন তার অবস্থান। জনগণের ঐক্য প্রমাণ করেছে, ঐক্য থাকলে ফ্যাসিবাদ যেমন পালিয়েছে, তেমনি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকেও কবর দেওয়া সম্ভব।”

সমাবেশের উদ্বোধন করেন ২০২৪ সালের ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে’ শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিলের মা আয়েশা বেগম।

সাকি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের শহীদদের ঋণ আমরা এখনো শোধ করতে পারিনি। ৭১ থেকে ২৪ সালের শহীদদের আদর্শ ধারণ করতে না পারলে আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন হবে না। নতুন রাষ্ট্র চাইলে পুরনো লুটপাটের ব্যবস্থাকে ভাঙতে হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, এখনো শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি সরকার। তাদের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রযন্ত্র এখনো পুরনো ক্ষমতা-কেন্দ্রিক ও লুটপাটভিত্তিক ধাঁচে চলে। এটি বন্ধ না হলে জনগণের মুক্তি আসবে না।”

সাকি বলেন, “মানুষকে বিভক্ত করা হচ্ছে নারী, ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। এই অধিকার নিশ্চিত করলেই শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানানো হবে।” তিনি জানান, গণসংহতি আন্দোলন রাজপথ ছাড়িয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংসদে গিয়ে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, “২০১৭ সালেই আমরা বলেছিলাম—নতুন রাজনৈতিক চুক্তি ছাড়া রাষ্ট্রে সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে না। আমরা বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করি, যা জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে পরিচালিত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে অধিকার আদায়ে আর জীবন দিতে হবে না। সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করতে না চাইলে রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপান্তর অপরিহার্য।”

সমাবেশে আরও দাবি জানানো হয়—আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং জনগণের ম্যান্ডেটে একটি নতুন রাজনৈতিক চুক্তি গঠন করতে হবে, যেটিকে ‘জুলাই সনদ’ হিসেবে অভিহিত করেন নেতারা।


সংক্ষিপ্ত মূল বক্তব্য:

  • ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষের মর্যাদাহীন জীবন ছিল: সাকি
  • ৭১ ও ২৪ সালের শহীদদের রক্তের দায় শোধে ঐক্য জরুরি
  • লুটপাটের রাষ্ট্রব্যবস্থা ভাঙতে নতুন চুক্তির ডাক
  • হিন্দু-মুসলিম বিভাজন নয়, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি
  • ‘জুলাই সনদ’ নামে নতুন সংবিধানিক চুক্তির প্রস্তাব



ভোলা সদরে জামায়াতের কেন্দ্রভিত্তিক প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটির প্রতিনিধি সমাবেশ ২০২৫ সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রায় ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে উপজেলার আওতাধীন প্রতিটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনী ভোটকেন্দ্রের গঠিত ১০১ ও ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কামাল হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভোলা-১ আসনের দলীয় মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা আমির মাস্টার মো. জাকির হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারুন অর রশিদ, মিডিয়া সম্পাদক অধ্যাপক আমির হোসাইন, অর্থ সম্পাদক মাস্টার বেলায়েত হোসাইন ও ভোলা পৌর আমির মাওলানা মো. জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ভোলা-১ আসনের নির্বাচন পরিচালক ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার মো. নুরুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনে তৃণমূল প্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা, অন্যায় ও জুলুম প্রতিরোধ এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংগঠনের কেন্দ্রভিত্তিক কর্মীদের সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, কোনও রক্তচক্ষু বা ভয়ভীতির কাছে নত না হয়ে ইসলামের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনা, কেন্দ্রভিত্তিক কার্যক্রম এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সংগঠনের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলে অংশগ্রহণকারীরা জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জাতীয় সমাবেশ শেষে অসুস্থ, এনজিওগ্রামে ধরা পড়ে ৪টি ব্লক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হৃদযন্ত্রে চারটি ব্লক ধরা পড়ায় আগামী শনিবার (২ আগস্ট) সকালে তার বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হবে। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে সকাল ৭টায় এই অস্ত্রোপচার পরিচালনা করবেন দেশের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, আমিরে জামায়াতের দ্রুত সুস্থতার জন্য নফল নামাজ, রোজা ও দান-সাদাকার মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দোয়া করার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের প্রিয় রাহবারকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন এবং পূর্ণ শক্তি নিয়ে দ্বীনের ময়দানে ফিরে আসার তাওফিক দেন—আমরা সেই দোয়াই করছি।”

তিনি আরও জানান, গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আমিরে জামায়াত। পরে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে বড় কোনো জটিলতা ধরা না পড়লেও, পরে ৩০ জুলাই ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনজিওগ্রামের মাধ্যমে জানা যায়, তার হৃদযন্ত্রে চারটি ব্লক রয়েছে।

বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন এবং স্বজনদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।

এদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে শুক্রবার দেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন দোয়ার মাধ্যমে এই সংকটে আমিরে জামায়াতের পাশে থাকেন।




শুল্ক কমলেও পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট নয়, চুক্তির বিস্তারিত জানতে চান আমীর খসরু

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত পাল্টা শুল্ক হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে নামায় রপ্তানি খাতের জন্য এটিকে একটি ‘সন্তোষজনক অবস্থা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এটি জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ২০ শতাংশ শুল্ক আমাদের জন্য তুলনামূলকভাবে একটি ভালো অবস্থান তৈরি করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন আছি ২০ শতাংশে, পাকিস্তান ১৯, ভিয়েতনাম ২০ আর ভারত ২৫ শতাংশে। এ দিক দিয়ে তুলনামূলকভাবে অবস্থানটা খারাপ নয়।”

তবে এই শুল্ক হ্রাসের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তাবলি বা আলোচনার অন্যান্য দিক জানা না থাকায় পুরো প্রক্রিয়ার প্রভাব নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

“এটা একটা প্যাকেজ ডিল। এখানে ট্যারিফ ছাড়াও আরও অনেক বিষয় রয়েছে। আমরা জানি শুধু ট্যারিফের হার, কিন্তু এর বিপরীতে আমাদের কী দিতে হয়েছে তা জানি না। এসব প্রকাশিত হলে বিষয়টি ভালোভাবে মূল্যায়ন করা যাবে,” বলেন আমীর খসরু।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা এই মুহূর্তে কিছুটা কমেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। “২০ শতাংশ শুল্ক এই মুহূর্তে আমাদের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। তাই আপাতত এটাকে একটি স্বস্তিকর পদক্ষেপ বলা যায়,” মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা।

সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণার সঙ্গে ট্যারিফ ইস্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কিনা— এমন প্রশ্নে খসরু বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ আরোপ মূলত তাদের স্বার্থে। আমাদের কী কী দিতে হয়েছে বা এর বিনিময়ে কী কিছু নেওয়া হয়েছে, তা না জানা পর্যন্ত মূল্যায়ন করা যাবে না।”

তিনি বলেন, “শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য দেশেও আমাদের পণ্য রপ্তানি হয়। সামগ্রিকভাবে রপ্তানি নীতির দিক থেকে আমাদের কোথায় অবস্থান সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি রপ্তানিকে আরও বহুমুখী করতে হবে। কেবল আমেরিকা নির্ভরশীল অর্থনীতি দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনের চুক্তি বা আলোচনার বিষয়গুলো সরকারের উচিত প্রকাশ করা, যাতে অর্থনীতির সার্বিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা যায়।




জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির প্রতিশ্রুতি

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সনদ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় প্রধান শেখ আহমেদ এবং মহাপরিচালক মুফতি খলিল আহমেদ কাসেমীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ৮২৬টি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ৫১টি বাদে বাকি সবকিছুতেই বিএনপি একমত। সনদের প্রতিটি ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিএনপি দলীয়ভাবে কাজ করছে এবং প্রক্রিয়াগত দিকগুলো প্রায় চূড়ান্ত।

সালাহউদ্দিন আহমেদের সাথে থাকা দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছি না। আশা করছি, সরকার খুব দ্রুত নির্বাচন বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবে।”

এ সময় বিএনপি নেতারা হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমীর মাওলানা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। ধর্মীয় অনুভূতি এবং রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই জিয়ারতকে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জুলাই সনদ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই আলোচনা তুঙ্গে। এই সনদকে সামনে রেখে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা ও নির্বাচনী কাঠামোর রূপরেখা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে আশার আলো হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবি জোরালো

বরগুনা জেলায় আগের তিনটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে স্থানীয়দের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের খসড়া তফসিলে এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

স্বাধীনতার পর বরগুনা-১ (সদর ও বেতাগী), বরগুনা-২ (পাথরঘাটা ও বামনা), বরগুনা-৩ (আমতলী ও তালতলী) এই তিনটি সংসদীয় আসনে বিভক্ত ছিল উপকূলীয় এই জেলা। কিন্তু ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বরগুনার আসন সংখ্যা তিন থেকে কমিয়ে দুটি করা হয়—বরগুনা-১ (সদর, আমতলী, তালতলী) ও বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বেতাগী, বামনা)।

এতে করে প্রশাসনিক জটিলতা ও নির্বাচনী সময় পরিবহন সমস্যা বাড়ে। বিশেষ করে পায়রা (বুড়িশ্বর) ও বিষখালী নদীর বিভাজন বরগুনার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থাকে করেছে জটিল। ফলে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে আমতলী ও তালতলীর অন্তত চার লাখ মানুষ।

বর্তমানে বরগুনা-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৪ জন এবং বরগুনা-২ আসনে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫৩০ জন। শুধুমাত্র আমতলী ও তালতলীতেই ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ জন, যা একটি পূর্ণ সংসদীয় আসনের জন্য যথেষ্ট।

এ অবস্থায় জেলার সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিকবার আবেদন করলেও খসড়া তফসিলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ নিয়ে জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আমিনুল ইসলাম লিটন বলেন, “২০০৮ সালে রাজনৈতিক সুবিধা দিতেই বরগুনা-৩ আসন বিলুপ্ত করা হয়। এবার নির্বাচন কমিশন সংশোধনের সুযোগ পেলেও সেটি গ্রহণ করেনি।”

আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “জনগণের কথা বিবেচনায় নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল তিনটি আসন ফিরিয়ে দেওয়া। কিন্তু তারা তা করেনি।”

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের বলেন, “উন্নয়নের জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। তিনটি সংসদীয় আসন ছিল বরগুনার জন্য প্রয়োজনীয়।”

বিএনপি ও আইনজীবী নেতারাও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক কাঠামো ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক বিবেচনায় আসন পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত জরুরি ছিল।

বরগুনাবাসী এখন নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তফসিলে তিনটি আসন পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫