ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামোর রূপরেখা দিল এনসিপি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের দিক-নির্দেশনা ঘোষণা করল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার দলটি এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর জন্য ২৪ দফার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশ করেছে, যেখানে জোর দেওয়া হয়েছে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার, জনগণের ওপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রত্যাবর্তন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ২৪ দফা কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য একটি কাঠামোগত রূপরেখা।

ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনের অবসান চায় এনসিপি

ইশতেহারে বলা হয়েছে, একচ্ছত্র ক্ষমতার রাজনীতি নতুন বাংলাদেশে আর থাকবে না। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করা, সংসদের বিকেন্দ্রীকরণ, প্রশাসনিক বিভাগীয় কাঠামোর গণতান্ত্রিক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় পদে ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে দলটি।

সংবিধান ও নাগরিক অধিকারে রূপান্তরমূলক প্রতিশ্রুতি

দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান ও সংবিধানের চেতনার ভিত্তিতে নতুন এক সমাজগঠনের। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিক তথ্যের অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বৈচিত্র্যের মর্যাদা সংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করার ঘোষণা এসেছে।

গণঅভ্যুত্থান ও সেনা কর্মকর্তাদের স্বীকৃতি

একটি ব্যতিক্রমী দফায় এনসিপি বলেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সশস্ত্র বাহিনীর যারা জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একইসঙ্গে অভ্যুত্থানের দিকনির্দেশনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কাঠামোগত সংলাপ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর ও উৎপাদনভিত্তিক পরিকল্পনা

গুটিকয়েক গোষ্ঠীর হাতে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অবসান চায় এনসিপি। তারা বলছে, উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে সম্পদের বণ্টন, একক দাতা নির্ভরতা থেকে মুক্তি, এবং শ্রমিক-কৃষকের ঐক্য ও অংশীদারিত্বভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করবে তারা।

প্রযুক্তি ও আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি

ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর ন্যায্য বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবে গবেষণা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে জাতীয় স্তরের প্ল্যাটফর্ম গড়ার কথাও বলা হয়েছে।

নতুন কূটনীতি ও আঞ্চলিক বন্ধুত্বের দৃষ্টিভঙ্গি

ঔপনিবেশিক প্রভাব ও পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত থাকার সংকল্পে এনসিপি বলেছে, তারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বার্থের ভিত্তিতে ‘বন্ধুত্ব নয়, সমতা ও সংহতি’র ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিরপেক্ষ ও বিকল্প কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার

নারী-পুরুষের বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে সংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা জোরদার, শিশুর শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং তৃতীয় লিঙ্গসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনসিপি।

এক নজরে এনসিপির প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো:

  • গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন
  • শাসন কাঠামোয় বিকেন্দ্রীকরণ ও বিভাগীয় স্বায়ত্তশাসন
  • প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
  • সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার আইন
  • সামরিক বাহিনীর গণমুখী রূপান্তর এবং স্বীকৃতি প্রদান
  • অর্থনৈতিক গোষ্ঠীপ্রভুত্বের অবসান ও উৎপাদন-ভিত্তিক অর্থনীতি
  • ধর্ম ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি
  • নারীবান্ধব, শিশু-সহায়ক ও পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্রনীতি
  • প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কূটনীতি

এনসিপি জানায়, তারা এ ২৪ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কেবল নতুন সরকার নয়, এক নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে চায়—যেখানে ক্ষমতা জনগণের, রাষ্ট্রের নয়।




বরগুনা-২ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর গণসংযোগে গণজোয়ার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা-২ (বামনা, বেতাগী ও পাথরঘাটা) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন।
শনিবার (২ আগস্ট) বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় দিনভর চলা এ গণসংযোগে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

বেতাগী টাউনব্রিজে পথসভায় মুফতির বক্তব্য:

তিনি বলেন,
“যারা বছরের পর বছর ক্ষমতায় থেকেছে, তারা কখনো এখানকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেনি। আমরা এই মাটি ও মানুষের লোক; পাশে থাকতে চাই, লুটপাট করতে নয়।”
তিনি অভিযোগ করেন,
“দীর্ঘদিন একদল লুটপাট চালিয়ে চলে গেছে, আরেক দল মামলার ফাঁদে ফেলে নিরীহ মানুষকে কাঁদাচ্ছে। দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে হেবিওয়েট নেতার নামে। ইনশাআল্লাহ, বেতাগীতে কোনো চাঁদাবাজি হতে দেব না।”

মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী বলেন,
“আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। আমি চরমোনাই পীরের শিষ্য, রাজনীতি করি মানুষের হক আদায়ের জন্য। যদি আপনারা সমর্থন দেন, এই জনপদের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না।”

পথসভা ও গণসংযোগ চলাকালে প্রার্থী মিজানুর রহমান কাসেমী গলাচিপা, চান্দখালী, কাউনিয়া, কাজীরহাট, মোকামিয়া, পুটিয়াখালী, বিবিচিনি বাসস্ট্যান্ডবেতাগী পৌর শহর জুড়ে স্থানীয়দের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।

:

গণসংযোগে উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ ভোটার ও ধর্মপ্রাণ তরুণদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি করতে চায় বিএনপি: তারেক রহমান

“এই দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি করতে চায় বিএনপি”—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নবীনদের বিচক্ষণতা একসাথে মিলেই গঠিত হবে আগামীর বাংলাদেশ।

রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৩টায় রাজধানীর শাহবাগে ছাত্রদলের আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “যোগ্য নেতৃত্বের মানে শুধু এমপি বা মন্ত্রী হওয়া নয়। সকল সেক্টরে—শিক্ষা, ব্যবসা, প্রশাসন—সক্ষম ও দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে এই প্রজন্মকেই এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সংকটে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই বিএনপি বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী শিক্ষা নীতি তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সংস্কার করে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে, যাতে করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথ চলা সহজ হয়।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, “তোমরাই বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় মুখ। আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্বে তোমরাই থাকবে। তোমাদের হাত ধরেই আসবে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তোমরাই এগিয়ে যাবে।”

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ একাধিক সাবেক নেতা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।

শাহবাগ ও আশেপাশের এলাকায় সকাল থেকেই জমায়েত হতে থাকেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশস্থলে আসেন তারা। দুপুর নাগাদ শাহবাগ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫


 




‘ছাত্রদল চাইলে সারা দেশ অবরুদ্ধ করতে পারে’—শাহবাগে শক্তিমত্তার বার্তা রাকিবুলের

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। প্রয়োজন হলে সারাদেশে অবরোধ কার্যকর করার সক্ষমতা ছাত্রদলের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত এক ছাত্র সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’র বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক উপস্থিতি ও আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরেন।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, “যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, ছাত্রদল চাইলে তাদের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলতে পারে। ছাত্রদলকে থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।”

তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যদি নির্দেশ দেন, তাহলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সারা দেশে অবরোধ করে দিতে পারবে।”

সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ও কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

সমাবেশের শুরুতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বিগত ১৫ বছরে সংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গুম-খুন হয়েছেন স্বৈরাচারী সরকারের বাহিনীর হাতে।”

সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের মাথায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা বাঁধা ছিল, কারও হাতে ছিল ছাত্রদল ও বিএনপির পতাকা, আবার অনেকে সংগঠনের নাম ও লোগোযুক্ত ব্যান্ড পরে হাজির হন। পুরো সমাবেশে ছাত্রদলের সংগঠনিক ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শনের বার্তা ছিল স্পষ্ট।




শহিদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে এনসিপি, নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক দফা ঘোষণার বর্ষপূর্তিতে, রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রোববার (৩ আগস্ট) আয়োজিত এ সমাবেশকে ঘিরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও এর আশপাশে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিববাড়ি মোড় ও দোয়েল চত্বরের প্রবেশপথে কড়া নজরদারি চলছে। শহিদ মিনার এলাকা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল, তল্লাশি ও অবস্থান স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। ডিএমপির ডগ স্কোয়াড দিয়ে সমাবেশস্থলের বিভিন্ন এলাকা বোমা ও বিস্ফোরক শনাক্তকরণে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

ইশতেহার ঘোষণায় কী থাকবে?
এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ লিয়ন জানান, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আজকের সমাবেশ থেকে যে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করবেন, তা মূলত ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দেওয়া এক দফা ঘোষণার ভিত্তি নিয়ে নির্মিত। এই ইশতেহারে থাকবে—

  • এক নাগরিকের মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রব্যবস্থা
  • আধুনিক ও মানবিক সভ্যতা গড়ার রূপরেখা
  • রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা
  • তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে একটি মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই নতুন প্রজন্ম জানুক, কেমন হবে নতুন বাংলাদেশ। ইশতেহারে থাকবে সেই ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা।”

জনদুর্ভোগ কমাতে সচেষ্ট আয়োজকরা
আয়োজকরা জানিয়েছেন, সমাবেশ সংক্ষিপ্ত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ এড়াতে এনসিপির নিজস্ব শৃঙ্খলা টিম মিছিল ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

এনসিপির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে, সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা যেন শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলার সঙ্গে অবস্থান নেয় এবং অন্যান্য পরীক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের অসুবিধায় না ফেলে।


সংক্ষিপ্ত তথ্যছক:

বিষয়ের নাম তথ্য
অনুষ্ঠান নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার ঘোষণা
আয়োজক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
স্থান কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, ঢাকা
তারিখ ৩ আগস্ট ২০২৫
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ডিএমপি, ডগ স্কোয়াড, শৃঙ্খলা টিম
ইশতেহারের মূল বিষয় এক নাগরিকের রাষ্ট্র, মানবিক উন্নয়ন, প্রযুক্তি-ভিত্তিক আধুনিকতা

 

আল-আমিন,
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম | 

 




ছাত্রদলের ছাত্র সমাবেশে ঢল, শাহবাগে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ

ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানী শাহবাগ মোড়ে ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জানাছাদ)। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিলে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছে ছাত্রদলের হাজারো নেতাকর্মী।

সমাবেশের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে একটি মঞ্চ। চলছে ব্যানার টাঙানো, সাউন্ড চেকসহ শেষ মুহূর্তের নানা প্রস্তুতি। নিরাপত্তার স্বার্থে শাহবাগ ও এর আশপাশে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

ছাত্রদলের এই ছাত্র সমাবেশের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলার কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সতর্কতামূলক ডাইভারশন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যানচলাচলের বিকল্প রুটসমূহ:

  • হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়: উত্তর দিক থেকে আসা যানবাহন শাহবাগে না গিয়ে বামদিকে হেয়ার রোড বা মিন্টু রোড হয়ে যাতায়াত করবে।
  • কাটাবন মোড়: পশ্চিম দিক থেকে আগত যানবাহন ডানদিকে নীলক্ষেত/পলাশী কিংবা বামদিকে সোনারগাঁও রোড হয়ে চলাচল করবে।
  • মৎস্য ভবন মোড়: হাইকোর্ট/কদম ফোয়ারা থেকে আসা যানবাহন শাহবাগে না গিয়ে হেয়ার রোড বা মনসুর আলী সরণি ব্যবহার করবে।
  • কাকরাইল থেকে: মৎস্য ভবন পেরিয়ে সোজা হাইকোর্ট হয়ে গুলিস্তান বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়মুখী চলাচল করার নির্দেশনা রয়েছে।
  • টিএসসি/রাজু ভাস্কর্য: দোয়েল চত্বর বা নীলক্ষেত হয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথ এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশেষভাবে এই দিনে যানজটের শঙ্কা বিবেচনায় রেখে সাধারণ নাগরিক এবং বিশেষত এইচএসসি/সমমান ও বিসিএস পরীক্ষার্থীদের যথেষ্ট সময় হাতে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে রওনা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই সমাবেশকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, “এটি গণ-অভ্যুত্থানের এক নতুন চেতনার প্রকাশ। বর্তমান স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের প্রতিবাদের ভাষা।”

ঢাকার রাজপথে আজকের সমাবেশ শুধুই রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং এটি একটি স্পষ্ট সামাজিক ও প্রজন্মগত অঙ্গীকার—তারা বলছে, ‘জনগণের শাসন ফিরে আনতেই হবে।’


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পিআর পদ্ধতিতে  নির্বাচনী ব্যবস্থায় শঙ্কা মেজর হাফিজের

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক পদ্ধতি চালু হলে জনগণের সঙ্গে তাদের প্রতিনিধির সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

শনিবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মেজর হাফিজ বলেন, “এই পিআর পদ্ধতিতে দেখা যাবে, ভোলার একজন সংসদ সদস্য হচ্ছেন এমন ব্যক্তি, যিনি আদতেই কুড়িগ্রামের বাসিন্দা। এলাকাভিত্তিক পরিচিতি, সমস্যা বোঝা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক—এসব বিষয়ই তখন হারিয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তারা কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতির পক্ষে ছিলেন না। তারা চেয়েছিলেন দেশের গণতন্ত্র ফিরে আসুক। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো জনগণের ভোটে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে পড়ে গণতন্ত্রের সহজ পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।”

আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী ও শহীদদের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, যারা সত্যিকার অর্থে বিপ্লবে জীবন দেন, তাদের আর কেউ মনে রাখে না। বরং আন্দোলন সফল হলে কেউ কেউ এসে কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করে।”

মুক্তিযোদ্ধা সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়েও মন্তব্য করেন মেজর হাফিজ। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার, এখন সেটা দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই আত্মীয়-স্বজনসহ সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ফেলে।”

অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানানো হয় এবং নেতৃবৃন্দ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।




‘জুলাই ঘোষণাপত্রে সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের স্বীকৃতি চাই’ — এবি পার্টি

গণঅভ্যুত্থানে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের স্বীকৃতি ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে’ উল্লেখ করার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে সাবেক সেনাসদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা গণজাগরণকে সহজ করেছে এবং তা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হওয়া উচিত।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানান দলের নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর মেজর (অব.) ডা. ওহাব মিনার, লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, কর্নেল (অব.) মশিউজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনিশ দেওয়ান এবং সামরিক কর্মকর্তা কামরুজ্জামান।

বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “যখন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব একত্র হয়, তখনই মুক্তিযুদ্ধ বা গণঅভ্যুত্থানের পথ উন্মোচিত হয়। সেই ইতিহাস ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আবারও প্রতিফলিত হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা বিবেকের তাগিদে জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, যা গণঅভ্যুত্থানকে বেগবান করে।”

তিনি বলেন, “ডিওএইচএস এলাকার সেই ব্যতিক্রমী দৃশ্য—যেখানে সেনা পরিবারের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন—সেটিই সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পথ তৈরি করে দেয়।”

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনিশ দেওয়ান বলেন, “সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। জগদ্দল পাথর কিছুটা সরানো গেলেও তা এখনো চাপিয়ে আছে।”
লে. কর্নেল (অব.) মশিউজ্জামান বলেন, “দু’একজনের অপকর্মে পুরো বাহিনীকে দোষারোপ করা উচিত নয়। মিডিয়া এবং সশস্ত্র বাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার দরকার। সংস্কারবিহীন নির্বাচন মানেই স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি।”

মেজর (অব.) ডা. ওহাব মিনার বলেন, “দেশ এখন ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের উচিত অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা।”

সভায় বক্তারা ‘জুলাই সনদ’-এ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং সশস্ত্রবাহিনীর দায়মুক্ত ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।




সংবিধানের সংশোধনী সংসদেই হতে হবে: আমীর খসরু

সংবিধানে কোনো সংশোধনী আনতে হলে তা অবশ্যই সংসদের মাধ্যমেই আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সংসদের বাইরে সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএবি মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মান্নান নিলুফার মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন।

আমীর খসরু বলেন, “সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনা চললেও, যদি কোনো পরিবর্তন আনতেই হয়, তা হতে হবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এবং সংসদীয় কাঠামোর মাধ্যমেই। স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হলে তা সংসদের বাইরের কোনো মাধ্যমে আনা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “যারা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা সংসদীয় ব্যবস্থাকেও অস্বীকার করে।”

রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “যত সংস্কারই করা হোক না কেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে তা ব্যর্থ হবে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা ছাড়া ঐক্য গঠন সম্ভব নয়। দেশের স্বার্থেই আমাদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”

জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য ভেঙে গেছে— এমন মন্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “আমি তা দেখি না। প্রতিটি দলের নিজস্ব মতাদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে। যেটুকুতে একমত হওয়া যাবে, ততটুকুতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বাকি বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক জনগণ।”

আবদুল মান্নানের রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম বলেন, “তিনি সবসময় দেশ নিয়ে ভাবতেন। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে বাংলাদেশ বিমানের এমডি হয়েছিলেন এবং তার সময়ে প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক ছিল। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ছিল না।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন মরহুম আবদুল মান্নানের মেয়ে ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।




‘জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হবে নির্বাচন’, ঘোষণা দিলেন নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে। একই সঙ্গে তিনি এই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানান।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বলেছি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। এই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র অবশ্যই সংবিধানের প্রস্তাবনা ও তফসিলে উল্লেখ করে স্বীকৃতি দিতে হবে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।”

নাহিদ ইসলাম জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে যে, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে। তবে ঐকমত্য কমিশন এখনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদের সুরাহা করা আমাদের এবং দেশবাসীর যৌক্তিক দাবি। এই সনদে যেন জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

ছাত্রদল ও এইচএসসি পরীক্ষার কারণে রোববার ঢাকায় কর্মসূচি চলাকালে ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে এনসিপির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ছাত্রদলের কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করায় তাদের ধন্যবাদ জানান নাহিদ।

ছাত্রনেতাদের চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, “এসব ঘটনা জুলাই আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। যারা জড়িত, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূর্ণতা পায়নি। জুলাই সনদের মাধ্যমে আংশিক পূরণ হতে পারে। তবে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।”

তিনি জানান, নতুন বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। আগামীকাল রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় শহীদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করা হবে। এর মধ্য দিয়েই জুলাই পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, সামান্তা শারমিন এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।