সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় পটুয়াখালী মহিলা দল সভাপতির পদে অবসান

পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা বেগম সীমাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আফরোজা সীমার সভাপতির পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে। এই আদেশ আজ থেকে কার্যকর হবে।

জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমানও এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ৯ আগস্ট রাতে। এশিয়ান টেলিভিশনের ডিজিটাল প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম তনুকে প্রকাশ্যে গালমন্দ ও “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেন আফরোজা সীমা। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। তীব্র সমালোচনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় মহিলা দল দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আফরোজা সীমাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“সংস্কারের আগে নির্বাচন নয়, শহীদদের রক্তের হিসাব দিন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সরকার নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেও সেই নির্বাচন বাস্তবে অনুষ্ঠিত হবে না।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) আয়োজিত ‘জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৫’-এ এ মন্তব্য করেন তিনি। সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’।

নাসীরুদ্দীন বলেন, “যদি সত্যিই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, তাহলে যেসব ভাই শহীদ হয়েছেন, যারা সংস্কারের জন্য রক্ত দিয়েছেন, তাদের মরদেহ ফেরত দিতে হবে সরকারকে। একই সংবিধানে, একই ফ্যাসিবাদী কাঠামোয় নির্বাচন করলে সেই আত্মত্যাগের মানে কী?”

তিনি আরও বলেন, “যে ফ্যাসিবাদী সিস্টেমের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি, তার একটি প্রধান কারখানা এখনো টিকে আছে— সেটি বঙ্গভবন। সেই কারখানার পতন হবে তরুণদের হাত ধরেই।”

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে সরকারবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জানান, বিদ্যমান সংবিধান ও শাসনব্যবস্থার ভেতরে থেকে কোনো অর্থবহ নির্বাচন সম্ভব নয়।




জাতীয় প্রতিরক্ষায় তরুণদের যুক্ত করার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া আবশ্যক। তরুণদের গণপ্রতিরক্ষার অংশীদার করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সবসময় জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে প্রস্তুত থাকে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) জাতীয় নাগরিক পার্টির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’ আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৫-এ তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরে যে তারুণ্য শক্তি বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। এই রাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত সেই শক্তিকে কাজে লাগাতে— সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আমরা তরুণদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, ইনশাল্লাহ তা বাস্তবায়ন করব।”

তিনি জানান, জুলাই মাসে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’-তে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলার তরুণ সংগঠকদের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে যুবশক্তি এখন সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে নানা চেষ্টা করা হলেও সমীকরণ এখনও শেষ হয়নি। গত এক বছরে আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি, কিন্তু ‘জুলাই সনদ’-এ আর এক শতাংশও ছাড় দেওয়া হবে না। এখন আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্য রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে আবারও ১/১১-এর মতো পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে। আমরা নির্বাচন চাই, তবে তা পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই হতে হবে।”

চাঁদাবাজিসহ দলীয় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সংশোধন ও সংস্কার শুরু করতে হবে নিজেদের ঘর থেকে। সুবিধাবাদীদের দলে স্থান দেওয়া যাবে না।”

শেষে তিনি বলেন, “যুবশক্তি শুধু এনসিপির নয়, বরং এটি দেশেরই ভ্যানগার্ড হবে। ক্ষমতার নির্ধারকরা যদি তরুণদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে।”




জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: রিজভী

গণতন্ত্রবিরোধী একটি নতুন শক্তি বিএনপিকে টার্গেট করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আরেকটি শক্তি ধর্মের অপব্যবহার করে বিএনপির ওপর নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “১৯৮৬ থেকে শুরু করে ৯০’র দশক এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা দেখেছি — কিছু গোষ্ঠী আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে নানা অজুহাতে সহায়তা করেছে। এখন তারা আবারও বিএনপিকে টার্গেট করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই নতুন শক্তি দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন যখনই জোরালো হয়, তখনই তারা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে তৎপর হয়ে ওঠে।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আর শিডিউল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তবে এ নির্বাচন ঘিরেও বিভিন্ন পক্ষ ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

বিএনপির আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে রিজভী বলেন, “আমরা একটি আদর্শের জন্য লড়ছি। এই আদর্শের জন্য খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আপসহীন ভূমিকা রেখেছেন। তাদের নেতৃত্বেই ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।”

আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক নয়’ দাবি করে রিজভী বলেন, “তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদ। শেখ হাসিনা সরকারের নিপীড়নের কারণেই কোকোর অকাল মৃত্যু হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল আলম বাবুল, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলামসহ অনেকে।

এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতারা আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।




সাংবাদিক হত্যা নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা ইস্যুতে বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) গাজীপুর সিএমএম কোর্টে বাসন থানা বিএনপির সভাপতি তানভীর সিরাজ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ আগস্ট দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। ওই দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, তুহিন হত্যার সঙ্গে বিএনপির কর্মীরা জড়িত। পোস্টে তিনি লেখেন, “গাজীপুরে এক বিএনপি নেতার চাঁদাবাজি নিয়ে নিউজ করায় দুপুরে আনোয়ার নামের এক সাংবাদিককে ইট দিয়ে থেতলে দেয় বিএনপির কর্মীরা… তুহিনকে গাজীপুরের চৌরাস্তায় চা দোকানে রাতে গলা কেটে হত্যা করেছে ছিনতাইকারী সন্ত্রাসীরা।”

বাদী তানভীর সিরাজ দাবি করেন, এই পোস্টের মাধ্যমে সারজিস আলম ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়েছেন, যা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি এ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলাটি শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২-এর বিচারক আলমগীর আল মামুন সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখনো তদন্ত চলমান থাকলেও, এ ঘটনার জেরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, সারজিস আলমের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাসপাতাল ত্যাগ করলেন জামায়াত আমির; পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন দুই সপ্তাহ

ওপেন হার্ট সার্জারির পর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা দেন।

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের জানান, সার্জারির পর চিকিৎসকরা তার শারীরিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট। তবে তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। তার পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ তিনি বাসায় বিশ্রামে থাকবেন এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণে থাকবেন। তিন সপ্তাহ পর তিনি জনসম্মুখে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউনাইটেড হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ ডা. শহিদ আলম চৌধুরী জানান, গত ২ আগস্ট ডা. শফিকুর রহমানের ওপেন হার্ট বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। তার হৃদযন্ত্রে পাঁচটি ব্লক ধরা পড়েছিল। ২ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি কার্ডিয়াক আইসিইউতে ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হলে ৫ আগস্ট কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসক জানান, তিনি নিজে হাঁটতে পারছেন এবং তার স্বাস্থ্য ধাপে ধাপে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

চিকিৎসকের ভাষ্যে, “আমরা তার সার্বিক উন্নতিতে খুবই সন্তুষ্ট। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।”

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. শফিকুর রহমান। প্রাথমিকভাবে ডিহাইড্রেশনের কারণে অসুস্থতা মনে করা হলেও, পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩০ জুলাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং হার্টে ব্লকের বিষয়টি নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসা শেষে জামায়াতের পক্ষ থেকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর দোয়া চাওয়া হয়েছে।




বরগুনা-১ আসনে মনোনয়নের প্রত্যাশায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. নুরুল ইসলাম।
“দেশ গঠনে অংশ নিন, ধানের শীষে ভোট দিন” স্লোগান সামনে রেখে তিনি বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলে গিয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

আমতলী উপজেলার সোনাখালী গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া নুরুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। চাকরিজীবন ও রাজনৈতিক জীবনে বহুবার মামলা, হামলা ও কারাবন্দি হয়েও বিএনপির আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াননি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিগত সরকারের সিদ্ধান্তে বরগুনার তিনটি আসনকে দুইটিতে রূপান্তর করে আমতলী ও তালতলী উপজেলার জনগণকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদন জানিয়েছি। এ অঞ্চলে শিক্ষা, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো অগ্রগতি হয়নি। যদি বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করব।”

স্থানীয়দের ভাষ্যে, নুরুল ইসলাম সৎ, নির্ভীক ও শিক্ষিত একজন নেতা। অতীতে তিনি এলাকায় নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন এবং বারবার দলের জন্য কারাবন্দি হয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বরগুনা-১ আসনের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





ভোলায় সরগরম রাজনীতি, প্রার্থী চূড়ান্তে অপেক্ষা বড় দলগুলোর

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বীপজেলা ভোলায় রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী চারটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপি, বিজেপি, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বড় দলগুলো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

জেলার অলিগলি, পাড়া-মহল্লা, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, কমিটি গঠন ও সদস্য সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে বিশেষ করে বিএনপিতে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাশা থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপি থেকে জেলা আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। বিজেপি থেকে চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং জামায়াত থেকে নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফা।

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম এগিয়ে আছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম।

ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে বিএনপির মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ প্রার্থী হিসেবে বেশ সক্রিয়। বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) থেকে মহাসচিব নিজামুল হক নাঈমের নাম শোনা গেলেও বিজেপি ও জাপার তৎপরতা তেমন নেই।

ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম, অ্যাডভোকেট ছিদ্দিকুল্লা ও নুরুল ইসলাম নয়নের নাম আলোচনায় রয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে কামাল উদ্দিনও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

বিএনপি নেতা গোলাম নবী আলমগীর জানিয়েছেন, “দল বড়, তাই একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইতে পারেন। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।” জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির নজরুল ইসলাম বলেছেন, “ভোলার চারটি আসনেই আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত এবং সংগঠন প্রস্তুত।”

এদিকে এনসিপির ভোলা জেলা প্রধান সমন্বয়ক মেহেদী হাসান শরীফ জানান, প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে দলীয় মাঠ গোছানোর কাজ জোরদার হয়েছে।

সব মিলিয়ে দ্বীপজেলা ভোলার চার আসন ঘিরে রাজনৈতিক মাঠ এখন অনেকটাই সরগরম, আর ভোটারদের চোখ এখন কেন্দ্রের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নতুন পৌর যুবদলের শুভেচ্ছায় ভোলা জেলা যুবদল নেতৃত্ব

ভোলায় জেলা যুবদলের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন জামাল উদ্দিন লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আব্দুল কাদের সেলিম। একইসঙ্গে ভোলা সদর থানা যুবদল ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবগঠিত ভোলা পৌর যুবদলের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে জেলা যুবদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম মিলন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. রিয়াদ হাওলাদার, সদস্য সচিব মো. সগির আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইসমাইল, মো. মমিনুল ইসলাম শিবলু, মো. সোহরাব হোসেন, মোহাম্মদ জুয়েল হাওলাদার, মোহাম্মদ আলমগীরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবদল নেতারা।

অভিনন্দন বক্তব্যে জেলা যুবদল সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেলিম বলেন, নতুন কমিটি ভোলার যুবদলকে আরও সু-সংগঠিত করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থেকে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এছাড়া তারা শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট মো. রিয়াদ হাওলাদারকে আহ্বায়ক এবং মো. সগির আহমেদকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যের ভোলা পৌর যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





জাতীয় নির্বাচনে জুলাই সনদের প্রয়োগ চেয়ে জামায়াতের বিক্ষোভ মঙ্গলবার

জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র ও জুলাই জাতীয় সনদের আইনগত স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই সনদের আলোকে আয়োজনের দাবিতে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বিজয়নগরের পানির ট্যাংক এলাকায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচিকে সফল করার জন্য ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও নগরবাসীর প্রতি শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।