জামায়াতে যোগ দিলেন কৃষকদল নেতা জসিম

বরগুনার আমতলী উপজেলার আবু বকর সিদ্দিক (জসিম) ফকির, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে আমতলী উপজেলার বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ সড়কে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে তিনি সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের সদস্যপদ গ্রহণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. আবদুল মালেক, আমতলী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন, উপজেলা সেক্রেটারি মো. মোফাজ্জল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবু বকর সিদ্দিক (জসিম) ফকির ২০০৫ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি একসময় বরগুনা জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি, আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আমতলী উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ৮টি মামলা দায়ের হয়।

এক ফেসবুক পোস্টে জসিম ফকির লিখেছেন— বিএনপিতে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। দলের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলার অভাব ও সিনিয়র নেতাদের প্রভাবের কারণে ত্যাগী নেতারা অবহেলিত। এ কারণে তিনি কৃষকদল, যুবদলসহ বিএনপির সব পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দলের আদর্শ আমাকে আকৃষ্ট করেছে। তাই আমি নতুনভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন বলেন, “জামায়াত ইসলামী একটি শান্তিপ্রিয় ইসলামী রাজনৈতিক দল। যে কেউ আমাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে যোগ দিতে পারেন। আজ জসিম ফকির আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় ছাত্রলীগ নেতা আরিফকে পিটিয়ে হত্যা

ভোলা সদর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. সাইফুল্লাহ আরিফ (৩০) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) গভীর রাতে ভোলা পৌরসভার কালিবাড়ী সড়কের নববী মসজিদসংলগ্ন গলিতে নিজের বাসার সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

শনিবার ভোরে স্থানীয়রা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ আরিফের মরদেহ উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে নিহতের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, গেটের সামনে রক্তের দাগ ও ছেঁড়া চটি পড়ে আছে। ভেতরে চলছে শোকের মাতম। নিহতের বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. বসির উদ্দিন বুক চাপড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন,
“আমার একটাই ছেলে ছিলো, মানুষ আমার পুত্রকে পিটিয়ে হত্যা করলো।”

পারিবারিক সূত্র জানায়, আরিফ টেক্সটাইল প্রকৌশলে স্নাতক শেষ করেছিলেন ঢাকা সিটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সম্প্রতি চাকরির খোঁজ করছিলেন। একইসাথে তিনি ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। অসুস্থ বাবাকে দেখতে মাত্র দুই দিন আগে বাড়ি এসেছিলেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর রাত ১টা পর্যন্ত নিজ কক্ষে ছিলেন আরিফ। এর কিছুক্ষণ পর দুর্বৃত্তরা তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে হাতুড়ি দিয়ে মাথা ও শরীরে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলায় আরিফদের কিছু জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরিফুল হক জানান, “এটি একটি হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে হত্যার সঠিক কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নূরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল জেলা ও মহানগর গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে নগরীর সদর রোড প্রদক্ষিণ করে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেখানে সমাবেশে বক্তারা নূর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। তারা অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনায় জাতীয় পার্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এসময় জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারাও গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভে সংহতি প্রকাশ করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুমকি উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ককে শোকজ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক চাকলাদার গোলাম সরোয়ারকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শোকজ করেছে জেলা ছাত্রদল।

গত ২৯ আগস্ট (শুক্রবার) পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো. মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়ার নির্দেশক্রমে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. হারুন রশীদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মুরাদিয়া আজিজ আহমেদ ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকে পদ দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষিত কমিটির চার নেতার পদত্যাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক গোলাম সরোয়ারের অনুগত পদবঞ্চিতরা মুরাদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে কলেজ ক্যাম্পাসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দলীয় শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এছাড়া, উক্ত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আহবায়ক সরোয়ারের সুপারিশ আমলে না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ে।

এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আহসানুল হক-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নুরের ওপর হামলা: ইসলামী আন্দোলনের কঠোর প্রতিবাদ

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রণী নেতা নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের সাহসী নেতার ওপর এ ধরনের বর্বর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখে দেওয়া। অথচ জাতীয় পার্টির অতীত ভূমিকা ছিল গণতন্ত্রবিরোধী এবং ফ্যাসিবাদকে আইনি কাঠামো দেওয়ার। তার মতে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টি প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। “জাতীয় পার্টি ইস্যুতে নুরকে রাস্তায় মারধর করা মানে জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জনকে অস্বীকার করা,” তিনি বলেন।

মাওলানা আতাউর রহমান আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বিশ্বাস করে ঘটনাটি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত সেনা ও পুলিশের ভুল সিদ্ধান্তের ফল হতে পারে। তবে কে বা কারা এ হামলার পেছনে মদত দিয়েছে, তা খুঁজে বের করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি নিজেই বুঝে নেবে কারা ফ্যাসিবাদের পক্ষ অবলম্বন করছে।




“আ.লীগ-জাপা একই পথের পথিক, পরিণতিও হবে একই”— সারজিস আলম

আওয়ামী লীগ যেভাবে অপরাধী, তাদের সহযোগী ও বৈধতা প্রদানকারী দল জাতীয় পার্টিও একইভাবে অপরাধে জড়িত— এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বক্তব্য দেন। সারজিস আলমের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় “প্ল্যান-বি” হিসেবে জাতীয় পার্টিকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তাই জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের ওপর হামলার পেছনেও এই পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে। তার ভাষায়, “জাতীয় পার্টি নিয়ে কঠোর বার্তা দেওয়ার জন্যই এই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

সারজিস আলম দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি একই পথের যাত্রী এবং অবশেষে তাদের পরিণতিও হবে অভিন্ন। তাই জাতীয় পার্টিকে বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




রাজধানীতে সংঘর্ষের পর গুরুতর আহত নুরুল হক নুর ঢামেকে

রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ৯টার পর গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা আল রাজী টাওয়ারের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ চালালে নুরুল হক নুরসহ দলের শীর্ষ নেতারা হামলার শিকার হন।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেন, সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতির সময় পুলিশ আকস্মিকভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এর আগে সন্ধ্যায় বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে সাংবাদিকসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন।




জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ সরকার: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনই দেশের ভবিষ্যৎ সরকার নির্ধারণ করবে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বরিশাল বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরাম আয়োজিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

আমীর খসরু বলেন, “ভোটের মাধ্যমেই জনগণ তাদের প্রতিনিধি ও সরকার নির্বাচন করবে। তখন জনগণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে মৌলিক চাহিদার কথা বলতে পারবে, আর সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।”

তিনি আরও জানান, বিএনপি একটি নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় আছে এবং জনগণ যদি সমর্থন দেয়, তবে দলটি আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে যাতে নির্বাচনের পরপরই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।

অর্থনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অর্থনীতি আর সীমিত গোষ্ঠীর হাতে থাকবে না। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে গিয়ে অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণ করতে হবে। গ্রামের মানুষের তৈরি একটি পণ্যই হতে পারে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার।”

তিনি জানান, বিএনপি দেশের প্রতিটি বিভাগে গিয়ে মানুষের সমস্যা ও দাবি শুনছে। হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পকে পুনরুদ্ধার, ব্র্যান্ডিং ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়া হবে।

আমীর খসরু আরও বলেন, “আমরা চাই গ্রামীণ মানুষ ঘরে বসেই পণ্য তৈরি করুক, যা দেশ-বিদেশে বিক্রি হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং অর্থনীতির মূলধারায় সাধারণ মানুষ যুক্ত হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফেরানোর দাবি জামায়াতের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান করে তাদের পরিবারে ফিরিয়ে দিতে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এ দিন গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করে তিনি তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে গুমের শিকার পরিবারের অনেকে চরম মানসিক ট্রমা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রিয়জনের খোঁজ না পাওয়ায় অনেক পরিবার ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

জামায়াত নেতার দাবি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সরকার আমলে সাতশ’রও বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ তালিকায় রয়েছেন। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ড ছিল বিরোধী কণ্ঠরোধের অংশ, যা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে তিনি কয়েকজন দীর্ঘদিন নিখোঁজ ব্যক্তির উদাহরণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ আরও অনেকের নাম উল্লেখ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, যদিও সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী ও আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম ফিরে এসেছেন, তবে বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা আশা করি অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গুমের শিকারদের ফিরিয়ে দেবেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।”




গণতান্ত্রিক রোডম্যাপের অপেক্ষায় বিএনপি : ফখরুলের সতর্ক বার্তা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের রাজনীতিকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের নতুন ধারায় নিতে হলে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জরুরি। তিনি মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ফখরুল বলেন, হতাশার কথা বললে অনেক সময় সমালোচনা শুনতে হয়, তবে বাস্তবতা হলো— আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ক্ষমতায় এসেছেন— এমন কোনো ভ্রান্ত ধারণা কারও মধ্যে থাকা উচিত নয়। এখনো চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র সক্রিয় রয়েছে। জনগণের আস্থা অর্জনেই হতে হবে মূল রাজনৈতিক শক্তি।”

তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে মতভেদ স্বাভাবিক হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। জনগণের মনে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় গভীর হচ্ছে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ঘোষিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তা না হলে রাষ্ট্র ও জাতি ভয়াবহ সংকটে পড়বে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কাও তীব্রতর হবে।

বিএনপির সংস্কার-অবদান প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “সংস্কারের প্রথম ধাপ শুরু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান— বহুদলীয় গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। অথচ কিছু গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, বিএনপি সংস্কারবিরোধী। বাস্তবে যত বড় সংস্কার হয়েছে, তা বিএনপির হাত ধরেই।”

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বিএনপিকে হেয় করার জন্য মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না।”