মিডিয়াকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ সারজিস আলমের

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, মিডিয়াকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা বোকামি।

সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সারজিস আলম লিখেছেন, “মিডিয়া কিছু বলছে মানেই সেটা সত্যি—এটা বিশ্বাস করা বোকামি।”

তিনি আরও দাবি করেন, মিডিয়া অনেক সময় সত্যের চেয়ে ব্যক্তি, গোষ্ঠী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দল, মতাদর্শ বা নির্দিষ্ট এজেন্ডার স্বার্থেই কাজ করে থাকে।

ভবিষ্যতের বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া যেন প্রকৃত অর্থে মিডিয়ার ভূমিকা পালন করে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন সারজিস আলম।




দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি থেকে মাহিন সরকার বহিষ্কার

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকারকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে এনসিপি যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাতের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে মাহিন সরকারকে স্বপদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। বহিষ্কার আদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এনসিপি জানিয়েছে, গুরুতর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।




পিরোজপুরের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ঝালকাঠিতে গ্রেফতার

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আজমল হোসেন সরদারকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ আগস্ট) ভোরে ঝালকাঠি শহরের স্টেশন রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতার আজমল হোসেন সরদার পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার গোসনতারা গ্রামের মৃত ফারুক সরদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কাউখালী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। একইদিন আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান বলেন, “স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আজমল হোসেন সরদারকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচনের প্রস্তুতি জানতে সিইসির সঙ্গে আইআরআই প্রতিনিধিদের বৈঠক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)।

সোমবার (১৮ আগস্ট) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিরা সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইআরআই-এর ডিরেক্টর স্টিফেন সীমা, ডেপুটি ডিরেক্টর ম্যাথ্যু কার্টার এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার অমিতাভ ঘোষ।

বৈঠক শেষে স্টিফেন সীমা সাংবাদিকদের বলেন, “৯০ সাল থেকে আইআরআই বাংলাদেশে কাজ করছে। আজকের আলোচনায় মূলত নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি ও কীভাবে আমরা ভূমিকা রাখতে পারি, তা নিয়ে কথা হয়েছে। ইসি তাদের প্রস্তুতির বিষয়ও আমাদের জানিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিইনি এবং সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করি না। তবে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতন্ত্র ও সুশাসন বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকি।”

স্টিফেন সীমা জানান, আইআরআই ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আন্তঃসংলাপ, নীতি নির্ধারণী সংলাপসহ নানা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং কীভাবে দলগুলোকে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





“জুলাই সনদই নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ”—গোলাম পরওয়ার

আগামী নির্বাচন যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া অনুষ্ঠিত হয় তবে সেটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এটি ঘটলে দেশের জন্য এক মহাদুর্যোগ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

রবিবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র ও সনদের আইনগত স্বীকৃতি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও আইন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম পরওয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি না দিয়ে যদি বিদ্যমান কাঠামোয় নির্বাচন হয়, তবে আরেকটি ফ্যাসিবাদ জন্ম নেবে। দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে সর্বদলীয় গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা জরুরি, যেখানে এই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করা হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব নয়। জরিপ অনুযায়ী দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ এই পদ্ধতিকে সমর্থন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।




আইজিপি মামুনের জবানবন্দির আদ্যপান্ত: ক্ষমতা পিপাসু হিংস্র নারীর প্রতিচ্ছবি শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিবেদন: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার হিংস্রতা এবং দুর্নীতির চিত্র এখন কারো কাছেই আর অজানা নয়। এমনকি দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, আল জাজিরাসহ বিভিন্ন বিশ্ব মিডিয়াতেও ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে।

এই স্বৈরশাসক তার মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে  এখন বিচারের মুখোমুখি। আদালতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার অপ্রকাশিত লোমহর্ষক হিংস্রতা আর শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টার বিশদ বর্ণনা উপস্থাপিত হয়েছে রাজস্বাক্ষী হিসেবে দেয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনের লিখিত জবানবন্দিতে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, এই জবানবন্দির সাক্ষ্যগত মূল্য অনেক। মামলা প্রমাণে যথেষ্ট সহায়ক হবে।

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন দমাতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই বল প্রয়োগ করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে হাজার হাজার মানুষ। এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হাসিনা সরকারের পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জবানবন্দিতে জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে হেলিকপ্টার থেকে নজরদারি, গুলি করা ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যেসব নির্দেশনা এসেছিলো সে সম্পর্কে বিস্তারিত বয়ান দিয়েছেন তিনি। এমনকি হাজার হাজার ছাত্র-জনতা হতাহতের পরেও পুলিশ দিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। যা উঠে এসেছে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে।

চাকরিতে কোটা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার রায়ের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। শান্তিপূর্ন আন্দোলন দমাতে ঢাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগ। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে এ হামলা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে।

১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় আবু সাঈদ। আবু সাঈদ নিহতের পর আন্দোলন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ধারণ করে। এই আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। সরকার নিজের গদি রক্ষায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করে। কিভাবে এই শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিলো এবং কাদের নির্দেশে হয়েছিলো তা উঠে এসেছে আইজিপি মামুনের জবানবন্দিতে।

জবানিতে মামুন বলেছেন, আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে এক পর্যায়ে হেলিকপ্টার এর মাধ্যমে আন্দোলনকে নজরদারি, গুলি করা ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন পরিকল্পনা করা হয়। মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে সরাসরি লেথাল উইপেন -মরণাস্ত্র ও আন্দোলন প্রবন এলাকাগুলোতে এলাকা ভাগ করে ব্লক রেইড পরিচালনার সিদ্ধান্ত সরাসরি রাজনৈতিকভাবে নেয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিজে আইজিপিকে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আন্দোলন দমন করার জন্য লেথাল উইপেন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদ লেথাল উইপেন ব্যবহারে অতি উৎসাহি ছিলেন।

ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা এসেছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। যা বাস্তবায়িত হয়েছে আইজিপির মাধ্যমে। চৌধুরী মামুনের জবানবন্দি পড়লে গা শিউরে উঠে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিঘ্নে গুলি চালানোয় বাসা-বাড়িতে থাকা শিশুরাও নিহত হন।

চৌধুরী মামুন তার জবানবন্দিতে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোঃ আলী আরাফাত, জাসদের সাধারন সম্পাদক হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন মারনাস্ত্র ব্যবহার করে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে নির্মূল করার জন্য শেখ হাসিনাকে পরামর্শ এবং উসকানি দিতেন।

দেশব্যাপী এত অধিক সংখ্যায় মানুষ মারা যাওয়ার পরেও তারা তাদের উসকানি বন্ধ করেননি কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে থামতে বলেননি। সরকারকে বিপথে পরিচালিত করে ও আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করার জন্য আওয়ামী লীগপন্থী বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, পুলিশ অফিসার সকলে আগ্রহী ছিলেন।

অ্যাডভোকেট এম. মাসুদ রানা বলেন, জুলাই আন্দোলনে যেসব নৃশংসতা দেখেছি ছাত্র-জনতার উপর, এই জবানবন্দির সঙ্গে তা মিলে যায়।

আইনজ্ঞরা বলছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনের  এই জবানবন্দি মামলা প্রমাণে সহায়ক হবে।

ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান তুষার বলেন, এই জবানবন্দির ফলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগীদের অপরাধ প্রমাণে সহায়ক হবে।

জুলাই গণ আন্দোলনে পতন হয় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের। ৫ আগস্টের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হন চৌধুরী মামুন।  তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। কিন্তু ছাত্র- জনতার হার না মানা আন্দোলনে পতন হয় গত দেড় দশক ধরে দেশে ফ্যাসিজম আর উন্নয়নের মিথ্যে বয়ানের আড়ালে লুটপাটতন্ত্র কায়েমকারী স্বৈরাচার হাসিনার সরকারের।




স্বৈরাচারের পুনর্জাগরণ ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও স্থায়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেই স্বৈরাচারকে কিছুদিন আগে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় দিয়েছে, তার পুনর্জাগরণ প্রতিহত করতে জনগণের পাশে থেকে বিএনপিও সমানভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকায় জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি সাহিত্য, কবিতা ও সংগীতের শক্তি এবং গণআন্দোলনে তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের আদর্শিক অবস্থান এক ও অভিন্ন। এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষায় আপনাদের দৃঢ় অবস্থানের সঙ্গে আমাদের কোনো পার্থক্য নেই।” তিনি মনে করিয়ে দেন, কবিতা ও সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গণআন্দোলনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রেরণার উৎস হয়ে এসেছে।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে ৯০-এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কবিতা ও গান আন্দোলনকারীদের অনুপ্রাণিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়েও সেই প্রেরণার প্রকাশ ঘটেছে এবং তার পূর্ণতা পেয়েছে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, কবি ও সাহিত্যিকরা যুগে যুগে সমাজ ও জাতির পরিচয়কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। শেক্সপিয়ার থেকে শুরু করে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে উঠেছেন জাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একইভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দেশাত্মবোধক গান ছিল মানুষের অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশগঠনের সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি বিএনপির দলীয় সংগীতে পরিণত হয়েছিল। জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসে অনুপ্রাণিত প্রতিটি নেতাকর্মী আজও এই বিশ্বাসে অটল যে, প্রকৃত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী মানুষের জীবনের প্রথম ও শেষ পরিচয় হওয়া উচিত—সে একজন বাংলাদেশি।

তারেক রহমানের মতে, জনগণের ঐক্য, কবিতা, সাহিত্য ও সংগীতের সম্মিলিত শক্তি আবারও বাংলাদেশকে স্বৈরশাসনের হাত থেকে রক্ষা করবে। তিনি নতুন প্রজন্মকে সেই আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের পক্ষে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। রবিবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর বারিধারায় রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারোয়ার চৌধুরী নিভা এবং যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

এ সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম সবসময় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে অধিক সংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠকে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জনগণের আন্তরিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করছেন শেখ হাসিনা” — জয়নুল আবদিন ফারুক

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক অভিযোগ করেছেন, ভারতের মাটিতে বসে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন শেখ হাসিনা।

শনিবার (১৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফারুক বলেন, “এরশাদের চেয়েও বেশি স্বৈরাচারী আচরণ করে শেখ হাসিনা বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছেন এবং জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করতে চেয়েছেন। দেশ এখনো ষড়যন্ত্রের মুখে। এই ষড়যন্ত্রের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্বার্থে নয়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি গত ১৬ বছর ধরে জেল-জুলুম, গুমের শিকার হয়ে আন্দোলন চালিয়ে এসেছে।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারী। এতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বাংলাদেশ সংবাদপত্র এডিটরস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজুমদার, সংগীতশিল্পী মনির খানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।




লন্ডন নয়, জনগণই কেবলা : এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, যারা লন্ডনকে কেবলা বানিয়ে সেজদা দিয়েছেন বা দিচ্ছেন, তাদের কেবলা পরিবর্তন করে জনগণের দিকে সেজদা দিতে হবে।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামটরের রূপায়ন টাওয়ারে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র নেই, থাকলে ১/১১ ঘটত না। গণহত্যায় শহীদ ও আহতদের নিরাপত্তার জন্য গণপরিষদ নির্বাচন অপরিহার্য। দেশে নির্বাচন হলে তা অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচন হতে হবে।”

তিনি জানান, মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকলেও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এনসিপি সে সুযোগ গ্রহণ করেনি। প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে জনগণ, কোনো রাজনৈতিক দল নয়।”

মিডিয়ায় আসন ভাগাভাগি নিয়ে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করে তিনি বলেন, এনসিপি এ নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি।

বর্তমান সংকট সমাধানে গণপরিষদ নির্বাচনের বিকল্প নেই জানিয়ে নাসীরুদ্দীন বলেন, সেনাবাহিনীকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগও নেই।