আগৈলঝাড়া বিদ্যালয়ের নিয়োগ স্থগিত, তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশাল অফিস:  বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভালুকশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়া ও নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগে অনিয়ম ও দূনীর্তির অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীরা। অভিযোগ পেয়ে নিয়োগ স্থগিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভালুকশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়া ও নৈশ প্রহরী শুণ্য পদে নিয়োগের জন্য চলতি বছরের ৩১ মে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর পরে আয়া পদে ৭ জন ও নৈশ প্রহরী পদে ৩ জন আবেদন জমা পরে। গত ২ সেপ্টেম্বর বরিশাল শহীদ আরজুমনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বসে আয়া পদে ৫ জন ও নৈশ প্রহরী পদে ৩ জন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। আয়া পদে ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী (দপ্তরী) কাজী মহসিনের স্ত্রী নাবিলা বেগম এবং কালকিনি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের ফারহানা অংশগ্রহণ করেন। নাবিলা বেগমর আত্মীয় ফারহানা। নাবিলা আত্মীয় ফারহানা হওয়াতে, লিখিত নিয়োগ পরীক্ষায় নাবিলার খাতায় ফারহানা লিখে দিয়ে খাতা জমা দেয়।

এর পরে নাবিলা বেগমকে আয়া পদে ও নৈশ প্রহরী পদে হরবিলাস বিশ্বাসকে নিয়োগের জন্য মনোনীত করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি। নিয়োগ বঞ্চিত ৪ প্রার্থীরা অভিযোগ করেন ভালুকশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান পিন্টু ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাদাত কাজীকে ম্যানেজ করে ঘুষ ও দূর্নীতির মাধ্যমে নাবিলা বেগমকে আয়া পদে নিয়োগে মনোনিত করেন।

এ ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিয়োগে দূনীর্তি ও ঘুষের অভিযোগ তুলে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.সাখাওয়াত হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ ব্যাপারে ভালুকশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.হাবিবুর রহমান পিন্টু বলেন, আয়া ও নৈশ প্রহরী পদে কোন অনিয়ম বা দূর্নীতি করা হয়নি।স্বচ্ছ ভাবে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাদাত কাজী সাংবাদিকদের বলেন, বরিশাল শহীদ আরজুমনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, আগৈলঝাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক প্রতিনিধি, প্রধান শিক্ষক ও আমার উপস্থিতে পরীক্ষা হয়েছে।

ওখানে একজনের খাতা অন্যজনে লিখে কি ভাবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তাৎক্ষনিক ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে ফোনের মাধ্যমে নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছি।সাথে সাথে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলমকে বিষটি তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট পেয়ে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বাবুগঞ্জ বিএনপির কো-আহ্বায়ক থেকে ইসরত হোসেন কচিকে অব্যহতি

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কো-আহ্বায়ক ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার কে অব্যহতি দিয়েছেন বরিশাল জেলা কমিটি।

মঙ্গলবার জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে ।

এর আগে কচিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় ৭ দিনের মধ্যে কারনে দর্শনোর নোটিশ প্রদান করেন জেলা কমিটি।

কিন্তু নোটিশের কোন জবাব না দেওয়ায় তাকে আহ্বায়ক কমিটির কো- আহবায়ক থেকে ১নং সদস্য হিসেবে ডিমোশন দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানায়, বিগত কয়েকটি কেন্দ্র ঘোষিত প্রোগ্রামের ব্যানারে ইসরত হোসেন কচি তালুকদার নিজেকে আহ্বায়ক পরিচয় দেয়। বিষয়টি জেলা কমিটিকে অবহিত করলে তাকে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। এছাড়া দলীয় বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে কো-আহবায়ক থেকে সদস্য পদে পদানবতি করা হয়েছে।

বর্তমানে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহম্মেদ খান ও সদস্য সচিব অহেদুল ইসলাম প্রিন্স।




জাতীয় নির্বাচনে বরিশালে দু’টি আসন ঘিরে ধুম্রজাল

এস এল টি তুহিন,বরিশাল : দুইটি আসনে দুইটি পৌর শহরকে ঘিরে গঠিত বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়জয়কার বলে দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক ভিত্তি কতোটা মজবুত। তারপরেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রশ্নে বরাবরেই আওয়ামী লীগ এ আসন দুটি ছেড়ে দিচ্ছে শরিক দলগুলোকে।

দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে তাই বাধ্য হয়েই জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসন দুইটিতে শরিক দলের প্রার্থীদের সাথে থেকে তাদের বিজয় নিশ্চিত করছেন।

কিন্তু নির্বাচনের পর আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোনধরনের খোঁজখবর কিংবা এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারছেন না শরিক দলের নির্বাচিত সংসদরা। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, মহাজোটের যে শরিক দলকেই এ আসন দুইটি ছেড়ে দেয়া হয়, তাদের এ আসনে এককভাবে পাঁচ হাজার ভোটও নেই। মূলত মহাজোটের শরীক দলের প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোটের কারণেই এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হচ্ছেন।

পরবর্তীতে নির্বাচনের পর সেই ত্যাগী ও নির্যাতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চরমভাবে অবমূল্যায়নসহ সমাজে নাজেহাল করছেন শরীক দলের নির্বাচিত সাংসদরা। তাই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন দুইটি আওয়ামী লীগের ঘরে নেয়ার জন্য একক প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার জন্য দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে নেতাকর্মীরা জোর দাবি করেছেন।

নেতাকর্মীরা আরও জানিয়েছেন, দেশব্যাপী উন্নয়নের জোয়ার বয়ে গেলেও দুটি পৌর শহর নিয়ে গঠিত ওই দুইটি আসন বর্তমান সরকারের সবধরনের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

এমন অভিযোগ তুলে এবার ওই আসন দুটি ছাড়তে নারাজ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। তারা এবার সরাসরি দলীয় প্রার্থীকে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। অতিসম্প্রতি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের দেওয়া বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে। তবে শরিক দলের নেতৃবৃন্দের দাবি, হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তার ওপরই তারা আস্থা রাখবেন।

সবশেষ জাতীয় শোক দিবসের মাসব্যাপী কর্মসূচিতে এ দুটি আসনের বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। তাদের মতে, শরিক দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনধরনের উন্নয়ন করেননি। অন্যদিকে সরাসরি ক্ষমতায় না থাকায় দলও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাই দলের নেতাকর্মীদের চাঙা করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী দেওয়া জরুরি হয়ে পরেছে। নতুবা আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ দুটি আসনেই নৌকার সমর্থক নেতাকর্মীরা পুরোপুরি নিস্ক্রিয় হয়ে যাবে। তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

গত ৩০ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাবুগঞ্জ উপজেলা চত্বরে অনুষ্ঠিত এক সভায় বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মোঃ আতিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, সারাদেশে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের সুফল ভোগ করলেও বাবুগঞ্জ ও মুলাদীবাসী সবদিক থেকে পিছিয়ে আছে। কারণ একটাই এখানে দলীয় সংসদ সদস্য নেই। তাই দলের নেতাকর্মীদের খোঁজতো দূরের কথা, এলাকার সাধারণ জনগনের মাঝেও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া হয়নি। ওইসভায় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে এবার সরাসরি দলীয় প্রার্থীর নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবি করেছেন। সেজন্য ওইসভায় সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসেবে আতিকুর রহমান আতিকের নামও ঘোষণা করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর প্রতিবারই আওয়ামী লীগ বরিশাল-৩ আসনটি শরিক দলগুলোকে ছেড়ে দিয়েছে। আসনটিতে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। ২০০৮ সালে মহাজোটের কারণে আসনটি পায় জাতীয় পার্টি (জাপা)। ২০১৪ সালে শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ঘরে যায়। ২০১৮ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি নৌকার টিকিট পেলেও এমপি নির্বাচিত হন জাপার সভাপতিমন্ডলীর সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু।

বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী এমদাদুল হক দুলাল বলেন, ১৯৭৩ সাল থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগের এমপি নেই। তাই দলীয় নেতাকর্মীরা অনেকটা অভিভাবকশূন্য। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এখানকার দলীয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সবধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়াসহ দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে সবধরনের সহযোগিতা করে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা- প্রচারে জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছেন আতিকুর রহমান আতিক। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৩ আসনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা আতিকুর রহমান আতিককে নৌকা মার্কার প্রার্থী করার জন্য দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবি করেছেন।

আওয়ামী লীগে যখন নিজ দলীয় প্রার্থীর দাবি, তখন বরিশাল-৩ আসনের বর্তমান এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু বলছেন, তার দল জাপা এবার জোট-মহাজোটে যেখানেই যাক, তিনি ঠিকই প্রার্থী হবেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ কোনো দিনই দলীয় প্রার্থী পাবেনা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আতিকুর রহমান আতিক বলেন, সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার কোন বিকল্প নেই। এজন্য সরকারের নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডকে সাধারণ ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভোটের হিসেবে বরিশাল-৩ আসনটি এককভাবে আওয়ামী লীগের। তাই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেয়ার জন্য দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি।

অপরদিকে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনটি আয়তনে জেলার সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা। মহাজোটের হয়ে মনোনয়ন পেয়ে ২০০৮ সালে এখানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাপার কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার। সবশেষ দুইটি নির্বাচনে এমপি হয়েছেন রুহুল আমিনের স্ত্রী ও জাপার সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নাসরিন জাহান রতনা আমিন।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চুন্নু বলেন, এরশাদ ও আওয়ামী লীগের শাসনামল মিলিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদার ৩০ বছর এ আসনের এমপি। উন্নয়ন নিয়ে তার ওপর মানুষের প্রচন্ড ক্ষোভ রয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও শরিক দলকে এ আসনে আওয়ামী লীগের সমর্থন দেওয়া হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এর প্রতিক্রিয়া দেখাবেন।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিরুজ্জামান রিপন বলেন, বাকেরগঞ্জ বারবার মহাজোটকে ছেড়ে দেওয়ায় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। অধিকাংশ ইউনিয়নে এখনো কাঁচা সড়ক। এজন্য ১৫ আগস্ট উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা এবার সরাসরি দলীয় প্রার্থীকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, দলের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল (অবঃ) আবদুল হাফিজ মল্লিক, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এসএম মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বাদশা, বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম চুন্নু, সাধারণ সম্পাদক ও তিনবারের পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া। দলের নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগ থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে এবার তার বিজয় নিশ্চিত করে এ আসনটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়া হবে।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস বলেন, বরিশাল-৩ ও বরিশাল-৬ আসনের দলীয় নেতাকর্মীরা যে দাবি করেছেন, এটা তাদের ন্যায্য দাবি। দুইটি আসনই আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত দাবি করে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত দেবেন।




পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: দীর্ঘ পাঁচ বছর পর পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এতে আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম ও সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদসহ ২১ জনকে দায়িত্ব দিয়ে আগামী ১ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ বছর পর ছাত্রদলের নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

নেতাকর্মীরা মনে করছেন, কমিটি দেওয়ায় বিএনপির আগামীর রাজনৈতিক আন্দোলন আরও বেগবান হবে।
জানা গেছে, কমিটির খুশিতে পটুয়াখালী জেলার মোড়ে মোড়ে মিষ্টি বিতরণ করছেন ছাত্রদলের কর্মীরা।




পিস্তল কান্ডে বরিশালের রাজনীতি উত্যপ্ত 

বরিশাল অফিস: নগরীর ব্যস্ততম সড়কে প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে বসে জাতীয় পার্টি (জাপা) নেতা ও শ্রমিক লীগ নেতার পিস্তল নিয়ে ধস্তাধস্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। ইতোমধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর এবার সংবাদ সম্মেলন করছে উভয়পক্ষ।

পাশাপাশি জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের একাধিকবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর মুরতজা আবেদীনের ওপর হামলা চালিয়ে তার লাইসেন্স করা পিস্তল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি। তিনি এ ঘটনার জন্য বিলুপ্ত মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও সদ্য গঠিত মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহমেদ মান্নার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আইনের মুখোমুখি করার দাবি করেছেন।

অপরদিকে শ্রমিক লীগের সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দরা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই তড়িঘড়ি করে সম্মেলন স্থান ত্যাগ করায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রমতে, ৪ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথমে বরিশাল প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় পার্টি। একইদিকে বিকেলে একই হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় শ্রমিক লীগের মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শ্রমিক লীগ বরিশাল মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক বেল্লাল হোসেন শিশির বলেন, নগরীর পোর্টরোডস্থ ভূমি অফিসের সামনে বসে ৮০ থেকে ৯০ দশকের দুর্র্ধর্ষ সন্ত্রাসী, এক সময়ের ক্রসফায়ারের তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী, অসংখ্য মামলার আসামি মুরতজা আবেদীন পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক লীগ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্নাকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা প্রতিহত করে। এ সময় মুরতজা আবেদীনকে পিস্তলসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য মুরতজা আবেদীন প্রশাসন ও সংবাদ মাধ্যমসহ অন্যান্য মহলে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ ছড়ানোর অপচেষ্টা করছেন।

বেল্লাল হোসেন শিশির আরও বলেন, মুরতজা আবেদীন গত ১২ জুন অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন চলাকালীন রইজ আহম্মেদ মান্নাসহ তার মা-বোন এবং তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করিয়েছেন। এরপর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি মিথ্যা তথ্য সম্বলিত অডিও রেকর্ড প্রচার করেন। মূলত ধারাবাহিকভাবে বরিশাল পৌরসভা থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিষদসহ সর্বমোট পাঁচবারের কাউন্সিলর থাকার পরে গত ১২ জুনের নির্বাচনে রইজ আহম্মেদ মান্নার বড় ভাই মুন্নার কাছে পরাজয়ের বেদনা তাকে (মুরতজা) বিকৃত মস্তিস্কের মানুষে পরিণত করেছে।

রইজ আহম্মেদ মান্নাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, সদস্য অ্যাডভোটেক রফিকুল ইসলাম খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার রাজিব প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা জাতীয় পার্টির নেতা ও শ্রমিক লীগ নেতার পিস্তল নিয়ে ধস্তাধস্তির বিষয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন করলে গুটি কয়েক প্রশ্নের উত্তর দিলেও বাকি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন স্থান ত্যাগ করেন শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দরা। এতে করে সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

শ্রমিক লীগের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সকল অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে জাপার প্রভাবশালী নেতা অ্যাডভোকেট মুরতজা আবেদীন বলেন, আমার লাইসেন্স করা পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মান্না ও তার সহযোগিরা। তিনি আরও বলেন, মান্না নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক দাবি করলেও এই মান্না ও তার সহযোগিরা সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধীতা করে গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছে। আর মান্নার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণেই নির্বাচন চলাকালীন মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডে টানা ২৫ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মুরতজা আবেদীন। গত ১২ জুনের সিটি নির্বাচনে তার এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রইজ আহমেদ মান্না। তবে দলীয় নৌকা মার্কার প্রার্থীর সমর্থকদের পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি ও মারধরের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয় মান্নাকে। আর এ সময়েই মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীতা বাতিল করলে মান্নার ভাই মুন্না হাওলাদার সেই নির্বাচনে মুরতজা আবেদীনকে হারিয়ে বিজয়ী হন। আর ওই নির্বাচন থেকেই উভয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

মান্নাকে গ্রেপ্তারের দাবি জাপা মহাসচিবের ॥ বরিশাল জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের একাধিকবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর মুরতজা আবেদীনের ওপর হামলা ও তার লাইসেন্স করা পিস্তল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি। মঙ্গলবার সকালে এক প্রতিবাদ লিপিতে মুজিবুল হক চুন্নু এই ঘটনার জন্য বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহমেদ মান্নাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।




বঙ্গবন্ধু শিক্ষানীতি প্রনয়ন করার জন্য শিক্ষা কমিশন করেছিলেন: আমির হোসেন আমু

বারিশাল অফিস: আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেছেন, আমাদের দেশে শিক্ষার কোন নীতি ছিল না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রায় ৪০ বছরে এদেশে কোন শিক্ষা নীতির প্রনয়ন করা হয়নি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষা নীতি প্রনয়ন করার জন্য শিক্ষা কমিশন করেছিলেন। তৎকালীন উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক ড. কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে একটা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিলো। কিন্তু সেই শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট আর আলোর মুখ দেখেনি। সেটা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নলছিটি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৩ ইং হাইস্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজ বিজয়ী শিক্ষার্থীদের এবং শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সুপারদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে যারা দেশ পরিচালনা করছেন তারা সঠিকভাবে শিক্ষানীতি প্রনয়ন করতে পারেনি। একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই ২০১০ সালে শিক্ষা নীতি প্রনোয়ন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে দেশে আজ শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত আরা নাহিদের সভাপতিত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মোঃ শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, নলছিটি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তছলিম উদ্দিন চৌধুরী, পৌর মেয়র আবদুল ওয়াহেদ কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




নির্বাচনের মাঠে সবার সাথে খেলে আমরা জিততে চাই, বিএনপি চায় পালাতে : তথ্যমন্ত্রী

চন্দ্রদীপ নিউজ: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচনের মাঠে সবার সাথে খেলে আমরা জিততে চাই আর বিএনপি শুধু পালিয়ে যেতে চায়। তিনি তাদেরকে মাঠ থেকে পালিয়ে না যাওয়ার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আজ বিকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব গতদিন বলেছেন, আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায়। প্রকৃতপক্ষে আমরা কখনো ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চাই না। আমরা চাই আগামী নির্বাচনে বিএনপি পুর্ণ শক্তি নিয়ে অংশগ্রহণ করুক। কিন্তু বিএনপির কথাবার্তায় মনে হচ্ছে যে, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে তারা মাঠ ছেড়েই চলে যেতে চাচ্ছে। মির্জা ফখরুল সাহেবকে বলবো মাঠে আসার জন্য এবং আমাদের সাথে খেলার জন্য। আমরা খেলেই জিততে চাই। আমরা চাই সকল রাজনৈতিক দল আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ আগামী দিনের সরকার নির্বাচিত করুক।’

জনগণের ওপর আমাদের আস্থা আছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে, প্রতিটি শহর-গ্রামের এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, মানুষের মুখে আগের ডাল-ভাতের পরিবর্তে এখন মাংসের দাম বাড়লে সেটি নিয়ে কথা শোনা যায়। আগে মানুষ ইট বিছানো রাস্তার দাবি দিতো, এখন কার্পেটিং করা রাস্তার দাবি দেয়। এখন মানুষ ভাত-কাপড়ের কথা বলে না, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের কথা বলে এবং আমাদের সরকার সেটি মোটামুটিভাবে নিশ্চিত করেছে, দেশের শতভাগ এলাকা বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। মানুষের জীবনমানের এই উত্তরণ ও পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে জনগণের ওপর আমাদের আস্থা আছে বিধায় আমরা সবার সাথে নির্বাচনের মাঠে খেলে জিততে চাই আর বিএনপি শুধু পালিয়ে যেতে চায়।’

সরকার বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য সংলাপের ডাক দেবে কি না -এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের মাঠে আমরা একটা পক্ষ। আমরা তো আয়োজক পক্ষ নই। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে তাদের যদি কোনো অভাব-অভিযোগ কিছু থাকে তারা নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলতে পারে। আর নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের ডাকে তাহলে আমরা সেখানে যাবো।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি মনে করি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। ২০১৮ সালে নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিলো পরে সেটিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিলো, এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করবো এ নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে। মির্জা ফখরুল সাহেব সম্প্রতি বলেছেন- ‘কথা বেশি নয়, কথা একটাই, এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।’ কিন্তু আসলে আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ না করে তাহলে মির্জা ফখরুল সাহেবের নিজের পতন এবং বিএনপির পতন দুটিই অবলোকন করবেন।’

বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগ কি ব্যবস্থা নেবে এবং বিএনপি ছাড়া নির্বাচন কতোটা গ্রহণযোগ্য হবে -এ প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচন প্রতিহত করার ক্ষমতা বিএনপির নাই। ২০১৪ সালে আমরা তাদেরকে মোকাবিলা করেছি, ২০১৪ সালের পরিস্থিতি বিএনপি আর কখনো সৃষ্টি করতে পারবে না। নির্বাচনে অবশ্যই সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করুক আমরা সেটিই চাই। কিন্তু গণতন্ত্রে জনগণের অংশগ্রহণটাই হচ্ছে মুখ্য।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭০ সালে নির্বাচনের সময় মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে শ্লোগান দেওয়া হয়েছিলো ‘ভোটের বাক্সে লাথি মারো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। অথচ ১৯৭০ সালে সেই নির্বাচন না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। তখন অনেক রাজনৈতিক দল সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাই কিন্তু জনগণ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং দেশ স্বাধীন হয়েছে। গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি এবং তাদের মিত্ররা অংশগ্রহণ করে নাই তবুও ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। আমরা চাই বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। কিন্তু সেখানে জনগণের অংশগ্রহণটাই হচ্ছে মুখ্য। জনগণের অংশগ্রহণ থাকলে সেই ভোট নিশ্চয়ই গণতন্ত্রের বিচারে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।’




জাকার্তায় আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় শুরু হয়েছে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের ৪৩তম শীর্ষ সম্মেলন। আসিয়ানের চেয়ার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর বিশেষ আমন্ত্রণে এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতি ও তার সহধর্মিণী অধ্যাপক ড. রেবেকা সুলতানা জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে পৌঁছালে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট তাদের স্বাগত জানান।

তিনদিনব্যাপী এবারের সম্মেলনে আসিয়ানের সদস্য দেশ এবং এর সহযোগী দেশগুলো ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানগণ অংশ নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে  ছিলেন। পরে, আসিয়ান নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ।

আগামীকাল বুধবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি।




যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : তথ্যমন্ত্রী

চন্দ্রদীপ নিউজ : তথ্যমন্ত্রী ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচনের ট্রেন কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (০৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে দৈনিক বাংলা পত্রিকার প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তফসিল ঘোষণা হলেই যে নির্বাচন হবে, বিষয়টি এত সহজ নয়’— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদের এ মন্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আসলে বিএনপি তো চায় দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভন্ডুল করতে। ২০১৪ সালে তারা সেই চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। এবার সেই চেষ্টা করলে জনগণ কঠোর হস্তে দমন করবে। বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে, সেই মানুষগুলো বসে থাকবে না। আমরা আওয়ামী লীগও বসে থাকব না।

নির্বাচনের ট্রেন কারো জন্য দাঁড়াবে না জানি তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের ট্রেন কারো জন্য দাঁড়ায়নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি পাদানিতে বসে নির্বাচনের ট্রেনে চড়েছিল। আমরা আশা করব এবার নির্বাচনের ট্রেনে তারা ভালোভাবে বসবে। আর তারা না চড়লেও যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপির উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, তাদের কোন নেতা কী বললো এতে কিচ্ছু যায় আসে না। নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করল কী না সেটিই মুখ্য বিষয়। যদি জনগণ ব্যাপকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলেই সেটি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। তাদের বর্জন সত্ত্বেও যেভাবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জনগণ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছে, আগামী নির্বাচনও যদি তারা বর্জন করে, তবুও জনগণ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করবে ইনশাআল্লাহ। তবে আশা করব তারা অংশগ্রহণ করবে।

এর আগে মন্ত্রী কেক কাটায় অংশ নেন এবং পত্রিকার সম্পাদক চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাতের ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার জীবনের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে তার হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

এসময় গণমাধ্যমের বিষয়ে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সমস্ত প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে দেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ, রাষ্ট্র, মানুষের এই সাফল্য কাগজের পাতায় আসতে হবে। কাগজের পাতায় যারা হতাশার চিত্র তুলে ধরে সেই নৈরাজ্যবাদীরা রাষ্ট্রের ক্ষতি করে। অবশ্যই সমাজের চিত্র পরিস্ফুটিত হবে, ব্যর্থতার কথাও পত্রিকায় আসবে, সমালোচনা হবে, কিন্তু সাফল্যগাঁথাটাও প্রকাশ করতে হবে, প্রচার করতে হবে।

এসময় দৈনিক বাংলার প্রকাশক ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত, বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাসোসিয়েশন ও ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।




নাশকতার মামলা শিমুল বিশ্বাস-শামা ওবায়েদসহ ৬০ জনের বিচার শুরু

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রাজধানীর বাড্ডা থানায় এলাকায় নাশকতার অভিযোগে ২০১৫ সালে দায়ের করা এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল হকের আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এদিন শিমুল বিশ্বাস আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আদালত মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী শিশির হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।