“খালেদা জিয়াকে ইঁদুর-পোকামাকড়ের কক্ষে রাখা হয়েছিল” — মির্জা আব্বাসের অভিযোগ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে চরম নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায়ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা আব্বাস বলেন, “দেশনেত্রীকে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের এমন এক কক্ষে রাখা হয়েছিল যেখানে ইঁদুর ও পোকামাকড় দৌড়াত। কয়েকজন জেলার ও ডেপুটি জেলার তাকে ছাদের ওপরের একটি কক্ষে রেখেছিল। এই নির্যাতনের জন্য যারা দায়ী, তাদের বিচার হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব এবং নেতা-কর্মীদের প্রতি তার ভালোবাসা তুলনাহীন।

২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে রাখা হয় খালেদা জিয়াকে। ওই সময়ে নানা রোগে আক্রান্ত হলেও বিশেষায়িত চিকিৎসার অনুমতি দেননি তৎকালীন সরকার। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয় তাকে, গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় থেকে কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায়।

দিনাজপুরে ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া ১৯৮১ সালে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর রাজনীতিতে আসেন এবং তিন দফা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নয়াপল্টনের মিলাদ মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




শুধু ভারত নয়, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত থেকেও সতর্ক থাকতে হবে : ইশতিয়াক উলফাত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেছেন, ভারত, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী দেশের মূল শত্রু। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই তিন পক্ষ যে কোনো সুযোগে দেশের ক্ষতি করতে পারে, তাই জনগণকে তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইশতিয়াক উলফাত বলেন, “জামায়াতে ইসলামী স্বাধীন দেশ চায়নি। তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় মা-বোনদের পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। এদের কর্মকাণ্ড আমরা ভুলব না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের প্রায় অর্ধশত জেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমিটি টাকার বিনিময়ে গঠিত হয়েছে। এসব কমিটিতে স্থান পেয়েছে আওয়ামী লীগের সদস্য ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়া বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অ্যাডহক কমিটি গঠনের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের মতামত নেওয়া হয়নি, যা দেশজুড়ে অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

উলফাতের মতে, এই ধরনের কমিটি দেশব্যাপী অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও দেশের স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলছে।




খালেদা জিয়ার জন্মদিনে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শ্রদ্ধা, কেক কাটার আয়োজন নেই

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন আজ (১৫ আগস্ট)। ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দলীয়ভাবে এবারও কেক কাটার কোনো আয়োজন নেই।

দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপির কার্যালয় ও বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সকাল ১১টায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন স্থায়ী মুক্তি পাওয়ার পর এটি খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় জন্মদিন, যা তিনি মুক্ত পরিবেশে পালন করছেন। তবে বিএনপি জানিয়েছে, জুলাই-আগস্টের শহীদ ও আহতদের স্মরণে কেক কাটাসহ কোনো আড়ম্বরপূর্ণ কর্মসূচি থাকবে না। দলটি ২০১৬ সাল থেকে জন্মদিনে কেক কাটার পরিবর্তে দোয়া মাহফিল আয়োজন করছে।

লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া। তিনি গুলশানের ফিরোজা বাসায় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চার মাস লন্ডনে থেকে চলতি বছরের ৬ মে দেশে ফেরেন। সর্বশেষ ২১ নভেম্বর সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়।

১৯৮১ সালে স্বামী ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন হন এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী, দু’বার বিরোধীদলীয় নেতা এবং সার্কের প্রথম নারী চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

দমন-পীড়ন ও কারাজীবনের দীর্ঘ সময় পার করা খালেদা জিয়া ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এবং ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হন। ২০২০ সালের মার্চে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান, তবে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পাননি।

ব্যক্তিজীবনে ১৯৬০ সালে সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা জিয়া। তাদের দুই সন্তান—তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো; কোকো ২০১৫ সালে মারা যান।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিন গণতন্ত্রের জন্য তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “স্বৈরাচার মুক্ত পরিবেশে এ বছর ম্যাডামের জন্মদিন পালিত হচ্ছে, আমরা প্রার্থনা করি তিনি আবার দেশের নেতৃত্ব দিতে পারেন।”




ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্নের আহ্বান শামসুজ্জামান দুদুর

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ফেব্রুয়ারি মাস কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অপরাজেয় বাংলাদেশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক প্রতীকী যুব সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়।

দুদু বলেন, “যথাসময়ে, সঠিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়া জরুরি। ফ্যাসিবাদ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে এর দোসররা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ বার্তা দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, স্বৈরতন্ত্রের পতনের অর্থ এই নয় যে সবকিছু অর্জিত হয়েছে। প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জরুরি। সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে ঐতিহাসিক নির্বাচন করার কথা বলেছেন, তাই বিএনপি সেই সময়সূচি মেনে নিয়েছে। তবুও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন ফেব্রুয়ারি মাস অতিক্রম না করে।

সাবেক এই সংসদ সদস্য জানান, নির্বাচন সংস্কার চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যেই হতে হবে এবং যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, সে সরকার শেখ হাসিনার বিচার ও পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ব্যবস্থা করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা গত তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করেছিলেন এবং স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কেউ যদি গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করে, তবে তারা ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন দুদু।

সমাবেশে বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, রহিমা শিকদার, কর্মজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, সহ-সভাপতি এম এ আজাদ চয়নসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




ড. ইউনূস নিশ্চিত: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের হাতে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি তিনি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন, পাশাপাশি পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সমন্বিত কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চান।

বুধবার (১৩ আগস্ট) সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিএনএ টিভির এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস নির্বাচনের প্রস্তুতি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক লোকি সু।

ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের চারটি মূল লক্ষ্য ছিল—সংস্কার, বিচার, নির্বাচন এবং দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন। তিনি বলেন, এ সব লক্ষ্য সম্পূর্ণরূপে অর্জন করা এখনো সমাপ্ত হয়নি, তবে এগুলোর দিকে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছে সরকার। তিনি যুক্তি দেখান, আগে নির্বাচন হলে সমস্যাগুলো সমাধান না করে শুধুমাত্র নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় পাঠানো হত, যা দীর্ঘমেয়াদে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটাত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে পারলে জনগণ তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভোটাররা গত ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার ব্যবহার করতে পারেননি। সেই কারণেই সুষ্ঠু ও বৈধ নির্বাচন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ড. ইউনূস দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমন্বয় নিশ্চিত করতে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সমন্বিত সম্পর্ক বজায় রাখার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোকে এক অর্থনৈতিক অঞ্চলে আনা সম্ভব এবং ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোও এতে যুক্ত হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা এও উল্লেখ করেন, তিনি নির্বাচিত সরকার আসার পর আর দায়িত্বে থাকবেন না। তাঁর কাজ হলো একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও শালীন নির্বাচন নিশ্চিত করা, যাতে ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করতে পারেন।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থাকে পুনর্গঠনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, যে কোনো বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সক্ষম হবেন এবং সরকার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে হস্তান্তর করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বয়কট করলে রাজনীতি থেকে মাইনাস হবে: সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে। যারা নির্বাচনের বয়কটের চেষ্টা করবে, তারা রাজনীতি থেকে সরাসরি মাইনাস হয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) গুলশানে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কিছু পক্ষ দাবি করছে যে, নির্দিষ্ট সংস্কার, বিচার বা দাবি পূরণ না হলে নির্বাচন হবে না। তবে প্রধান উপদেষ্টা ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্যের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হয়েছে, সেগুলো পরবর্তী নির্বাচিত সংসদে বাস্তবায়নের জন্য সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিএনপিও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করবে।

সালাহউদ্দিন বলেন, এখন যে প্রশ্ন উঠে, সেটা হলো—কারা নির্বাচন বিলম্ব করতে চায় বা অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তাদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকল রাজনৈতিক দল বুঝবে যে, গণতান্ত্রিকভাবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও জানান, বিএনপি তাদের নির্বাচনী কৌশল ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের সঙ্গে জোট থাকবে যারা পূর্বে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল এবং যারা যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। তবে তিনি পরিষ্কার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে কোনো নির্বাচনী জোটের সম্ভাবনা নেই।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, যারা নির্বাচনকে বয়কট করার চেষ্টা করবে—ডাইরেক্টলি বা ইনডাইরেক্টলি—তারা জাতীয় রাজনীতি থেকে মাইনাস হয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে ভোটাধিকার ফিরে পেতে। সেই অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পর যারা জনগণকে ভোটের অধিকার প্রয়োগে নিরুৎসাহিত করবে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি এই বিষয়ে নিশ্চিত।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মির্জাগঞ্জ হামলা মামলায় আলতাফ হোসেন চৌধুরীসহ সবার অব্যাহতি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীসহ সব আসামি অব্যাহতি পেয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, মামলার স্থান, সময় ও ঘটনাক্রম সঠিকভাবে উল্লেখ না থাকা, মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের অনুপস্থিতি, এবং আহতদের ছবি ও বিস্তারিত বর্ণনা না থাকার কারণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ইউছুফ হোসেন এই আদেশ দেন। মামলার অপর ১৩ আসামিও একই রায়ে অব্যাহতি পান।

রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জানান, মামলাটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। তারা দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক চাপের কারণে এ মামলা করা হয়েছিল। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় ন্যায় বিচার পেয়ে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের মধ্য রামপুর গ্রামে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশে সহ-আসামিরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, কুপিয়ে জখম ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ ছিল। ঘটনাটি ঘটার ১১ বছর পর, ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই স্থানীয় কিরণ সরকার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

পরে ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। মামলাটি বিচারের জন্য পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসে। আজ অভিযোগ গঠনের দিন আসামি পক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১/ক ধারায় অব্যাহতির আবেদন করে। বিচারক মামলার নথি পর্যালোচনা করে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় সবাইকে অব্যাহতি দেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জুম মিটিংয়ে রাষ্ট্রবিরোধী পরিকল্পনা, শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তথ্য বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি অনলাইন জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে তারা সংগঠিতভাবে পরিকল্পনা, উসকানি ও সরকার উৎখাতের কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. এনামুল হক দণ্ডবিধির ১২১, ১২১(ক) ও ১২৪(ক) ধারায় চার্জশিট আদালতে উপস্থাপন করেন।

তদন্ত নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সিআইডি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এর আগে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি ভার্চুয়াল মিটিংয়ে শেখ হাসিনা সরাসরি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই মিটিংয়ে তিনি দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের নির্দেশ দেন এবং রাষ্ট্রবিরোধী নানা বক্তব্য দেন।

পরে মিটিংয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি এই চার্জশিট দাখিল করেছে। এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশে বিচার ‘প্রহসন’ দাবি টিউলিপ সিদ্দিকের, অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে বিচার শুরু হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে নিজের মা, ভাই ও বোনকে প্লট পাইয়ে দিয়েছেন তিনি। যদিও টিউলিপের নিজের নামে কোনো প্লট বরাদ্দ নেই, তবে প্রভাব ব্যবহারের মাধ্যমে এ সুবিধা আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিচার শুরু হওয়ার পর, এক প্রতিক্রিয়ায় মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে টিউলিপ সিদ্দিক এ বিচারকে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, এই মামলা ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

টিউলিপ বলেন, “ঢাকায় এখন যে তথাকথিত বিচার চলছে তা একটি প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি বানানো অভিযোগের উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দ্বারা পরিচালিত।”

তিনি অভিযোগ করেন, গত এক বছরে বারবার অভিযোগের ধরণ পরিবর্তন হলেও, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ কখনও তার বা তার আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। “আমি কখনও কোনো আদালতের সমন পাইনি, সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া পাইনি,”— বলেন টিউলিপ।

তিনি আরও বলেন, “যদি এটি একটি প্রকৃত আইনি প্রক্রিয়া হতো, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রমাণ উপস্থাপন করত। বরং তদন্তকারীরা সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে, যেগুলো কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আমার কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।”

৪২ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ এমপি আরও দাবি করেন, তিনি নিজের নির্দোষিতা প্রমাণে প্রস্তুত এবং যে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের জবাব দিতে রাজি আছেন।

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, লন্ডনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক সফরের সময় তার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটি প্রত্যাখ্যান করা হয়।

উল্লেখ্য, দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্বাচল প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং তাদের ছয় স্বজন—যাদের মধ্যে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী রয়েছেন—তাদের নামে ছয়টি প্লট বরাদ্দ করা হয়েছে।

টিউলিপ সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি এবং ব্রিটিশ লেবার পার্টির একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদ ও এমপি।




নির্বাচন বিলম্বে লাভবান হচ্ছে একটি পক্ষ: জাপা চেয়ারম্যান

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের অভিযোগ করেছেন, দেশে এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে একটি পক্ষ নির্বাচন বিলম্বিত করেই লাভবান হচ্ছে। তিনি বলেন, “যারা এখন যা খুশি করতে পারে, তারা তো নির্বাচন চাইবে না। নির্বাচন যত দেরি হবে, তাদের লাভ তত বাড়বে।”

বুধবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা জেলা শাখার মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। যদিও তিনি কোনো দলের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে বক্তব্যের আকারে এনসিপির দিকে ইঙ্গিত করেন।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, “গণতন্ত্রে সবাই কথা বলার সুযোগ পাবে, সেটা না হলে স্বৈরাচার হবে। আওয়ামী লীগ যখন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল, তখন আমি এর বিরোধিতা করেছি। একইভাবে বলছি, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারের অপকর্মের বিরোধিতা করছি, ঝুঁকি নিয়েও জনগণের পক্ষে কথা বলছি। এজন্য জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। আমাদের দলীয় প্রতীক লাঙ্গল অন্য কারও কাছে দিলে আমরা রাজপথে আন্দোলন করব। দেশের মানুষ এখন আতঙ্কে বসবাস করছে, তাদের মুখে হাসি নেই।”

জাপা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, অতীতে শেখ হাসিনা সরকার এবং বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার—দুই পক্ষই আইনের ফাঁদে ফেলে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদ বলা হয়, কিন্তু বর্তমান সরকারও যদি একই কাজ করে, তাহলে তাকে কী বলা হবে?”

তিনি জানান, প্রতীক নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং জাপাকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা—এসব এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপিকে একসময় মজলুম দল হিসেবে মানুষ সমর্থন করেছিল, আর এখন জাতীয় পার্টিও সেই অবস্থায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেন তিনি।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, এতদিন জাপার সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান ছিল না, এতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এখন থেকে দল জনগণের পক্ষে রাজনীতি করবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কোটা আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সব আন্দোলনে জাতীয় পার্টি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। তবে বৈষম্য এখনও সারাদেশে চলছে, আর এর প্রতিবাদে লড়াই অব্যাহত থাকবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. খলিলুর রহমান খলিলসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা। এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন একেএম নুরুজ্জামান জামান, আবুল খায়ের, মাহমুদ আলম, মোড়ল জিয়াউর রহমান, শেখ সরোয়ার, সমরেশ মন্ডল মানিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম