আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দৃঢ় প্রত্যয়ে ভোটের মাঠে নেমেছে। নবগঠিত এই রাজনৈতিক দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০ আসনে বিজয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি এবার সরাসরি সরকার গঠনের লক্ষ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “এনসিপি এবার ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে, আমরা ১৫০ আসনে জয়ী হব—এ ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।” তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেতারা নিজ নিজ এলাকায় ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই লক্ষ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ সরকার গঠনের জন্য ১৫১টি আসনে জয়লাভের প্রয়োজন হয়। ফলে দলটির নির্ধারিত লক্ষ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি।
এনসিপি নেতারা জানান, তারা এখনো গণপরিষদ নির্বাচন, বিচার ও সাংবিধানিক সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে অনড় রয়েছেন। তবে নির্বাচনের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা এবং প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। উত্তরাঞ্চলে সারজিস আলম পঞ্চগড়ে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। নোয়াখালী-৬ আসনে আব্দুল হান্নান মাসুদ গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রাজধানী ঢাকায়ও এনসিপির তৎপরতা বেড়েছে। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনে এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী চাঁদপুর-৫ বা ঢাকার যে কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৪ বা বরিশাল-৪ আসনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এছাড়া ডা. তাসনীম জারা ঢাকা-১৭, আকরাম হুসাইন ঢাকা-১৩, এস এম শাহরিয়ার ঢাকা-৫, জাবেদ রাসিন ঢাকা-৯, রাসেল আহমেদ ঢাকা-১, আবদুল্লাহ আল আমিন নারায়ণগঞ্জ, আলী নাছের খান গাজীপুর-১, সামান্তা শারমিন ভোলা-১ বা ঢাকা-৯, মাহবুব আলম মাহি লক্ষ্মীপুর-১, আশরাফ উদ্দীন মাহাদী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, অনিক রায় সুনামগঞ্জ-২, জয়নাল আবেদীন শিশির কুমিল্লা-১০ এবং প্রীতম দাশ মৌলভীবাজার থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এছাড়া পটুয়াখালী-২ আসনে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, ঝালকাঠি-১ এ আরিফুর রহমান তুহিন, টাঙ্গাইল-১ এ ড. আতিক মুজাহিদ, চট্টগ্রাম-১৬ এ মীর আরশাদুল হক, কক্সবাজারে আবু সাঈদ সুজাউদ্দীন, টাঙ্গাইল-৩ এ সাইফুল্লাহ হায়দার, গাজীপুর-৩ এ মেজর (অব.) আবদুল্লাহ মাহমুদ খান, নীলফামারী-৩ এ আবু সাঈদ লিওন, বরিশাল-৫ এ ডা. মাহমুদা মিতু, ভোলা-৪ এ আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সালসহ একাধিক নেতা ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, সিলেট, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রামেও এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। দলটির নির্বাহী সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান এবং হাসান আলীও নিজ নিজ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “এখনো চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিটি দলই নির্বাচনে বড় লক্ষ্য নিয়েই অংশ নেয়, আমরাও ব্যতিক্রম নই।”
দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানান, তারা সংগঠনের কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতেও কাজ করছেন, যাতে ভোটের মাঠে এনসিপি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম