”জুলাই সনদ স্বাক্ষর” উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে : প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষর করলেই কাজ শেষ নয়, বরং এটাকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গেই জুলাই সনদ গভীরভাবে জড়িত। এই সনদের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুলাই সনদে স্বাক্ষর হবে। তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য যা যা করার প্রয়োজন, সরকার সব ব্যবস্থা নেবে।

বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মূখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।




মধ্যরাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া

মধ্যরাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান

বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে গাড়িযোগে হাসপাতালে নেওয়া হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর রাতেই তাঁকে ভর্তি করেন।

দীর্ঘদিন ধরেই খালেদা জিয়া নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রায় ৮০ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ একাধিক রোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ফিরে যান। এরপরও অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডিঅধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলতে থাকে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁকে দেখতে হাসপাতালে দলের শীর্ষ নেতারা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, কোনো ছাড় নয় — প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে, এবং এর সময়সূচি বা পদ্ধতি নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে, এবং সেই নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।”

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।

ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা সবাই মিলে জাতীয় সনদ তৈরি করেছেন, এখন সরকারের দায়িত্ব উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করা। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়েই আমরা এগোবো—এর সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না।”

তিনি আরও জানান, “উৎসবমুখরভাবে ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর হবে। জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে এখানেই কাজের সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমরা চাই এই সনদটি শুধু দলিল হিসেবে নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থায় স্থায়ীভাবে প্রভাব ফেলুক।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই সনদে যে ঐক্যমত তৈরি হয়েছে তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। আপনারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। এই ঐকমত্য জাতিকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে।”

তিনি আরও জানান, এই সনদ ও আলোচনাগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, সেজন্য তা বই, ভিডিও এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। “আমাদের দায়িত্ব এটি জনগণের ভাষায় প্রচার করা, যাতে সবাই বুঝতে পারে কেন আমরা একমত হয়েছি,” যোগ করেন ড. ইউনূস।

তার ভাষায়, “আজকে যেই পয়েন্টে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি, তা ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এটা শুধু একটি রাজনৈতিক অর্জন নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবের বিষয়।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পাঁচ দফা দাবি আদায়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ : আজ (১৫অক্টোবর’২৫) আনোয়ারাস্থ টানেল চত্বরে পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মানববন্ধন  করে ।

জেলা সভাপতি মাওলানা সগির আহমদ চৌধুরী এর সভাপতিত্বে এবং জেলা শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা এবিএম অলি উল্লাহ এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা রুহুল্লাহ তালুকদার, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম,  আনোয়ারা -১৩ আসনের হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা এরফানুল হক সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা নিজাম উদ্দীন প্রমুখ।

মানববন্ধনে ইসলামী আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আওয়াতাধীন আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তরা পিআর সিস্টেমে জাতীয় নির্বাচন,জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকারও ঘোষণা দেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা।




“দেশটাকে বাঁচান, বিভাজন নয়”—গড়েয়ায় ফখরুলের আহ্বান

ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়ায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “পিআর আমি নিজেই বুঝি না, কিন্তু দেশটাকে বাঁচাতে হবে—বিভাজন নয়, ঐক্য চাই। গণভোট আর পিআর ছাড়া নির্বাচন হবে না।”

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত সভায় তিনি বলেন, “যারা নানা দাবি-দাওয়া তুলে মিছিল করছে, তারা আসলে নির্বাচন পণ্ড করতে চায়। পিআর নিয়ে বিতর্ক পার্লামেন্টে গিয়ে হবে। যেসব বিষয়ে দলগুলো একমত হবে সেগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত হবে, আর বাকি মতের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু দয়া করে নির্বাচনটা হতে দিন—দেশের অস্তিত্ব বাঁচাতে এখন এটাই প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আর হিংসার রাজনীতি চাই না। হিন্দু-মুসলিম বিভেদ নয়, সবাই মিলে শান্তিতে থাকতে চাই। অতীতে আমরা সরকারে ছিলাম, তাই সরকার পরিচালনা করতে জানি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার আনা হবে, কৃষকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।”

নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ফখরুল বলেন, “আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব—এটাই গণতন্ত্র। বিভাজন সৃষ্টি করবেন না, দেশটাকে আর ক্ষতি করবেন না। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। ভুলে যাবেন না, মার্কাটা ধানের শীষ।”

সভায় বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় ফখরুল বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাতীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানোর আহ্বান নুরুল হকের

রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে জাতীয় সরকার গঠন করা হলে দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথ সুগম হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর চৌরাস্তায় জেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা যে নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই, তা রাতারাতি সম্ভব নয়। রাজনৈতিক নেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন এবং আমলাতন্ত্রের চরিত্রের রূপান্তর না ঘটলে কোনো পরিবর্তন টেকসই হবে না। যদি রাজনৈতিক ঐক্য ও সমঝোতার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠন করা যায়, তাহলে সেই সরকারই পারে দেশকে পাঁচ বছরের মধ্যে স্থিতিশীল ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে।”

নুরুল হক নুর সতর্ক করে বলেন, “যদি রাজনৈতিক বিভাজন ও অনৈক্য অব্যাহত থাকে, তাহলে স্বৈরাচারী শক্তি পুনরায় মাথাচাড়া দেবে। ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে—এমন পরিস্থিতিতে কেউ নিরাপদ থাকবে না। তাই এখনই সব রাজনৈতিক দলের উচিত সংলাপের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু করা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “একদিকে আমরা আশাবাদী যে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। অন্যদিকে নির্বাচনের আকাশে কালো মেঘ জমছে। সরকারের সমালোচকরা দমন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে সামনে সকলের জন্যই কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।”

নুরুল হক নুর সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কেও মন্তব্য করেন, “বর্তমান সরকার সকলের জন্য হলেও জনগণের পরামর্শ গ্রহণ করছে না। এর ফলে জনপ্রিয়তা কমছে। কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সরকারের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মুজিব কোটের আধিপত্যের দিন শেষ—এবার মানুষ স্বতঃসিদ্ধভাবে এর প্রভাব নিচ্ছে না, বরং ভয়ের কারণে কেউ এতে সম্পৃক্ত হতে চাচ্ছে না।”

সভায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা ও অঙ্গসংগঠনের অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। নুরুল হক নুর বক্তব্যে সরকারের ব্যর্থতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন প্রজন্মের গুরুত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগামী নির্বাচনে জনগণের সরকার গড়বে বিএনপি — আলতাফ হোসেন চৌধুরী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলা মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে মুরাদিয়া ইউনিয়নের জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভারতের তাবেদার আওয়ামী লীগ জনগণকে দমন করে রেখেছিল। কিন্তু ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা সেই ফ্যাসিবাদী শাসনকে প্রতিহত করেছি। এখন সময় এসেছে একটি গণতান্ত্রিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার।” তিনি আরও বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিতে প্রস্তুত। সরকার ঘোষিত সময় অনুযায়ী নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে, এবং তিনিই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাকসুদ আহম্মেদ বায়েজীদ (পান্না), জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবর রহমান, পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিসেস জেসমিন জাফর এবং জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান রুমি।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শহীদ জিয়া গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ লুতফর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লাল মিয়া, দুমকি ছাত্রদলের সদস্য সচিব সুমন শরীফ ও দুমকি বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান সুমন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দুমকি উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ জসিম উদ্দিন হাওলাদার এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মতিউর রহমান দিপু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই ও বিএনপি নেতা মোঃ শাহীন চৌধুরী, তার ব্যক্তিগত প্রেস সেক্রেটারি মোঃ মাহফুজুর রহমান সবুজ, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও পবিপ্রবি’র আইন উপদেষ্টা এডভোকেট আনিসুর রহমান, জেলা যুবদল নেতা আল আমিন সুজন, বাপ্পি এবং বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।

সভায় বক্তারা বলেন, জনগণ আজ পরিবর্তনের অপেক্ষায়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি সব সময় মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তারা প্রত্যাশা করেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আবারও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জামায়াত আমিরের সঙ্গে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেনমার্কের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর আন্দের্স বি. কার্লসেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবিক সহযোগিতা সম্পর্কেও আলোচনা হয়। সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ পাঁচদফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী’র নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, উভয়কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু ও জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধসহ পাঁচদফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে সারাদেশে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হবে।

শনিবার (১২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দাবি আদায়ে জনগণের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে—জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান দেশবাসীর সমর্থন পাচ্ছে।

অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, “১ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত গণসংযোগ, ১০ অক্টোবর বিভাগীয় শহরে গণমিছিল এবং ১২ অক্টোবর জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জনগণের অংশগ্রহণে আমরা উৎসাহিত। সরকার যদি জনগণের দাবি উপেক্ষা করে, তবে আমরা রাজপথে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

তিনি আরও জানান, “সরকারের উচিত জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা। না হলে জনগণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায় করবে।”

ঘোষিত পাঁচদফা দাবি:

১️⃣ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করে গণভোটের মাধ্যমে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন।
২️⃣ জাতীয় নির্বাচনে উভয়কক্ষে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করে গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন।
৩️⃣ অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
৪️⃣ বর্তমান সরকারের দুর্নীতি, গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার দৃশ্যমান করা।
৫️⃣ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

তৃতীয় দফা কর্মসূচি:

🔹 ১৪ অক্টোবর – রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে মানববন্ধন।
🔹 ১৫ অক্টোবর – দেশের সব জেলা শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে মৎস্য ভবন হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। এতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ মহানগরীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে দলটি।


আল-আমিন

 




আমি মুক্তিযোদ্ধা, সেফ এক্সিট আমার জন্য নয়: উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

“আমি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা, তাই সেফ এক্সিট আমার জন্য নয়। আমি এ দেশেই থাকব”— এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে টাইফয়েড টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদানের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, “বছরের পর বছর আমাদের সমাজে বৈষম্য ও অধিকার বঞ্চনার যে চিত্র ছিল, সেখান থেকে জাতির একটি সেফ এক্সিট নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। জাতি যেন ন্যায়, সমতা ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যেতে পারে এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “টাইফয়েড প্রতিরোধে এই টিকা ক্যাম্পেইন একটি আশীর্বাদ। রোগ প্রতিরোধ সবসময় প্রতিকারের চেয়ে উত্তম। তাই এই কর্মসূচিকে সফল করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

এ সময় মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

টিকা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত
বরিশাল বিভাগে ২৬ লাখ ১৪ হাজার মানুষকে টাইফয়েড টিকার আওতায় আনা হবে। ৪ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ১ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে এই টিকা, যা সরকার পেয়েছে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহযোগিতায়। টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইতোমধ্যে নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে সফলভাবে ব্যবহার হয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫