হাসিনা-মোদী বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়নি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স:  ভারত সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেদেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক একান্ত বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি। এমনকি ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যুতেও দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কোনো কথা হয়নি। তবে বাংলাদেশসহ কেউই এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা চায় না।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে ভারত সফরের প্রথম দিন বিকেলে মোদীর সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। এ নিয়ে রাতে নয়াদিল্লির একটি হোটেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ২০০১ সালের পরের খারাপ সময়ে ফিরে যেতে চায় না। যখন কি না বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছিল, সারাদেশে বোমা হামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং আদালত কক্ষে বিচারকদের ওপর বোমা হামলা হয়েছিল।

তিনি জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত দুই প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে কোনো কথা উঠেছিল কি না, সেটি তার জানা নেই।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি দেশের জনগণের আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা খুশি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে কেউ কারচুপির চেষ্টা করলে জনগণ প্রতিহত করবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য বিএনপির দাবির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের সংবিধানে নেই। অতএব এটা কোনো আলোচনারও বিষয় নয়। আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত করতে সবাইকে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।

ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই নেতা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও সংযোগ, পানিসম্পদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, উন্নয়ন সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক এবং মানুষে মানুষে বন্ধনসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ অঞ্চলের বর্তমান উন্নয়ন এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকের পর পরই নরেন্দ্র মোদী নিজের এক্স (পূর্বে টুইটার) অ্যাকাউন্টে বাংলায় লেখেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। গত ৯ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতি খুবই সন্তোষজনক। আমাদের আলোচনায় কানেক্টিভিটি, বাণিজ্যিক সংযুক্তি ও আরও অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লির উদ্দেশে শুক্রবার ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার বেলা ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে রওনা হন তিনি। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। নয়াদিল্লিতে ৯-১০ সেপ্টেম্বর জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শেখ হাসিনার এ সফর। সফরে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানাও রয়েছেন।




শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে : মোদি

শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে পৌঁছান শেখ হাসিনা। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে তাকে স্বাগত জানান। তারপর প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন দুই দেশের শীর্ষ নেতা।

বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। গত ৯ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতি খুবই সন্তোষজনক।’

কোন কোন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে— সে সম্পর্কে এক্সে বিস্তারিত কিছু বলেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তবে তার বার্তায় বোঝা গেছে, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সংযোগ, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বসগ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

‘আমাদের আলোচনায় কানেক্টিভিটি, বাণিজ্যিক সংযুক্তি এবং আরও অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।’ টুইটবার্তায় বলেছেন নরেন্দ্র মোদি।

প্রসঙ্গত, দুই দেশের পরবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে এটিই নরেন্দ্র মোদি এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য শেষ বৈঠক।

শেখ হাসিনার এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা গেছে। একটি বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলের গবেষণা ও শিক্ষায়  ভারতের সহায়তা সম্পর্কিত।দ্বিতীয়টি হলো চলতি ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার করা এবং তৃতীয়টি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার চুক্তি। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে টাকা ও রুপির বিনিময় সহজ হবে।

বাংলাদেশ জি-২০ জোটের সদস্য নয়। এবারের নয়াদিল্লি সম্মেলনে বাংলাদেশ গিয়েছে অতিথি হিসেবে। আগামী শনি ও রোববার সম্মেলনের দু’টি পৃথক সেশনে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে।




মার্কিন দূতাবাসে আশ্রয় চেয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান


 চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ ডেক্স:  নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কারণে মার্কিন দূতাবাসে পরিবারসহ আশ্রয় চেয়েছেন বরখাস্ত হওয়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া। বন্ধের দিন হওয়ায় দূতাবাসের মূল ফটকের পাশে একটি কক্ষে তাদের বসিয়ে রেখেছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মার্কিন দূতাবাসে আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের এমরান আহম্মদ বলেন, ‘আমি মার্কিন দূতাবাসে আজকে পুরো পরিবারসহ আশ্রয়ের জন্য বসে আছি। আজকে আমাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। আমার ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে গত ৪-৫ দিন যাবৎ অনবরত হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এই সরকার ভালোবাসার প্রতিদান দেয় জেল দিয়ে। আমার আমেরিকার কোনো ভিসা নেই। স্রেফ তিনটি ব্যাগে এক কাপড়ে আমার তিন মেয়েসহ কোনোক্রমে বাসা থেকে বের হয়ে এখানে বসে আছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

এর আগে ড. ইউনূসের বিপক্ষে বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতির কথা গণমাধ্যমে জানানো ও তিনি বিচারিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করার জেরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার নিয়োগ বাতিল করে দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আজ (শুক্রবার) তার নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইং। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন সলিসিটর রুনা নাহিদ আক্তার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দ্য বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৭৭২ (পিও নম্বর ৬) এর ৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার নিয়োগাদেশ জনস্বার্থে বাতিল করা হলো। পাশাপাশি তাকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। অবিলম্বে তা কার্যকর হবে।

কী করেছেন এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া

শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করা এবং বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত মাসে খোলা চিঠি দিয়েছেন ১৭৫ জন বিশ্বনেতা।

এরপর এ চিঠির বিপক্ষে বেশ কিছু বিবৃতি দেওয়া হয়েছে দেশের ভেতর থেকে। এরকমই একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করবেন না বলে সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে জানান সরকারের আইন কর্মকর্তা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া। একইসঙ্গে তিনি বলেন যে, ড. ইউনূস বিচারিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া বলেন, ড. ইউনূসের পক্ষে ১৭৫ জন বিদেশি ব্যক্তি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটনও রয়েছেন। ওই বিবৃতির বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাকে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমি ইউনূসের বিপক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করব না।

কে এই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমরানের পৈত্রিক বাড়ি কুমিল্লায়। বাবা সুলতান আহম্মদ ভূঁইয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তখন তিনি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর অধীনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে গবেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার মায়ের নাম সুরাইয়া সুলতানা। তিনি মহিলা পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পর পর দুবারের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সুলতান আহম্মদ ভূঁইয়ার চাকরির সুবাদে তার পরিবার পরবর্তীতে চট্টগ্রামে স্থায়ী হন।

সুলতান আহম্মদ ভূঁইয়া ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন ড. ইউনূসও ওই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। আর এমরান ১৯৯২-৯৩ সেশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। তিনি আইন বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক দুই শিক্ষার্থী (বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী) ঢাকা পোস্টকে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এমরান ছাত্রলীগ করতেন। আইন পড়া শেষ করে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্টে প্র্যাকটিসের অনুমতি পান এবং ২০০৫ সালের ২১ জুলাই সদস্য পদ লাভ করেন। এরপর ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি তিনি একজন মন্ত্রীর সুপারিশে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

হঠাৎ কেন ইউনূসের পক্ষে অবস্থান?

অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার ফেসবুক প্রোফাইল ঘুরে দেখা যায়, তার ফেসবুকের কভারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি রয়েছে। ফেসবুক ব্যবহার শুরুর পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শ-সরকারের উন্নয়নের কথাই তুলে ধরেছেন। কিন্তু হঠাৎ নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। তার অবস্থান পরিবর্তনে হতবাক অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সহকর্মীরা।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তার তিন জন সহকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, এমরান বিচারপতি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তদবির করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হয়েছিলেন। কিন্তু পরপর দুই নিয়োগে তিনি বিচারপতি হতে পারেননি। এতে তার মনে ক্ষোভ জন্মেছে। আবার কেউ বলছেন, এমরানের আত্মীয়-স্বজনদের অনেকে আমেরিকায় থাকেন। আমেরিকান ভিসা নিশ্চিত করতেই তিনি ড. ইউনূসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এমরান কোনো লোভের বশবর্তী হয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করেন আরেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মনির। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিনি কিছু লোভের বশবর্তী হয়ে কাজটা করেছেন। ড. ইউনূস ও তার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস অর্থাৎ দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার অফিস থেকে ইউনূসের পক্ষে বিবৃতি নেওয়ার ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। এ ষড়যন্ত্রের ফাঁদে ও লোভে পা দিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তার এসব কর্মকাণ্ড।

আসাদুজ্জামান মনির বলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান উচ্চভিলাষী। তিনি বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াতেন বিচারপতি নিয়োগের তালিকায় তার নাম প্রথমদিকে রয়েছে। কিন্তু গত নিয়োগেও যখন তিনি বিচারপতি হতে পারলেন না, তখন তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কারো সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল না।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরানের অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে ফেসবুক পোস্ট করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে। ফেসবুক পোস্টের একাংশে তিনি লিখেছেন, ‘একজন ব্যক্তি যদি মনে করে শেখ হাসিনার পক্ষে থেকে বা বাংলাদেশের সঙ্গে থেকে কি সুবিধা বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে বা পাওয়া যাবে তার চেয়ে অধিক সুবিধা যদি ড. ইউনূসের পক্ষে বা আমেরিকার সঙ্গে থেকে পাওয়া যায় তাহলে একজন ব্যক্তি কেন শেখ হাসিনার পক্ষে থাকবেন? কোনো ব্যক্তি যদি দেখেন শেখ হাসিনার পক্ষে থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়া গেছে। এরপর বিচারপতি হওয়ার রিপিটেড চেষ্টা করেও আর এগোতে পারেননি। তারপরে হতাশ হয়ে দেশের ওপর ভীতশ্রদ্ধ হয়ে সপরিবারে আমেরিকা চলে যাওয়ার চেষ্টা করে দুইবার ভিসা রিফিউজ হলে সেই ব্যক্তির আর কীইবা করার থাকে! শতভাগ ভিসা কনফার্ম করার মিশন নিয়ে ড. ইউনূস বা আমেরিকার পক্ষ নেওয়া ছাড়া!’

‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কাগজে সাইন না করা এটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে হতে পারত, গোপন থাকতে পারত, যখন সাংবাদিক ডেকে সংবাদ সম্মেলন করে কোনো কাগজে সাইন না করার বিষয় প্রচার করা হয় তখন বুঝতে হবে এখানে অনেক বড় কোনো লাভের বিষয় আছে। এখানে শুধু ভিসা কেন? ড. ইউনূস তো আবার বড় লোক, টাকা গুনেন এক কোটি-দুই কোটিতে নয়, গুনেন হাজার কোটিতে। তাই *** (অশালীন শব্দ) বিষয় আছে, *** পেটে পড়লে আর যাই হোক মাথা ঠিক থাকে না। না হলে বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করে বিচার বিভাগ তথা বিচারিক প্রক্রিয়াকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে?’




আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

চন্দ্রদীপ নিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনার মাধ্যমে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জি-২০ সম্মেলনে যোগদানের জন্য ভারতের নয়াদিল্লি যাওয়ার আগে আজ সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ‘পূর্ব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগদান শেষে দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছেন ল্যাভরভ।
স্বাধীনতার পর এটিই প্রথম কোনো রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর।




দিল্লিতে শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি শীর্ষ বৈঠক আজ

চন্দ্রদীপ নিউজ : তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে নয়াদিল্লিতে ৯-১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তার এই সফর। পাশাপাশি আজ বিকালে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। বৈঠকের আগে কৃষি গবেষণা খাতে সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও দুই দেশের নাগরিকদের লেনদেন সহজীকরণে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না। আমরা চাই আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য। আমরা কোনো কারচুপি চাই না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন চাই। সেখানে কেউ যদি আমাদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়, সেটিকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে কেউ যদি মাতব্বরির ভূমিকা নিয়ে আসে, আমরা সেটি সহ্য করব না। আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কাউকে ভয় পায় না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো চাপের মুখে নেই। কারণ আমরা অত্যন্ত পরিষ্কার যে, সুন্দর একটি নির্বাচন করব। অন্যরা পছন্দ করুক বা না করুক, এটি তাদের সমস্যা। তারা চাপের মুখে পড়ে ছাই হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা টিকে থাকব।’ তিনি জানান, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকে কানেকটিভিটি, তিস্তার পানি বণ্টন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে নয়াদিল্লি যাবেন প্রধানমন্ত্রী। ভারত তার সভাপতিত্বে হতে যাওয়া এবারের জি-২০ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ৯টি দেশকে অতিথি রাষ্ট্র হিসেবে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অন্য আটটি দেশ হচ্ছে—মিশর, মরিশাস, নেদারল্যান্ডস, নাইজেরিয়া, ওমান, সিংগাপুর, স্পেন ও আরব আমিরাত। ভারতের মধ্যে বিদ্যমান অনন্য সম্পর্কের ভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েছে। বাংলাদেশ ১৮তম জি-২০ সম্মেলনের সব সভায় অংশ নিচ্ছে। জি-২০ সম্মেলনে অংশগ্রহণ প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে গত ১৪ বছরে সরকারের অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতি।

আগামীকাল শনিবার জি-২০ নেতৃবৃন্দের শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধন হবে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যত্’। এর আওতায় প্রধানমন্ত্রী দুটি অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন। শনিবার সম্মেলনের সাইডলাইনে অন্যান্য দেশের একাধিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিকভাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী, সৌদি যুবরাজ, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষদিন ১০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তিনি দিল্লিতে বাংলাদেশের হাঁড়িভাঙা জাতের আমের চারা রোপণ করবেন। এরপর তিনি সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে অংশ নেবেন। ১০ সেপ্টেম্বরই প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সংগঠন জি-২০-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে ভারত। জি-২০-এর সদস্যরা বিশ্বব্যাপী জিডিপির প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং বিশ্ববাণিজ্যের ৭৫ শতাংশ এবং বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে।




ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের নির্বাচন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স:  বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে ওয়াশিংটন। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনের কো-অর্ডিনেটর জন কিরবি এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তাকে সমর্থন করি। এই বিষয়ে আমাদের অবস্থানের কোনও কিছুই পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে জন কিরবি বলেছেন, আমরা বাংলাদেশি জনগণের ইচ্ছাকে সমর্থন করি।

আগামী বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতি-নির্ধারকদের তুমুল দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। প্রায়ই এসব দেশের কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ওইদিন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান এবং সাবেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা, সরকার-সমর্থক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যরা, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, বিচারবিভাগ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সদস্যরাও এই ভিসা নীতির আওতায় পড়বেন।

যেসব কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বানচালের আওতায় পড়বে সেগুলোও মার্কিন বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে আছে, ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার অধিকার প্রয়োগ করা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করার জন্য সহিংসতাকে কাজে লাগানো এবং এমন কোনও পদক্ষেপ; যার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক দল, ভোটার, সুশীল সমাজ বা সংবাদমাধ্যমকে তাদের মত প্রচার থেকে বিরত রাখা।




২০ বছর পর বাবুগঞ্জ উপজেলা ও তিন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

 

আল-আমিন,বাবুগঞ্জঃ অনেক জল্পনা কল্পনা ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগসহ তিনটি কলেজে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগ। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সেরনিয়াবাত সুমন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০ বছরের মাথায় ঘোষিত ৫১ সদস্যের বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে ফায়জুল হককে। এছাড়া কমিটিতে প্রসেনজিৎ দাস অপু, সৈয়দ জহিরুল ইসলাম মুরাদ, ওবায়দুল হক জুয়েল, রাজু খন্দকার, নিয়াজ আহমেদ আবির মৃধাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। সাধারন সদস্যরা হচ্ছেন, মোঃ মুজিবুর রহমান(নয়ন), মোঃ সাগর হোসেন খাদেম, তাপস ভদ্র, মোঃ মহিজুর রহমান(সিহাব), মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, মোঃ সিরাজুল ইসলাম(সুমন ঢালী), রেজাউল করিম সোহাগ, মোঃ শিমুল শরীফ, মোঃ আল-আমীন, আবু ছালেহ মেহেদী(মুমিন), রাজীব দাস, তৌকির আলম(তুষার), বেল্লাল হোসেন, মোঃ রহমাতুল্লাহ, মোঃ তানভির হোসেন, মোঃ মিরন হাওলাদার(মিলন), মোঃ মেহেদী হাসান, নাজমুল হাচান, মোঃ ইয়াছিন হোসেন, জালিস মাহামুদ(অপু হাওলাদার), মোঃ মাসুম, আহনাফ মোর্শেদ মুবিন, প্রমিথ রায়, সাইফুল ইসলাম, মোঃ ফারুক হোসেন, নাসিম, মোঃ সাফায়েত জামিল, শেরফুর আলম(অনিক সিকদার), মোঃ নাফিজ, ফারুক হোসেন, মোঃ ফয়সাল আহমেদ(শুভ), আবু সাইদ সৌরভ, মোঃ সফিকুল ইসলাম সিফাত, মোঃ মাসুদ রানা(রেজবী), মোঃ সজল মাহমুদ, মোঃ এনামুল হক রানা, মোঃ রবিউল খান, মোঃ শিবলু খান, মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ রাফি, মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ, মোঃ রানা, মোঃ উজ্জল, মোঃ রাফিন তালুকদার, মোঃ শাওন খলিফা এবং আজবির আহমেদ জয়। এছাড়া ঘোষিত বাবুগঞ্জ উপজেলার তিনটি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটির মধ্যে- আগরপুর ডিগ্রী কলেজে ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে মোঃ সাগরকে আহŸায়ক এবং হাফিজুর রহমান ও অলিউল ইসলামকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। বাকীদের সদস্য করা হয়েছে। সরকারি আবুল কালাম কলেজে ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে নাঈম সিকদারকে আহ্বায়ক এবং আবিদ আল সাকিব ও নাহিয়াল মোল্লাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। বাকীদের সদস্য করা হয়েছে। এছাড়াও বাবুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে তরিকুল ইসলাম নাঈমকে আহ্বায়ক এবং আসাদুজ্জামান, সাদেকুর রহমান, শাওন হাওলাদার ও মোঃ রবিউল ইসলাম তুহিনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। বাকীদের সদস্য করা হয়েছে। স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে বলা হয় চারটি শাখা কমিটিই তিনমাসের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য ২০০৩ সালের ৬ ফেব্রæয়ারি সম্মেলনের মাধ্যমে আক্তার উজ জামান মিলনকে সভাপতি ও মনির হোসেন রুমনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠন করা হয় বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি।




প্রজন্মের অগ্রযাত্রায় শিশুপ্রতিভা বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী

চন্দ্রদীপ নিউজ: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রজন্মের অগ্রযাত্রায় শিশুপ্রতিভা বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যেতে পারে, আমরা সেই বাংলাদেশ রচনা করতে চাই। সেটি করার ক্ষেত্রে শিশুপ্রতিভা বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ক্ষেত্রে শিশু চলচ্চিত্র উৎসব অনন্য ভূমিকা রাখছে।

মন্ত্রী আজ  (বৃহস্পতিবার) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমিতে চিল্ড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ আয়োজিত ষোড়শ আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।

একাডেমি চত্বরে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সূচনায় মন্ত্রীর সাথে অংশ নেন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম এবং সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’ শ্লোগান নিয়ে তিনদিনব্যাপী এ উৎসবে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তন ও অলিয়ঁস ফ্রসেজ গ্যালারিতে ৩৯টি দেশের ১০১টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিশুরা অনেক মেধাবী। তাদের সেই মেধাকে যদি বিকশিত করতে পারি তারা দেশ ও সমাজ গঠনে, উন্নত মানবিক জাতি গঠন ও বিশ্বব্যাপী শান্তি স্থাপনে বিরাট ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে শিশু চলচ্চিত্র উৎসব অনেক বড় ভূমিকা রাখে কারণ এখানে শিশুরা নিজেরাই ছোট ছোট চলচ্চিত্র বানায়, আজকে উপস্থাপকরাও ছিলো শিশু। ১৬ বছর ধরে ধারাবাহিক এ উৎসব আয়োজকদের আমি ধন্যবাদ জানাই।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এখন প্রায় সব বয়সের মানুষই স্মার্টফোনে নিবদ্ধ হয়ে গেছে। এর ভালো দিক যেমন আছে অনেক খারাপ দিকও আছে। যে কোনো কিছুতে আসক্তিই খারাপ। সেই আসক্তি থেকে শিশুদেরকে বের করে আনতে হবে।’

সরকারের কাউকে কারাগারে পাঠানোর পরিকল্পনা নেই: এ দিন শিল্পকলা একাডেমিতে ষোড়শ আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। সাংবাদিকরা বিএনপি মহাসচিব ও ড. ইউনূসের কারাবরণের আশংকা নিয়ে প্রশ্ন করলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেখুন বাংলাদেশে আইন এবং আদালত স্বাধীন। সে কারণেই সরকারি দলের অনেক এমপির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তারা কারাগারেও গেছেন।

তিনি বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন, তিনি একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক। তার প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা দুইই রেখে বলতে চাই- কেউ নোবেল পুরস্কার পেলে আইনের উর্ধ্বে হন না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নোবেল লরিয়েটের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এমন কি তারা কারাগারেও গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আইন এখানে নিজস্ব গতিতে চলবে। সরকারের কাউকে কারাগারে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। আইন এবং আদালত যেভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, সরকার সেটি পালন করে মাত্র।’




পটুয়াখালীতে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিএনপির চার নেতাকর্মী আওয়ামীলীগে যোগদান

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: বুধবার (০৬সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা সহ ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহীদদের স্মরনে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল চলাকালীন সময়ে লেবুখালী ইউনিয়ন যুবদল নেতা মোঃ সরোয়ার আকন, লেবুখালী ইউনিয়ন মহিলা দল নেত্রী ও লেবুখালী ১,২ ও ৩ নং ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য জেসমিন বেগম, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ইদ্রিস সরদার ও ৮নং ইউপি সদস্য শামীম সিকদার আনুষ্ঠানিক ভাবে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।

লেবুখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আবদুস ছালাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুমকী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ড. হারুন আর রশীদ, এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আলী আশরাফ, পটুয়াখালী সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হুমায়ুন চৌধুরী, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসান সিকদার, দুমকী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আকন সেলিম, লেবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম তুহিন, আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মতুর্জা, শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহার মৃধা সহ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের অসংখ্য নেতা-কর্মীরা।

লেবুখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, আওয়ামীলীগের উন্নয়ন দেখে বিএনপির এসকল নেতা কর্মীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তাই তারা সঠিক পথে ফিরে এসেছে।

অনুষ্ঠান শেষে নিহত সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।




ঝালকাঠি জেলা যুবলীগের কমিটি নিয়ে গুঞ্জণ

 

বরিশাল অফিস:  স্বাধীনতার পর থেকে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে ঝালকাঠি জেলা যুবলীগের কমিটি। বেশ কয়েক বার সম্মেলন প্রস্তত কমিটি ও স্বল্প মেয়াদে কমিটি অনুমোদন দিয়ে থাকলেও বছরের পর বছর চলছে সেই কমিটি।

ঝালকাঠি জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে নতুন মোড় সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ কয়ের বছর অপেক্ষার পর বুধবার সারাদিন এই খবরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। শহর জুড়ে আলোচনা সমালোচনা চলতে থাকে। গত ৩ সেপ্টেম্বর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি কমিটির অনুমোদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

এতে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক করা হয়েছে যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকিরকে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলনকে। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক জামাল হোসেন মিঠু ও পৌর কাউন্সিলর কামাল শরীফসহ ৩০জনকে এ কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্যাডে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারন সম্পাদক শেখ মাইনুল হাসান খান নিখিল স্বাক্ষরিত এ কমিটি অনুমোদনের স্বাক্ষর রয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বরের তারিখে স্বাক্ষরিত বিষয়টি বুধবার দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান সমর্থকরা অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানানোর পাশাপাশি ১৪দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি, কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। অপর দিকে কমিটি থেকে প্রত্যাশিত পদ থেকে বাদ পরা অনেক নেতা এ নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়ছেন বিভিন্ন মাধ্যমে।