ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির রমজানের আগেই অনুষ্ঠিত হবে—প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই ঘোষণার পর থেকেই বরিশাল-৬ আসন, অর্থাৎ বাকেরগঞ্জজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল নির্বাচনী প্রস্তুতি।
এ আসনে বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে ইতোমধ্যে একাধিক প্রার্থীর নাম সামনে এসেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে, আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতিতে রয়েছে। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বর্তমানে ১২৪ নম্বর আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৬ আসনে ১৯৭৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১২টি নির্বাচনে বিএনপি জয় পেয়েছে ৫ বার, জাতীয় পার্টি ৪ বার ও আওয়ামী লীগ ৩ বার। তবে ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত হওয়া তিনটি নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে।
প্রায় তিন লাখ ভোটারের এই আসনে সাবেক সাংসদ ও জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান আবারও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন চাইবেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম রাজন, যিনি দীর্ঘদিন পরে দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহীদ হাসান, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য কামরুজ্জামান নান্নু, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ সিকদার এবং প্রবাসী নেতা সোলায়মান সেরনিয়াবাত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ আসনে অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও কোনো জোটে না গেলে আলাদা প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে পারেন রুহুল আমিন হাওলাদার বা তার স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্না।
স্থানীয় তরুণ ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘদিন পর সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় এবারের ভোট হবে উৎসবমুখর। তবে বিজয়ের জন্য প্রার্থীদের এখন থেকেই ভোটারদের মন জয় করতে হবে।
আবুল হোসেন খান বলেন, “বিএনপি মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করেছে। এখন জনগণ সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় আছে এবং বিএনপি গোটা দেশেই জয়লাভ করবে।” অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুন্নবী তালুকদারও শতভাগ আশাবাদী যে এবারের নির্বাচন ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর ও নিরপেক্ষ হবে।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির শক্ত প্রার্থী ছাড়া অন্য বড় দলগুলোও জননন্দিত প্রার্থী দিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠবে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে ভোটের হিসাব বদলে যেতে পারে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, বরিশাল-৬ আসনে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে, যেখানে আওয়ামী লীগের মোকিম হোসাইন হাওলাদার বিজয়ী হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পালাক্রমে জয় পেয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ মল্লিক নির্বাচিত হন।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫