ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক খারাপ এর জন্য দিল্লি দায়ী : ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করেছে দিল্লি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোটারবিহীন প্রতিটি নির্বাচনকে সমর্থন করেছে তারা। এগুলোই ক্ষতি করেছে। ভারতেরও ক্ষতি হয়েছে।’

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশের একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়ে যখনই আপনি ষড়যন্ত্রে যাবেন, তখনই আপনার ক্ষতি হয়ে যাবে। তা-ই হয়েছে। আওয়ামী লীগেরও ক্ষতি হয়েছে। এগুলো করে তারা নিজেদের ক্ষতিটা করেছে। অন্য কাউকে কিছু করতে হয়নি। তারা নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করেছে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে টানাপড়েন কাটিয়ে উঠতে ভারতকেই এগিয়ে আসতে হবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা নির্ভর করবে ভারতের ওপরে। ভারত যদি চায় যে বাংলাদেশের সঙ্গে সে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাড়াবে শুধু বড় দাদা না হয়ে, বন্ধু হয়ে সমস্যা সমাধান যদি করে কিছুই, সেটা হবে। আমরা সব দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সব দেশের সঙ্গে কথাবার্তা বলছি, যাচ্ছি, আসছি। আর ভারতের ব্যাপারটা হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমাদের একটা যোগাযোগ তো ছিল। কিন্তু ভারতের ওপর নির্ভর করবে যে তারা কতদূর বিএনপির সঙ্গে একটা জায়গায় আসবে।




ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন চায় এক দল: সালাহউদ্দিন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে বিলম্বিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কিছু মহল নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। যারা এমন উদ্যোগ নেবে, তাদের জনগণ রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অতীতে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে কেউ সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও এ দেশের জনগণ তা হতে দেবে না। বিএনপি কখনো চায়নি রাজনীতিকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করা হোক। সংবিধানেও ধর্মীয় পরিচয়কে আলাদা করে স্থান দেওয়া হয়নি। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবে, নিরাপদে উপাসনা করবে এবং প্রচারের সুযোগ পাবে—এ বিষয়টি বিএনপি নিশ্চিত করবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতে একটি দল রাজনৈতিকভাবে ধর্মকে ব্যবহার করেছে এবং ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। এই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। বিএনপির নীতি হলো—“ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”। ধর্ম যার যার, কিন্তু নিরাপত্তার অধিকার সবার।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন ইঞ্জিনিয়ার সোবহান

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।

রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মহাষষ্ঠীর শুভ লগ্নে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তিনি গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সমরসিংহ, মেদাকুল, বাকাই, ইছাকুড়ি বাকাই ও দোনারকান্দি সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেন। এসময় মন্দির কমিটি, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ এবং নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

ইঞ্জিনিয়ার সোবহান বলেন, “আপনারা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করবেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। বিএনপি সব ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার নীতিতে অটল।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতির ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ দেশ গড়তে চান। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি সকলকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী দুর্গার আগমনী দিনে তাদের পাশে ইঞ্জিনিয়ার সোবহানকে পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা তাকে “মাটি ও মানুষের নেতা” আখ্যা দিয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে গৌরনদী উপজেলা, খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন ও আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিএনপি-জামায়াত পদ নিয়ে কারাকারি করেছে: তথ্য উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ:  রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রণ ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা: রাজনৈতিক ও নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সংলাপে তথ্য উপদেষ্টা বলেন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী কাড়াকাড়ি করে প্রশাসনিক জায়গাগুলোতে তাদের লোক নিয়োগ করিয়েছে। নিয়োগের আগে তারা সংস্কারের জন্য সরকারকে যত সময় লাগে দেওয়ার পক্ষে ছিল। তবে নিয়োগ শেষ হওয়ার পরপরই ডিসেম্বর মাস থেকে তারা অসহযোগ শুরু করে দিয়েছে।

সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। এতে সহযোগিতা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার এবং দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন। সংলাপে সম্মানিত অতিথি ছিলেন তথ্য উপদেষ্টা।

সংলাপে সম্প্রচার নীতিমালা, সাংবাদিকের ওয়েজ বোর্ড, বিটিভি ও বেতারে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠাসহ নানা বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন মাহফুজ আলম। এ সময় রাজনৈতিক দল ও আমলাদের সহযোগিতা না পাওয়ায় অসহায়ত্বও তুলে ধরেন তিনি।

মাহফুজ আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে সবাই গোষ্ঠীস্বার্থের জন্য কাজ করে। জাতীয় স্বার্থ দেখে না। সামগ্রিকভাবে কোন জিনিসটা করলে একটা ভালো আইন পাওয়া যাবে, ভালো একটা নীতি পাওয়া যাবে সে বিষয়ে কেউ আগ্রহী না।’ আমলাদের ভাবনা সম্পর্কে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমলারা পরের সরকারের অপেক্ষায় আছেন। সবাই পরের সরকারের জন্য অপেক্ষা করছে। এটা হলো ট্রানজিশনাল সরকারের দুর্বলতা।’

বর্তমান সরকারের বড় ক্রাইসিস (সংকট) আছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এক মাস ধরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে ছাত্র উপদেষ্টারা নেমে যাবেন। ফলে ছাত্র উপদেষ্টাদের দপ্তর কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে এক মাস ধরে। সেখানে কাজ শ্লথ হয়ে গেছে।’

জুলাই অভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা ছিল, সে অনুসারে কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, দেশে সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, মিডিয়া ও সুশীল সমাজ এবং ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মধ্যে যে পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে, তা অটুট রয়েছে। গণমাধ্যম এখনো ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে।

সামরিক–বেসামরিক আমলাতন্ত্রকে ফ্যাসিস্টমুক্ত না করে গণমাধ্যমকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা।

 




ইউরোপিয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সাথে এনসিপির বৈঠক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: বাংলাদেশে  সফররত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর একটি প্রতিনিধি দলের সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টি – এনসিপির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আজ ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার বাংলামোটরে পার্টির কার্যালয়ে।

বৈঠকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিশেষজ্ঞ রিকার্ডো চেলেরি, মেটে বাক্কেন, ম্যানুয়েল ওয়ালি, ইইউ ডেলিগেশন টু বাংলাদেশের ডেপুটি হেড বাইবা জারিনা এবং অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এনসিপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, খালেদ সাইফুল্লাহ ও তাজনূভা জাবীন, যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও জহিরুল ইসলাম মুসা, এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্।বৈঠকে দেশের নির্বাচন পরিস্থিতি, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের সম্ভাবনা এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়।




থালাপতি বিজয়ের পদযাত্রায় ভারতে পদদলিত হয়ে নিহত অন্তত ২৯

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: অভিনেতা ও তামিলাগা ভেত্রি কাজগম (টিভিকে) সভাপতি থালাপতি বিজয়ের সমাবেশে পদদলিত হয়ে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তামিলনাড়ুর করুর জেলায় শনিবার এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। খবর দ্য হিন্দুর।

তামিল নাড়ুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মা সুব্রামানিয়াম হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী এই সংবাদমাধ্যম।বিজয়ের চলমান রাজ্য সফরের অংশ হিসেবে ওই সমাবেশে বিপুল জনসমাগম হয়। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাদের করুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দ্য হিন্দু-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে করুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিন আর. শান্তিমালার বলেন, এখন পর্যন্ত সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগী আসছে এবং অ্যাম্বুলেন্স এখনও হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে। সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।




আ.লীগ ও জাপাকে গণহত্যার দায়ে নিষিদ্ধের দাবি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: বাংলাদেশ পলিটিক্যাল থিঙ্কার্স (বিপিটি) নামের একটি প্ল্যাটফর্ম গণহত্যা, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস এবং দেশের সম্পদ বিদেশে পাচারের দায়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে।

রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আজ শনিবার বিকেলে মানববন্ধন করে এ দাবি জানিয়েছেন বিপিটির নেতারা।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক বলেন, আওয়ামী লীগ ভারতের চক্রান্তে এবং বর্তমান একজন উপদেষ্টার সহযোগিতায় নীলনকশার নির্বাচনে ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

বিপিটির সমন্বয়ক বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিটি খাত ধ্বংস করে দিয়েছে। ২০০৯ সালে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ সালে হেফাজতের শাপলা হত্যাকাণ্ড, ২০১৪ সালে (মাওলানা) সাঈদীর রায়–পরবর্তী হত্যাকাণ্ড এবং সর্বশেষ ২০২৪ এর হত্যাকাণ্ড, প্রতিটি একেকটি গণহত্যা। প্রতিটি গণহত্যার ঘটনায় দল হিসেবে আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা এবং তাদের দোসর জাতীয় পার্টির বিচার হতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার জন্য ভারতের নির্দেশে পাশে থেকে সাংবিধানিক বৈধতা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। সুতরাং গণহত্যা, দেশের শাসনকাঠামো ধ্বংস এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার চুরির দায়ে আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহচর জাতীয় পার্টির বিচার ও দল হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে।




 ঐক্যবদ্ধ না হলে গুপ্ত স্বৈরাচার দেখা দিতে পারে:তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যদি গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ না থাকে, আগামী দিনে গুপ্ত স্বৈরাচারের উদ্ভব ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “একটি কথা, সবার আগে বাংলাদেশ। এটিই আমাদের শুরু, এটাই আমাদের শেষ। সবার আগে বাংলাদেশ।”

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, “বক্তব্য অনেক হয়েছে। এখন আমাদের কাজ করতে হবে। সম্মেলনের শ্লোগান হোক – ঐক্য, জনগণ এবং পুনর্গঠন। নেতাকর্মীরা হাজার হাজার জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করছেন। কেউ জেলে গেছেন, কেউ গুম হয়েছেন। স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এখনই সময় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে। সকলকে মিলে সুন্দর ঘর গঠন করতে হবে এবং জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে।”

সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ও আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন।

কুমিল্লার ছয়টি সংসদীয় আসনের ১০টি উপজেলা, চারটি পৌরসভা ও ১০৭টি ইউনিয়ন এবং ৯৯৯টি ওয়ার্ডে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বর্তমান আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমনকে সভাপতি ও সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোটের মাঠে সরগরম ঝালকাঠি, ভোটারের দ্বারে দ্বারে ছোটাছুটি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ঝালকাঠি জেলার দুটি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ও ঘোষিত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তারা সমর্থন চাইছেন। এছাড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও যোগ দিচ্ছেন, ফলে নির্বাচনী মাঠে সরগরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

জেলার দুটি আসনেই বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বাড়ছে। জামায়াতে ইসলামী জেলার সব আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে ঝালকাঠি-২ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মনোনয়ন চাইবেন।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া):
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন: ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, নিউইয়র্ক দক্ষিণ কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রফিক হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী গবেষণা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদের সহসভাপতি ও রাজাপুর উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. জাকারিয়া লিংকন। এছাড়া সদ্য যোগ দেওয়া নতুন সদস্য কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান ও দলের সদস্য ড. ফয়জুল হক মনোনয়ন চান।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী: জেলা কমিটির কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন।

ঝালকাঠি-২ (জেলা সদর ও নলছিটি):
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা: কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি মাহবুবুল হক নান্নু, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জীবা আমিনা আল গাজী, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সাবেক সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নূপুর।
জামায়াতে ইসলামী: ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক এজিএস শেখ নেয়ামুল করিম।
এবি পার্টি: কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ জামাল উদ্দিন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: জেলা শাখার উপদেষ্টা ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী।

মাঠে নেতাকর্মীরা সক্রিয় হওয়ার কারণে ভোটপ্রচারের গতিপ্রকৃতি গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক তীব্র। নির্বাচনী পদচারণা ও জনসংযোগে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-২ আসনে আলোচনার কেন্দ্রে সাবেক এমপি অভি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের বিভিন্ন আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। এর মধ্যে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি।

বিএনপি নেতাদের দাবি, বরিশালের মোট ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত সাতটিতে দলটি ভালো অবস্থানে নেই। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের শক্ত প্রার্থী এবং দলীয় বিভাজনের কারণে এসব আসনে জয় পাওয়া কঠিন হবে যদি প্রার্থী নির্বাচনে ভুল হয়। এ কারণে ভোটারদের আস্থা ফেরাতে ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

বরিশাল-২ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইছেন সরফুদ্দিন সান্টু, দুলাল হোসেন, রওনাকুল ইসলাম টিপু ও সাইফ মাহমুদ জুয়েল। তবে সবার ওপরে আলোচনায় রয়েছেন একসময়ের ছাত্রদল নেতা ও সাবেক এমপি গোলাম ফারুক অভি। তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু) থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অভি মডেল তিন্নি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন দেশ ছাড়াই কানাডায় ছিলেন। তবে সম্প্রতি আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন এবং শিগগিরই রাজনীতিতে সরব হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটারদের মতে, অভি প্রার্থী হলে বিএনপির জন্য আসনটি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছিলেন। এছাড়া কানাডায় থেকেও এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন এবং নানাভাবে সহায়তা করে আসছেন।

উজিরপুর-বানারীপাড়ার সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভির প্রতি এখনও তাদের দৃঢ় সমর্থন রয়েছে। অনেকে বলছেন, অভি ফিরে এসে প্রার্থী হলে ভোটযুদ্ধে তিনি অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন।

সব মিলিয়ে বরিশাল-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া এবং অভির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এই আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫