ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কলকাতায় ‘গোপন কার্যালয়’ খুলেছে আওয়ামী লীগ নেতারা

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে ‘দলীয় কার্যালয়’ খুলেছেন দলটির নেতারা। কলকাতার আশপাশের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে গোপনভাবে গঠিত এই অফিসে নিয়মিত বৈঠক করছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা ও কর্মী ভারতে আশ্রয় নেন। শুরুতে কেউ কেউ নিজেদের বাসায় ছোটখাটো দলীয় বৈঠক করলেও এখন দলীয় কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্দিষ্ট একটি ‘পার্টি অফিস’ চালু করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি বাণিজ্যিক ভবনের অষ্টম তলায় গোপনীয়তা বজায় রেখেই সাজানো হয়েছে অফিসটি। বাইরে থেকে দেখে কেউ বুঝতে পারবেন না এটি আওয়ামী লীগের কার্যালয়। নেই কোনো সাইনবোর্ড, শেখ হাসিনা বা বঙ্গবন্ধুর ছবি কিংবা দলীয় চিহ্ন। এমনকি অফিস সংক্রান্ত কাগজপত্রও সেখানে রাখা হয় না।

আওয়ামী লীগের এক পলাতক নেতা বিবিসিকে বলেন, ‘‘এই ঘরটার পরিচিতি আমরা প্রকাশ করতে চাইনি। শুধু দেখাসাক্ষাৎ বা বৈঠকের প্রয়োজনেই এটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এটি আসলে একটি পুরোনো বাণিজ্যিক অফিস, আগের চেয়ার-টেবিলই ব্যবহার করছি।’’

সেখানে একসঙ্গে ৩০-৩৫ জন বসতে পারেন। তবে শতাধিক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে বড় বৈঠকের জন্য রেস্টুরেন্ট বা ব্যাঙ্কুয়েট হল ভাড়া নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

বর্তমানে এই পার্টি অফিসটিকে ঘিরেই ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের সংগঠিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।




‘জুলাই ঘোষণাপত্রের দৃষ্টিভঙ্গি অসম্পূর্ণ; ইতিহাস বিকৃত’ — বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির মতে, এই ঘোষণাপত্রে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ইতিহাস বিকৃতিও ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বলেন, “ঘোষণাপত্রটি একটি প্রামাণ্য দলিল হলেও এটি প্রকৃত অর্থে ‘প্রক্লেমেশন’ হয়ে উঠতে পারেনি। এতে বহু গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও শহীদদের প্রসঙ্গ অনুল্লিখিত রয়ে গেছে, যা ঘোষণার ব্যাপকতা ও গাম্ভীর্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ মূলত ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই ফ্যাসিস্ট দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় একটি প্রতীক্ষিত দলিল হলেও তা আকাঙ্ক্ষিত পরিপূর্ণতা পায়নি। বরং এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাদ পড়েছে যা এই ঘোষণাকে সীমিত ও অসম্পূর্ণ করে তুলেছে।

সংগঠনটি উল্লেখ করে, ১৯৪৭ সালের উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর গণহত্যা, কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার ফাহাদ হত্যা, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ এবং ভ্যাটবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলো এই ঘোষণায় উপেক্ষিত হয়েছে। অথচ এসব আন্দোলন গণজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘোষণাপত্রে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা দেওয়া হলেও তাদের হত্যাকারীদের বিচার ও প্রকৃত শহীদ সংখ্যা স্পষ্ট করা হয়নি। এতে শহীদদের প্রতি ইনসাফ হয়নি বলেই মনে করে সংগঠনটি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে সংগঠনটি বলছে, এই ঘোষণায় তাদের নেতৃত্বের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা একধরনের ইতিহাস বিকৃতি। তাদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনই ছিল ২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী মূল প্ল্যাটফর্ম।

ঘোষণাপত্রে পরবর্তী সংসদের ওপর সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণের বিষয়েও আপত্তি জানায় সংগঠনটি। তারা বলছে, “রাষ্ট্রের সংবিধান সংসদ নয়, নির্বাচিত গণপরিষদ বা গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার হওয়া উচিত। অন্যথায় এটি সংস্কার নয়, বরং বিদ্যমান ব্যবস্থাকে রক্ষা করার কৌশল।”

সবশেষে, সংগঠনটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, ঘোষণা বাস্তবায়নের সঠিক পথ নির্ধারণ করে ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতি ন্যায়বিচার (ইনসাফ) প্রতিষ্ঠা করা হোক।




সাংবাদিক হত্যায় ক্ষুব্ধ জামায়াত, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনা প্রমাণ করে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একদল সন্ত্রাসী দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর গাজীপুর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “তুহিন বিকেলে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত একটি লাইভ সম্প্রচার করেছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এতে প্রমাণিত হয়, একজন সাংবাদিকও আজ নিরাপদ নন। এ ধরনের ঘটনা জাতির জন্য অশনি সংকেত।”

তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তারা কেবল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই হামলা করছে না, বরং চাঁদা না পেলে মানুষকেও নির্মমভাবে হত্যা করছে। নিজেদের মধ্যেও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে খুনোখুনি করছে তারা।”

জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি নিহত সাংবাদিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল, বড় পরিকল্পনা প্রবাসী ভোটারদের ঘিরে

আগামী ডিসেম্বর মাসেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ রোববার (৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রবাসী ভোটারদের প্রসঙ্গেও গুরুত্বারোপ করেন। জানান, আগামী মাস থেকেই প্রবাসীদের ভোটার অ্যাডুকেশন কার্যক্রম শুরু করবে নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটারদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

তবে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকছে। তিনি জানান, যদি কোনো আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী না থাকে, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট বন্ধ করে দেওয়া হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রতিটি লাখ ভোটারের পোস্টাল ব্যালটের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় থেকে সাত কোটি টাকা।

৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যারা ভোটার হবেন, তাদের নামই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তারাই জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। কমিশনের আজকের দিনের সভা আপাতত মুলতবি করা হলেও, ভোটার তালিকা প্রণয়নে সময়সীমা পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালটে শুধুমাত্র প্রতীক থাকবে, প্রার্থীর নাম থাকবে না। সময় ও খরচ কমানোর লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরো ব্যালট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে। ব্যালট পাঠানো ও গ্রহণের সময়সীমা হবে তিন সপ্তাহ।

তিনি আরও বলেন, শুধু প্রবাসীরাই নয়—দেশের ভেতরেও আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে দেশ ও বিদেশের সকল ভোটারের অধিকার নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা দৃঢ় হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তফসিলের পরই দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।

তিনি বলেন, “এ বছরই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। নির্বাচনের তফসিল আগামী নভেম্বর মাসে ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘটবে।”

তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “যে বাড়িতে তিনি উঠবেন, সেটি পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তার চলাচলের জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তাবেষ্টিত যানবাহনও আনা হয়েছে।”

জাতীয় রাজনীতিতে এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করবে এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও, বিএনপির নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগেই দেশে ফিরতে তাঁর আইনি ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি শেষের পথে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘দলের উচিত ছিল গোয়েন্দা ও অসৎ মিডিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো’ — হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ শোকজের জবাবে দলের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, “দলের উচিত ছিল গোয়েন্দা সংস্থা ও অসৎ মিডিয়ার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া।”

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে শোকজের জবাব প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে যান এনসিপির শীর্ষ পাঁচ নেতা। ওই ঘটনায় ‘দলের অনুমতি না নেওয়ার’ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে এনসিপি।

শোকজের জবাবে হাসনাত বলেন, “আমরা যে ঘোষণা বা আয়োজন প্রত্যাশা করেছিলাম, সেখানে অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের সম্মান ও অন্তর্ভুক্তি ছিল না। ফলে ব্যক্তিগতভাবে আমি ওই আয়োজনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”

তিনি দাবি করেন, দলের আহ্বায়ককে তিনি ভ্রমণের ব্যাপারে অবহিত করেছিলেন। এরপরও শোকজ নোটিশকে ‘বিধিবহির্ভূত’ ও ‘অতি উৎসাহী পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শোকজের জবাবে আরও বলা হয়,

“ঘোষণাপত্রে সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর অর্পণের যে কথা বলা হয়েছে, তা অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা চেয়েছি গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান।”

তিনি দাবি করেন, গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত সফরের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে কিছু গণমাধ্যমে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ভাবে প্রচার করা হয়েছে। এতে ‘গোপন বৈঠক’ ও ‘ষড়যন্ত্র’–এর অভিযোগ তোলা হয়, যা তিনি ‘গুজব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নারী নেত্রী তাসনিম জারাকে ঘিরে পরিচালিত অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন নারীকে টার্গেট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কুরুচিপূর্ণ প্রচার চালানো হয়েছে। এটা নারী নেতৃত্বকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা।”

শেষে তিনি দলের প্রতি আস্থার কথা জানিয়ে বলেন, “আমি এনসিপির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। গণতান্ত্রিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা দিয়েই আমাদের দল আরও পরিণত হবে।”




“ড. ইউনূস ব্যর্থ হলে সেটি ইতিহাস মনে রাখবে”—বিএনপি উপদেষ্টা ফারুক

আগামী নির্বাচনে যদি সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের আমলের চেয়েও ভালো নির্বাচন না হয়, তবে সেটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল আয়োজিত একক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফারুক বলেন, “যদি ড. ইউনূস একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দায় সম্পূর্ণ তার কাঁধেই বর্তাবে।”

এ সময় অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনসমূহে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ফারুক বলেন, “১৪, ১৮ এবং ২৪ সালের নির্বাচনে যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের যেন বদলির লটারিতে অন্তর্ভুক্ত না করা হয়। তাদের কারণে গণতন্ত্র কলঙ্কিত হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে তারা কোনোভাবেই দায়িত্বে থাকতে পারেন না।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার লটারির মাধ্যমে এসপি ও ওসি বদলির প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত, যা অতীতের কুৎসিত চিত্রকে আবার ফিরিয়ে আনতে পারে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে ফারুক বলেন, “২০০৮ সালে আমি কারাগারে থাকাকালে আমার মা মারা যান। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় তার শেষ মুখটাও দেখতে পারিনি।”

তিনি প্রয়াত রাজনীতিক শাহজাহান সিরাজের একটি মন্তব্য স্মরণ করে বলেন, “রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে অনেক কিছু হারাতে হয় এবং সবকিছু ভুলে যেতে হয়।”

বিএনপি নেতা আরও বলেন, “রাজনীতি কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দেশে সৎ রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। আর খালেদা জিয়া আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক।”

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “যদি তিনি গণতন্ত্রকে ধ্বংস না করতেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস না করতেন এবং বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় দণ্ডিত না করতেন, তাহলে হয়তো আজ তাঁকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হতো না।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিলের সভাপতি আলী আশরাফ আখন্দ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের আরেক উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।




এক হোন দেশের স্বার্থে — রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান

রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সকল দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এক কণ্ঠে কথা বলতে হবে।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিজয় র‌্যালির পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনে রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক মতভেদ দূর করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই মতভেদ যেন জাতীয় ইস্যুতে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করার পর্যায়ে না পৌঁছায়। আমাদের রাষ্ট্র সকলের। ধর্ম, দর্শন যার যার—কিন্তু দেশের কল্যাণে আমাদের এক হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এখনই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়। নাগরিকদের প্রতি আমার আহ্বান—নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। যারা দেশকে বন্দিশালায় পরিণত করেছে, যারা জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

তারেক রহমান মনে করেন, দেশের ইতিহাসে যে রক্তাক্ত সময় পার হয়েছে, তা পুনরাবৃত্তি যেন আর না হয়। তিনি বলেন, “চব্বিশের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ এসেছে, তা কাজে লাগিয়ে যদি জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে পারবে না। দেশকে পরাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রও রুখে দেয়া সম্ভব হবে।”

তিনি বিজয় র‌্যালি প্রসঙ্গে বলেন, “আজকের মিছিল শুধু বিজয়ের প্রতীক নয়, এটি একটি ঘোষণা—অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার। পতিত ফ্যাসিস্টদের শাসনে যেসব ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছিল, সেখান থেকে গণতন্ত্র ও অধিকার পুনরুদ্ধারের অভিযাত্রা আজ শুরু হয়েছে।”

তার বক্তব্যে উঠে এসেছে সমঝোতার বার্তা, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা এবং একটি গণতান্ত্রিক, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও এক কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেন আমীর খসরু

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়ার এবং দ্রব্যমূল্য কমিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার অঙ্গীকার নিয়েছে বিএনপি।

বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের নিউ মার্কেট মোড়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির তিনটি জেলা ইউনিটের আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে নিউ মার্কেট থেকে শুরু হয়ে চেরাগি মোড় ঘুরে প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয় একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি।

আমীর খসরু বলেন, “জনগণ আজ প্রমাণ করেছে, তারা জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে তারা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়।”

তিনি বলেন, “আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য ১৬ বছর ধরে ত্যাগ স্বীকার করছি। এই আন্দোলন জনগণের মালিকানা পুনরুদ্ধারের জন্য। আমরা এখন নির্বাচনের পথে আছি, দেশবাসী ধানের শীষের জন্য প্রস্তুত।”

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শৃঙ্খলিত রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে খসরু জানান, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে পাঁচ থেকে ছয় হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “কোনো দখলদার, চাঁদাবাজ বা ভাইয়ের রাজনীতি বিএনপিতে চলবে না। জনগণের জন্য রাজনীতি করতে হবে। আমরা নতুন রাজনীতির সূচনা করেছি—যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সম্মানবোধও থাকবে।”

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “তারা রাজনীতি করবে কিন্তু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবে না। জনগণকে বাইরে রেখে একতরফাভাবে দেশ চালানোর চেষ্টা আবারও শুরু হয়েছে, কিন্তু জনগণ সেটা আর মেনে নেবে না।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও তরিকুল ইসলাম তেনজিং।




‘রক্তের ইতিহাস উপেক্ষিত’: শাপলা গণহত্যা বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ হেফাজত

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ‘নৃশংস গণহত্যা’ নিয়ে জুলাই ঘোষণাপত্রে কোনো বক্তব্য না থাকায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটির শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেছেন, গণপ্রতিরোধে আলেম-ওলামা ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের রক্ত ও আত্মত্যাগ থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণাপত্রে শাপলার শহীদদের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাও জানানো হয়নি।

বুধবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান এই প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, “জুলাই ঘোষণাপত্রে শাপলা গণহত্যার বিচার নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই—এমনকি একটি বাক্যও নেই। অথচ ঘোষণাপত্র পাঠের সময় আমাদের প্রতিনিধি দল সেখানে উপস্থিত ছিল। এটি কোনো ভুল নয়, এটি সচেতন অবহেলা। আমরা মর্মাহত, বিক্ষুব্ধ এবং বিস্মিত।”

তারা জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে নিরস্ত্র আলেম-ওলামা ও ছাত্রদের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনী বর্বর হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনার বিচার আজও হয়নি। বরং ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এখনো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কোনো নিরাপত্তা পান না। অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসন ও গোয়েন্দা কাঠামোতে এখনও মূল সংস্কার আনতে না পারায় তারা আস্থাহীনতায় ভুগছে।

বিবৃতিতে মোদির আগমনবিরোধী বিক্ষোভে শহীদদের কথাও স্মরণ করা হয়। নেতারা বলেন, “শাহবাগী ফ্যাসিবাদ ও দিল্লির আধিপত্যবাদ ঠেকাতে হেফাজত শুরু থেকেই সামনে থেকেছে। শাপলার শহীদদের ইতিহাস কোনো দিন মুছে ফেলা যাবে না।”

তারা আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “জুলাই ঘোষণায় এই রক্তাক্ত অধ্যায়কে উপেক্ষা করে সত্যকে আড়াল করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের স্মৃতি দীর্ঘমেয়াদি। সরকার যদি শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত না করে, তাহলে এই উপেক্ষার জবাব জনগণই দেবে।”