ভোলায় বিক্ষোভকালে গুলিতে নিহত জসিম উদ্দিন

ভোলার রাজনৈতিক উত্তেজনাকালে বিক্ষোভের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ছাতা কারিগর মো. জসিম উদ্দিন (৪৮)। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, ভোলা শহরের নতুন বাজার এলাকায়।
সেদিন ভোলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ডাকে চলমান বিক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল, রোডমার্চ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান কর্মসূচির মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। শহরের বাংলা স্কুল মোড়, কালীনাথ বাজার, নতুন বাজার ও ডিসি অফিস এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন জসিম উদ্দিন। তিনি শহরের একজন ছাতা মেরামতের কারিগর ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি তার দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শী আশরাফুল আলম সজিব জানান, তিনি সংবাদ সংগ্রহের সময় গুলির শব্দ শুনতে পান। এক পর্যায়ে একটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গিয়ে জসিম উদ্দিনের মাথায় লাগে। আশেপাশের লোকজন দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিতে চেষ্টা করলেও তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
এই ঘটনার পর শহরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ছাত্রজনতার মিছিলে আগুন জ্বালানো, কাঁচ ভাঙচুর ও সরকারি কার্যালয়ে হামলার খবর পাওয়া যায়। জেলা আওয়ামী লীগ অফিসসহ কয়েকটি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালায় এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে টহল জোরদার করা হয়।
ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের ওই ঘটনার পর থেকে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
ভোলার পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, “অবৈধ অস্ত্র ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। জেলার নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি।”
তবে নিহত জসিম উদ্দিনের পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এক বছর পার হলেও ঘটনার মূল হোতারা এখনো ধরা পড়েনি। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫







