আগামীর বাংলাদেশ গঠনে যুবসমাজ হবে পরিবর্তনের প্রধান শক্তি : গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনে যুবকরাই অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। জাতীয় জীবনে যুবকদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের প্রতি দেশবাসীর প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে।

রোববার এক বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— বিশ্বের বড় পরিবর্তনগুলো এসেছে যুবসমাজের হাত ধরে। তাই সুস্থ জাতি গঠনে যুবশক্তির বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনে যুবসমাজ হবে পরিবর্তনের প্রধান শক্তি।

তিনি জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা সংগঠনকে আগামী ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, যুব র‌্যালি, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামসহ নানা কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।




এনসিপি নেতার বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় ও হুমকিচিঠি, থানায় অভিযোগ

রাজশাহীর মোহনপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য খালিদ হাসান মিলুর বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় ও হুমকিমূলক চিরকুট ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। চিরকুটে লেখা ছিল— “প্রস্তুত হ রাজাকার। মায়ের দোয়া নে। তোদের দিন শেষ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।”

শনিবার (৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফেরার পর মিলু জানালার পাশ থেকে অপরিচিত একজনের ডাক পান— “বাইরে বের হয়ে দেখ।” বারান্দায় গিয়ে তিনি দেখতে পান কাঠের আড়ায় আগুন জ্বলছে এবং চারপাশে পেট্রোলের গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরে প্রতিবেশী ও নৈশপ্রহরীর সহায়তায় আগুন নেভানো হয়।

ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনের ভেতর কাফনের কাপড় ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। বৃষ্টির কারণে আগুন বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি। এ ঘটনায় তিনি চরম আতঙ্কিত বলে জানান।

এনসিপির রাজশাহী জেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলাম সাজু অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে এখনো এমন কৌশল অবলম্বন করছে। প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, রোববার (১০ আগস্ট) রাতে মিলু থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।




নির্বাচন নিরাপত্তায় ৪০ হাজার বডিক্যাম আসছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশের জন্য ৪০ হাজার বডি-ওয়্যার ক্যামেরা (বডিক্যাম) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের সময় দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে এসব আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

রোববার (১০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় বিষয়টি জানায়। এর আগে শনিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকস চৌধুরী এবং ফয়েজ তৈয়ব আহমেদ।

ফয়েজ তৈয়ব আহমেদ জানান, বডিক্যাম কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। অক্টোবরের মধ্যে এসব ক্যামেরা দেশে এনে পুলিশ সদস্যদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সক্ষমতাসহ অন্যান্য ফিচারের উপর পূর্ণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জার্মানি, চীন ও থাইল্যান্ডের তিনটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ চলছে সরবরাহ নিশ্চিত করতে। নির্বাচনের সময় পুলিশ অফিসার ও কনস্টেবলরা বুকে ডিভাইসটি পরে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, “খরচ যাই হোক না কেন, আমাদের লক্ষ্য ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করে তোলা।”

প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা বাড়াতে একটি নির্বাচনী অ্যাপ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রার্থীদের তথ্য, ভোটকেন্দ্রের লাইভ আপডেট এবং অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “অ্যাপটি যেন দেশের ১০ কোটিরও বেশি ভোটারের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুষ্ঠু পরিবেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই : এবি পার্টি চেয়ারম্যান মঞ্জু




অন্তর্বর্তী সরকারের রূপকল্পে সমর্থন, তবে সতর্কতার বার্তা এবি পার্টির

আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে দলটি বলেছে, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ফ্যাসিবাদীদের বিচার এবং জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা জরুরি। তা না হলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটবে না।

শনিবার (৯ আগস্ট) ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

ফুয়াদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ঘোষিত জুলাই সনদ ঐতিহাসিক হলেও এটি জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “সহস্রাধিক শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই দলিল যেন কেবল অলঙ্কারিক বস্তু না হয়ে, কার্যকর নির্দেশিকা হিসেবে বাস্তবায়িত হয়—এটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন শুরু করা উচিত। সনদের আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে ১৯৯০ বা ২০০৮ সালের অভিজ্ঞতা পুনরাবৃত্তি না হয়।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখতে না পারার কথা জানিয়ে ফুয়াদ অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছরেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে কোনো সংলাপ হয়নি এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের অনেক সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ফুয়াদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে তৃণমূল পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে, যা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




বরিশাল বিভাগের ২১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে খেলাফত মজলিস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খেলাফত মজলিস বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে।

শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র নেতারা প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন।

প্রধান প্রার্থীরা হলেন:

  • বরিশাল-১: অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান শাহীন
  • বরিশাল-২: মো. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান
  • বরিশাল-৩: অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ মুয়াজ্জেম হোসাইন
  • বরিশাল-৪: অধ্যাপক রুহুল আমীন কামাল
  • বরিশাল-৫: অধ্যাপক এ. কে. এম. মাহবুব আলম
  • বরিশাল-৬: অধ্যাপক মো. মোশাররেফ হোসেন খান
  • বরগুনা-১: অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন
  • বরগুনা-২: অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম
  • পটুয়াখালী-১: অধ্যাপক মাওলানা মো. সাইদুর রহমান
  • পটুয়াখালী-২: মাওলানা মো. আইয়ুব বিন মুসা
  • পটুয়াখালী-৩: অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন
  • পটুয়াখালী-৪: ডা. জহির আহম্মেদ
  • ঝালকাঠী-১: মাওলানা মইনুল ইসলাম
  • ঝালকাঠী-২: ডা. মো. ছিদ্দিকুর রহমান
  • ভোলা-১: মাওলানা শামসুল আলম
  • ভোলা-২: অধ্যক্ষ মাওলানা সালেহ উদ্দীন
  • ভোলা-৩: মাওলানা আবদুর রাজ্জাক
  • ভোলা-৪: ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহফুজুর রহমান
  • পিরোজপুর-১: মাওলানা আবদুল গফ্ফার
  • পিরোজপুর-২: হাফেজ মো. নূরুল হক
  • পিরোজপুর-৩: অধ্যাপক মোতালেব হোসেন

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির অধ্যাপক মো. সিরাজুল হক স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে তারা জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও আহত ভাইদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

নেতারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেন, নির্বাচন পূর্বে সংস্কার, বিচার ও সমতল খেলার মাঠ নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। তারা রাজনৈতিক হত্যা, দমনপীড়ন ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী ঘোষণাপত্র সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।

খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু ও অবাধ আয়োজনের জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, অবৈধ অস্ত্র ও টাকা নিয়ন্ত্রণ এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




এমপি নয়, সেবক হিসেবে গণমানুষের পাশে আবু নাসের রহমতুল্লাহ

তারিকুল ইসলাম তুহিন,বরিশাল ::  বরিশালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ বরিশাল-৫ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে চান। তবে তিনি নিজেকে এমপি নয়, সেবক হিসেবে গণমানুষের জন্য কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বরিশালে গত দেড় দশক ধরে কঠিন রাজনৈতিক পরিবেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন আবু নাসের। গত ৫ আগস্টের পর আবার সক্রিয় হয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। দলের প্রতি আনুগত্য ও নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে বরিশাল-৫ এর সাধারণ মানুষ তাকে ‘প্রিয় নেতা’ হিসেবে গণ্য করছে।

আবু নাসের রহমতুল্লাহ জানান, নদীভাঙন সমস্যায় পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করছেন। যদিও ভাঙন রোধে সরাসরি সমাধান দিতে না পারলেও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন, এবং যেকোনো বিপদে মানুষের পাশে থাকছেন।

তিনি বলেন, “রাজনীতির মাধ্যমে জনসাধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা গড়ে ওঠে এবং এলাকার সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানা যায়। তাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির প্রয়োজন।” এমপির প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে এলাকাবাসী তাকে উৎসাহিত করছে, তবে নির্বাচনের আগেই মানুষের পাশে থেকে তাদের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বরিশাল-৫ আসনের বর্তমান অবকাঠামোতে উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া না পাওয়া নিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন। “কাদা সড়ক, নৌকা চলাচল আর বাঁশের সাঁকো—এসবের মধ্য দিয়েই ইউনিয়নবাসী চলাফেরা করছে। অথচ আওয়ামী লীগের সরকার উন্নয়ন নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে এসেছে, কিন্তু বাস্তবে উন্নয়ন হয়েছে না,” বলেন আবু নাসের।

রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আবু নাসের রহমতুল্লাহ ১৯৯২ সালে জাতীয় যুব কমান্ড প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর পর বিভিন্ন সময় দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা ও কারাবরণসহ রাজনৈতিক সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। ২০১১ সালে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

বর্তমানে বরিশাল-৫ আসনের সর্বস্তরের জনগণের জন্য সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন আবু নাসের। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজনীতি ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




নীলার অভিযোগের জবাব দিলেন সারোয়ার তুষার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারোয়ার তুষার সাবেক এনসিপি নেত্রী নীলা ইসরাফিলের স্বামীর নামের জায়গায় নিজের নাম বসানোর অভিযোগের জবাব দিয়েছেন।

শনিবার (৯ আগস্ট) ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় সারোয়ার তুষার জানান, নীলা মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তাদের অফিসে এসেছিলেন। পুলিশ ও মানবাধিকার কর্মী লেনিন ভাইকে ডেকে, পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি ফরমটি ইন্টার্ন ডাক্তাররা পূরণ করেছেন এবং তিনি সেটি দেখে বুঝতে পারেননি।

সারোয়ার তুষার আরও বলেন, “হাসপাতালের ভর্তি ফরমে নারীর ক্ষেত্রে স্বামী বা পিতার নাম কিংবা যিনি নিয়ে এসেছেন তার নাম লেখা হয়। সেখানে ‘care of’ অর্থে C/O লেখা ছিল, যা লাল দাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আমার নামে লেখার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি যুক্তি দেন, “রোড অ্যাক্সিডেন্ট বা অন্য কোনো কারণে যখন অজানা লোক হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়, তখন C/O হিসেবে যে ব্যক্তি ভর্তি করে তার নাম লেখা হয়। এটি হাসপাতালের একটি প্রচলিত রীতি। স্বামী বা পিতার নামে টিক চিহ্ন দেওয়া হয়।”

স্মরণযোগ্য, নীলা ইসরাফিল গতকালের এক পোস্টে অভিযোগ করেন, স্বামীর নামের জায়গায় সারোয়ার তুষার নিজের নাম বসিয়েছেন এবং এটি আইনগত জালিয়াতির সামিল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-৬ আসনে নির্বাচনী হাওয়া, শীর্ষে বিএনপির আলোচনায় একাধিক প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির রমজানের আগেই অনুষ্ঠিত হবে—প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই ঘোষণার পর থেকেই বরিশাল-৬ আসন, অর্থাৎ বাকেরগঞ্জজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল নির্বাচনী প্রস্তুতি।

এ আসনে বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে ইতোমধ্যে একাধিক প্রার্থীর নাম সামনে এসেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে, আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতিতে রয়েছে। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে ১২৪ নম্বর আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৬ আসনে ১৯৭৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১২টি নির্বাচনে বিএনপি জয় পেয়েছে ৫ বার, জাতীয় পার্টি ৪ বার ও আওয়ামী লীগ ৩ বার। তবে ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত হওয়া তিনটি নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে।

প্রায় তিন লাখ ভোটারের এই আসনে সাবেক সাংসদ ও জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান আবারও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন চাইবেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম রাজন, যিনি দীর্ঘদিন পরে দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহীদ হাসান, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য কামরুজ্জামান নান্নু, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ সিকদার এবং প্রবাসী নেতা সোলায়মান সেরনিয়াবাত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ আসনে অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও কোনো জোটে না গেলে আলাদা প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে পারেন রুহুল আমিন হাওলাদার বা তার স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্না।

স্থানীয় তরুণ ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘদিন পর সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় এবারের ভোট হবে উৎসবমুখর। তবে বিজয়ের জন্য প্রার্থীদের এখন থেকেই ভোটারদের মন জয় করতে হবে।

আবুল হোসেন খান বলেন, “বিএনপি মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করেছে। এখন জনগণ সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় আছে এবং বিএনপি গোটা দেশেই জয়লাভ করবে।” অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুন্নবী তালুকদারও শতভাগ আশাবাদী যে এবারের নির্বাচন ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর ও নিরপেক্ষ হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির শক্ত প্রার্থী ছাড়া অন্য বড় দলগুলোও জননন্দিত প্রার্থী দিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠবে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে ভোটের হিসাব বদলে যেতে পারে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, বরিশাল-৬ আসনে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে, যেখানে আওয়ামী লীগের মোকিম হোসাইন হাওলাদার বিজয়ী হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পালাক্রমে জয় পেয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ মল্লিক নির্বাচিত হন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সরকার গঠনে স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান তারেক রহমানের

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পেরেছে। এখন সরকার গঠনে স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি জনগণের সরকার গঠন করার আহ্বান করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কাউন্সিলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, “৫ আগস্ট ছিল বহুল প্রত্যাশিত পরিবর্তনের দিন। সেদিন হঠাৎ করেই দেশের মানুষ অনুভব করেছিল—তারা মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারছে।”

তারেক রহমান জানান, দেশের প্রতিটি মানুষ পরিবর্তন চায়, বিশেষ করে একটি ‘ভালো পরিবর্তন’। যদিও মুহূর্তে সবকিছু ঠিক হবে না, তবুও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। “মানুষ বিশ্বাস করে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই উদ্যোগ নেবে এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে দেশকে এগিয়ে নেবে,” বলেন তিনি।

বিএনপির ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের কথা বললেও নিজেদের মধ্যে তা সবসময় চর্চা করে না—এ অভিযোগ আংশিক সত্য। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দলের ভেতরে গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন এবং দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। “আমাদের নেতারা যে পথ দেখিয়েছেন, সেই উত্তরাধিকার ধরে রাখতে হবে। স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এবং দলের ভেতরে সব স্তরে গণতন্ত্রকে মজবুত করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।