‘জুলাই ঘোষণাপত্রের দৃষ্টিভঙ্গি অসম্পূর্ণ; ইতিহাস বিকৃত’ — বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির মতে, এই ঘোষণাপত্রে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ইতিহাস বিকৃতিও ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বলেন, “ঘোষণাপত্রটি একটি প্রামাণ্য দলিল হলেও এটি প্রকৃত অর্থে ‘প্রক্লেমেশন’ হয়ে উঠতে পারেনি। এতে বহু গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও শহীদদের প্রসঙ্গ অনুল্লিখিত রয়ে গেছে, যা ঘোষণার ব্যাপকতা ও গাম্ভীর্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ মূলত ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই ফ্যাসিস্ট দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় একটি প্রতীক্ষিত দলিল হলেও তা আকাঙ্ক্ষিত পরিপূর্ণতা পায়নি। বরং এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাদ পড়েছে যা এই ঘোষণাকে সীমিত ও অসম্পূর্ণ করে তুলেছে।
সংগঠনটি উল্লেখ করে, ১৯৪৭ সালের উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর গণহত্যা, কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার ফাহাদ হত্যা, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ এবং ভ্যাটবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলো এই ঘোষণায় উপেক্ষিত হয়েছে। অথচ এসব আন্দোলন গণজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘোষণাপত্রে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা দেওয়া হলেও তাদের হত্যাকারীদের বিচার ও প্রকৃত শহীদ সংখ্যা স্পষ্ট করা হয়নি। এতে শহীদদের প্রতি ইনসাফ হয়নি বলেই মনে করে সংগঠনটি।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে সংগঠনটি বলছে, এই ঘোষণায় তাদের নেতৃত্বের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা একধরনের ইতিহাস বিকৃতি। তাদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনই ছিল ২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী মূল প্ল্যাটফর্ম।
ঘোষণাপত্রে পরবর্তী সংসদের ওপর সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণের বিষয়েও আপত্তি জানায় সংগঠনটি। তারা বলছে, “রাষ্ট্রের সংবিধান সংসদ নয়, নির্বাচিত গণপরিষদ বা গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার হওয়া উচিত। অন্যথায় এটি সংস্কার নয়, বরং বিদ্যমান ব্যবস্থাকে রক্ষা করার কৌশল।”
সবশেষে, সংগঠনটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, ঘোষণা বাস্তবায়নের সঠিক পথ নির্ধারণ করে ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতি ন্যায়বিচার (ইনসাফ) প্রতিষ্ঠা করা হোক।








