সিলেটে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উত্তেজনা

সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মনোনয়নপ্রত্যাশী তাহসীনা রুশদী লুনা এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্বনাথের বাসিয়া ব্রিজ ও থানার সামনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এ ঘটনায় যুবদল নেতা আব্দুর রহমান, ছাত্রদল নেতা মিনহাজসহ উভয়পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে আতঙ্কে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট-২ আসনের বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে লুনা ও হুমায়ুন কবিরের সমর্থকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বিরোধ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেলে হুমায়ুন কবির দৌলতপুর ইউনিয়নের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন, আর অপরদিকে লুনার সমর্থকরা পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ শেষে বাসিয়া সেতুর সামনে মিছিল করেন।

সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক বাড়তে থাকে এবং রাত ৯টার দিকে নতুন বাজার ও পুরান বাজার এলাকায় অবস্থান নেওয়া সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে, এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চরম আতঙ্কে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) আশরাফুজ্জামান পিপিএম (সেবা) জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে, তবে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।”

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এমন বিরোধ ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় নির্বাচনী উত্তাপ: বিএনপিতে দ্বন্দ্ব, আত্মবিশ্বাসী জামায়াত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ভোলা এখন নির্বাচনী উত্তেজনায় সরগরম। বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ভোলার রয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ আসন — ভোলা-১ (সদর), ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন), ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) এবং ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা)।
প্রতিটি আসনেই হেভিওয়েট প্রার্থীদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছে নির্বাচনী সমীকরণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোলার রাজনীতিতে এবারও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে জামায়াত একক প্রার্থী দিয়ে মাঠে নামায় তুলনামূলক আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে।

ভোলা-১: নজরুল বনাম নবী

এ আসনে আলোচনায় রয়েছেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম নবী আলমগীর এবং হায়দার আলী লেলিন
ইসলামী আন্দোলনের ওবায়েদ বিন মোস্তফা ও বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, “জনগণ এখন বুঝে গেছে কে দেশের বন্ধু, কে শত্রু। আমরা জনগণের পাশে ছিলাম ও থাকব, তাই দাঁড়িপাল্লায় ভোটই প্রমাণ করবে সত্যিকারের দেশপ্রেম।”

ভোলা-২: একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিএনপিতে টানাপোড়েন

এই আসনে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম ইব্রাহিম খলিলসহ অন্তত চারজন প্রার্থী সক্রিয়। অপরদিকে জামায়াতের সাবেক জেলা আমির মাওলানা ফজলুল করিম একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে।
তিনি বলেন, “আমরা চাঁদাবাজি বা সহিংস রাজনীতিতে নেই, জনগণের আস্থা নিয়েই নির্বাচনে যাচ্ছি।”

ভোলা-৩: মাঠে আলোচনায় নিজামুল হক নাঈম

এ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট নেতা মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (অব.) আলোচনায় থাকলেও, জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতা নিজামুল হক নাঈম এখন ভোটারদের নজরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গণসংযোগ করে ভোটারদের আস্থা অর্জন করছেন তিনি। ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুসলেমউদ্দীন ও খেলাফত মজলিসের মাওলানা রফিকুল ইসলামও প্রার্থী হচ্ছেন।

ভোলা-৪: সক্রিয় বিএনপি, প্রস্তুত জামায়াত

ভোলা-৪ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনজন—সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদল নেতা নূরুল ইসলাম নয়ন ও এডভোকেট সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া
জামায়াতের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল এরই মধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোনো ব্যক্তির নয়, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে। জনগণ এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে আমাদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করবে।”

ভোটারদের দৃষ্টি জামায়াতের দিকে

ভোটারদের আলোচনায় এখন স্পষ্ট — ভোলায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের প্রার্থীরা সামাজিক কর্মকাণ্ড, মানবিক সহায়তা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ সংগঠন গড়ে তোলায় ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, বিএনপির ভেতরের বিভাজন ও একাধিক প্রার্থী নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তাদের অবস্থান দুর্বল করছে।

ভোটারদের মতে, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি সবাই দিচ্ছে, তবে জামায়াতের সামাজিক নিরাপত্তা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, বেকারত্ব নিরসন ও শিল্প-কারখানা স্থাপনের অঙ্গীকারই এবার জনগণের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জিয়াউর রহমানের মাজারে খালেদা জিয়ার জিয়ারত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শহীদ রাষ্ট্রপতি ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেছেন। বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের মাজারে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মাজারে পৌঁছে বেগম খালেদা জিয়া কিছু সময় নীরবে অবস্থান করেন এবং পরে ফাতেহা পাঠ করে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। সফর শেষে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন ফিরোজার উদ্দেশে রওনা দেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৮ সালে কারাগারে যাওয়ার আগে সর্বশেষ খালেদা জিয়া জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর তার এই সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিএনপি দেশের ৪০টি গণমাধ্যমে প্রভাব খাটাচ্ছে: সারজিস আলম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম দাবি করেছেন, বিএনপি দেশের অন্তত ৪০টি টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রভাব বিস্তার করছে।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফুডক্লাব অডিটোরিয়ামে এনসিপি জেলা শাখা আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সারজিস আলম বলেন, “সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয় দুটি নতুন টেলিভিশনের অনুমোদন দিয়েছে। আমরা শুনেছি, এর মধ্যে একটি টেলিভিশনে এনসিপির এক নেতা মালিকানায় রয়েছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শুধু এনসিপি নয়, বিএনপি ও জামায়াতের নেতারাও এই টেলিভিশনগুলোর সঙ্গে জড়িত। অথচ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শুধু এনসিপিকেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই গণমাধ্যম তার নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখুক। সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে কোনোভাবেই বাধা দেওয়া উচিত নয়। মিডিয়া যেন রাজনীতির হাতিয়ার না হয়, বরং সত্য ও জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করুক।”

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম বলেন, “বাংলাদেশে আর আওয়ামী লীগ কখনো ফিরে আসবে না। যারা মনে করছেন দলটি আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবে, তারা বাস্তবতা বুঝতে পারছেন না। এসব স্বপ্ন দেখা বন্ধ করতে হবে, নয়তো তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।”

সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এনসিপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জাতীয় রাজনীতিতে দলের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শর্ত মেনে বিচার দেখালে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এনসিপি অংশ নেবে: সারজিস

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই সনদ আইনি ভিত্তি পেলে এবং গুরুত্বপূর্ণ হত্যা-সংবলিত মামলার দৃশ্যমান বিচার বাস্তবায়ন হলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তাদের দল অংশগ্রহণ করতে কোনো আপত্তি থাকবে না। তিনি এই মন্তব্য করেন সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর একটি সমন্বয় সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে।

সারজিস বলেন, জুলাই সনদ যদি আইনগত স্বীকৃতি পায় এবং প্রশাসন নির্ধারিত বিচারিক রায়গুলো কার্যকর করে, বিশেষ করে যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে—তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ সিদ্ধান্ত দেখানো হয়, তখনই তারা নির্বাচনে যেতে রাজি হবেন। তিনি আরো বলেন, হাজার হাজার মামলার ফলাফল একেবারে একবারে দেওয়া সম্ভব নয়; তবে রাজনৈতিকভাবে গুরুতর মেসাজ বহন করা কিছু মামলার রায় ও বাস্তবায়নই জনরোষ নিবারণ করতে পারে।

তিনি জানিয়েছিলেন, যারা অভ্যুত্থানের সময় দায়িত্ব নিয়েছিলেন—বিশেষ করে উপদেষ্টারা—তাদের উচিত দায়িত্বের মাত্রা ধরে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া; নাহলে নির্বাচন নিয়ে ‘সেফ এক্সিট’ ভাবনা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সারজিস অভিযোগ করে বলেন, কিছু প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে এখনও অনিয়ম, বৃহৎ পরিসরে টাকার বিনিময়ে কাজ, এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। তিনি প্রশ্ন তুলেন, গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও কেন এমন অনিয়ম রোধ করা হয়নি।

সারজিস আরও বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে সরকারি দফতর, পুলিশ-প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থায় অনেকে পরিবর্তিত আচরণ দেখালেও অনেক জায়গায় পুরনো ‘দলীয়’ মানসিকতা এখনও টিকে আছে। তিনি দাবি করেন, এসব কপারক্রিয়াকাণ্ড যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার না হলে ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা আছে এবং সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই ওই সব অবস্থা মেনে নেবে না।

সভায় তিনি বলেন, এনসিপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার চাইছে এবং যদি সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো একযোগে এগুলো বাস্তবায়ন করে তবে দলের অংশগ্রহণে বাধা থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনী পরিবেশকে যথাযথভাবে নিরপেক্ষ ও দায়বদ্ধ করার ওপর জোর দিয়েছেন।

এনসিপি রাজশাহী জেলা ও মহানগর সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা-ফিল্ড কমান্ডগুলো ও বিভাগীয় নেতারা। সভার আগে সারজিস এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানান যে, শাপলা প্রতীক বিষয়ে আইনি কোনো বাধা না থাকলে এনসিপি শাপলা প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবে এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষায় জোর তাগাদা থাকবে।

সভায় অনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজশাহীর বিভাগীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বরা, যারা সারজিসের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছে ও ঐ শর্তগুলো পূরণ হলে দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত বলে মন্তব্য করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




উপদেষ্টাদের বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছি: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সরকারের অনেক উপদেষ্টা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে এখন সেফ এক্সিটের পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদের অনেককে বিশ্বাস করাটা ছিল বড় ভুল। তাদের প্রতি আস্থা রেখে আমরা প্রতারিত হয়েছি। অনেক উপদেষ্টা ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় গেছেন। কেউ কেউ নিজেদের আখের গুছিয়ে ফেলেছেন, আবার কেউ গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সময় এলে আমরা তাদের নাম প্রকাশ করব।”

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “যারা উপদেষ্টা হয়েছেন, তাদের অনেককেই বিশ্বাস করাটা আমাদের রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। আমাদের উচিত ছিল ছাত্র নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং সরকারে গেলে সম্মিলিতভাবে যাওয়া। নাগরিক সমাজ ও কিছু রাজনৈতিক দলের প্রতি অতিরিক্ত আস্থা রাখার ফলেই আমরা প্রতারিত হয়েছি।”

উপদেষ্টা হিসেবে ছাত্রনেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা কেউই সরকারের উপদেষ্টা পদ নিতে চাইনি। বরং আমরা শুরু থেকেই একটি জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। ছাত্র নেতৃত্ব না থাকলে এই সরকার প্রথম তিন মাসও টিকতে পারত না। অভ্যুত্থানের শক্তিই সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার গঠনের প্রথম ছয় মাসে প্রতিবিপ্লবের চেষ্টাও হয়েছিল, যা এখনো আংশিকভাবে চলছে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হয়ে নাগরিক সরকার গঠন করত, তাহলে ছাত্রদের কাঁধে এই দায়িত্ব আসত না। কিন্তু সময়ের দাবি অনুযায়ী আমাদেরই নেতৃত্ব নিতে হয়েছিল।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা আরও মন্তব্য করেন, “৫ আগস্ট ক্যান্টনমেন্টে সেজদা দিয়েছে রাজনৈতিক নেতারাই, ছাত্ররা নয়।” তিনি বলেন, “সুশীল সমাজের কিছু প্রতিনিধিকে নিয়ে সরকার গঠন না করে যদি একটি জাতীয় সরকার করা হতো, তাহলে আজকের এই আক্ষেপ আমাদের মধ্যে থাকত না।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“টার্গেট অপারেশন — আমাকে যারা আক্রমণ করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে” :নুরুল হক নুর

গতকাল (শনিবার, ৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে দেশে চিকিৎসা শেষে ফেরেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। বিমানবন্দরে ফেরার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে শেখ হাসিনার গদিকে চ্যালেঞ্জ করে আন্দোলন করলেও কখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ধরনের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়নি তারা। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা একটি টার্গেট অপারেশন ছিল — তাদের লক্ষ্য করেই কাউকে টার্গেট করে অন্যদের মেসেজ পাঠানো হচ্ছিল।

নুর বলেন, “আমি অন্য রাজনৈতিক দল ও গণঅভ্যুত্থানকারী নেতাদের সতর্ক করতে চাই — যদি আপনি পরবর্তী সিরিয়ালে পড়তে না চান, যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হোক, তাঁকে নির্বিশেষে বিচার করতে হবে, চাকরিচ্যুত করতে হবে।” তিনি জানান, যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঘটতে বাধ্য হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে নুরул হক নুর আরও বলেন, বিগত নির্বাচনের ঘটনায় অনেক বিতর্ক ও অনিয়ম ঘটেছে; সেই প্রেক্ষাপটে দেশের বিচার প্রক্রিয়া ও তদন্তের ওপর জনগণের আস্থা কমে গেছে। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, গত ঘটনার পরে তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও কার্যকারিতা না থাকায় ও রিপোর্ট প্রকাশে গাফিলতির কারণে জনগণের মধ্যে সন্দেহ আরও বাড়ছে। “৩৫ দিন পার হয়ে গেল — তবু বিচার বিভাগীয় কোনো স্বচ্ছ পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাইনি,” তিনি বলেন।

নুর তীর খুলে বলেন, সরকারকে তারা সহযোগিতা করলেও সুবিধাভোগী নয়—বিচার না হলে ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি দলের প্রধানকে এভাবে আক্রমণ করলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ কীভাবে তৈরি হবে; সমঝোতার নামে অনুন্নত সিদ্ধান্তে নির্বাচন পদ্ধতি দুর্বল করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট রাতের বিজয়নগরের ঘটনায় নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন; সেবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় তাঁর মাথায় আঘাত লেগে নাকের হাড় ভেঙে যায়। ওই ঘটনার পর থেকে তার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিই তিনি পুনরায় উত্থাপন করেছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নুর আশ্বাস দেন যে, তারা জনগণের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় নিরন্তর কাজ চালিয়ে যাবেন এবং যে কোনো অনিয়ম, হামলা বা দমন-নিপীড়ন যদি দেখা যায়, সেটার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়ায় এনসিপির সাংগঠনিক সভা

বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়া ইউনিয়ন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে শনিবার (৪ অক্টোবর) সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী জাকির হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে এ সভা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সংগঠক আসাদ বিন রনি বলেন, ২৪-এর চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আগামীতে বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান বাস্তবায়ন করবে এনসিপি। তাই পাড়া-মহল্লা ও ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর চেতনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা বলেন, স্বাধীনতার চেতনা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এনসিপি আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঐক্য গড়ে তুলে নতুন সংবিধান ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায় জনগণকে এনসিপির পতাকা তলে আসতে হবে।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ছাত্র, যুব, শ্রমিক ও এনসিপির নেতৃবৃন্দ।

শেষে অহিদুজ্জামান শরিফ বাশারকে আহ্বায়কমো. রেজাউল আলম হেলালকে সদস্য সচিব করে চর কাউয়া ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“লুটপাটের সুযোগ থাকা প্রকল্পেই ব্যস্ত সরকার-প্রশাসন”:ব্যারিস্টার ফুয়াদ

বরিশালের মুলাদীতে চরকালেখান ইউনিয়নের জয়ন্তী নদী ভাঙন রোধে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রেখে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, “লুটপাটের সুযোগ থাকা প্রকল্প নিয়েই রাষ্ট্র, সরকার ও প্রশাসন ব্যস্ত থাকে। যেসব প্রকল্পে রাজনৈতিক দলগুলো লাভবান হয়, সেগুলোতে তদবির করা হয়। অথচ টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সরকারের অনীহা স্পষ্ট।”

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় চরকালেখান ইউনিয়নের ঢালীবাড়ি লঞ্চঘাট থেকে নোমরহাট রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধনে স্থানীয়রা অংশ নেন।

ফুয়াদ বলেন, “নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। জিওব্যাগ ফেলার মতো অস্থায়ী উদ্যোগে জনগণকে আতঙ্কে রেখে লাভ নেই। নদী ভাঙন ঠেকাতে ব্লক ফেলে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কৃষিজমি, ঘরবাড়ি ও মানুষ রক্ষা পায়।”

মানববন্ধন কর্মসূচির আহ্বায়ক প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম জানান, জয়ন্তী নদীর চরকালেখান ইউনিয়নের অলীল মেম্বারের বাড়ি থেকে খেজুরতলা তেরচর মোহনা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক ভাঙন চলছে। নব্বই শতাংশ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গ্রামীণ জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে।

এছাড়া ভাঙনের কারণে মুলাদী উপজেলা থেকে সফিপুর, সেলিমপুর, বাটামারা ও নাজিরপুর ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক নদীতে বিলীন হয়েছে। কৃষিজমি হারিয়ে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি পরিবার অতিকষ্টে দিন পার করছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ভূমি কার্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় বাজার ও গ্রামীণ বসতবাড়ি দ্রুত নদী ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। তাই সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম সরদার, ইউপি সদস্য মো. রাশেদ খান, মুলাদী সরকারি কলেজের শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন সিকদার, বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মালেক সরদার, শিক্ষক অসীম মণ্ডল ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রহসন হবে: জিএম কাদের

আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রস্তুতিকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, “এই নির্বাচন দেশের মানুষের জন্য নয়, ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই।”

শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয় মহিলা পার্টির মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার সময় ছিল দলের সঙ্গে দলের প্রতিযোগিতা, এখন হচ্ছে সরকারি ও আধা সরকারি দলের মধ্যে নির্বাচন। বর্তমান সরকার নির্বাচনের নামে নাটক সাজাচ্ছে। জামাতসহ অনেকেই সরকারের সুবিধা ভোগ করছে, অথচ বিএনপি আজ আধা সরকারি দলে পরিণত হয়েছে।”

জিএম কাদের অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান প্রশাসন নির্বাচনের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। দেশের ৫০ শতাংশেরও বেশি মানুষকে বাইরে রেখে ভোট আয়োজন করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা যেমন করেছিলেন, এখন তা প্রশাসনিক আদেশে করা হচ্ছে। সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে চায়, আর আধা সরকারি দল দ্রুত নির্বাচন চায়। উভয় পক্ষই দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “এই সরকার নিরপেক্ষ নয়। জনগণই ঠিক করবে কোন দল ক্ষমতায় আসবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া গ্রহণযোগ্য ভোট সম্ভব নয়। অন্যথায় দেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে যাবে। আগামীতেও শেখ হাসিনার মতো বিপুল অর্থ ও শক্তি প্রয়োগ করে একতরফা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।”

জাতীয় পার্টিকে নিয়ন্ত্রণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “সরকার মনে করছে, জিএম কাদের ছাড়া জাতীয় পার্টি থাকলে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। তাই যাদের দমন করা যাবে, তাদের দিয়ে পার্টি বানাতে চাইছে। কিন্তু জাতীয় পার্টি কারও দোসর নয়, চাপিয়ে দেওয়া রাজনীতি আমরা মানি না।”

ধর্ম ও নারী অধিকার প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ ধার্মিক কিন্তু মধ্যপন্থী। ইসলাম কখনও নারীর প্রতি অবিচার সমর্থন করে না। কিছু দেশে মহিলাদের লেখা বই পড়া নিষিদ্ধ, তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলাও নিষেধ। আমরা এমন সাম্প্রদায়িক চিন্তাধারা মেনে নেব না।”

মহিলা নেত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একটি দলের নেতা বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে মেয়েরা মেয়েদের সামনে নাচবে—এটা দেশের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না। মহিলাদের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজানোর মতো ভয়ংকর চিন্তা এ দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। এখন থেকেই এসব প্রতিরোধে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

একই সভায় জিএম কাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদ অতীতে যেমন দমন করেছি, এবারও করব। জাতীয় পার্টির প্রতিটি কর্মী দেশের গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মহিলা পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক হেনা খান পন্নী। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দীন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া, আলমগীর শিকদার লোটন ও দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম প্রমুখ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম