মালয়েশিয়া সফরে নাহিদ ইসলাম, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কর্মসূচি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম মালয়েশিয়া সফরে পৌঁছেছেন। শুক্রবার (২২ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

বিমানবন্দরে নাহিদ ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভ্যর্থনা জানায় এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়া। এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সফরে পৌঁছে নাহিদ ইসলাম পুত্রাজায়া বড় মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ।

আগামী ২২ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত চলবে নাহিদ ইসলামের এ সফর। এর মধ্যে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা ও অধিকার আদায়ের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স প্রবাসী সহযোদ্ধাদের এসব কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।




বাবুগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির এক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।

২১ আগস্ট দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন বিএনপির আওতাধীন ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. মোক্তার হোসেনকে সাময়িকভাবে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসাথে কেন তাকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যদিও নোটিশে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়—গত ২০ আগস্ট খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলার ও স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম নাকি ৩০ কেজির চালের স্থলে ১ কেজি করে কম দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় মোক্তার হোসেনের নাম উঠে আসে।

একজন নারী উপকারভোগী এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষুব্ধ ওই নারী মোক্তার হোসেনকে জুতা দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ইউনিয়ন বিএনপির ভেতরে ক্ষোভ দেখা দেয়।

পরে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। চাল বিতরণের ঝামেলাকে কেন্দ্র করেই আমাকে এই পদ স্থগিতের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জরুরি বিবৃতি

মিডিয়ার ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতিটি  হুবহু তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের টেলিভিশন, সংবাদ এবং অনলাইন আউটলেটগুলিতে ফৌজদারী অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামী আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার অডিও সম্প্রচার এবং প্রচার ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তাছাড়া, গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাক্তন স্বৈরশাসকের ঘৃণা ছড়ায় এমন বক্তব্য সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।

আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করেছি যে কিছু গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার আইন ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসকের একটি ভাষণ প্রচার করেছে যেখানে তিনি মিথ্যা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা এধরনের অপরাধমূলক প্রচারকর্মে জড়িত গনমাধ্যমের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি এবং দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছি যে, শেখ হাসিনার বক্তব্য কেউ ভবিষ্যতে প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের জাতির ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরির ঝুঁকি নিতে পারি না। এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে শেখ হাসিনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শত শত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীর গণহত্যার নির্দেশ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের পরে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং বর্তমানে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছে। তদুপরি, বাংলাদেশের আইন অনুসারে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং একই সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে, যে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন যারা তাদের নেতাদের কার্যকলাপ বা বক্তৃতা প্রচার, প্রকাশ বা সম্প্রচার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক অখণ্ডতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত করার জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশের জনগণ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রথমবারের মতো সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আমরা, এমন একটি সময়ে, সংবাদ মাধ্যমগুলিকে শেখ হাসিনার অডিও এবং তার বক্তৃতাগুলি, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি, প্রচার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাই। তার মন্তব্য, বক্তৃতা এবং তার যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার, পুনঃপ্রচার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি কেবল জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কাজ করে। এ ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ অমান্যকারী যেকোনো সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের আইনের অধীনে আইনি জবাবদিহিতার আওতায় পড়বে।




‘উগ্রবাদ রুখুন, ঐক্যবদ্ধ হোন’: জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, “দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে সবাইকে বিভাজনের রাজনীতি ছেড়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকে একটা প্রচ্ছন্ন প্রচেষ্টা আছে একাত্তরকে ভুলিয়ে দেওয়ার। এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একাত্তরের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ যেমন সত্য, ঠিক তেমনি সত্য ২৪ জুলাই-আগস্টের শহীদদের গণতন্ত্রের সংগ্রামও।”

তিনি দাবি করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সেই ইতিহাস ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

উগ্রবাদ ও বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে সতর্কবার্তা

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “বাংলাদেশে উগ্রবাদকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না। তাহলে দেশের আত্মা ও অস্তিত্ব রক্ষা করা যাবে না। অতীতে বিভাজন হয়েছে, কিন্তু এখন টিকে থাকার স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ জনগণকে শোষণ করেছে, প্রজা হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে। তিনি বলেন, “প্রায় ৮৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংককে আওয়ামী লীগের বিতাড়িত নেতাদের বাড়ি ভাড়া ও বিলাসবহুল গাড়ি কেনার ধুম লেগেছে।”

‘আগামীর বাংলাদেশ’ ও ঐক্যের আহ্বান

বিএনপি মহাসচিব জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লক্ষ্য একটি অসাম্প্রদায়িক ‘রেইনবো রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য তিনি সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি এবং দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




“লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে: জামায়াত”

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তাতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের মতে, সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের জন্য এখনো সমতল মাঠ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত হয়নি। তিনি বলেন, “আমাদের দাবি নিশ্চিত না করে নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না।”

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা উপস্থিত ছিলেন।

আযাদ জানান, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণে সব দলের মতামত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত। পাশাপাশি তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও অনিয়ম রোধে ভোট পদ্ধতিকে সংখ্যানুপাতিক বা প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে হবে। তার ভাষায়, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেকেই চায়নি, কিন্তু পিআর পদ্ধতি জাতীয় কল্যাণে কার্যকর হতে পারে। জনগণ চাইলে এই ব্যবস্থায় যেতে হবে।”

পিআর ছাড়া জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি উত্তর দেননি। তবে তিনি বলেন, ন্যায়সঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সব সময়ই জামায়াত সমর্থন করে এসেছে। তার মতে, পিআর ব্যবস্থা হলে ভোটারদের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন ঘটবে।

তিনি আরও জানান, দলটি এরই মধ্যে তিনশ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং জনগণের কাছে পৌঁছাতে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছে।

এর আগে গত রোববার বিএনপি প্রতিনিধিদলও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেয়।




“বিএনপির বিজয় ঠেকাতে রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত চলছে: তারেক রহমান”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশে এখনো বিএনপির সম্ভাব্য বিজয় রুখতে নানা মহলের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে জনগণ স্বৈরশাসনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা পার করেছে। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশ সেই দুঃশাসন থেকে মুক্ত হলেও গণতন্ত্রের যাত্রা এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তবে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও ব্যক্তির আচরণে মনে হচ্ছে তারা বিএনপির বিজয় ঠেকানোর অপচেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রবণতা জনগণের ভোটাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।”

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে ক্ষমতাসীনদের অপকৌশলেই নির্বাচন প্রক্রিয়া ধ্বংস হয়েছিল। এবার আবার কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অবস্থান সেই একই ধরনের শঙ্কা তৈরি করছে। তারেকের মতে, জনগণ যদি বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায়, তবে সেই ইচ্ছাকে রুদ্ধ করার কোনো প্রচেষ্টা গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য হবে।

জাতীয় নির্বাচনে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “এই পদ্ধতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখনো তা বাস্তবসম্মত নয়।” তিনি জানান, পিআরসহ কয়েকটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে, তবে এটিকে তিনি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখেন।

ধর্মীয় সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে রাজনীতি করার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, অতীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর নেপথ্যে ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, ধর্মীয় কারণ নয়। তাই ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার জন্য তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।




বরিশালে বিএনপি উপদেষ্টার বক্তব্য: বিলাসিতা নয়, দরকার দায়বদ্ধ সরকার

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, দেশে এখনো অনেক মানুষের দুবেলা খাবার জোটে না, অথচ বিলাসিতার দৃশ্য সাধারণ মানুষের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন হবে এবং আমরা চাই নির্বাচন সঠিক সময়েই হোক। কারণ, দেশে একটি দায়বদ্ধ সরকার না থাকার কারণে বিনিয়োগ থমকে গেছে, অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। অ্যাকাউন্টেবল গভর্নমেন্ট ছাড়া দেশের ব্যাংক খাত পুনর্বাসন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয় বলেই অর্থনীতির এই দুরবস্থা। অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও ব্যাংক খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার দরকার।”

পিআর পদ্ধতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “যাঁরা পিআর পদ্ধতির দাবি তুলছেন, তাঁরাই আবার ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। পিআর পদ্ধতি হলে আলাদাভাবে প্রার্থী ঘোষণার প্রয়োজন নেই—এটি সাংঘর্ষিক।”

তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, “তারেক রহমানের একটি সংবেদনশীল মামলা আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে। যদি তিনি খালাস পান, তবে সব মামলার দায় থেকে মুক্ত হবেন এবং এরপরই তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণকে কষ্ট দিয়ে যারা রাজনীতি করেন, তারা আসলে জনগণের পাশে নেই। আমরা চাই রাজনীতি হোক জনগণের অধিকার ও উন্নয়নের প্রশ্নে।”

মতবিনিময় সভায় বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরুসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিআর পদ্ধতি ও প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ ৯ দফা প্রস্তাব দিল এবি পার্টি

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ছাত্রদের ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

বুধবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এ প্রস্তাবের কথা জানান।

তিনি বলেন, “আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে ছাত্ররা দুর্যোগ ও আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যেমন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বা মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পর বার্ন ইউনিটে কিশোররা স্বেচ্ছাসেবী হয়ে পরিস্থিতি সামলেছিল। নির্বাচনেও যদি স্কুলছাত্রদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত করা যায়, তবে তারা সহিংসতা রোধ ও আচরণবিধি মানায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।”

এ সময় এবি পার্টি ৯ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা,

না হলে নিম্নকক্ষে ন্যূনতম ১০০ আসনে পিআর পদ্ধতি প্রবর্তন,

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা,

দ্বৈত নাগরিকদের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া,

মডেল প্রচার নির্দেশিকা প্রণয়ন,

প্রার্থীদের সরাসরি টেলিভিশন বিতর্কের ব্যবস্থা করা,

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো,

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তরুণ ভোটারদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম গ্রহণ।

দলটি আরও দাবি জানায়, ভোটকেন্দ্রগুলো প্রভাবমুক্ত রাখতে বর্তমান সংখ্যা কমিয়ে বড় মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্টেডিয়ামের মতো উন্মুক্ত স্থানে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “প্রচলিত নির্বাচনী ধারা অনুসরণ করলে নতুন করে সহিংসতা হতে পারে। তাই নতুন ধাঁচের একটি নির্বাচনী পরিকল্পনা দরকার।”

সভায় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




কেন্দ্রীয় নেতা জসিম উদ্দিনের উপস্থিতিতে কাউখালীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন

পিরোজপুরের কাউখালীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন।

বুধবার সকালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে প্রথমে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়, যা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে সোনালী ব্যাংক চত্বরে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে সেখানে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ জাহিদুল ইসলাম ফিরোজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ জসিম উদ্দিন নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং দলের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম আহসান কবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম মনিসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে মোঃ জসিম উদ্দিনের উপস্থিতিতে নেতা-কর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন।




“জনগণের রায় ছাড়া পিআর পদ্ধতি চাপানো যাবে না”: নজরুল ইসলাম খান

আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি চালুর আগে জনগণের রায় নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

বুধবার (২০ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “পিআর পদ্ধতিতে ধারণার ভিত্তিতে নির্বাচন হতে পারে না। জনগণের কাছে না জিজ্ঞেস করেই নতুন পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

তিনি আরও জানান, সব রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতি মেনেও নিলেও সংবিধান সংশোধন ছাড়া এটি কার্যকর সম্ভব নয়। সেই সংশোধন করতে পারে কেবল একটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ।

নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, ইভিএম ব্যবহার নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি, অথচ নির্বাচনী কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। জনগণের মতামত ছাড়া নতুন পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একই অনুষ্ঠানে বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে নিহত হয়েছেন। খালেদা জিয়া সেই পতাকা ধারণ করে বিএনপিকে এগিয়ে নিয়েছেন। তবে এখনও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়নি, নির্বাচনকে ঘিরে নানা চক্রান্ত চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ সভায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ওই দিন সারা দেশে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের কথা জানান দলের নেতারা।