গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ৫ আগস্ট—তারেক রহমানের বার্তা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ৫ আগস্টকে নতুন বাংলাদেশের জন্য প্রতিজ্ঞার দিন হিসেবে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আজ ও আগামীর প্রতিটি ৫ আগস্ট হয়ে উঠুক গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা আর মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের দিন।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি ঘৃণ্যতম ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের দিন। বিজয়ের মুহূর্তে আমি বলেছিলাম, বিজয়ী যদি পরাজিতকে নিরাপত্তা দেয়, তবেই সে বিজয় মহিমান্বিত হয়। সেই আহ্বান আজও প্রাসঙ্গিক। কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেন, সহিংসতায় না জড়ান, নারীর প্রতি সহিংসতা না করেন এবং সকলের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেটি হবে ‘মায়ের চোখে বাংলাদেশ’। যেখানে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিরাপদ থাকবে—বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী কেউই বঞ্চিত হবে না।”

আওয়ামী লীগ শাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে পলাতক স্বৈরাচার গুম, খুন, নির্যাতন আর নিপীড়নের সংস্কৃতি চালু করেছিল। ‘আয়নাঘর’ নামে গোপন বন্দিশালায় মানুষকে আটকে রাখা হতো, অনেকে চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী এবং কমিশনার চৌধুরী আলমের আজও খোঁজ মেলেনি।”

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “ব্যাংকব্যবস্থা ধ্বংস করে, দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ব্যক্তিতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতির জালে আবদ্ধ করা হয়েছিল।”

বার্তায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২৪ ছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। দুই সংগ্রামেই শহীদের রক্ত আছে, বাংলাদেশের হৃদয়ে সেই রক্তচিহ্ন চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”

তারেক রহমান বার্তার শেষাংশে বলেন, “এই সুমহান অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে আমি ও বিএনপি দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষের সহানুভূতি ও সহযোগিতা কামনা করি।”




গণ-আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ মানুষ: ইঞ্জিনিয়ার সোবহান

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, “চলমান গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ এখন একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। সেই স্বপ্ন পূরণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই।”

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে আগৈলঝাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণ-আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলা বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলো।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার সোবহান আরও বলেন, “এই গণ-আন্দোলন কোনো একদিনে হয়নি, এটি ১৭ বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই এই আন্দোলনের শক্ত ভিত গড়ে উঠেছে।”

তিনি দাবি করেন, অতীতে যারা গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে আগামীতে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে শহীদদের সম্মানে স্থাপনাগুলোর নামকরণ, পরিবার পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা হবে।

আন্দোলনের সফলতা এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে বক্তারা বলেন, এখন আর কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, জনগণ বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়।

আলোচনা সভার শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে দুই উপজেলার বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহাবুবুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল আউয়াল লোকমান, আনোয়ার সাদাত তোতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহে আলম ফকির, যুবদল নেতা শোভন রহমান মনির, মনির হাওলাদার, রাশেদুল ইসলাম টিটন, আনোয়ার শাহ, আবু হানিফ বকতিয়ার, ছাত্রদল নেতা এস এম হীরা প্রমুখ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অন্তবর্তী সরকারের ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ উন্মোচনে বিএনপির প্রতিনিধি দল

অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন— স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং সালাহউদ্দিন আহমদ।

এর আগে সোমবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় সাড়ে ১০টায়। ভার্চুয়ালি এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলীয় সূত্র জানায়, জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক রূপরেখা, নির্বাচনী নির্দেশনা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যপরিধি নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। বিএনপি এই ঘোষণাপত্রের প্রতি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।




শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামি মূল্যবোধ সংযোজনের প্রস্তাব জামায়াতের, শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইসলামিকরণ, শিক্ষকদের জাতীয়করণ ও নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণসহ একাধিক প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরারের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরে দলটির একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে ছিল। অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতির কারণে জাতির ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়েছিল। এখন সময় এসেছে একটি ঈমানভিত্তিক, নৈতিকতা-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার।”

জামায়াত প্রতিনিধি দলের প্রধান দাবি ছিল—দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের জাতীয়করণ। তাদের মতে, “শিক্ষা জাতি গঠনের মেরুদণ্ড হলে, শিক্ষকই হলেন শিক্ষার মেরুদণ্ড। শিক্ষক যদি উপেক্ষিত থাকেন, তাহলে জাতিও গঠিত হতে পারে না।”

দ্বিতীয় প্রধান দাবি হিসেবে তারা নন-এমপিও শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তির আহ্বান জানায়। এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভাতা দ্রুত প্রদানের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্ত করার দাবিও জানায় দলটি।

সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি সর্বজনগ্রাহ্য কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত প্রতিনিধি দল বলেন, “দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিধি নিয়ে এমন একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা দরকার।”

শিক্ষা উপদেষ্টা দাবি-দাওয়াগুলো গুরুত্বসহকারে শুনেছেন এবং ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান জামায়াত নেতা।

বৈঠকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।




গণতন্ত্রের উত্তরণে বাধা দিচ্ছে চক্রান্তকারীরা, জাতীয় ঐক্যের ডাক ফখরুলের

গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেশজুড়ে চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র যেন সঠিক পথে এগোতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে নানা ষড়যন্ত্র চলছে।”

সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়’ শীর্ষক যুবসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

ফখরুল বলেন, “আমরা গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে প্রায় ৮ বছর তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই লড়াই চালিয়ে গেছি। আজ যখন একটি ট্রানজিশন পিরিয়ডে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, তখনই একদল চক্রান্তকারী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”

বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের সময় পার করে আমরা এখন এমন একটি সময় অতিক্রম করছি, যেখানে সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা। ইতিহাস বলে, যখনই দেশ ভেঙে পড়ে, তখনই বিএনপি এগিয়ে এসে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেয়। এবারও আমাদের সেই প্রস্তুতি থাকতে হবে।”

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, পরস্পরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সম্মিলিতভাবে গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের কাজ করি। এটাই আমাদের সামনে বড় সুযোগ। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানো সম্ভব।”

এই সমাবেশে বিএনপির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় ফখরুল জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।




ভোলায় বিক্ষোভকালে গুলিতে নিহত জসিম উদ্দিন

ভোলার রাজনৈতিক উত্তেজনাকালে বিক্ষোভের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ছাতা কারিগর মো. জসিম উদ্দিন (৪৮)। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, ভোলা শহরের নতুন বাজার এলাকায়।

সেদিন ভোলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ডাকে চলমান বিক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল, রোডমার্চ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান কর্মসূচির মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। শহরের বাংলা স্কুল মোড়, কালীনাথ বাজার, নতুন বাজার ও ডিসি অফিস এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন জসিম উদ্দিন। তিনি শহরের একজন ছাতা মেরামতের কারিগর ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি তার দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শী আশরাফুল আলম সজিব জানান, তিনি সংবাদ সংগ্রহের সময় গুলির শব্দ শুনতে পান। এক পর্যায়ে একটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গিয়ে জসিম উদ্দিনের মাথায় লাগে। আশেপাশের লোকজন দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিতে চেষ্টা করলেও তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

এই ঘটনার পর শহরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ছাত্রজনতার মিছিলে আগুন জ্বালানো, কাঁচ ভাঙচুর ও সরকারি কার্যালয়ে হামলার খবর পাওয়া যায়। জেলা আওয়ামী লীগ অফিসসহ কয়েকটি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালায় এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে টহল জোরদার করা হয়।

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের ওই ঘটনার পর থেকে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, “অবৈধ অস্ত্র ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। জেলার নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি।”

তবে নিহত জসিম উদ্দিনের পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এক বছর পার হলেও ঘটনার মূল হোতারা এখনো ধরা পড়েনি। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আগৈলঝাড়ায় বিএনপি তিন ভাগে বিভক্ত, ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে আলাদা সভার ডাক

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি ৫ আগস্ট ‘ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ দিবস’ পালনে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পৃথক সভা ও র‍্যালির আয়োজন করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রকট হয়ে উঠেছে। একই কর্মসূচি ঘিরে একাধিক নেতৃত্বে প্রস্তুতি সভা ও ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘটনায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি ও হতাশা।

তিনটি পক্ষ ও আলাদা কর্মসূচি:

  • পক্ষ-১: কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুছুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ আগস্ট বিকেলে ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমি মাঠে সভা ও র‍্যালির আয়োজন।

    • প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন: আফজাল হোসেন শিকদার, অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম পান্না, মাওলানা আ. রব মিয়া, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার, সালমান হাসান রিপন প্রমুখ।

  • পক্ষ-২: বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোহবান’র পক্ষ থেকে সকালে আগৈলঝাড়া বালিকা বিদ্যালয় মাঠে সভা ও র‍্যালির আয়োজন।

    • প্রস্তুতি সভার নেতৃত্বে ছিলেন: ডা. মাহাবুবুল ইসলাম, যুবদল আহ্বায়ক শোভন রহমান মনির, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম শিপন ও জেলা যুবদল নেতা রাশেদুল ইসলাম টিটন।

  • পক্ষ-৩: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন’র পক্ষ থেকে সকালেই গৌরনদী কলেজ মাঠে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    • প্রস্তুতি সভা করেছেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে আলাদা কর্মসূচি পালন করে আসছে। মাঝে মধ্যে কুদ্দুছুর রহমান ও সোহবানপন্থীরা একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করলেও জহির উদ্দিন স্বপনের অনুসারীরা সব সময়ই পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন।

একাধিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের আগ্রহও কমে গেছে। অনেকেই বলেন, “এক নেতার সভায় গেলে অন্য নেতা কী মনে করেন—এই দোটানায় পড়ে থাকি। তাই কেউ কারও সভায় যেতে চায় না।”

উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি হননি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ১০ আগস্ট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১০ আগস্ট দেশের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। এরপর যাচাই-বাছাই ও আপত্তির প্রক্রিয়া শেষে ৩১ আগস্ট প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

ইসি সূত্র জানায়, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত ভোটার ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত এমন ভোটারদের তালিকা এবার হালনাগাদ হচ্ছে। ১ জানুয়ারি ২০০৭ বা তার পূর্বে যাদের জন্ম, এমন নাগরিকদের নাম থাকছে সম্পূরক তালিকায়। একইসঙ্গে মৃত ভোটারদের নাম কর্তনের কাজও সম্পন্ন করা হবে এ পর্যায়ে।

এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ২১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে আবেদন গ্রহণ। যে কেউ তাদের নাম তালিকায় না থাকলে, ভুল থাকলে বা স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে সেই সময়ের মধ্যে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন।

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন এর ওপর ভিত্তি করেই আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আগের একাধিক বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এইবার প্রায় ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকায় যোগ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকার নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে এবার ব্যাপকভাবে যাচাই-বাছাই, ওজর-আপত্তি ও তথ্য হালনাগাদের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন চাইছে, যেন দেশের প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের নাম সঠিকভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত নাম না থাকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে প্রতিনিধি পাঠালেন রাষ্ট্রপতি

বাইপাস সার্জারির পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পক্ষ থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে প্রেসিডেন্টের এপিএস মুহাম্মাদ সাগর হোসাইনকে।

রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি ইউনাইটেড হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানেই তাকে অভ্যর্থনা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং ডা. শফিকুর রহমানের ছোট ভাই ও দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ফখরুল ইসলাম, যিনি সিলেট মহানগর জামায়াতের আমিরও।

রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা ও সালাম পৌঁছে দিয়ে এপিএস সাগর হোসাইন জানান, রাষ্ট্রপতি ডা. শফিকুর রহমানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং তার সুস্থতা কামনায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির এ খোঁজখবর নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ভিন্নমতের নেতার স্বাস্থ্য সংকটে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদধারী প্রতিনিধি পাঠিয়ে মানবিকতা প্রদর্শন করলেন।




তরুণদের ঘিরেই রাজনৈতিক পুনর্জাগরণে বিএনপি: তারেক রহমান

তরুণদের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, যুগোপযোগী শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং চরমপন্থা প্রতিরোধ—এই পাঁচ দিকনির্দেশনায় দেশের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় ছাত্র সমাবেশে ভিডিও বার্তায় এসব দিক তুলে ধরে তরুণদের ‘ধানের শীষ’-এ ভোট দিতে আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।’

তারেক রহমান বলেন, “দেশের ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে গত দেড় দশকে ৪ কোটিরও বেশি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এই বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। সামনে সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।”

শিক্ষা ও দক্ষতা: আমূল সংস্কারের বার্তা

শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, “কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষা শিক্ষা, ই-কমার্স ও আউটসোর্সিংয়ে দক্ষতা অর্জন, উচ্চশিক্ষায় মেধার বিকাশ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে বিএনপি।”

তিনি জানান, ক্ষমতায় গেলে স্কুলস্তর থেকেই আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরি হয়।

প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের সুযোগ

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর একটি কর্মমুখী ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, “নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিশ্বায়নের এই যুগে সম্ভাবনার সব দরজা খোলা। তরুণদের এসব সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দিতে আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করা ছাড়া বিকল্প নেই।”

চরমপন্থা ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে তরুণদের দায়িত্ব

তারেক রহমান বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তরুণদেরকেই ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার পুনর্বাসন ঠেকাতে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীদিনের রাষ্ট্র নির্মাতা।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও উদ্যোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার নিরাপদ ভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আবাসন সংকট ও খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সুপারিশ চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

তিনি একইভাবে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাও চিহ্নিত করে সমাধানের প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেন।

নবীন-প্রবীণের সম্মিলনে স্বপ্নের বাংলাদেশ

তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেটা একজন মায়ের চোখে কাঙ্ক্ষিত। সেই বাংলাদেশ গড়তে নবীন-প্রবীণ সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।”

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, আমানউল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।