উজিরপুরে যুবলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ৫

বরিশাল অফিস: তুচ্ছ ঘটনায় উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়ন যুবলীগের দু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার রাত দশটার দিকে শোলকের সেনের হাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন শোলক ইউনিয়ন যুব লীগের সভাপতি শাকিল মোল্লার সাথে ওই ইউনিয়ন যুবলীগের সম্পাদক মনির হোসেনের সাথে তর্ক বির্তকের ঘটনায় দ’ুগ্রুপের কর্মীরা সংঘাতে জড়িয়ে পরেন। এ সময় শাকিল মোল্লা , মনির হোসেন, নাঈম ,জুয়েল সরদার ,রুবায়েদ হোসেনসহ ৫ যুবলীগ নেতাকর্মী আহত হয়।

যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে উজিরপুর মডেল থানার উপ পরিদর্শক, রাজীব দাস সিনেট ও মেহেদী হাসান ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। দু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে গুরুতর আহত শোলক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাকিল মোল্লাকে শেবাচিম হাসপাতালে ও অন্যরা উজিরপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি তদন্ত মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানান, বিষয়টি শুনেছি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে । লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আরও স্যাংশনস দেবে, দিতে পারে, এটা তাদের ইচ্ছা

ভয়েস অব আমেরিকার শতরূপা বড়ুয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন এসব কথা।

শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভয়েস অব আমেরিকার (বাংলা) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এ সাক্ষাৎকার।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে শতরূপা বড়ুয়া প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে অবাধ-সুষ্ঠু-নির্বাচন, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে নিয়মিত তাগিদ দিয়ে আসছিল। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসানীতি কার্যকরে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। ২০২১ সালে র‌্যাবের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল তা এখনো বহাল আছে। এ ইস্যুগুলো অ্যাড্রেস করাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা নিয়ে আপনারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার এটাই প্রশ্ন যে হঠাৎ কথা নেই, বার্তা নেই তারা আমাদের ওপর ভিসা স্যাংশনস দিতে চাচ্ছে কী কারণে? মানবাধিকারের কথা যদি বলেন বা ভোটের অধিকারের কথা যদি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ, আমরাই তো এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করেছি। আমাদের কত মানুষ রক্ত দিয়েছে এই ভোটের অধিকার আদায় করার জন্য। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে হয়, সেজন্য যত রকম সংস্কার দরকার, সেটা আমরাই তো করেছি। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ছবিসহ ভোটারতালিকা, মানুষকে ভোটের অধিকার নিয়ে সচেতন করার কাজ-তো আমরাই করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ভোট আমি দেবো-যাকে খুশি তাকে দেবো, এ স্লোগান তো আমারই দেওয়া। আমি এভাবে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছি। … সেক্ষেত্রে হঠাৎ এ ধরনের একটা স্যাংশনস দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না।

র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তিনি বলেন, আমার কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, র‌্যাব হোক, পুলিশ হোক বা যেটাই হোক, কেউ যদি কোনো রকম অন্যায় করে আামদের দেশে কিন্তু তার বিচার হয়। এ বিচারে কেউ কিন্তু রেহাই পায় না। অনেক সময় কোনো কাজ তারা অতিরিক্ত করে, করলে সেটা আমাদের দেশের আইনেই কিন্তু বিচার হচ্ছে। যেখানে এরকম বিচার হচ্ছে, সেখানে এ স্যাংশন কী কারণে?

ওই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হবে এটা আমাদেরই দাবি ছিল। আন্দোলন করে আমরাই সেটা প্রতিষ্ঠিত করেছি। আজকে এখন তারা স্যাংশনস দিচ্ছে, আরও স্যাংশনস দেবে। দিতে পারে। এটা তাদের ইচ্ছা। আমাদের দেশের মানুষের যে অধিকার, সব মৌলিক অধিকারগুলো আমরা নিশ্চিত করেছি। মানুষের সব রকমের মৌলিক অধিকার আমরাই নিশ্চিত করেছি। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল, বাংলাদেশ কিন্তু বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের নানান রকম উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে এভাবে স্যাংশনস দিয়ে একটা মানুষকে ভয়ভীতি দেওয়া… ঠিক আছে। আমেরিকা যদি স্যাংশনস দেয়, আমেরিকায় আসতে পারবে না, আসবে না। না আসলে কী আসে যাবে … আমরা দেখি কী করে তারা। কেন তাদের এ স্যাংশনস, জানি না।




বরিশালে ওয়াকার্স পার্টির লাল পতাকার বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস: বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মার্কিনীদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করাসহ বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ব্যবসায়ীদের সেন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ার দাবীতে লাল পতাকার সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি, বরিশাল জেলা কমিটি।

আজ শনিবার (৩০) সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় নগরীর প্রাণ কেন্দ্র সদররোডে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়াকার্স পার্টি বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নিলুর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক এ্যাড. শেখ মোঃ টিপুু সুলতান, জেলা কমিটির সম্পাদক মন্ডলির সদস্য মোজাম্মেল হক ফিরোজ, শাহিন হোসেন, এম.এ গফুর মোল্লা,এইচ,এম হারুন, সাবেক ছাত্র নেতা শাহরুখ শামীম তমাল প্রমুখ।

এসময় বিক্ষোভ সমাবেশে সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাড. শেখ মোঃ টিপু সুলতান বলেন, আমাদের আমেরিকার স্যাংশনে কিছু আসে যায় না। আমার দেশ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন করা হয়েছে। আমরা একটি সন্ত্রাস মুক্ত দেশ গড়তে চাই, আমার একটি অসাম্প্রাদিক সোনার বাংলা গড়ে তুলব। একই সময় তিনি দেশের বাজার দর নিয়ন্ত্রন করতে ব্যার্থ হওয়ার জন্য বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মন্সির পদত্যাগ দাবী জানান।

পরে একটি লাল পতাকার মিছিল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ফকিরবাড়ি রোডস্থ জেলা কমিটির কার্যলয় এসে শেষ হয়।




কেশবপুর ইউনিয়নে মামলা জটিলতায় প্যানেল চেয়ারম্যান স্থগিত: কার্যক্রমে স্থবিরতা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে পরিষদের কার্যক্রম। এতে  চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। ইউএনও কার্যালয়ে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন করা হলেও মামলা জটিলতায় তা স্থাগিত হওয়ায় এমন ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, গত ১৪ আগস্ট ইউপি চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন পিকু হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। তার মারা যাওয়ার দুই মাসেও শূন্য পদে কাউকে দায়িত্ব না দেয়ায় জনগণ চরম দুভোর্গে পড়েছেন। জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যু সনদ, ডিজিটাল পরিষেবা কার্যক্রম,  সরকারে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি ও ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারন মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।

ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর ইউপি কার্যক্রম সচল করতে গত ২৯ আগস্ট ইউএনও কার্যালয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন হয়। সকল ইউপি সদস্যদের ভোটাভুটিতে ৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান গাজী প্যানেল চেয়ারম্যান-১, ১নং ইউপি সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম প্যানেল চেয়ারম্যান-২ ও ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শিরিন আক্তার প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ নির্বাচিত হয়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমীন প্রধান তার অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। ইউপির কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। তবে ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জেলা জজ আদালতে ওই প্যানেল স্থগিতের আবেদন করেন। আদালত ওই প্যানেল অস্থায়ী স্থগিত করেন। এতে ইউপির কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন মাস্টার বলেন, ছেলের স্কুলে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। প্যানেল চেয়ারম্যান না থাকায় তা উত্তোলন করতে পারছি না।

আরেক বাসিন্দা ও ভরিপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. আতিক ফয়সাল জানান, ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ইউনিয়ন পরিষদের সেবা বঞ্চিত। থেমে আছে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্প। এটা অতিদ্রুত নিরসন করা দরকার।

ইউপি সদস্য  মো. শাহজাহান গাজী বলেন, সকল সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে আমি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। দায়িত্বভার গ্রহণ করে পরিষদের থেকে থাকা কার্যক্রম সচল করি। তবে এক ইউপি সদস্য জালিয়াতি করে নিজেকে প্যানেল চেয়ারম্যান দাবি করে আদালতে মামলা করেন। যিনি মামলা করেছেন তিনিও উপস্থিত থেকে ভোটাভুটিতে অংশ নেন। তার পরেও এমন ঘটনা দুঃখজনক।

এ বিষয়ে জানতে আদালতে অভিযোগকারী ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী বলেন, ভোটাভুটির মাধ্যমে প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন করা হয়। যা স্থানীয় সরকার বিভাগ অনুমোদনও দিয়েছে। তবে এক ইউপি সদস্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত প্যানেল চেয়ারম্যানের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। এ আইনি জটিলতা নিরাসনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।




ভিসানীতিসহ সব অসম্মানের জন্য দায়ী বিএনপি: হানিফ

শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।

হানিফ বলেন, লবিস্ট নিয়োগ করে বিএনপি র‌্যাবের ওপর স্যাংশনস দেওয়ার জন্য কাজ করেছিল। ভিসানীতিসহ বাংলাদেশের সব অসম্মানের জন্য বিএনপি দায়ী। এমনকি বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

তিনি বিএনপি মহাসচিব মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভিসানীতি সম্পর্কে বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ফখরুল সাহেব বললেন মার্কিন ভিসানীতির কারণে বাংলাদেশের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরাও সেটা বলেছি। একটা স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের জন্য ভিসানীতি অসম্মানজনক। কিন্তু তিনি কি ভুলে গেছেন, তাদের নেতা খালেদা জিয়া ২০১২ সালে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চিঠি লিখেছিলেন।

হানিফ বলেন, ৭৫-এর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ঘাতকেরা মনে করেছিল স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে নিশ্চিত করতে পারবে। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে শেখ হাসিনার জন্য। তিনি ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার রক্ষার লড়াই শুরু করেন। সেজন্য বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল।

নির্বাচনে বাধা দিতে এলে বিএনপি-জামায়াতকে রাজপথে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই নেতা বলেন, আমরা লড়াই-সংগ্রাম করে আজ এ পর্যন্ত এসেছি। ভিসানীতি নিয়ে আওয়ামী লীগ কোনো পরোয়া করে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই নির্বাচন যদি কেউ বাধাগ্রস্ত করতে আসে, তাদের আমরা রাজপথে প্রতিহত করবো। আমরা শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে আপসহীন।

সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি।

এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।




তদন্ত কর্মকর্তার সামনে পিস্তল বের করে হুমকি বিএনপি নেতার, জমি নিয়ে বিরোধ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার মির্জাগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে পিস্তল বের করে একটি পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় গত ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর হালিম হাওলাদারের ভাগিনা ওয়াদুদ সিকদার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-এমপি ২১৬/২০২২)।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি সপ্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদ হাসানকে নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা নাহিদ হাসান গত ২৬ সেপ্টেম্বর তদন্তের দিন ধার্য করেন ও বিকাল ৪টায় লেমুয়া এলাকার চন্দ্রকান্দা সিনিয়র মাদ্রাসা মাঠে তদন্তের জন্য সব কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেন ।

তদন্ত কর্মকর্তা কাগজ পত্র পর্যালোচনা করার সময় মামলার বাদীর মামা বিএনপি নেতা হালিম হাওলাদার অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করেন এবং তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর খলিফা জানান, জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আমার পরিবারের লোকজনকে মেরে ফেলতে পিস্তল বের করে হুমকি দেন এবং পায়ে গুলি করার কথা বলেন হালিম হাওলাদার। এ ঘটনার পর আমাদের পরিবারসহ এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা এর বিচার চাই। আমাদের গ্রামের মানুষ কেউ এর থেকে নিরাপদ না। তাই প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চাচ্ছি।

অভিযুক্ত হালিম হাওলাদারের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, তিনি ফোন রিসিভ করে কথা না বলে লাইন কেটে দেন।

দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান খান বলেন, প্রকাশ্যে অস্ত্র বের করে হুমকি দিয়ে সে আইন লঙ্ঘন করেছে। হালিম হাওলাদারের অস্ত্র জব্দ করে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার এনে বিচার এর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে তদন্তকারি কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদ হাসান বলেন, তদন্ত চলাকালীন দুই পক্ষের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাদী পক্ষের মামা হালিম হাওলাদার পিস্তল দেখিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দেন।

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে জিডি হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




কাউখালীতে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর মতবিনিময়

 

বরিশাল অফিস: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বুধবার রাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ (কাউখালী-ভান্ডারিয়া-নেছারাবাদ) আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রশাসক মহিউদ্দিন মহারাজ কাউখালীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুস শহীদ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাবু সুনীল কুন্ডু ও সাংগঠনিক সম্পাদক সম্পাদক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন। মনোনয়ন প্রত্যাশী মহিউদ্দিন মহারাজ বলেন, আমি বিশ্বাস করি আগামী নির্বাচনে এই আসনে কোন জোট না আওয়ামী লীগ থেকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন এ অঞ্চলের মাটি ও মানুষের সাথে কাজ করেছি তাই আমি আশাবাদী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকা মার্কায় মনোনয়ন দিবেন।  জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় পিরোজপুর জেলায় এমন কোন ওয়ার্ড বাদ নেই যেখানে আমি প্রকল্প দেই নাই। আপনারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গেলে দেখবেন সে প্রকল্পগুলো দৃশ্যমান বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 




কালাপড়া উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন ঘিরে নেতা-কর্মীরা চাঙ্গা

পটুয়াখালী অফিস: জেলার কলাপাড়া উপজেলায় যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে পুরো শহর ছেয়ে গেছে রঙিন ব্যানার, প্ল্যাকার্ডে, ফেষ্টুন বিলবোর্ড এ । দীর্ঘ ১০ বছর পর যুবলীগের সম্মেলন উপলক্ষে চাঙ্গা হয়ে উঠতে শুরু করেছে নেতা কর্মীরা।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক মূল দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পদ লাভের পর দীর্ঘ দিনেও নতুন নেতৃত্ব আসেনি সংগঠনটিতে। এতে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে সংগঠনটি।

অবশেষে দীর্ঘ বছর পর চলতি বছরের ২৮ জুলাই সম্মেলনের তারিখ ঘোষনা করা হলেও তা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর সম্মেলনের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ নির্ধারন করা হলেও পরে তা পিছিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে যানা যায়, গত ১০ বছরেও যুবলীগের উপজেলা কিংবা তৃণমূলের কমিটি না হওয়ায় অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে সংগঠনটি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলে কেন্দ্রিয় নির্দেশনায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠতে শুরু করেছে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। সভাপতি, সম্পাদক পদ লাভে জেলা থেকে কেন্দ্রে দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছে পদ প্রত্যাশীরা। শহর ছেয়ে গেছে পদ প্রত্যাশীদের রঙিন ব্যানার, ফেষ্টুন, বিলবোর্ড, প্ল্যাকার্ডে। তবে তৃণমূলের দাবী, দূর্দিনের পরিশ্রমী, দক্ষ,ত্যাগী নেতা-কর্মীকে পদ দেয়া হোক। কোন হাইব্রিড যেনো স্থান না পায়।

আরও জানা যায়, যুবলীগের সভাপতি পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন মো: হুমায়ুন কবির, মো: শহিদুল ইসলাম, মো: জিয়াউর রহমান, মোঃ মাহমুদুল হাসান সুজন মোল্লা, মো: নাসির উদ্দিন সোহাগ, সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু, মোঃ জাকি হোসেন জুকু, সৈয়দ জাকির হোসেন প্রমূখ।

উপজেলা যুবলীগ সাধারন সম্পাদক এ্যাড. সাইদুর রহমান বলেন, আমরা যুবলীগের এ সন্মেলনটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি এবং সুন্দর ভাবেই সম্পন্ন হবে। এ কমিটিতে দক্ষ ও ত্যাগিরাই স্হান পাবে।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মো: শফিকুল আলম বাবুল বলেন, ‘উপজেলা যুবলীগ নিষ্ক্রিয় বলে যারা মন্তব্য করে তারা হাইব্রীড।

পটুয়াখালী জেলা যুবলীগের সভাপতি এ্যাড, মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ’আমরা উপজেলা সম্মেলনের পর কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তরে পদ প্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত জমা দেব। বাংলাদেশ যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সম্পাদক মহোদয়ের সমন্বয়ে যাচাই বাছাই শেষে উপজেলা কমিটি অনুমোদন দেয়া হবে।




গলাচিপায় দুস্থদের মাঝে ঢেউটিন এবং গৃহ মেরামতের চেক বিতরণ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার দেশের গরীব অসহায় মানুষের কল্যাণে নিরলস পরিশ্রম করায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে সমাদৃত।

পটুয়াখালীর গলাচিপায় দুস্থদের মাঝে ঢেউটিন এবং গৃহ মেরামতের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এস, এম, শাহজাদা এ কথা বলেন।

এসময় তিনি গলাচিপা উপজেলার চল্লিশটি অসহায় পরিবারদের মাঝে (৮০) বান ঢেউটিন এবং প্রত্যেক পরিবারকে ৬ হাজার টাকা গৃহ মেরামত বাবদ ২ লক্ষ ৪০ হাজার নগদ অর্থের চেক বিতরণ  করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন আল হেলাল এর সভাপতিত্বে চেক ও ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান জননেতা মোঃ শাহিন শাহ। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোঃ জহিরুন্নবী, কৃষি অফিসার আরজু আকতার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাছিম রেজা, পি আই ও খোকন চন্দ্র দাস, মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন শানু ঢালী, প্রেসক্লাব সভাপতি মু. খালিদ হোসেন মিলটন, আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বাবুল ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক তপন বিশ্বাস, মোঃ কাওসার তালুকদার, মোফাজ্জেল হোসেন মাসুদ ও ফিরোজ আলম, কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি কমিটির সভাপতি বাবু দিলীপ কুমার বনিক ও বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার দত্ত প্রমুখ।

উল্লেখ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা থেকে এমপির বরাদ্দকৃত এই সহায়তা প্রদান করা হয়।




আমতলীতে গোলাম সরোয়ার টুকু গনসংযোগ ও পথসভা

 

বরিশাল অফিস : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ সংসদীয় আসনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু আমতলী পৌরশহরে গনসংযোগ শেষে এক পথসভা করেছেন।

আজ সকাল ১০টায় আমতলী ফেরীঘাট থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমর্থকদের বিশাল বহর নিয়ে শুরু হওয়া গণসংযোগ পৌরশহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বেলা ১১টায় বাধঘাট চৌরাস্তায় তিনি এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন। বাংলাদের মহান স্থাপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তিনি বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম আলহাজ¦ এবিএম আসমত আলী আকন, আমতলীর উপজেলার সাবেক সাংসদ নিজাম উদ্দিন আহমেদ তালুকদার, সাবেক সাংসদ মজিবুর রহমান তালুকার,নআমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম মাহাবুবুল আলম ঝন্টু তালুকদার, আবদুল মান্নান মৃধা ও আমতলী উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জি এম দেলওয়ার হোসেনের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

এ সময়ে গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, আমি একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। ছাএ রাজনীতি থেকে বেরে উঠেছি আমার স্কুল ও কলেজ জীবনে ছাএলীগের সভাপতি থেকে পরপর দু’বার বরগুনা কলেজের ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। আমি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। ফের যখন জেলা আওয়ামী লীগের রাজনিতীতে সমৃক্ত হয়েছি আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি সর্বশেষ বিগত জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমাকে জেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরোও বলেন, উৎপাদন উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে আবারও বিপুল ভোটে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে নৌকা মার্কার মনোনয়ন দেবেন আমরা তার হয়ে কাজ করব। আজকের এই কর্মসূচীতে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাএলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা কর্মী ও আপামর জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।