‘আ.লীগ বিষয়ক সম্পাদক’ রুমিন ফারহানাকে কটাক্ষ হাসনাত আবদুল্লাহর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা দলীয় লোকজন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে গণ্ডগোল ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “রুমিন ফারহানা বিএনপির ‘আ.লীগ বিষয়ক সম্পাদক’, কারণ আওয়ামী লীগ আমলে তিনি নানা সুবিধা ভোগ করেছেন।”

রোববার (২৪ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে এনসিপি নেতা আতাউল্লাহ ও দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, কমিশনে প্রবেশে এনসিপির নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া হলেও বিএনপির লোকজনকে অবাধে ঢুকতে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, “পুলিশ সেখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। আর কমিশন নিজেকে কয়েকটি দলের ‘পার্টি অফিসে’ পরিণত করেছে।”

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আতাউল্লাহ অভিযোগ করেন, বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা সরাসরি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং তাঁর অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে পায়ে পিষ্ট করে মারধর করে। তিনি বলেন, “আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন ঠেকাতেই এই হামলা হয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি।”




আসন পুনর্বিন্যাস শুনানিতে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অব্যবস্থাপনা ও হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, চাইলে গুণ্ডা নিয়ে আসতে পারতেন, কিন্তু ভদ্র মানুষ নিয়ে এসেছিলেন।

রোববার (২৪ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি কোনো গুন্ডা-বদমাশের মেলা করি নাই। করতে চাইলে করতে পারতাম। গুন্ডা আনতে চাইলে আনতে অসুবিধা নেই। কিন্তু আমি ভদ্রলোক নিয়ে এসেছি। যা গত ১৫ বছরে কখনো ঘটেনি, আজকে হলো। প্রায় আমার গায়ে ধাক্কা দিয়ে আমাকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যাদের জন্য এত বছর লড়াই করলাম, তারাই আজ আমাকে ধাক্কা দেয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “একজন পাঞ্জাবি পড়া ব্যক্তি আমাকে ধাক্কা দিয়েছে। আমি একজন মহিলা—এটা তো বিবেচনায় রাখা উচিত ছিল। পরে যখন আমার লোকজনকে মারধর করা হয়, তখন তারা আত্মরক্ষার্থে জবাব দিয়েছে। এটুকুই স্বাভাবিক।”

শুনানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের সামনে কিছু ছবি তুলে ধরছি। এগুলোতে দেখা যাচ্ছে, এলাকাবাসীকে কিভাবে পিটিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। আসন পুনর্বিন্যাস এখনো চূড়ান্ত হয়নি, অথচ সীমানা নির্ধারণ নিয়ে এমন সহিংসতা চলছে।”

বিএনপির এই নেত্রী দাবি করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে স্থানীয় মানুষকে নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “এটা যদি এখনই হয়, তাহলে নির্বাচন সামনে আসলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের উচিত এসব বিষয়কে গুরুত্ব সহকারে দেখা।”

এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুই মাসের সাংগঠনিক বিরতির পর এনসিপিতে সারোয়ার তুষার পুনর্বহাল

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে আনা শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

গত ১৭ জুন এক নারী নেত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসের পর নৈতিক স্থলনজনিত অভিযোগে সারোয়ার তুষারকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ওই নোটিশের জবাব দপ্তরের মাধ্যমে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, রাজনৈতিক পর্ষদ ও শৃঙ্খলা কমিটির কাছে দাখিল করেন। জবাব বিশ্লেষণের পর এনসিপি জানায়, এটি একান্ত ব্যক্তিগত যোগাযোগের ঘটনা হলেও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের প্রেক্ষিতে সারোয়ার তুষারকে দুই মাসের জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। এ সময় তিনি জুলাই মাসের পদযাত্রা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রতিনিধিত্ব, গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরা এবং নরসিংদীর পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেননি।

দুই মাসের সাংগঠনিক বিরতি শেষে, লিখিত জবাব ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সারোয়ার তুষারকে পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত নেয় এনসিপি। এর মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে আনা কারণ দর্শানোর নোটিশও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হলো।




খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজে গুলশানে যাবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার

বাংলাদেশ সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে তার গুলশানের বাসভবনে যাবেন। রোববার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে একইদিন সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসহাক দার। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিএনপি নেতারা পাকিস্তান হাইকমিশনে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন।

দুই দিনের সফরে শনিবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।




সম্পর্ক উন্নয়নে ১৯৭১ এর ইস্যু মীমাংসার তাগিদ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে বলে মত দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি মনে করে, ঐতিহাসিক এই ইস্যুটি নিষ্পত্তি করা ছাড়া দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা গড়ে ওঠা সম্ভব নয়।

শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করে এনসিপির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে বাংলাদেশের জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রত্যাশার কথা পাকিস্তানের কাছে তুলে ধরে তারা।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে শীতল সম্পর্ক বিরাজ করছে। যদিও নতুন করে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানকে কীভাবে দেখে, সেটিই পাকিস্তানের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

প্রতিনিধিদলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বৈঠকে শিক্ষা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই “বড় ভাই সুলভ” মনোভাব যেন প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে পানি, নদী ব্যবস্থাপনা, ওষুধশিল্পে সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের কাঁচামাল খুবই মানসম্মত, যা বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ব্যয় কমাতে এবং রপ্তানি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

এছাড়া সার্ককে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদল মনে করে, দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।

একাত্তরের ইস্যু প্রসঙ্গে নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা তাদের স্পষ্ট জানিয়েছি, মুক্তিযুদ্ধকালীন অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা উচিত। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তারা এ বিষয়ে প্রস্তুত।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চাপ এলে পদত্যাগ করব: সিইসি নাসির উদ্দিন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে তাকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের চাপ দেওয়া হয়নি। তবে যদি চাপ সৃষ্টি করা হয়, তিনি দায়িত্বে থাকবেন না, সরাসরি পদত্যাগ করবেন।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে রাজশাহী আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। যারা ভোটকেন্দ্র দখল কিংবা সহিংসতার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সেই আশা পূরণ হবে না। কোনো প্রার্থী বা তাদের কর্মী যদি অস্ত্রবাজি বা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেন, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পুরো ভোটই বাতিল করা হবে।

সিইসি নাসির উদ্দিন আরও বলেন, নির্বাচন হবে কি হবে না—এই বিতর্কে কমিশন যেতে চায় না। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ীই প্রস্তুতি চলছে। রমজানের আগে, অর্থাৎ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আনুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে এই ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই কমিশন সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। যদি আইন পরিবর্তন হয়, তখন বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মালয়েশিয়া সফরে নাহিদ ইসলাম, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কর্মসূচি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম মালয়েশিয়া সফরে পৌঁছেছেন। শুক্রবার (২২ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

বিমানবন্দরে নাহিদ ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভ্যর্থনা জানায় এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়া। এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সফরে পৌঁছে নাহিদ ইসলাম পুত্রাজায়া বড় মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ।

আগামী ২২ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত চলবে নাহিদ ইসলামের এ সফর। এর মধ্যে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা ও অধিকার আদায়ের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স প্রবাসী সহযোদ্ধাদের এসব কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।




বাবুগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির এক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।

২১ আগস্ট দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন বিএনপির আওতাধীন ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. মোক্তার হোসেনকে সাময়িকভাবে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসাথে কেন তাকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যদিও নোটিশে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়—গত ২০ আগস্ট খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলার ও স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম নাকি ৩০ কেজির চালের স্থলে ১ কেজি করে কম দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় মোক্তার হোসেনের নাম উঠে আসে।

একজন নারী উপকারভোগী এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষুব্ধ ওই নারী মোক্তার হোসেনকে জুতা দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ইউনিয়ন বিএনপির ভেতরে ক্ষোভ দেখা দেয়।

পরে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। চাল বিতরণের ঝামেলাকে কেন্দ্র করেই আমাকে এই পদ স্থগিতের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জরুরি বিবৃতি

মিডিয়ার ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতিটি  হুবহু তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের টেলিভিশন, সংবাদ এবং অনলাইন আউটলেটগুলিতে ফৌজদারী অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামী আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার অডিও সম্প্রচার এবং প্রচার ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তাছাড়া, গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাক্তন স্বৈরশাসকের ঘৃণা ছড়ায় এমন বক্তব্য সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।

আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করেছি যে কিছু গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার আইন ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসকের একটি ভাষণ প্রচার করেছে যেখানে তিনি মিথ্যা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা এধরনের অপরাধমূলক প্রচারকর্মে জড়িত গনমাধ্যমের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি এবং দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছি যে, শেখ হাসিনার বক্তব্য কেউ ভবিষ্যতে প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের জাতির ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরির ঝুঁকি নিতে পারি না। এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে শেখ হাসিনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শত শত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীর গণহত্যার নির্দেশ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের পরে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং বর্তমানে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছে। তদুপরি, বাংলাদেশের আইন অনুসারে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং একই সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে, যে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন যারা তাদের নেতাদের কার্যকলাপ বা বক্তৃতা প্রচার, প্রকাশ বা সম্প্রচার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক অখণ্ডতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত করার জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশের জনগণ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রথমবারের মতো সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আমরা, এমন একটি সময়ে, সংবাদ মাধ্যমগুলিকে শেখ হাসিনার অডিও এবং তার বক্তৃতাগুলি, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি, প্রচার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাই। তার মন্তব্য, বক্তৃতা এবং তার যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার, পুনঃপ্রচার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি কেবল জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কাজ করে। এ ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ অমান্যকারী যেকোনো সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের আইনের অধীনে আইনি জবাবদিহিতার আওতায় পড়বে।




‘উগ্রবাদ রুখুন, ঐক্যবদ্ধ হোন’: জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, “দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে সবাইকে বিভাজনের রাজনীতি ছেড়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকে একটা প্রচ্ছন্ন প্রচেষ্টা আছে একাত্তরকে ভুলিয়ে দেওয়ার। এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একাত্তরের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ যেমন সত্য, ঠিক তেমনি সত্য ২৪ জুলাই-আগস্টের শহীদদের গণতন্ত্রের সংগ্রামও।”

তিনি দাবি করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সেই ইতিহাস ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

উগ্রবাদ ও বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে সতর্কবার্তা

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “বাংলাদেশে উগ্রবাদকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না। তাহলে দেশের আত্মা ও অস্তিত্ব রক্ষা করা যাবে না। অতীতে বিভাজন হয়েছে, কিন্তু এখন টিকে থাকার স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ জনগণকে শোষণ করেছে, প্রজা হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে। তিনি বলেন, “প্রায় ৮৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংককে আওয়ামী লীগের বিতাড়িত নেতাদের বাড়ি ভাড়া ও বিলাসবহুল গাড়ি কেনার ধুম লেগেছে।”

‘আগামীর বাংলাদেশ’ ও ঐক্যের আহ্বান

বিএনপি মহাসচিব জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লক্ষ্য একটি অসাম্প্রদায়িক ‘রেইনবো রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য তিনি সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি এবং দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।