“ড. ইউনূস ব্যর্থ হলে সেটি ইতিহাস মনে রাখবে”—বিএনপি উপদেষ্টা ফারুক

আগামী নির্বাচনে যদি সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের আমলের চেয়েও ভালো নির্বাচন না হয়, তবে সেটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল আয়োজিত একক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফারুক বলেন, “যদি ড. ইউনূস একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দায় সম্পূর্ণ তার কাঁধেই বর্তাবে।”

এ সময় অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনসমূহে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ফারুক বলেন, “১৪, ১৮ এবং ২৪ সালের নির্বাচনে যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের যেন বদলির লটারিতে অন্তর্ভুক্ত না করা হয়। তাদের কারণে গণতন্ত্র কলঙ্কিত হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে তারা কোনোভাবেই দায়িত্বে থাকতে পারেন না।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার লটারির মাধ্যমে এসপি ও ওসি বদলির প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত, যা অতীতের কুৎসিত চিত্রকে আবার ফিরিয়ে আনতে পারে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে ফারুক বলেন, “২০০৮ সালে আমি কারাগারে থাকাকালে আমার মা মারা যান। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় তার শেষ মুখটাও দেখতে পারিনি।”

তিনি প্রয়াত রাজনীতিক শাহজাহান সিরাজের একটি মন্তব্য স্মরণ করে বলেন, “রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে অনেক কিছু হারাতে হয় এবং সবকিছু ভুলে যেতে হয়।”

বিএনপি নেতা আরও বলেন, “রাজনীতি কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দেশে সৎ রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। আর খালেদা জিয়া আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক।”

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “যদি তিনি গণতন্ত্রকে ধ্বংস না করতেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস না করতেন এবং বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় দণ্ডিত না করতেন, তাহলে হয়তো আজ তাঁকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হতো না।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিলের সভাপতি আলী আশরাফ আখন্দ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের আরেক উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।




এক হোন দেশের স্বার্থে — রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান

রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সকল দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এক কণ্ঠে কথা বলতে হবে।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিজয় র‌্যালির পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনে রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক মতভেদ দূর করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই মতভেদ যেন জাতীয় ইস্যুতে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করার পর্যায়ে না পৌঁছায়। আমাদের রাষ্ট্র সকলের। ধর্ম, দর্শন যার যার—কিন্তু দেশের কল্যাণে আমাদের এক হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এখনই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়। নাগরিকদের প্রতি আমার আহ্বান—নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। যারা দেশকে বন্দিশালায় পরিণত করেছে, যারা জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

তারেক রহমান মনে করেন, দেশের ইতিহাসে যে রক্তাক্ত সময় পার হয়েছে, তা পুনরাবৃত্তি যেন আর না হয়। তিনি বলেন, “চব্বিশের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ এসেছে, তা কাজে লাগিয়ে যদি জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে পারবে না। দেশকে পরাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রও রুখে দেয়া সম্ভব হবে।”

তিনি বিজয় র‌্যালি প্রসঙ্গে বলেন, “আজকের মিছিল শুধু বিজয়ের প্রতীক নয়, এটি একটি ঘোষণা—অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার। পতিত ফ্যাসিস্টদের শাসনে যেসব ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছিল, সেখান থেকে গণতন্ত্র ও অধিকার পুনরুদ্ধারের অভিযাত্রা আজ শুরু হয়েছে।”

তার বক্তব্যে উঠে এসেছে সমঝোতার বার্তা, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা এবং একটি গণতান্ত্রিক, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও এক কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেন আমীর খসরু

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়ার এবং দ্রব্যমূল্য কমিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার অঙ্গীকার নিয়েছে বিএনপি।

বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের নিউ মার্কেট মোড়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির তিনটি জেলা ইউনিটের আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে নিউ মার্কেট থেকে শুরু হয়ে চেরাগি মোড় ঘুরে প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয় একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি।

আমীর খসরু বলেন, “জনগণ আজ প্রমাণ করেছে, তারা জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে তারা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়।”

তিনি বলেন, “আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য ১৬ বছর ধরে ত্যাগ স্বীকার করছি। এই আন্দোলন জনগণের মালিকানা পুনরুদ্ধারের জন্য। আমরা এখন নির্বাচনের পথে আছি, দেশবাসী ধানের শীষের জন্য প্রস্তুত।”

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শৃঙ্খলিত রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে খসরু জানান, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে পাঁচ থেকে ছয় হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “কোনো দখলদার, চাঁদাবাজ বা ভাইয়ের রাজনীতি বিএনপিতে চলবে না। জনগণের জন্য রাজনীতি করতে হবে। আমরা নতুন রাজনীতির সূচনা করেছি—যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সম্মানবোধও থাকবে।”

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “তারা রাজনীতি করবে কিন্তু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবে না। জনগণকে বাইরে রেখে একতরফাভাবে দেশ চালানোর চেষ্টা আবারও শুরু হয়েছে, কিন্তু জনগণ সেটা আর মেনে নেবে না।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও তরিকুল ইসলাম তেনজিং।




‘রক্তের ইতিহাস উপেক্ষিত’: শাপলা গণহত্যা বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ হেফাজত

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ‘নৃশংস গণহত্যা’ নিয়ে জুলাই ঘোষণাপত্রে কোনো বক্তব্য না থাকায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটির শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেছেন, গণপ্রতিরোধে আলেম-ওলামা ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের রক্ত ও আত্মত্যাগ থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণাপত্রে শাপলার শহীদদের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাও জানানো হয়নি।

বুধবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান এই প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, “জুলাই ঘোষণাপত্রে শাপলা গণহত্যার বিচার নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই—এমনকি একটি বাক্যও নেই। অথচ ঘোষণাপত্র পাঠের সময় আমাদের প্রতিনিধি দল সেখানে উপস্থিত ছিল। এটি কোনো ভুল নয়, এটি সচেতন অবহেলা। আমরা মর্মাহত, বিক্ষুব্ধ এবং বিস্মিত।”

তারা জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে নিরস্ত্র আলেম-ওলামা ও ছাত্রদের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনী বর্বর হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনার বিচার আজও হয়নি। বরং ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এখনো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কোনো নিরাপত্তা পান না। অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসন ও গোয়েন্দা কাঠামোতে এখনও মূল সংস্কার আনতে না পারায় তারা আস্থাহীনতায় ভুগছে।

বিবৃতিতে মোদির আগমনবিরোধী বিক্ষোভে শহীদদের কথাও স্মরণ করা হয়। নেতারা বলেন, “শাহবাগী ফ্যাসিবাদ ও দিল্লির আধিপত্যবাদ ঠেকাতে হেফাজত শুরু থেকেই সামনে থেকেছে। শাপলার শহীদদের ইতিহাস কোনো দিন মুছে ফেলা যাবে না।”

তারা আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “জুলাই ঘোষণায় এই রক্তাক্ত অধ্যায়কে উপেক্ষা করে সত্যকে আড়াল করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের স্মৃতি দীর্ঘমেয়াদি। সরকার যদি শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত না করে, তাহলে এই উপেক্ষার জবাব জনগণই দেবে।”




দেশের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু তারেক রহমান: সেলিমা রহমান

“আজ সমগ্র দেশ তাকিয়ে আছে তারেক রহমানের দিকে”—এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। তিনি বলেন, ‌”গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

আজ বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে নগর বিএনপি ও উত্তর জেলা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে বিজয় শোভাযাত্রা বের হয়।

সমাবেশে যোগদানের আগে আজ সকাল ৯টার দিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে যান সেলিমা রহমান। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত আবদুল্লাহ আল আবিরের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এরপর তিনি শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। সেলিমা রহমান বলেন, “আন্দোলনে নিহত শহীদ আবির, শান্ত ও রাজিবের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ন্যায় ও সমতার সংগ্রামে তাঁরা আমাদের অনুপ্রেরণা।”

সমাবেশে সেলিমা রহমান আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—জনগণের অধিকার ও ক্ষমতা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া। সে জন্য প্রতিটি নেতাকর্মীকে ধৈর্য ও সাহস নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে একটি সুশাসনভিত্তিক ও জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সমাবেশ শেষে বরিশাল মহানগর ও উত্তর জেলা বিএনপির উদ্যোগে বের করা হয় বিজয় শোভাযাত্রা। এটি সদর রোড থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বান্দ সড়কে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেন—

  • বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান,

  • কেন্দ্রীয় নেতা মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, হাসান মামুন,

  • দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান শহীদুল্লাহ,

  • মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারসহ
    মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ড, উত্তর জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





‘হতাহতের তথ্য নির্ধারণে ব্যর্থতা’, জুলাই ঘোষণায় ঘাটতির অভিযোগ এনসিপির

সরকার গত এক বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, এই ব্যর্থতার ছাপই ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে’ প্রতিফলিত হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় দলের অবস্থান তুলে ধরেন আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, “এক বছরের মধ্যে সরকার আহত ও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে। এই অপারগতা ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।”

আখতার আরও বলেন, “ঘোষণাপত্রে উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ের কথা থাকলেও ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের কোনো উল্লেখ নেই। অথচ এই ধারাবাহিকতাই বর্তমান সংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।”

তিনি দাবি করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের গণহত্যা, জুডিশিয়াল কিলিং, আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন, মোদি-বিরোধী বিক্ষোভ, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী ছাত্র আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলোকে ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেটি আরও সমৃদ্ধ হতো।

এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে আসছি। গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান লেখার প্রস্তাব বারবার দিয়েছি। কিন্তু ঘোষণাপত্রে এ নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই।”

তিনি জানান, এনসিপি মনে করে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখায় অতীত ইতিহাস, শহীদদের ত্যাগ ও গণমানুষের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির দিকনির্দেশনা স্পষ্টভাবে থাকতে হবে।




‘গুরুত্বপূর্ণ দিবসে ব্যক্তিগত সফর’— এনসিপির পাঁচ শীর্ষ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পাঁচ নেতাকে দলীয় অনুমতি ছাড়া কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কারণ দর্শানোর চিঠিতে বলা হয়, “গতকাল ৫ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে আপনি এবং দলের আরও চারজন কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার গিয়েছেন। সফরের বিষয়ে ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’কে কোনো ধরনের পূর্ব অবগত না করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

নোটিশ পাওয়া নেতারা হলেন—দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

চিঠিতে আরও বলা হয়, “এই সিদ্ধান্ত দলের ভেতরে শৃঙ্খলাবিরোধী এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বসম্পন্ন দিবসের প্রতি অসংবেদনশীল আচরণ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।”

গতকাল (৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইটে পাঁচ নেতা কক্সবাজারে পৌঁছান। খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দাবি করেন, ওই নেতারা কক্সবাজারে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে একটি হোটেলে বৈঠক করতে গেছেন। এ গুঞ্জনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই হোটেলের সামনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভও করেন।

তবে পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠকের কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং এনসিপি সূত্রও এ দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, “দলীয় দায়িত্বশীলরা এমন দিনে ব্যক্তিগত সফরে গেলে জনমানসে ভুল বার্তা যায়। শৃঙ্খলা রক্ষায় দলকে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।”




“জুলাই ঘোষণাপত্র গণতন্ত্রের নবদিগন্ত উন্মোচন করবে: ফখরুল

ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এর মধ্য দিয়ে একটি নতুন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি রচিত হয়েছে। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নই হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।”

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচন আয়োজনের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের পথ দেখাবে। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জাতি একটি গ্রহণযোগ্য সরকার পাবে এবং সংকটের অবসান ঘটবে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। জনগণ একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি আন্তরিক হয়, তাহলে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।”

এ সময় তিনি একটি শক্তিশালী জাতীয় সংসদ গঠনের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দল এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে ফখরুল দাবি করেন, “আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করে দলটিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তাতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তারেক রহমানের সাথে বৈঠকে বসছে ১২ দলীয় জোট শুক্রবার

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান ১২ দলীয় জোটের প্রধান এবং জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি বলেন, “বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, যুগপৎ আন্দোলনের কার্যক্রম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়সীমা ঘোষণা পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে।”

এ বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনকালীন সময়সীমা ঘোষণার পর এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও আগ্রহ বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বিএনপির পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে বড় ধরনের দিক নির্দেশনা দিতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“জানাজার নামাজে কান্না করার সুযোগ পেতাম না” : শামীম সাঈদী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেছারাবাদ উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণজমায়েত ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বড় ছেলে ও সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ শামীম সাঈদী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

শামীম সাঈদী বলেন, “স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা মিটিং মিছিল তো দূরের কথা, জানাজার নামাজে কান্না করার সুযোগ পর্যন্ত পেতাম না। জামায়াতের নেতাকর্মীরা যদি কারও জানাজায় অংশগ্রহণ করত, তাদের পোষ্য পুলিশ বাহিনী দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হত। এখন আমরা স্বাধীনভাবে চলতে পারছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের সব সীমা অতিক্রম করেছে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে জনগণ তার যথাযথ জবাব দিয়েছে। নতুন বাংলাদেশে আমরা ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।”

শামীম সাঈদী আরো বলেন, “শেখ পরিবারের সবাই চোর-ডাকাত। শেখ মুজিবের ছেলে স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম ব্যাংক ডাকাতি করেছে। তার মেয়ে ১৪টি ব্যাংক ডাকাতি করেছে। সারা দেশের রাস্তাঘাটের কাজ না করে বিল তুলে নিয়ে দেশ থেকে পালিয়েছে। শুধু পিরোজপুরেই ছাব্বিশ শত কোটি টাকা চুরি করেছে। আমরা চোরদের বিরুদ্ধে। তাই জুলাইয়ের বিপ্লব ছিল বৈষম্যবিরোধী ও দুর্নীতিবিরোধী বিপ্লব।”

তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু শব্দ নেই। পাসপোর্ট, ভিসা ও জাতীয় পরিচয়পত্রেও তা লেখা নেই। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও মুসলমান সবাই এক সূত্রে গাঁথা। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমার বাবা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন।”

শামীম সাঈদী বলেন, “৫ আগস্টের পরে যেমন হিন্দুদের বাড়িঘর আমরা আগলে রেখেছিলাম, আগামীতেও তাদের মন্দির, জান-মাল, জমি ও সন্তানদের রক্ষা করব। আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে বিজয়ী করলে নেছারাবাদকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।”

নেছারাবাদ উপজেলা আমির মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সিদ্দিকুল ইসলাম, সাঈদী ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমির জহিরুল ইসলামসহ নেছারাবাদ ফোরামের বিভিন্ন নেতারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫