“গণতন্ত্র এখনো অধরা, সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা নেই: রিজভী”

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে এখনো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়নি এবং অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয়নি।

বুধবার (২০ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ষড়যন্ত্রের অন্ধগলিতে দেশকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও আধিপত্যবাদী চক্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে খণ্ডিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। “১৬ বছর ধরে দুঃশাসন, গুপ্তহত্যা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ ও বিরোধী মতকে দমনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠাকারী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আন্তর্জাতিক চক্রান্তে হত্যা করা হয়েছিল। তার হত্যার মাধ্যমে গণতন্ত্রকেও হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির মুখপাত্র আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সুসংগঠিত করছেন। তবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউসসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সভায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।

কর্মসূচি সমূহ

১. ৩১ আগস্ট বিকাল ২টায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা।
২. ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন।
৩. একইদিন সকাল ১১টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ। জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা ও র‌্যালি।
৪. ২ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি।
৫. ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও র‌্যালি।
৬. প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশ।
৭. পোস্টার প্রকাশ।
৮. সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক।
৯. সুবিধাজনক সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণ, মৎস্য অবমুক্তকরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ক্রীড়ানুষ্ঠান আয়োজন।

বিএনপি জানিয়েছে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে শুধু স্মরণীয় করে তুলবে না, বরং দেশের জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে।




পটুয়াখালীর দুমকীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

পটুয়াখালীর দুমকীতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন দুমকি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ অহেদুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান। এছাড়া দুমকি উপজেলা সদস্য সচিব মাছুদুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুছা ফরাজী সহ সকল স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি মো. মামুন তার বক্তব্যে বলেন, “স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা সমাজে দায়িত্বশীল ও উদারচেতা নাগরিক হিসেবে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুব সমাজকে সুস্থ, সক্রিয় ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল দায়িত্ব। আমাদের নেতা তারেক রহমান সর্বদা যুবসমাজকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তার নেতৃত্বে আমরা দেশের সকল স্তরে যুবকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছি। এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, সংহতি ও একতা থাকলেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।”

এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে শহীদ জসিম উদ্দীন হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করা হয় এবং কবর জিয়ারত করা হয়। কবরের পাশে ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ করা হয়।

উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব ও যুবকল্যাণমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভারতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিস বন্ধে ঢাকা’র দাবি

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ভারতে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে—এমন খবরের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বুধবার (২০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নয়াদিল্লি ও কলকাতায় দলটির কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টি তারা লক্ষ্য করেছে। সরকার মনে করছে, এসব অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অবিলম্বে ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিসগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দলের বহু জ্যেষ্ঠ নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বা পলাতক অবস্থায় ভারতে আশ্রয় নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। গত ২১ জুলাই দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি এনজিওর আড়ালে দলটির কয়েকজন নেতা সভা করেন এবং সাংবাদিকদের মধ্যে পুস্তিকা বিতরণ করেন। ভারতীয় গণমাধ্যমেও এসব কার্যক্রম বৃদ্ধির খবর প্রকাশ পেয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ঢাকা মনে করে, ভারতে বসে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কিংবা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অফিস স্থাপন বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের কার্যকলাপ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন কোনো বাংলাদেশি নাগরিক সেখানে বসে বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত হতে না পারে এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো দ্রুত বন্ধ করা হয়।




সংগ্রাম ও নেতৃত্বে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আবুল হোসেন খান

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান রাজনীতির মঞ্চে এক অনন্য নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছেন।

বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে বরাবরই তিনি রাজপথের সম্মুখসারির সৈনিক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দমন-পীড়ন, গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হলেও রাজনীতি থেকে সরে যাননি তিনি। বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য দৃঢ় অবস্থান নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছেন।

আবুল হোসেন খান সবসময় বিশ্বাস করতেন—দলকে শক্তিশালী করার মূল চালিকা শক্তি হলো তৃণমূলের কর্মীরা। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ১৪ ইউনিয়নে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করেন। এতে জনপ্রিয় ও যোগ্য নেতৃত্ব সামনে আসার সুযোগ পায়।

তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, বরং সমাজে ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন। ধর্মপ্রাণ হয়েও কখনও ধর্মান্ধতার কাছে নতি স্বীকার করেননি। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য মানবিক সহযোগিতা ছিল তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে বাকেরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনস্বার্থ রক্ষা এবং দলীয় কর্মীদের সংগঠিত রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির ঘাঁটি আরও সুসংহত হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





“জনগণের শক্তির ওপরই রাষ্ট্রের শক্তি নির্ভর: তারেক রহমান”

জনগণকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণ রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্র ও সরকারও শক্তিশালী হতে পারে না।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, সরাসরি ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের চর্চাই হলো জনগণকে রাজনীতিতে শক্তিশালী করার মূল মাধ্যম। এ প্রক্রিয়ায় জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। কিন্তু নানা শর্ত আরোপ করে যদি জনগণের রাজনৈতিক অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করা হয়, তবে গণতন্ত্র উত্তরণের পথ সংকটে পড়বে।

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভালোবাসায় থাকতে হবে এবং এমন কোনো কাজে জড়ানো যাবে না, যা জনমনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করে। “জনশক্তি, জনবলই বিএনপির মনোবল”— মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলে তা গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক দলগুলো যদি বিভক্ত হয়, তবে রাষ্ট্রে ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনর্বাসনের সুযোগ সহজ হবে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, ক্ষমতায় এলে বিএনপি জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে নিরাপদ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান।




আবারও হাসপাতালে ভর্তি মির্জা ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

থাইল্যান্ডে চোখের চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত ১টায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। এই তথ্য বিএনপির মিডিয়া সেল নিশ্চিত করেছে।




রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় সংকট নিরসনের একমাত্র পথ হলো দ্রুত নির্বাচন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নির্বাচন চায়।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চিকিৎসা শেষে ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে এখন তিনি সুস্থ আছেন বলেও জানান।

সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই পদ্ধতিতে জনগণের অধিকার পূর্ণ হবে না। বাংলাদেশের জনগণ এ ধরনের নির্বাচনী পদ্ধতিতে অভ্যস্ত নয়।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট সম্পন্ন হোক এটাই প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, যে সব দল সংস্কার চাইছে না, সেটা তাদের নিজস্ব দলের ব্যাপার। তবে জাতীয় নির্বাচন ছাড়া জনগণের মুক্তি সম্ভব নয়।




নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে: রেজাউল করিম

সংস্কার ছাড়া পূর্বের নিয়মে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কার দৃশ্যমান হতে হবে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। সমাবেশের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর।

রেজাউল করিম বলেন, “দেশ যখন সংকটে জর্জরিত ছিল তখন ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে অন্যায়, খুনখারাবি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। যদি কোনো অশুভ শক্তি প্রধান উপদেষ্টাকে সংস্কারের আগেই নির্বাচন দিতে বাধ্য করে, তাহলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”

তিনি আরও বলেন, বিগত ৫৪ বছরের নির্বাচনী ধারা সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যই হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু করা। এর মাধ্যমে কালোটাকা, সন্ত্রাস, মাস্তানি ও বিদেশি প্রভাবমুক্ত নির্বাচন সম্ভব হবে। বিভিন্ন জরিপেও পিআর পদ্ধতির পক্ষে জনসমর্থন স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতারা বলেন, পিআর পদ্ধতির নির্বাচনই দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ। এই দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলের যুগ্মমহাসচিব ও মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।




অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী :সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতা করতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “দেশ এখন নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। নির্বাচনে মাঠে দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব দেখাবে এবং প্রতিশোধমূলক কোনো কাজে জড়াবে না।”

সেনাপ্রধান আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে সেনারা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। দূরত্ব থাকলে তা দূর করতে হবে।

নাম না উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, একজন সেনাসদস্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে, নারী নির্যাতনের অভিযোগেও তদন্ত চলছে। তিনি স্পষ্ট করেন, মিডিয়া ট্রায়ালের ভিত্তিতে কাউকে সাজা দেওয়া হবে না; অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, একজন সেনা কর্মকর্তাকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্র ব্যাপক অর্থ ব্যয় করে। তাই অপরাধে জড়ানোর আগে সতর্ক থাকা দরকার, কারণ পরে বাড়ি পাঠালে এটি রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু নয়।

সেনাপ্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ছড়ানো ভুয়া তথ্য নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর বার্তায় বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং কেউ যেন বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শেষ করেন, দেশের মানুষ এখন সেনাসদস্যদের দিকে তাকিয়ে আছে। “তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫