বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির একাধিক, জামায়াতের একক প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ কখনোই এ আসন থেকে জিততে পারেনি। তবে অতীতে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে এ আসনে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও জামায়াত একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
বিএনপি থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং তরুণ নেতা ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদের নাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হলেও প্রত্যাশা করছেন, যেই প্রার্থীই মনোনয়ন পান না কেন, বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকবে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগরের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে—বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি দুই প্রার্থী দেওয়ায় আসনটি হারায়। তবে স্থানীয় নেতাদের বিশ্বাস, এবার যদি প্রার্থী নির্ধারণে ঐক্য রাখা যায়, বিএনপি জয় পেতে সক্ষম হবে। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, “এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। আওয়ামী লীগ কোনোদিনই এখানে জিততে পারেনি। মনোনয়ন যাকেই দেওয়া হোক, বিএনপিই বিজয়ী হবে।”
অন্যদিকে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টি মাঠে নেই। ফলে নির্বাচনের প্রাক্কালে মাঠ দখলে রাখতে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টি সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে।
সব মিলিয়ে বরিশাল-৩ আসনটি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এ আসনকে ঘিরে ভোটযুদ্ধ জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








