ভোটে ৮ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচনের আগে ও পরে মোট আট দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন বাহিনী। সোমবার (২০ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে এ প্রস্তাব আসে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র সচিব, ইসি সচিব এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, “আগে ভোটের আগে ও পরে মোট পাঁচ দিন বাহিনী রাখার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু বৈঠকে আট দিন রাখার প্রস্তাব এসেছে। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত করা হবে।”

তিনি আরও জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা ভোটের পরিবেশ নিয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। সব বাহিনীই সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নির্ভর করবে বাজেট বরাদ্দের ওপর, যা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধে বিশেষ নজরদারি থাকবে এবং ড্রোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। পুলিশের সদস্যদের জন্য থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা, যাতে ভোটকেন্দ্রে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

আখতার আহমেদ বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর ৯০ হাজার থেকে এক লাখ সদস্য মাঠে থাকবে। আনসার বাহিনীর সদস্য থাকবে সর্বাধিক—প্রায় পাঁচ লাখ বা তারও বেশি। অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োজিত হবেন।”

তিনি আরও জানান, সশস্ত্র বাহিনী “ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার” এর অধীনে নাকি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নিয়োজিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশোধিত আরপিও প্রাপ্তির পর সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

ইসি সূত্র জানায়, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে। গত সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী দুমকিতে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতারা রাজনীতিতে সরব!

পটুয়াখালীর দুমকিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতা পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এ ঘটনায় সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গত শনিবার (১৯ অক্টোবর) পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টির সমাবেশকে স্বাগত জানাতে লেবুখালী পায়রা সেতুর টোল প্লাজায় আয়োজিত মিছিলে বহিষ্কৃত ছাএ নেতা চাকলাদার গোলাম সরোয়ার কে অংশ নিতে দেখা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন রিপন শরীফ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য জিএম ওলিউর রহমান এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক গোলাম সরোয়ারকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কার করা হয়। তাঁদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার নির্দেশনাও ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের মিছিল-সমাবেশে অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

৫ আগস্টের পর দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিএম ওলিউর রহমান সম্প্রতি বিএনপির সদস্য পদ নবায়ন করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন, যা নিয়ে দলীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে বিষয়টিকে ‘বহিষ্কার থেকে প্রমোশন’ বলেও ট্রল করছেন।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া গোলাম সরোয়ারকেও লেবুখালীর মিছিলে অগ্রভাগে দেখা গেছে, যেখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান নেতৃত্ব দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম মৃধা বলেন, মিছিলে কে আসলো তা দেখা সম্ভব নয়। তবে বহিষ্কৃতদের বিষয়ে জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলবো।

উপজেলা সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, বহিষ্কৃতদের রাজনৈতিক প্রোগ্রামে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ সদস্য নবায়ন করে থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংসু সরকার কুট্টি বলেন, একজন কেন্দ্রীয় নেতার আশ্রয়ে বহিস্কৃতদের নিয়ে কিছু কিছু অনিয়ম হচ্ছে স্বীকার করে বলেন, এতবড় দল, সাংগঠনিক কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি হচ্ছে, আমরা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছি। বিষয়টি কঠর ভাবে দেখা হবে।
#######

মো: আল-আমিন, ডেক্স রিপোর্ট।



শাপলা প্রতীক বরাদ্দ সম্ভব নয় : নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, সাংবিধানিক আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রতীকের তালিকায় “শাপলা” না থাকায় এটি কোনো দলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়।

রোববার (১৯ অক্টোবর) সকালে সিলেট পুলিশ লাইনসে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “প্রতীক বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত প্রতীক থেকেই বরাদ্দ দিতে হয়। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান—তাই আইন মেনে কাজ করা আমাদের দায়িত্ব। আইনের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। সেই কারণেই ‘শাপলা’ প্রতীক দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে না হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। অনেক কিছুই মিডিয়ায় প্রচারিত হচ্ছে, তবে তা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না। আমরা আশা করছি, রমজানের আগেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনোভাবেই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে না। বিতর্কিত কেউ নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

এছাড়া পিআর পদ্ধতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচন পদ্ধতি একটি রাজনৈতিক বিষয়। সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ রানা, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান এবং সিটিএসবি (ডিসি) আফজল হোসেন প্রমুখ।

 

আল-আমিন

 




আইনি ভিত্তি ছাড়া জুলাই সনদ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: নাহিদ ইসলাম

আইনি ভিত্তি না থাকলে জুলাই সনদ জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই সনদের স্বাক্ষর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এতে জনগণের চাওয়া বা আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এটি বাস্তবায়নের জন্য এখনো কোনো আইনি ভিত্তি তৈরি হয়নি। তাই আইনি ভিত্তি ছাড়া এই সনদ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে তাদের প্রতি আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তারা হয়তো আনুষ্ঠানিকতার খাতিরে এতে যুক্ত হয়েছেন। তবে আমরা দাবি জানাচ্ছি— এই সনদকে অবিলম্বে আইনি ভিত্তি দিতে হবে, যাতে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়িত হয়।”

সংবাদ সম্মেলনে দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনগত কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আশঙ্কা: সারজিস আলম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দাবি দীর্ঘদিন উপেক্ষিত হতে থাকলে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি মনে করেন, জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের দায়সারা মনোভাব একদিন এই দেশের ইতিহাস থেকে আন্দোলনের সত্যতাকেও মুছে ফেলতে পারে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনিরহাট শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত টুনিরহাট জুনিয়র ফুটবল একাডেমি আয়োজিত গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যেভাবে জুলাই সনদকে গুরুত্বহীন করে ফেলা হচ্ছে, তাতে আশঙ্কা করছি — একসময় দেখা যাবে, অভ্যুত্থানটাই যেন ইতিহাসে আর নেই। পরে হয়তো দেখা যাবে, যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হচ্ছে, বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।”

এনসিপি নেতা আরও বলেন, “আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করিনি কারণ আমাদের অন্যতম দাবি ছিল সনদটির আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু সরকার সেই দাবিকে আমলে নেয়নি। এখন দেখা যাচ্ছে, সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছে একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায়, যেখানে আন্দোলনের মূল নায়কেরা—জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা—পেছনের সারিতেই থেকেছেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই দায়সারা মনোভাব আমাদেরকে হতাশ করেছে। তারা শুধু স্বাক্ষর করাকে লক্ষ্য বানিয়েছে, বাস্তবায়নের কোনো নিশ্চয়তা রাখেনি। এতে ভবিষ্যতে ইতিহাস বিকৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের মতোই নতুন করে আন্দোলনের ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”

সারজিস আলম বলেন, “যদি এইভাবে ইতিহাসের সঙ্গে ছলচাতুরি করা হয়, তাহলে আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারাও একই পথ অনুসরণ করবে। আমাদের সেই জায়গাটা এখনই স্পষ্ট করা দরকার—যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে না পারে।”

এ সময় তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যেন আন্দোলনের ইতিহাস ও বীর যোদ্ধাদের ত্যাগ কখনোই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রতিদিন ৫৬০ টন খাদ্য ঢুকছে গাজায়, তবে আরও প্রয়োজন

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছেহামাসইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৬০ টন খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে দুর্ভিক্ষ কবলিত অঞ্চলটির চাহিদার তুলনায় এটি অপ্রতুল।

জেনেভায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মুখপাত্র আবির এতেফা বলেন, আমাদের যা প্রয়োজন, তা এখনো কম। কিন্তু আমরা সেখানে পৌঁছাচ্ছি… যুদ্ধবিরতি সুযোগের একটি সংকীর্ণ জানালা খুলে দিয়েছে। খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধির জন্য আমরা খুব দ্রুত এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিচ্ছি।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল টম ফ্লেচার বলেছেন, গাজার কিছু অংশে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বিরাজমান থাকায় সংকট কমাতে এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার ত্রাণবহর প্রবেশ করতে হবে।

গাজায় বর্তমানে নয়টি বেকারি চালু রয়েছে। এখানে প্রতিদিন ১ লাখেরও বেশি রুটি বানানো হয়। প্রতিটির ওজন দুই কেজি। বেকারিগুলো গাজার মোট ২০ লাখেরও বেশি লোকের মধ্যে পাঁচ জনের একটি পরিবারের প্রতিদিনের খাবার সরবরাহ করে।

 




বাউফলে শিক্ষক আন্দোলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে চাঞ্চল্য!

পটুয়াখালীর বাউফলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনে নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদের নেতৃত্বে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সম্প্রতি তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখছেন এবং দাবি আদায়ের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় শিক্ষক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পতিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আ.স.ম. ফিরোজের সুপারিশে ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ‘অফিস সহকারী’ হিসেবে নিয়োগ পান নিয়াজ মোর্শেদ। তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তখন থেকেই নানা প্রশ্ন এবং সমালোচনা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।

একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, নিয়াজ মোর্শেদ তার দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তগুলোতে হস্তক্ষেপ করে আসছেন। বর্তমান শিক্ষক আন্দোলনেও তিনি সুযোগ খুঁজে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন বলে তাদের অভিযোগ।

একজন আন্দোলনকারী শিক্ষক বলেন, “আমরা আমাদের বৈধ দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনে নেমেছি। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, এখন আমাদের নেতৃত্বে রয়েছেন এমন একজন ব্যক্তি যার অতীত বিতর্কিত। এতে আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”

আরেক শিক্ষক জানান, “নিয়াজ মোর্শেদ ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে নেমেছেন। শিক্ষকদের ন্যায্য আন্দোলনকে তিনি নিজের প্রচারের মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছেন।”

এ বিষয়ে বাউফল ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজিরুল হক বলেন, “নিয়াজ মোর্শেদ যখন বক্তব্য দিয়েছেন, তখন আমি মাদ্রাসায় ছিলাম না। বিষয়টি জানার পর আমি শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নেব।”

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বাউফলজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, শিক্ষক আন্দোলনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তির নেতৃত্ব আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই সনদে শহীদ পরিবার রাস্তায় নামায় লজ্জার: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিনে শহীদ পরিবারগুলোকে রাস্তায় নামতে হওয়া দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাই জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ১০-এর সেনপাড়া পর্বতা ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি অন্যায় ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাই জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কষ্ট, তাদের পরিবারের বেদনা এবং মজলুমদের আর্তনাদ আমরা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝি।

তিনি আরও বলেন, “জামায়াত জুলাই আন্দোলনের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেয়নি।” বরং দলটি সব সময় দেশ, ইসলাম ও গণতন্ত্রের স্বার্থে কাজ করে আসছে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষই রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। তাদের অধিকার নিশ্চিত না করে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সবাইকে ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সমাবেশে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার জামায়াত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভূমিধস জয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সেতাউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

ভিপি পদে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন (আবীর) পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট।

জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাউদ্দিন আম্মার জয়ী হয়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৭ ভোট। এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের এস এম সালমান সাব্বির বিজয়ী হয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের জাহিন বিশ্বাস এষা পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫১ ভোট।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনজুড়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকলেও সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোট গণনা শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এবারের নির্বাচনে ২৩টি পদে ২৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পাশাপাশি ১৭টি হলে হল সংসদের ১৫ পদে মোট ৫৯৭ প্রার্থী এবং সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫ পদে ৫৮ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্র ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। নারী হলগুলোতে ভোট পড়ার হার ছিল ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাকসু কার্যক্রম নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পেল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আলিম পরীক্ষায় আবারও রোল মডেল ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা

মাদরাসা শিক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী এনএস কামিল (নেছারাবাদ) মাদরাসা। এবারের আলিম পরীক্ষায়ও দারুণ ফলাফল করে প্রতিষ্ঠানটি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালের আলিম পরীক্ষায় বিজ্ঞান ও সাধারণ বিভাগ মিলিয়ে মোট ২৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬২ জন পাস করেছে, যা পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সফল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০৭ জন জিপিএ-৫ এবং ১০৩ জন এ গ্রেড অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বলেন, “শিক্ষার্থীদের একাগ্র পরিশ্রম, শিক্ষক মণ্ডলীর নিবেদন এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ফলাফলে এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি ধরে রেখেছে। প্রতি বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সঙ্গে স্থান অর্জন করে আসছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫