বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির একাধিক, জামায়াতের একক প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ কখনোই এ আসন থেকে জিততে পারেনি। তবে অতীতে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে এ আসনে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও জামায়াত একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

বিএনপি থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং তরুণ নেতা ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদের নাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হলেও প্রত্যাশা করছেন, যেই প্রার্থীই মনোনয়ন পান না কেন, বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকবে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগরের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে—বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি দুই প্রার্থী দেওয়ায় আসনটি হারায়। তবে স্থানীয় নেতাদের বিশ্বাস, এবার যদি প্রার্থী নির্ধারণে ঐক্য রাখা যায়, বিএনপি জয় পেতে সক্ষম হবে। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, “এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। আওয়ামী লীগ কোনোদিনই এখানে জিততে পারেনি। মনোনয়ন যাকেই দেওয়া হোক, বিএনপিই বিজয়ী হবে।”

অন্যদিকে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টি মাঠে নেই। ফলে নির্বাচনের প্রাক্কালে মাঠ দখলে রাখতে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টি সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বরিশাল-৩ আসনটি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এ আসনকে ঘিরে ভোটযুদ্ধ জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




উত্তপ্ত লাদাখ আন্দোলনের নেপথ্য নায়ক সোনম ওয়াংচুক, গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: লাদাখ ভারতের উত্তর সীমান্তে অবস্থিত শান্ত ও মনোরম  শহর বলে খ্যাত যা বর্তমানে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতাভুক্তির দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকারের দাবি, লাদাখকে অশান্ত করতে মুখ্য ভূমিকায় আছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীদের উস্কানি দেয়ার অভিযোগে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে বিদেশি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার ‘স্টুডেন্ট এডুকেশন অ্যান্ড কালচারার মুভমেন্ট অব লাদাখ’ (এসইসিএমওএল)- এর লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। পৃথক রাজ্য গঠন ও লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনকারী জনতার সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষে বুধবার লেহতে চারজন নিহত ও আহত হন ৮০ জন। আন্দোলন শুরুর দুই দিন পর ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করলো লাদাখ পুলিশ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

১৯৬৬ সালে জম্মু ও কাশ্মীর (বর্তমানে লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)-এর লেহ জেলার আলচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সোনম। একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তার সবচেয়ে বড় অবদান হলো লাদাখের ছাত্র শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন প্রতিষ্ঠা। ১৯৮৮ সালে একদল ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই আন্দোলন শুরু করেন। তার নেতৃত্বে লাদাখের সরকারি স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়, যা ‘অপারেশন নিউ হোপ’ নামে পরিচিত। এর ফলে বহু পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রী শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরে আসে। তার এই কাজই তাকে ২০১৮ সালে ম্যাগসেসে পুরস্কার এনে দেয়। বলিউড চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র র‌্যাঞ্চো আংশিকভাবে তার জীবন ও কাজ থেকে অনুপ্রাণিত।

লাদাখকে ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করে আদিবাসী মর্যাদা এবং ভূমি ও কর্মসংস্থান সুরক্ষা নিশ্চিত করা। লাদাখের জন্য রাজ্যের মর্যাদা প্রদান করা। এই দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।

এই অনশন চলাকালীন, লাদাখকে রাজ্য এবং ষষ্ঠ তফসিলের দাবিতে হওয়া আন্দোলনে উত্তেজনা ছড়ায়। সম্প্রতি লেহ শহরে প্রতিবাদ হিংসাত্মক রূপ নিলে চারজনের মৃত্যু এবং বহু মানুষ আহত হন। সরকারের পক্ষ থেকে এই সহিংসতার জন্য সরাসরি সোনম ওয়াংচুকের ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ এবং অনশনকেই দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াংচুক এই ঘটনাকে বিজেপি’র প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফল এবং যুবসমাজের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন।




বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো সোহেল তাজকে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এসএস (ইমিগ্রেশন) কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, ‘ভ্রমণরোধ’ থাকায় সোহেল তাজ দেশত্যাগ করতে পারেননি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০১ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সোহেল তাজ।

২০০৮ সালে একই আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

একই বছরের ৩১ মে মন্ত্রিসভা থেকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন সোহেল তাজ।




ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন: চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে — সিইসি

আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে করার লক্ষ্য নিয়ে তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি তদারকি করা হচ্ছে। রমজানের আগে ভোট আয়োজন করতে ও কয়েক দফা কাজ সম্পন্ন করতে কমিশন তৎপরভাবে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

সিইসি বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার জন্য যা যা প্রস্তুতি দরকার, আমরা জোরে–সোরে নিচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য একটি সুন্দর, ঐতিহাসিক ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।” তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের উচিৎ ধারাবাহিক কাজ করা এবং নিরপেক্ষভাবে আচরণ করা। সাংবাদিকদের প্রতি বলেও বলেন, গণমাধ্যম সঠিক তথ্য পৌঁছে দিলে নির্বাচন আরও সম্মানজনক হবে — অন্যথায় ভুল ব্যাখ্যা পরিস্থিতি নষ্ট করতে পারে।

কমিশনার আরও জোর দিয়ে বলেন, কমিশন কোনো পক্ষ কিংবা প্রভাবের কাছে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না, বরং আইন ও সংবিধান অনুসরণ করে কাজ করবে। “আমরা বিবেকের তাড়নায় চলি, আইন অনুযায়ী চলি, সংবিধান অনুযায়ী চলি এবং সরল, সোজা পথে চলব — কোনো বাঁকা পথে নয়,” তিনি বলেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে সিইসি স্পষ্ট করেন, “রাজনৈতিক দল আমাদের প্রধান স্টেকহোল্ডার। তাদের সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর নির্বাচন সম্ভব নয়।” তিনি যোগ করেন, মাঠে অংশ নেওয়া সব দলের কাছেই অনুরোধ থাকবে যে তারা ফাউল বা অসদাচরণে লিপ্ত হবে না; এমন হলে রেফারির পক্ষে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

সিইসি বিদেশ সফরে থাকা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিদেশে সবার কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যে নির্বাচনের সময় নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন এবং সেখানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপের সুযোগও রয়েছে — এ সব যোগাযোগও ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ঠু করতে সহায়ক হবে বলে আশা করেন তিনি।

একই সঙ্গে সিইসি আবারো গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আপনাদের (গণমাধ্যম) সহযোগিতা লাগবে। আমাদের আন্তরিকতা নিয়ে আপনি জনগণকে বুঝাতে সাহায্য করবেন। আমরা কারো কথায় চলতে চাই না — আমরা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী চলতে চাই।”

সিইসি আশা ব্যক্ত করেন, রাজনীতিকরা নির্বাচনে অংশ নেবেন সৌন্দর্যবোধ ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মানে বুঝে; কেউ নির্বাচনের মাঠে ফাউল বা অন্যায় করার ইচ্ছা নিয়ে নামবেন না। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি আমাদের স্টেকহোল্ডাররা সুন্দরভাবে সহযোগিতা করবে — কারণ আমরা একটি বিশাল বিপ্লবের মধ্যে আছি এবং এখন ক্রান্তি লগ্নে আছি।”

ব্রিফিংয়ে সিইসি কয়েকটি প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির দিকও আভাস দেন — ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, কেন্দ্র বনাম ফলাফল প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যাবস্থা এবং বুথভিত্তিক লজিস্টিক ব্যবস্থা দ্রুত তদারকি করা হবে। তিনি সমগ্র ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নাগরিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন নিশ্চিত করতে সিইসি জনগণকে আত্মবিশ্বাসীভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সব পক্ষকে আইন এবং সংবিধান মেনে চলার আবেদন করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফেব্রুয়ারিতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। প্রধান উপদেষ্টাও নির্বাচনের পক্ষে। তবে শত্রুরা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, যা সবাইকে মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।”

জনগণের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না তা নিয়ে যে আস্থা সংকট রয়েছে, সে প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “অবশ্যই নির্বাচন হবে। তবে মানুষের মধ্যে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা দূর করে সবার মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টির জন্য কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও নির্বাচনের পক্ষে এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে দৃঢ় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলও জানে যে নির্বাচন আসন্ন।

নির্বাচন নিয়ে এনসিপি ও জামায়াতের দাবিসমূহ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক দল সবসময় দরকষাকষির মাধ্যমে কিছু অর্জন করতে চায়। তবে সব দাবি সহজে পূরণযোগ্য নয় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার সুযোগ রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নিউইয়র্ক ঘটনার দায়ভার প্রধান উপদেষ্টার: সারজিস আলম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের ওপর হামলা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনার দায়ভার প্রধান উপদেষ্টাকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অথচ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম যখন একই ধরনের ঘটনার শিকার হন, তখন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করায় এটি নিছক গাফিলতি নয়, বরং ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার দায়ভার প্রধান উপদেষ্টাকে স্বীকার করতে হবে।”

সারজিস আলম আরও বলেন, “আমরা চাই, ভবিষ্যতে কেবল দায় স্বীকার আর বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। জনগণ সেটাই প্রত্যাশা করছে।”

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের প্রতীক বিষয়ে দলটি সাদা বা লাল শাপলার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু কোনো আইনি বাধা না থাকা সত্ত্বেও চাপের কারণে নির্বাচন কমিশন সাহস দেখাতে পারেনি। এটিকে কমিশনের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ: জামায়াত আমির

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিবেশী দেশের হস্তক্ষেপ রোধ করাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে চীনা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন—আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা হবে।

চীনা প্রতিনিধি দলের প্রধান ঝো পিংজিয়ানের সঙ্গে আলোচনায় জামায়াতের আমির আরও জানান, ভবিষ্যতে দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

বৈঠকে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দুই দেশের পার্টি টু পার্টি সম্পর্ক, সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও অবহিত করেন জামায়াত নেতারা।

এ সময় চীনের ফরেন অ্যাফেয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝো পিংজিয়ানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নৌকা স্থগিত, নতুন গেজেটে ১১৫ প্রতীকের তালিকা প্রকাশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১১৫টি নির্বাচনী প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে গেজেটে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশোধিত নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার আলোকে এবার ১১৫টি প্রতীক প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে— আপেল, আনারস, আম, আলমিরা, ঈগল, উটপাখি, উদীয়মান সূর্য, একতারা, কাঁচি, কবুতর, কলম, কলস, কলার ছড়ি, কাঁঠাল, কাপ-পিরিচ, কাস্তে, কুমির, কম্পিউটার, কুড়াল, কুলা, কোদাল, খাট, খেজুর গাছ, গাভী, গরুর গাড়ি, ঘুড়ি, ঘণ্টা, গোলাপ ফুল, ঘোড়া, চাকা, চেয়ার, ছাতা, জাহাজ, টেলিভিশন, টেলিফোন, রিকশা, ট্রাক, লাঙ্গল, মাছ, মোমবাতি, মোবাইল ফোন, হাতুড়ি, হাতি, হাতঘড়ি, সেলাই মেশিন, ফুটবল, প্রজাপতি, বাইসাইকেল, বৈদ্যুতিক পাখা, মশাল, সিংহ, মোরগ, হাঁস, হাতপাখা, রকেট, হেলিকপ্টারসহ অন্যান্য প্রতীক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত দল বা তাদের প্রতীক কোনোভাবেই নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে না। এ কারণে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকাকে স্থগিত করা হয়েছে। ফলে নতুন করে কোনো প্রতীক নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা এ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নৌকা প্রতীক স্থগিত হওয়ায় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি হলো। অন্যদিকে, বিকল্প প্রতীক বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সেটি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে— তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই প্রতীকের তালিকা সংশোধন ও নৌকা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিগগিরই বিএনপির মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে: জাহিদ হোসেন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি খুব দ্রুত দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রায় দেড় বছর আগ থেকেই নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে সরাসরি মনোনয়নের বিষয়ে সবুজ বা লাল সংকেত দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

এ সময় তিনি নিউইয়র্কে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই ঘটনা আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাঠে নেমে জনগণ এ ধরনের হামলাকারীদের প্রতিহত করবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না বিএনপি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দলের প্রস্তাবিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচন কমিশনের ১১৫ প্রতীকের তালিকা প্রকাশ, নেই শাপলা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: নৌকা প্রতীক স্থগিত রেখে ১১৫টি প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার নির্বাচন কমিশন থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে তালিকায় নেই শাপলা প্রতীক। এ ছাড়া প্রতীকের তালিকায় দাঁড়িপাল্লা সংযুক্ত করা হয়েছে
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (প্রেসিডেন্স অর্ডার নং ১৫৫ অব ১৯৭২) এর আর্টিকেল ৯৪ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এ এই সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন।

১১৫টি প্রতীকের মধ্যে রয়েছে

আপেল, আনারস, কোদাল, খাট, টেবিল ঘড়ি, ফ্রিজ, মোড়া, ট্রাক, বক, মোরগ, আম, খেজুর গাছ, টেলিফোন, বাঘ, রকেট, আলমিরা, গরুর গাড়ী, টেলিভিশন, বই, রিক্সা, ঈগল, গাভী, ডাব, বটগাছ, লাউ, উটপাখি, গামছা, ঢেঁকি, বাঁশি, লিচু, উদীয়মান সূর্য, গোলাপ ফুল, তবলা, বেঞ্চ, লাঙ্গল, একতারা, ঘণ্টা, তরমুজ, বেগুন, শঙ্খ, কাঁচি, ঘুড়ি, তারা, বাইসাইকেল, সোনালী আঁশ, কবুতর, কলম, ঘোড়া, থালা, বালতি, সেলাই মেশিন, চাকা, দাঁড়িপাল্লা, বেলুন, সোফা, কলস, চার্জার লাইট, দালান, বৈদ্যুতিক পাখা, সিংহ, কলার ছড়ি, চাবি, দেওয়াল ঘড়ি, মই, কাঁঠাল, চিংড়ি, দোয়াত কলম, মগ, সুটকেস, হরিণ, কাঁপ-পিরিচ, চেয়ার, দোলনা, মাইক, হাত (পাঞ্জা), কাস্তে, চশমা, ধানের শীষ, মটরগাড়ি (কার), হাতঘড়ি, কেটলি, ছড়ি, নোঙ্গর, মশাল, হাতপাখা, কুমির, ছাতা, দাঁড়িপাল্লা, ময়ূর, হাঁস, কম্পিউটার, জগ, প্রজাপতি, মাছ, কলা, কুড়াল, জাহাজ, ফুটবল, মাথাল, টিউবওয়েল, ফুলকপি, মিনার, কুলা, টিফিন ক্যারিয়ার, ফুলের টব, মোমবাতি, কুঁড়ে ঘর, টেবিল, ফুলের মালা, মোবাইল ফোন, হাতি, হাতুড়ী, হারিকেন, হক্কা ও হেলিকপ্টার।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দল রয়েছে মোট ৫১টি। ১১৫টি প্রতীকের মধ্যে ৫১টি থাকবে নিবন্ধিত দলগুলোর জন্য। আর অন্য প্রতীকগুলো থাকবে ভবিষ্যতে নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য।