কক্সবাজার ভ্রমণ ইস্যুতে এনসিপির ৫ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় কমিটির ৫ জন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় ‘রাজনৈতিক পর্ষদকে’ অবহিত না করে কক্সবাজার সফর করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি।

বুধবার (৬ আগস্ট) এনসিপির দফতর শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এই পাঁচ নেতার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘ব্যক্তিগত সফর’ এর অভিযোগে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ ব্যাখ্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যাঁরা নোটিশ পেয়েছেন

নোটিশপ্রাপ্ত পাঁচ শীর্ষ নেতা হলেন

  • এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ,
  • মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম,
  • মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী,
  • জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা,
  • যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ

চিঠিতে বলা হয়, “গত ৫ আগস্ট, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী’ এবং একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে আপনারা ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার যান। বিষয়টি পূর্বে দলের রাজনৈতিক পর্ষদকে অবহিত করা হয়নি।”

এতে আরও বলা হয়, “আপনার এই সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রেক্ষাপট আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে।”

এনসিপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় যুবদলের জেলা, সদর থানা ও পৌর কমিটি গঠন

ভোলা জেলায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের তিনটি পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে ঘোষিত এ কমিটিগুলোতে স্থান পেয়েছেন অভিজ্ঞ ও নবীন নেতারা।

গত সোমবার (৪ আগস্ট) জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভোলা জেলা যুবদলের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মো. জামাল উদ্দিন লিটনকে সভাপতি এবং মো. আব্দুল কাদের সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন সংগঠনের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন পদে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সিনিয়র সহ-সভাপতি ১ জন, সহসভাপতি ১২ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৯ জন, সহসাধারণ সম্পাদক ১৫ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ১ জন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ৮ জন এবং সদস্য করা হয়েছে ৫ জনকে।

এছাড়া, ভোলা সদর থানা শাখায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আব্দুল লতিফ টিটুকে আহ্বায়ক এবং মো. বেলাল হোসেনকে সদস্যসচিব মনোনীত করা হয়। কমিটিতে মোট ৯ জন সদস্য রয়েছেন।

অন্যদিকে, ভোলা সদর পৌর শাখার ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে মো. রিয়াদ হাওলাদারকে আহ্বায়ক এবং মো. সগির আহমেদকে সদস্যসচিব করে।

ভোলা জেলা যুবদলের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন লিটন বলেন,
“ভোলা জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। নবগঠিত কমিটিগুলো সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে বলে আমি আশাবাদী।”

তিনি আরও জানান, এর আগে ভোলা জেলা যুবদলে একটি সুপারভাইজরি কমিটি দায়িত্বে ছিল। এখন পূর্ণাঙ্গ কাঠামো অনুমোদনের মাধ্যমে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শিবির সভাপতির অভিযোগ: ‘আওয়ামী লীগকে ফেরাতে বামপন্থিদের বর্ণচোরা ষড়যন্ত্র’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ। তার দাবি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার নেপথ্যে বামপন্থিরা কাজ করছে এবং এর মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এস এম ফরহাদ বলেন, “আজকের ‘মব সৃষ্টির’ ফ্রেমটা ১৯৭১ বনাম ২০২৪ না। এটা বিচার বহির্ভূত হত্যার বৈধতা দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। শাহবাগ ও বাকশালকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র চলছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “আমাদের গুম, খুন, ক্রসফায়ার ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা তখন যেমন শাহবাগ-বাকশালের বিরোধিতা করেছি, আজও করব। ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে থাকব ইনশাআল্লাহ।”

শিবির সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, “তার রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে বামরা বর্ণচোরা ভূমিকা পালন করছে। মতিউর রহমান নিজামীসহ নেতাদের ফাঁসিকে তিনি ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এ দায় শুধু শেখ হাসিনার নয়, শাহবাগের ফ্যাসিবাদীদের দোসরদেরও।”

সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ আরও বলেন, “ফেসবুকে যারা মব গঠন করেছে তারা সবাই বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের পোস্টধারী নেতা। তারা ১০-১২টা সংগঠন থেকে ২০-২৫ জন নিয়ে টিএসসিতে এসেছে। এ ধরনের আচরণ নতুন নয়, বরং এটি বামদের দীর্ঘদিনের চরিত্র।”

প্রসঙ্গত, ‘আমরাই ৩৬ জুলাই: আমরা থামব না’ শীর্ষক তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জামায়াত ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেয় শিবির। তবে ঢাবি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেইসব ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে শিবির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদে নামে, অপরদিকে বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও পাল্টা অবস্থান নেন। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলতে থাকে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ।




জুলাই শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চায় বিএনপি, নির্বাচনে অংশের ইঙ্গিত

বিএনপি জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণাকে ‘দুটি যুগান্তকারী উদ্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করে স্বাগত জানিয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই দুই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পরিবেশ গঠনের পথ সুগম হলো।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আজ থেকে এক বছর আগে এই দিনে আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়েছিলাম। হাজারও ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে সেই অর্জন এসেছে। আজকের এই ঘোষণাগুলো সেই সংগ্রামের স্বীকৃতি ও পূর্ণতা।”

তিনি জানান, জুলাই ঘোষণাপত্রকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। “আমরা আগে থেকেই বলেছি, জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ও শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া হবে। ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলোকে যথাযথ সংবিধানিক জায়গায় স্থাপন করা হবে,” বলেন সালাহউদ্দিন।

তিনি আরও জানান, গুলশান বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনের পরিবেশ ও রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে তুলে ধরা রূপরেখাকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বিএনপি বলেছে, এই ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

“নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ চেয়ে তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা আশাবাদী, যথাসময়ে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করবে,”— বলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে যারা আহত হয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও আইনি সুরক্ষার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, বিএনপি তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হবে— এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেই লক্ষ্যে দেশের জনগণকে প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।”

রাজনৈতিক ভারসাম্য ও রাষ্ট্রে অনিশ্চয়তা দূর করার প্রশ্নে বিএনপি নেতার ব্যাখ্যা ছিল, “আজকের ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বড় একটি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আস্থা ফিরে আসবে, রাষ্ট্রীয় গতিশীলতা বাড়বে।”

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তিনি ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নামে একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত দলিল প্রকাশ করেন, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।




স্বৈরাচার পতনের বর্ষপূর্তিতে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার ডাক হেফাজতের

শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের পতনের বর্ষপূর্তিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সতর্ক বার্তা দিয়েছে—এই বিজয় যেন কোনো ষড়যন্ত্রকারী দুষ্টচক্রের দ্বারা বেহাত না হয়। আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের আত্মঘাতী কোনো ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রনেতা, আলেম-ওলামা এবং জনগণের আস্থাভাজন নেতৃত্বের দূরদর্শী কৌশল ও কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।”

তারা আরও বলেন, “স্বৈরাচারী ও ইসলামবিদ্বেষী হাসিনা সরকারের পতনে আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। এই অভূতপূর্ব বিজয়ের জন্য আমরা শহীদদের স্মরণ করছি, যাঁদের আত্মত্যাগ আল্লাহ কবুল করেছেন। কিন্তু সংগ্রাম এখনো শেষ নয়। এই বিজয়কে ন্যায়ভিত্তিক সংবিধান ও সরকারব্যবস্থায় পরিণত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।”

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সমঅধিকারের প্রতিশ্রুতি

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা উল্লেখ করেন, “এই বিজয় শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের নয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও এর সুফল ভোগ করবে ইনশাআল্লাহ। সংখ্যালঘুদের জানমাল, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তবে মুক্তচিন্তা বা নাস্তিকতার নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত মেনে নেওয়া হবে না। সংখ্যালঘুদের কোনোভাবে রাজনীতির বলির পাঁঠা বানানো যাবে না।”

ইসলামী সংস্কৃতির স্ববিরোধহীন প্রকাশের আশা

হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের নিপীড়নের অবসানে আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় মুক্তির স্বাদ পেয়েছে। এখন জাতীয় জীবনে ইসলামী পরিচয় ও সংস্কৃতির পূর্ণ প্রকাশ ঘটবে বলে আমরা আশা করি।”

ভারতীয় আধিপত্য ও দালালদের বিচারের দাবি

তারা আরও বলেন, “শুধু গণহত্যার বিচার নয়—ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের সহযোগী সেক্যুলার শক্তিরও বিচার করতে হবে। রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিভেদহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কারও ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গুম-খুন কিংবা পুলিশি নির্যাতন আর থাকবে না।”

এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করল।




গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ৫ আগস্ট—তারেক রহমানের বার্তা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ৫ আগস্টকে নতুন বাংলাদেশের জন্য প্রতিজ্ঞার দিন হিসেবে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আজ ও আগামীর প্রতিটি ৫ আগস্ট হয়ে উঠুক গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা আর মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের দিন।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি ঘৃণ্যতম ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের দিন। বিজয়ের মুহূর্তে আমি বলেছিলাম, বিজয়ী যদি পরাজিতকে নিরাপত্তা দেয়, তবেই সে বিজয় মহিমান্বিত হয়। সেই আহ্বান আজও প্রাসঙ্গিক। কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেন, সহিংসতায় না জড়ান, নারীর প্রতি সহিংসতা না করেন এবং সকলের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেটি হবে ‘মায়ের চোখে বাংলাদেশ’। যেখানে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিরাপদ থাকবে—বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী কেউই বঞ্চিত হবে না।”

আওয়ামী লীগ শাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে পলাতক স্বৈরাচার গুম, খুন, নির্যাতন আর নিপীড়নের সংস্কৃতি চালু করেছিল। ‘আয়নাঘর’ নামে গোপন বন্দিশালায় মানুষকে আটকে রাখা হতো, অনেকে চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী এবং কমিশনার চৌধুরী আলমের আজও খোঁজ মেলেনি।”

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “ব্যাংকব্যবস্থা ধ্বংস করে, দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ব্যক্তিতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতির জালে আবদ্ধ করা হয়েছিল।”

বার্তায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২৪ ছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। দুই সংগ্রামেই শহীদের রক্ত আছে, বাংলাদেশের হৃদয়ে সেই রক্তচিহ্ন চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”

তারেক রহমান বার্তার শেষাংশে বলেন, “এই সুমহান অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে আমি ও বিএনপি দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষের সহানুভূতি ও সহযোগিতা কামনা করি।”




গণ-আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ মানুষ: ইঞ্জিনিয়ার সোবহান

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, “চলমান গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ এখন একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। সেই স্বপ্ন পূরণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই।”

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে আগৈলঝাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণ-আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলা বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলো।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার সোবহান আরও বলেন, “এই গণ-আন্দোলন কোনো একদিনে হয়নি, এটি ১৭ বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই এই আন্দোলনের শক্ত ভিত গড়ে উঠেছে।”

তিনি দাবি করেন, অতীতে যারা গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে আগামীতে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে শহীদদের সম্মানে স্থাপনাগুলোর নামকরণ, পরিবার পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা হবে।

আন্দোলনের সফলতা এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে বক্তারা বলেন, এখন আর কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, জনগণ বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়।

আলোচনা সভার শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে দুই উপজেলার বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহাবুবুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল আউয়াল লোকমান, আনোয়ার সাদাত তোতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহে আলম ফকির, যুবদল নেতা শোভন রহমান মনির, মনির হাওলাদার, রাশেদুল ইসলাম টিটন, আনোয়ার শাহ, আবু হানিফ বকতিয়ার, ছাত্রদল নেতা এস এম হীরা প্রমুখ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অন্তবর্তী সরকারের ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ উন্মোচনে বিএনপির প্রতিনিধি দল

অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন— স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং সালাহউদ্দিন আহমদ।

এর আগে সোমবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় সাড়ে ১০টায়। ভার্চুয়ালি এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলীয় সূত্র জানায়, জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক রূপরেখা, নির্বাচনী নির্দেশনা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যপরিধি নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। বিএনপি এই ঘোষণাপত্রের প্রতি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।




শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামি মূল্যবোধ সংযোজনের প্রস্তাব জামায়াতের, শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইসলামিকরণ, শিক্ষকদের জাতীয়করণ ও নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণসহ একাধিক প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরারের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরে দলটির একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে ছিল। অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতির কারণে জাতির ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়েছিল। এখন সময় এসেছে একটি ঈমানভিত্তিক, নৈতিকতা-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার।”

জামায়াত প্রতিনিধি দলের প্রধান দাবি ছিল—দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের জাতীয়করণ। তাদের মতে, “শিক্ষা জাতি গঠনের মেরুদণ্ড হলে, শিক্ষকই হলেন শিক্ষার মেরুদণ্ড। শিক্ষক যদি উপেক্ষিত থাকেন, তাহলে জাতিও গঠিত হতে পারে না।”

দ্বিতীয় প্রধান দাবি হিসেবে তারা নন-এমপিও শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তির আহ্বান জানায়। এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভাতা দ্রুত প্রদানের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্ত করার দাবিও জানায় দলটি।

সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি সর্বজনগ্রাহ্য কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত প্রতিনিধি দল বলেন, “দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিধি নিয়ে এমন একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা দরকার।”

শিক্ষা উপদেষ্টা দাবি-দাওয়াগুলো গুরুত্বসহকারে শুনেছেন এবং ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান জামায়াত নেতা।

বৈঠকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।




গণতন্ত্রের উত্তরণে বাধা দিচ্ছে চক্রান্তকারীরা, জাতীয় ঐক্যের ডাক ফখরুলের

গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেশজুড়ে চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র যেন সঠিক পথে এগোতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে নানা ষড়যন্ত্র চলছে।”

সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়’ শীর্ষক যুবসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

ফখরুল বলেন, “আমরা গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে প্রায় ৮ বছর তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই লড়াই চালিয়ে গেছি। আজ যখন একটি ট্রানজিশন পিরিয়ডে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, তখনই একদল চক্রান্তকারী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”

বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের সময় পার করে আমরা এখন এমন একটি সময় অতিক্রম করছি, যেখানে সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা। ইতিহাস বলে, যখনই দেশ ভেঙে পড়ে, তখনই বিএনপি এগিয়ে এসে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেয়। এবারও আমাদের সেই প্রস্তুতি থাকতে হবে।”

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, পরস্পরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সম্মিলিতভাবে গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের কাজ করি। এটাই আমাদের সামনে বড় সুযোগ। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানো সম্ভব।”

এই সমাবেশে বিএনপির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় ফখরুল জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।