বরিশালে আ.লীগের কান্ডারি হাসানাত আব্দুল্লাহ

 

এস এল টি তুহিন,বরিশাল (ক্রাইম রিপোর্টার): ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে শ্রমিক রাজনীতি, যুব রাজনীতির পর এখন তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য, দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি ছিলেন মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল কাল রাতে ঘাতকের নির্মম বুলেটের নিজের ছোট্ট শিশুপুত্র, বাবা, ভাই ও বোনসহ স্বজনদের হারিয়েছেন। সম্প্রতি সময়ে তিনি চিরদিনের জন্য হারিয়েছেন তার রাজনৈতিক প্রেরণার সবচেয়ে বড় উৎস শহীদ জননী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সহধর্মীনিকে।

এরপরেও নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তিনি সর্বদা হাসি মুখে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি উন্নয়নে রয়েছে তার অগ্রনী ভূমিকা। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। তাইতো দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে এখনও সম্মানের আসনে রয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালের আগে জগন্নাথ কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর হাতেখড়ি। পরে তিনি বরিশালের শ্রমিক রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। ১৯৭৩ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরিশাল পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। ১৯৭৪ সালে যুবলীগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি বরিশাল জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল কাল রাতে ঢাকার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ঘাতকের নির্মম বুলেটে শহীদ হন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাবা তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী (বঙ্গবন্ধুর বোন জামাতা) আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাই আরিফ সেরনিয়াবাত, বোন বেবী সেরনিয়াবাত, বড় পুত্র সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাত, চাচাতো ভাই সাংবাদিক শহীদ সেরনিয়াবাত। হামলার পূর্বে পরিবারের সবার অনুরোধে ঘাতকের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিজের জীবন বাঁচিয়েছিলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ১৫ আগস্টের হামলার পর আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। সেখানে (ভারত) চারবছর অবস্থানের পর ১৯৭৯ সালে দেশে ফিরে বরিশাল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি (হাসানাত) জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বরিশাল-১ আসন থেকে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ’৯২ সালের সম্মেলনে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ’৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি চীফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওইসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পার্বত্য শান্তি চুক্তি করেছেন। ’৯৮ সালে দলের সম্মেলনে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো বরিশাল-১ আসন থেকে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি নির্বাচিত হওয়ার পূর্বেই সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। পরবর্তীতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকাসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন গ্রাম হবে শহর। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়নের যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে-তা শতভাগ বাস্তবায়নে শক্ত স্তম্ভ হয়ে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদা) আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি। ফলশ্রুতিতে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি প্রত্যন্ত জনপদের রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, ধর্মীয় উপসানালয়সহ গ্রামীণ জনজীবনে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। এ কারণেই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে বলা হয় বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের একমাত্র রূপকার।

বঙ্গবন্ধুর ছোট বোন আমেনা বেগমের জেষ্ঠ পুত্র আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তার পুরো অবয়বে খুঁজে পাওয়া যায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি। এমনকি মামার (বঙ্গবন্ধু) ন্যায় সকাল, দুপুর আর রাত নেই, যে যখন যেই কাজ নিয়ে তার (হাসানাত) কাছে আসুক না কেন, তিনি সর্বদা চেষ্টা করেন সকলের উপকারের জন্য। তাইতো আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে সাধারণ জনগন গরীবের বন্ধু বলে আখ্যায়িত করেছেন। তেমনি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বলেন, তাদের একমাত্র অভিভাবক ও আশ্রয়স্থল হচ্ছে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

১১৯ বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য এবং পূর্ণমন্ত্রী পদমর্যাদায় থাকা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চীফ হুইপ নির্বাচিত হয়ে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়নের রূপকার হিসেবে আর্বিভূত হন। বরিশাল সিটি করপোরেশন, বিভাগ, শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠা, শেখ হাসিনা সেনানিবাস (ক্যান্টনমেন্ট), দোয়ারিকা, শিকারপুর, দপদপিয়া ও পয়সারহাট সেতু নির্মাণ, বিভাগীয় বেবী হোম, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নার্সিং কলেজসহ অসংখ্য উন্নয়নে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি (আবুল হাসানাত) তার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি দান করেছেন।




‘আপনাকে দেখে খুব খুশি হয়েছি’, কিমকে বললেন পুতিন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার সূদুর পূর্বাঞ্চলের আমুরে অবস্থিত ভোসতোচনি রকেট ও মহাকাশ কেন্দ্রে এই দুই নেতা বৈঠকে মিলিত হন।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি নিউজ।

কিমকে মহাকাশ কেন্দ্রের ভেতর নিয়ে যেতে বাইরে বের হয়ে আসেন পুতিন নিজে। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ওই সময় কিমকে পুতিন বলেন, ‘আপনাকে দেখে খুব খুশি হয়েছি। ভ্রমণ কেমন ছিল?’

এর জবাবে উত্তর কোরিয়ান নেতা পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ‘খুবই উষ্ণ অভ্যর্থনার’ জন্য পুতিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, ‘কাজে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও আমাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ।’

এদিকে প্রায় দুই দিন ট্রেনে চড়ে উত্তর কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় এসে পৌঁছান কিম জং উন। রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনের মুখমাত্র দিমিত্রি পেসকোভ দুই নেতার বৈঠক সম্পর্কে বলেছিলেন, তাদের মধ্যে ‘খুবই স্পর্শকাতর’ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া আলোচনায় থাকবে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ও।

এদিকে পুতিন এবং কিমের এ বৈঠকটি একটি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক বৈঠক হিসেবে বলা হলেও, পশ্চিমারা দাবি করছে, মস্কোর সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি করতে রাশিয়ায় গেছেন কিম।

পুতিনের-কিমের এই সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টা আগে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। ক্ষেপণাস্ত্রটি সমুদ্রে আছড়ে পড়ে।




আজ শেখ রেহানার ৬৯তম জন্মদিন

চন্দ্রদীপ রিপোর্ট : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ছোট মেয়ে শেখ রেহানার ৬৯তম জন্মদিন আজ।

তিনি ১৯৫৫ সালের এই দিনে (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে তাঁর দুই কন্যা ছাড়া বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবারকে কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য নির্মমভাবে হত্যা করে, সেসময় শেখ রেহানা তার বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনিও পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বারা ধানমন্ডিতে গৃহবন্দী ছিলেন।
শেখ রেহানা যিনি ‘ছোটো আপা’ নামে পরিচিত, তার পিতা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে একটি সাধারণ জীবনধারা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন।
তিনি প্রফেসর ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিককে বিয়ে করেন এবং তাদের তিন সন্তান, তাদের মধ্যে এক ছেলে ও দুই মেয়ে।

তাদের ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত এবং আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর ট্রাস্টি, মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টের লেবার পার্টির এমপি এবং কনিষ্ঠ মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তি লন্ডন ভিত্তিক কন্ট্রোল রিস্কস-এর গ্লোবাল রিস্কস এনালিসিস এডিটর হিসেবে কাজ করছেন।
শেখ রেহানা ১৯৭৯ সালে তার ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিরুদ্ধে বিচারের জন্য প্রথম বিশ্বব্যাপী আহ্বান জানানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।

তিনি ১৯৭৯ সালে সুইডেনের স্টকহোমে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু এবং ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে নিহত জাতীয় চার নেতার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রথম বিচারের আন্তর্জাতিক আহ্বান উত্থাপন করেন।
তিনি স্টকহোমে ১৯৭৯ সালের ১০ মে ইউরোপীয় দেশসমূহের প্রধান, জাতিসংঘ প্রধান এবং আন্তর্জাতিক এনজিও’র উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে একটি সর্ব-ইউরোপীয় বাকশাল সম্মেলনে বক্তৃতার মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সেসময় শেখ হাসিনা দিল্লিতে ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর তৎকালীন সামরিক সমর্থিত বাংলাদেশ সরকারের ওপর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টির জন্য আওয়াজ তুলতে ইউরোপে থাকা তার ছোট বোনকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন।

সেই আবেগঘন ভাষণের মধ্য দিয়ে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের ওপর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টির জন্য তার কণ্ঠস্বর উত্থাপিত হওয়ায়- সেই ঘটনা ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।




বাইডেনের সঙ্গে শেখ হাসিনার আলাপে নির্বাচন প্রসঙ্গ ছিল না

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ ডেক্স:  জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাপে নির্বাচন প্রসঙ্গ ছিল না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা জানান।

দিল্লিতে হাসিনা-বাইডেনের আলাচনার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, খুব ভালো, ভালো কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি বাবা-মা, ভাইদের হারিয়েছি, পরিবারের লোকদের হারিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণই আমার পরিবার। তাদের মুখে দু’বেলা ভাত, জীবন মানের উন্নয়নের জন্য আমি কাজ করছি।

তিনি বলেন, আমার বিরাট পরিবার, ১৭০ মিলিয়নের পরিবার। এদের আমি সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে দিতে চাই। আমাদের স্বপ্ন একটা সুন্দর বাংলাদেশ। আমার একটাই জীবনের কাম্য, আমার দেশবাসীর মঙ্গল করা।

সরকারপ্রধানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কী বলেছেন, জানতে চাইলে মোমেন বলেন, তিনি বলেছেন, আমি জানি।

নির্বাচন নিয়ে কোনো আলাপ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওগুলো নিয়ে আলাপ হয়নি।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, আমরা কখনও চাপের মুখে ছিলাম না। আমরা চাপের মধ্যে নাই। আমরা আগামী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুতরাং আমরা কোনো চাপের মধ্যে নেই। আপনারা (গণমাধ্যম) বরং চাপের মধ্যে আছেন। আপনারা (গণমাধ্যম) আমাদের চাপের মধ্যে ফেলতে চান।




ব্যক্তিগত ট্রেনে রাশিয়া পৌঁছালেন উত্তর কোরীয় নেতা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়ায় পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাপানি মিডিয়া এই তথ্য জানিয়েছে। ক্রেমলিন বলেছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে (কিমের বৈঠকে) পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিশদ আলোচনা হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এই দুই দেশের অস্ত্র চুক্তিতে একমত হওয়া উচিত নয়। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম জং উন গত রোববার তার ব্যক্তিগত ট্রেনে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে পিয়ংইয়ং ত্যাগ করেন বলে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মঙ্গলবার জানিয়েছে। কিমের এই সফরে অস্ত্র শিল্প ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীও রয়েছেন।

জাপানের কিয়োডো নিউজ এজেন্সি মঙ্গলবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাশিয়ান সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কিমকে বহনকারী ট্রেনটি উত্তর কোরিয়া থেকে রাশিয়ার সুদূর পূর্বের প্রধান রেল গেটওয়ে খাসান স্টেশনে পৌঁছেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, কিম জং উন মঙ্গলবার ভোরে রাশিয়ায় প্রবেশ করেছেন বলে তারা বিশ্বাস করেন।

রাশিয়ার বার্তাসংস্থা তাস জানিয়েছে, পুতিন সোমবার ভ্লাদিভোস্তক শহরে পৌঁছেছেন। সেখানে চলমান ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

পেসকভ বলেছেন, কিমের সাথে পুতিনের বৈঠক ফোরামের পরে অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে বৈঠকের পর এই দুই নেতার সংবাদ সম্মেলনের কোনও পরিকল্পনা নেই বলে একাধিক রুশ বার্তাসংস্থা জানিয়েছে। অবশ্য বৈঠকের স্থান বা কিম অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে যোগ দেবেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইউক্রেনে ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধে রাশিয়া তার মজুত অস্ত্রের বিশাল অংশ ব্যয় করে ফেলেছে এবং অস্ত্রের পর্যাপ্ত সরবরাহ ঠিক রাখতে মস্কো উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র নিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছ।

এছাড়া রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার সাম্প্রতিক যেসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাতে ওয়াশিংটন এবং তার মিত্ররা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তবে পেসকভ বলেছেন, রাশিয়ার জাতীয় স্বার্থ নির্ধারিত হয় মস্কোর নীতির মাধ্যমে। তার ভাষায়, ‘উত্তর কোরিয়াসহ প্রতিবেশীদের সাথে আমাদের সম্পর্ক বাস্তবায়নের সময় দুই দেশের স্বার্থ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, ওয়াশিংটনের সতর্কতা নয়।’

উল্লেখ্য, রাশিয়ার কাছে অস্ত্র বিক্রি করলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘আক্রমণাত্মকভাবে’ কার্যকর করার হুমকিও দিয়েছে দেশটি।

রয়টার্স জানিয়েছে, কিম ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণ করেন না। নিজের ১২ বছরের ক্ষমতায় কিম তার দেশ থেকে মাত্র সাতবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন এবং দুইবার আন্তঃকোরিয়ান সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। এর মধ্যে চারটি সফর ছিল উত্তর কোরিয়ার প্রধান রাজনৈতিক মিত্র চীনে।




কর ফাঁকির মামলায় খালাস নোবেলজয়ী মারিয়া রেসা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ফিলিপাইনে শান্তিতে নোবেলজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসাকে কর ফাঁকির মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন দেশটির আদালত। একই মামলায় মঙ্গলবার তার প্রতিষ্ঠান র‌্যাপলারকেও খালাস দেওয়া হয়েছে। রেসার মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়াকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

মামলার রায় ঘোষণার পর রেসা বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তে তিনি ‘স্বস্তি’ বোধ করছেন।’

মারিয়া রেসা ২০২১ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি তার সংবাদ প্রতিষ্ঠান র‍্যাপলারের মাধ্যমে ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের কড়া সমালোচনা করতেন। বিশেষ করে দুতের্তে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার যে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন মারিয়া রেসা ছিলেন তার ঘোর বিরোধী।

এদিকে, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন-তিনি রেসা এবং র‍্যাপলারের বিরুদ্ধে আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন না।




পিরোজপুরে ছাত্রলীগের উপর হামলা : সাধারন সম্পাদকসহ আহত-৫

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): পিরোজপুরে জেলা ছাত্রলীগের ২ নেতাসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজলের প্রাইভেটকার ও ৫টি মোটর সাইকেল ভাংচূর করা হয়েছে।

সোমবার রাতে শহরের বলেশ্বর ব্রীজ এলাকার টোল প্লাজার নিচে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রকি, জেলা ছাত্রলীগ সদস্য মোঃ তামিম , সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসা, মোঃ কাফী, পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি লিওন আল জাবির। আহত ব্যাক্তিদের জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুই জনকে বরিশাল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজল জানান, চা খেয়ে ফেরার পথে আমাদের উপরে পরিকল্পিত ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে হামলাকারীরা এ হামলা চালিয়েছে। এ সময় ৩০-৩৫ জন দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র, দা ও চাপাটি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে, কুপিয়ে আমার নেতাকর্মীদের গুরুতর জখম করে। দুর্বৃত্তরা আমার প্রাইভেটকার ও ৫টি মোটর সাইকেল ভাংচূর করেছে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন এ ব্যাপারে জানান, ঘটনা শুনেই তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনা স্থলে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।




বাংলাদেশ-ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে : প্রধানমন্ত্রী

চন্দ্রদীপ নিউজ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার পিতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে যে বন্ধুত্বপূর্ণ বন্ধনের সূচনা করেছিলেন তা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।’

শেখ হাসিনা তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘আজ ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ঐতিহাসিক দিন যা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিকশিত হচ্ছে।’

এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আজ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক সমগ্র বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সার্বভৌম নীতি, স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন প্রকাশ করেছে, বিশেষকরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে।

তিনি বলেন, ‘আমরা উভয়েই আশা করি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে এই নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকে বাংলাদেশে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, উন্নয়ন ও সুশাসনের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন সম্পর্কের ভীত রচিত হয়।

তিনি আরও বলেন: ‘ফ্রান্স সরকার জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কর্মকা-ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।’
সরকার প্রধান আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির দর্শনীয় ও ধারাবাহিক অগ্রগতিতে ফরাসি সরকারের আস্থা ও প্রশংসা ব্যক্ত হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিএসপি প্লাস প্রকল্পের অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য সুবিধা বাংলাদেশের জন্য অব্যাহত রেখে ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রৃুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স।

তিনি বলেন, ‘তাই বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে আমি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর নেতৃত্বে ফ্রান্স সরকার ও ফ্রান্সের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
বৈঠকে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতির লক্ষে তারা বিশদ আলোচনা করেছেন এবং ‘আমরা কিছু ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।’
বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে শেখ হাসিনা বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নে ফ্রান্স আমাদের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশের কৌশলগত নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণে উন্নত ও বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে আগ্রহ দেখিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতৃস্থানীয় এবং দায়িত্বশীল আবাসিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে ।
সরকার প্রধান উল্লেখ করেন, ‘আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় ফ্রান্সের নেতৃত্বকে স্বাগত জানাই এবং একটি টেকসই তহবিল গঠনের জন্য প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর আহ্বানের প্রশংসা করি।’
এছাড়া বৈঠকে শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বিনিময় নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।
বৈঠকের শুরুতেই শেখ হাসিনা প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ এবং তাঁর প্রতিনিধিদলের সম্মানিত সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে ফ্রান্সের সরকার ও ফ্রান্সের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানান এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আরও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

এরআগে, সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ফরাসি প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে শেখ হাসিনা টাইগার গেটে ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।
পরে দুই নেতা একান্ত বৈঠকেও মিলিত হন।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে শেখ হাসিনা ও ইমানুয়েল ম্যাখোঁ একটি ফটো সেশনেও অংশ নেন।
দুই নেতার উপস্থিতিতে দুটি চুক্তিও সই হয়।
ভারতের নয়া দিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান শেষে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রোববার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছেন ম্যাখোঁ।

এটি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর প্রথম বাংলাদেশ সফর। এরআগে প্রথম ফরাসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁ ১৯৯০ সালের ২০-২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সফর করেন।




প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স:   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছেছেন ঢাকা সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১০টায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রবেশ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান।

সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সফরের দ্বিতীয় দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন ম্যাক্রোঁ। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে দুদেশের মধ্যে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, স্যাটেলাইট ও উড়োজাহাজের বিষয়ে এয়ারবাসের সঙ্গে দুটি এবং স্থানীয় সরকার প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য একটি সম্মতিপত্র সই হবে। অস্ত্র ও উড়োজাহাজ কেনা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যুতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়তা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ রোহিঙ্গা সংকটের মত ইস্যুও দুই শীর্ষ নেতার আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।

এর আগে সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এসময় জাতির পিতার ছোট কন্যা শেখ রেহানা এবং তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রতিস্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। পরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন এবং জাদুঘরে সংরক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে সই করেন তিনি।

ভারতে জি-২০ সম্মেলনে যোগদান শেষে দুদিনের সফরে রোববার রাত আটটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান। এসময় ম্যাক্রোঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পৌঁছান তিনি।

রাতে ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নৈশভোজ শুরুর আগে চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পরে ম্যাক্রোঁ দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘জলের গান’র শিল্পী ও সংগীত পরিচালক রাহুল আনন্দের হোম স্টুডিও পরিদর্শন করেন।




বাইডেনের সাথে সেলফি দেখে বিএনপির চোখ-মুখ শুকিয়ে গেছে : কাদের

চন্দ্রদীপ নিউজ: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভারতের নয়াদিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সেলফি তোলা দেখে বিএনপির ঘুম হারাম হয়েগেছে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির লাফালাফি বন্ধ হয়ে গেছে। দেখতে দেখতে ১৫ বছর কেটে গেছে; আমেরিকার দিকে তাকিয়ে ছিলো তারা। একটা সেলফি দেখেই চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে তাদের। রাতের ঘুম শেষ হয়ে গেল। এখনকে নিষেধাজ্ঞা দিবে? ওসব ভয় পায় না আওয়ামী লীগ।’

ওবায়দুল কাদের আজ রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে দেশব্যাপী প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণের শক্তিতে আগামী নির্বাচন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। জনগণের ভালোবাসা আওয়ামী লীগের একমাত্র পুঁজি। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী দল নয়। সত্যের পক্ষে জনগণের পক্ষে যে কোনো সময় সুদৃঢ় অবস্থা এই দলের।

মনোনয়ন বাণিজ্যের জন্য বিএনপি তলে তলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন,টেমস নদীর তীরে বসে মনোনয়ন বাণিজ্য করছেন বিএনপির নেতা। তলেতলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করে না।

তিনি বলেন, ড. ইউনূসের ১৬০ জনের স্টেটমেন্ট কিনতে ২ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এতো টাকা কোথায় পেলেন? যে মানুষ শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ আসে না। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু, মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় চার নেতার বিষয়ে কথা বলে নাই।সে আপনকেন হবে? দেশেরকোনো দুর্যোগে তাকে পাওয়া যায় না। তাকে কেন আমরা ভালোবাসবো? তার জন্য বিএনপির এতো মায়া কান্না কেন?

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ভেবেছে ১/১১ এর মতো একটা সুশীল সরকার আসবে। তা আর হবে না। জনগণ কাকে ভোট দেবে ঠিক করে ফেলেছে। জরিপে ৭০শতাংশ লোক শেখ হাসিনাকে ভোট দেবে। নেতিবাচক রাজনীতির জন্য জনগণ বিএনপিকে না করে দিয়েছে। আগামী নির্বাচন বলে দেবে কে ক্ষমতার মঞ্চে থাকবে। বুঝতে পারলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেন। ফাইনাল খেলা হবে নির্বাচনের মাঠে।

যুবলীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ এবং নবায়ন কার্যক্রম রাজনীতিতে যুবলীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে বেশ ভালো কাজ। এখানে যারা আসে তারা সারাজীবন যুবলীগ করবে না। খারাপ যুবক আমাদের প্রয়োজন নেই। খারাপ ২০ জনের চেয়ে ভালো দুইজন অনেক ভালো। খারাপরা নিজের অর্জনকে বির্সজন দেয়। খারাপ আচারণের জন্য আমাদেরকে মানুষের কাছে ছোট করে। আমরা জনগণের দল, জনগণের সঙ্গে আছি, জনগণকে ভালোবাসি… আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক দল নয়।
যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। পরে দেশব্যাপী যুবলীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের।