প্রতিদিন ৫৬০ টন খাদ্য ঢুকছে গাজায়, তবে আরও প্রয়োজন

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছেহামাসইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৬০ টন খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে দুর্ভিক্ষ কবলিত অঞ্চলটির চাহিদার তুলনায় এটি অপ্রতুল।

জেনেভায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মুখপাত্র আবির এতেফা বলেন, আমাদের যা প্রয়োজন, তা এখনো কম। কিন্তু আমরা সেখানে পৌঁছাচ্ছি… যুদ্ধবিরতি সুযোগের একটি সংকীর্ণ জানালা খুলে দিয়েছে। খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধির জন্য আমরা খুব দ্রুত এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিচ্ছি।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল টম ফ্লেচার বলেছেন, গাজার কিছু অংশে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বিরাজমান থাকায় সংকট কমাতে এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার ত্রাণবহর প্রবেশ করতে হবে।

গাজায় বর্তমানে নয়টি বেকারি চালু রয়েছে। এখানে প্রতিদিন ১ লাখেরও বেশি রুটি বানানো হয়। প্রতিটির ওজন দুই কেজি। বেকারিগুলো গাজার মোট ২০ লাখেরও বেশি লোকের মধ্যে পাঁচ জনের একটি পরিবারের প্রতিদিনের খাবার সরবরাহ করে।

 




বাউফলে শিক্ষক আন্দোলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে চাঞ্চল্য!

পটুয়াখালীর বাউফলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনে নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদের নেতৃত্বে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সম্প্রতি তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখছেন এবং দাবি আদায়ের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় শিক্ষক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পতিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আ.স.ম. ফিরোজের সুপারিশে ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ‘অফিস সহকারী’ হিসেবে নিয়োগ পান নিয়াজ মোর্শেদ। তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তখন থেকেই নানা প্রশ্ন এবং সমালোচনা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।

একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, নিয়াজ মোর্শেদ তার দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তগুলোতে হস্তক্ষেপ করে আসছেন। বর্তমান শিক্ষক আন্দোলনেও তিনি সুযোগ খুঁজে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন বলে তাদের অভিযোগ।

একজন আন্দোলনকারী শিক্ষক বলেন, “আমরা আমাদের বৈধ দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনে নেমেছি। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, এখন আমাদের নেতৃত্বে রয়েছেন এমন একজন ব্যক্তি যার অতীত বিতর্কিত। এতে আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”

আরেক শিক্ষক জানান, “নিয়াজ মোর্শেদ ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে নেমেছেন। শিক্ষকদের ন্যায্য আন্দোলনকে তিনি নিজের প্রচারের মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছেন।”

এ বিষয়ে বাউফল ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজিরুল হক বলেন, “নিয়াজ মোর্শেদ যখন বক্তব্য দিয়েছেন, তখন আমি মাদ্রাসায় ছিলাম না। বিষয়টি জানার পর আমি শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নেব।”

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বাউফলজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, শিক্ষক আন্দোলনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তির নেতৃত্ব আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই সনদে শহীদ পরিবার রাস্তায় নামায় লজ্জার: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিনে শহীদ পরিবারগুলোকে রাস্তায় নামতে হওয়া দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাই জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ১০-এর সেনপাড়া পর্বতা ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি অন্যায় ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাই জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কষ্ট, তাদের পরিবারের বেদনা এবং মজলুমদের আর্তনাদ আমরা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝি।

তিনি আরও বলেন, “জামায়াত জুলাই আন্দোলনের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেয়নি।” বরং দলটি সব সময় দেশ, ইসলাম ও গণতন্ত্রের স্বার্থে কাজ করে আসছে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষই রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। তাদের অধিকার নিশ্চিত না করে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সবাইকে ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সমাবেশে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার জামায়াত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভূমিধস জয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সেতাউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

ভিপি পদে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন (আবীর) পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট।

জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাউদ্দিন আম্মার জয়ী হয়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৭ ভোট। এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের এস এম সালমান সাব্বির বিজয়ী হয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের জাহিন বিশ্বাস এষা পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫১ ভোট।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনজুড়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকলেও সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোট গণনা শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এবারের নির্বাচনে ২৩টি পদে ২৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পাশাপাশি ১৭টি হলে হল সংসদের ১৫ পদে মোট ৫৯৭ প্রার্থী এবং সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫ পদে ৫৮ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্র ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। নারী হলগুলোতে ভোট পড়ার হার ছিল ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাকসু কার্যক্রম নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পেল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আলিম পরীক্ষায় আবারও রোল মডেল ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা

মাদরাসা শিক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী এনএস কামিল (নেছারাবাদ) মাদরাসা। এবারের আলিম পরীক্ষায়ও দারুণ ফলাফল করে প্রতিষ্ঠানটি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালের আলিম পরীক্ষায় বিজ্ঞান ও সাধারণ বিভাগ মিলিয়ে মোট ২৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬২ জন পাস করেছে, যা পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সফল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০৭ জন জিপিএ-৫ এবং ১০৩ জন এ গ্রেড অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বলেন, “শিক্ষার্থীদের একাগ্র পরিশ্রম, শিক্ষক মণ্ডলীর নিবেদন এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ফলাফলে এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি ধরে রেখেছে। প্রতি বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সঙ্গে স্থান অর্জন করে আসছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




”জুলাই সনদ স্বাক্ষর” উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে : প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষর করলেই কাজ শেষ নয়, বরং এটাকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গেই জুলাই সনদ গভীরভাবে জড়িত। এই সনদের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুলাই সনদে স্বাক্ষর হবে। তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য যা যা করার প্রয়োজন, সরকার সব ব্যবস্থা নেবে।

বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মূখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।




মধ্যরাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া

মধ্যরাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান

বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে গাড়িযোগে হাসপাতালে নেওয়া হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর রাতেই তাঁকে ভর্তি করেন।

দীর্ঘদিন ধরেই খালেদা জিয়া নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রায় ৮০ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ একাধিক রোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ফিরে যান। এরপরও অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডিঅধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলতে থাকে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁকে দেখতে হাসপাতালে দলের শীর্ষ নেতারা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, কোনো ছাড় নয় — প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে, এবং এর সময়সূচি বা পদ্ধতি নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে, এবং সেই নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।”

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।

ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা সবাই মিলে জাতীয় সনদ তৈরি করেছেন, এখন সরকারের দায়িত্ব উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করা। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়েই আমরা এগোবো—এর সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না।”

তিনি আরও জানান, “উৎসবমুখরভাবে ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর হবে। জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে এখানেই কাজের সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমরা চাই এই সনদটি শুধু দলিল হিসেবে নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থায় স্থায়ীভাবে প্রভাব ফেলুক।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই সনদে যে ঐক্যমত তৈরি হয়েছে তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। আপনারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। এই ঐকমত্য জাতিকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে।”

তিনি আরও জানান, এই সনদ ও আলোচনাগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, সেজন্য তা বই, ভিডিও এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। “আমাদের দায়িত্ব এটি জনগণের ভাষায় প্রচার করা, যাতে সবাই বুঝতে পারে কেন আমরা একমত হয়েছি,” যোগ করেন ড. ইউনূস।

তার ভাষায়, “আজকে যেই পয়েন্টে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি, তা ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এটা শুধু একটি রাজনৈতিক অর্জন নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবের বিষয়।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পাঁচ দফা দাবি আদায়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ : আজ (১৫অক্টোবর’২৫) আনোয়ারাস্থ টানেল চত্বরে পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মানববন্ধন  করে ।

জেলা সভাপতি মাওলানা সগির আহমদ চৌধুরী এর সভাপতিত্বে এবং জেলা শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা এবিএম অলি উল্লাহ এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা রুহুল্লাহ তালুকদার, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম,  আনোয়ারা -১৩ আসনের হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা এরফানুল হক সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা নিজাম উদ্দীন প্রমুখ।

মানববন্ধনে ইসলামী আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আওয়াতাধীন আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তরা পিআর সিস্টেমে জাতীয় নির্বাচন,জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকারও ঘোষণা দেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা।




“দেশটাকে বাঁচান, বিভাজন নয়”—গড়েয়ায় ফখরুলের আহ্বান

ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়ায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “পিআর আমি নিজেই বুঝি না, কিন্তু দেশটাকে বাঁচাতে হবে—বিভাজন নয়, ঐক্য চাই। গণভোট আর পিআর ছাড়া নির্বাচন হবে না।”

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত সভায় তিনি বলেন, “যারা নানা দাবি-দাওয়া তুলে মিছিল করছে, তারা আসলে নির্বাচন পণ্ড করতে চায়। পিআর নিয়ে বিতর্ক পার্লামেন্টে গিয়ে হবে। যেসব বিষয়ে দলগুলো একমত হবে সেগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত হবে, আর বাকি মতের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু দয়া করে নির্বাচনটা হতে দিন—দেশের অস্তিত্ব বাঁচাতে এখন এটাই প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আর হিংসার রাজনীতি চাই না। হিন্দু-মুসলিম বিভেদ নয়, সবাই মিলে শান্তিতে থাকতে চাই। অতীতে আমরা সরকারে ছিলাম, তাই সরকার পরিচালনা করতে জানি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার আনা হবে, কৃষকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।”

নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ফখরুল বলেন, “আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব—এটাই গণতন্ত্র। বিভাজন সৃষ্টি করবেন না, দেশটাকে আর ক্ষতি করবেন না। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। ভুলে যাবেন না, মার্কাটা ধানের শীষ।”

সভায় বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় ফখরুল বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম