“বিএনপির বিজয় ঠেকাতে রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত চলছে: তারেক রহমান”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশে এখনো বিএনপির সম্ভাব্য বিজয় রুখতে নানা মহলের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে জনগণ স্বৈরশাসনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা পার করেছে। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশ সেই দুঃশাসন থেকে মুক্ত হলেও গণতন্ত্রের যাত্রা এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তবে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও ব্যক্তির আচরণে মনে হচ্ছে তারা বিএনপির বিজয় ঠেকানোর অপচেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রবণতা জনগণের ভোটাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।”

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে ক্ষমতাসীনদের অপকৌশলেই নির্বাচন প্রক্রিয়া ধ্বংস হয়েছিল। এবার আবার কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অবস্থান সেই একই ধরনের শঙ্কা তৈরি করছে। তারেকের মতে, জনগণ যদি বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায়, তবে সেই ইচ্ছাকে রুদ্ধ করার কোনো প্রচেষ্টা গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য হবে।

জাতীয় নির্বাচনে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “এই পদ্ধতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখনো তা বাস্তবসম্মত নয়।” তিনি জানান, পিআরসহ কয়েকটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে, তবে এটিকে তিনি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখেন।

ধর্মীয় সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে রাজনীতি করার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, অতীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর নেপথ্যে ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, ধর্মীয় কারণ নয়। তাই ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার জন্য তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।




বরিশালে বিএনপি উপদেষ্টার বক্তব্য: বিলাসিতা নয়, দরকার দায়বদ্ধ সরকার

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, দেশে এখনো অনেক মানুষের দুবেলা খাবার জোটে না, অথচ বিলাসিতার দৃশ্য সাধারণ মানুষের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন হবে এবং আমরা চাই নির্বাচন সঠিক সময়েই হোক। কারণ, দেশে একটি দায়বদ্ধ সরকার না থাকার কারণে বিনিয়োগ থমকে গেছে, অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। অ্যাকাউন্টেবল গভর্নমেন্ট ছাড়া দেশের ব্যাংক খাত পুনর্বাসন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয় বলেই অর্থনীতির এই দুরবস্থা। অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও ব্যাংক খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার দরকার।”

পিআর পদ্ধতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “যাঁরা পিআর পদ্ধতির দাবি তুলছেন, তাঁরাই আবার ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। পিআর পদ্ধতি হলে আলাদাভাবে প্রার্থী ঘোষণার প্রয়োজন নেই—এটি সাংঘর্ষিক।”

তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, “তারেক রহমানের একটি সংবেদনশীল মামলা আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে। যদি তিনি খালাস পান, তবে সব মামলার দায় থেকে মুক্ত হবেন এবং এরপরই তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণকে কষ্ট দিয়ে যারা রাজনীতি করেন, তারা আসলে জনগণের পাশে নেই। আমরা চাই রাজনীতি হোক জনগণের অধিকার ও উন্নয়নের প্রশ্নে।”

মতবিনিময় সভায় বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরুসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিআর পদ্ধতি ও প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ ৯ দফা প্রস্তাব দিল এবি পার্টি

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ছাত্রদের ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

বুধবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এ প্রস্তাবের কথা জানান।

তিনি বলেন, “আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে ছাত্ররা দুর্যোগ ও আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যেমন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বা মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পর বার্ন ইউনিটে কিশোররা স্বেচ্ছাসেবী হয়ে পরিস্থিতি সামলেছিল। নির্বাচনেও যদি স্কুলছাত্রদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত করা যায়, তবে তারা সহিংসতা রোধ ও আচরণবিধি মানায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।”

এ সময় এবি পার্টি ৯ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা,

না হলে নিম্নকক্ষে ন্যূনতম ১০০ আসনে পিআর পদ্ধতি প্রবর্তন,

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা,

দ্বৈত নাগরিকদের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া,

মডেল প্রচার নির্দেশিকা প্রণয়ন,

প্রার্থীদের সরাসরি টেলিভিশন বিতর্কের ব্যবস্থা করা,

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো,

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তরুণ ভোটারদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম গ্রহণ।

দলটি আরও দাবি জানায়, ভোটকেন্দ্রগুলো প্রভাবমুক্ত রাখতে বর্তমান সংখ্যা কমিয়ে বড় মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্টেডিয়ামের মতো উন্মুক্ত স্থানে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “প্রচলিত নির্বাচনী ধারা অনুসরণ করলে নতুন করে সহিংসতা হতে পারে। তাই নতুন ধাঁচের একটি নির্বাচনী পরিকল্পনা দরকার।”

সভায় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




কেন্দ্রীয় নেতা জসিম উদ্দিনের উপস্থিতিতে কাউখালীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন

পিরোজপুরের কাউখালীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন।

বুধবার সকালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে প্রথমে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়, যা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে সোনালী ব্যাংক চত্বরে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে সেখানে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ জাহিদুল ইসলাম ফিরোজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ জসিম উদ্দিন নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং দলের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম আহসান কবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম মনিসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে মোঃ জসিম উদ্দিনের উপস্থিতিতে নেতা-কর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন।




“জনগণের রায় ছাড়া পিআর পদ্ধতি চাপানো যাবে না”: নজরুল ইসলাম খান

আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি চালুর আগে জনগণের রায় নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

বুধবার (২০ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “পিআর পদ্ধতিতে ধারণার ভিত্তিতে নির্বাচন হতে পারে না। জনগণের কাছে না জিজ্ঞেস করেই নতুন পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

তিনি আরও জানান, সব রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতি মেনেও নিলেও সংবিধান সংশোধন ছাড়া এটি কার্যকর সম্ভব নয়। সেই সংশোধন করতে পারে কেবল একটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ।

নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, ইভিএম ব্যবহার নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি, অথচ নির্বাচনী কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। জনগণের মতামত ছাড়া নতুন পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একই অনুষ্ঠানে বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে নিহত হয়েছেন। খালেদা জিয়া সেই পতাকা ধারণ করে বিএনপিকে এগিয়ে নিয়েছেন। তবে এখনও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়নি, নির্বাচনকে ঘিরে নানা চক্রান্ত চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ সভায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ওই দিন সারা দেশে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের কথা জানান দলের নেতারা।




“গণতন্ত্র এখনো অধরা, সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা নেই: রিজভী”

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে এখনো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়নি এবং অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয়নি।

বুধবার (২০ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ষড়যন্ত্রের অন্ধগলিতে দেশকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও আধিপত্যবাদী চক্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে খণ্ডিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। “১৬ বছর ধরে দুঃশাসন, গুপ্তহত্যা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ ও বিরোধী মতকে দমনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠাকারী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আন্তর্জাতিক চক্রান্তে হত্যা করা হয়েছিল। তার হত্যার মাধ্যমে গণতন্ত্রকেও হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির মুখপাত্র আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সুসংগঠিত করছেন। তবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউসসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সভায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।

কর্মসূচি সমূহ

১. ৩১ আগস্ট বিকাল ২টায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা।
২. ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন।
৩. একইদিন সকাল ১১টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ। জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা ও র‌্যালি।
৪. ২ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি।
৫. ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও র‌্যালি।
৬. প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশ।
৭. পোস্টার প্রকাশ।
৮. সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক।
৯. সুবিধাজনক সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণ, মৎস্য অবমুক্তকরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ক্রীড়ানুষ্ঠান আয়োজন।

বিএনপি জানিয়েছে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে শুধু স্মরণীয় করে তুলবে না, বরং দেশের জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে।




পটুয়াখালীর দুমকীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

পটুয়াখালীর দুমকীতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন দুমকি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ অহেদুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান। এছাড়া দুমকি উপজেলা সদস্য সচিব মাছুদুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুছা ফরাজী সহ সকল স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি মো. মামুন তার বক্তব্যে বলেন, “স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা সমাজে দায়িত্বশীল ও উদারচেতা নাগরিক হিসেবে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুব সমাজকে সুস্থ, সক্রিয় ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল দায়িত্ব। আমাদের নেতা তারেক রহমান সর্বদা যুবসমাজকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তার নেতৃত্বে আমরা দেশের সকল স্তরে যুবকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছি। এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, সংহতি ও একতা থাকলেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।”

এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে শহীদ জসিম উদ্দীন হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করা হয় এবং কবর জিয়ারত করা হয়। কবরের পাশে ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ করা হয়।

উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব ও যুবকল্যাণমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভারতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিস বন্ধে ঢাকা’র দাবি

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ভারতে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে—এমন খবরের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বুধবার (২০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নয়াদিল্লি ও কলকাতায় দলটির কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টি তারা লক্ষ্য করেছে। সরকার মনে করছে, এসব অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অবিলম্বে ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিসগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দলের বহু জ্যেষ্ঠ নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বা পলাতক অবস্থায় ভারতে আশ্রয় নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। গত ২১ জুলাই দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি এনজিওর আড়ালে দলটির কয়েকজন নেতা সভা করেন এবং সাংবাদিকদের মধ্যে পুস্তিকা বিতরণ করেন। ভারতীয় গণমাধ্যমেও এসব কার্যক্রম বৃদ্ধির খবর প্রকাশ পেয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ঢাকা মনে করে, ভারতে বসে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কিংবা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অফিস স্থাপন বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের কার্যকলাপ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন কোনো বাংলাদেশি নাগরিক সেখানে বসে বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত হতে না পারে এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো দ্রুত বন্ধ করা হয়।




সংগ্রাম ও নেতৃত্বে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আবুল হোসেন খান

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান রাজনীতির মঞ্চে এক অনন্য নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছেন।

বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে বরাবরই তিনি রাজপথের সম্মুখসারির সৈনিক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দমন-পীড়ন, গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হলেও রাজনীতি থেকে সরে যাননি তিনি। বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য দৃঢ় অবস্থান নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছেন।

আবুল হোসেন খান সবসময় বিশ্বাস করতেন—দলকে শক্তিশালী করার মূল চালিকা শক্তি হলো তৃণমূলের কর্মীরা। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ১৪ ইউনিয়নে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করেন। এতে জনপ্রিয় ও যোগ্য নেতৃত্ব সামনে আসার সুযোগ পায়।

তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, বরং সমাজে ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন। ধর্মপ্রাণ হয়েও কখনও ধর্মান্ধতার কাছে নতি স্বীকার করেননি। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য মানবিক সহযোগিতা ছিল তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে বাকেরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনস্বার্থ রক্ষা এবং দলীয় কর্মীদের সংগঠিত রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির ঘাঁটি আরও সুসংহত হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫