ভোলায় বিক্ষোভকালে গুলিতে নিহত জসিম উদ্দিন

ভোলার রাজনৈতিক উত্তেজনাকালে বিক্ষোভের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ছাতা কারিগর মো. জসিম উদ্দিন (৪৮)। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, ভোলা শহরের নতুন বাজার এলাকায়।

সেদিন ভোলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ডাকে চলমান বিক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল, রোডমার্চ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান কর্মসূচির মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। শহরের বাংলা স্কুল মোড়, কালীনাথ বাজার, নতুন বাজার ও ডিসি অফিস এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন জসিম উদ্দিন। তিনি শহরের একজন ছাতা মেরামতের কারিগর ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি তার দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শী আশরাফুল আলম সজিব জানান, তিনি সংবাদ সংগ্রহের সময় গুলির শব্দ শুনতে পান। এক পর্যায়ে একটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গিয়ে জসিম উদ্দিনের মাথায় লাগে। আশেপাশের লোকজন দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিতে চেষ্টা করলেও তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

এই ঘটনার পর শহরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ছাত্রজনতার মিছিলে আগুন জ্বালানো, কাঁচ ভাঙচুর ও সরকারি কার্যালয়ে হামলার খবর পাওয়া যায়। জেলা আওয়ামী লীগ অফিসসহ কয়েকটি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালায় এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে টহল জোরদার করা হয়।

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের ওই ঘটনার পর থেকে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, “অবৈধ অস্ত্র ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। জেলার নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি।”

তবে নিহত জসিম উদ্দিনের পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এক বছর পার হলেও ঘটনার মূল হোতারা এখনো ধরা পড়েনি। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আগৈলঝাড়ায় বিএনপি তিন ভাগে বিভক্ত, ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে আলাদা সভার ডাক

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি ৫ আগস্ট ‘ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ দিবস’ পালনে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পৃথক সভা ও র‍্যালির আয়োজন করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রকট হয়ে উঠেছে। একই কর্মসূচি ঘিরে একাধিক নেতৃত্বে প্রস্তুতি সভা ও ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘটনায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি ও হতাশা।

তিনটি পক্ষ ও আলাদা কর্মসূচি:

  • পক্ষ-১: কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুছুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ আগস্ট বিকেলে ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমি মাঠে সভা ও র‍্যালির আয়োজন।

    • প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন: আফজাল হোসেন শিকদার, অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম পান্না, মাওলানা আ. রব মিয়া, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার, সালমান হাসান রিপন প্রমুখ।

  • পক্ষ-২: বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোহবান’র পক্ষ থেকে সকালে আগৈলঝাড়া বালিকা বিদ্যালয় মাঠে সভা ও র‍্যালির আয়োজন।

    • প্রস্তুতি সভার নেতৃত্বে ছিলেন: ডা. মাহাবুবুল ইসলাম, যুবদল আহ্বায়ক শোভন রহমান মনির, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম শিপন ও জেলা যুবদল নেতা রাশেদুল ইসলাম টিটন।

  • পক্ষ-৩: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন’র পক্ষ থেকে সকালেই গৌরনদী কলেজ মাঠে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    • প্রস্তুতি সভা করেছেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে আলাদা কর্মসূচি পালন করে আসছে। মাঝে মধ্যে কুদ্দুছুর রহমান ও সোহবানপন্থীরা একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করলেও জহির উদ্দিন স্বপনের অনুসারীরা সব সময়ই পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন।

একাধিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের আগ্রহও কমে গেছে। অনেকেই বলেন, “এক নেতার সভায় গেলে অন্য নেতা কী মনে করেন—এই দোটানায় পড়ে থাকি। তাই কেউ কারও সভায় যেতে চায় না।”

উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি হননি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ১০ আগস্ট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১০ আগস্ট দেশের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। এরপর যাচাই-বাছাই ও আপত্তির প্রক্রিয়া শেষে ৩১ আগস্ট প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

ইসি সূত্র জানায়, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত ভোটার ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত এমন ভোটারদের তালিকা এবার হালনাগাদ হচ্ছে। ১ জানুয়ারি ২০০৭ বা তার পূর্বে যাদের জন্ম, এমন নাগরিকদের নাম থাকছে সম্পূরক তালিকায়। একইসঙ্গে মৃত ভোটারদের নাম কর্তনের কাজও সম্পন্ন করা হবে এ পর্যায়ে।

এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ২১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে আবেদন গ্রহণ। যে কেউ তাদের নাম তালিকায় না থাকলে, ভুল থাকলে বা স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে সেই সময়ের মধ্যে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন।

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন এর ওপর ভিত্তি করেই আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আগের একাধিক বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এইবার প্রায় ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকায় যোগ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকার নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে এবার ব্যাপকভাবে যাচাই-বাছাই, ওজর-আপত্তি ও তথ্য হালনাগাদের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন চাইছে, যেন দেশের প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের নাম সঠিকভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত নাম না থাকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে প্রতিনিধি পাঠালেন রাষ্ট্রপতি

বাইপাস সার্জারির পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পক্ষ থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে প্রেসিডেন্টের এপিএস মুহাম্মাদ সাগর হোসাইনকে।

রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি ইউনাইটেড হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানেই তাকে অভ্যর্থনা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং ডা. শফিকুর রহমানের ছোট ভাই ও দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ফখরুল ইসলাম, যিনি সিলেট মহানগর জামায়াতের আমিরও।

রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা ও সালাম পৌঁছে দিয়ে এপিএস সাগর হোসাইন জানান, রাষ্ট্রপতি ডা. শফিকুর রহমানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং তার সুস্থতা কামনায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির এ খোঁজখবর নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ভিন্নমতের নেতার স্বাস্থ্য সংকটে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদধারী প্রতিনিধি পাঠিয়ে মানবিকতা প্রদর্শন করলেন।




তরুণদের ঘিরেই রাজনৈতিক পুনর্জাগরণে বিএনপি: তারেক রহমান

তরুণদের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, যুগোপযোগী শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং চরমপন্থা প্রতিরোধ—এই পাঁচ দিকনির্দেশনায় দেশের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় ছাত্র সমাবেশে ভিডিও বার্তায় এসব দিক তুলে ধরে তরুণদের ‘ধানের শীষ’-এ ভোট দিতে আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।’

তারেক রহমান বলেন, “দেশের ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে গত দেড় দশকে ৪ কোটিরও বেশি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এই বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। সামনে সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।”

শিক্ষা ও দক্ষতা: আমূল সংস্কারের বার্তা

শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, “কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষা শিক্ষা, ই-কমার্স ও আউটসোর্সিংয়ে দক্ষতা অর্জন, উচ্চশিক্ষায় মেধার বিকাশ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে বিএনপি।”

তিনি জানান, ক্ষমতায় গেলে স্কুলস্তর থেকেই আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরি হয়।

প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের সুযোগ

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর একটি কর্মমুখী ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, “নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিশ্বায়নের এই যুগে সম্ভাবনার সব দরজা খোলা। তরুণদের এসব সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দিতে আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করা ছাড়া বিকল্প নেই।”

চরমপন্থা ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে তরুণদের দায়িত্ব

তারেক রহমান বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তরুণদেরকেই ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার পুনর্বাসন ঠেকাতে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীদিনের রাষ্ট্র নির্মাতা।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও উদ্যোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার নিরাপদ ভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আবাসন সংকট ও খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সুপারিশ চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

তিনি একইভাবে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাও চিহ্নিত করে সমাধানের প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেন।

নবীন-প্রবীণের সম্মিলনে স্বপ্নের বাংলাদেশ

তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেটা একজন মায়ের চোখে কাঙ্ক্ষিত। সেই বাংলাদেশ গড়তে নবীন-প্রবীণ সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।”

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, আমানউল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।




ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামোর রূপরেখা দিল এনসিপি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের দিক-নির্দেশনা ঘোষণা করল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার দলটি এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর জন্য ২৪ দফার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশ করেছে, যেখানে জোর দেওয়া হয়েছে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার, জনগণের ওপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রত্যাবর্তন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ২৪ দফা কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য একটি কাঠামোগত রূপরেখা।

ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনের অবসান চায় এনসিপি

ইশতেহারে বলা হয়েছে, একচ্ছত্র ক্ষমতার রাজনীতি নতুন বাংলাদেশে আর থাকবে না। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করা, সংসদের বিকেন্দ্রীকরণ, প্রশাসনিক বিভাগীয় কাঠামোর গণতান্ত্রিক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় পদে ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে দলটি।

সংবিধান ও নাগরিক অধিকারে রূপান্তরমূলক প্রতিশ্রুতি

দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান ও সংবিধানের চেতনার ভিত্তিতে নতুন এক সমাজগঠনের। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিক তথ্যের অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বৈচিত্র্যের মর্যাদা সংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করার ঘোষণা এসেছে।

গণঅভ্যুত্থান ও সেনা কর্মকর্তাদের স্বীকৃতি

একটি ব্যতিক্রমী দফায় এনসিপি বলেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সশস্ত্র বাহিনীর যারা জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একইসঙ্গে অভ্যুত্থানের দিকনির্দেশনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কাঠামোগত সংলাপ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর ও উৎপাদনভিত্তিক পরিকল্পনা

গুটিকয়েক গোষ্ঠীর হাতে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অবসান চায় এনসিপি। তারা বলছে, উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে সম্পদের বণ্টন, একক দাতা নির্ভরতা থেকে মুক্তি, এবং শ্রমিক-কৃষকের ঐক্য ও অংশীদারিত্বভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করবে তারা।

প্রযুক্তি ও আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি

ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর ন্যায্য বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবে গবেষণা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে জাতীয় স্তরের প্ল্যাটফর্ম গড়ার কথাও বলা হয়েছে।

নতুন কূটনীতি ও আঞ্চলিক বন্ধুত্বের দৃষ্টিভঙ্গি

ঔপনিবেশিক প্রভাব ও পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত থাকার সংকল্পে এনসিপি বলেছে, তারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বার্থের ভিত্তিতে ‘বন্ধুত্ব নয়, সমতা ও সংহতি’র ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিরপেক্ষ ও বিকল্প কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার

নারী-পুরুষের বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে সংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা জোরদার, শিশুর শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং তৃতীয় লিঙ্গসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনসিপি।

এক নজরে এনসিপির প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো:

  • গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন
  • শাসন কাঠামোয় বিকেন্দ্রীকরণ ও বিভাগীয় স্বায়ত্তশাসন
  • প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
  • সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার আইন
  • সামরিক বাহিনীর গণমুখী রূপান্তর এবং স্বীকৃতি প্রদান
  • অর্থনৈতিক গোষ্ঠীপ্রভুত্বের অবসান ও উৎপাদন-ভিত্তিক অর্থনীতি
  • ধর্ম ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি
  • নারীবান্ধব, শিশু-সহায়ক ও পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্রনীতি
  • প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কূটনীতি

এনসিপি জানায়, তারা এ ২৪ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কেবল নতুন সরকার নয়, এক নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে চায়—যেখানে ক্ষমতা জনগণের, রাষ্ট্রের নয়।




বরগুনা-২ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর গণসংযোগে গণজোয়ার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা-২ (বামনা, বেতাগী ও পাথরঘাটা) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন।
শনিবার (২ আগস্ট) বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় দিনভর চলা এ গণসংযোগে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

বেতাগী টাউনব্রিজে পথসভায় মুফতির বক্তব্য:

তিনি বলেন,
“যারা বছরের পর বছর ক্ষমতায় থেকেছে, তারা কখনো এখানকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেনি। আমরা এই মাটি ও মানুষের লোক; পাশে থাকতে চাই, লুটপাট করতে নয়।”
তিনি অভিযোগ করেন,
“দীর্ঘদিন একদল লুটপাট চালিয়ে চলে গেছে, আরেক দল মামলার ফাঁদে ফেলে নিরীহ মানুষকে কাঁদাচ্ছে। দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে হেবিওয়েট নেতার নামে। ইনশাআল্লাহ, বেতাগীতে কোনো চাঁদাবাজি হতে দেব না।”

মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী বলেন,
“আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। আমি চরমোনাই পীরের শিষ্য, রাজনীতি করি মানুষের হক আদায়ের জন্য। যদি আপনারা সমর্থন দেন, এই জনপদের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না।”

পথসভা ও গণসংযোগ চলাকালে প্রার্থী মিজানুর রহমান কাসেমী গলাচিপা, চান্দখালী, কাউনিয়া, কাজীরহাট, মোকামিয়া, পুটিয়াখালী, বিবিচিনি বাসস্ট্যান্ডবেতাগী পৌর শহর জুড়ে স্থানীয়দের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।

:

গণসংযোগে উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ ভোটার ও ধর্মপ্রাণ তরুণদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি করতে চায় বিএনপি: তারেক রহমান

“এই দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি করতে চায় বিএনপি”—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নবীনদের বিচক্ষণতা একসাথে মিলেই গঠিত হবে আগামীর বাংলাদেশ।

রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৩টায় রাজধানীর শাহবাগে ছাত্রদলের আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “যোগ্য নেতৃত্বের মানে শুধু এমপি বা মন্ত্রী হওয়া নয়। সকল সেক্টরে—শিক্ষা, ব্যবসা, প্রশাসন—সক্ষম ও দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে এই প্রজন্মকেই এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সংকটে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই বিএনপি বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী শিক্ষা নীতি তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সংস্কার করে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে, যাতে করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথ চলা সহজ হয়।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, “তোমরাই বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় মুখ। আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্বে তোমরাই থাকবে। তোমাদের হাত ধরেই আসবে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তোমরাই এগিয়ে যাবে।”

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ একাধিক সাবেক নেতা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।

শাহবাগ ও আশেপাশের এলাকায় সকাল থেকেই জমায়েত হতে থাকেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশস্থলে আসেন তারা। দুপুর নাগাদ শাহবাগ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫


 




‘ছাত্রদল চাইলে সারা দেশ অবরুদ্ধ করতে পারে’—শাহবাগে শক্তিমত্তার বার্তা রাকিবুলের

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। প্রয়োজন হলে সারাদেশে অবরোধ কার্যকর করার সক্ষমতা ছাত্রদলের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত এক ছাত্র সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’র বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক উপস্থিতি ও আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরেন।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, “যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, ছাত্রদল চাইলে তাদের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলতে পারে। ছাত্রদলকে থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।”

তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যদি নির্দেশ দেন, তাহলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সারা দেশে অবরোধ করে দিতে পারবে।”

সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ও কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

সমাবেশের শুরুতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বিগত ১৫ বছরে সংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গুম-খুন হয়েছেন স্বৈরাচারী সরকারের বাহিনীর হাতে।”

সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের মাথায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা বাঁধা ছিল, কারও হাতে ছিল ছাত্রদল ও বিএনপির পতাকা, আবার অনেকে সংগঠনের নাম ও লোগোযুক্ত ব্যান্ড পরে হাজির হন। পুরো সমাবেশে ছাত্রদলের সংগঠনিক ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শনের বার্তা ছিল স্পষ্ট।




শহিদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে এনসিপি, নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক দফা ঘোষণার বর্ষপূর্তিতে, রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রোববার (৩ আগস্ট) আয়োজিত এ সমাবেশকে ঘিরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও এর আশপাশে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিববাড়ি মোড় ও দোয়েল চত্বরের প্রবেশপথে কড়া নজরদারি চলছে। শহিদ মিনার এলাকা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল, তল্লাশি ও অবস্থান স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। ডিএমপির ডগ স্কোয়াড দিয়ে সমাবেশস্থলের বিভিন্ন এলাকা বোমা ও বিস্ফোরক শনাক্তকরণে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

ইশতেহার ঘোষণায় কী থাকবে?
এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ লিয়ন জানান, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আজকের সমাবেশ থেকে যে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করবেন, তা মূলত ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দেওয়া এক দফা ঘোষণার ভিত্তি নিয়ে নির্মিত। এই ইশতেহারে থাকবে—

  • এক নাগরিকের মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রব্যবস্থা
  • আধুনিক ও মানবিক সভ্যতা গড়ার রূপরেখা
  • রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা
  • তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে একটি মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই নতুন প্রজন্ম জানুক, কেমন হবে নতুন বাংলাদেশ। ইশতেহারে থাকবে সেই ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা।”

জনদুর্ভোগ কমাতে সচেষ্ট আয়োজকরা
আয়োজকরা জানিয়েছেন, সমাবেশ সংক্ষিপ্ত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ এড়াতে এনসিপির নিজস্ব শৃঙ্খলা টিম মিছিল ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

এনসিপির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে, সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা যেন শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলার সঙ্গে অবস্থান নেয় এবং অন্যান্য পরীক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের অসুবিধায় না ফেলে।


সংক্ষিপ্ত তথ্যছক:

বিষয়ের নাম তথ্য
অনুষ্ঠান নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার ঘোষণা
আয়োজক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
স্থান কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, ঢাকা
তারিখ ৩ আগস্ট ২০২৫
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ডিএমপি, ডগ স্কোয়াড, শৃঙ্খলা টিম
ইশতেহারের মূল বিষয় এক নাগরিকের রাষ্ট্র, মানবিক উন্নয়ন, প্রযুক্তি-ভিত্তিক আধুনিকতা

 

আল-আমিন,
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম |