মানুষ জামায়াতকে বিশ্বাস করে: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, সৎ নেতৃত্বের কারণেই দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করে। আগামী নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকেই ভোট দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিশ্ব নবীর জীবন ও কর্মনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর গোদাগাড়ী পৌর ওলামা বিভাগ।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু) নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করেছে, জনগণ জামায়াতকে আস্থার জায়গায় রেখেছে। আধুনিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সেই রাষ্ট্রের রূপকার। তাঁর নীতি-আদর্শই আমাদের পথপ্রদর্শক।”

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগরের মাজলিসুল মুফাসসিরীনের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন গোদাগাড়ী পৌর ওলামা বিভাগের সভাপতি শায়খ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক, রাজশাহী আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ড. ওবায়দুল্লাহ, গোদাগাড়ী পৌর আমির আনারুল ইসলাম, জেলার সহকারী সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান ও উপজেলা জামায়াতের আমির নোমায়ন মাস্টারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

দিনব্যাপী আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্বনবীর জীবন ও কর্মনীতি অনুসরণের আহ্বান জানান এবং সমাজে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের মন্তব্য: গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া সংকট কাটবে না

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, সংবিধান মেনে চললে পার্লামেন্টের বাইরে গিয়ে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাসে মুসোলিনি ও হিটলারও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন, কিন্তু তাদের শাসনব্যবস্থা ছিল একেবারেই ফ্যাসিবাদী। তাই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ করতে না পারলে দেশের জন্য তা কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিএনপি-জামায়াতকে বাদ দিয়ে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে জনগণের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। ফলে সেই নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সামনের নির্বাচনও একপেশে হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, এখন যদি কোনো কর্মকর্তার নাম বলা হয়, তখন মানুষ আগে খোঁজেন তিনি আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী নাকি জামায়াতপন্থী। এ ধরনের বিভক্ত প্রশাসন দিয়ে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, জনগণের আস্থা ফেরাতে হলে একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




প্রতিক্ষার অবসান ৯ বছর পর কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন আজ

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ:   কিশোরগঞ্জ জেলায় দীর্ঘ ৯ বছরের প্রতিক্ষার অবসানের পর  বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আজ শনিবার শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মোট ছয়জন নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৩টি উপজেলা ও ৮ পৌর কমিটির ২ হাজার ৯০ জন কাউন্সিলরের ভোটের মাধ্যমে শীর্ষ দুটি পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সম্মেলন কে  ঘিরে পুরো কিশোরগঞ্জে আজ উৎসবের আমেজ,  সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ কারা পাচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। শহরের স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন এলাকা প্রার্থীদের ছবিসংবলিত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে ভরে গেছে। দুই শর ওপরে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। স্টেডিয়ামে বিশাল মঞ্চের সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছে ৩০ হাজার বর্গফুটের অস্থায়ী ছাউনি। সম্মেলন ঘিরে দলের নেতা–কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ–উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, বেলা ১১টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মো. শরীফুল আলমকে সভাপতি ও মাজহারুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা। ওই সময় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত থাকলেও বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়ে যায় সম্মেলন। পরে তিন সপ্তাহ পর কেন্দ্র থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এবার সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি মো. শরীফুল আলম। তাঁকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘আনারস’। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বেও আছেন। তাঁর সঙ্গে ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান জেলা কমিটির সহসভাপতি রুহুল হোসাইন।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। তাঁদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে কাউন্সিলররা তাঁদের নেতা নির্বাচন করবেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘বিএনপি যে একটি গণতান্ত্রিক দল, এ নির্বাচনই তার প্রমাণ। নেতা-কর্মীরা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে তাঁদের নেতা নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন। সব সময় দলের নেতা-কর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

 




সংগঠন শক্তিশালী হলে তবেই সফল হবে বিপ্লব: মির্জা ফখরুল

ঢাকা থেকে মো: আল-আমিন — বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংগঠন ছাড়া কোনো বিপ্লব সফল হতে পারে না। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলা একাডেমির সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে প্রয়াত কমরেড বদরুদ্দীন উমরের স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকের সমাজে যে হতাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার মূল কারণ হচ্ছে সংগঠনের দুর্বলতা। বিপ্লবী সংগঠন না থাকলে কোনো বিপ্লব সফল হয় না। যারা সত্যিই সমাজ পরিবর্তন করতে চান এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে চান, তাদের অবশ্যই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে।”

তিনি প্রয়াত বদরুদ্দীন উমরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার আদর্শ ও সংগ্রাম থেকে বিচ্যুত হননি। আপসহীন সংগ্রামী হিসেবে তিনি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।”

শোকসভার শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় আরও বক্তব্য দেন মাহবুবউল্লাহ, কমরেড খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, ড. আকমল হোসেন, কমরেড সজীব রায় এবং অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। বক্তারা সবাই কমরেড বদরুদ্দীন উমরের রাজনৈতিক ভূমিকা, তার নিরলস সংগ্রাম এবং সমাজ পরিবর্তনে অবদানের কথা স্মরণ করেন।

শোকসভা শেষে বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে মজবুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে বিপ্লবী চেতনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি না পেলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে জনগণ তা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করবে।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাড্ডা ইউলুপ সংলগ্ন প্রধান সড়কে পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের আমির স্বাধীনতার ৫৩ বছর পূর্ণ হলেও দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়ার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জাতির সামনে তিনটি মৌলিক স্লোগান ছিল—সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়েও এ স্লোগানগুলো বাস্তবে পরিণত হয়নি।

মুফতি রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রেখেছে, তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, জনগণের সাথে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে ক্ষমতার রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাবেশে তিনি পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে—জুলাই সনদের আইনি বৈধতা নিশ্চিত করা, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের রাজনীতি বন্ধ করা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

চরমোনাই পীর আরও বলেন, দেশের জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। তারা আর প্রতিশ্রুতির ফাঁকা বুলি শুনতে চায় না। ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সৎ ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

গণসমাবেশ শেষে দলীয় নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করেন এবং রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে ফিরে আসেন। উপস্থিত নেতারা জানান, তাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ, তবে জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার আহ্বান নুরুল হক নুরের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার আহ্বান জানান।

নুরুল হক নুর তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ২৯ আগস্ট গণ অধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে সেনাবাহিনীর মধ্যে থাকা সরকারের এজেন্টদের বর্বরোচিত হামলার বিচারহীনতার এখনো কোনো সমাধান হয়নি। তিনি লেখেন, “২০০৭ সালে তারেক রহমান, ২৫ আগস্ট আমার ওপর হামলা হয়েছিল। সামনে আর কাকে লক্ষ্য করা হবে?”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যেসব বাহিনী নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবে, তারা কি সত্যিই নিরপেক্ষ আচরণ করবে? নুর বলেন, “নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ নেয়, তবে সুষ্ঠু ভোট আয়োজন করা সম্ভব নয়। এরা লীগ ও জাপার দোসরদের ফেভার করবে না—এমন নিশ্চয়তা কোথায়?”

ফেসবুক পোস্টে তিনি সবার উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে লেখেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন বাংলাদেশ!” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সুরক্ষা এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আর এর জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তবে কি এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ একীভূত হতে যাচেছ ?

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: রাজনীতি কি নীতির রাজা নাকি রাজার নীতি এ নিয়ে আলোচনা সমালোচন কম হয়নি কিন্ত রাজনীতিতের শেষ বলে যে কোন কথা নেই এটা শতসিদ্ধ কথা , আর তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ও সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একীভূত হয়ে এক দলে পরিণত হওয়া নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।একই সঙ্গে একীভূত দলের সঙ্গে এবি পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আপ বাংলাদেশের জোট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে একীভূত এবং জোট গঠন নিয়ে একাধিবার অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানালেও, এ ব্যাপারে কোনো দলের নেতারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ।

গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, এরকম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপির এক নেতা জানান, ‘একীভূত হওয়ার আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি গণঅধিকার পরিষদ থেকে কোনো প্রস্তাবনাও আসেনি। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌক্তিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সঙ্গে আমাদের একসঙ্গে কাজ করার চিন্তা রয়েছে।’

গণঅধিকার পরিষদের একজন নেতা বলেন, সভাপতি নুরুল হক নুর হামলার শিকার হয়ে এতদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি এখনো অসুস্থ। তিনি সুস্থ হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করলে এ ব্যাপারে আরো আলোচনা হবে।

এবি পার্টির কেন্দ্রীয় একজন নেতা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর ঐক্য নিয়ে বহুমাত্রিক আলোচনা চলছে। এখানে একীভূত হওয়া নিয়ে এক ধরনের আলোচনা যেমন চলছে, তেমন ইস্যুভিত্তিক জোটবদ্ধ হওয়ার আলোচনাও আছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরো আলোচনা হবে।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘একীভূত না হলে ইস্যুভিত্তিক জোট গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলে বিষয়টিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করছি।’

আপ বাংলাদেশের শীর্ষ এক নেতা বলেন, এনসিপির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হয়েছে একীভূত হওয়ার বিষয়ে। একীভূত না হলে জোটগতভাবে এগোনোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সামনে আরো আলোচনার মধ্য দিয়েই কোনো একটি সিদ্ধান্ত আসবে।




ছাত্রদলকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান ইঞ্জিনিয়ার সোবহানের

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে ছাত্রসমাজ সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যে অবদান রেখেছিল, তা আজও স্মরণীয়। তেমনি সাম্প্রতিক ২৪-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও ছাত্রদলের কঠোর ভূমিকা ছিল প্রশংসিত।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বর্তমান বাংলাদেশ ছাত্রদলের দিকে তাকিয়ে আছে। ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সততা ও ন্যায়ের পথে থেকে সংগঠিত হয়ে কাজ করতে হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে যেমন তিনি বরিশাল-১ আসনের ছাত্রদলের পাশে ছিলেন, বর্তমানে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত স্বপ্নের ৩১ দফা বাস্তবায়নে প্রত্যেককে মাঠে নামতে হবে এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে হবে।

ইঞ্জিনিয়ার সোবহান সতর্ক করে বলেন, “সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ছাত্রদলে কোনো স্থান নেই।”

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুরের কৃতি সন্তান সৈয়দ নাজমুল ইসলাম বাহার। এতে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা, পৌর এবং কলেজ শাখার ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচন চায় জামায়াত

জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আগে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, “জুলাই সনদে জনআকাঙ্ক্ষা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এটির আইনি ভিত্তি দিতে হবে, সংস্কার করতে হবে এবং গণভোটের মাধ্যমে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে। যা নির্বাচনের আগে করা উচিত।”

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “আজ তিন দিনের কর্মসূচির প্রথম দিনে মানুষের ঢল নেমেছে। স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের চতুর্মুখী চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে একটি দল প্রভাব খাটাচ্ছে যা সরকারের কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে। জাতীয় নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে এবং জুলাই সনদ অনুযায়ী হতে হবে। অন্যথায় এটি হবে জনআকাঙ্ক্ষার বিরোধিতা।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “নির্বাচন আগে আইনগত ও সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত না হলে দেশে নতুন ফ্যাসিবাদী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আমরা আন্দোলনে নেমেছি, তবে আলোচনার টেবিলে যেতে প্রস্তুত। জনগণ যদি পিআর পদ্ধতি মানে, সরকারকেও তা মানতে হবে।”

জামায়াতের আন্দোলন মূলত জুলাই সদন ঘোষণা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিআর পদ্ধতি নিয়ে গণভোটের আহ্বান মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে জুলাই সনদের ভিত্তিতে পিআর (প্রতিশতভিত্তিক) পদ্ধতি প্রবর্তনের জন্য গণভোট হওয়া উচিত। জনগণ যদি পিআরের পক্ষে না থাকে, তাহলে দলও আর এই দাবী রাখবে না।

১৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, দেশে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, গণহত্যার বিচার করা এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি। তিনি বলেন, যুগপৎ আন্দোলন হচ্ছে, যা বিশেষ কোনো দলের নেতৃত্বাধীন নয়।

সমাবেশে তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক স্তরে গানের শিক্ষক নিয়োগের চেয়ে ভাষা, বিজ্ঞান, গণিত ও তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষকের নিয়োগের বিষয়টি প্রাধান্য পেতে হবে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ উল্লেখ করেন, বিগত ৫ মাস ৫ দিন ধরে কমিশনে পিআরের বিষয়টি আলোচনায় আনা যায়নি। দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতেয়াজ আলম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারই ছিল মূল লক্ষ্য।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় হয়ে বায়তুল মোকাররমে এসে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। আগামীকাল এই দাবীতে বিভাগীয় শহরে আরও বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

উক্ত সমাবেশে দলের কেন্দ্র ও মহানগর নেতৃবৃন্দসহ সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাউয়ুম, মুফতি রেজাউল করীম আবরার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাকি ও মাওলানা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫