গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি, প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা এনসিপি নেতার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে গিয়ে সরকারকে বেচে দিয়েছেন।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাসনাত বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই যে, একটি অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বিদেশে গিয়ে একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ওইদিনই তিনি লন্ডনে সরকারকে বেচে দিয়ে এসেছেন।”

মিডিয়া ও প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মিডিয়া এখন রাজনৈতিক দলের কাছে বিক্রি। সচিবালয়ে বিকেল ৫টায় অফিস শেষ হওয়ার আগেই কর্মকর্তারা গুলশান ও পল্টনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে লাইনে দাঁড়ান। আগে যেমন হতো ধানমন্ডি ৩২ ও গুলিস্তানের আওয়ামী লীগের অফিসে।”

দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগের জবাবে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যদি প্রমাণ থাকে যে আমরা কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি, তাহলে সেই ব্যক্তি সাক্ষ্য দিক। প্রমাণ পাওয়া গেলে আমি ও আমার সহযোদ্ধারা রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেব।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, “আমাদের কোনও সমস্যা নেই নির্বাচন নভেম্বর, ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে হলে। তবে ‘রুলস অব গেম’ পরিবর্তন করতে হবে। নির্বাচন অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচন হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, পুরোনো সংবিধান ফ্যাসিবাদের পাঠ্যবই, তাই নতুন সংবিধান প্রণয়ন জরুরি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নতুন রাজনৈতিক দলকে থামানোর চেষ্টা ব্যর্থ হবে, কারণ “আমাদের আসন দিয়ে কেউ কিনতে পারবে না, আমরা বিক্রি হতে আসিনি।”

এনসিপির এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৫ আগস্টের পর যদি কেউ মনে করে আগের রাষ্ট্রব্যবস্থা বজায় রেখেই নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করা সম্ভব, তবে তারা আবারও গণপ্রতিরোধের মুখোমুখি হবে।”




“জনগণ ভোটাধিকার রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিএনপি” : সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে অযথা শঙ্কা প্রকাশকারীরা গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের পক্ষের শক্তি নয়।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে যুবদল আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, “আজ যারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে কিংবা নির্বাচন নিয়ে সংশয় ছড়াচ্ছে, তারা মূলত নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বন্দিত্ব থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি “আপসহীন দেশনেত্রী” হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। ১৯৯৬ সালে জনমতের চাপে তার নেতৃত্বেই সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমরা সেই গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি, যার জন্য আমাদের সন্তানরা জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। জাতীয় ঐক্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে, তাহলেই একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে।”

সালাহউদ্দিন সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।




খুলনা-বরিশালে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ইতিমধ্যে রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর এবার জানানো হলো খুলনা ও বরিশাল বিভাগের তালিকা।

বিশ্বস্ত সূত্র, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতামত এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের জরিপে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগজুড়ে বেশ কিছু আলোচিত ও অভিজ্ঞ নেতাকে গুডবুকে রেখেছে দলটি।

বরিশাল বিভাগে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

বরগুনা:
বরগুনা-১ আসনে রয়েছেন বিএনপির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উজ জামান মামুন, মতিয়ার রহমান তালুকদার, নজরুল ইসলাম মোল্লা, মাহবুব আলম ফারুক মোল্লা ও ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ আমান।
বরগুনা-২ আসনে ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি ও মনিরুজ্জামান মনির এগিয়ে আছেন।

পটুয়াখালী:
পটুয়াখালী-১ এ রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন, জেলা সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, সাবেক মেয়র মোস্তাক আহমেদ, ইমাম জাফর সিকদার (ভিপি) ও ছাত্রদল নেতা জসিম শিকদার রানা।
পটুয়াখালী-২ এ সম্ভাব্য প্রার্থী মোহাম্মদ মুনির হোসেন, সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার ও এ কে এম মিজানুর রহমান লিটু।
পটুয়াখালী-৩ এ রয়েছেন হাসান মামুন, গোলাম মাওলা রনি, শিপলু খান ও আলতাফ খান। এছাড়া জোটবদ্ধ হলে নুরুল হক নুরেরও সুযোগ থাকতে পারে।
পটুয়াখালী-৪ এ রয়েছেন এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও মনিরুজ্জামান মনির।

ভোলা:
ভোলা-১ এ রয়েছেন হায়দার আলী লেলিন, গোলাম নবী আলমগীর, হারুনুর রশিদ ট্রুম্যান, শফিউর রহমান কিরন ও রাইসুল ইসলাম। তবে জোট হলে আসনটি বিজেপিকে ছাড়তে পারে বিএনপি।
ভোলা-২ এ আছেন হাফিজ ইব্রাহিম, শহিদুল্লাহ তালুকদার, ইব্রাহিম খলিল, রফিকুল ইসলাম মমিন ও জাহাঙ্গীর এম আলম।
ভোলা-৩ এ সম্ভাব্য প্রার্থী স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
ভোলা-৪ এ রয়েছেন যুবদল সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ও সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম।

বরিশাল:
বরিশাল-১ এ রয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন, আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান, গাজী কামরুল ইসলাম স্বজল ও ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান।
বরিশাল-২ এ রয়েছেন কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, সরিফুদ্দিন সান্টু, সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ইলিয়াস খান, দুলাল হোসেন, আকতার হোসেন সেন্টু ও কাওসার মজুমদার।
বরিশাল-৩ এ আছেন বেগম সেলিমা রহমান ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
বরিশাল-৪ এ রয়েছেন মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ, রাজিব আহসান ও আব্দুল খালেক হাওলাদার।
বরিশাল-৫ এ রয়েছেন মজিবুর রহমান সারোয়ার, এবাদুল হক চান, আবু নাসের রহমত উল্লাহ, মনিরুজ্জামান ফারুক ও জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া।
বরিশাল-৬ এ রয়েছেন আবুল হোসেন খান, ডা. শহীদ হাসান, হারুনুর রশিদ সিকদার, নজরুল ইসলাম রাজন, কামরুজ্জামান নান্নু ও গোলাম মাওলা শাহীন।

ঝালকাঠি:
ঝালকাঠি-১ এ রয়েছেন রফিকুল ইসলাম জামাল, ব্যারিস্টার মঈন ফিরিাজী, সেলিম রেজা, রফিক হাওলাদার ও গোলাম আজম সৈকত।
ঝালকাঠি-২ এ আছেন মাহবুবুল হক নান্নু, ইশরাত জাহান ভুট্টো, মোস্তফা জামান মন্টু, জিবা আমিন খান ও মনিরুল ইসলাম নুপুর।

পিরোজপুর:
পিরোজপুর-১ এ রয়েছেন এলিজা জামান, আলমগীর হোসেন, গাজী ওয়াহিদুজ্জামান, নজরুল ইসলাম খান, আনোয়ারুল ইসলাম পলাশ ও ফখরুল ইসলাম।
পিরোজপুর-২ এ আছেন ডা. রফিকুল কবির লাবু, ফখরুল আলম, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন, মাহমুদ হাসান ও এসএম আহসান কবির।
পিরোজপুর-৩ এ রয়েছেন রুহুল আমিন দুলাল, শামীম মিয়া মৃধা, কে এম হুমায়ুন কবির ও এআর মামুন খান।

খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের নামও তালিকাভুক্ত হয়েছে, আর আগামীতে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিভাগের তালিকা প্রকাশ করবে বিএনপি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক মানেন না এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক নন। তিনি এ মন্তব্য করেন শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে।

‘বাংলাদেশের মালিক এ দেশের জনগণ’ শিরোনামের ওই পোস্টে নাহিদ লেখেন, “জাতির পিতা” উপাধি কোনো ঐতিহাসিক সত্য নয়, বরং আওয়ামী লীগের তৈরি একটি ফ্যাসিবাদী হাতিয়ার। স্বাধীনতা অর্জনে শেখ মুজিবের ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি থাকলেও তার শাসনামলে সংঘটিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা এবং ১৯৭২ সালের গণবিরোধী সংবিধান চাপিয়ে দেওয়াকে তিনি জাতীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেন।

নাহিদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো ‘মুজিব পূজা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ পূজা’, যা জনগণকে বিভক্ত করে শাসন ও লুটপাটের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সব নাগরিকের সমান অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র, কোনো ব্যক্তি বা পরিবার এর মালিক নয়।”

তার বক্তব্যে তিনি ‘মুজিববাদ’কে একটি ফ্যাসিবাদী মতবাদ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, এর মাধ্যমে গুম, খুন, ধর্ষণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সম্পদ পাচার, ইসলামভীতি ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়েছে। তার মতে, গত ১৬ বছর মুজিবকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে রাষ্ট্রে দমনমূলক শাসন চালানো হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের সংগ্রাম কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি ফ্যাসিবাদী মতবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের প্রজাতন্ত্র।”




“সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষকে রুখতে পারবে না কেউ” — জয়নুল আবদিন ফারুক

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আল্লাহ ছাড়া কেউ ধানের শীষকে রুখতে পারবে না।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ কর্মজীবী দল আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফারুক বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচনের ট্রেন চলছে, তাতে জনগণের সমর্থন তখনই পাবেন যখন বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করবেন, গ্রামে যারা অত্যাচার করে তাদের রুখবেন এবং পদলোভ না করে দলকে ভালোবাসবেন।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার জন্য যারা রক্ত দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে দেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে। এই দেশ এখন জনগণের, আর হাসিনার বাংলাদেশ নয়। এখন ভোট আমরাই দেব, যে ভোটের জন্য আমরা আত্মাহুতি দিয়েছি।”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফারুক বলেন, “এই দেশে পিআর, ইভিএম কোনো কিছুই টেকেনি। ক্ষমতায় থাকাকালে লুটপাট হয়েছে, প্রতিবেশী দেশকে সব দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ভালোবেসে সেখানেই থাকা হয়, কিন্তু উসকানি দেওয়া চলবে না। ষড়যন্ত্র রুখতে দেশের মানুষ প্রস্তুত।”

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহসহ দলের অন্যান্য নেতারা।




“খালেদা জিয়াকে ইঁদুর-পোকামাকড়ের কক্ষে রাখা হয়েছিল” — মির্জা আব্বাসের অভিযোগ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে চরম নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায়ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা আব্বাস বলেন, “দেশনেত্রীকে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের এমন এক কক্ষে রাখা হয়েছিল যেখানে ইঁদুর ও পোকামাকড় দৌড়াত। কয়েকজন জেলার ও ডেপুটি জেলার তাকে ছাদের ওপরের একটি কক্ষে রেখেছিল। এই নির্যাতনের জন্য যারা দায়ী, তাদের বিচার হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব এবং নেতা-কর্মীদের প্রতি তার ভালোবাসা তুলনাহীন।

২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে রাখা হয় খালেদা জিয়াকে। ওই সময়ে নানা রোগে আক্রান্ত হলেও বিশেষায়িত চিকিৎসার অনুমতি দেননি তৎকালীন সরকার। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয় তাকে, গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় থেকে কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায়।

দিনাজপুরে ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া ১৯৮১ সালে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর রাজনীতিতে আসেন এবং তিন দফা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নয়াপল্টনের মিলাদ মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




শুধু ভারত নয়, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত থেকেও সতর্ক থাকতে হবে : ইশতিয়াক উলফাত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেছেন, ভারত, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী দেশের মূল শত্রু। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই তিন পক্ষ যে কোনো সুযোগে দেশের ক্ষতি করতে পারে, তাই জনগণকে তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইশতিয়াক উলফাত বলেন, “জামায়াতে ইসলামী স্বাধীন দেশ চায়নি। তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় মা-বোনদের পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। এদের কর্মকাণ্ড আমরা ভুলব না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের প্রায় অর্ধশত জেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমিটি টাকার বিনিময়ে গঠিত হয়েছে। এসব কমিটিতে স্থান পেয়েছে আওয়ামী লীগের সদস্য ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়া বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অ্যাডহক কমিটি গঠনের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের মতামত নেওয়া হয়নি, যা দেশজুড়ে অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

উলফাতের মতে, এই ধরনের কমিটি দেশব্যাপী অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও দেশের স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলছে।




খালেদা জিয়ার জন্মদিনে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শ্রদ্ধা, কেক কাটার আয়োজন নেই

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন আজ (১৫ আগস্ট)। ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দলীয়ভাবে এবারও কেক কাটার কোনো আয়োজন নেই।

দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপির কার্যালয় ও বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সকাল ১১টায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন স্থায়ী মুক্তি পাওয়ার পর এটি খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় জন্মদিন, যা তিনি মুক্ত পরিবেশে পালন করছেন। তবে বিএনপি জানিয়েছে, জুলাই-আগস্টের শহীদ ও আহতদের স্মরণে কেক কাটাসহ কোনো আড়ম্বরপূর্ণ কর্মসূচি থাকবে না। দলটি ২০১৬ সাল থেকে জন্মদিনে কেক কাটার পরিবর্তে দোয়া মাহফিল আয়োজন করছে।

লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া। তিনি গুলশানের ফিরোজা বাসায় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চার মাস লন্ডনে থেকে চলতি বছরের ৬ মে দেশে ফেরেন। সর্বশেষ ২১ নভেম্বর সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়।

১৯৮১ সালে স্বামী ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন হন এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী, দু’বার বিরোধীদলীয় নেতা এবং সার্কের প্রথম নারী চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

দমন-পীড়ন ও কারাজীবনের দীর্ঘ সময় পার করা খালেদা জিয়া ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এবং ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হন। ২০২০ সালের মার্চে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান, তবে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পাননি।

ব্যক্তিজীবনে ১৯৬০ সালে সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা জিয়া। তাদের দুই সন্তান—তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো; কোকো ২০১৫ সালে মারা যান।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিন গণতন্ত্রের জন্য তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “স্বৈরাচার মুক্ত পরিবেশে এ বছর ম্যাডামের জন্মদিন পালিত হচ্ছে, আমরা প্রার্থনা করি তিনি আবার দেশের নেতৃত্ব দিতে পারেন।”




ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্নের আহ্বান শামসুজ্জামান দুদুর

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ফেব্রুয়ারি মাস কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অপরাজেয় বাংলাদেশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক প্রতীকী যুব সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়।

দুদু বলেন, “যথাসময়ে, সঠিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়া জরুরি। ফ্যাসিবাদ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে এর দোসররা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ বার্তা দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, স্বৈরতন্ত্রের পতনের অর্থ এই নয় যে সবকিছু অর্জিত হয়েছে। প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জরুরি। সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে ঐতিহাসিক নির্বাচন করার কথা বলেছেন, তাই বিএনপি সেই সময়সূচি মেনে নিয়েছে। তবুও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন ফেব্রুয়ারি মাস অতিক্রম না করে।

সাবেক এই সংসদ সদস্য জানান, নির্বাচন সংস্কার চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যেই হতে হবে এবং যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, সে সরকার শেখ হাসিনার বিচার ও পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ব্যবস্থা করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা গত তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করেছিলেন এবং স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কেউ যদি গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করে, তবে তারা ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন দুদু।

সমাবেশে বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, রহিমা শিকদার, কর্মজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, সহ-সভাপতি এম এ আজাদ চয়নসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




ড. ইউনূস নিশ্চিত: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের হাতে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি তিনি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন, পাশাপাশি পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সমন্বিত কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চান।

বুধবার (১৩ আগস্ট) সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিএনএ টিভির এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস নির্বাচনের প্রস্তুতি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক লোকি সু।

ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের চারটি মূল লক্ষ্য ছিল—সংস্কার, বিচার, নির্বাচন এবং দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন। তিনি বলেন, এ সব লক্ষ্য সম্পূর্ণরূপে অর্জন করা এখনো সমাপ্ত হয়নি, তবে এগুলোর দিকে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছে সরকার। তিনি যুক্তি দেখান, আগে নির্বাচন হলে সমস্যাগুলো সমাধান না করে শুধুমাত্র নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় পাঠানো হত, যা দীর্ঘমেয়াদে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটাত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে পারলে জনগণ তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভোটাররা গত ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার ব্যবহার করতে পারেননি। সেই কারণেই সুষ্ঠু ও বৈধ নির্বাচন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ড. ইউনূস দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমন্বয় নিশ্চিত করতে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সমন্বিত সম্পর্ক বজায় রাখার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোকে এক অর্থনৈতিক অঞ্চলে আনা সম্ভব এবং ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোও এতে যুক্ত হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা এও উল্লেখ করেন, তিনি নির্বাচিত সরকার আসার পর আর দায়িত্বে থাকবেন না। তাঁর কাজ হলো একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও শালীন নির্বাচন নিশ্চিত করা, যাতে ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করতে পারেন।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থাকে পুনর্গঠনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, যে কোনো বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সক্ষম হবেন এবং সরকার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে হস্তান্তর করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম