‘হতাহতের তথ্য নির্ধারণে ব্যর্থতা’, জুলাই ঘোষণায় ঘাটতির অভিযোগ এনসিপির

সরকার গত এক বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, এই ব্যর্থতার ছাপই ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে’ প্রতিফলিত হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় দলের অবস্থান তুলে ধরেন আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, “এক বছরের মধ্যে সরকার আহত ও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে। এই অপারগতা ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।”

আখতার আরও বলেন, “ঘোষণাপত্রে উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ের কথা থাকলেও ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের কোনো উল্লেখ নেই। অথচ এই ধারাবাহিকতাই বর্তমান সংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।”

তিনি দাবি করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের গণহত্যা, জুডিশিয়াল কিলিং, আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন, মোদি-বিরোধী বিক্ষোভ, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী ছাত্র আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলোকে ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেটি আরও সমৃদ্ধ হতো।

এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে আসছি। গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান লেখার প্রস্তাব বারবার দিয়েছি। কিন্তু ঘোষণাপত্রে এ নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই।”

তিনি জানান, এনসিপি মনে করে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখায় অতীত ইতিহাস, শহীদদের ত্যাগ ও গণমানুষের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির দিকনির্দেশনা স্পষ্টভাবে থাকতে হবে।




‘গুরুত্বপূর্ণ দিবসে ব্যক্তিগত সফর’— এনসিপির পাঁচ শীর্ষ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পাঁচ নেতাকে দলীয় অনুমতি ছাড়া কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কারণ দর্শানোর চিঠিতে বলা হয়, “গতকাল ৫ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে আপনি এবং দলের আরও চারজন কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার গিয়েছেন। সফরের বিষয়ে ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’কে কোনো ধরনের পূর্ব অবগত না করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

নোটিশ পাওয়া নেতারা হলেন—দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

চিঠিতে আরও বলা হয়, “এই সিদ্ধান্ত দলের ভেতরে শৃঙ্খলাবিরোধী এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বসম্পন্ন দিবসের প্রতি অসংবেদনশীল আচরণ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।”

গতকাল (৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইটে পাঁচ নেতা কক্সবাজারে পৌঁছান। খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দাবি করেন, ওই নেতারা কক্সবাজারে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে একটি হোটেলে বৈঠক করতে গেছেন। এ গুঞ্জনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই হোটেলের সামনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভও করেন।

তবে পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠকের কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং এনসিপি সূত্রও এ দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, “দলীয় দায়িত্বশীলরা এমন দিনে ব্যক্তিগত সফরে গেলে জনমানসে ভুল বার্তা যায়। শৃঙ্খলা রক্ষায় দলকে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।”




“জুলাই ঘোষণাপত্র গণতন্ত্রের নবদিগন্ত উন্মোচন করবে: ফখরুল

ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এর মধ্য দিয়ে একটি নতুন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি রচিত হয়েছে। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নই হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।”

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচন আয়োজনের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের পথ দেখাবে। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জাতি একটি গ্রহণযোগ্য সরকার পাবে এবং সংকটের অবসান ঘটবে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। জনগণ একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি আন্তরিক হয়, তাহলে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।”

এ সময় তিনি একটি শক্তিশালী জাতীয় সংসদ গঠনের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দল এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে ফখরুল দাবি করেন, “আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করে দলটিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তাতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তারেক রহমানের সাথে বৈঠকে বসছে ১২ দলীয় জোট শুক্রবার

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান ১২ দলীয় জোটের প্রধান এবং জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি বলেন, “বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, যুগপৎ আন্দোলনের কার্যক্রম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়সীমা ঘোষণা পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে।”

এ বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনকালীন সময়সীমা ঘোষণার পর এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও আগ্রহ বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বিএনপির পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে বড় ধরনের দিক নির্দেশনা দিতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“জানাজার নামাজে কান্না করার সুযোগ পেতাম না” : শামীম সাঈদী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেছারাবাদ উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণজমায়েত ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বড় ছেলে ও সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ শামীম সাঈদী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

শামীম সাঈদী বলেন, “স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা মিটিং মিছিল তো দূরের কথা, জানাজার নামাজে কান্না করার সুযোগ পর্যন্ত পেতাম না। জামায়াতের নেতাকর্মীরা যদি কারও জানাজায় অংশগ্রহণ করত, তাদের পোষ্য পুলিশ বাহিনী দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হত। এখন আমরা স্বাধীনভাবে চলতে পারছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের সব সীমা অতিক্রম করেছে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে জনগণ তার যথাযথ জবাব দিয়েছে। নতুন বাংলাদেশে আমরা ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।”

শামীম সাঈদী আরো বলেন, “শেখ পরিবারের সবাই চোর-ডাকাত। শেখ মুজিবের ছেলে স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম ব্যাংক ডাকাতি করেছে। তার মেয়ে ১৪টি ব্যাংক ডাকাতি করেছে। সারা দেশের রাস্তাঘাটের কাজ না করে বিল তুলে নিয়ে দেশ থেকে পালিয়েছে। শুধু পিরোজপুরেই ছাব্বিশ শত কোটি টাকা চুরি করেছে। আমরা চোরদের বিরুদ্ধে। তাই জুলাইয়ের বিপ্লব ছিল বৈষম্যবিরোধী ও দুর্নীতিবিরোধী বিপ্লব।”

তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু শব্দ নেই। পাসপোর্ট, ভিসা ও জাতীয় পরিচয়পত্রেও তা লেখা নেই। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও মুসলমান সবাই এক সূত্রে গাঁথা। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমার বাবা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন।”

শামীম সাঈদী বলেন, “৫ আগস্টের পরে যেমন হিন্দুদের বাড়িঘর আমরা আগলে রেখেছিলাম, আগামীতেও তাদের মন্দির, জান-মাল, জমি ও সন্তানদের রক্ষা করব। আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে বিজয়ী করলে নেছারাবাদকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।”

নেছারাবাদ উপজেলা আমির মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সিদ্দিকুল ইসলাম, সাঈদী ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমির জহিরুল ইসলামসহ নেছারাবাদ ফোরামের বিভিন্ন নেতারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কক্সবাজার ভ্রমণ ইস্যুতে এনসিপির ৫ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় কমিটির ৫ জন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় ‘রাজনৈতিক পর্ষদকে’ অবহিত না করে কক্সবাজার সফর করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি।

বুধবার (৬ আগস্ট) এনসিপির দফতর শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এই পাঁচ নেতার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘ব্যক্তিগত সফর’ এর অভিযোগে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ ব্যাখ্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যাঁরা নোটিশ পেয়েছেন

নোটিশপ্রাপ্ত পাঁচ শীর্ষ নেতা হলেন

  • এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ,
  • মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম,
  • মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী,
  • জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা,
  • যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ

চিঠিতে বলা হয়, “গত ৫ আগস্ট, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী’ এবং একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে আপনারা ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার যান। বিষয়টি পূর্বে দলের রাজনৈতিক পর্ষদকে অবহিত করা হয়নি।”

এতে আরও বলা হয়, “আপনার এই সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রেক্ষাপট আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে।”

এনসিপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় যুবদলের জেলা, সদর থানা ও পৌর কমিটি গঠন

ভোলা জেলায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের তিনটি পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে ঘোষিত এ কমিটিগুলোতে স্থান পেয়েছেন অভিজ্ঞ ও নবীন নেতারা।

গত সোমবার (৪ আগস্ট) জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভোলা জেলা যুবদলের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মো. জামাল উদ্দিন লিটনকে সভাপতি এবং মো. আব্দুল কাদের সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন সংগঠনের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন পদে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সিনিয়র সহ-সভাপতি ১ জন, সহসভাপতি ১২ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৯ জন, সহসাধারণ সম্পাদক ১৫ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ১ জন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ৮ জন এবং সদস্য করা হয়েছে ৫ জনকে।

এছাড়া, ভোলা সদর থানা শাখায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আব্দুল লতিফ টিটুকে আহ্বায়ক এবং মো. বেলাল হোসেনকে সদস্যসচিব মনোনীত করা হয়। কমিটিতে মোট ৯ জন সদস্য রয়েছেন।

অন্যদিকে, ভোলা সদর পৌর শাখার ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে মো. রিয়াদ হাওলাদারকে আহ্বায়ক এবং মো. সগির আহমেদকে সদস্যসচিব করে।

ভোলা জেলা যুবদলের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন লিটন বলেন,
“ভোলা জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। নবগঠিত কমিটিগুলো সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে বলে আমি আশাবাদী।”

তিনি আরও জানান, এর আগে ভোলা জেলা যুবদলে একটি সুপারভাইজরি কমিটি দায়িত্বে ছিল। এখন পূর্ণাঙ্গ কাঠামো অনুমোদনের মাধ্যমে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শিবির সভাপতির অভিযোগ: ‘আওয়ামী লীগকে ফেরাতে বামপন্থিদের বর্ণচোরা ষড়যন্ত্র’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ। তার দাবি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার নেপথ্যে বামপন্থিরা কাজ করছে এবং এর মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এস এম ফরহাদ বলেন, “আজকের ‘মব সৃষ্টির’ ফ্রেমটা ১৯৭১ বনাম ২০২৪ না। এটা বিচার বহির্ভূত হত্যার বৈধতা দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। শাহবাগ ও বাকশালকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র চলছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “আমাদের গুম, খুন, ক্রসফায়ার ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা তখন যেমন শাহবাগ-বাকশালের বিরোধিতা করেছি, আজও করব। ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে থাকব ইনশাআল্লাহ।”

শিবির সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, “তার রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে বামরা বর্ণচোরা ভূমিকা পালন করছে। মতিউর রহমান নিজামীসহ নেতাদের ফাঁসিকে তিনি ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এ দায় শুধু শেখ হাসিনার নয়, শাহবাগের ফ্যাসিবাদীদের দোসরদেরও।”

সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ আরও বলেন, “ফেসবুকে যারা মব গঠন করেছে তারা সবাই বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের পোস্টধারী নেতা। তারা ১০-১২টা সংগঠন থেকে ২০-২৫ জন নিয়ে টিএসসিতে এসেছে। এ ধরনের আচরণ নতুন নয়, বরং এটি বামদের দীর্ঘদিনের চরিত্র।”

প্রসঙ্গত, ‘আমরাই ৩৬ জুলাই: আমরা থামব না’ শীর্ষক তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জামায়াত ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেয় শিবির। তবে ঢাবি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেইসব ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে শিবির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদে নামে, অপরদিকে বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও পাল্টা অবস্থান নেন। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলতে থাকে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ।




জুলাই শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চায় বিএনপি, নির্বাচনে অংশের ইঙ্গিত

বিএনপি জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণাকে ‘দুটি যুগান্তকারী উদ্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করে স্বাগত জানিয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই দুই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পরিবেশ গঠনের পথ সুগম হলো।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আজ থেকে এক বছর আগে এই দিনে আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়েছিলাম। হাজারও ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে সেই অর্জন এসেছে। আজকের এই ঘোষণাগুলো সেই সংগ্রামের স্বীকৃতি ও পূর্ণতা।”

তিনি জানান, জুলাই ঘোষণাপত্রকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। “আমরা আগে থেকেই বলেছি, জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ও শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া হবে। ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলোকে যথাযথ সংবিধানিক জায়গায় স্থাপন করা হবে,” বলেন সালাহউদ্দিন।

তিনি আরও জানান, গুলশান বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনের পরিবেশ ও রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে তুলে ধরা রূপরেখাকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বিএনপি বলেছে, এই ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

“নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ চেয়ে তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা আশাবাদী, যথাসময়ে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করবে,”— বলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে যারা আহত হয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও আইনি সুরক্ষার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, বিএনপি তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হবে— এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেই লক্ষ্যে দেশের জনগণকে প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।”

রাজনৈতিক ভারসাম্য ও রাষ্ট্রে অনিশ্চয়তা দূর করার প্রশ্নে বিএনপি নেতার ব্যাখ্যা ছিল, “আজকের ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বড় একটি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আস্থা ফিরে আসবে, রাষ্ট্রীয় গতিশীলতা বাড়বে।”

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তিনি ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নামে একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত দলিল প্রকাশ করেন, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।




স্বৈরাচার পতনের বর্ষপূর্তিতে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার ডাক হেফাজতের

শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের পতনের বর্ষপূর্তিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সতর্ক বার্তা দিয়েছে—এই বিজয় যেন কোনো ষড়যন্ত্রকারী দুষ্টচক্রের দ্বারা বেহাত না হয়। আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের আত্মঘাতী কোনো ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রনেতা, আলেম-ওলামা এবং জনগণের আস্থাভাজন নেতৃত্বের দূরদর্শী কৌশল ও কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।”

তারা আরও বলেন, “স্বৈরাচারী ও ইসলামবিদ্বেষী হাসিনা সরকারের পতনে আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। এই অভূতপূর্ব বিজয়ের জন্য আমরা শহীদদের স্মরণ করছি, যাঁদের আত্মত্যাগ আল্লাহ কবুল করেছেন। কিন্তু সংগ্রাম এখনো শেষ নয়। এই বিজয়কে ন্যায়ভিত্তিক সংবিধান ও সরকারব্যবস্থায় পরিণত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।”

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সমঅধিকারের প্রতিশ্রুতি

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা উল্লেখ করেন, “এই বিজয় শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের নয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও এর সুফল ভোগ করবে ইনশাআল্লাহ। সংখ্যালঘুদের জানমাল, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তবে মুক্তচিন্তা বা নাস্তিকতার নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত মেনে নেওয়া হবে না। সংখ্যালঘুদের কোনোভাবে রাজনীতির বলির পাঁঠা বানানো যাবে না।”

ইসলামী সংস্কৃতির স্ববিরোধহীন প্রকাশের আশা

হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের নিপীড়নের অবসানে আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় মুক্তির স্বাদ পেয়েছে। এখন জাতীয় জীবনে ইসলামী পরিচয় ও সংস্কৃতির পূর্ণ প্রকাশ ঘটবে বলে আমরা আশা করি।”

ভারতীয় আধিপত্য ও দালালদের বিচারের দাবি

তারা আরও বলেন, “শুধু গণহত্যার বিচার নয়—ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের সহযোগী সেক্যুলার শক্তিরও বিচার করতে হবে। রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিভেদহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কারও ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গুম-খুন কিংবা পুলিশি নির্যাতন আর থাকবে না।”

এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করল।