অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত প্রধানমন্ত্রীর

সফররত সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক স্টেট মিনিস্টার ডায়না জান্স সোমবার (৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সুইডেনও চায় বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, সুইডিশ স্টেট মিনিস্টার এ কথা উল্লেখ করেন।

বৈঠকে উভয় নেতা বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে চমৎকার সম্পর্কের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং যুদ্ধ বন্ধের মধ্য দিয়ে বাঁচানো অর্থ মানবজাতির কল্যাণে ব্যয় করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য এবং পণ্য পরিবহন খরচ বেড়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশে কোনো খাদ্য সংকট নেই। কারণ, কৃষিবিদরা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন।

 




সমঝোতার সুযোগ আছে কি না, জানতে চায় মার্কিন প্রতিনিধিদল

সোমবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে আড়াইটা পর্যন্ত।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা আমাদের থেকে জানতে চেয়েছে, নির্বাচন এর প্রশ্নে কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যান্ড অ্যাডজাস্টমেন্টের সুযোগ আছে কিনা? আমরা বলেছি, বিরোধীদের দাবি শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে, নির্বাচন কমিশন ভেঙে দিতে হবে- সংবিধান লঙ্ঘন করে এসব দাবি মানা সম্ভব নয়। সংবিধান লঙ্ঘন করে ছাড়, সমঝোতা বা আপস সম্ভব নয়

কাদের বলেন, তাদের কথাবার্তা পজিটিভ মনে হয়, বায়াস মনে হয়নি। আমরা আমাদের টকশো টেলিভিশনে উপস্থাপক পক্ষ নিয়ে ফেলে, কিন্তু এ প্রতিনিধিদল কারো পক্ষে মনে হয়নি। ভায়োলেন্সের আশঙ্কা আছে কিনা পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিসহ বিভিন্ন দল যা বলেছে, আমরা জবাব তাদের জানিয়েছি। আইনের ভুল ব্যাখ্যা ও তথ্যের সঠিকতা নিয়েও জানিয়েছি। এমন গুজব তারা ছড়িয়েছে, তার জবাব তো আমাদের দিতেই হয়। তারা এখানে মধ্যস্থতা করতে আসেনি। একটা অবাধ সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন চায়। আমরা বলেছি, এটা আমরাও করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ মূল্যায়নের জন্য এসেছেন। অন্যান্যদের মতো আমাদের সঙ্গে বসেছে। নির্বাচন নিয়ে আমরা আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি। তাদের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেছি। ৮২টি সংস্কার শেখ হাসিনার সরকার করেছে। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে শেখ হাসিনার অঙ্গীকার জানিয়েছি।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ও কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাত।




উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাজু ও পিংকু

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. শাহজাহান আলম সাজু আর লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ গোলাম ফারুক পিঙ্কু।

রোববার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সভায় দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। সভা শেষে প্রার্থীদের নাম জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান জানিয়েছেন, আসন দুটিতে শুক্রবার (৬ অক্টোবর) ও শনিবার (৭ অক্টোবর) দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ১৬ জন ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ১৪ জন ফরম সংগ্রহ করেছেন।




মূল স্বার্থের ইস্যুতে চীন-বাংলাদেশ পরস্পরকে সমর্থন করে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোববার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে গণচীনের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ চালনা সিল্ক রোড ফোরাম

তিনি বলেন, হাজার বছর আগেও চীনের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালে চীনে গিয়েছিলেন। ১৯৫৭ সালে রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যান। এই সফরে চীনের মহান নেতা মাও সেতুংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার দেখা চীন নিয়ে আমার দেখা নয়া চীন বইটি লিখেন। চীনকে আরও কাছ থেকে আমরা জানতে পারি।

মন্ত্রী বলেন, ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফর করেন। ২০১৬ সালে চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তাদের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীরতর করেছে। তারপর থেকে আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পে চীন সহযোগিতা করে চলেছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ২০২৩ সালে ব্রিকস সম্মেলনে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট দুই দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, তথ্য প্রযুক্তি, নতুন জ্বালানি, কৃষি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন এবং দুই দেশের সম্পর্কের অধিকতর কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গাঢ় করার জন্য প্রয়াস রয়েছে। আমাদের বন্ধুত্ব আরও বাড়বে বলে আমরা মনে করি।




আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা সন্ধ্যায়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা।



বরিশালের ছয়টি আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া : আন্দোলনের আড়ালে মাঠ গোছাচ্ছে বিরোধীরা : দলীয় কোন্দলে জর্জরিত আওয়ামী লীগ

এস এল টি তুহিন (বরিশাল) : ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু না হলেও বরিশালের ছয়টি আসনের তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচনী হাওয়া এখন তুঙ্গে। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভ্রাব্য প্রার্থী সরকারের উন্নয়ন প্রচারের মাধ্যমে নির্বাচনী গণসংযোগে মাঠে নেমেছেন। তবে প্রতিটি আসনেই ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দল থেকে সদ্য যোগদান করা ও ক্ষমতার আমলে পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করা নেতাদের সাথে দলের দুর্দিনের ত্যাগী, নির্যাতিত ও অসংখ্য মামলায় কারাবরণকারী নেতাদের বিরোধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এনিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি আসনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও হয়েছে। নির্বাচনের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে হাইব্রিড আওয়ামী লীগের নেতৃত্বস্থানীয় নেতারা দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে দুর্দীনের ত্যাগী নেতাদের বিভিন্ন মাধ্যমে দমন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

যে কারণে বেশ সুবিধাজনক অবস্থান করে নিচ্ছেন বিরোধী দলের নেতারা। তারা আওয়ামী লীগের মধ্যে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের মাধ্যমে ত্যাগী নেতাদের দমনে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এতে করে একদিকে যেমন তারা চলমান আন্দোলনের নামে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন, অপরদিকে
কৌশলে ক্ষমতাসীন দলের ত্যাগী নেতাদের দমন করে নৌকার প্রার্থীর সুনাম বিনস্ট করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী পদমর্যাদায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের কারণে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে এখানে কোন প্রার্থী নেই। তবে টানা ক্ষমতার আমলে এখানে সবচেয়ে বেশি বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনা ঘটেছে। তাই বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে বর্তমানে এখানে সবচেয়ে বেশি দলীয় বিরোধ রয়েছে। হামলা ও মামলার পর যা এখন বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি নেতৃত্বস্থানীয়দের প্রতিটি কর্মকান্ড আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর জনপ্রিয়তাকে বির্তকিত করছে। অনুপ্রবেশকারীদের মাধ্যমে দলীয় বিরোধ সৃষ্টি করায় দলের ত্যাগী নেতারা হামলা ও মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেকে আত্মগোপন এবং কেউবা অভিমান করে রাজপথে না থাকায় অত্যন্ত সু-কৌশলে মাঠ গুছিয়ে সক্রিয় হচ্ছেন বিএনপির সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন ও দলের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বর্তমান সাংসদ শাহে আলম নিজ দলের মধ্যেই এবার বেশ ঝুঁকিতে রয়েছেন। ক্ষমতার পাঁচ বছরে তিনি দলে কোন শক্ত অবস্থান করতে পারেননি। ফলে এ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস এবার প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন। ওই আসনে মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি এবং বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ও জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের সভাপতি ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন। ক্ষমতাসীন দলের বাহিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু অত্যন্ত সু-কৌশলে দলগুছিয়ে রেখেছেন। এছাড়া সমাজতান্ত্রিক দল বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিচুজ্জামান আনিচও তৃণমূল পর্যায়ে
ব্যাপক গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

আওয়ামী লীগের এমপি নেই বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে। এখনকার এমপি জাতীয় পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। এবার জোট-মহাজোট মিলে বর্তমান সাংসদকে ধরাশায়ী করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। এখানে এবার আওয়ামী
লীগের একক প্রার্থী ঘোষণা করার জন্য দীর্ঘবছর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ও বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক সরকারের উন্নয়ন প্রচারনায় মাঠে রয়েছে। এ আসনটিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক এমপি শেখ টিপু সুলতান প্রার্থী হতে বেশ আগ্রহী। তবে এ
আসনটিতে এবার আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ঘোষণা করা না হলে আসনটি মহাজোটের হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌঁড়ে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী হতে পারেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, আওয়ামী লীগ নেতা শাহে আলম মুরাদ ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আফজালুল করিম। এর বাইরে বিএনপির সাবেক এমপি মেজবাউদ্দিন ফরহাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানও কৌশলে মাঠ গোছাচ্ছেন।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বর্তমান এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী হওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এবার মাঠে নেমেছেন বিদায়ী সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এখানে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির চারবারের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার, জাপার ইকবাল হোসেন তাপস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ফয়জুল করীম।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের বর্তমান এমপি জাপার নাসরিন জাহান রত্নাকে পরিবর্তন করতে এককাট্টা হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা এবার এককভাবে নৌকার প্রার্থী চাচ্ছেন। এখানে মনোনয়ন পাওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ মল্লিক, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এসএম মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বাদশা, বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল আলম চুন্নু, সাধারণ
সম্পাদক ও তিনবারের পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া।

ক্ষমতাসীনদের বাহিরে এখানে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক সাংসদ আবুল হোসেন খান, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান রাজন। জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির
যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ মোহসীন। সবমিলিয়ে এখনই ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীন বিরোধ মীমাংসা করে ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সরকারের উন্নয়ন প্রচারনার জন্য রাজপথে নামানো না হলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিরুপ প্রভাব পরার
আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




নেতাকর্মী নিয়ে কাউখালীর চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলেন জাতীয় পার্টি (জেপি)’র সভাপতির পদ থেকে

বরিশাল অফিস: সাংগঠনিক রীতিনীতি বর্হিভূতভাবে দল পরিচালনা করা, উন্নয়নের ব্যাপক বৈষম্য ও কাউখালী হাটের খাজনা মওকুফ ঘোষনা করা সত্বেও সরকারি টাকা পরিশোধ না করায় জাতীয় পার্টি (জেপি)’র উপজেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবু সাঈদ মিয়া মনু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির জেপির সহ-সভাপতি সিকদার মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নসু, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শেখ লিটন, নেপাল চন্দ্র দে, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খসরু মিয়াসহ তিন সহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন।

শনিবার (৭ অক্টোবর ) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের এই ঘোষনা দেন। এ সময় আবু সাঈদ মিয়া মনু বলেন কাউখালী-ভান্ডারিয়া-ইন্দুকানী তিন উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-২ আসন গঠিত (চলমান) হলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাউখালী উপজেলা চরমভাবে অবহেলিত। বার বার এমপিও মহোদয়কে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার জন্য আহবান জানালেও তিনি তা ভুরুক্ষেপ করেননি। এমপি মহোদয় গত বৈশাখ থেকে কাউখালী উপজেলা হাট বাজার খাজনামুক্ত ঘোষনা করেন এবং সরকারি টাকা নিজ তহবিল থেকে পরিশোধের ঘোষনা দেন। কিন্তু ছয় মাস পর্যন্ত তিনি কোন টাকা পয়সা পরিশোধ করেননি। গত ছয় মাসের টাকা আমাকেই বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবস্থা করতে হয়েছে। এমপি মহোদয় সম্প্রতি সরাসরি বলে দেন তিনি কোন টাকা পয়সা দিবেন না এবং আরও বলেন হাটবাজার সরকারি ভাবে ইজারার দেওয়া হোক। গোটা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও কাউখালীবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। সংগত কারনেই এর আংশিক দায়ভার আমার উপরে বর্তায়।

সে কারণে আর কোন পথ খোলা না থাকায় আমি এবং আমার সাথে থাকা উল্লিখিত নেতৃবৃন্দসহ তিন সহস্রাধিক নেতাকর্মী আমরা পদত্যাগ করিলাম। আগামীতে তিনি কোন দলে যোগ দেবেন কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগে আমি স্বতন্ত্র হিসেবে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম, এরপরে আমি দশ বছর জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত, আপাতত স্বতন্ত্র হিসেবে আছি। উন্নয়নের রাজনীতি করি এ পথ থেকে পথভ্রষ্ট হব না।




দীর্ঘ ৯ বছর পর পটুয়াখালী পৌর ছাত্রলীগের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত

 

মো:আল-আমিন,পটুয়াখালী: দীর্ঘ ৯ বছর পর পটুয়াখালী পৌর ছাত্রলীগের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় পটুয়াখালী জুবিলী স্কুল মাঠে এ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান আরিফের সঞ্চালনায় কর্মীসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী আলমগীর হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আব্দুল মান্নান, জেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান খলিল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাসির হাওলাদার, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হৃদয় আশীষ, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাকিবসহ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এবং পৌর ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।

এসময় বক্তারা বলেন, এই অক্টোবর মাসেই জামাত ও বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনীতির নামে অপরাজনীতি শুরু করবে। তাই ছাত্রলীগকে সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান জানান তারা।

এদিকে পৌর ছাত্রলীগের কর্মী সভার কথা শুনেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক ছাত্রলীগের কর্মী সিভি জমা দেন জেলা ছাত্রলীগের নিকট।




কোনও ষড়যন্ত্রই দেশের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি

 

বরিশাল অফিস: কোন সড়যন্ত্র-চক্রান্তই দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামীতেও তার হাত ধরে এগিয়ে যাবে উন্নয়নের উচ্চ শিখরে। এমন মন্ত্রব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বরিশাল জেলা শাখার সহ-সভাপতি কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ।

শনিবার (৭ অক্টোবর) বিকালে বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জি আর চাল, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত, দুঃস্থ, অসহায় ও অতিদরিদ্রদের মাঝে বিনামূল্যে ঢেউটিন ও অর্থ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীয়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে শতাধিক অসহায় অতি দারিদ্রদের মাঝে বিতরন করা হয়।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, গরীব ও এতিমের টাকা মেরে খাওয়া ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামি খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে তারেক জিয়া দূর্নীতিতে অর্নাস ও মানি লন্ডারিংয়ে মাস্টার্স করে সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়ে বিদেশে পালিয়ে আছেন। এদেশের মানুষ তাদের আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চায় না। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে লক্ষ লক্ষ গৃহহীন মানুষ ঘর পেতেন না। ফোর লেন, মেট্রোরেল হতো না এবং বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারতেন না। শেখ হাসিনা যদি না থাকতো তাহলে বরিশালের কীর্তণখোলা নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পেত না। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা গরীব ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছেন। তিনি মাদার অফ হিউম্যানিটি হিসেবে সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত। বিএনপি যতোই ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করুক না কেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, কোন ষড়যন্ত্র চক্রান্তই অগ্রযাত্রাকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

এ সময় বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বরিশাল সিটিতে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ অসহায় হতদরিদ্রদের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃমনিরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান মধু, বরিশাল মহানগর আওয়ামী যুবলীগ এর যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এর ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।




বিএনপি-জামাতের দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র, আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গলাচিপায় গণ মিছিল ও পথসভা

 

বরিশাল অফিস: বিএনপি-জামাতের দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র, আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গলাচিপায় আওয়ামী লীগের গণ মিছিল হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টায় গলাচিপা সরকারি কলেজ থেকে দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহমুদ লিটনের নেতৃত্বে একটি গণ মিছিল বের হয়।

গণ মিছিলে পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় জ্যৈনপুরী পীর সাহেব খানকার ঈদগাহ মাঠে গিয়ে পথসভা হয়।

পথসভায় বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহমুদ লিটন, গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আবদুল খালেক, দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মোশারেফ হোসেন প্রমুখ।