উপদেষ্টাদের বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছি: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সরকারের অনেক উপদেষ্টা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে এখন সেফ এক্সিটের পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদের অনেককে বিশ্বাস করাটা ছিল বড় ভুল। তাদের প্রতি আস্থা রেখে আমরা প্রতারিত হয়েছি। অনেক উপদেষ্টা ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় গেছেন। কেউ কেউ নিজেদের আখের গুছিয়ে ফেলেছেন, আবার কেউ গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সময় এলে আমরা তাদের নাম প্রকাশ করব।”

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “যারা উপদেষ্টা হয়েছেন, তাদের অনেককেই বিশ্বাস করাটা আমাদের রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। আমাদের উচিত ছিল ছাত্র নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং সরকারে গেলে সম্মিলিতভাবে যাওয়া। নাগরিক সমাজ ও কিছু রাজনৈতিক দলের প্রতি অতিরিক্ত আস্থা রাখার ফলেই আমরা প্রতারিত হয়েছি।”

উপদেষ্টা হিসেবে ছাত্রনেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা কেউই সরকারের উপদেষ্টা পদ নিতে চাইনি। বরং আমরা শুরু থেকেই একটি জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। ছাত্র নেতৃত্ব না থাকলে এই সরকার প্রথম তিন মাসও টিকতে পারত না। অভ্যুত্থানের শক্তিই সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার গঠনের প্রথম ছয় মাসে প্রতিবিপ্লবের চেষ্টাও হয়েছিল, যা এখনো আংশিকভাবে চলছে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হয়ে নাগরিক সরকার গঠন করত, তাহলে ছাত্রদের কাঁধে এই দায়িত্ব আসত না। কিন্তু সময়ের দাবি অনুযায়ী আমাদেরই নেতৃত্ব নিতে হয়েছিল।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা আরও মন্তব্য করেন, “৫ আগস্ট ক্যান্টনমেন্টে সেজদা দিয়েছে রাজনৈতিক নেতারাই, ছাত্ররা নয়।” তিনি বলেন, “সুশীল সমাজের কিছু প্রতিনিধিকে নিয়ে সরকার গঠন না করে যদি একটি জাতীয় সরকার করা হতো, তাহলে আজকের এই আক্ষেপ আমাদের মধ্যে থাকত না।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“টার্গেট অপারেশন — আমাকে যারা আক্রমণ করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে” :নুরুল হক নুর

গতকাল (শনিবার, ৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে দেশে চিকিৎসা শেষে ফেরেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। বিমানবন্দরে ফেরার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে শেখ হাসিনার গদিকে চ্যালেঞ্জ করে আন্দোলন করলেও কখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ধরনের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়নি তারা। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা একটি টার্গেট অপারেশন ছিল — তাদের লক্ষ্য করেই কাউকে টার্গেট করে অন্যদের মেসেজ পাঠানো হচ্ছিল।

নুর বলেন, “আমি অন্য রাজনৈতিক দল ও গণঅভ্যুত্থানকারী নেতাদের সতর্ক করতে চাই — যদি আপনি পরবর্তী সিরিয়ালে পড়তে না চান, যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হোক, তাঁকে নির্বিশেষে বিচার করতে হবে, চাকরিচ্যুত করতে হবে।” তিনি জানান, যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঘটতে বাধ্য হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে নুরул হক নুর আরও বলেন, বিগত নির্বাচনের ঘটনায় অনেক বিতর্ক ও অনিয়ম ঘটেছে; সেই প্রেক্ষাপটে দেশের বিচার প্রক্রিয়া ও তদন্তের ওপর জনগণের আস্থা কমে গেছে। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, গত ঘটনার পরে তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও কার্যকারিতা না থাকায় ও রিপোর্ট প্রকাশে গাফিলতির কারণে জনগণের মধ্যে সন্দেহ আরও বাড়ছে। “৩৫ দিন পার হয়ে গেল — তবু বিচার বিভাগীয় কোনো স্বচ্ছ পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাইনি,” তিনি বলেন।

নুর তীর খুলে বলেন, সরকারকে তারা সহযোগিতা করলেও সুবিধাভোগী নয়—বিচার না হলে ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি দলের প্রধানকে এভাবে আক্রমণ করলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ কীভাবে তৈরি হবে; সমঝোতার নামে অনুন্নত সিদ্ধান্তে নির্বাচন পদ্ধতি দুর্বল করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট রাতের বিজয়নগরের ঘটনায় নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন; সেবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় তাঁর মাথায় আঘাত লেগে নাকের হাড় ভেঙে যায়। ওই ঘটনার পর থেকে তার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিই তিনি পুনরায় উত্থাপন করেছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নুর আশ্বাস দেন যে, তারা জনগণের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় নিরন্তর কাজ চালিয়ে যাবেন এবং যে কোনো অনিয়ম, হামলা বা দমন-নিপীড়ন যদি দেখা যায়, সেটার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়ায় এনসিপির সাংগঠনিক সভা

বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়া ইউনিয়ন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে শনিবার (৪ অক্টোবর) সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী জাকির হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে এ সভা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সংগঠক আসাদ বিন রনি বলেন, ২৪-এর চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আগামীতে বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান বাস্তবায়ন করবে এনসিপি। তাই পাড়া-মহল্লা ও ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর চেতনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা বলেন, স্বাধীনতার চেতনা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এনসিপি আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঐক্য গড়ে তুলে নতুন সংবিধান ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায় জনগণকে এনসিপির পতাকা তলে আসতে হবে।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ছাত্র, যুব, শ্রমিক ও এনসিপির নেতৃবৃন্দ।

শেষে অহিদুজ্জামান শরিফ বাশারকে আহ্বায়কমো. রেজাউল আলম হেলালকে সদস্য সচিব করে চর কাউয়া ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“লুটপাটের সুযোগ থাকা প্রকল্পেই ব্যস্ত সরকার-প্রশাসন”:ব্যারিস্টার ফুয়াদ

বরিশালের মুলাদীতে চরকালেখান ইউনিয়নের জয়ন্তী নদী ভাঙন রোধে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রেখে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, “লুটপাটের সুযোগ থাকা প্রকল্প নিয়েই রাষ্ট্র, সরকার ও প্রশাসন ব্যস্ত থাকে। যেসব প্রকল্পে রাজনৈতিক দলগুলো লাভবান হয়, সেগুলোতে তদবির করা হয়। অথচ টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সরকারের অনীহা স্পষ্ট।”

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় চরকালেখান ইউনিয়নের ঢালীবাড়ি লঞ্চঘাট থেকে নোমরহাট রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধনে স্থানীয়রা অংশ নেন।

ফুয়াদ বলেন, “নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। জিওব্যাগ ফেলার মতো অস্থায়ী উদ্যোগে জনগণকে আতঙ্কে রেখে লাভ নেই। নদী ভাঙন ঠেকাতে ব্লক ফেলে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কৃষিজমি, ঘরবাড়ি ও মানুষ রক্ষা পায়।”

মানববন্ধন কর্মসূচির আহ্বায়ক প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম জানান, জয়ন্তী নদীর চরকালেখান ইউনিয়নের অলীল মেম্বারের বাড়ি থেকে খেজুরতলা তেরচর মোহনা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক ভাঙন চলছে। নব্বই শতাংশ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গ্রামীণ জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে।

এছাড়া ভাঙনের কারণে মুলাদী উপজেলা থেকে সফিপুর, সেলিমপুর, বাটামারা ও নাজিরপুর ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক নদীতে বিলীন হয়েছে। কৃষিজমি হারিয়ে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি পরিবার অতিকষ্টে দিন পার করছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ভূমি কার্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় বাজার ও গ্রামীণ বসতবাড়ি দ্রুত নদী ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। তাই সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম সরদার, ইউপি সদস্য মো. রাশেদ খান, মুলাদী সরকারি কলেজের শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন সিকদার, বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মালেক সরদার, শিক্ষক অসীম মণ্ডল ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রহসন হবে: জিএম কাদের

আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রস্তুতিকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, “এই নির্বাচন দেশের মানুষের জন্য নয়, ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই।”

শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয় মহিলা পার্টির মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার সময় ছিল দলের সঙ্গে দলের প্রতিযোগিতা, এখন হচ্ছে সরকারি ও আধা সরকারি দলের মধ্যে নির্বাচন। বর্তমান সরকার নির্বাচনের নামে নাটক সাজাচ্ছে। জামাতসহ অনেকেই সরকারের সুবিধা ভোগ করছে, অথচ বিএনপি আজ আধা সরকারি দলে পরিণত হয়েছে।”

জিএম কাদের অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান প্রশাসন নির্বাচনের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। দেশের ৫০ শতাংশেরও বেশি মানুষকে বাইরে রেখে ভোট আয়োজন করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা যেমন করেছিলেন, এখন তা প্রশাসনিক আদেশে করা হচ্ছে। সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে চায়, আর আধা সরকারি দল দ্রুত নির্বাচন চায়। উভয় পক্ষই দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “এই সরকার নিরপেক্ষ নয়। জনগণই ঠিক করবে কোন দল ক্ষমতায় আসবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া গ্রহণযোগ্য ভোট সম্ভব নয়। অন্যথায় দেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে যাবে। আগামীতেও শেখ হাসিনার মতো বিপুল অর্থ ও শক্তি প্রয়োগ করে একতরফা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।”

জাতীয় পার্টিকে নিয়ন্ত্রণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “সরকার মনে করছে, জিএম কাদের ছাড়া জাতীয় পার্টি থাকলে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। তাই যাদের দমন করা যাবে, তাদের দিয়ে পার্টি বানাতে চাইছে। কিন্তু জাতীয় পার্টি কারও দোসর নয়, চাপিয়ে দেওয়া রাজনীতি আমরা মানি না।”

ধর্ম ও নারী অধিকার প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ ধার্মিক কিন্তু মধ্যপন্থী। ইসলাম কখনও নারীর প্রতি অবিচার সমর্থন করে না। কিছু দেশে মহিলাদের লেখা বই পড়া নিষিদ্ধ, তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলাও নিষেধ। আমরা এমন সাম্প্রদায়িক চিন্তাধারা মেনে নেব না।”

মহিলা নেত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একটি দলের নেতা বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে মেয়েরা মেয়েদের সামনে নাচবে—এটা দেশের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না। মহিলাদের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজানোর মতো ভয়ংকর চিন্তা এ দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। এখন থেকেই এসব প্রতিরোধে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

একই সভায় জিএম কাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদ অতীতে যেমন দমন করেছি, এবারও করব। জাতীয় পার্টির প্রতিটি কর্মী দেশের গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মহিলা পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক হেনা খান পন্নী। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দীন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া, আলমগীর শিকদার লোটন ও দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম প্রমুখ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সংস্কারের নামে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চলছে: রাশেদ খান

সংস্কারের নামে মূলত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।

শনিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

রাশেদ খান বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের জায়গা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন নয়।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া নির্বাচন হবে না — এমন শর্ত আরোপ করা সঠিক নয়। এই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, বরং এটি আগামী সরকারের দায়িত্ব হিসেবে দেখা উচিত।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সংস্কার এবং বিচারের ট্যাবলেট খাওয়ানোর নাম করে সরকার এখন আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পথ তৈরি করছে। এই সরকার জনগণের কাঁধে নিজের দায় চাপাতে চায়, অথচ এই দায় সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিজস্ব।”

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, “কিছু উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে সেই দায় নিতে হবে বর্তমান সরকারকেই। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের লিয়াজো কমিটিকেও সেই দায় স্বীকার করতে হবে।”

ভারতের ভূমিকাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভারত চায়, আওয়ামী লীগকে নিয়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কিন্তু এভাবে অপ্রকাশ্য রাজনীতি চালানো হলে দেশ আবারও বিরাজনীতিকরণের দিকে ধাবিত হবে। সবাইকে উন্মুক্তভাবে রাজনীতিতে অংশ নিতে হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অচিরেই আসনভিত্তিক একক প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দেবে বিএনপি : সালাহউদ্দিন আহমেদ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। শিগগিরই আসনভিত্তিক একক প্রার্থীকে মাঠে কাজ করার জন্য ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে।

প্রত্যেকটি আসনে আমাদের একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। অনেক আসনে ১০ থেকে ১২ জনের মতো প্রার্থী আছে। এখন আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করছি।

তবে সেটি অফিশিয়াল হবে তফসিল ঘোষণার পরে।’

তিনি বলেন,  নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

গণতন্ত্র রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের প্রশ্নে এক থাকবে।




জামায়াতের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন গোলাম পরওয়ার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনার আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির খুলনা মহানগর শাখা আয়োজিত সদস্য পুনর্মিলনী (১৯৭৭-২০২৫) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন। ‘দ্বীনকে সংসদে পাঠানোর জন্য এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। যাঁরা একসময় ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের সবাইকে এখন আবার সক্রিয় হয়ে দেশের জন্য ভূমিকা রাখতে হবে। আমিরে জামায়াত বলেছেন, “মুসলমানদের সামনে ৫৪ বছরের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের শক্তিকে পার্লামেন্টে নেওয়ার এমন অবারিত সুযোগ অতীতে আর কোনো দিন আসেনি।” ভবিষ্যতেও আসবে কি না আমরা জানি না তাই এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে । ফ্যাসিস্ট আমাদের গর্তে ঢোকাতে চেয়েছিল, আল্লাহ তাআলা তাদের গর্তে দিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছে।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে পূর্ণ নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে এখন নির্বাচনী মাঠে নেমে পূর্ণ শক্তিতে কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠন যখন যাকে সিদ্ধান্ত দেবে, সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আমরা আমাদের ভাইকে বিজয়ী করা নয়, আমরা আমাদের আন্দোলনকে বিজয়ী করার জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।’




গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন সুষ্ঠু নির্বাচন আবদুল আউয়াল মিন্টু

 

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বুধবার বিকেলে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর বাজারে ইউনিয়নভিত্তিক জেলা ও সংসদীয় আসনের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন  গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

তিনি আরো  বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর আমরা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদী সরকারের অপকর্ম ও লুটপাটের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছি। সেই আন্দোলনে একটি সরকারের পতন ঘটেছে। তাঁদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এটিই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমাদের প্রাথমিক বিজয়।’

বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। গত ১৫ বছরে দলকে ভাঙতে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে, তবে তা ব্যর্থ হয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জিয়া উদ্দিন, মশিউর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন ও সদস্যসচিব কামরুল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মনসুর উদ্দিন। এতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যায় আবদুল আউয়াল মিন্টু উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এর আগে দুপুরে তিনি রাজাপুরে বিএনপির প্রয়াত নেতা নিজাম উদ্দিনের কবর জিয়ারত করে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।




এনসিপির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। তিনি পটুয়াখালীর বাউফলের কৃতি সন্তান হিসেবেও পরিচিত।

বুধবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্তির বিষয়টি জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, আগামী এক মাসের মধ্যে বরিশাল বিভাগের প্রতিটি জেলা ও মহানগরে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দায়িত্ব নতুন সাংগঠনিক সম্পাদকদের ওপর ন্যস্ত থাকবে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আদর্শিক অঙ্গীকারকে মূল্যায়ন করেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের নেতারা আশা করছেন, তাঁর নেতৃত্বে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সুসংহত ও গতিশীল হবে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং সরাসরি বিভিন্ন জেলা কমিটির নেতারা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

নিজের প্রতিক্রিয়ায় নবনিযুক্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, “সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে জেলা ও মহানগরে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করা হবে। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারি, এজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম