“বাংলাদেশে দাঙ্গা লাগাতে পারে আ.লীগ ও ভারত : গয়েশ্বরের অভিযোগ”

বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তার দাবি, আওয়ামী লীগ ও ভারতের স্বার্থে দেশে একটি দাঙ্গা লাগানো হতে পারে, যা রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে এবং নির্বাচন বানচাল করতে ব্যবহৃত হতে পারে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আয়োজিত সনাতনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, “১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে শেখ মুজিব বিহারি-বাঙালি দাঙ্গা লাগিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক স্বার্থে এ ধরনের ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত পটু—দরকার হলে নিজের ঘরে আগুনও দেবে।”

গয়েশ্বর আরও বলেন, সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে রাজনৈতিক কৌশল লুকিয়ে থাকে, যা বহু বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশে মুসলমান নয়, হিন্দুরাই হিন্দুদের সবচেয়ে বড় শত্রু। যেখানে যত মন্দির আছে, সবগুলোকে দেবোত্তর সম্পত্তি ঘোষণা করে সীমানা চিহ্নিত করা উচিত।”

সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং অভিযুক্তদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত। তিনি দাবি করেন, “শেখ হাসিনা বিদেশে থেকেও বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। কলকাতায় আওয়ামী লীগের একটি অফিস নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে বড় ধরনের পরিকল্পনা হতে পারে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, যুগ্ম মহাসচিব মীর সরাফত আলী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী এবং জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক।




“ঢাবির হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল : উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। শুক্রবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজের বাসভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

উপাচার্য জানান, গত বছরের ১৭ জুলাই হলে হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে নীতিমালা গৃহীত হয়েছিল, সেটিই বহাল থাকবে। হল প্রশাসন এ নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটি প্রসঙ্গে সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার কথাও তিনি জানান।

তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে হলে যেকোনো ধরনের রাজনীতির সম্পূর্ণ অবসান দাবি করেন। তারা ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যার মধ্যে রয়েছে—

  • কেন কমিটি দেওয়া হয়েছে, তার জবাব উপাচার্যকে দিতে হবে।
  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদল, শিবির, বাগছাস, বামসহ সকল গুপ্ত কমিটি বিলুপ্ত করতে হবে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও একাডেমিক এলাকায় রাজনীতি নিষিদ্ধ করে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দিতে হবে।
  • সব হল কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিলুপ্ত করতে হবে।
  • হল প্রভোস্টদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে।
  • দ্রুত ডাকসু বাস্তবায়ন করতে হবে।

এর আগে শুক্রবার দুপুর থেকে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন হল ইউনিটে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ও হল পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, তবুও কমিটি ঘোষণার পর রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিকেল থেকে চলা এ বিক্ষোভ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হয় এবং রাত ১২টার পর সবগুলো হল থেকে শিক্ষার্থীরা টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন। পরে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। দীর্ঘ হট্টগোলের পর উপাচার্যের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে যে ২০২৪ সালের ১৭ জুলাইয়ের ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী প্রকাশ্য ও গুপ্ত— উভয় ধরনের হল রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে।




“নির্বাচন ও সংস্কার একে অপরের পরিপূরক, মুখোমুখি নয় : জোনায়েদ সাকি”

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন—এই তিনটি উপাদানই গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। এদের মধ্যে যেকোনো একটিকে গুরুত্ব না দিলে রাষ্ট্রকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অগ্নিসেনা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভার শিরোনাম ছিল—‘দ্রুত বিচার সম্পন্ন, মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন’।

সাকি বলেন, “অনেকে শুধু নির্বাচনকে গণতন্ত্রের একমাত্র উপায় মনে করছেন, আবার কেউ কেউ বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনবিমুখভাবে দাঁড় করাচ্ছেন। উভয় দৃষ্টিভঙ্গিই ভুল। একটি বাদ দিয়ে অন্যটিকে সামনে এগিয়ে নিলে দেশ রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক পথে যেতে পারে।”

তিনি জানান, একটি জাতীয় সনদের ঘোষণা সামনে আসছে—তবে সেখানে মতপার্থক্য, আপত্তি ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। “একটি পক্ষ বলছে—এই সনদ না হলে নির্বাচনে অংশ নেবে না। এটি কোনো সমাধান নয়। যদি তারা সত্যিই নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি মানাতে চায়, সেটি তাদের রাজনৈতিক অধিকার। তবে বাস্তবতা হলো—নির্বাচনকে ঠেকানোর কোনো সুযোগ নেই,” বলেন সাকি।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন হচ্ছে সংস্কার বাস্তবায়নের একমাত্র গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পথ। তাই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত সংস্কারে পৌঁছাতে হবে।”

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “ঘোষণাপত্রে প্রকৃত প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি, বরং কিছু মনগড়া বক্তব্য ও নির্দিষ্ট দলের বিবৃতি তুলে ধরা হয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা ঐক্য ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী।”

নুর বলেন, “যে আন্দোলন থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু, সেখানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। সেই সংগ্রামের ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি ধরে রেখে আমাদের সামনে এগোতে হবে।”

তিনি জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আশাবাদ জানিয়ে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি দিয়েছে। আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চাই, যা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।”




যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়ে পরবর্তী রূপরেখা ঠিক করলেন তারেক রহমান

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৮ আগস্ট) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তারেক। দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলনের কৌশল ও আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি ও লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও ঘোষিত সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি দলগুলোর অবস্থান এবং যুগপৎ কর্মসূচির সমন্বয়।

১২ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিকল্পধারা বাংলাদেশের অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকিব, জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম।

বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বৈঠকে অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে ১২ দলীয় জোট ও ১১ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট একত্রে অংশ নেয়। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), এলডিপির একাংশ, জাগপার একাংশ, কল্যাণ পার্টি, ন্যাপ-ভাসানী, বিকল্প ধারা, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামিক পার্টি, ডেমোক্রেটিক লীগ, বাংলাদেশ সংখ্যালঘু জনতা পার্টিসহ আরও বেশ কিছু দল।

বৈঠকে নতুন কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি নির্বাচনী রূপরেখা নিয়েও প্রাথমিক পর্যায়ের কথাবার্তা হয়েছে বলে জানা গেছে।




ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কলকাতায় ‘গোপন কার্যালয়’ খুলেছে আওয়ামী লীগ নেতারা

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে ‘দলীয় কার্যালয়’ খুলেছেন দলটির নেতারা। কলকাতার আশপাশের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে গোপনভাবে গঠিত এই অফিসে নিয়মিত বৈঠক করছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা ও কর্মী ভারতে আশ্রয় নেন। শুরুতে কেউ কেউ নিজেদের বাসায় ছোটখাটো দলীয় বৈঠক করলেও এখন দলীয় কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্দিষ্ট একটি ‘পার্টি অফিস’ চালু করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি বাণিজ্যিক ভবনের অষ্টম তলায় গোপনীয়তা বজায় রেখেই সাজানো হয়েছে অফিসটি। বাইরে থেকে দেখে কেউ বুঝতে পারবেন না এটি আওয়ামী লীগের কার্যালয়। নেই কোনো সাইনবোর্ড, শেখ হাসিনা বা বঙ্গবন্ধুর ছবি কিংবা দলীয় চিহ্ন। এমনকি অফিস সংক্রান্ত কাগজপত্রও সেখানে রাখা হয় না।

আওয়ামী লীগের এক পলাতক নেতা বিবিসিকে বলেন, ‘‘এই ঘরটার পরিচিতি আমরা প্রকাশ করতে চাইনি। শুধু দেখাসাক্ষাৎ বা বৈঠকের প্রয়োজনেই এটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এটি আসলে একটি পুরোনো বাণিজ্যিক অফিস, আগের চেয়ার-টেবিলই ব্যবহার করছি।’’

সেখানে একসঙ্গে ৩০-৩৫ জন বসতে পারেন। তবে শতাধিক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে বড় বৈঠকের জন্য রেস্টুরেন্ট বা ব্যাঙ্কুয়েট হল ভাড়া নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

বর্তমানে এই পার্টি অফিসটিকে ঘিরেই ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের সংগঠিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।




‘জুলাই ঘোষণাপত্রের দৃষ্টিভঙ্গি অসম্পূর্ণ; ইতিহাস বিকৃত’ — বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির মতে, এই ঘোষণাপত্রে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ইতিহাস বিকৃতিও ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বলেন, “ঘোষণাপত্রটি একটি প্রামাণ্য দলিল হলেও এটি প্রকৃত অর্থে ‘প্রক্লেমেশন’ হয়ে উঠতে পারেনি। এতে বহু গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও শহীদদের প্রসঙ্গ অনুল্লিখিত রয়ে গেছে, যা ঘোষণার ব্যাপকতা ও গাম্ভীর্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ মূলত ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই ফ্যাসিস্ট দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় একটি প্রতীক্ষিত দলিল হলেও তা আকাঙ্ক্ষিত পরিপূর্ণতা পায়নি। বরং এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাদ পড়েছে যা এই ঘোষণাকে সীমিত ও অসম্পূর্ণ করে তুলেছে।

সংগঠনটি উল্লেখ করে, ১৯৪৭ সালের উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর গণহত্যা, কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার ফাহাদ হত্যা, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ এবং ভ্যাটবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলো এই ঘোষণায় উপেক্ষিত হয়েছে। অথচ এসব আন্দোলন গণজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘোষণাপত্রে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা দেওয়া হলেও তাদের হত্যাকারীদের বিচার ও প্রকৃত শহীদ সংখ্যা স্পষ্ট করা হয়নি। এতে শহীদদের প্রতি ইনসাফ হয়নি বলেই মনে করে সংগঠনটি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে সংগঠনটি বলছে, এই ঘোষণায় তাদের নেতৃত্বের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা একধরনের ইতিহাস বিকৃতি। তাদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনই ছিল ২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী মূল প্ল্যাটফর্ম।

ঘোষণাপত্রে পরবর্তী সংসদের ওপর সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণের বিষয়েও আপত্তি জানায় সংগঠনটি। তারা বলছে, “রাষ্ট্রের সংবিধান সংসদ নয়, নির্বাচিত গণপরিষদ বা গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার হওয়া উচিত। অন্যথায় এটি সংস্কার নয়, বরং বিদ্যমান ব্যবস্থাকে রক্ষা করার কৌশল।”

সবশেষে, সংগঠনটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, ঘোষণা বাস্তবায়নের সঠিক পথ নির্ধারণ করে ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতি ন্যায়বিচার (ইনসাফ) প্রতিষ্ঠা করা হোক।




সাংবাদিক হত্যায় ক্ষুব্ধ জামায়াত, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনা প্রমাণ করে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একদল সন্ত্রাসী দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর গাজীপুর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “তুহিন বিকেলে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত একটি লাইভ সম্প্রচার করেছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এতে প্রমাণিত হয়, একজন সাংবাদিকও আজ নিরাপদ নন। এ ধরনের ঘটনা জাতির জন্য অশনি সংকেত।”

তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তারা কেবল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই হামলা করছে না, বরং চাঁদা না পেলে মানুষকেও নির্মমভাবে হত্যা করছে। নিজেদের মধ্যেও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে খুনোখুনি করছে তারা।”

জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি নিহত সাংবাদিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল, বড় পরিকল্পনা প্রবাসী ভোটারদের ঘিরে

আগামী ডিসেম্বর মাসেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ রোববার (৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রবাসী ভোটারদের প্রসঙ্গেও গুরুত্বারোপ করেন। জানান, আগামী মাস থেকেই প্রবাসীদের ভোটার অ্যাডুকেশন কার্যক্রম শুরু করবে নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটারদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

তবে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকছে। তিনি জানান, যদি কোনো আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী না থাকে, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট বন্ধ করে দেওয়া হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রতিটি লাখ ভোটারের পোস্টাল ব্যালটের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় থেকে সাত কোটি টাকা।

৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যারা ভোটার হবেন, তাদের নামই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তারাই জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। কমিশনের আজকের দিনের সভা আপাতত মুলতবি করা হলেও, ভোটার তালিকা প্রণয়নে সময়সীমা পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালটে শুধুমাত্র প্রতীক থাকবে, প্রার্থীর নাম থাকবে না। সময় ও খরচ কমানোর লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরো ব্যালট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে। ব্যালট পাঠানো ও গ্রহণের সময়সীমা হবে তিন সপ্তাহ।

তিনি আরও বলেন, শুধু প্রবাসীরাই নয়—দেশের ভেতরেও আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে দেশ ও বিদেশের সকল ভোটারের অধিকার নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা দৃঢ় হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তফসিলের পরই দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।

তিনি বলেন, “এ বছরই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। নির্বাচনের তফসিল আগামী নভেম্বর মাসে ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘটবে।”

তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “যে বাড়িতে তিনি উঠবেন, সেটি পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তার চলাচলের জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তাবেষ্টিত যানবাহনও আনা হয়েছে।”

জাতীয় রাজনীতিতে এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করবে এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও, বিএনপির নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগেই দেশে ফিরতে তাঁর আইনি ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি শেষের পথে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘দলের উচিত ছিল গোয়েন্দা ও অসৎ মিডিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো’ — হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ শোকজের জবাবে দলের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, “দলের উচিত ছিল গোয়েন্দা সংস্থা ও অসৎ মিডিয়ার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া।”

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে শোকজের জবাব প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে যান এনসিপির শীর্ষ পাঁচ নেতা। ওই ঘটনায় ‘দলের অনুমতি না নেওয়ার’ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে এনসিপি।

শোকজের জবাবে হাসনাত বলেন, “আমরা যে ঘোষণা বা আয়োজন প্রত্যাশা করেছিলাম, সেখানে অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের সম্মান ও অন্তর্ভুক্তি ছিল না। ফলে ব্যক্তিগতভাবে আমি ওই আয়োজনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”

তিনি দাবি করেন, দলের আহ্বায়ককে তিনি ভ্রমণের ব্যাপারে অবহিত করেছিলেন। এরপরও শোকজ নোটিশকে ‘বিধিবহির্ভূত’ ও ‘অতি উৎসাহী পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শোকজের জবাবে আরও বলা হয়,

“ঘোষণাপত্রে সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর অর্পণের যে কথা বলা হয়েছে, তা অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা চেয়েছি গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান।”

তিনি দাবি করেন, গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত সফরের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে কিছু গণমাধ্যমে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ভাবে প্রচার করা হয়েছে। এতে ‘গোপন বৈঠক’ ও ‘ষড়যন্ত্র’–এর অভিযোগ তোলা হয়, যা তিনি ‘গুজব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নারী নেত্রী তাসনিম জারাকে ঘিরে পরিচালিত অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন নারীকে টার্গেট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কুরুচিপূর্ণ প্রচার চালানো হয়েছে। এটা নারী নেতৃত্বকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা।”

শেষে তিনি দলের প্রতি আস্থার কথা জানিয়ে বলেন, “আমি এনসিপির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। গণতান্ত্রিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা দিয়েই আমাদের দল আরও পরিণত হবে।”