এবার ভোটের ফল প্রকাশে বেশি সময় লাগতে পারে— প্রেস সচিব

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ :বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে  প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন –

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবার ভোট গণনায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে ।

প্রেস সচিব বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোট গণনার প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।

নির্বাচনের সময় তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে উন্নত ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।

শফিকুল আলম বলেন, এসব ক্যামেরার ফুটেজ একটি সুরক্ষা অ্যাপে যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া (কুইক রেসপন্স) নিশ্চিত করা হবে।

ভোটের দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান প্রেস সচিব। একই সঙ্গে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় দায়িত্বে থাকবেন— সেনাবাহিনীর ১ লাখ সদস্য, নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য, বিমান বাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য বাহিনী এবং নজরদারিতে থাকবে ৫০০ ড্রোন।

নির্বাচনী সুরক্ষা’ অ্যাপ

শফিকুল আলম আরও জানান, ‘নির্বাচনী সুরক্ষা’ নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন, যা মাঠপর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।




পটুয়াখালী–৩ আসনে আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ, প্রশাসনের দ্বারস্থ প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন একই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও প্রকাশ্য স্থানে নির্বাচনের ফলাফল আগেভাগেই ঘোষণা করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি প্রকাশ্যে কে প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় অবস্থানে থাকবেন তা উল্লেখ করে বক্তব্য দিচ্ছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ ধরনের বক্তব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি ২০০৮-এর শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী বক্তব্য সংক্রান্ত বিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনী অপরাধের শামিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হাসান মামুনের সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের ধর্মগ্রন্থকে সাক্ষী রেখে শপথ গ্রহণে বাধ্য করছেন। ভোটারদের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের এমন কর্মকাণ্ড নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। এতে ভোটারদের স্বাধীন মত প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। এসব কর্মকাণ্ড গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী অসদাচরণ ও অবৈধ প্রভাব বিস্তারের আওতায় পড়ে।

পটুয়াখালী–৩ আসনে নির্বাচনী সমীকরণে রয়েছে একাধিক রাজনৈতিক কৌশল। বিএনপির সমর্থন নিয়ে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। একই সঙ্গে নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিমকেও প্রার্থী করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মো. হাসান মামুন দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একসময় দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এ সিদ্ধান্তের পর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অভিযোগকারী কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ও তার অনুসারীরা ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। এতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ধর্মীয় শপথ ও উসকানিমূলক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং পটুয়াখালী–৩ আসনে বিশেষ নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যমুনায় জামায়াতের নেতারা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়েছেন  জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের প্রতিনিধি দল।

আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে কালো রঙের একটি গাড়িতে চড়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান যমুনায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এর কিছুক্ষণ আগে আরেকটি গাড়িতে করে যমুনায় প্রবেশ করেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।




২৭ আসনে এনসিপির প্রার্থী চুড়ান্ত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি তিনটি আসনে শিগগিরই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে দলটি জানিয়েছে।

আজ রোববার এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২৭টি আসনে এনসিপির প্রার্থীদের নাম ও ছবিসংবলিত পোস্টার পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে ওই প্রার্থীদের পক্ষে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট চেয়েছে দলটি।

চূড়ান্ত হওয়া এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে-

আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা–১১ আসনে ,

সদস্যসচিব আখতার হোসেন,রংপুর–৪ আসনে,

দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহকুমিল্লা–৪ আসনে,

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমপঞ্চগড়–১ আসনে,

মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওঢাকা–৮ আসনে,

নোয়াখালী–৬ আসনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া  —

ঢাকা–১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, লক্ষ্মীপুর–১ আসনে মাহবুব আলম, সিরাজগঞ্জ–৬ আসনে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, নরসিংদী–২ আসনে সারোয়ার তুষার, নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন, পার্বত্য বান্দরবান আসনে এস এম সুজা উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে মাওলানা আশরাফ মাহদী, চট্টগ্রাম–৮ আসনে জোবাইরুল হাসান আরিফ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ আসনে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ এনসিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

দিনাজপুর–৫ সংসদীয় আসনে মো. আবদুল আহাদ, নোয়াখালী–২ আসনে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, ঢাকা–১৯ আসনে দিলশানা পারুল, ঢাকা–২০ আসনে নাবিলা তাসনিদ, কুড়িগ্রাম–২ আসনে আতিক মুজাহিদ, ময়মনসিংহ–১১ আসনে জাহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল–৩ আসনে সাইফুল্লাহ হায়দার, ঢাকা–৯ আসনে জাবেদ রাসিন, গাজীপুর–২ আসনে আলী নাছের খান, মুন্সিগঞ্জ–২ আসনে মাজেদুল ইসলাম, পিরোজপুর–৩ আসনে শামীম হামিদী এবং নাটোর–৩ আসনে এস এম জার্জিস কাদির ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে লড়বেন।

বাকী তিনটি আসনের প্রার্থী তালিকা অতি শিঘ্রই চুড়ান্ত করা হবে ।




রাজনীতির কঠিন সময়ে মানবিক বার্তা দিলেন ড. মাসুদ

দলীয় সিদ্ধান্তে অব্যাহতি পাওয়ার ঘটনায় যখন বাউফলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা, তখন মানবিকতা ও সৌহার্দ্যের ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত সামনে আনলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নেতা ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের এমপি প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগপূর্ণ বার্তায় তিনি বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল জব্বার মৃধার প্রতি সহমর্মিতা ও সমর্থনের কথা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক ভিন্নতার ঊর্ধ্বে উঠে তার এই অবস্থান ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বার্তায় ড. মাসুদ বলেন, মহান আল্লাহ যেন আবদুল জব্বার মৃধাকে মানসিক প্রশান্তি দান করেন এবং তাঁর দয়া ও নিরাপত্তায় তাকে ও তার পরিবারকে আগলে রাখেন। তিনি দোয়া ও ভালোবাসার ভাষায় নেতার পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার বক্তব্যে আবদুল জব্বার মৃধার সততা, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জব্বার মৃধা দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও সম্মান তিনি পাবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আবদুল জব্বার মৃধার সততা ও নিষ্ঠা দেশ, জাতি ও ইসলামের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার এই মূল্যবোধ অটুট থাকবে বলেই তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক বিভক্তির এই সময়ে ড. মাসুদের এমন মানবিক বার্তাকে অনেকেই ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে রাজনীতি করলে তা শুধু দলীয় সীমাবদ্ধতায় আটকে থাকে না, বরং মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।

উল্লেখ্য, শনিবার পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল জব্বার মৃধাকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপিতে বড় ধাক্কা, দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

পটুয়াখালী-৩ আসনের রাজনীতিতে বড় ধরনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবিলম্বে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একাংশ অনাগ্রহ দেখায়। মাঠপর্যায়ে নুরুল হক নুরের পক্ষে প্রত্যাশিত সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়।

একই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর তার পক্ষে সক্রিয় থাকার বিষয়টিও কেন্দ্রীয় নজরে আসে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমন ভূমিকা রাখাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এর আগে বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে নুরুল হক নুরের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় দল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, তার সঙ্গে অবস্থান নেওয়ায় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তার দাবি, সিদ্ধান্ত নিতে কেন্দ্র কিছুটা দেরি করেছে। তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই এবং তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সঙ্গেই থাকবেন।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন জানান, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির চিঠি তারা হাতে পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনে এই সিদ্ধান্ত বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় বার্তা দিচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনড় অবস্থান দেখিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্বাচনি কৌশলে ভিন্নমত বা দ্বিমুখী ভূমিকার সুযোগ নেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশপ্রেম মানে গালি নয়, ভালোবাসা আগে: মির্জা আব্বাস

দেশপ্রেমের সংজ্ঞা শুধু কোনো একটি দেশের বিরোধিতা করে নির্ধারণ করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, নিজের দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসা এবং দেশের স্বার্থে অবস্থান নেওয়াই প্রকৃত দেশপ্রেম। অন্য দেশের বিরুদ্ধে কথা বললেই কেউ দেশপ্রেমিক হয়ে যায় না।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচা ভবন মিলনায়তনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি ও তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা অতীতে একটি নির্দিষ্ট দেশের নানা কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছেন, এখনও করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তবে সেটিকে দেশপ্রেমের মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, আগে নিজের দেশের স্বার্থ, জনগণের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে, তারপর অন্য দেশের নীতির বিরোধিতা আসতে পারে।

তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, তরুণ বয়সেই বুঝে নিতে হবে কারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক এবং কারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। দেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও বাস্তবতা জানার মাধ্যমে সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দেশের স্বার্থে কথা বলতে গিয়ে অন্য কারও স্বার্থে আঘাত লাগলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, দেশকে ভালোবেসে কথা বলাই রাজনীতির মূল শিক্ষা হওয়া উচিত।

গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার অধিকার জনগণের। যার যেটা প্রয়োজন, সে সেটিতেই ভোট দেবে। এই স্বাধীনতা জনগণ অর্জন করেছে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে। কিন্তু জোর করে কাউকে কোনো একটি পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভোটের স্বাধীনতাই একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক শক্তির পরিচায়ক। এই স্বাধীনতাকে খর্ব করার চেষ্টা করলে মানুষ তা মেনে নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটের আগে কাবা ঘরে বাউফলবাসীর জন্য দোয়া ড. মাসুদের

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্যপ্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভোটের মাঠে নামার আগে পবিত্র ওমরা পালন করেছেন। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে ওমরা আদায় শেষে তিনি বাউফল উপজেলার মানুষের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন।

শুক্রবার পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে দাঁড়িয়ে বাউফল উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের জন্য দোয়া করেন ড. মাসুদ। এ সময় তিনি দেশ ও জাতির মঙ্গল, ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্যও প্রার্থনা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ওমরা পালনকালে তিনি বিশেষভাবে বাউফলের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, সামাজিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দ্বীনি পরিবেশ সুদৃঢ় করার জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি সামনে যে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেখানে যেন তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকতে পারেন—সে জন্যও আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

ভোটের আগে একজন ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেম প্রার্থীর পবিত্র ওমরা পালনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বাউফল উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, নেতৃত্বে আল্লাহভীরু ও নৈতিক মানুষ এলে এলাকার সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

বাউফল পৌর এলাকার একাধিক মুসল্লি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, ভোটের আগে ড. মাসুদের ওমরা পালন তাদের মনে আশার সঞ্চার করেছে। তারা মনে করছেন, একজন দ্বীনদার ও শিক্ষিত মানুষ জনপ্রতিনিধি হলে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।

নাজিরপুর ইউনিয়নের এক মসজিদের খতিব বলেন, কাবা ঘরে দাঁড়িয়ে বাউফলবাসীর জন্য দোয়া করা নিঃসন্দেহে একটি বরকতময় ঘটনা। এতে এলাকার মানুষের জন্য কল্যাণ নেমে আসবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

এদিকে কলাইয়া ইউনিয়নের কয়েকজন তরুণ মুসল্লি বলেন, ড. মাসুদ রাজনীতির পাশাপাশি নৈতিকতা ও দ্বীনের কথা বলেন। ভোটের আগে ওমরা পালন করে তিনি দেখিয়েছেন যে ক্ষমতার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের আশা, পবিত্র ভূমি থেকে করা এই দোয়া বাউফল উপজেলার মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সামনের রাজনৈতিক পথচলাতেও এর শুভ ফল দেখা যাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশ ভালো রাখতে হলে খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে

বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে ভালো রাখতে হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও নেতৃত্বকে ধারণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, একটি দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীল রাজনীতি এবং মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের সঙ্গে খালেদা জিয়ার অবদান গভীরভাবে জড়িত।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন সময়ে তার জন্য আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বারবার একটি কথাই বলেছেন—খালেদা জিয়া ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। তিনি মনে করেন, খালেদা জিয়া ব্যক্তি হিসেবে ভালো ছিলেন বলেই দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য তার অবদান এত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মধ্যে সততা, দৃঢ়তা, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের এক বিরল সমন্বয় ছিল। মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তিনি পরমতসহিষ্ণু ছিলেন, যা আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় খুবই প্রয়োজনীয় একটি গুণ। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে এই মূল্যবোধগুলোকে ধারণ করতেই হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। বলেন, আজ মানুষ স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারছে, ভালোবাসা ও সমালোচনা দুটোই প্রকাশ করতে পারছে। এই স্বাধীনতার পেছনে অনেক আত্মত্যাগ রয়েছে, অনেক সংগ্রাম রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, তাদের ত্যাগের কারণেই আজ প্রকাশ্যে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতিহাসই বলে দেয় কার জায়গা মানুষের হৃদয়ে হয় আর কার জায়গা হয় নির্বাসনে।

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। এতে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, শিক্ষক, চিকিৎসক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানজুড়ে বক্তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তার আদর্শ কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জোট নয়, একাই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটে না গিয়ে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে তারা আর থাকছে না এবং নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীদের নিয়েই মাঠে থাকবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই নীতি ও আদর্শের রাজনীতি করে আসছে। ইসলামপন্থি জনতার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা প্রতারণার প্রশ্নই ওঠে না।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি আদর্শভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন। সেই পথ থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে পথচলায় দেখা গেছে, আদর্শিক লক্ষ্য পূরণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই দলটি নিজেদের অবস্থান নতুন করে পর্যালোচনা করেছে।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর সারা দেশে ইসলামপন্থি শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার যে চেষ্টা করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে আসন বণ্টন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাতে ইসলামী আন্দোলনের মূল আদর্শ ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই ইসলামের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিকে সুরক্ষিত রাখতেই এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। আপিল পর্যায়ে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও বর্তমানে ২৬৮টি আসনে দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না এবং সবাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেন, সামনে পথচলা সহজ নাও হতে পারে। কারণ ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে আদর্শ ও নৈতিকতার রাজনীতি করে। নীতি, ইনসাফ ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রশ্নে তারা অতীতেও নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে।

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি এবং তাদের সাংগঠনিক সামর্থ্য রয়েছে। তবে আদর্শিক ও নৈতিক অবস্থানে ইসলামী আন্দোলন কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তারা আগের অবস্থানে নেই। এই বিষয়টি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, যখন রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তখন যদি প্রধান ইসলামপন্থি শক্তিগুলো ইসলামী আইন ও আদর্শ থেকে সরে আসে, তাহলে সারা দেশে যারা ইসলামের পক্ষে কাজ করছেন, তাদের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে। এই বাস্তবতা থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ আদর্শিক রাজনীতির মূল্যায়ন করবে এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম