ছাত্রদলের ছাত্র সমাবেশে ঢল, শাহবাগে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ

ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানী শাহবাগ মোড়ে ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জানাছাদ)। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিলে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছে ছাত্রদলের হাজারো নেতাকর্মী।

সমাবেশের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে একটি মঞ্চ। চলছে ব্যানার টাঙানো, সাউন্ড চেকসহ শেষ মুহূর্তের নানা প্রস্তুতি। নিরাপত্তার স্বার্থে শাহবাগ ও এর আশপাশে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

ছাত্রদলের এই ছাত্র সমাবেশের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলার কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সতর্কতামূলক ডাইভারশন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যানচলাচলের বিকল্প রুটসমূহ:

  • হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়: উত্তর দিক থেকে আসা যানবাহন শাহবাগে না গিয়ে বামদিকে হেয়ার রোড বা মিন্টু রোড হয়ে যাতায়াত করবে।
  • কাটাবন মোড়: পশ্চিম দিক থেকে আগত যানবাহন ডানদিকে নীলক্ষেত/পলাশী কিংবা বামদিকে সোনারগাঁও রোড হয়ে চলাচল করবে।
  • মৎস্য ভবন মোড়: হাইকোর্ট/কদম ফোয়ারা থেকে আসা যানবাহন শাহবাগে না গিয়ে হেয়ার রোড বা মনসুর আলী সরণি ব্যবহার করবে।
  • কাকরাইল থেকে: মৎস্য ভবন পেরিয়ে সোজা হাইকোর্ট হয়ে গুলিস্তান বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়মুখী চলাচল করার নির্দেশনা রয়েছে।
  • টিএসসি/রাজু ভাস্কর্য: দোয়েল চত্বর বা নীলক্ষেত হয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথ এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশেষভাবে এই দিনে যানজটের শঙ্কা বিবেচনায় রেখে সাধারণ নাগরিক এবং বিশেষত এইচএসসি/সমমান ও বিসিএস পরীক্ষার্থীদের যথেষ্ট সময় হাতে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে রওনা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই সমাবেশকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, “এটি গণ-অভ্যুত্থানের এক নতুন চেতনার প্রকাশ। বর্তমান স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের প্রতিবাদের ভাষা।”

ঢাকার রাজপথে আজকের সমাবেশ শুধুই রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং এটি একটি স্পষ্ট সামাজিক ও প্রজন্মগত অঙ্গীকার—তারা বলছে, ‘জনগণের শাসন ফিরে আনতেই হবে।’


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পিআর পদ্ধতিতে  নির্বাচনী ব্যবস্থায় শঙ্কা মেজর হাফিজের

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক পদ্ধতি চালু হলে জনগণের সঙ্গে তাদের প্রতিনিধির সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

শনিবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মেজর হাফিজ বলেন, “এই পিআর পদ্ধতিতে দেখা যাবে, ভোলার একজন সংসদ সদস্য হচ্ছেন এমন ব্যক্তি, যিনি আদতেই কুড়িগ্রামের বাসিন্দা। এলাকাভিত্তিক পরিচিতি, সমস্যা বোঝা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক—এসব বিষয়ই তখন হারিয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তারা কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতির পক্ষে ছিলেন না। তারা চেয়েছিলেন দেশের গণতন্ত্র ফিরে আসুক। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো জনগণের ভোটে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে পড়ে গণতন্ত্রের সহজ পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।”

আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী ও শহীদদের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, যারা সত্যিকার অর্থে বিপ্লবে জীবন দেন, তাদের আর কেউ মনে রাখে না। বরং আন্দোলন সফল হলে কেউ কেউ এসে কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করে।”

মুক্তিযোদ্ধা সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়েও মন্তব্য করেন মেজর হাফিজ। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার, এখন সেটা দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই আত্মীয়-স্বজনসহ সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ফেলে।”

অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানানো হয় এবং নেতৃবৃন্দ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।




‘জুলাই ঘোষণাপত্রে সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের স্বীকৃতি চাই’ — এবি পার্টি

গণঅভ্যুত্থানে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের স্বীকৃতি ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে’ উল্লেখ করার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে সাবেক সেনাসদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা গণজাগরণকে সহজ করেছে এবং তা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হওয়া উচিত।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানান দলের নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর মেজর (অব.) ডা. ওহাব মিনার, লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, কর্নেল (অব.) মশিউজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনিশ দেওয়ান এবং সামরিক কর্মকর্তা কামরুজ্জামান।

বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “যখন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব একত্র হয়, তখনই মুক্তিযুদ্ধ বা গণঅভ্যুত্থানের পথ উন্মোচিত হয়। সেই ইতিহাস ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আবারও প্রতিফলিত হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা বিবেকের তাগিদে জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, যা গণঅভ্যুত্থানকে বেগবান করে।”

তিনি বলেন, “ডিওএইচএস এলাকার সেই ব্যতিক্রমী দৃশ্য—যেখানে সেনা পরিবারের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন—সেটিই সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পথ তৈরি করে দেয়।”

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনিশ দেওয়ান বলেন, “সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। জগদ্দল পাথর কিছুটা সরানো গেলেও তা এখনো চাপিয়ে আছে।”
লে. কর্নেল (অব.) মশিউজ্জামান বলেন, “দু’একজনের অপকর্মে পুরো বাহিনীকে দোষারোপ করা উচিত নয়। মিডিয়া এবং সশস্ত্র বাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার দরকার। সংস্কারবিহীন নির্বাচন মানেই স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি।”

মেজর (অব.) ডা. ওহাব মিনার বলেন, “দেশ এখন ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের উচিত অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা।”

সভায় বক্তারা ‘জুলাই সনদ’-এ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং সশস্ত্রবাহিনীর দায়মুক্ত ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।




সংবিধানের সংশোধনী সংসদেই হতে হবে: আমীর খসরু

সংবিধানে কোনো সংশোধনী আনতে হলে তা অবশ্যই সংসদের মাধ্যমেই আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সংসদের বাইরে সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএবি মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মান্নান নিলুফার মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন।

আমীর খসরু বলেন, “সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনা চললেও, যদি কোনো পরিবর্তন আনতেই হয়, তা হতে হবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এবং সংসদীয় কাঠামোর মাধ্যমেই। স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হলে তা সংসদের বাইরের কোনো মাধ্যমে আনা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “যারা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা সংসদীয় ব্যবস্থাকেও অস্বীকার করে।”

রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “যত সংস্কারই করা হোক না কেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে তা ব্যর্থ হবে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা ছাড়া ঐক্য গঠন সম্ভব নয়। দেশের স্বার্থেই আমাদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”

জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য ভেঙে গেছে— এমন মন্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “আমি তা দেখি না। প্রতিটি দলের নিজস্ব মতাদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে। যেটুকুতে একমত হওয়া যাবে, ততটুকুতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বাকি বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক জনগণ।”

আবদুল মান্নানের রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম বলেন, “তিনি সবসময় দেশ নিয়ে ভাবতেন। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে বাংলাদেশ বিমানের এমডি হয়েছিলেন এবং তার সময়ে প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক ছিল। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ছিল না।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন মরহুম আবদুল মান্নানের মেয়ে ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।




‘জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হবে নির্বাচন’, ঘোষণা দিলেন নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে। একই সঙ্গে তিনি এই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানান।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বলেছি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। এই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র অবশ্যই সংবিধানের প্রস্তাবনা ও তফসিলে উল্লেখ করে স্বীকৃতি দিতে হবে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।”

নাহিদ ইসলাম জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে যে, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে। তবে ঐকমত্য কমিশন এখনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদের সুরাহা করা আমাদের এবং দেশবাসীর যৌক্তিক দাবি। এই সনদে যেন জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

ছাত্রদল ও এইচএসসি পরীক্ষার কারণে রোববার ঢাকায় কর্মসূচি চলাকালে ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে এনসিপির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ছাত্রদলের কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করায় তাদের ধন্যবাদ জানান নাহিদ।

ছাত্রনেতাদের চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, “এসব ঘটনা জুলাই আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। যারা জড়িত, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূর্ণতা পায়নি। জুলাই সনদের মাধ্যমে আংশিক পূরণ হতে পারে। তবে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।”

তিনি জানান, নতুন বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। আগামীকাল রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় শহীদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করা হবে। এর মধ্য দিয়েই জুলাই পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, সামান্তা শারমিন এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করবে এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামীকাল ৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করবে। শনিবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক ঘোষণায় এই তথ্য জানানো হয়।

ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, “আগামীকাল (৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার ঘোষণা দেওয়া হবে। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দেখা হচ্ছে আপনাদের সাথে।”

এর আগে গত বুধবার (৩০ জুলাই) নরসিংদী শহরের পৌরসভার সামনে আয়োজিত এক পথসভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম একই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “৩ আগস্ট আমরা শহীদ মিনার থেকে নতুন বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা দেব। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে সব দাবি আদায় করে ছাড়ব।”

এনসিপির নেতারা বলছেন, এই ইশতেহার হবে একটি রাজনৈতিক রূপরেখা, যা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো, ন্যায়বিচার, অংশগ্রহণমূলক শাসন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার বহন করবে।

ঘোষণার দিন সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের শহীদ মিনারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সময়ে এনসিপির ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ আগামী দিনের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।




জামায়াত আমিরের হার্টের বাইপাস সার্জারি সফল, আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হার্টের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

দলের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা তদারকির দায়িত্বে থাকা ডা. খালিদুজ্জামান জানান, শনিবার (২ আগস্ট) সকাল ৮টায় অপারেশন শুরু হয় এবং দুপুর ১২টার মধ্যে সার্জারি সম্পন্ন হয়।

অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন দেশের খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর কবির ও তার টিম। সার্জারি শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দলীয়ভাবে এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সেখানে জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “আমিরে জামায়াতের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে আছেন এবং শারীরিকভাবে স্থিতিশীল। দেশবাসীর কাছে আমরা তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করছি।”

উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




জুলাই বিপ্লব তরুণদের নতুন রাজনীতির সূচনা: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ দেশের তরুণ সমাজের চেতনার জাগরণ ঘটিয়েছে এবং এটি একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইতিহাসের সত্য ঘটনা প্রকাশ করাও যেন অপরাধ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বইমেলা ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের ইতিহাসে অনেক গৌরবময় ও মহিমান্বিত ঘটনা রয়েছে, যেগুলো যথাসময়ে প্রকাশিত হয় না। আজ সত্য কথা বলা, ইতিহাসভিত্তিক বই লেখা ও তা পাঠ করাও যেন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের বাস্তবতায় যারা সত্যের ভিত্তিতে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন, তারাই প্রকৃত অর্থে সমাজের সার্থক মানুষ।”

জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, “গত ১৬ বছর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে যারা নির্যাতন, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতার পটভূমিতেই এ দেশের মানুষ জুলাই বিপ্লবের সূচনা করেছে। দেশের মানুষ চায় না একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ পরিচালিত হোক; তারা চায় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দেশ চলুক।”

তিনি আরও বলেন, “তরুণরা কোনো মিথ্যা বয়ানে বিশ্বাস করেনি। তারা পারিবারিক গণ্ডি, শিক্ষাঙ্গণ অতিক্রম করে রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিল স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে। এক জন গুলিবিদ্ধ হলে অন্যজন পানি নিয়ে এগিয়ে গেছে। অথচ সেই সময়েও গুলি থামেনি।”

সরকারি প্রচারণা যন্ত্রের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “দিনরাত প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করে জনগণের মন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু তরুণরা সত্য বুঝে নিয়েছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস বিদ্রোহ আর প্রতিরোধে সমৃদ্ধ—পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭), সিপাহি বিদ্রোহ (১৮৫৭), ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তিতুমীরের লড়াই, সাঁওতাল বিদ্রোহ, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ—এই জাতিকে মিথ্যার বয়ানে চিরতরে দমন করা সম্ভব নয়।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সঞ্জয় দে রিপন, মনিরুজ্জামান মনির, জিকরুল হাসান প্রমুখ।




গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচার চর্চা করে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনছে অনেকে: এবি পার্টির অভিযোগ

ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় কয়েকটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র নিজেদের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

শুক্রবার (১ আগস্ট) এবি পার্টির যুব সংগঠন এবি যুব পার্টির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব হাদিউজ্জামান খোকন।

মঞ্জু বলেন, “রক্তের স্রোতের মধ্যে দিয়ে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি, সেই বাংলাদেশে আওয়ামী সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি আর ফিরে আসবে না – এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিছু রাজনৈতিক দল খুব দ্রুতই সেই ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আসে তারাই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। আর এতে তাদের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত হ্রাস পায়। এটি গণতন্ত্র ও দেশের স্থিতিশীলতার জন্য এক অশনি সংকেত।”

আলোচনায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “আমরা আগে ভয় ও নির্যাতনের মধ্যে ছিলাম, কিন্তু এখন এক নতুন বাংলাদেশের দ্বারপ্রান্তে। এই পরিবর্তনের জন্য ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছে, অথচ কোনো রাজনৈতিক নেতার সন্তান জীবন দেয়নি। আবু সাঈদের মৃত্যু জাতিকে নাড়া দিয়েছিল—এটি ছিল বিবেকের বিপ্লব।”

মঞ্জুর দাবি, “ইতিহাস বলে গণঅভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিবাদীরা আর ফিরে আসতে পারে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অনেকেই আওয়ামী চরিত্রে ফিরে যাচ্ছে, মজলুম থেকে পরিণত হচ্ছে জালিমে।”

ধর্মভিত্তিক দলগুলোর আচরণ নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আজ ধর্মভিত্তিক দলগুলো যেভাবে অহংকারে ভুগছে, তা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না। ক্ষমতার চক্র একটি ‘চাঁদাবাজি পদ্ধতি’ গড়ে তুলেছে। এই ব্যবস্থাকে ভাঙতেই আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছি।”

আলোচনায় তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে অতীতে যারা জনপ্রিয়তার চূড়ায় ছিলেন তারাও ইতিহাসে হারিয়ে গেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান তার বড় উদাহরণ।”




ফ্যাসিবাদী শাসনে মানুষ ছিল জীবিত থেকেও মৃতপ্রায় : জোনায়েদ সাকি

বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষের অবস্থা ছিল ‘বেঁচে থেকেও মৃতপ্রায়’—এ মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘জুলাই গণসমাবেশ’-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনে মানুষ খেয়ে পরে বাঁচলেও মর্যাদাহীন জীবনযাপন করছিল। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন আবু সাঈদ, জীবন দিয়ে জানান দিয়েছেন তার অবস্থান। জনগণের ঐক্য প্রমাণ করেছে, ঐক্য থাকলে ফ্যাসিবাদ যেমন পালিয়েছে, তেমনি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকেও কবর দেওয়া সম্ভব।”

সমাবেশের উদ্বোধন করেন ২০২৪ সালের ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে’ শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিলের মা আয়েশা বেগম।

সাকি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের শহীদদের ঋণ আমরা এখনো শোধ করতে পারিনি। ৭১ থেকে ২৪ সালের শহীদদের আদর্শ ধারণ করতে না পারলে আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন হবে না। নতুন রাষ্ট্র চাইলে পুরনো লুটপাটের ব্যবস্থাকে ভাঙতে হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, এখনো শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি সরকার। তাদের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রযন্ত্র এখনো পুরনো ক্ষমতা-কেন্দ্রিক ও লুটপাটভিত্তিক ধাঁচে চলে। এটি বন্ধ না হলে জনগণের মুক্তি আসবে না।”

সাকি বলেন, “মানুষকে বিভক্ত করা হচ্ছে নারী, ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। এই অধিকার নিশ্চিত করলেই শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানানো হবে।” তিনি জানান, গণসংহতি আন্দোলন রাজপথ ছাড়িয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংসদে গিয়ে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, “২০১৭ সালেই আমরা বলেছিলাম—নতুন রাজনৈতিক চুক্তি ছাড়া রাষ্ট্রে সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে না। আমরা বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করি, যা জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে পরিচালিত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে অধিকার আদায়ে আর জীবন দিতে হবে না। সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করতে না চাইলে রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপান্তর অপরিহার্য।”

সমাবেশে আরও দাবি জানানো হয়—আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং জনগণের ম্যান্ডেটে একটি নতুন রাজনৈতিক চুক্তি গঠন করতে হবে, যেটিকে ‘জুলাই সনদ’ হিসেবে অভিহিত করেন নেতারা।


সংক্ষিপ্ত মূল বক্তব্য:

  • ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষের মর্যাদাহীন জীবন ছিল: সাকি
  • ৭১ ও ২৪ সালের শহীদদের রক্তের দায় শোধে ঐক্য জরুরি
  • লুটপাটের রাষ্ট্রব্যবস্থা ভাঙতে নতুন চুক্তির ডাক
  • হিন্দু-মুসলিম বিভাজন নয়, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি
  • ‘জুলাই সনদ’ নামে নতুন সংবিধানিক চুক্তির প্রস্তাব