ঝালকাঠি জামায়াতের কর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আব্দুল করিম শিকদারের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজাপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

বিকেলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি রাজাপুর বাইপাস সড়কসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নির্বাচনী পরিবেশে সহিংসতা বন্ধ, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা কবির হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় একজন কর্মীর ওপর হামলা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করার শামিল। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বানী পত্রিকার প্রকাশক অ্যাডভোকেট শাহ আলম, এনসিপির উপজেলা সমন্বয়ক শাকিল আহমেদ, মুখ্য সমন্বয়ক তানিম আহমেদ, এনসিপির যুব সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক বদিউন নবি পলাশ এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি এনামূল ইসলাম। বক্তারা বলেন, হামলার ঘটনার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এখনো গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত বিএনপির যুবদল নেতা ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বাচ্চু হাওলাদারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই হামলার ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সমাবেশে নেতারা বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনী মাঠে সব দলের জন্য সমান সুযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সহিংসতা ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হলে সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হবে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনের সময় এ ধরনের হামলা রাজাপুরসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ধৈর্যের বার্তা নুরের, সহিংসতার রাজনীতি চান না

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি দলীয় জোট সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না এবং সহিংসতার পথেও হাঁটতে চান না।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন নুরুল হক নুর। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, চাইলে তিনি শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারতেন, তবে সচেতনভাবে ধৈর্য ও সংযমের পথ বেছে নিয়েছেন। তার ভাষায়, তিনি কোনো সংঘাত বা প্রতিশোধের রাজনীতি চান না।

জনসভায় নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, আগের দিন গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ট্রাক প্রতীকের একটি মিছিল চলাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকেরা বাধা সৃষ্টি করে। এ সময় তার কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। নুরের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে।

নির্বাচনী বাস্তবতা ও সমীকরণ তুলে ধরে নুর বলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির কোনো আলাদা প্রার্থী নেই। বিএনপি দলীয়ভাবে তাকে সমর্থন দিয়েছে এবং তিনি বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের যৌথ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি দাবি করেন, এই আসনে জোটের প্রার্থীর বিজয়ই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক নুর বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না এলে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি এলাকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে ইঙ্গিত করে নুরুল হক নুর বলেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে কে এমপি হবেন। হুমকি, ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করে ভোট আদায় সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

জনসভায় নুরুল হক নুর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হলে জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাজাকার মন্তব্য ও এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি, বাউফলে বক্তব্য ঘিরে তীব্র আলোচনা

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। এই উত্তাপের মধ্যেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার এক নির্বাচনী সভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ‘রাজাকার’ বলে আখ্যা দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হলে কিছু ব্যক্তিকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দর এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে আয়োজিত উঠান বৈঠক ও একটি নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শহিদুল আলম তালুকদার। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামনে তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক হিসেবে তুলে ধরেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করে ভোটারদের প্রতি আবেগী আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, রাজাকাররা সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং দেশের মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে। তার দাবি, যাদের অতীত বা অবস্থান নিয়ে এমন প্রশ্ন রয়েছে, তাদের ভোট দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ সময় সভায় উপস্থিত সমর্থকরা তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ভোট প্রার্থনার অংশ হিসেবে শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, তার রাজনীতি ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, বরং এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কিছু মানুষকে বাউফল ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং নির্বাচনের পরদিনই এলাকায় তাদের আর দেখা যাবে না। নিজের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন প্রবীণ মানুষ হিসেবে তাকে এখন একজন ‘নব্য রাজাকারের’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক জীবনের অতীত টেনে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৭৩ সালে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আওয়ামী লীগকে তিনি ব্যক্তিগত শত্রু মনে করেন না। যারা ভালো কাজ করবে, দল-মত নির্বিশেষে তারা তার কাছে গ্রহণযোগ্য। আর যারা দেশের ক্ষতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই আসনে শহিদুল আলম তালুকদারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

বর্তমানে কার্যকর নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ১৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকেরা ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা, আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য, মানহানিকর মন্তব্য কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন না—এমন নির্দেশনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে আলোচিত এই বক্তব্য আচরণবিধির আলোকে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটেই চাঁদাবাজদের বিদায়: নাহিদ ইসলাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাধ্যমেই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দখলবাজদের রাজনীতির শেষ দিন ঘনিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সাতারকুলসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকার সার্বিক সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে সাধারণ মানুষ আর ভয় পাচ্ছে না। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলবাজ রাজনীতির বিদায় ঘণ্টা বাজবে।

প্রচারণাকালে তিনি এলাকার নাগরিক সংকট, উন্নয়ন ঘাটতি ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, এই নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের সুযোগ। মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে এবং সাধারণ ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিচ্ছেন।

ভোটারদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। যাকে ভোট দেবেন, ভেবেচিন্তে দেবেন। কোনো লোভ, সুবিধা কিংবা মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে ভোট দেওয়া উচিত নয়। যোগ্য ও সৎ প্রার্থী নির্বাচন করাই হবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, এবারের ভোট শুধু একটি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, এটি পুরো দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। তাই প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ।

প্রচারণার শেষাংশে তিনি ভোটারদের শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজ আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  আজ ২৪ শে জানুয়ারী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী ।

২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জন্ম ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এতে তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা বনানী কবরস্থানে কোকোর কবর জিয়ারত করবেন। পরে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বিএনপির কেন্দ্রীয়, মহানগর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও কোকো রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না বরং খেলা ধুলা নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকতেন । তিনি ক্রীড়া সংগঠক ও শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবেই  বেশি পরিচিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।এ ছাড়া ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চেয়ারম্যান ছিলেন। ছিলেন। বিসিবি ছাড়াও তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও সিটি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন কোকো। ২০০৮ সালের ১৮ জুলাই চিকিত্সা নিতে সপরিবারে ব্যাঙ্ককে যান তিনি। পরে মালয়েশিয়ায় চলে যান। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।




আইনি লড়াইয়ে জয়, ট্রাক প্রতীকে পিরোজপুর-২ তে ফিরলেন মুন্না

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনে গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. আনিছুর রহমান মুন্না তার মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পিরোজপুর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তাকে দলীয় প্রতীক ‘ট্রাক’ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে মাত্র দুই মিনিট দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু সাঈদ তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রার্থী ও তার সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, সময়ের সামান্য ব্যবধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মো. আনিছুর রহমান মুন্না আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন এবং পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আনিছুর রহমান মুন্না বলেন, ন্যায়ের পথে থেকে আইনি লড়াই করেছি এবং শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন তিনি জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে পারবেন। পিরোজপুর-২ আসনের মানুষের অধিকার রক্ষা, উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান।

প্রতীক বরাদ্দের খবরে কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ এলাকায় তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তারা এটিকে ন্যায়ের বিজয় হিসেবে দেখছেন এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গৌরনদীতে প্রচারণায় উত্তেজনা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে গৌরনদীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার শরিকল বাজার ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন শাহ আলম ফকির, আনিস ফকির ও কামাল। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের দ্রুত গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শরিকল বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ চলাকালে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তার কর্মীদের কাছ থেকে লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার নজরে আনা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির একটি খবর তারা পেয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা ও নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে সচেতন মহল প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বাধীনতার বিরোধীদের ক্ষমতায় আনলে বাংলাদেশ টিকবে না: মির্জা ফখরুল

যাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তাঁদের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দিলে দেশের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনার প্রশ্নে কোনো আপস হলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে না।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার দেবিপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম ও শোলটহরি বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, লিফলেট বিতরণ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ১১ বার কারাবরণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এসব মামলা কোনো চুরি বা অপরাধের জন্য নয়, বরং ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে রাজপথে থাকার কারণেই তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। এসব নিয়ে তাঁর কোনো আফসোস নেই বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তারা আজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, জনগণকে ফেলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চলে গেছে।

বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক ও দায়িত্বশীল সরকার গঠন করা সম্ভব। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিল। যারা তখন স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী ছিল—তাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দেওয়া হলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে চলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আজ অনেকেই সুন্দর কথায় মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা একবারও স্বীকার করে না যে ১৯৭১ সালে তারা ভুল পথে ছিল। সেই সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে নির্মম হামলা হয়েছিল, তা কেউ ভুলে যায়নি। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান—সবাই মিলে এই দেশ গড়েছে এবং আগামীতেও সবাইকে নিয়েই দেশ এগিয়ে নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বিএনপি ছাড়া এই মুহূর্তে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মতো কার্যকর বিকল্প নেই। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের একমাত্র পথ হচ্ছে অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। এই ভোটের অধিকারের জন্যই বিএনপি দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছে। তাই দেশকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ব্যালটে যে প্রতীকটি বেছে নিতে হবে, সেটি হচ্ছে ধানের শীষ।

প্রচারণাকালে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তিন শর্তে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে তিনটি মৌলিক শর্তের ভিত্তিতে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে চায় জামায়াতে ইসলামী, যেখানে কোনো একক দল নয়, জনগণের প্রতিনিধিরাই হবে মূল চালিকাশক্তি।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকা—এই তিন শর্ত মানলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে উত্তরাঞ্চলের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, কিছু ধুরন্ধর গোষ্ঠীর কারণে এ অঞ্চলের মানুষ দারিদ্র্যের বেড়াজালে আটকে আছে। সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে উত্তরাঞ্চল কৃষিভিত্তিক শিল্পের বড় কেন্দ্র হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশ ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালিত হলে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। পাশাপাশি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বেকার সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে সমস্যার সমাধান নয়, বরং বেকার যুবকদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে জামায়াতের লক্ষ্য। তিনি বলেন, প্রতিটি ঘরকে এক একটি উৎপাদনমুখী কেন্দ্রে পরিণত করা হবে, যাতে মানুষ নিজের ঘর থেকেই আয়ের সুযোগ পায়।

এর আগে সূচি অনুযায়ী শুক্রবার তিনি ঠাকুরগাঁও ছাড়াও পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে জনসভায় অংশ নেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনসভা করার কথা রয়েছে তার। এরপর গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) তিনি ঢাকা-৫, ৬ ও ৭ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আজ শুক্রবার ভোর চারটায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ‍নির্বাচনে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান বলেন –

রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন ও মেরামত করতে হলে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ—সবাই হাজার বছর ধরে এ দেশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখতে হবে।

আড়াইহাজারের এই মাঠে সিলেট জেলা থেকে শুরু করা নির্বাচনী সমাবেশের শেষ ছিল এটি।

তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ ভালো একটি পরিবর্তন চায়, একটি নিরাপদ রাষ্ট্র চায়, যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাচল করতে পারবে।
আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৫ বছরে জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। আন্দোলন-সংগ্রাম ও শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে ফিরে পাওয়া ভোটাধিকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ভোটের আগে একটি বাহিনী, একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে। নিরীহ মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি ও মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসীদের ব্যালট দখল করে নিয়েছে।বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘তাদের সঙ্গে গত ১৫ বছরের নিশিরাতের নির্বাচন ও ভোট ডাকাতির নির্বাচনের কোনো পার্থক্য আছে? তাদের সঙ্গে ওদের কোনো পার্থক্য নেই। দুজন একই গ্রুপের। একজন ষড়যন্ত্র করে ভোট নিতে চায় এবং আরেকজন ডাকাতি করে ভোট নিয়ে গেছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। মা-বোনদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা, এটার ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।’

বিএনপি ক্ষমতায় এলে লাখ লাখ বেকার তরুণ ও যুবকের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘শুধু গার্মেন্টসশিল্প দিয়ে হবে? নতুন নতুন শিল্প স্থাপন করতে হবে। দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।’