টাঙ্গাইল-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী আযম খানকে শোকজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে সারা দেশে । চলছে ভোটারদের মন জয়ের জন্য নানান প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি ।

এবার টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।একইভাবে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানকেও কারণ দর্শনোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে ভোট প্রার্থনা ও অনুদান ঘোষণা করছিলেন।

অভিযোগ পেয়ে ওই আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্মারক নম্বর ০৫.৪১. ৯৩৮৫.০০০.০৪.০০৩.২৫.১১৬৪ মূলে গত ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠান।

নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে আপনি অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বক্তব্যে বলেছেন, ‘১২ বার তো ভোট দিয়েছেন এবার ১৩ বারের নির্বাচনে হিসেব করে ভোট দেন। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছি। আমার দল বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে আগামী নির্বাচনে বিএনপি পাস করলে দুই কোটি ফ্যামিলি কার্ড দেবে।’

এ ছাড়া তিনি নির্বাচনের প্রথম বছরে দুটি রাস্তা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও যাচাই করে সত্যতা পাওয়ায় আহমেদ আযম খানের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

অপরদিকে, একই সংসদীয় আসনে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগের সাথে সংযুক্ত ছবিসমূহ পর্যালোচনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।

ফলে তাদের দুজনকে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে স্থাপিত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আদালতের কাছে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।




প্রতীক ছাড়া প্রচারণা নয় : ইসি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।

সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনের মধ্যে রাখতে প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত সব ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পরই কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করে প্রচারণায় নামতে পারবেন। এর আগে কোনো পোস্টার, ব্যানার, মিছিল, সভা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা কিংবা সরাসরি ভোট চাইতে দেখা গেলে তা বিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোটগ্রহণের তারিখের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। সে অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার দুই দিন আগে রাত ১২টার মধ্যেই প্রচারণা শেষ করতে হবে। এই সময়ের পর কোনো ধরনের প্রচারণা চালালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন মনে করছে, প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারণা বন্ধ থাকলে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাবে এবং নির্বাচনী মাঠে কোনো পক্ষ বাড়তি সুবিধা নিতে পারবে না। এজন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আচরণ বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতে কক্সবাজারে যাচ্ছেন তারেক রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করতে আগামী ১৮ জানুয়ারি কক্সবাজার সফরে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফরকে ঘিরে কক্সবাজার জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী থাকলে ১৮ জানুয়ারি তারেক রহমান কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় গিয়ে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আকতার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাদের পাশে থাকার অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের কক্সবাজার সফরকে জেলা বিএনপি নেতারা ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতা কক্সবাজারে আসছেন, এটি আমাদের জন্য গর্ব ও আবেগের বিষয়। নেতাকর্মীরা এই সফরকে ঘিরে উজ্জীবিত।

একই সঙ্গে কক্সবাজার সফরে তারেক রহমান যেন ২০২৩ সালের নভেম্বরে উখিয়ায় গুলিতে নিহত বিএনপি কর্মী জাগির হোসেনের পরিবারের খোঁজ নেন, এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আহমদ শাকিল বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে নিহত জাগির হোসেন ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তার দুই এতিম সন্তানসহ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নেতার কাছ থেকে আমরা আশা করি। উখিয়ায় গিয়ে তার কবর জিয়ারত করলে নেতাকর্মীরা অনুপ্রাণিত হবেন।

এর আগে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জানুয়ারি দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়া সফরে যাচ্ছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে তারেক রহমান। পরদিন ১২ জানুয়ারি তিনি রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন বলেও জানা গেছে। ধারাবাহিকভাবে শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি জানানোই এসব সফরের মূল লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সে সময় রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় তাকে অভ্যর্থনা জানাতে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত হন। তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে শহীদ হন ওয়াসিম আকরাম। তিনি চট্টগ্রাম কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার শহীদ হওয়া আন্দোলনের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রুমিন ফারহানার নির্বাচনী মঞ্চ ভাঙচুর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  লড়ছেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় রুমিন ফারহানা বলেন, অরুয়াইলে আজ আমার নির্ধারিত সভা ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন আমার মঞ্চ ভেঙে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে আমি আজ দরজায় দরজায় গিয়েছি এবং শেষমেশ গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে কথা বলছি।

যদিও মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেন নি।

একই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব নির্বাচন করছেন।

তবে নির্বাচনী অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ভোটারদের ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান এ নেত্রী।

সভায় তিনি অরুয়াইল চিত্রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং রাস্তা সংস্কারের ব্যাপক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমি এমপি থাকাকালীন এই সেতুর জন্য আবেদন করেছিলাম। নির্বাচিত হলে এই সড়ক, সেতু ও কালভার্টের কাজ সম্পন্ন করব। নতুন বাংলাদেশে আমরা কোনো দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা বালু ব্যবসা প্রশ্রয় দেব না। নিরীহ মানুষকে টাকা দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো বন্ধ করা হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচিত হলে সরাইল-আশুগঞ্জকে নতুন রূপে সাজাব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যুব উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেব।




ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে বিএনপি

দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের চলমান সংকট নিরসনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করেই সামনে এগোতে হবে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন জানান, তারা মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শোক জানাতে গিয়েছিলেন। তবে তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের বর্তমান সংকটের বিষয়গুলো শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন।

মীর নাসির হোসেন বলেন, বৈঠকে জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে নোট নিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাইলে ব্যবসায়ীদের সফল হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে ব্যবসা-বান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে, কর্মসংস্থান কমছে এবং পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় ব্যবসায়ীরা তারেক রহমানের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, চাঁদাবাজি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ও দুর্নীতির কারণে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যখন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন, তখন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠান কমে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে ব্যবসায়ীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় রেখে ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা পুঁজিবাজারকে সক্রিয় করা, ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা মব কালচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এই বৈঠকে এফবিসিসিআই, বিসিআই, বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, বিটিএমএ, বিএসএমএ, বিএবি, আইসিসি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন এবং অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকা-১৫ এ শফিকুরের মনোনয়ন বৈধ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর মাধ্যমে এই আসনে নির্বাচনী দৌড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ঢাকার মোট ২০টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। ওই যাচাই-বাছাইয়ের ধারাবাহিকতায় ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের দাখিল করা মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করে তা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ডা. শফিকুর রহমানের হলফনামা, ব্যক্তিগত তথ্য, সম্পদের বিবরণসহ সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে কোথাও কোনো অসংগতি বা আইনগত ত্রুটি পাওয়া যায়নি। ফলে নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র গ্রহণে কোনো ধরনের বাধা নেই বলে সিদ্ধান্ত আসে।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। তখন থেকেই তার মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। যাচাই-বাছাই শেষে সেই আলোচনার অবসান হলো।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, রোববার (৪ জানুয়ারি) দেশের সব সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে আপত্তি থাকলে আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমানের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বগুড়া-৬ এ তারেকের সবুজ সংকেত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে এই আসনের নির্বাচনী মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান তারেক রহমানের দাখিল করা মনোনয়নপত্র পর্যালোচনা শেষে তা বৈধ বলে ঘোষণা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকায় কোনো আপত্তি ওঠেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

একই দিনে একই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে বগুড়া-৬ আসনে বড় দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে ফল একরকম হয়নি। এই আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী দিলরুবা নূরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী তার মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে বগুড়া-৬ আসনে কোন কোন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ এবং কোনগুলো বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় নির্বাচনী আলোচনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এদিকে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। তারা বলছেন, বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়ন বৈধ হওয়া নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল

ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়া ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

মনোনয়ন বাতিলের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডা. তাসনিম জারা জানান, তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন। তার দাবি, ইচ্ছাকৃত কোনো অনিয়ম নয়, বরং স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, তার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর নিয়ে যে আপত্তি তোলা হয়েছে, সেটি মূলত ভুল বোঝাবুঝি থেকে এসেছে। তিনি জানান, একজন স্বাক্ষরকারী জানতেন তিনি ঢাকা-৯ আসনের ভোটার, তবে বাস্তবে তিনি যে এই আসনের ভোটার নন, সেটি জানার মতো কোনো সুযোগ তার ছিল না।

অন্য স্বাক্ষরকারীর ক্ষেত্রে জমা দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিতে তাকে ঢাকা-৯ আসনের ভোটার হিসেবে উল্লেখ করা ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রকৃতপক্ষে এই আসনের ভোটার নন। এই অসামঞ্জস্যতার কারণেই মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

তাসনিম জারা আরও বলেন, স্বাক্ষরকারীরা উভয়েই ধারণা করেছিলেন তারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার এবং সেই বিশ্বাস থেকেই তারা স্বাক্ষর দিয়েছেন। এখানে কোনো ধরনের প্রতারণা বা গোপন উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটাররা কোন সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত তা সহজে জানার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সাধারণ মানুষ এ ধরনের বিভ্রান্তিতে পড়ছে।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ডা. তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতার প্রেক্ষাপটেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আপিলের পর নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জামায়াত আমির ও তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত

চন্দ্রদ্বীপনিউজ :বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এর আগে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের প্রতিনিধি দল সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন,

বেগম জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন ভূমিকা রেখেছেন।

ইতিহাসে তিনি বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন, যা তার প্রাপ্য ছিল।

জাতির জন্য অবদান রাখলে সবার জন্যই এমন সম্মান অর্জনের সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামীর রাজনীতি ও সরকার গঠন প্রসঙ্গে  জানতে চাওয়া হলে ,  জামায়াত আমির বলেন, দেশে একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাতীয় নির্বাচনের পর এবং সরকার গঠনের আগে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, সে বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের আগেই আবারও বৈঠকে বসার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র গঠন ও জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ গঠনে বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা দেন।

নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেন নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।




মানিক মিয়ায় জনস্রোত

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকার আশপাশে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে, পুরো এলাকা পরিণত হয় শোকাবহ জনসমুদ্রে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা জেলা থেকে মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে ছুটে আসেন। দুপুর ২টায় এখানে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শেষ বিদায়ে অংশ নিতে মানুষের আগমন থামছেই না।

জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, জানাজা চলাকালে যানজট এড়াতে কোনো যানবাহনকে মিরপুর সড়ক ব্যবহার করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় প্রবেশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আড়ং সংলগ্ন প্রধান প্রবেশপথটি সাধারণ মানুষের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে একাধিক রাস্তা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে করে শোকাহত মানুষ নির্বিঘ্নে জানাজাস্থলে পৌঁছাতে পারেন। খামারবাড়ি ও বিজয় সরণি এলাকার সড়কগুলো দিয়ে মানুষকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের দলে দলে জানাজাস্থলে উপস্থিত হতে দেখা যায়। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা, আবার কেউ কেউ কালো পতাকা হাতে শোক প্রকাশ করেন। চারপাশে শোনা যায় শোকের স্লোগান ও দোয়ার ধ্বনি।

চট্টগ্রাম থেকে আসা আবুল কালাম জানান, প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায়ে অংশ নিতে তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় এসেছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন ছিল সংগ্রাম আর আপসহীনতার প্রতীক। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি নীতি থেকে সরে যাননি। এমন নেত্রীর কর্মী হতে পেরে আমরা গর্বিত।

যশোর থেকে আসা কবির খান বলেন, আজ লাখো মানুষ এখানে জড়ো হয়েছে, যা প্রমাণ করে বেগম জিয়া কতটা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে খালেদা জিয়া চিরকাল মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন।

খালেদা জিয়ার জানাজাকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। মানুষের চোখে-মুখে ছিল প্রিয় নেত্রীকে হারানোর বেদনা, আবার তার রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই জনসমাগমে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম