বরিশাল বিভাগের ২১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে খেলাফত মজলিস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খেলাফত মজলিস বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে।

শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র নেতারা প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন।

প্রধান প্রার্থীরা হলেন:

  • বরিশাল-১: অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান শাহীন
  • বরিশাল-২: মো. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান
  • বরিশাল-৩: অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ মুয়াজ্জেম হোসাইন
  • বরিশাল-৪: অধ্যাপক রুহুল আমীন কামাল
  • বরিশাল-৫: অধ্যাপক এ. কে. এম. মাহবুব আলম
  • বরিশাল-৬: অধ্যাপক মো. মোশাররেফ হোসেন খান
  • বরগুনা-১: অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন
  • বরগুনা-২: অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম
  • পটুয়াখালী-১: অধ্যাপক মাওলানা মো. সাইদুর রহমান
  • পটুয়াখালী-২: মাওলানা মো. আইয়ুব বিন মুসা
  • পটুয়াখালী-৩: অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন
  • পটুয়াখালী-৪: ডা. জহির আহম্মেদ
  • ঝালকাঠী-১: মাওলানা মইনুল ইসলাম
  • ঝালকাঠী-২: ডা. মো. ছিদ্দিকুর রহমান
  • ভোলা-১: মাওলানা শামসুল আলম
  • ভোলা-২: অধ্যক্ষ মাওলানা সালেহ উদ্দীন
  • ভোলা-৩: মাওলানা আবদুর রাজ্জাক
  • ভোলা-৪: ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহফুজুর রহমান
  • পিরোজপুর-১: মাওলানা আবদুল গফ্ফার
  • পিরোজপুর-২: হাফেজ মো. নূরুল হক
  • পিরোজপুর-৩: অধ্যাপক মোতালেব হোসেন

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির অধ্যাপক মো. সিরাজুল হক স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে তারা জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও আহত ভাইদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

নেতারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেন, নির্বাচন পূর্বে সংস্কার, বিচার ও সমতল খেলার মাঠ নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। তারা রাজনৈতিক হত্যা, দমনপীড়ন ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী ঘোষণাপত্র সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।

খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু ও অবাধ আয়োজনের জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, অবৈধ অস্ত্র ও টাকা নিয়ন্ত্রণ এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




এমপি নয়, সেবক হিসেবে গণমানুষের পাশে আবু নাসের রহমতুল্লাহ

তারিকুল ইসলাম তুহিন,বরিশাল ::  বরিশালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ বরিশাল-৫ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে চান। তবে তিনি নিজেকে এমপি নয়, সেবক হিসেবে গণমানুষের জন্য কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বরিশালে গত দেড় দশক ধরে কঠিন রাজনৈতিক পরিবেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন আবু নাসের। গত ৫ আগস্টের পর আবার সক্রিয় হয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। দলের প্রতি আনুগত্য ও নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে বরিশাল-৫ এর সাধারণ মানুষ তাকে ‘প্রিয় নেতা’ হিসেবে গণ্য করছে।

আবু নাসের রহমতুল্লাহ জানান, নদীভাঙন সমস্যায় পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করছেন। যদিও ভাঙন রোধে সরাসরি সমাধান দিতে না পারলেও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন, এবং যেকোনো বিপদে মানুষের পাশে থাকছেন।

তিনি বলেন, “রাজনীতির মাধ্যমে জনসাধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা গড়ে ওঠে এবং এলাকার সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানা যায়। তাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির প্রয়োজন।” এমপির প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে এলাকাবাসী তাকে উৎসাহিত করছে, তবে নির্বাচনের আগেই মানুষের পাশে থেকে তাদের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বরিশাল-৫ আসনের বর্তমান অবকাঠামোতে উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া না পাওয়া নিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন। “কাদা সড়ক, নৌকা চলাচল আর বাঁশের সাঁকো—এসবের মধ্য দিয়েই ইউনিয়নবাসী চলাফেরা করছে। অথচ আওয়ামী লীগের সরকার উন্নয়ন নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে এসেছে, কিন্তু বাস্তবে উন্নয়ন হয়েছে না,” বলেন আবু নাসের।

রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আবু নাসের রহমতুল্লাহ ১৯৯২ সালে জাতীয় যুব কমান্ড প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর পর বিভিন্ন সময় দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা ও কারাবরণসহ রাজনৈতিক সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। ২০১১ সালে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

বর্তমানে বরিশাল-৫ আসনের সর্বস্তরের জনগণের জন্য সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন আবু নাসের। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজনীতি ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




নীলার অভিযোগের জবাব দিলেন সারোয়ার তুষার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারোয়ার তুষার সাবেক এনসিপি নেত্রী নীলা ইসরাফিলের স্বামীর নামের জায়গায় নিজের নাম বসানোর অভিযোগের জবাব দিয়েছেন।

শনিবার (৯ আগস্ট) ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় সারোয়ার তুষার জানান, নীলা মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তাদের অফিসে এসেছিলেন। পুলিশ ও মানবাধিকার কর্মী লেনিন ভাইকে ডেকে, পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি ফরমটি ইন্টার্ন ডাক্তাররা পূরণ করেছেন এবং তিনি সেটি দেখে বুঝতে পারেননি।

সারোয়ার তুষার আরও বলেন, “হাসপাতালের ভর্তি ফরমে নারীর ক্ষেত্রে স্বামী বা পিতার নাম কিংবা যিনি নিয়ে এসেছেন তার নাম লেখা হয়। সেখানে ‘care of’ অর্থে C/O লেখা ছিল, যা লাল দাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আমার নামে লেখার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি যুক্তি দেন, “রোড অ্যাক্সিডেন্ট বা অন্য কোনো কারণে যখন অজানা লোক হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়, তখন C/O হিসেবে যে ব্যক্তি ভর্তি করে তার নাম লেখা হয়। এটি হাসপাতালের একটি প্রচলিত রীতি। স্বামী বা পিতার নামে টিক চিহ্ন দেওয়া হয়।”

স্মরণযোগ্য, নীলা ইসরাফিল গতকালের এক পোস্টে অভিযোগ করেন, স্বামীর নামের জায়গায় সারোয়ার তুষার নিজের নাম বসিয়েছেন এবং এটি আইনগত জালিয়াতির সামিল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-৬ আসনে নির্বাচনী হাওয়া, শীর্ষে বিএনপির আলোচনায় একাধিক প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির রমজানের আগেই অনুষ্ঠিত হবে—প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই ঘোষণার পর থেকেই বরিশাল-৬ আসন, অর্থাৎ বাকেরগঞ্জজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল নির্বাচনী প্রস্তুতি।

এ আসনে বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে ইতোমধ্যে একাধিক প্রার্থীর নাম সামনে এসেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে, আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতিতে রয়েছে। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে ১২৪ নম্বর আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৬ আসনে ১৯৭৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১২টি নির্বাচনে বিএনপি জয় পেয়েছে ৫ বার, জাতীয় পার্টি ৪ বার ও আওয়ামী লীগ ৩ বার। তবে ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত হওয়া তিনটি নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে।

প্রায় তিন লাখ ভোটারের এই আসনে সাবেক সাংসদ ও জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান আবারও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন চাইবেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম রাজন, যিনি দীর্ঘদিন পরে দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহীদ হাসান, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য কামরুজ্জামান নান্নু, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ সিকদার এবং প্রবাসী নেতা সোলায়মান সেরনিয়াবাত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ আসনে অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও কোনো জোটে না গেলে আলাদা প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে পারেন রুহুল আমিন হাওলাদার বা তার স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্না।

স্থানীয় তরুণ ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘদিন পর সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় এবারের ভোট হবে উৎসবমুখর। তবে বিজয়ের জন্য প্রার্থীদের এখন থেকেই ভোটারদের মন জয় করতে হবে।

আবুল হোসেন খান বলেন, “বিএনপি মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করেছে। এখন জনগণ সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় আছে এবং বিএনপি গোটা দেশেই জয়লাভ করবে।” অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুন্নবী তালুকদারও শতভাগ আশাবাদী যে এবারের নির্বাচন ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর ও নিরপেক্ষ হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির শক্ত প্রার্থী ছাড়া অন্য বড় দলগুলোও জননন্দিত প্রার্থী দিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠবে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে ভোটের হিসাব বদলে যেতে পারে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, বরিশাল-৬ আসনে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে, যেখানে আওয়ামী লীগের মোকিম হোসাইন হাওলাদার বিজয়ী হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পালাক্রমে জয় পেয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ মল্লিক নির্বাচিত হন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সরকার গঠনে স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান তারেক রহমানের

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পেরেছে। এখন সরকার গঠনে স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি জনগণের সরকার গঠন করার আহ্বান করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কাউন্সিলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, “৫ আগস্ট ছিল বহুল প্রত্যাশিত পরিবর্তনের দিন। সেদিন হঠাৎ করেই দেশের মানুষ অনুভব করেছিল—তারা মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারছে।”

তারেক রহমান জানান, দেশের প্রতিটি মানুষ পরিবর্তন চায়, বিশেষ করে একটি ‘ভালো পরিবর্তন’। যদিও মুহূর্তে সবকিছু ঠিক হবে না, তবুও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। “মানুষ বিশ্বাস করে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই উদ্যোগ নেবে এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে দেশকে এগিয়ে নেবে,” বলেন তিনি।

বিএনপির ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের কথা বললেও নিজেদের মধ্যে তা সবসময় চর্চা করে না—এ অভিযোগ আংশিক সত্য। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দলের ভেতরে গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন এবং দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। “আমাদের নেতারা যে পথ দেখিয়েছেন, সেই উত্তরাধিকার ধরে রাখতে হবে। স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এবং দলের ভেতরে সব স্তরে গণতন্ত্রকে মজবুত করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।




“বাংলাদেশে দাঙ্গা লাগাতে পারে আ.লীগ ও ভারত : গয়েশ্বরের অভিযোগ”

বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তার দাবি, আওয়ামী লীগ ও ভারতের স্বার্থে দেশে একটি দাঙ্গা লাগানো হতে পারে, যা রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে এবং নির্বাচন বানচাল করতে ব্যবহৃত হতে পারে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আয়োজিত সনাতনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, “১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে শেখ মুজিব বিহারি-বাঙালি দাঙ্গা লাগিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক স্বার্থে এ ধরনের ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত পটু—দরকার হলে নিজের ঘরে আগুনও দেবে।”

গয়েশ্বর আরও বলেন, সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে রাজনৈতিক কৌশল লুকিয়ে থাকে, যা বহু বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশে মুসলমান নয়, হিন্দুরাই হিন্দুদের সবচেয়ে বড় শত্রু। যেখানে যত মন্দির আছে, সবগুলোকে দেবোত্তর সম্পত্তি ঘোষণা করে সীমানা চিহ্নিত করা উচিত।”

সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং অভিযুক্তদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত। তিনি দাবি করেন, “শেখ হাসিনা বিদেশে থেকেও বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। কলকাতায় আওয়ামী লীগের একটি অফিস নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে বড় ধরনের পরিকল্পনা হতে পারে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, যুগ্ম মহাসচিব মীর সরাফত আলী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী এবং জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক।




“ঢাবির হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল : উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। শুক্রবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজের বাসভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

উপাচার্য জানান, গত বছরের ১৭ জুলাই হলে হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে নীতিমালা গৃহীত হয়েছিল, সেটিই বহাল থাকবে। হল প্রশাসন এ নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটি প্রসঙ্গে সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার কথাও তিনি জানান।

তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে হলে যেকোনো ধরনের রাজনীতির সম্পূর্ণ অবসান দাবি করেন। তারা ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যার মধ্যে রয়েছে—

  • কেন কমিটি দেওয়া হয়েছে, তার জবাব উপাচার্যকে দিতে হবে।
  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদল, শিবির, বাগছাস, বামসহ সকল গুপ্ত কমিটি বিলুপ্ত করতে হবে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও একাডেমিক এলাকায় রাজনীতি নিষিদ্ধ করে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দিতে হবে।
  • সব হল কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিলুপ্ত করতে হবে।
  • হল প্রভোস্টদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে।
  • দ্রুত ডাকসু বাস্তবায়ন করতে হবে।

এর আগে শুক্রবার দুপুর থেকে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন হল ইউনিটে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ও হল পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, তবুও কমিটি ঘোষণার পর রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিকেল থেকে চলা এ বিক্ষোভ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হয় এবং রাত ১২টার পর সবগুলো হল থেকে শিক্ষার্থীরা টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন। পরে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। দীর্ঘ হট্টগোলের পর উপাচার্যের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে যে ২০২৪ সালের ১৭ জুলাইয়ের ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী প্রকাশ্য ও গুপ্ত— উভয় ধরনের হল রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে।




“নির্বাচন ও সংস্কার একে অপরের পরিপূরক, মুখোমুখি নয় : জোনায়েদ সাকি”

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন—এই তিনটি উপাদানই গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। এদের মধ্যে যেকোনো একটিকে গুরুত্ব না দিলে রাষ্ট্রকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অগ্নিসেনা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভার শিরোনাম ছিল—‘দ্রুত বিচার সম্পন্ন, মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন’।

সাকি বলেন, “অনেকে শুধু নির্বাচনকে গণতন্ত্রের একমাত্র উপায় মনে করছেন, আবার কেউ কেউ বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনবিমুখভাবে দাঁড় করাচ্ছেন। উভয় দৃষ্টিভঙ্গিই ভুল। একটি বাদ দিয়ে অন্যটিকে সামনে এগিয়ে নিলে দেশ রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক পথে যেতে পারে।”

তিনি জানান, একটি জাতীয় সনদের ঘোষণা সামনে আসছে—তবে সেখানে মতপার্থক্য, আপত্তি ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। “একটি পক্ষ বলছে—এই সনদ না হলে নির্বাচনে অংশ নেবে না। এটি কোনো সমাধান নয়। যদি তারা সত্যিই নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি মানাতে চায়, সেটি তাদের রাজনৈতিক অধিকার। তবে বাস্তবতা হলো—নির্বাচনকে ঠেকানোর কোনো সুযোগ নেই,” বলেন সাকি।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন হচ্ছে সংস্কার বাস্তবায়নের একমাত্র গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পথ। তাই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত সংস্কারে পৌঁছাতে হবে।”

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “ঘোষণাপত্রে প্রকৃত প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি, বরং কিছু মনগড়া বক্তব্য ও নির্দিষ্ট দলের বিবৃতি তুলে ধরা হয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা ঐক্য ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী।”

নুর বলেন, “যে আন্দোলন থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু, সেখানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। সেই সংগ্রামের ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি ধরে রেখে আমাদের সামনে এগোতে হবে।”

তিনি জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আশাবাদ জানিয়ে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি দিয়েছে। আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চাই, যা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।”




যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়ে পরবর্তী রূপরেখা ঠিক করলেন তারেক রহমান

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৮ আগস্ট) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তারেক। দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলনের কৌশল ও আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি ও লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও ঘোষিত সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি দলগুলোর অবস্থান এবং যুগপৎ কর্মসূচির সমন্বয়।

১২ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিকল্পধারা বাংলাদেশের অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকিব, জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম।

বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বৈঠকে অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে ১২ দলীয় জোট ও ১১ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট একত্রে অংশ নেয়। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), এলডিপির একাংশ, জাগপার একাংশ, কল্যাণ পার্টি, ন্যাপ-ভাসানী, বিকল্প ধারা, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামিক পার্টি, ডেমোক্রেটিক লীগ, বাংলাদেশ সংখ্যালঘু জনতা পার্টিসহ আরও বেশ কিছু দল।

বৈঠকে নতুন কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি নির্বাচনী রূপরেখা নিয়েও প্রাথমিক পর্যায়ের কথাবার্তা হয়েছে বলে জানা গেছে।




ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কলকাতায় ‘গোপন কার্যালয়’ খুলেছে আওয়ামী লীগ নেতারা

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে ‘দলীয় কার্যালয়’ খুলেছেন দলটির নেতারা। কলকাতার আশপাশের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে গোপনভাবে গঠিত এই অফিসে নিয়মিত বৈঠক করছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা ও কর্মী ভারতে আশ্রয় নেন। শুরুতে কেউ কেউ নিজেদের বাসায় ছোটখাটো দলীয় বৈঠক করলেও এখন দলীয় কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্দিষ্ট একটি ‘পার্টি অফিস’ চালু করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি বাণিজ্যিক ভবনের অষ্টম তলায় গোপনীয়তা বজায় রেখেই সাজানো হয়েছে অফিসটি। বাইরে থেকে দেখে কেউ বুঝতে পারবেন না এটি আওয়ামী লীগের কার্যালয়। নেই কোনো সাইনবোর্ড, শেখ হাসিনা বা বঙ্গবন্ধুর ছবি কিংবা দলীয় চিহ্ন। এমনকি অফিস সংক্রান্ত কাগজপত্রও সেখানে রাখা হয় না।

আওয়ামী লীগের এক পলাতক নেতা বিবিসিকে বলেন, ‘‘এই ঘরটার পরিচিতি আমরা প্রকাশ করতে চাইনি। শুধু দেখাসাক্ষাৎ বা বৈঠকের প্রয়োজনেই এটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এটি আসলে একটি পুরোনো বাণিজ্যিক অফিস, আগের চেয়ার-টেবিলই ব্যবহার করছি।’’

সেখানে একসঙ্গে ৩০-৩৫ জন বসতে পারেন। তবে শতাধিক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে বড় বৈঠকের জন্য রেস্টুরেন্ট বা ব্যাঙ্কুয়েট হল ভাড়া নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

বর্তমানে এই পার্টি অফিসটিকে ঘিরেই ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের সংগঠিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।