আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত বিএনপি, মাঠে সরব আ. লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর কয়েক মাস। কিন্তু বসে নেই পটুয়াখালীর চারটি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বিভিন্নভাবে ভোটারদের জানান দিচ্ছেন নিজেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে। তবে এক্ষেত্রে অনেকটা প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগ জানান দিলেও গোপনে এগোচ্ছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

গত প্রায় এক যুগেরও বেশি সময়ে বর্তমান সরকারের নানাবিধ উন্নয়ন আর সমৃদ্ধিতে দেশের অন্য জেলার চেয়ে পটুয়াখালী বর্তমানে অনেক এগিয়ে আছে। যে কারণে পটুয়াখালীর চারটি আসনেই মাঠে বিচরণ করছেন শুধু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এত দিন যারা কেন্দ্রে ছিলেন তারাও বার বার ছুটে আসছেন নিজ এলাকায়। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী তারাও বসে নাই। সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন কৌশলে জানান দিচ্ছেন যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে।

তবে বিএনপির কোনো সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের এখনও নির্বাচনী কলাকৌশলে দেখা না গেলেও দুটি আসনে জামায়াত এবং ঐক্য পরিষদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে রেখেছে।

পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ, দুমকী) : বিভিন্ন উপায়ে গত ৩/৪ বছর ধরে এ আসনের প্রতিটি এলাকায় দলীয় নেতা কর্মীসহ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় যাদের পদচারণা সবচেয়ে বেশি ছিল তিনি হলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ক্লিন ইমেজের এই নেতার প্রতি রয়েছে দলীয় প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত আস্থা।  যার প্রমাণ পাওয়া যায়  বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। আওয়ামীলীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদকও তার প্রতি দলীয় প্রধানের আস্থার যথাযথ প্রতিদান দিয়েছেন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে। দলীয় নেতাকর্মীরা আশা করছেন নেত্রী আসন্ন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে এর প্রতিদান দিবেন।

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন ঢাকায় বসবাস করলেও প্রায়ই ছুটে আসেন পটুয়াখালীতে। তিনি বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় পটুয়াখালীর বিভিন্ন দলীয় কার্যক্রমে তিনি প্রায়ই উপস্থিত থাকেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশীর দৌড়ে আরও আছেন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আলী আশরাফ।

আফজাল হোসেন ও আলী আশরাফ দুজনেই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বিগত বছরগুলোতে এ আসনের দলীয় নেতাকর্মী ও অসহায় গরিব মানুষদের মাঝে আর্থিক সাহায্যের চেক হস্তান্তর করেছেন। এর মাধ্যমে উভয়ই সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ও দৃষ্টি কেড়েছেন।

এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি দৈনিক পটুয়াখালী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক অ্যাডভোকেট সুলতান আহমেদ মৃধা।

এছাড়াও নির্বাচনী মাঠে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া, দুমকী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ হাওলাদার,  জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ খলিলুর রহমান মোহন মিয়া, জেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহজালাল বাচ্চু মোল্লা।  তবে বার্ধক্যজনিত কারণে শারীরিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও মো. শাহজাহান মিয়া একজন ত্যাগী নেতা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অন্য দৃষ্টিতে দেখেন।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে একক ভাবে মনোনয়ন পেতে পারেন সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলহাজ আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তালিকায় নাম আছে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাষু সরকার কুট্টি,  জেলা বিএনপির সদস্য মোশতাক আহমেদ পিনুর। জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব ও পটুয়াখালী-১ আসনের সাবেক এমপি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারও এখান থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) :  পটুয়াখালীর চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এবং প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের গ্রুপিং রয়েছে এ আসনে। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক হত্যা, আহত, পঙ্গুত্ববরণসহ হরহামেশাই লেগে আছে গ্রুপিং আর দ্বন্দ্ব। যে কারণে এখানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ঘাঁটিতে তাদের প্রার্থী বদল না করলে এবার ফাটল ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। এক চেটিয়া আওয়ামী লীগের সাত বারের এমপি আসম ফিরোজের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রকাশ্যেই জানান দিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা সমাবেশে; এমন কি হামলা-সংঘর্ষের ঘটনার পাল্টা জবাব দিয়েও। গোটা উপজেলা আওয়ামী লীগ এখন তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। যে কারণে সকলের দৃষ্টি এখন বাউফলের দিকে।

এখানে আলোচনায় আছেন উপজেলা আ. লীগের সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাউফল পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল, উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার, বীর উত্তম মরহুম শামসুর আলম তালুকদারের ছেলে জেলা আ. লীগের সদস্য শিল্পপতি হাসীব আলম তালুকদার, শিল্পপতি এস এম ফিরোজ আলম, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সামসুল হক রেজা এবং  ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির  সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম শাহীন।

বিএনপির তালিকায় আছে কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন, সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার, কেন্দ্রীয় শহীদ জিয়া গবেষণা পরিষদের সভাপতি আনিচুর রহমান আনিচ।

তবে এখান থেকে জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশের ঢাকা দক্ষিণ শাখা সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রার্থিতা প্রায় চূড়ান্ত বলে তিনি নিজে দাবি করেছেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগের গ্রুপিংয়ের কারণে তৃণমূলে তারা নিজেরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি করছেন। জেলার মধ্যে অন্তত এই আসনটিকে তারা যেন জয়ী হয় সেই আদর্শ নিয়েই তারা এগোচ্ছেন এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে গোটা জেলায়। আবার বিএনপির সাথে জামায়াতের ঐক্য হলে সেক্ষেত্রেও এখান থেকে জামায়াত নেতা মাসুদের প্রার্থী হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি এমন দাবি অনেক বিএনপি নেতৃবৃন্দেরও।

এছাড়াও শোনা যায় সাবেক বিচারপতির ছেলে যুবলীগ নেতা, ওয়ান ইলেভেনের রাজপথের সৈনিক জোবায়দুল হক রাসেলও প্রার্থী হবেন।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) : গলাচিপা আর দশমিনা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি বিভিন্ন কারণে বেশ আলোচিত। সাবেক এমপি বিতর্কিত আলোচক গোলাম মাওলা রনি এবং গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ঢাবির সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এর গ্রামের বাড়ি এই আসনে হওয়ায় এমনিতেই সারা বছর কম বেশি আলোচনায় থাকে। মূলত আসনটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত থাকলেও এবারের নির্বাচনে বিএনপি থেকে যদি সাবেক ছাত্রনেতা হাসান মামুনকে প্রার্থী দেওয়া হয়, তাহলে তার জয়ের ব্যাপারে সবাই আশাবাদী। কারণ দলমত নির্বিশেষে এলাকাবাসীর জন্য অনেক কাজ করেছেন এবং বেকার যুবকদের চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। তারপরেও আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে আসনটিকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

এখানে যাদের নাম শোনা যায় তারা হলেন বর্তমান এমপি এস এম শাহজাদা। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে এলাকার সকল উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। সাবেক বিজিবি প্রধান লে. জেনারেল (অব.) আবুল হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক কামরান সাহিদ প্রিন্স মহব্বত ও আ স ম জাওয়াদ সুজনও রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায়।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা মো. হাসান মামুন এখান থেকে মনোনয়ন পাবেন বলে দলীয় নেতৃবৃন্দরা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া তালিকায় আছেন সাবেক আলোচিত সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শিপলু খান। তবে এখান থেকে ঐক্য পরিষদের প্রার্থী হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরুর মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত।

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) : জেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিক তিন মেয়াদে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে এ আসনটিতে। যে কারণে আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  কিন্তু এখানেও আওয়ামী লীগে রয়েছে গ্রুপিং আর দ্বন্দ্ব। যার খেসারত দিতে হচ্ছে তৃণমূলকে। আওয়ামী লীগের গ্রুপিংয়ের কারণেই এখানে ইসলামি আন্দোলন শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। যার রেজাল্ট পাওয়া গেছে বিগত ইউপি পরিষদ নির্বাচনে। জেলার মধ্যে শুধুমাত্র এই আসন থেকে হাতপাখার প্রার্থীরা তিনটি স্থানে জয়ী হয়েছে। অথচ বর্তমান এমপি এবং সাবেক এমপির ভোটব্যাংকের শক্ত অবস্থান ছিল এ আসনে। তাদের প্রকাশ্য ও নীরব গ্রুপিংয়ের খেসারত আগামী জাতীয় নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।

এতকিছুর পরেও এখানে যাদের নাম শোনা যায় তাদের মধ্যে আছেন বর্তমান এমপি মহিবুর রহমান মহিব, উপজেলা আ. লীগের সভাপতি সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার, এনএসআইর সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাবিবুর রহমান মিলন, উপজেলা চেবয়ারম্যান ও উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম রাকিবুল আহসান, ওয়াশিংটন আ. লীগের উপদেষ্টা মো. আলাউদ্দিন আহমেদ, সাবেক এমপি মরহুম আনোয়ার হোসেনের ছেলে আবদুল্লাহ আল ইসলাম লিটন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম আল সাইফুর সোহাগ ও যুবলীগের ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি মোরছালিন। বিএনপি থেকে যাদের নাম শোনা যায় জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ বি এম মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির।

 




পিরোজপুর ১ ও ২ আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে বহাল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের আসন পিরোজপুর-১ ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পিরোজপুর-২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এই দুই সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বহাল রইলো।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

গত ৩০ জুলাই পিরোজপুর-১ ও পিরোজপুর-২ সংসদীয় আসনের সীমানা পুর্ননির্ধারণ করে প্রকাশিত গেজেট কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে ওই দুই আসনের পাঁচ বাসিন্দার করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকের্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

পিরোজপুর-১ আসন আগে পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল। এ আসনের সীমানা পরিবর্তন করে নেছারাবাদ উপজেলা বাদ দিয়ে ইন্দুরকানী উপজেলা যোগ করা হয়েছে। ইন্দুরকানী উপজেলা আগে পিরোজপুর-২ আসনের অংশ ছিল। এদিকে নেছারাবাদ উপজেলা পিরোজপুর-২ সংসদীয় আসনের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের গত ১ জুনের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন পিরোজপুরের কাউখালীর বাসিন্দা আবু সাঈদ মিয়া, ভান্ডারিয়া পৌরসভার মো. কায়কোবাদ, মো. আহসানুল কিবরিয়া, ইন্দুরকানী উপজেলার আক্তারুজ্জামান, নেছারাবাদ উপজেলার নাজমুল ইসলাম শরীফ।




 ১৩ সদস্য বিশিষ্ট সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কমিটি গঠন

বরিশাল অফিস : সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার আজ ২রা সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় সদর রোডস্থ কীর্তনখোলা মিলনায়তনে নব নির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ও এসএসসি উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক বিজন সিকদার এবং বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কমরেড নিখিল দাস, সরকারি ব্রজমোহন কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আ ন ম আব্দুল হাই, বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি সদস্য সচিব সুজন আহমেদ ।

সভায় আলোচকরা বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা এক কঠিন সময় পার করছে। দেশের দারিদ্র্যর সংখ্যা যে হারে দিন দিন বাড়ছে, সেই সাথে ঝরে পরছে উদ্বেগজনক হারে শিক্ষার্থী সংখ্যা। কাগজ-কলমসহ শিক্ষা উপকরণের ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধির ফলে শিক্ষার্থীরা আজ আধপেটা খেয়েও শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করতে পারছে না। একদিকে যেমন অর্থনৈতিক এই সংকটগুলো চারদিক থেকে ঘিরে ধরছে অন্যদিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও নাই কোনো শিক্ষা রক্ষার আয়োজন, এবছরেও শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে ১০% করা হয়েছে। অথচ ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষাখাতে বাজেট ন্যুনতম ২৫% হওয়া দরকার।

বক্তারা বলেন, আজকে যেসকল শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের জন্য সরকারি কলেজে পড়ার সুযোগ খুবই কম। আবার কাল যেসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে তাদের উচ্চশিক্ষা ও অনিশ্চিত। ২০২২ সালে এইচ এস সি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ জন। এরমধ্যে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল, অথচ আমাদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মোট আসনসংখ্যা ১ লাখের কম। অর্থাৎ জি পি এ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা দেয়ার মত সরকারি আয়োজন ও আমাদের দেশে নাই।

আলোচকরা আরও বলেন, আজকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নাই। ফলে ছাত্রলীগের একচেটিয়া সন্ত্রাস ও হল দখলদারিত্বের ঘটনাগুলো প্রকট আকার ধারণ করেছে। আবাসিক হলে র‍্যাগিং ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা নিত্যদিনের খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার না হওয়ায় এগুলি বেড়েই চলেছে । কেঁড়ে নেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা। আন্দোলনের ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করলেও দাঁড় করিয়েছে তার প্রতিচ্ছবি সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট যা নতুন বোতলে পুরানো মদ ছাড়া আর কিছুই নয়।

আলোচকরা বলেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এই শিক্ষা উপর এসকল আক্রমণ, শাসকশ্রেণির শিক্ষা সংকোচনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম পরিচালনা করছে। আগামীতেও নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ এই নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং বর্তমান অপশাসন-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।

আলোচনা সভার শুরুতে একটি মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং আলোচনা সভা শেষে ২০২৩ সালের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।




সংসদের ২৪তম অধিবেশন বসছে রোববার

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদের ২৪তম অধিবেশন বসবে রোববার (৩ সেপ্টেম্বর)। জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে বিকেল ৫টায় শুরু হবে এ অধিবেশন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির ১৪তম বৈঠক। সংসদের ১ নম্বর স্থায়ী কমিটি কক্ষে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে এই অধিবেশন কত দিন চলবে।

চলতি সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। তার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এই ৯০ দিন গণনা শুরু হবে।

সংবিধানে বলা আছে, একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার দিন এবং পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের বেশি বিরতি দেওয়া যাবে না। তবে এই বিধান সংসদের মেয়াদ পূর্তির আগের ৯০ দিনের (পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ দিকে কিংবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিও চলছে।

এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদের ২৪তম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবন এলাকায় যান চলাচলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ। ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, আজ থেকে সংসদ ভবন এলাকায় কোনো ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ বা ক্ষতিকর বিস্ফোরক বহন করা যাবে না। এছাড়া, যান চলাচলের ওপরও কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ডিএমপি। এটি আজ থেকে সংসদ অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলবত থাকবে।




জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মাঠ তৈরি করছেন সাদিক আবদুল্লাহ

বরিশাল অফিস : বরিশাল নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র পদ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরে অপেক্ষমান থাকা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবার জেলা সদর আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে মানুষিক প্রস্তুতি নিয়েছেন।

তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই আকাঙ্খার কথা দলীয় কোন ফোরামে এখনো উপস্থাপন না করলেও সাম্প্রতিক চলমান নানা সাংগঠনিক কর্মসূচিতে এমন অভিপ্রায় ব্যক্ত করে চলেছেন। তার অনুসারী নেতা ও কর্মি-সমর্থকরাও নিশ্চিত হয়ে আগামী নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রাসঙ্গিক আলোচনায় নেতার প্রার্থিতা নিয়ে প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়টি উপস্থাপন করার আঙ্গিক লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তাদের দাবী, ঢাকা থেকে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পরই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর বরিশালে প্রত্যাবর্তন করে সাদিক আব্দুল্লাহ সংসদীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রেক্ষাপট রচনায় নূতন আদলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় প্রায় প্রতিদিনই ওয়ার্ডভিত্তিক দলীয় কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাঠ গুছাচ্ছে, এমন ধারনা প্রতীয়মান। শহর কেন্দ্রিক দলীয় এই কর্মসূচি শেষে ইউনিয়ন ভিত্তিক সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করবেন বলে জানা গেছে। এর মধ্য দিয়ে তার প্রার্থিতা নিশ্চিতের দাবী জোরতর করতে কর্মি সমর্থকদের আন্দোলিত করার পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে নিজেকে এগিয়ে রাখতে চাইছেন।

আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে আগে-ভাগেই সাদিক আব্দুল্লাহর নাম উচ্চারিত হওয়ায় বরিশাল সদর ৫ আসন নিয়ে এখুনি নির্বাচনী আবহ তৈরী হওয়ায় আলোচনায় উচ্চারিত হওয়ায় প্রকাশ পাচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশি এক এক জনের নাম। সেই তালিকায় রয়েছেন বর্তমান সংসদ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম ও নৌ-যান মালিক সমিতির নেতা সাবেক এসপি মাহাবুব উদ্দিন বীর বিক্রম, সাবেক সংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলরাম পোদ্দার এবং প্রেস এ্যান্ড প্যাকেজিং ব্যবসায়ী মসিউর রহমান।

লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, এবার সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা নিয়ে প্রস্তুতির খবরে নূতন কোন মুখ এবার মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতায় মাঠে নেই। কিন্তু সাদিক আব্দুল্লাহ প্রার্থী হচ্ছেন এটা অনেকটাই নিশ্চিত হওয়ায় বরিশাল সদর আসনের মনোনয়ন নিয়ে জটিল এক সমিকরন সৃষ্টি হয়েছে বলে আভাস-ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ভেতর বিভাজনের রাজনীতিতে দলীয় প্রার্থিতা নিয়ে প্রস্তুতি নেয়া নেতারা দুই স্রোতধারায় নিজেদের শামিল করে মনোনয়ন নিশ্চিতে কৌশলী লড়াই জমিয়ে তুলতে পারেন।

ঢাকার সূত্রগুলো বলছে, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক শামীম’র বরিশাল ৫ সংসদীয় আসনের প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর গুড লিস্টে নাম রয়েছে। তিনিও চাইবেন যেভাবেই হোক এবারও তার প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে। কিন্তু সাদিক আব্দুল্লাহ শেষমেশ যদি দলীয় প্রার্থির জন্য অনড় অবস্থান নেন তাহলে বরিশাল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এমন এক জটিল সমিকরণ তৈরী হবে যা কেন্দ্রীয় হাই-কমান্ডকে ভাবিয়ে তুলতে পারে। কারন প্রার্থিতা নিয়ে নাটকিয়ভাবে অপরাপর প্রার্থীরা দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে চাচ্ছেন, হয় তাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করা হোক, নয়তোবা দুই নেতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে যে কোন একজনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করনে বার্গেডিং পাওয়ার প্রয়োগ করতে পারেন।

এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় একাধিক নেতা জানান, সিটি কর্পোরেশনে দলীয় মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন বঞ্চিত সাদিক আব্দুল্লাহ ক্ষমতা ও শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখার রাজনৈতিক স্বার্থ সর্বপরি অস্তিত্ব রক্ষার্থে এবার তিনি সংসদীয় আসনের প্রার্থিতা নিয়ে জোরালো অবস্থান নেয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ দেখছেন না। তাছাড়া ঢাকা থেকে যতটুকু আভাস-ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তাতে ধারণা মেলে সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থিতা নিয়ে অভিমানী সাদিক আব্দুল্লাহকে সংসদীয় নির্বাচনে তাকে প্রাধান্য দেয়ার অভয়বানী শোনানোর পরই তিনি ৭২ দিন অতিবাহিত শেষে বরিশালে ফেরেন।

বর্তমান বরিশালের আওয়ামী লীগের মাঠের রাজনীতিতে দেখা যায়, সিটি কর্পোরশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে খোকন সেরনিয়াবাতকে চূড়ান্তকরণ এবং বিজয় লাভের মধ্যে দিয়ে সংগঠনটি স্থানীয়ভাবে দুটি স্রোতধারায় অনেকটা আনুষ্ঠানিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রকাশ্যে চলে আসে চাচা খোকন সেরনিয়াবাত ও ভাতিজা সাদিক আব্দুল্লাহর মধ্যকার ক্ষমতা বা নেতৃত্ব নিয়ে লড়াই এবং দুটি স্রোতধারার চালকের আসনে এই দুই নেতা অসীন হয়ে সাংগঠনিক কারিশমা দেখাতে শুরু করেছে। এক দিকে চাচার সাথে শক্তির ভারসাম্য রক্ষা অন্যদিকে প্রার্থিতা নিয়ে জাহিদ ফারুক শামিমের সাথে লড়াইয়ে সাদিক আব্দুল্লাহকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যেকার নগর রাজনীতিতে এই বিভাজন নূতন নয়, মূলত গত সংসদীয় নির্বাচনের পর থেকেই মেয়র সাদেক আব্দুল্লাহর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম। কিন্তু পানি সম্পদপ্রতিমন্ত্রী সদর আসনের সংসদ হয়েও গত ৫ বছরে মেয়র সাদিকের সাথে লড়াই করে পেরে উঠেনি।

এমনকি মাঠেও নামতে পারেনি। সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে সাদিক নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড নিজের নিয়ন্ত্রনে নেয়ার পাশাপাশি তার পিতা জেলা আওয়ামী লীগের কর্ণধর আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর অনুসারীদের সম্মিলিত শক্তিতে মন্ত্রী হওয়া সত্বেও জাহিদ ফারুক শামিম নিজের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরী করতে ব্যর্থ হন। তার রাজনীতি হয়ে পড়ে পানি উন্নোয়ন বোর্ডের ডাক-বাংলা কেন্দ্রিক। মাঝে ৮ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধাচরন করে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর শিবিরে যুক্ত হলে বরিশাল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কিছুটা নূতন মাত্রা যুক্ত হয়। এ সময় জাহিদ ফারুক শামিম কিছুটা প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আসতে শুরু করেন। তবে নগরীতে বড় ধারনের কোন শো-ডাউন দিতে পারেননি অথবা সংঘাত এড়িয়ে চলতে এই কৌশল নিয়েছিলেন। কিন্তু দুই নেতার বাকযুদ্ধ সময় অসময় জোরালো রূপ পেয়েছিলো।

দলীয় সূত্র জানায়, মেয়র প্রার্থী হিসেবে খোকন সেরনিয়াবাতকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিয়ে বরিশালমূখী রাজনীতিতে ধাবিত করলে জাহিদ ফারুক শামিম সমর্থিতরা নয়া এই রাজনীতিবিদের সাথে যুক্ত হলে সাদিক আব্দুল্লাহ সাময়িক কোনঠাসা অবস্থায় পড়েন। একাধিক রাজনৈতিক সূত্রের দাবী খোকন সেরনিয়াবাতকে সামনে রেখে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এই শিবিরের নেতৃত্বের কলকাঠী নাড়তে থাকেন। ফলে সাদিক আব্দুল্লাহ বিভাজনের রাজনীতির নূতন মাত্রা সৃষ্টির অনুঘটক হিসেবে জাহিদ ফারুক শামিমকে দায়ী করে তাকেই প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে ভাবছেন, যতটানা চাচা খোকন সেরনিয়াবাতকে শত্রুভাবাপন্ন মনে করছেন। তার সমর্থিত মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার অভিমত জাহিদ ফারুক শামিমকে দমানো গেলেই চাচা খোকন সেরনিয়াবাতের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টানা-পোড়নের মধ্যে পরবে, এমনটি ভেবেই সাদিক আব্দুল্লাহ যে কোন উপায় সদর আসনের প্রার্থী হতে মনস্থির করেছেন। সাদিকের এমন মনোভাব আঁচ করেতে পেরে জেবুন্নেছা আফরোজ ও মাহাবুব উদ্দিন বীর বিক্রম এখন তার অনুকূলে এসে একত্রিত হয়ে দলীয় কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছেন অন্তত আগামী নির্বাচনে জাহিদ ফরুক শামিম যেন মনোনয়ন না পান।

ধারণা পাওয়া গেছে যে, এই অংশের রাজনৈতিক অংক হচ্ছে সাদিক আব্দুল্লাহ মনোনয়ন নিশ্চিত করতে বার্গেডিং পাওয়ার হিসেবে এই দুই প্রার্থী তাকে সমর্থন জুগিয়ে দলীয় হাই কমান্ডকে এক ধারণের চাপের মুখে ফেলতে চাইবে। শেষমেষ যদি সাদিক আব্দুল্লাহ মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরী হয় তাহলে মাহাবুব উদ্দিন বীর বিক্রম বা জেবুন্নেছা অফরোজ এদের যে কোন একজন পাল্টা দাবী তুলবেন প্রার্থিতা চেয়ে।

অপর একটি সূত্রের অভিমত হচ্ছে, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী তার প্রার্থিতা নিয়ে অনেকটাই নির্ভার বলে তার চলন-বলন বলে দেয়। তাছাড়া নয়া মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত প্রধানমন্ত্রীর স্নেহধন্য হওয়ায় এই নেতার সুপারিশ বা সমর্থন জাহিদ ফারুকের জন্য সহায়ক হবে ভেবে তার প্রার্থিতা নিশ্চিত বলে মনে করছেন। এমন আভাস পেয়ে বলরাম পোদ্দার ও মসিউর রহমান উভয় মনোনয়ন প্রত্যাশি এখন এই শিবিরে যুক্ত হয়েছেন। যদিও বলরাম পোদ্দার তাদের সাথে একত্রিত হয়ে মাঠে নামলেও মশিউর রহমানকে একনো প্রকাশ্যে খোকন সেরনিয়াবাত ও জাহিদ ফারুক শামিমের সম্মিলিত কোন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশ নিতে দেখা যায়নি।

এই অংশের নেতৃবৃন্দের ধারণা, একই শহরে চাচা যেখানে মেয়র সেখানে ভাতিজাকে সাংসদীয় প্রার্থী করার ভাবনা-চিন্তায় প্রধানমন্ত্রী স্বজনপ্রীতির দায় ঘাড়ে নেবেননা। ফলে অন্য কোন বিকল্প বা শক্তিধর নেতা না থাকায় তাদের ধারনা এবারও সদর আসনের প্রার্থিতা দৌড়ে জাহিদ ফারুক শামিমই এগিয়ে থাকবেন। তাছাড়া মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত পারিবারিক সম্পর্কের টানা-পোড়ন এবং নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্বের স্বার্থে কোনভাবেই চাইবেন না সাদিক আব্দুল্লাহ এই শহরে জনপ্রতিনিধির তকমা লাগিয়ে তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠুক। বরং তিনি জাহিদ ফারুক শামিমকে পাশে রেখে সাদিকের সাংগঠনিক ভিত নড়বরে করে দিতে তাকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে সামনে রেখে নিজেকে এগিয়ে নিতে চাইবেন। এখন পর্যন্ত সে ধরনের চিত্রই দৃষ্টি নিবন্ধিত হচ্ছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাবনায়।

এমন সমিকরণে সাদিক আব্দুল্লাহ সদর আসনে দলীয় প্রার্থিতা চ’ড়ান্ত করণে কতটুক সহায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর মন জয় করতে পারবেন এমন প্রশ্ন নির্বাচন কেন্দ্রিক আলোচনায় প্রাধান্য পেতে শোনা যাচ্ছে। রাজনীতির নানান হিসেব-নিকেশে সাদিক আব্দুল্লাহর মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ- সংশয় থাকলেও দলীয় হাই-কমান্ড এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে মাঠের রাজনীতির শক্তি-সমর্থের বিষয়টির বিবেচনায় আনলে প্রেক্ষাপট পাল্টে যেতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে এই নেতার অনুসারীরা খানিকটা আশাবাদী।

সাদিক পন্থিদের ধারণা তার এবং পিতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর যে ভোট ব্যাংক রয়েছে এবং ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪ ইউপি চেয়ারম্যানসহ উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু ও ভাইস-চেয়ারম্যান রেহানা পারভিন তাদের অনুকূলে থাকা সর্বপরি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বর্তমান আওয়মী লীগ বিরোধী চলমান আন্দোলন সংগ্রাম অগ্নিরূপ ধারণ করলে সার্বিক বিবেচনায় তা স্থানীয়ভাবে মোকাবেলায় খোকন সেরনিয়াবাত ও জাহিদ ফারুক শামিম একাট্টা হয়েও তা সামাল দিতে পারবেন না।

বিপরীতে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ পুত্রের পক্ষাবলম্বনে রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগের পাশাপাশি সাদিকের নিজস্ব সংগঠনিক শক্তি ও তেজদ্বীপ্ত মনোভাবের কাছে রাজপথে অন্যকোন দল টিকে থাকা অসম্ভব। ফলে সাদিক আব্দুল্লাহর শক্তি ও সাংগঠিন বুদ্ধিদৃপ্ত রাজনীতিতে অপ্রতিদ্ব›দ্বী হওয়ায় অবশ্যই তা ফ্যাক্টর হয়ে দেখা দেয়ায় তাকে সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনলে একই শহরে চাচা-ভাতিজা দুই পদে থাকা নিয়ে আলোচনা ম্লান হয়ে যেতে পারে। জাহিদ ফারুক শামিম পন্থিরা এ ধরনের আশঙ্কা আমলে আনতে চাচ্ছেন না সদ্য অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে বঞ্চিত হওয়ার নেপথ্যে সাদিক আব্দুল্লাহর নানান বিতর্কিত কর্মকাণ্ড স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মূল্যায়ন করায়।

ঢাকার আরো একটি সূত্র বলছে, সাদিক ভার্সেস শামিম কেউ কাউকে ছাড় দেবে না এমন ভাবনা থেকে দলকে সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা রাখতে শেষাবধি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানককে প্রার্থী করলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। ওই সূত্রটির দাবী বরাবরই ঢাকায় নির্বাচন করে আসা জাহাঙ্গীর কবির নানক মাঝে বরিশাল নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং পরে এই আলোচনা থেকে চুপসে গেলেও এখন তিনি পরিস্থিতি বুঝে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের আকাঙ্খা প্রকাশ করতে পারেন। আবার জাহাঙ্গীর কবির নানক বা জাহিদ ফারুক শামীমের প্রার্থিতা নিয়ে জোর বিরোধী বলয় তৈরী করলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা বলরাম পোদ্দারকে সামনে নিয়ে আসতে পারে।

বলরাম পোদ্দার দীর্ঘদিন ধরে সাদিক আব্দুল্লাহ পিতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর আসন গৌরনদী-আগৈলঝাড়া আসন থেকে নির্বাচন করার মানুষিকতা পোষণ করে আসছেন। কিন্তু সেই সুযোগ দিতে কোনভাবেই নারাজ সেরনিয়াবাত পরিবার। তারা আগে-ভাগেই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর শারীরিক দুর্বলতা অথবা নির্বাচন করতে অক্ষম হলে তার ছোট পুত্র আশিক আব্দুল্লাহকে ড্যামি প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে প্রস্তুত রাখতে রাজনৈতিক চর্চায় মাঠে রাখতে দেখা যাচ্ছে।

সূত্রমতে, জাহাঙ্গীর কবির নানকও পিতা-পুত্র আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও সাদিক আব্দুল্লাহ বিরোধী। তাছাড়া পাশর্^বর্তী জেলা ঝালকাঠী আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রক ও কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা আমুর হোসেন আমুও একই মনোভাবাপন্ন। উভয় নেতাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য। হাসানাত পরিবারের ধারণা এই দুই নেতা সাদিক আব্দুল্লাহর ঘোরতর বিরোধীতা করায় খোকন সেরনিয়াবাতের বরিশাল রাজনীতিতে উত্থান ঘটেছে সিটি মেয়র হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে। অনেকেরই ধারনা আমির হোসেন আমু ও জাহাঙ্গীর কবির নানক আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব প্রতিপত্তি ধরে রাখতে সাদিক আব্দুল্লাহ সদর আসনে মনোনয়ন পাক সেটা কোনভাবেই চাইবে না। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তারা জাহিদ ফারুক শামিমকেই সমর্থন জোগাবে মনোনয়ন বোর্ডের টেবিলে। পাশাপাশি প্রতিদান স্বরূপ খোকন সেরনিয়াবাতও সেটিই চাইবেন অন্তত তার সহায়ক শক্তি হিসেবে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাই সদর আসনে দলীয় প্রার্থী হোক।

হাসানাত পরিবারের ঘনিষ্ট একটি সূত্রের দাবী, সদ্য অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে খোকন সেরনিয়াবাতকে প্রার্থিতা করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিভাজন এবং প্রভাবশালী একটি অংশ সাদিকের পক্ষে অবস্থান নিলেও সিদ্ধান্তের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। এখন আত্মীয়তার ওই অংশটি চাইছে এবার সংসদীয় মনোনয়ন নিয়ে সাদিক আব্দুল্লাহকে যেন বঞ্চিত না করা হয়। এদের মধ্যে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর এক বোন ও তার দুই পুত্র কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতি পরশ ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তাপস উভয়ে চাচ্ছেন মামাতো ভাই সাদিকই আসুক সদর আসনের দলীয় প্রার্থী হয়ে। তাদের আশঙ্কা সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়রের পর সংসদীয় প্রার্থী হতে ব্যর্থ হলে বরিশাল রাজনীতিতে অস্তিত্ব সংকটে পরবে। যতদ্দুর নিশ্চিত হওয়া গেছে, প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন জনপ্রতিনিধি নয়, সাদিক আব্দুল্লাহ মাঠের রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। কিন্তু খোকন সেরনিয়াবাতের রাজনৈতিক পদ-পরিচয় নিশ্চিতে মহানগর কমিটি ভেঙ্গে তাকে নেতৃত্বে নিয়ে আসার গুঞ্জন রয়েছে। যে কারনে আত্মীয়তার এই বলয়টি ইতিমধ্যে সদর আসনের মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করনে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির তালিকায় সাদিকের নাম অন্তুরভূক্তিতে নানামূখী প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে অথবা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে।

ফলে একদিকে আত্মীয়তার চাপ পাশাপাশি বরিশালের মাঠের রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে গেলে পিতা-পুত্র তথা হাসানাত ও সাদিকের বিকল্প নেই এমনটি প্রধানমন্ত্রীর ভাবনায় থাকলেও এই অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতাদের বিরোধিতায় জাহিদ ফারুক শামীম মনোনয়ন নিয়ে নিজেকে নির্ভার ভাবলেও বাস্তবতার শেষ দৃশ্যে তিনি মনোনয়ন পেলেও সেরনিয়াবাত পরিবারের সাংগঠনিক কারিশমায় মাঠে টিকতে পারবেন কিনা সেই আশঙ্কা ক্রমান্বয়ে প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে উঠতে পারে এবং সে ধরনের প্রেক্ষাপট এখনই তৈরীর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সাদিক আব্দুল্লাহ নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চাইছেন এভাবেই যে, হয় তাকে মনোনয়ন দেয়া হোক নচেৎ সদর আসন হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নিতে তাড়িত করুক।

এমন হিসাব-নিকাশ কষেই সাদিক আব্দুল্লাহ এখন ক্ষমতার চেয়ে সংগঠনকে নিজের আয়ত্তে¡ আনতে একের পর এক কর্মসূচী দিয়ে মাঠ গড়ম করে রাখছেন। তার সমর্থিত নেতা কর্মিরাও আশাবাদী হওয়ায় দলীয় কর্মসূচিতে সাদিক আব্দুল্লাহর ডাকে আবার সাড়া দিচ্ছে বিধায় চলমান ওয়ার্ড ভিত্তিক অনুষ্ঠানসমূহে লোকে-লোকারন্য হতে দেখা যাচ্ছে। সেখান থেকেই আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে আগামী সংসদ নির্বাচনে সাদিক আব্দুল্লাহ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন।




আ.লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কারো শক্তি নেই পরাজিত করার: হাসানাত আব্দুল্লাহ

এস এল টি তুহিন, বরিশাল : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেছেন, সকল মতানৈক্য ও ভেদাভেদ ভুলে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কারো শক্তি নেই পরাজিত করার। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করতে হবে।

স্বাধীনতা বিরোধীরা আবার ক্ষমতায় গেলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবার পাশাপাশি বাংলা ভাই সৃষ্টি হবে, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হবে। ওরা আবার ২০০১ সালের মতো আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করবে। বাড়ির গাছ, ঘের-পুকুরের মাছ, গোয়ালের গরু লুট করে নিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, যারা দেশের বিরুদ্ধে ১০ ট্রাক অস্ত্র আমদানি করে তাদের নির্বাচিত করলে সাধারণ মানুষ শান্তিতে ঘরে ঘুমাতে পারবে না।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাটাজোর অশ্বীনি কুমার ইনষ্টিটিউশন মাঠে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রী পদমর্যাদায় আবুল হাসানাত আব্দুুল্লাহ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দেশের সার্বিক উন্নয়ন তথা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে দেশ সেবায় শেখ হাসিনাকে আবার সুযোগ দেয়ার জন্য আহবান করেছেন।




নাটোর-৪ আসনের এমপি আব্দুল কুদ্দুস মারা গেছেন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স: নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নাটোর-৪ আসনের (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস মারা গেছেন।

বুধবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে আসিফ আব্দুল্লাহ বিন কুদ্দুস শোভন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিজ বাসভবনে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সাপোর্ট নিয়ে দ্রুত রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শ্বাসকষ্ট কন্ট্রোল করা কঠিন হচ্ছিল এবং অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাচ্ছিল। ফলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই বুধবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মিয়াজী বলেন, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা ও এক ছেলে রেখে গেছেন। তিনি সাতবার এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পাঁচবার সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সপ্তম জাতীয় সংসদে তিনি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে বর্তমান মেয়াদে নিযুক্ত ছিলেন।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান বলেন, আব্দুল কুদ্দুসের মৃত্যুতে নাটোর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব শূন্যতাই নয়, দেশ হারালো একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যকে। যিনি এ অঞ্চলের শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

এছাড়া নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিশুল, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলসহ নানা শ্রেণির ও পেশার মানুষ তার এ মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।




রাজাপুরের ছাত্রদলের আহ্বায়ককে পেটালেন সদস্য সচিব

বরিশাল অফিস : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল ইমরান কিরণকে পিটিয়েছেন সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বাইপাস মোড়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক কিরণ রাজাপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কিরণ অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম বহিরাগত ১০ থেকে ১২ জনকে নিয়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আমাকে পেটানো শুরু করেন। এ ঘটনা দেখে সিনিয়র নেতার দৌড়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন।

তিনি আরো বলেন, সদস্য সচিবের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হতে পারে। আমার সব নেতাকর্মীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে। এ কারণে ঈর্ষান্বিত হয়ে এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তালুকদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।

রাজাপুর থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ককে সদস্য সচিব পিটিয়েছেন- এমন সংবাদ পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




বরিশাল-১ আসন: আ.লীগে একক প্রার্থী, বিএনপিতে বিভক্তি

এস এল টি তুহিন, বরিশাল: দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলার প্রবেশদ্বার বরিশালের গৌরনদী উপজেলা। যার পাশেই অবস্থান আগৈলঝাড়া উপজেলার। একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নের এ দুই উপজেলাকে নিয়ে সংসদীয় ১১৯, বরিশাল-১ আসন গঠিত। প্রায় ৩১৮ বর্গ কিলোমিটারের এ আসনে ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদসহ সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৩০ জন।

এ আসনটির সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫টি। পর পর দুটি মেয়াদে এ আসনের সংসদ সদস্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে, পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদায়) এবং বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। গোটা দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অভিভাবক হিসেবে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে শ্রদ্ধা করেন।

স্থানীয় নির্বাচন ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন নেতাকর্মীরা। তাই বরিশাল-১ আসনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর অবস্থান।

এ ছাড়া বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরিশাল-১ আসনে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজের কারণে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আওয়ামী লীগ এখানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। যে কারণে এ আসনে আওয়ামী লীগেরই জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী হলেও বিএনপিতে রয়েছে বিভক্তি। যার ফলে বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তবে বিভক্তি ঘুচিয়ে উঠতে পারলে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মিলে এ আসনে ভোটের লড়াইটা হবে প্রতিযোগিতামূলক।

বরিশাল-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন-এ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ, বর্তমান কেন্দ্রীয় বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান।

অপরদিকে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ঢাকা দক্ষিণ শাখার সদস্য এ্যাডভোকেট সেকেন্দার আলী সেরনিয়াবাত ও কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম রহমান পারভেজ প্রার্থী হতে পারেন। চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হবেন দলের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ রাসেল সরদার মেহেদী হাসান।

নির্বাচনী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বরিশাল-১ আসনে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় ছিলো আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি। বিগত ১১টি সংসদ নির্বাচনে ছয়বার জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগ, তিনবার বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী দুইবার সংসদ সদস্য ছিলেন।

সূত্রমতে, ১৯৭৩ সালে এ আসন (তৎকালীন বাকেরগঞ্জ-১৩) দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বোনজামাতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সাথে অন্য যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের মধ্যে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ছিলেন অন্যতম। শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের মৃত্যুর পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার বড় ছেলে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বরিশাল-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

ওইসময় ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৬ ভোটের মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপি মনোনীত কাজী গোলাম মাহবুব ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছিলেন ৪৬ হাজার ৮৫৫ ভোট। এরপর ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ৫২ হাজার ৪১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। ওইসময়ও তার প্রতিদ্বন্ধী কাজী গোলাম মাহবুব ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছিলেন ৫০ হাজার ১২৫ ভোট।

১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় তৎকালীন সময় অশান্ত পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন।

পরবর্তীতে ২০০১ সালের অস্টম জাতীয় সংসদের বির্তকিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ তার প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী বামপন্থী সাবেক ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন স্বপনের কাছে হেরে যান। ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৭৬ জন ভোটারের মধ্যে ওই নির্বাচনে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬৭ হাজার ৭৬০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জহির উদ্দিন স্বপন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৮১ হাজার ৭৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তবে ২০০১ সালের নির্বাচন ও ফলাফল নিয়ে রয়েছে নানান বিতর্ক।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ওয়ান ইলেভেনের সময় হয়রানীমূলক মিথ্যে রাজনৈতিক মামলার জটিলতায় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। সেখানে এ আসন দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন তার (হাসানাত) স্নেহভাজন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস।

তিনি বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫০৮ জন ভোটারের মধ্যে এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস নৌকা প্রতীক নিয়ে ৯৮ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপি মনোনীত ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছিলেন ৭০ হাজার ৯৬৯ ভোট।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। সবশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় ২০০১ সালের বির্তকিত নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতন করে বিশ্বব্যাপী বহুল আলোচিত সাবেক সাংসদ ও ওয়ান ইলেভেনের সময়কার প্রভাবশালী সংস্কারপন্থি নেতা জহির উদ্দিন স্বপনকে।

যেকারণে একদিকে সাধারণ ভোটার ও অপরদিকে নিজ দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের চরম রোষানলে পরেন জহির উদ্দিন স্বপন। ওই নির্বাচনে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪ জন ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ১১ হাজার ৫০৭ জন ভোটার ১১৫টি ভোট কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। যারমধ্যে ২ হাজার ৮২২ ভোট বাতিল হওয়ার পরেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ৫ হাজার ৫০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জহির উদ্দিন স্বপন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৩০৫ ভোট।

জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ও আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গৌরনদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমান, যুগ্ন সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু, গোলাম হাফিজ মৃধাসহ অসংখ্য জনপ্রতিনিধি এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দরা বলেন, আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

তিনি শুধু বরিশাল-১ আসনই নয়; পুরো দক্ষিণাঞ্চলে তাকে ঘিরেই আওয়ামী লীগের সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনে তিনিই আমাদের একক প্রার্থী।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের টানা মেয়াদে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের যেভাবে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয়েছে এবং হচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষ আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে উন্নয়নের পক্ষে নৌকা মার্কায় পূর্ণরায় ভোট দেবেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের উন্নয়ন হয় এটা সাধারণ মানুষ এখন বুঝে গেছেন। বরিশাল-১ আসন নৌকার, বিপুল ভোটের ব্যবধানে পূর্ণরায় নৌকাই বিজয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রাণের দাবি স্বপ্নের পদ্মা সেতুসহ গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ প্রতিটি অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
এছাড়া নানান সুযোগ-সুবিধার কারণে মানুষ আজ শান্তিতে বসবাস করছে। তাই জনগণ মুখের কথায় নয়, এবারও উন্নয়নের পক্ষে নৌকা প্রতীকে ভোট দিবেন।

অভ্যন্তরীন কোন্দলের আগুনে পুড়ছে বিএনপি:
বিএনপির অসংখ্য ত্যাগী নেতাদের দাবি, বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় বরিশাল-১ আসনের সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন সংস্কারপন্থি দলে যোগদেয়ার পর থেকেই অভিভাবকহীন হয়ে পরে এখানকার বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ঠিক তখনই বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে নিরলসভাবে কাজ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি কেরেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। ফলশ্রুতিতে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়ে তিনি (সোবাহান) তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ বেশ জমিয়ে রেখেছিলেন।

সকল বাঁধা উপেক্ষা করে এখনও তিনি মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু সংস্কারপন্থী হিসেবে দল থেকে ছিটকে পরা জহির উদ্দিন স্বপন মনোনয়ন না পেয়ে ওই নির্বাচনে তার কতিপয় অনুসারীদের দিয়ে সোবাহানের বিরোধিতা করেন। যেকারণে দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের কাছে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান পরাজিত হন।

এরপর ২০০৯ সালের শেষের দিকে পরাজিত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানকে আহবায়ক করে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির কমিটিসহ পৌর ও আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠণ করা হয়। এরপরই পদবঞ্চিতরা বিভক্তি হয়ে পরে। ওই বিরোধের মধ্যেই আবুল হোসেন মিয়াকে আহবায়ক করে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির পাল্টা কমিটি গঠণের পর বিএনপির বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। যা বরিশাল-১ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আজ পর্যন্ত চলমান রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-১ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের দলীয় কোন্দলে জর্জরিত মূলত কয়েক দশক ধরে চলে আসছে। দলীয় কোন্দলের কারণে ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করে পরাজিত হন তৎকালীন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ও রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহাবুব। ১৯৯৩ সালে বামপন্থি থেকে বিএনপিতে যোগদান করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এ আসনে ফের মনোনয়ন পান কাজী গোলাম মাহবুব। জহির উদ্দিন স্বপন মনোনয়ন না পেয়ে তার সমর্থকদের নিয়ে নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরোধিতা করার কারণে কাজী গোলাম মাহবুব ফের পরাজিত হন।

সূত্রের দাবি, বিগত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাহিরে থাকা সত্বেও মামলা হামলায় কোণঠাসা দলটিতে নির্বাচনকে সামনে রেখে অভ্যন্তরী কোন্দল আর বিভক্তি আরো প্রকট হয়েছে। তৃণমূলে কয়েক ভাগে বিভক্ত বিএনপির মনোনয়নের জন্য লড়ছেন প্রভাবশালী চারজন নেতা।

তারা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও সংস্কারপন্থী হিসেবে ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানো সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নের চিঠি পেয়েছিলেন সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। শেষ পর্যন্ত জহির উদ্দিন স্বপন চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের বর্তমান মিডিয়া সেলের আহবায়ক সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন নির্বাচনের সময় গৌরনদীর সরিকলস্থ নিজ বাড়িতে একটি সংবাদ সম্মেলন ও কতিপয় অনুসারী নিয়ে নিজ এলাকায় কয়েকটি গণসংযোগ করেই নির্বাচন পার করেছেন। এরপর ভোটে পরাজিত হয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করলেও বিগত চার বছর ধরে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসেন না।

কারণ হিসেবে তিনি (স্বপন) সরকার দলের নেতাকর্মীদের বাঁধাকে দায়ী করলেও বিএনপির বৃহতঅংশের নেতাকর্মীরা বলেছেন, সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে জনগণের প্রতি এটি তার দায়িত্ব হতে পারেনা। তিনি (স্বপন) বরিশাল নগরীতে এসে অন্যসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলেও নিজ এলাকায় জনগণের কাছে হামলার অজুহাতে আসছেন না।

তাহলে দলের নেতাকর্মীরা এলাকায় ঘর বাড়িতে কী করে থাকেন? তবে হামলা ও মামলাকে উপেক্ষা করে নির্বাচনী এলাকায় দলীয় কর্মসূচি পালন অব্যাহত রেখেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান।
নির্বাচনী এলাকায় না আসা প্রসঙ্গে একাদশ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমাকে নির্বাচনী এলাকায় যেতে দেওয়া হয়না। আমার পারিবারিক ও সামাজিক কাজেও সরকার দলের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই মুহুর্তে সংঘাতে জড়াতে চাই না, তাই নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছিনা। নেতাকর্মীদের প্রতি দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভার্চুয়াল মাধ্যমে এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছি।

আগামী দ্বাদশ নির্বাচনে পূর্ণরায় দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী জহির উদ্দিন স্বপন আরো বলেন, নানান কথা বলে একটি পক্ষ দল থেকে আমাকে দূরে সরিয়ে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশার প্রতি আস্থা রেখেই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছি। পাশাপাশি বিগত ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে দলের দুর্দীনের কান্ডারী হিসেবে নিজেকে ত্যাগী কর্মী হিসেবে দাবি করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের হাইকমান্ডের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান।

তিনি বলেন, দলের দুর্দীনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকাসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে নীতিনির্ধারকরা প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি আরও বলেন, এই মুহুর্তে বিএনপি নেতাদের ওপর এবং বাড়িঘরে হামলাসহ গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপি নেতারা গ্রেপ্তার আতঙ্কের মধ্যদিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এ ধরনের গায়েবি মামলা ও গ্রেপ্তার বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। তা না হলে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হবেনা।

অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। প্রার্থীরা দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সকল মামলা প্রত্যাহার করে তাকে বীরের বেশে দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দরা যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেন তাহলে হারানো বরিশাল-১ আসনকে পূণরুদ্ধারে প্রথমেই দলের অভ্যন্তরীন বিরোধ মেটানো হবে।

আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, বরিশাল-১ আসনে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে ভোটার ও জনসমর্থনে বিএনপি এগিয়ে। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপির জয় নিশ্চিত।

দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় দল হিসেবে একটু মতভেদ থাকতেই পারে। তবে এতে ভোটে কোনো প্রভাব পরবে না। ভোটের আগে সব মতভেদ দূর হয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছেন জাতীয় পার্টি ও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভ্রাব্য প্রার্থীরা।

এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হবেন দলের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ রাসেল সরদার মেহেদী হাসান।

এছাড়া জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করলে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন- জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ঢাকা দক্ষিণ শাখার সদস্য এ্যাডভোকেট সেকেন্দার আলী সেরনিয়াবাত ও কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম রহমান পারভেজ।

বরিশাল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতে, একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনে ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদসহ সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৩০ জন। এ আসনটির সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫টি। তবে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলমান থাকায় আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।




পটুয়াখালীতে বিরোধপূর্ণ জমিতে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ নিয়ে সংঘর্ষ

মো:আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে বিরোধপূর্ণ জমিতে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শহরের পিডিএসএ মাঠে রোববার এ ঘটনা ঘটে। এতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আনম আমিনুল হক মামুন ও জমির মালিকানা দাবিদার নাসির তালুকদারসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। পরে সদর উপজেলা ইউএনও ও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় আমিনুল হক মামুন থানায় জিডি করেছেন। নাসির তালুকাদারও থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।

সদর থানার এসআই ইমরান খান বলেন, এ সংক্রান্ত একটি জিডি হয়েছে। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আনম আমিনুল হক মামুন জিডিতে উল্লেখ করেন, ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকায় ব্যয়ে শহরের পিডিএস মাঠে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আমি রোববার দুপুরে কাজ পরিদর্শনে যাই। এ সময় মো. নাসির তালুকদার ও সুজনসহ অজ্ঞাতনামা লোকজন তাকে কিল-ঘুসি, চড়-থাপ্পড় দিয়ে আহত করেন। প্রকল্পস্থলে যেতে নিষেধ করে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিরোধপূর্ণ জমির মালিক পক্ষের মো. নাসির তালুকদার বলেন, উল্লিখিত জমি নিয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জমির সীমানা জটিলতা মীমাংসা না করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। যে ঘটনায় ইতঃপূর্বে জেলা প্রশাসনসহ ৫ কর্মকর্তাকে আদালত তলব করেছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগ বিষয়টির নিষ্পত্তি না করে কাজ করছেন। পরে জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ে আমরা উন্নয়ন কাজের সম্মতি দেই। আমিনুল হক মামুন কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে আমাদের সীমানায় ঢুকে আমাদের স্থাপনা ভেঙে দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন।