থালাপতি বিজয়ের পদযাত্রায় ভারতে পদদলিত হয়ে নিহত অন্তত ২৯

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: অভিনেতা ও তামিলাগা ভেত্রি কাজগম (টিভিকে) সভাপতি থালাপতি বিজয়ের সমাবেশে পদদলিত হয়ে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তামিলনাড়ুর করুর জেলায় শনিবার এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। খবর দ্য হিন্দুর।

তামিল নাড়ুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মা সুব্রামানিয়াম হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী এই সংবাদমাধ্যম।বিজয়ের চলমান রাজ্য সফরের অংশ হিসেবে ওই সমাবেশে বিপুল জনসমাগম হয়। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাদের করুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দ্য হিন্দু-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে করুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিন আর. শান্তিমালার বলেন, এখন পর্যন্ত সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগী আসছে এবং অ্যাম্বুলেন্স এখনও হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে। সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।




আ.লীগ ও জাপাকে গণহত্যার দায়ে নিষিদ্ধের দাবি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: বাংলাদেশ পলিটিক্যাল থিঙ্কার্স (বিপিটি) নামের একটি প্ল্যাটফর্ম গণহত্যা, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস এবং দেশের সম্পদ বিদেশে পাচারের দায়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে।

রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আজ শনিবার বিকেলে মানববন্ধন করে এ দাবি জানিয়েছেন বিপিটির নেতারা।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক বলেন, আওয়ামী লীগ ভারতের চক্রান্তে এবং বর্তমান একজন উপদেষ্টার সহযোগিতায় নীলনকশার নির্বাচনে ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

বিপিটির সমন্বয়ক বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিটি খাত ধ্বংস করে দিয়েছে। ২০০৯ সালে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ সালে হেফাজতের শাপলা হত্যাকাণ্ড, ২০১৪ সালে (মাওলানা) সাঈদীর রায়–পরবর্তী হত্যাকাণ্ড এবং সর্বশেষ ২০২৪ এর হত্যাকাণ্ড, প্রতিটি একেকটি গণহত্যা। প্রতিটি গণহত্যার ঘটনায় দল হিসেবে আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা এবং তাদের দোসর জাতীয় পার্টির বিচার হতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার জন্য ভারতের নির্দেশে পাশে থেকে সাংবিধানিক বৈধতা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। সুতরাং গণহত্যা, দেশের শাসনকাঠামো ধ্বংস এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার চুরির দায়ে আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহচর জাতীয় পার্টির বিচার ও দল হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে।




 ঐক্যবদ্ধ না হলে গুপ্ত স্বৈরাচার দেখা দিতে পারে:তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যদি গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ না থাকে, আগামী দিনে গুপ্ত স্বৈরাচারের উদ্ভব ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “একটি কথা, সবার আগে বাংলাদেশ। এটিই আমাদের শুরু, এটাই আমাদের শেষ। সবার আগে বাংলাদেশ।”

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, “বক্তব্য অনেক হয়েছে। এখন আমাদের কাজ করতে হবে। সম্মেলনের শ্লোগান হোক – ঐক্য, জনগণ এবং পুনর্গঠন। নেতাকর্মীরা হাজার হাজার জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করছেন। কেউ জেলে গেছেন, কেউ গুম হয়েছেন। স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এখনই সময় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে। সকলকে মিলে সুন্দর ঘর গঠন করতে হবে এবং জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে।”

সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ও আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন।

কুমিল্লার ছয়টি সংসদীয় আসনের ১০টি উপজেলা, চারটি পৌরসভা ও ১০৭টি ইউনিয়ন এবং ৯৯৯টি ওয়ার্ডে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বর্তমান আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমনকে সভাপতি ও সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোটের মাঠে সরগরম ঝালকাঠি, ভোটারের দ্বারে দ্বারে ছোটাছুটি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ঝালকাঠি জেলার দুটি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ও ঘোষিত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তারা সমর্থন চাইছেন। এছাড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও যোগ দিচ্ছেন, ফলে নির্বাচনী মাঠে সরগরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

জেলার দুটি আসনেই বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বাড়ছে। জামায়াতে ইসলামী জেলার সব আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে ঝালকাঠি-২ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মনোনয়ন চাইবেন।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া):
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন: ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, নিউইয়র্ক দক্ষিণ কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রফিক হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী গবেষণা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদের সহসভাপতি ও রাজাপুর উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. জাকারিয়া লিংকন। এছাড়া সদ্য যোগ দেওয়া নতুন সদস্য কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান ও দলের সদস্য ড. ফয়জুল হক মনোনয়ন চান।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী: জেলা কমিটির কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন।

ঝালকাঠি-২ (জেলা সদর ও নলছিটি):
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা: কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি মাহবুবুল হক নান্নু, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জীবা আমিনা আল গাজী, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সাবেক সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নূপুর।
জামায়াতে ইসলামী: ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক এজিএস শেখ নেয়ামুল করিম।
এবি পার্টি: কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ জামাল উদ্দিন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: জেলা শাখার উপদেষ্টা ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী।

মাঠে নেতাকর্মীরা সক্রিয় হওয়ার কারণে ভোটপ্রচারের গতিপ্রকৃতি গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক তীব্র। নির্বাচনী পদচারণা ও জনসংযোগে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-২ আসনে আলোচনার কেন্দ্রে সাবেক এমপি অভি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের বিভিন্ন আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। এর মধ্যে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি।

বিএনপি নেতাদের দাবি, বরিশালের মোট ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত সাতটিতে দলটি ভালো অবস্থানে নেই। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের শক্ত প্রার্থী এবং দলীয় বিভাজনের কারণে এসব আসনে জয় পাওয়া কঠিন হবে যদি প্রার্থী নির্বাচনে ভুল হয়। এ কারণে ভোটারদের আস্থা ফেরাতে ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

বরিশাল-২ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইছেন সরফুদ্দিন সান্টু, দুলাল হোসেন, রওনাকুল ইসলাম টিপু ও সাইফ মাহমুদ জুয়েল। তবে সবার ওপরে আলোচনায় রয়েছেন একসময়ের ছাত্রদল নেতা ও সাবেক এমপি গোলাম ফারুক অভি। তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু) থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অভি মডেল তিন্নি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন দেশ ছাড়াই কানাডায় ছিলেন। তবে সম্প্রতি আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন এবং শিগগিরই রাজনীতিতে সরব হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটারদের মতে, অভি প্রার্থী হলে বিএনপির জন্য আসনটি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছিলেন। এছাড়া কানাডায় থেকেও এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন এবং নানাভাবে সহায়তা করে আসছেন।

উজিরপুর-বানারীপাড়ার সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভির প্রতি এখনও তাদের দৃঢ় সমর্থন রয়েছে। অনেকে বলছেন, অভি ফিরে এসে প্রার্থী হলে ভোটযুদ্ধে তিনি অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন।

সব মিলিয়ে বরিশাল-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া এবং অভির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এই আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির একাধিক, জামায়াতের একক প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ কখনোই এ আসন থেকে জিততে পারেনি। তবে অতীতে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে এ আসনে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও জামায়াত একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

বিএনপি থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং তরুণ নেতা ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদের নাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হলেও প্রত্যাশা করছেন, যেই প্রার্থীই মনোনয়ন পান না কেন, বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকবে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগরের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে—বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি দুই প্রার্থী দেওয়ায় আসনটি হারায়। তবে স্থানীয় নেতাদের বিশ্বাস, এবার যদি প্রার্থী নির্ধারণে ঐক্য রাখা যায়, বিএনপি জয় পেতে সক্ষম হবে। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, “এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। আওয়ামী লীগ কোনোদিনই এখানে জিততে পারেনি। মনোনয়ন যাকেই দেওয়া হোক, বিএনপিই বিজয়ী হবে।”

অন্যদিকে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টি মাঠে নেই। ফলে নির্বাচনের প্রাক্কালে মাঠ দখলে রাখতে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টি সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বরিশাল-৩ আসনটি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এ আসনকে ঘিরে ভোটযুদ্ধ জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




উত্তপ্ত লাদাখ আন্দোলনের নেপথ্য নায়ক সোনম ওয়াংচুক, গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: লাদাখ ভারতের উত্তর সীমান্তে অবস্থিত শান্ত ও মনোরম  শহর বলে খ্যাত যা বর্তমানে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতাভুক্তির দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকারের দাবি, লাদাখকে অশান্ত করতে মুখ্য ভূমিকায় আছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীদের উস্কানি দেয়ার অভিযোগে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে বিদেশি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার ‘স্টুডেন্ট এডুকেশন অ্যান্ড কালচারার মুভমেন্ট অব লাদাখ’ (এসইসিএমওএল)- এর লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। পৃথক রাজ্য গঠন ও লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনকারী জনতার সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষে বুধবার লেহতে চারজন নিহত ও আহত হন ৮০ জন। আন্দোলন শুরুর দুই দিন পর ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করলো লাদাখ পুলিশ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

১৯৬৬ সালে জম্মু ও কাশ্মীর (বর্তমানে লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)-এর লেহ জেলার আলচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সোনম। একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তার সবচেয়ে বড় অবদান হলো লাদাখের ছাত্র শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন প্রতিষ্ঠা। ১৯৮৮ সালে একদল ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই আন্দোলন শুরু করেন। তার নেতৃত্বে লাদাখের সরকারি স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়, যা ‘অপারেশন নিউ হোপ’ নামে পরিচিত। এর ফলে বহু পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রী শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরে আসে। তার এই কাজই তাকে ২০১৮ সালে ম্যাগসেসে পুরস্কার এনে দেয়। বলিউড চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র র‌্যাঞ্চো আংশিকভাবে তার জীবন ও কাজ থেকে অনুপ্রাণিত।

লাদাখকে ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করে আদিবাসী মর্যাদা এবং ভূমি ও কর্মসংস্থান সুরক্ষা নিশ্চিত করা। লাদাখের জন্য রাজ্যের মর্যাদা প্রদান করা। এই দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।

এই অনশন চলাকালীন, লাদাখকে রাজ্য এবং ষষ্ঠ তফসিলের দাবিতে হওয়া আন্দোলনে উত্তেজনা ছড়ায়। সম্প্রতি লেহ শহরে প্রতিবাদ হিংসাত্মক রূপ নিলে চারজনের মৃত্যু এবং বহু মানুষ আহত হন। সরকারের পক্ষ থেকে এই সহিংসতার জন্য সরাসরি সোনম ওয়াংচুকের ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ এবং অনশনকেই দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াংচুক এই ঘটনাকে বিজেপি’র প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফল এবং যুবসমাজের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন।




বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো সোহেল তাজকে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এসএস (ইমিগ্রেশন) কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, ‘ভ্রমণরোধ’ থাকায় সোহেল তাজ দেশত্যাগ করতে পারেননি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০১ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সোহেল তাজ।

২০০৮ সালে একই আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

একই বছরের ৩১ মে মন্ত্রিসভা থেকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন সোহেল তাজ।




ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন: চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে — সিইসি

আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে করার লক্ষ্য নিয়ে তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি তদারকি করা হচ্ছে। রমজানের আগে ভোট আয়োজন করতে ও কয়েক দফা কাজ সম্পন্ন করতে কমিশন তৎপরভাবে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

সিইসি বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার জন্য যা যা প্রস্তুতি দরকার, আমরা জোরে–সোরে নিচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য একটি সুন্দর, ঐতিহাসিক ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।” তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের উচিৎ ধারাবাহিক কাজ করা এবং নিরপেক্ষভাবে আচরণ করা। সাংবাদিকদের প্রতি বলেও বলেন, গণমাধ্যম সঠিক তথ্য পৌঁছে দিলে নির্বাচন আরও সম্মানজনক হবে — অন্যথায় ভুল ব্যাখ্যা পরিস্থিতি নষ্ট করতে পারে।

কমিশনার আরও জোর দিয়ে বলেন, কমিশন কোনো পক্ষ কিংবা প্রভাবের কাছে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না, বরং আইন ও সংবিধান অনুসরণ করে কাজ করবে। “আমরা বিবেকের তাড়নায় চলি, আইন অনুযায়ী চলি, সংবিধান অনুযায়ী চলি এবং সরল, সোজা পথে চলব — কোনো বাঁকা পথে নয়,” তিনি বলেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে সিইসি স্পষ্ট করেন, “রাজনৈতিক দল আমাদের প্রধান স্টেকহোল্ডার। তাদের সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর নির্বাচন সম্ভব নয়।” তিনি যোগ করেন, মাঠে অংশ নেওয়া সব দলের কাছেই অনুরোধ থাকবে যে তারা ফাউল বা অসদাচরণে লিপ্ত হবে না; এমন হলে রেফারির পক্ষে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

সিইসি বিদেশ সফরে থাকা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিদেশে সবার কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যে নির্বাচনের সময় নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন এবং সেখানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপের সুযোগও রয়েছে — এ সব যোগাযোগও ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ঠু করতে সহায়ক হবে বলে আশা করেন তিনি।

একই সঙ্গে সিইসি আবারো গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আপনাদের (গণমাধ্যম) সহযোগিতা লাগবে। আমাদের আন্তরিকতা নিয়ে আপনি জনগণকে বুঝাতে সাহায্য করবেন। আমরা কারো কথায় চলতে চাই না — আমরা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী চলতে চাই।”

সিইসি আশা ব্যক্ত করেন, রাজনীতিকরা নির্বাচনে অংশ নেবেন সৌন্দর্যবোধ ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মানে বুঝে; কেউ নির্বাচনের মাঠে ফাউল বা অন্যায় করার ইচ্ছা নিয়ে নামবেন না। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি আমাদের স্টেকহোল্ডাররা সুন্দরভাবে সহযোগিতা করবে — কারণ আমরা একটি বিশাল বিপ্লবের মধ্যে আছি এবং এখন ক্রান্তি লগ্নে আছি।”

ব্রিফিংয়ে সিইসি কয়েকটি প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির দিকও আভাস দেন — ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, কেন্দ্র বনাম ফলাফল প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যাবস্থা এবং বুথভিত্তিক লজিস্টিক ব্যবস্থা দ্রুত তদারকি করা হবে। তিনি সমগ্র ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নাগরিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন নিশ্চিত করতে সিইসি জনগণকে আত্মবিশ্বাসীভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সব পক্ষকে আইন এবং সংবিধান মেনে চলার আবেদন করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফেব্রুয়ারিতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। প্রধান উপদেষ্টাও নির্বাচনের পক্ষে। তবে শত্রুরা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, যা সবাইকে মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।”

জনগণের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না তা নিয়ে যে আস্থা সংকট রয়েছে, সে প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “অবশ্যই নির্বাচন হবে। তবে মানুষের মধ্যে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা দূর করে সবার মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টির জন্য কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও নির্বাচনের পক্ষে এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে দৃঢ় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলও জানে যে নির্বাচন আসন্ন।

নির্বাচন নিয়ে এনসিপি ও জামায়াতের দাবিসমূহ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক দল সবসময় দরকষাকষির মাধ্যমে কিছু অর্জন করতে চায়। তবে সব দাবি সহজে পূরণযোগ্য নয় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার সুযোগ রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫