হাসপাতাল ত্যাগ করলেন জামায়াত আমির; পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন দুই সপ্তাহ

ওপেন হার্ট সার্জারির পর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা দেন।

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের জানান, সার্জারির পর চিকিৎসকরা তার শারীরিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট। তবে তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। তার পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ তিনি বাসায় বিশ্রামে থাকবেন এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণে থাকবেন। তিন সপ্তাহ পর তিনি জনসম্মুখে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউনাইটেড হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ ডা. শহিদ আলম চৌধুরী জানান, গত ২ আগস্ট ডা. শফিকুর রহমানের ওপেন হার্ট বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। তার হৃদযন্ত্রে পাঁচটি ব্লক ধরা পড়েছিল। ২ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি কার্ডিয়াক আইসিইউতে ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হলে ৫ আগস্ট কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসক জানান, তিনি নিজে হাঁটতে পারছেন এবং তার স্বাস্থ্য ধাপে ধাপে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

চিকিৎসকের ভাষ্যে, “আমরা তার সার্বিক উন্নতিতে খুবই সন্তুষ্ট। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।”

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. শফিকুর রহমান। প্রাথমিকভাবে ডিহাইড্রেশনের কারণে অসুস্থতা মনে করা হলেও, পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩০ জুলাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং হার্টে ব্লকের বিষয়টি নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসা শেষে জামায়াতের পক্ষ থেকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর দোয়া চাওয়া হয়েছে।




বরগুনা-১ আসনে মনোনয়নের প্রত্যাশায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. নুরুল ইসলাম।
“দেশ গঠনে অংশ নিন, ধানের শীষে ভোট দিন” স্লোগান সামনে রেখে তিনি বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলে গিয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

আমতলী উপজেলার সোনাখালী গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া নুরুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। চাকরিজীবন ও রাজনৈতিক জীবনে বহুবার মামলা, হামলা ও কারাবন্দি হয়েও বিএনপির আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াননি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিগত সরকারের সিদ্ধান্তে বরগুনার তিনটি আসনকে দুইটিতে রূপান্তর করে আমতলী ও তালতলী উপজেলার জনগণকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদন জানিয়েছি। এ অঞ্চলে শিক্ষা, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো অগ্রগতি হয়নি। যদি বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করব।”

স্থানীয়দের ভাষ্যে, নুরুল ইসলাম সৎ, নির্ভীক ও শিক্ষিত একজন নেতা। অতীতে তিনি এলাকায় নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন এবং বারবার দলের জন্য কারাবন্দি হয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বরগুনা-১ আসনের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





ভোলায় সরগরম রাজনীতি, প্রার্থী চূড়ান্তে অপেক্ষা বড় দলগুলোর

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বীপজেলা ভোলায় রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী চারটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপি, বিজেপি, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বড় দলগুলো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

জেলার অলিগলি, পাড়া-মহল্লা, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, কমিটি গঠন ও সদস্য সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে বিশেষ করে বিএনপিতে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাশা থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপি থেকে জেলা আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। বিজেপি থেকে চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং জামায়াত থেকে নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফা।

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম এগিয়ে আছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম।

ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে বিএনপির মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ প্রার্থী হিসেবে বেশ সক্রিয়। বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) থেকে মহাসচিব নিজামুল হক নাঈমের নাম শোনা গেলেও বিজেপি ও জাপার তৎপরতা তেমন নেই।

ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম, অ্যাডভোকেট ছিদ্দিকুল্লা ও নুরুল ইসলাম নয়নের নাম আলোচনায় রয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে কামাল উদ্দিনও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

বিএনপি নেতা গোলাম নবী আলমগীর জানিয়েছেন, “দল বড়, তাই একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইতে পারেন। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।” জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির নজরুল ইসলাম বলেছেন, “ভোলার চারটি আসনেই আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত এবং সংগঠন প্রস্তুত।”

এদিকে এনসিপির ভোলা জেলা প্রধান সমন্বয়ক মেহেদী হাসান শরীফ জানান, প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে দলীয় মাঠ গোছানোর কাজ জোরদার হয়েছে।

সব মিলিয়ে দ্বীপজেলা ভোলার চার আসন ঘিরে রাজনৈতিক মাঠ এখন অনেকটাই সরগরম, আর ভোটারদের চোখ এখন কেন্দ্রের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নতুন পৌর যুবদলের শুভেচ্ছায় ভোলা জেলা যুবদল নেতৃত্ব

ভোলায় জেলা যুবদলের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন জামাল উদ্দিন লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আব্দুল কাদের সেলিম। একইসঙ্গে ভোলা সদর থানা যুবদল ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবগঠিত ভোলা পৌর যুবদলের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে জেলা যুবদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম মিলন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. রিয়াদ হাওলাদার, সদস্য সচিব মো. সগির আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইসমাইল, মো. মমিনুল ইসলাম শিবলু, মো. সোহরাব হোসেন, মোহাম্মদ জুয়েল হাওলাদার, মোহাম্মদ আলমগীরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবদল নেতারা।

অভিনন্দন বক্তব্যে জেলা যুবদল সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেলিম বলেন, নতুন কমিটি ভোলার যুবদলকে আরও সু-সংগঠিত করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থেকে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এছাড়া তারা শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট মো. রিয়াদ হাওলাদারকে আহ্বায়ক এবং মো. সগির আহমেদকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যের ভোলা পৌর যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





জাতীয় নির্বাচনে জুলাই সনদের প্রয়োগ চেয়ে জামায়াতের বিক্ষোভ মঙ্গলবার

জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র ও জুলাই জাতীয় সনদের আইনগত স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই সনদের আলোকে আয়োজনের দাবিতে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বিজয়নগরের পানির ট্যাংক এলাকায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচিকে সফল করার জন্য ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও নগরবাসীর প্রতি শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।




আগামীর বাংলাদেশ গঠনে যুবসমাজ হবে পরিবর্তনের প্রধান শক্তি : গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনে যুবকরাই অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। জাতীয় জীবনে যুবকদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের প্রতি দেশবাসীর প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে।

রোববার এক বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— বিশ্বের বড় পরিবর্তনগুলো এসেছে যুবসমাজের হাত ধরে। তাই সুস্থ জাতি গঠনে যুবশক্তির বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনে যুবসমাজ হবে পরিবর্তনের প্রধান শক্তি।

তিনি জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা সংগঠনকে আগামী ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, যুব র‌্যালি, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামসহ নানা কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।




এনসিপি নেতার বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় ও হুমকিচিঠি, থানায় অভিযোগ

রাজশাহীর মোহনপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য খালিদ হাসান মিলুর বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় ও হুমকিমূলক চিরকুট ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। চিরকুটে লেখা ছিল— “প্রস্তুত হ রাজাকার। মায়ের দোয়া নে। তোদের দিন শেষ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।”

শনিবার (৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফেরার পর মিলু জানালার পাশ থেকে অপরিচিত একজনের ডাক পান— “বাইরে বের হয়ে দেখ।” বারান্দায় গিয়ে তিনি দেখতে পান কাঠের আড়ায় আগুন জ্বলছে এবং চারপাশে পেট্রোলের গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরে প্রতিবেশী ও নৈশপ্রহরীর সহায়তায় আগুন নেভানো হয়।

ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনের ভেতর কাফনের কাপড় ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। বৃষ্টির কারণে আগুন বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি। এ ঘটনায় তিনি চরম আতঙ্কিত বলে জানান।

এনসিপির রাজশাহী জেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলাম সাজু অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে এখনো এমন কৌশল অবলম্বন করছে। প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, রোববার (১০ আগস্ট) রাতে মিলু থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।




নির্বাচন নিরাপত্তায় ৪০ হাজার বডিক্যাম আসছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশের জন্য ৪০ হাজার বডি-ওয়্যার ক্যামেরা (বডিক্যাম) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের সময় দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে এসব আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

রোববার (১০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় বিষয়টি জানায়। এর আগে শনিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকস চৌধুরী এবং ফয়েজ তৈয়ব আহমেদ।

ফয়েজ তৈয়ব আহমেদ জানান, বডিক্যাম কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। অক্টোবরের মধ্যে এসব ক্যামেরা দেশে এনে পুলিশ সদস্যদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সক্ষমতাসহ অন্যান্য ফিচারের উপর পূর্ণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জার্মানি, চীন ও থাইল্যান্ডের তিনটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ চলছে সরবরাহ নিশ্চিত করতে। নির্বাচনের সময় পুলিশ অফিসার ও কনস্টেবলরা বুকে ডিভাইসটি পরে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, “খরচ যাই হোক না কেন, আমাদের লক্ষ্য ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করে তোলা।”

প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা বাড়াতে একটি নির্বাচনী অ্যাপ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রার্থীদের তথ্য, ভোটকেন্দ্রের লাইভ আপডেট এবং অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “অ্যাপটি যেন দেশের ১০ কোটিরও বেশি ভোটারের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুষ্ঠু পরিবেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই : এবি পার্টি চেয়ারম্যান মঞ্জু




অন্তর্বর্তী সরকারের রূপকল্পে সমর্থন, তবে সতর্কতার বার্তা এবি পার্টির

আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে দলটি বলেছে, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ফ্যাসিবাদীদের বিচার এবং জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা জরুরি। তা না হলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটবে না।

শনিবার (৯ আগস্ট) ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

ফুয়াদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ঘোষিত জুলাই সনদ ঐতিহাসিক হলেও এটি জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “সহস্রাধিক শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই দলিল যেন কেবল অলঙ্কারিক বস্তু না হয়ে, কার্যকর নির্দেশিকা হিসেবে বাস্তবায়িত হয়—এটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন শুরু করা উচিত। সনদের আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে ১৯৯০ বা ২০০৮ সালের অভিজ্ঞতা পুনরাবৃত্তি না হয়।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখতে না পারার কথা জানিয়ে ফুয়াদ অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছরেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে কোনো সংলাপ হয়নি এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের অনেক সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ফুয়াদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে তৃণমূল পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে, যা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।