ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, কমপক্ষে ১৫ আহত

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনকে বোরহানউদ্দিন ও ভোলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির এক কর্মীর বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ঘটনা ঘটে শনিবার সকাল টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয়রা জানান, গণসংযোগের সময় দুই দলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণার যান চকিদার বাড়ির পাশে গেলে বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দেন। এ সময় লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে জামায়াতের ১০-১২ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ফয়জুল্লাহ, ইমন, আবদুল হালিম, শাহে আলম, রায়হান, শামিম ও তানজিল রয়েছেন। এদের মধ্যে ছয়জন বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং দুইজন ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনায় ইউনিয়ন জামায়াত তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল করেছে।

পাল্টা অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, জামায়াতের কর্মীরা বিএনপির একটি বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে বিএনপি কর্মীরা প্রতিহত করেন। বিএনপি প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমের প্রধান সমন্বয়কারী অভিযোগ করেন, জামায়াতের কর্মীরা ইউসুফের ঘরবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় বিএনপি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, গণসংযোগকালে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা প্রশাসকও বলেন, দুই পক্ষকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানানো হলে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নুরের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ, ব্যাখ্যা চেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি

নির্বাচন-পূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি দশমিনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অবস্থিত কমিটির অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এই নোটিশ জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন কমিটির সদস্য ও সিভিল জজ সাব্বির মো. খালিদ।

নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনজীবী এনামুল হকের করা লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে এই শোকজ জারি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনকে নিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫(ক) এবং ১৬(গ), (ছ) ধারার লঙ্ঘন হয়েছে। এতে নির্বাচনী আচরণবিধির গুরুতর ব্যত্যয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাতের দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান এলাকার পাগলা বাজার সেন্টারে অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের নির্বাচনী অফিসে নুরুল হক নুরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকেরা ভাঙচুর চালায়। এ সময় ওই প্রার্থীর কয়েকজন সমর্থক আহত হন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনাকে আচরণবিধিমালার ৬(ক) ধারার পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সশরীরে অথবা আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা না দিলে অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নুরুল হক নুর বলেন, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ হাতে পাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আইনের প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং নোটিশ হাতে পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুরের তিন আসনে ভোটের অঙ্ক

বরিশাল বিভাগের নদীবেষ্টিত জেলা পিরোজপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। ঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এই জেলার মানুষ এখন ভোটের হিসাব কষছেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে পিরোজপুরের তিনটি আসনেই এবার মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে।

জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাট-বাজার, চায়ের দোকান, গ্রাম-গঞ্জ—সবখানেই ভোটের আলোচনা। প্রার্থীদের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকরাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।


পিরোজপুর–১ : বিএনপি–জামায়াতের হেভিওয়েট লড়াই

সদর উপজেলা, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–১ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৯২ হাজারের বেশি। এই আসনে এবার সরাসরি মুখোমুখি লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল আলমগীর হোসেন। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাসুদ সাঈদী

নাজিরপুর উপজেলায় বিপুলসংখ্যক ভোটার ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোট এখানে জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপজেলার ভোট যেদিকে যাবে, ফলাফলও সেদিকেই ঝুঁকবে। সদর ও পৌর এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর শক্ত ভোটব্যাংক থাকলেও, ইন্দুরকানীতে জামায়াত প্রার্থীর পারিবারিক ও সাংগঠনিক প্রভাবও কম নয়। ফলে আসনটি নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


পিরোজপুর–২ : ত্রিমুখী লড়াইয়ে মূল দ্বন্দ্ব বিএনপি ও জামায়াত

কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–২ আসনের ভোটার সংখ্যা চার লাখের বেশি। এখানে প্রার্থী রয়েছেন সাতজন।

জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচারে আছেন শামীম সাঈদী। অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মদ সোহেল মনজুর। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকায় এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। দিন যত গড়াচ্ছে, প্রচারণার উত্তাপও তত বাড়ছে।


পিরোজপুর–৩ : বিএনপি এগিয়ে, ইসলামী আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ

মঠবাড়িয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–৩ আসনের ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার। এখানে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা হিসেবে এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। তার বিপরীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী রুস্তম আলী ফরাজী শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারেন।


সব মিলিয়ে পিরোজপুরের তিনটি আসনেই ভোটের লড়াই জমে উঠেছে। একটিতে বিএনপি তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, বাকি দুই আসনে জামায়াতের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে মাঠে প্রার্থীরা, সরগরম বরিশাল–৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল–৫ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাজনৈতিক দর্শন ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় মুখর হয়ে উঠেছে নগরীর পাড়া-মহল্লা।

নির্বাচনী মাঠে এই আসনে মূলত তিন প্রার্থীর সক্রিয় প্রচারণা চোখে পড়ছে। প্রতিদিনই তারা নিজ নিজ কর্মসূচি ও অঙ্গীকার তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর কাশিপুর এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল–৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় তিনি এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও জনস্বার্থে কাজ করার আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, সকালে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী নগরীর সদর রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালান। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে তার রাজনৈতিক আদর্শ, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ও জনবান্ধব রাজনীতির কথা তুলে ধরে ভোট চান।

এ ছাড়া সকাল ১০টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত বরিশাল–৫ ও ৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই)। এ সময় তিনি বরিশালকে ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরেন ভোটারদের সামনে।

প্রার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় তাদের সমর্থকরাও মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও দলীয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে দিন যতই এগোচ্ছে, বরিশাল–৫ আসনের নির্বাচনী মাঠ ততই উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে: মেজর হাফিজ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ভোলার লালমোহন উপজেলার ৬ নম্বর ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের পেশকারহাট বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর হাফিজ অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনের নামে প্রহসন করে ক্ষমতায় থেকে একটি গোষ্ঠী দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে দেশের উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার আমলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাংলাদেশ অন্তত দেড় দশক পিছিয়ে পড়েছে। বিদেশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেজর হাফিজ উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বলেন, ধর্মের নামে যেন কেউ প্রতারণার শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে লালমোহন ও তজুমদ্দিন এলাকায় কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাশত করা হবে না। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে নির্বাচিত করলে জনগণ তাঁর কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায় করতে পারবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

সভায় ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহিনুল ইসলাম কবির হাওলাদারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: ফয়জুল করীম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বরিশাল সদর উপজেলায় গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভয়ভীতি, হয়রানি ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ চলমান থাকলে জনগণের প্রত্যাশিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় বিকৃত করে গ্রেপ্তারসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্বাভাবিক করে তুলছে।

ফয়জুল করীম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমানে ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই আগ্রহ ধরে রাখতে হলে সরকার ও প্রশাসনকে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছাড়া কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠে সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকার পরও যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। ভোটাররা দল-মত নির্বিশেষে সবার আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়—এই বাস্তবতা প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলুম, সন্ত্রাস, মাস্তানি ও গুন্ডামিমুক্ত রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন এই দলের প্রতি বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শেরপুরে প্রাণহানির ঘটনা, ভোলায় নারী কর্মীদের ওপর হামলা এবং বরিশালে ভয়ভীতির পরিবেশকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি এসব ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা কামনা করেন।

নারী ভোটারদের বিষয়ে ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামে নারীদের মর্যাদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণেই নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ হাতপাখা প্রতীকের প্রতি আস্থাশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে নারী ভোটারদের এই সমর্থন আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি মনে করেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ না থাকায় মাঠে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তবে শান্তি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে হাতপাখা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শেরপুরে নির্বাচনী সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত, আহত শতাধিক

শেরপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান।

শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল ইসলাম বলেন, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় ওই জামায়াত নেতাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছিল। আমরা তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, দুইজন সাংবাদিকসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও রয়েছেন। সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শেরপুর-৩ (শ্রীবর্দী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকেরা মঞ্চের সামনে বসেন। কিছু সময় পর বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সমর্থকেরা সেখানে পৌঁছালে বসার স্থান নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রথম দফার সংঘর্ষের পর সন্ধ্যার দিকে জামায়াত প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা স্টেডিয়াম এলাকা ছেড়ে বাজারের দিকে যেতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বাধা দেয়। বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর রাতে জেলা জামায়াতে ইসলামী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সংঘর্ষের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। পরে সংগঠনটির উদ্যোগে মাইসাহেবা মসজিদ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল বলেন, চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করেই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দুমকিতে যুবদলের নির্বাচনী কর্মশালা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-১ (মির্জাগঞ্জ, দুমকি ও পটুয়াখালী সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। এরই ধারাবাহিকতায় দুমকি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী কর্মশালা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে দুমকি উপজেলা বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী প্রচার টিমের সমন্বয়ক সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান রুমী।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচনী প্রচার টিমের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট এবিএম মহসিন বিশ্বাস, খন্দকার মো. রিয়াজ, অ্যাডভোকেট এম. এ. মজিদ (মানিক) এবং সাইফ খান মিজান। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় যুবদল, বিএনপি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী টিমের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মশালায় অংশ নেন।

আলোচনায় বক্তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো, কেন্দ্রভিত্তিক শক্তিশালী টিম গঠন, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে প্রচারণা পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীলভাবে মাঠে কাজ করাই যুবদলের প্রধান দায়িত্ব।

কর্মশালায় আরও বলা হয়, পটুয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষের পক্ষে জনমত ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন সংগঠিত প্রচেষ্টা ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের মাধ্যমে সেই জনসমর্থনকে ভোটে রূপান্তর করা। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ড ও কেন্দ্রভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

শেষে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সঠিক কৌশল, দলীয় ঐক্য এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পটুয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠি জামায়াতের কর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আব্দুল করিম শিকদারের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজাপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

বিকেলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি রাজাপুর বাইপাস সড়কসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নির্বাচনী পরিবেশে সহিংসতা বন্ধ, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা কবির হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় একজন কর্মীর ওপর হামলা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করার শামিল। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বানী পত্রিকার প্রকাশক অ্যাডভোকেট শাহ আলম, এনসিপির উপজেলা সমন্বয়ক শাকিল আহমেদ, মুখ্য সমন্বয়ক তানিম আহমেদ, এনসিপির যুব সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক বদিউন নবি পলাশ এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি এনামূল ইসলাম। বক্তারা বলেন, হামলার ঘটনার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এখনো গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত বিএনপির যুবদল নেতা ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বাচ্চু হাওলাদারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই হামলার ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সমাবেশে নেতারা বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনী মাঠে সব দলের জন্য সমান সুযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সহিংসতা ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হলে সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হবে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনের সময় এ ধরনের হামলা রাজাপুরসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ধৈর্যের বার্তা নুরের, সহিংসতার রাজনীতি চান না

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি দলীয় জোট সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না এবং সহিংসতার পথেও হাঁটতে চান না।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন নুরুল হক নুর। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, চাইলে তিনি শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারতেন, তবে সচেতনভাবে ধৈর্য ও সংযমের পথ বেছে নিয়েছেন। তার ভাষায়, তিনি কোনো সংঘাত বা প্রতিশোধের রাজনীতি চান না।

জনসভায় নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, আগের দিন গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ট্রাক প্রতীকের একটি মিছিল চলাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকেরা বাধা সৃষ্টি করে। এ সময় তার কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। নুরের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে।

নির্বাচনী বাস্তবতা ও সমীকরণ তুলে ধরে নুর বলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির কোনো আলাদা প্রার্থী নেই। বিএনপি দলীয়ভাবে তাকে সমর্থন দিয়েছে এবং তিনি বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের যৌথ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি দাবি করেন, এই আসনে জোটের প্রার্থীর বিজয়ই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক নুর বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না এলে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি এলাকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে ইঙ্গিত করে নুরুল হক নুর বলেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে কে এমপি হবেন। হুমকি, ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করে ভোট আদায় সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

জনসভায় নুরুল হক নুর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হলে জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম