আইজিপি মামুনের জবানবন্দির আদ্যপান্ত: ক্ষমতা পিপাসু হিংস্র নারীর প্রতিচ্ছবি শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিবেদন: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার হিংস্রতা এবং দুর্নীতির চিত্র এখন কারো কাছেই আর অজানা নয়। এমনকি দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, আল জাজিরাসহ বিভিন্ন বিশ্ব মিডিয়াতেও ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে।

এই স্বৈরশাসক তার মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে  এখন বিচারের মুখোমুখি। আদালতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার অপ্রকাশিত লোমহর্ষক হিংস্রতা আর শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টার বিশদ বর্ণনা উপস্থাপিত হয়েছে রাজস্বাক্ষী হিসেবে দেয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনের লিখিত জবানবন্দিতে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, এই জবানবন্দির সাক্ষ্যগত মূল্য অনেক। মামলা প্রমাণে যথেষ্ট সহায়ক হবে।

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন দমাতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই বল প্রয়োগ করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে হাজার হাজার মানুষ। এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হাসিনা সরকারের পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জবানবন্দিতে জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে হেলিকপ্টার থেকে নজরদারি, গুলি করা ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যেসব নির্দেশনা এসেছিলো সে সম্পর্কে বিস্তারিত বয়ান দিয়েছেন তিনি। এমনকি হাজার হাজার ছাত্র-জনতা হতাহতের পরেও পুলিশ দিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। যা উঠে এসেছে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে।

চাকরিতে কোটা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার রায়ের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। শান্তিপূর্ন আন্দোলন দমাতে ঢাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগ। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে এ হামলা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে।

১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় আবু সাঈদ। আবু সাঈদ নিহতের পর আন্দোলন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ধারণ করে। এই আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। সরকার নিজের গদি রক্ষায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করে। কিভাবে এই শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিলো এবং কাদের নির্দেশে হয়েছিলো তা উঠে এসেছে আইজিপি মামুনের জবানবন্দিতে।

জবানিতে মামুন বলেছেন, আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে এক পর্যায়ে হেলিকপ্টার এর মাধ্যমে আন্দোলনকে নজরদারি, গুলি করা ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন পরিকল্পনা করা হয়। মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে সরাসরি লেথাল উইপেন -মরণাস্ত্র ও আন্দোলন প্রবন এলাকাগুলোতে এলাকা ভাগ করে ব্লক রেইড পরিচালনার সিদ্ধান্ত সরাসরি রাজনৈতিকভাবে নেয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিজে আইজিপিকে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আন্দোলন দমন করার জন্য লেথাল উইপেন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদ লেথাল উইপেন ব্যবহারে অতি উৎসাহি ছিলেন।

ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা এসেছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। যা বাস্তবায়িত হয়েছে আইজিপির মাধ্যমে। চৌধুরী মামুনের জবানবন্দি পড়লে গা শিউরে উঠে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিঘ্নে গুলি চালানোয় বাসা-বাড়িতে থাকা শিশুরাও নিহত হন।

চৌধুরী মামুন তার জবানবন্দিতে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোঃ আলী আরাফাত, জাসদের সাধারন সম্পাদক হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন মারনাস্ত্র ব্যবহার করে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে নির্মূল করার জন্য শেখ হাসিনাকে পরামর্শ এবং উসকানি দিতেন।

দেশব্যাপী এত অধিক সংখ্যায় মানুষ মারা যাওয়ার পরেও তারা তাদের উসকানি বন্ধ করেননি কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে থামতে বলেননি। সরকারকে বিপথে পরিচালিত করে ও আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করার জন্য আওয়ামী লীগপন্থী বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, পুলিশ অফিসার সকলে আগ্রহী ছিলেন।

অ্যাডভোকেট এম. মাসুদ রানা বলেন, জুলাই আন্দোলনে যেসব নৃশংসতা দেখেছি ছাত্র-জনতার উপর, এই জবানবন্দির সঙ্গে তা মিলে যায়।

আইনজ্ঞরা বলছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনের  এই জবানবন্দি মামলা প্রমাণে সহায়ক হবে।

ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান তুষার বলেন, এই জবানবন্দির ফলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগীদের অপরাধ প্রমাণে সহায়ক হবে।

জুলাই গণ আন্দোলনে পতন হয় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের। ৫ আগস্টের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হন চৌধুরী মামুন।  তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। কিন্তু ছাত্র- জনতার হার না মানা আন্দোলনে পতন হয় গত দেড় দশক ধরে দেশে ফ্যাসিজম আর উন্নয়নের মিথ্যে বয়ানের আড়ালে লুটপাটতন্ত্র কায়েমকারী স্বৈরাচার হাসিনার সরকারের।




স্বৈরাচারের পুনর্জাগরণ ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও স্থায়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেই স্বৈরাচারকে কিছুদিন আগে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় দিয়েছে, তার পুনর্জাগরণ প্রতিহত করতে জনগণের পাশে থেকে বিএনপিও সমানভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকায় জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি সাহিত্য, কবিতা ও সংগীতের শক্তি এবং গণআন্দোলনে তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের আদর্শিক অবস্থান এক ও অভিন্ন। এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষায় আপনাদের দৃঢ় অবস্থানের সঙ্গে আমাদের কোনো পার্থক্য নেই।” তিনি মনে করিয়ে দেন, কবিতা ও সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গণআন্দোলনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রেরণার উৎস হয়ে এসেছে।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে ৯০-এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কবিতা ও গান আন্দোলনকারীদের অনুপ্রাণিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়েও সেই প্রেরণার প্রকাশ ঘটেছে এবং তার পূর্ণতা পেয়েছে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, কবি ও সাহিত্যিকরা যুগে যুগে সমাজ ও জাতির পরিচয়কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। শেক্সপিয়ার থেকে শুরু করে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে উঠেছেন জাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একইভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দেশাত্মবোধক গান ছিল মানুষের অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশগঠনের সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি বিএনপির দলীয় সংগীতে পরিণত হয়েছিল। জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসে অনুপ্রাণিত প্রতিটি নেতাকর্মী আজও এই বিশ্বাসে অটল যে, প্রকৃত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী মানুষের জীবনের প্রথম ও শেষ পরিচয় হওয়া উচিত—সে একজন বাংলাদেশি।

তারেক রহমানের মতে, জনগণের ঐক্য, কবিতা, সাহিত্য ও সংগীতের সম্মিলিত শক্তি আবারও বাংলাদেশকে স্বৈরশাসনের হাত থেকে রক্ষা করবে। তিনি নতুন প্রজন্মকে সেই আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের পক্ষে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। রবিবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর বারিধারায় রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারোয়ার চৌধুরী নিভা এবং যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

এ সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম সবসময় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে অধিক সংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠকে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণের আন্তরিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করছেন শেখ হাসিনা” — জয়নুল আবদিন ফারুক

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক অভিযোগ করেছেন, ভারতের মাটিতে বসে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন শেখ হাসিনা।

শনিবার (১৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফারুক বলেন, “এরশাদের চেয়েও বেশি স্বৈরাচারী আচরণ করে শেখ হাসিনা বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছেন এবং জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করতে চেয়েছেন। দেশ এখনো ষড়যন্ত্রের মুখে। এই ষড়যন্ত্রের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্বার্থে নয়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি গত ১৬ বছর ধরে জেল-জুলুম, গুমের শিকার হয়ে আন্দোলন চালিয়ে এসেছে।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারী। এতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বাংলাদেশ সংবাদপত্র এডিটরস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজুমদার, সংগীতশিল্পী মনির খানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।




লন্ডন নয়, জনগণই কেবলা : এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, যারা লন্ডনকে কেবলা বানিয়ে সেজদা দিয়েছেন বা দিচ্ছেন, তাদের কেবলা পরিবর্তন করে জনগণের দিকে সেজদা দিতে হবে।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামটরের রূপায়ন টাওয়ারে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র নেই, থাকলে ১/১১ ঘটত না। গণহত্যায় শহীদ ও আহতদের নিরাপত্তার জন্য গণপরিষদ নির্বাচন অপরিহার্য। দেশে নির্বাচন হলে তা অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচন হতে হবে।”

তিনি জানান, মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকলেও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এনসিপি সে সুযোগ গ্রহণ করেনি। প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে জনগণ, কোনো রাজনৈতিক দল নয়।”

মিডিয়ায় আসন ভাগাভাগি নিয়ে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করে তিনি বলেন, এনসিপি এ নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি।

বর্তমান সংকট সমাধানে গণপরিষদ নির্বাচনের বিকল্প নেই জানিয়ে নাসীরুদ্দীন বলেন, সেনাবাহিনীকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগও নেই।




গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি, প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা এনসিপি নেতার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে গিয়ে সরকারকে বেচে দিয়েছেন।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাসনাত বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই যে, একটি অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বিদেশে গিয়ে একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ওইদিনই তিনি লন্ডনে সরকারকে বেচে দিয়ে এসেছেন।”

মিডিয়া ও প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মিডিয়া এখন রাজনৈতিক দলের কাছে বিক্রি। সচিবালয়ে বিকেল ৫টায় অফিস শেষ হওয়ার আগেই কর্মকর্তারা গুলশান ও পল্টনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে লাইনে দাঁড়ান। আগে যেমন হতো ধানমন্ডি ৩২ ও গুলিস্তানের আওয়ামী লীগের অফিসে।”

দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগের জবাবে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যদি প্রমাণ থাকে যে আমরা কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি, তাহলে সেই ব্যক্তি সাক্ষ্য দিক। প্রমাণ পাওয়া গেলে আমি ও আমার সহযোদ্ধারা রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেব।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, “আমাদের কোনও সমস্যা নেই নির্বাচন নভেম্বর, ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে হলে। তবে ‘রুলস অব গেম’ পরিবর্তন করতে হবে। নির্বাচন অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচন হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, পুরোনো সংবিধান ফ্যাসিবাদের পাঠ্যবই, তাই নতুন সংবিধান প্রণয়ন জরুরি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নতুন রাজনৈতিক দলকে থামানোর চেষ্টা ব্যর্থ হবে, কারণ “আমাদের আসন দিয়ে কেউ কিনতে পারবে না, আমরা বিক্রি হতে আসিনি।”

এনসিপির এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৫ আগস্টের পর যদি কেউ মনে করে আগের রাষ্ট্রব্যবস্থা বজায় রেখেই নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করা সম্ভব, তবে তারা আবারও গণপ্রতিরোধের মুখোমুখি হবে।”




“জনগণ ভোটাধিকার রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিএনপি” : সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে অযথা শঙ্কা প্রকাশকারীরা গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের পক্ষের শক্তি নয়।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে যুবদল আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, “আজ যারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে কিংবা নির্বাচন নিয়ে সংশয় ছড়াচ্ছে, তারা মূলত নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বন্দিত্ব থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি “আপসহীন দেশনেত্রী” হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। ১৯৯৬ সালে জনমতের চাপে তার নেতৃত্বেই সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমরা সেই গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি, যার জন্য আমাদের সন্তানরা জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। জাতীয় ঐক্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে, তাহলেই একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে।”

সালাহউদ্দিন সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।




খুলনা-বরিশালে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ইতিমধ্যে রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর এবার জানানো হলো খুলনা ও বরিশাল বিভাগের তালিকা।

বিশ্বস্ত সূত্র, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতামত এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের জরিপে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগজুড়ে বেশ কিছু আলোচিত ও অভিজ্ঞ নেতাকে গুডবুকে রেখেছে দলটি।

বরিশাল বিভাগে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

বরগুনা:
বরগুনা-১ আসনে রয়েছেন বিএনপির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উজ জামান মামুন, মতিয়ার রহমান তালুকদার, নজরুল ইসলাম মোল্লা, মাহবুব আলম ফারুক মোল্লা ও ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ আমান।
বরগুনা-২ আসনে ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি ও মনিরুজ্জামান মনির এগিয়ে আছেন।

পটুয়াখালী:
পটুয়াখালী-১ এ রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন, জেলা সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, সাবেক মেয়র মোস্তাক আহমেদ, ইমাম জাফর সিকদার (ভিপি) ও ছাত্রদল নেতা জসিম শিকদার রানা।
পটুয়াখালী-২ এ সম্ভাব্য প্রার্থী মোহাম্মদ মুনির হোসেন, সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার ও এ কে এম মিজানুর রহমান লিটু।
পটুয়াখালী-৩ এ রয়েছেন হাসান মামুন, গোলাম মাওলা রনি, শিপলু খান ও আলতাফ খান। এছাড়া জোটবদ্ধ হলে নুরুল হক নুরেরও সুযোগ থাকতে পারে।
পটুয়াখালী-৪ এ রয়েছেন এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও মনিরুজ্জামান মনির।

ভোলা:
ভোলা-১ এ রয়েছেন হায়দার আলী লেলিন, গোলাম নবী আলমগীর, হারুনুর রশিদ ট্রুম্যান, শফিউর রহমান কিরন ও রাইসুল ইসলাম। তবে জোট হলে আসনটি বিজেপিকে ছাড়তে পারে বিএনপি।
ভোলা-২ এ আছেন হাফিজ ইব্রাহিম, শহিদুল্লাহ তালুকদার, ইব্রাহিম খলিল, রফিকুল ইসলাম মমিন ও জাহাঙ্গীর এম আলম।
ভোলা-৩ এ সম্ভাব্য প্রার্থী স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
ভোলা-৪ এ রয়েছেন যুবদল সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ও সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম।

বরিশাল:
বরিশাল-১ এ রয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন, আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান, গাজী কামরুল ইসলাম স্বজল ও ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান।
বরিশাল-২ এ রয়েছেন কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, সরিফুদ্দিন সান্টু, সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ইলিয়াস খান, দুলাল হোসেন, আকতার হোসেন সেন্টু ও কাওসার মজুমদার।
বরিশাল-৩ এ আছেন বেগম সেলিমা রহমান ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
বরিশাল-৪ এ রয়েছেন মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ, রাজিব আহসান ও আব্দুল খালেক হাওলাদার।
বরিশাল-৫ এ রয়েছেন মজিবুর রহমান সারোয়ার, এবাদুল হক চান, আবু নাসের রহমত উল্লাহ, মনিরুজ্জামান ফারুক ও জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া।
বরিশাল-৬ এ রয়েছেন আবুল হোসেন খান, ডা. শহীদ হাসান, হারুনুর রশিদ সিকদার, নজরুল ইসলাম রাজন, কামরুজ্জামান নান্নু ও গোলাম মাওলা শাহীন।

ঝালকাঠি:
ঝালকাঠি-১ এ রয়েছেন রফিকুল ইসলাম জামাল, ব্যারিস্টার মঈন ফিরিাজী, সেলিম রেজা, রফিক হাওলাদার ও গোলাম আজম সৈকত।
ঝালকাঠি-২ এ আছেন মাহবুবুল হক নান্নু, ইশরাত জাহান ভুট্টো, মোস্তফা জামান মন্টু, জিবা আমিন খান ও মনিরুল ইসলাম নুপুর।

পিরোজপুর:
পিরোজপুর-১ এ রয়েছেন এলিজা জামান, আলমগীর হোসেন, গাজী ওয়াহিদুজ্জামান, নজরুল ইসলাম খান, আনোয়ারুল ইসলাম পলাশ ও ফখরুল ইসলাম।
পিরোজপুর-২ এ আছেন ডা. রফিকুল কবির লাবু, ফখরুল আলম, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন, মাহমুদ হাসান ও এসএম আহসান কবির।
পিরোজপুর-৩ এ রয়েছেন রুহুল আমিন দুলাল, শামীম মিয়া মৃধা, কে এম হুমায়ুন কবির ও এআর মামুন খান।

খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের নামও তালিকাভুক্ত হয়েছে, আর আগামীতে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিভাগের তালিকা প্রকাশ করবে বিএনপি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক মানেন না এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক নন। তিনি এ মন্তব্য করেন শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে।

‘বাংলাদেশের মালিক এ দেশের জনগণ’ শিরোনামের ওই পোস্টে নাহিদ লেখেন, “জাতির পিতা” উপাধি কোনো ঐতিহাসিক সত্য নয়, বরং আওয়ামী লীগের তৈরি একটি ফ্যাসিবাদী হাতিয়ার। স্বাধীনতা অর্জনে শেখ মুজিবের ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি থাকলেও তার শাসনামলে সংঘটিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা এবং ১৯৭২ সালের গণবিরোধী সংবিধান চাপিয়ে দেওয়াকে তিনি জাতীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেন।

নাহিদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো ‘মুজিব পূজা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ পূজা’, যা জনগণকে বিভক্ত করে শাসন ও লুটপাটের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সব নাগরিকের সমান অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র, কোনো ব্যক্তি বা পরিবার এর মালিক নয়।”

তার বক্তব্যে তিনি ‘মুজিববাদ’কে একটি ফ্যাসিবাদী মতবাদ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, এর মাধ্যমে গুম, খুন, ধর্ষণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সম্পদ পাচার, ইসলামভীতি ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়েছে। তার মতে, গত ১৬ বছর মুজিবকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে রাষ্ট্রে দমনমূলক শাসন চালানো হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের সংগ্রাম কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি ফ্যাসিবাদী মতবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের প্রজাতন্ত্র।”




“সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষকে রুখতে পারবে না কেউ” — জয়নুল আবদিন ফারুক

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আল্লাহ ছাড়া কেউ ধানের শীষকে রুখতে পারবে না।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ কর্মজীবী দল আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফারুক বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচনের ট্রেন চলছে, তাতে জনগণের সমর্থন তখনই পাবেন যখন বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করবেন, গ্রামে যারা অত্যাচার করে তাদের রুখবেন এবং পদলোভ না করে দলকে ভালোবাসবেন।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার জন্য যারা রক্ত দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে দেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে। এই দেশ এখন জনগণের, আর হাসিনার বাংলাদেশ নয়। এখন ভোট আমরাই দেব, যে ভোটের জন্য আমরা আত্মাহুতি দিয়েছি।”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফারুক বলেন, “এই দেশে পিআর, ইভিএম কোনো কিছুই টেকেনি। ক্ষমতায় থাকাকালে লুটপাট হয়েছে, প্রতিবেশী দেশকে সব দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ভালোবেসে সেখানেই থাকা হয়, কিন্তু উসকানি দেওয়া চলবে না। ষড়যন্ত্র রুখতে দেশের মানুষ প্রস্তুত।”

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহসহ দলের অন্যান্য নেতারা।