লুট হওয়া সাদা পাথর ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত, ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনীর নজরদারি

সিলেটের ভোলাগঞ্জে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর এলাকায় নজিরবিহীন লুটপাটের পর, পাথর রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি লুট হওয়া পাথর উদ্ধার করে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।

বুধবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউজে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সভায় সাদা পাথর রক্ষায় মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেগুলো হলো:

  1. সাদা পাথর ও জাফলং ইসিএ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথ বাহিনীর টহল নিশ্চিত করা।
  2. গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে যৌথবাহিনীসহ পুলিশের চেকপোস্টে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন।
  3. অবৈধ পাথর ক্রাশিং মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।
  4. পাথর চুরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু।
  5. চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা।

এদিকে, সাদা পাথর লুটপাটের তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন, যাদের আগামী রোববারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

দুদকও (দুর্নীতি দমন কমিশন) ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পাথর লুটের পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ভোলাগঞ্জ এলাকায় লাগামহীনভাবে পাথর লুট চলতে থাকে। প্রকাশ্যে প্রশাসনের সামনেই শত শত নৌকার মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট পাথর সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে কিছুদিন লুটপাট বন্ধ থাকলেও গত মাসের শেষ দিকে তা আবারও তীব্র আকার ধারণ করে।

বিশেষ করে মেঘালয়ের পাহাড় থেকে ঢলের পানি নামার পর বিপুল পরিমাণ পাথর ভোলাগঞ্জে এসে জমা হয়, যা লুটপাটকারীদের সুযোগ করে দেয়।

এদিকে, এই লুটপাটের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। ইতিমধ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সব দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাও এই লুটপাটে জড়িত থাকার অভিযোগের মুখে পড়েছেন, পাশাপাশি জেলা ও মহানগর পর্যায়ের কয়েকজন নেতার নামও ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।




ইউনূসের ঘোষণা: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ নির্বাচন

কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় (ইউকেএম) থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি যেন জনগণের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া যায় এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা যায়।”

বুধবার ইউকেএম অডিটোরিয়ামে এক আনন্দমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও নেগেরি সেমবিলান দারুল খুসুস রাজ্যের সুলতান তুংকু মুহরিজ ইবনি আলমারহুম তুংকু মুনাওয়িরের কাছ থেকে ডিগ্রি সনদ গ্রহণ করেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ। সামাজিক ব্যবসা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাঁর অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

প্রফেসর ইউনূস তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তোমরা আগামী দিনের নির্মাতা। বড় স্বপ্ন দেখো, সাহসীভাবে চিন্তা করো এবং সেই অনুযায়ী কাজ করো। প্রত্যেক ব্যর্থতা কেবল সাফল্যের পথে একটি ধাপ।” তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত পরিবর্তন আমাদের জাতীয় পরিচয় ও ভবিষ্যৎ আশা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে, যা নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি ন্যায়সঙ্গত শাসনব্যবস্থা, সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এজন্য বিস্তৃত সংস্কার, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। বৈষম্য কমাতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “মানুষ প্রতিভার অভাবে দরিদ্র হয় না, সুযোগের অভাবে হয়। তাই আমি এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি যাতে দরিদ্ররাও ক্ষুদ্রঋণ পেয়ে নিজের জীবন পরিবর্তন করতে পারে।”

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, উভয় দেশ বাণিজ্য, শিক্ষা, উদ্ভাবনসহ নানা ক্ষেত্রে একে অপরের উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে। ভবিষ্যতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ সম্ভাবনাময় খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আব্দুল কাদির ও ইউকেএম ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সুফিয়ান জুসোহ উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে প্রফেসর ইউনূস মালয়েশিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই সম্মাননা দুই দেশের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছেন না আসিফ মাহমুদ

নির্বাচনকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বুধবার (১৩ আগস্ট) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, “নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছি না। রাজনীতির সাথে যারা যুক্ত, তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা উচিত নয়।”

এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম ‘ঠিকানা’-এর ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ অনুষ্ঠানে তিনি একই বক্তব্য দেন। আসিফ মাহমুদ জানান, ২০১৮ সাল থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সরকার থেকে সরে দাঁড়াবেন।

তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিতে যুক্ত থাকা অবস্থায় সরকারে থাকার বিষয়টি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট তৈরি করতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা চান জাতিকে সেরা নির্বাচন উপহার দিতে, তাই এই প্রশ্ন যেন না ওঠে।”

তার এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে অনেকেই আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে ; মব কালচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: রিজভী

ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক চিকিৎসকের সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে রিজভী বলেন, “কোনো চাঁদাবাজি হয়নি। ওই চিকিৎসক নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কেউ তার ওপর হামলা করেনি। বরং তিনি নিজের নাকে রং মেখে ভিডিও লাইভে এসে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে অপপ্রচার করেছেন।”

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন থাকায় পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

রংপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বী দুজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে রিজভী বলেন, “আইনের শাসন নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। উসকানিমূলক কথাবার্তার ফলে যেন আর কেউ প্রাণ না হারায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “দেশে মব কালচার চলছে। সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিজভী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে, যার কোনো হদিস আজও নেই। সরকারকে এই অর্থ উদ্ধারে আন্তরিক হতে হবে।”

পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখনো পিআর ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়। এটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় টেকসই নয় এবং এতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বরং গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়ানো জরুরি।”

দলের ভেতরে অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “দল বা অঙ্গসংগঠনের কেউ অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আজীবন বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।”

রিজভীর বক্তব্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সুষ্ঠু সংস্কার নিয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্টভাবে উঠে আসে।




‘ভোট দিন ধানের শীষে, দেশ গড়বো মিলে-মিশে’— যুব সমাবেশে তারেক রহমান

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জনরায় পেলে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “ভোট দিলে ধানের শীষে, দেশ গড়বো মিলে-মিশে।”

মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘যুব সমাবেশের প্রত্যাশা ও বিএনপির পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে, এক দশকের বেশি সময় পর ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে জনগণের সমর্থন পেলে বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে।”

তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, “বিএনপির রাজনীতি মানে কর্মসংস্থানের রাজনীতি। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ কর্মক্ষম। এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডই হতে পারে আমাদের উন্নয়নের চালিকা শক্তি, যদি আমরা তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি।”

তিনি বলেন, “জনগণ এখন আর শুধু প্রতিশ্রুতি চায় না, চায় তার বাস্তবায়ন। বিএনপি প্রতিটি খাতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা করছে, যা জনগণের রায় পেলে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএস জিলানী। সঞ্চালনায় ছিলেন যুব দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, উপদেষ্টা মাহাদি আমিন, সাংবাদিক মুক্তাদির রশীদ রুমি ও শরীফুল ইসলাম খান, নাট্য নির্মাতা মাসরুর রশীদ বান্নাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাফসীর।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের তরুণ সমাজকে বিএনপির “জনমুখী ও গণমুখী” কর্মপরিকল্পনা ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান।




সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় পটুয়াখালী মহিলা দল সভাপতির পদে অবসান

পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা বেগম সীমাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আফরোজা সীমার সভাপতির পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে। এই আদেশ আজ থেকে কার্যকর হবে।

জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমানও এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ৯ আগস্ট রাতে। এশিয়ান টেলিভিশনের ডিজিটাল প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম তনুকে প্রকাশ্যে গালমন্দ ও “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেন আফরোজা সীমা। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। তীব্র সমালোচনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় মহিলা দল দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আফরোজা সীমাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“সংস্কারের আগে নির্বাচন নয়, শহীদদের রক্তের হিসাব দিন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সরকার নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেও সেই নির্বাচন বাস্তবে অনুষ্ঠিত হবে না।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) আয়োজিত ‘জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৫’-এ এ মন্তব্য করেন তিনি। সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’।

নাসীরুদ্দীন বলেন, “যদি সত্যিই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, তাহলে যেসব ভাই শহীদ হয়েছেন, যারা সংস্কারের জন্য রক্ত দিয়েছেন, তাদের মরদেহ ফেরত দিতে হবে সরকারকে। একই সংবিধানে, একই ফ্যাসিবাদী কাঠামোয় নির্বাচন করলে সেই আত্মত্যাগের মানে কী?”

তিনি আরও বলেন, “যে ফ্যাসিবাদী সিস্টেমের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি, তার একটি প্রধান কারখানা এখনো টিকে আছে— সেটি বঙ্গভবন। সেই কারখানার পতন হবে তরুণদের হাত ধরেই।”

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে সরকারবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জানান, বিদ্যমান সংবিধান ও শাসনব্যবস্থার ভেতরে থেকে কোনো অর্থবহ নির্বাচন সম্ভব নয়।




জাতীয় প্রতিরক্ষায় তরুণদের যুক্ত করার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া আবশ্যক। তরুণদের গণপ্রতিরক্ষার অংশীদার করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সবসময় জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে প্রস্তুত থাকে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) জাতীয় নাগরিক পার্টির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’ আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৫-এ তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরে যে তারুণ্য শক্তি বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। এই রাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত সেই শক্তিকে কাজে লাগাতে— সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আমরা তরুণদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, ইনশাল্লাহ তা বাস্তবায়ন করব।”

তিনি জানান, জুলাই মাসে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’-তে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলার তরুণ সংগঠকদের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে যুবশক্তি এখন সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে নানা চেষ্টা করা হলেও সমীকরণ এখনও শেষ হয়নি। গত এক বছরে আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি, কিন্তু ‘জুলাই সনদ’-এ আর এক শতাংশও ছাড় দেওয়া হবে না। এখন আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্য রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে আবারও ১/১১-এর মতো পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে। আমরা নির্বাচন চাই, তবে তা পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই হতে হবে।”

চাঁদাবাজিসহ দলীয় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সংশোধন ও সংস্কার শুরু করতে হবে নিজেদের ঘর থেকে। সুবিধাবাদীদের দলে স্থান দেওয়া যাবে না।”

শেষে তিনি বলেন, “যুবশক্তি শুধু এনসিপির নয়, বরং এটি দেশেরই ভ্যানগার্ড হবে। ক্ষমতার নির্ধারকরা যদি তরুণদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে।”




জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: রিজভী

গণতন্ত্রবিরোধী একটি নতুন শক্তি বিএনপিকে টার্গেট করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আরেকটি শক্তি ধর্মের অপব্যবহার করে বিএনপির ওপর নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “১৯৮৬ থেকে শুরু করে ৯০’র দশক এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা দেখেছি — কিছু গোষ্ঠী আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে নানা অজুহাতে সহায়তা করেছে। এখন তারা আবারও বিএনপিকে টার্গেট করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই নতুন শক্তি দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন যখনই জোরালো হয়, তখনই তারা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে তৎপর হয়ে ওঠে।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আর শিডিউল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তবে এ নির্বাচন ঘিরেও বিভিন্ন পক্ষ ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

বিএনপির আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে রিজভী বলেন, “আমরা একটি আদর্শের জন্য লড়ছি। এই আদর্শের জন্য খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আপসহীন ভূমিকা রেখেছেন। তাদের নেতৃত্বেই ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।”

আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক নয়’ দাবি করে রিজভী বলেন, “তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদ। শেখ হাসিনা সরকারের নিপীড়নের কারণেই কোকোর অকাল মৃত্যু হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল আলম বাবুল, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলামসহ অনেকে।

এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতারা আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।




সাংবাদিক হত্যা নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা ইস্যুতে বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) গাজীপুর সিএমএম কোর্টে বাসন থানা বিএনপির সভাপতি তানভীর সিরাজ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ আগস্ট দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। ওই দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, তুহিন হত্যার সঙ্গে বিএনপির কর্মীরা জড়িত। পোস্টে তিনি লেখেন, “গাজীপুরে এক বিএনপি নেতার চাঁদাবাজি নিয়ে নিউজ করায় দুপুরে আনোয়ার নামের এক সাংবাদিককে ইট দিয়ে থেতলে দেয় বিএনপির কর্মীরা… তুহিনকে গাজীপুরের চৌরাস্তায় চা দোকানে রাতে গলা কেটে হত্যা করেছে ছিনতাইকারী সন্ত্রাসীরা।”

বাদী তানভীর সিরাজ দাবি করেন, এই পোস্টের মাধ্যমে সারজিস আলম ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়েছেন, যা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি এ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলাটি শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২-এর বিচারক আলমগীর আল মামুন সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখনো তদন্ত চলমান থাকলেও, এ ঘটনার জেরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, সারজিস আলমের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম