বরগুনা ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি গঠন

বরগুনা ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মোট সাতজন সদস্য স্থান পেয়েছেন।

বরগুনার কমিটিতে নজরুল ইসলাম মোল্লা আহ্বায়ক, হুমায়ুন হাসান শাহীন সদস্যসচিব এবং ফজলুল হক মাস্টার প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন।

পিরোজপুরের কমিটিতে নজরুল ইসলাম খান আহ্বায়ক, সাইদুল ইসলাম কিসমত সদস্যসচিব, এলিজা জামান প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক এবং অধ্যাপক আলমগীর হোসেন সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

তথ্যটি প্রকাশ করেছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পৃথক দুই বিজ্ঞপ্তি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন নুর

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি দেশ ছাড়বেন বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের পরামর্শে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন নুর। তার সঙ্গে থাকবেন দলের সহ-সভাপতি ডা. সাজ্জাদ হোসেন।

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি দেশবাসীর কাছে নুরের সুস্থতার জন্য দোয়া চান।

উল্লেখ্য, গত ২৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করলে নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নুরকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বর্তমানে শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্র ধারন করবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর

জুলাই গন বিপ্লব , গুম-খুন-আয়নাঘর, শাপলা চত্বরের ম্যাসাকার পিলখানা হত্যাকাণ্ড,  এবং ভোট ডাকাতিসহ স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের সব গল্প ঐতিহাসিক তথ্য আকারে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে উপস্থাপন করা হবে।

শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক বৈঠকে জাদুঘর নির্মাণ কর্তৃপক্ষ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এ তথ্য জানায়।

সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এ জাদুঘরের নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উদ্বোধন সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।

তিনি বলেন, আমরা হাসিনার দুঃশাসনের চিত্রগুলো এই জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য কিউরেট করছি যাতে ১৬ বছরের ফ্যাসিজমের ইতিহাস জীবন্ত থাকে। জীবন্ত থাকে সরাসরি গণভবন থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত সব অত্যাচারের এবং নৃশংসতার ইতিহাস।

প্রধান উপদেষ্টা জাদুঘর নির্মাণ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, এ জাদুঘরে যারা আসবেন তারা ৫ আগস্ট গণভবনে জনতার ঢলকে অনুভব করবেন।

তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলার এই অনুভব নিয়ে আসাটাই এই জাদুঘরের একটা বড় কাজ।

জাদুঘর নির্মাণে আইসিটি প্রসিকিউশন টিম ও গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে বলে জানান জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব। তিনি বলেন, আমরা মনে করছি এটি একটি ইউনিক জাদুঘর হবে। ১৬ বছরের দুঃশাসনের গল্পগুলো এই জাদুঘরে সিকোয়েন্স আকারে থাকবে। দর্শনার্থীরা জানতে পারবেন শেখ হাসিনা কীভাবে দেশ চালাতেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, গুম-খুনের নির্দেশ দেওয়া অনেক অডিও ইতোমধ্যে জাদুঘর কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে। এই অডিওগুলো জাদুঘরে রাখা হচ্ছে। শেখ হাসিনা কীভাবে গুমের শিকার পরিবারগুলোকে ডেকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিতেন সে চিত্রও উঠে আসবে। এছাড়াও জাদুঘরে একটা স্ক্রিনিং সেন্টার থাকবে যেখানে জুলাই ও ১৬ বছরের দুঃশাসন নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে।

 




ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় শক্ত অবস্থানে বিএনপি: ইঞ্জিনিয়ার সোবহান

বিএনপি জনগণের দল হিসেবে নানা ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও সব সময় শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।

শনিবার বিকেলে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাউরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত কর্মী সভায় তিনি বলেন, দেশে ও দেশের বাইরে বিএনপির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এজন্য নেতাকর্মীদের সর্বদা সতর্ক থাকা জরুরি। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। নেতাকর্মীরা জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। অতীতের শিক্ষা গ্রহণ করে জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।

ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন, বিএনপি জেতার পর ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো সংস্কার করা হবে এবং ১৭ বছর ধরে নির্যাতিতদের সঠিক মূল্যায়ন ও সবধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতের সময়ে বিভিন্ন হামলা ও মামলা সত্ত্বেও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রতিটি আন্দোলন এবং সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন। জনগণ যদি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে না থাকে, সেই দলের কোনো সার্থকতা নেই। জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে এবং সেই আস্থা ধরে রাখতে হবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন বার্থী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হারুন মোল্লা, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল আউয়াল লোকমান, সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার সাদাত তোতা, গৌরনদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহে আলম ফকির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আবদুল মালেক আকন, আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহাবুবুল ইসলাম, গৌরনদী উপজেলা যুবদলের সভাপতি মনির হাওলাদার, আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি শোভন রহমান মনির, গৌরনদী পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল হাওলাদার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক মাসুম বিল্লাহ মিলন এবং জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম হীরা প্রমুখ।

এর আগে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান নেতাকর্মীদের সঙ্গে টরকী বাসষ্টান্ড ও বন্দরের ব্যবসায়ীদের মাঝে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২5




বিএনপির নামে ব্যক্তিস্বার্থে কেউ যেন সুযোগ না নেয়: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।

তারেক রহমান বলেন, “শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিটি সৈনিককে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে। কেউ যেন বিএনপির নাম ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে। এই দলের নাম বা আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারে। এ বিষয়ে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি ধানের শীষের কর্মী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আজও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের সামনে একটি লক্ষ্য—যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকা। এর বিকল্প নেই।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরাচার পতন ঘটালেও মাঝে মাঝে অদৃশ্য অপশক্তি মাথা তোলে। কিন্তু আমরা উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি করি। শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে হবে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি আমরা ইস্পাতের মতো ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারি, তবে সফল জনরায় নিশ্চিত হবে।”

এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের দুটি বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে বলেন—প্রথমত, দলীয় সিদ্ধান্তে ঐক্যবদ্ধ থাকা; দ্বিতীয়ত, দলের নামে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারে এবং দলের বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত সফল হতে না পারে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাত তুলে প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মানুষ জামায়াতকে বিশ্বাস করে: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, সৎ নেতৃত্বের কারণেই দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করে। আগামী নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকেই ভোট দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিশ্ব নবীর জীবন ও কর্মনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর গোদাগাড়ী পৌর ওলামা বিভাগ।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু) নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করেছে, জনগণ জামায়াতকে আস্থার জায়গায় রেখেছে। আধুনিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সেই রাষ্ট্রের রূপকার। তাঁর নীতি-আদর্শই আমাদের পথপ্রদর্শক।”

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগরের মাজলিসুল মুফাসসিরীনের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন গোদাগাড়ী পৌর ওলামা বিভাগের সভাপতি শায়খ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক, রাজশাহী আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ড. ওবায়দুল্লাহ, গোদাগাড়ী পৌর আমির আনারুল ইসলাম, জেলার সহকারী সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান ও উপজেলা জামায়াতের আমির নোমায়ন মাস্টারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

দিনব্যাপী আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্বনবীর জীবন ও কর্মনীতি অনুসরণের আহ্বান জানান এবং সমাজে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের মন্তব্য: গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া সংকট কাটবে না

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, সংবিধান মেনে চললে পার্লামেন্টের বাইরে গিয়ে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাসে মুসোলিনি ও হিটলারও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন, কিন্তু তাদের শাসনব্যবস্থা ছিল একেবারেই ফ্যাসিবাদী। তাই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ করতে না পারলে দেশের জন্য তা কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিএনপি-জামায়াতকে বাদ দিয়ে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে জনগণের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। ফলে সেই নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সামনের নির্বাচনও একপেশে হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, এখন যদি কোনো কর্মকর্তার নাম বলা হয়, তখন মানুষ আগে খোঁজেন তিনি আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী নাকি জামায়াতপন্থী। এ ধরনের বিভক্ত প্রশাসন দিয়ে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, জনগণের আস্থা ফেরাতে হলে একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




প্রতিক্ষার অবসান ৯ বছর পর কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন আজ

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ:   কিশোরগঞ্জ জেলায় দীর্ঘ ৯ বছরের প্রতিক্ষার অবসানের পর  বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আজ শনিবার শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মোট ছয়জন নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৩টি উপজেলা ও ৮ পৌর কমিটির ২ হাজার ৯০ জন কাউন্সিলরের ভোটের মাধ্যমে শীর্ষ দুটি পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সম্মেলন কে  ঘিরে পুরো কিশোরগঞ্জে আজ উৎসবের আমেজ,  সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ কারা পাচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। শহরের স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন এলাকা প্রার্থীদের ছবিসংবলিত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে ভরে গেছে। দুই শর ওপরে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। স্টেডিয়ামে বিশাল মঞ্চের সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছে ৩০ হাজার বর্গফুটের অস্থায়ী ছাউনি। সম্মেলন ঘিরে দলের নেতা–কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ–উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, বেলা ১১টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মো. শরীফুল আলমকে সভাপতি ও মাজহারুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা। ওই সময় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত থাকলেও বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়ে যায় সম্মেলন। পরে তিন সপ্তাহ পর কেন্দ্র থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এবার সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি মো. শরীফুল আলম। তাঁকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘আনারস’। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বেও আছেন। তাঁর সঙ্গে ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান জেলা কমিটির সহসভাপতি রুহুল হোসাইন।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। তাঁদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে কাউন্সিলররা তাঁদের নেতা নির্বাচন করবেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘বিএনপি যে একটি গণতান্ত্রিক দল, এ নির্বাচনই তার প্রমাণ। নেতা-কর্মীরা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে তাঁদের নেতা নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন। সব সময় দলের নেতা-কর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

 




সংগঠন শক্তিশালী হলে তবেই সফল হবে বিপ্লব: মির্জা ফখরুল

ঢাকা থেকে মো: আল-আমিন — বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংগঠন ছাড়া কোনো বিপ্লব সফল হতে পারে না। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলা একাডেমির সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে প্রয়াত কমরেড বদরুদ্দীন উমরের স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকের সমাজে যে হতাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার মূল কারণ হচ্ছে সংগঠনের দুর্বলতা। বিপ্লবী সংগঠন না থাকলে কোনো বিপ্লব সফল হয় না। যারা সত্যিই সমাজ পরিবর্তন করতে চান এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে চান, তাদের অবশ্যই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে।”

তিনি প্রয়াত বদরুদ্দীন উমরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার আদর্শ ও সংগ্রাম থেকে বিচ্যুত হননি। আপসহীন সংগ্রামী হিসেবে তিনি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।”

শোকসভার শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় আরও বক্তব্য দেন মাহবুবউল্লাহ, কমরেড খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, ড. আকমল হোসেন, কমরেড সজীব রায় এবং অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। বক্তারা সবাই কমরেড বদরুদ্দীন উমরের রাজনৈতিক ভূমিকা, তার নিরলস সংগ্রাম এবং সমাজ পরিবর্তনে অবদানের কথা স্মরণ করেন।

শোকসভা শেষে বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে মজবুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে বিপ্লবী চেতনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি না পেলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে জনগণ তা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করবে।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাড্ডা ইউলুপ সংলগ্ন প্রধান সড়কে পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের আমির স্বাধীনতার ৫৩ বছর পূর্ণ হলেও দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়ার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জাতির সামনে তিনটি মৌলিক স্লোগান ছিল—সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়েও এ স্লোগানগুলো বাস্তবে পরিণত হয়নি।

মুফতি রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রেখেছে, তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, জনগণের সাথে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে ক্ষমতার রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাবেশে তিনি পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে—জুলাই সনদের আইনি বৈধতা নিশ্চিত করা, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের রাজনীতি বন্ধ করা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

চরমোনাই পীর আরও বলেন, দেশের জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। তারা আর প্রতিশ্রুতির ফাঁকা বুলি শুনতে চায় না। ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সৎ ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

গণসমাবেশ শেষে দলীয় নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করেন এবং রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে ফিরে আসেন। উপস্থিত নেতারা জানান, তাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ, তবে জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম