বুধবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির




জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে মনোনয়ন ফরম বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। সকাল ১০টা থেকে তাদের মনোনয়ন ফরম বিক্রি করার কথা। তবে তা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা সাড়ে ১১টা) শুরু হয়নি।



মনোনয়নপত্র বেচে দু’দিনে আওয়ামী লীগের আয় সোয়া ১১ কোটি টাকা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দুদিনে মোট ২ হাজার ২৮৬টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। এতে মোট ১১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

রোববার (১৯ নভেম্বর) ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে মনোনয়নপত্র বিক্রি শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দলটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

এদিকে, দ্বিতীয় দিনে ১ হাজার ২১২টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে সরাসরি মনোনয়নপত্র কিনেছেন ১ হাজার ১৮০ জন আর অনলাইনে কিনেছেন ৩২ জন। এ দিনে মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে সরাসরি ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং অনলাইনে ১৬ লাখ টাকার মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে।

এর আগে শনিবার ১ হাজার ৭৪টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়। এতে ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আয় হয় আওয়ামী লীগের। আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।




মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত জাহাঙ্গীর কবির নানকের

বরিশাল অফিস: জাহাঙ্গীর কবির নানক। একজন পরিচ্ছন্ন, দূরদর্শী প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ। দলের দুর্দিনে মাঠ কাপানো এই নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। দলের জন্য নিবেদিত প্রান নানক কখনোই দলীয় সভানেত্রীর কথার বাইরে যাননি। এ কারণে একটু বেশিই নানককে বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাহাঙ্গীর কবির নানকও এই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করেছেন বরাবরই।

২০১৮ সালে সংসদ সদস্য পদে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিশ্চিত হয়েছে নানকের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে আগেই সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছেন বলে ঘনিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। দলীয় একাধিক সূত্রও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও এই মুহূর্তে কোনো ধরণের মন্তব্য করতে রাজী হননি জাহাঙ্গীর কবির নানক।
জাহাঙ্গীর কবির নানক আওয়ামী লীগ সভাপতি মন্ডলির সদস্য। ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এবারের নির্বাচনে তাকে ঢাকা-১৩ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায় আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন নানক।

শনিবার রাতে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পায়ের ধুলো নিয়েছেন এ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক। এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র এবং শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে আসার সম্ভাবনা সহ নানা বাস্তবতা বিবেচনা করে মাঠের রাজনীতিবিদদের আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচনায় আনা হচ্ছে। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগের টিকিট পেতে যাচ্ছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।

বিগত দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ টিমের সদস্য হিসেবে সার্বিক নির্বাচন পরিচালনায় নানক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও পরবর্তীতে তিনি রাজপথের আন্দোলনে অত্যন্ত সহাসী ভূমিকা পালন করেছেন।

বিশেষ করে বিভিন্ন সংগঠন গোছানো এবং সংগঠনের কর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিবেচনায় ২০১৮’র নির্বাচনের পর পদোন্নতি পেয়ে প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভুক্ত হন জাহাঙ্গীর কবির নানক।




মুলাদীতে নাশকতার অভিযোগে ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস: মুলাদীতে জ্বালাও পোড়াও এবং নাশকতার অভিযোগে সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জাকির হোসেন সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুর ২টার দিকে মুলাদী সদর ইউনিয়নের বয়াতি ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জাকির হোসেন সরদার ওই ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপি নেতা।

পুলিশ জানায়, বিএনপির ৪৮ ঘন্টার হরতালের প্রথম দিনে রোববার দুপুরে মুলাদী সদর ইউনিয়নে নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে নাশকতার চেষ্টা করে।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকির হোসেন সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বরিশাল মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ইউপি সদস্য হিসেবে নয়, জাকির হোসেন সরদারকে জ্বালাও-পোড়াও এবং জনস্বার্থ বিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।




বরিশাল-৩ আসনে নৌকার মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন আতিকুর রহমান

বরিশাল অফিস : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩(বাবুগঞ্জ -মুলাদী) আসনে প্রার্থী হতে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সোনারগাঁও এর সাবেক পরিচালক মোঃ আতিকুর রহমান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। রোববার বিকালে রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেন তিনি। মনোনয়ন ফরম জমাদানকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ কাজী ইমদাদুল হক দুলাল, বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৃধা মুহাম্মদ আক্তার উজ জামান মিলন, বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল আহমেদ আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান, জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান খান হিমু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবু সুফিয়ান, মোঃ হুমায়ুন কবির, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মাইনুল হোসাইন পারভেজ মৃধা, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান পিন্টু সিকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাঝি মাসুম রেজা, মোঃ মাহবুব আলম মাসুম মৃধা, মোঃ গোলাম কিবরিয়া, মোঃ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোঃ ফাইজুল হক, আবুল কালাম সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আবিদ আল সাকিব সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কয়েক শতাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




বরিশালে আ.লীগের ফরম সংগ্রহের হিড়িক

বরিশাল অফিস : আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে বরিশাল জেলার ছয়টি নির্বাচনী এলাকার ৪০ জন নেতা ফরম সংগ্রহ করেছেন। এরমধ্যে দ্বিতীয় দিনে রোববার ২৪ জন ও শনিবার প্রথমদিনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৬ নেতা। এরমধ্যে ছয় জন বর্তমানে দলীয় নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র রয়েছেন।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দিনে রোববার সকাল ১০টা থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়ে চলে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।

সূত্রমতে, বরিশাল বিভাগের মর্যাদাপূর্ণ বরিশাল-৫ (সদর) আসনে দ্বিতীয়দিনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, রেলওয়ে শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা সংগঠন স্বেচ্ছাসেবী এস.আর সমাজ কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ সালাহউদ্দিন রিপন।

এর আগে প্রথমদিন শনিবার ওই আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন মুজিব নগর সরকারের তৎকালীন এসপি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মোঃ মশিউর রহমান খান, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আরিফ হোসেন (আরিফিন মোল্লা) এবং কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোর্শেদা বেগম।

দ্বিতীয় দিনে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোঃ শাহে আলম, সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস, বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা ও শিল্পপতি ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন, মুহাম্মদ আনিসুর রহমান, বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক ও পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল।

প্রথমদিনে ওই আসনে ফরম সংগ্রহ করেছেন সংরক্ষিত আসনের সাংসদ সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা, সাবেক সাংসদ মনিরুল ইসলাম মনি, আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাকিম সন্যামত, হাবিবুর রহমান খান ও আবদুর রাজ্জাক।

দ্বিতীয় দিনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক, মোঃ সাইফুল আলম ও মোঃ আসাদুল হক।

প্রথমদিনে ওই আসনে ফরম সংগ্রহ করেছেন তৃণমূল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ও বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতিকুর রহমান, ড. মোহাম্মদ আমিনুল হক কবির, অ্যাডভোকেট মোঃ শাফায়েত হোসেন ও মিজানুর রহমান।

দ্বিতীয়দিনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ ও মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন খান।

প্রথমদিনে ওই আসনে ফরম সংগ্রহ করেছেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম ও হেমায়েতউদ্দিন খান।

দ্বিতীয় দিনে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাফিজ মল্লিক, এসএম মনজুরুল হক, বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল আলম, পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, আওয়ামী লীগ নেতা রাজিব আহম্মদ তালুকদার, শাহানাজ পারভীন রানী ও প্রকৌশলী মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ। প্রথমদিনে ওই আসনে ফরম সংগ্রহ করেছেন খান আলতাফ হোসেন ভুলু।




পিরোজপুর-১ আসনে আওয়ামীলীগে কোন্দল, বিএনপি নীরব, জামায়াতের একক প্রার্থী

বরিশাল অফিস: পিরোজপুর জেলায় তিনটি নির্বাচনী আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পিরোজপুর-১ সদর আসন। আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জোর লবিং চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে মাঠের বিরোধী দল বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলেও বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতে তারা অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন। তারা এখন দাবি আদায়ে আন্দোলনে মাঠে রয়েছেন।

পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলার ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯৫৭ জন ভোটার নিয়ে গঠিত (সংসদীয় আসন-১২৭) পিরোজপুর-১ আসন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮০হাজার ২৫০জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭০৭ জন।

স্বাধীনতার পর জাতীয় নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগ জিতেছে পাঁচবার। আর এককভাবে বিএনপি জয় পেয়েছে এক বার, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। ১৯৯৬ আর ২০০১ সালে দু’বার এমপি ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধে আজীবন দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাবরণ অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।

দুই বারের জামায়াতের এ আসনটি ভেঙে দখলে নেয় বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। তবে দলের মধ্যে একাধীক মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় এখানে রাজনীতির হিসাব-নিকাশ কিছুটা গোলমেলে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলেই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তীব্র কোন্দল রয়েছে। বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন নিয়ে লড়াই করছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই ছেলেও প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম। আগামী নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের সম্ভাবনাময় প্রার্থী। গত নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম বিন সাঈদী।

বর্তমানে তিনি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। সভা সমাবেশ ও সরকারি নানা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তার অনুসারীদের দাবি আগামী নির্বাচনে তিনিই এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের আরও দাবিদার হচ্ছেন নেতা-কর্মীদের আস্থার ঠিকানা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম এ আউয়াল। আওয়ামী লীগের আগের দুই মেয়াদে নৌকা মার্কা থেকে তিনি এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনে তিনিও প্রার্থী হচ্ছেন।

এ ছাড়া পিরোজপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় থাকা অপর প্রার্থী হলেন- হাবিবুর রহমান মালেক। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পিরোজপুর পৌরসভার চার বারের নির্বাচিত মেয়র। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই তার তৎপরতা বাড়ছে। এ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইসহাক আলী খান পান্না। তবে তিনি পিরোজপুর-২ আসনেও প্রার্থী হওয়ার জন্য গণসংযোগসহ অন্যান্য তৎপরতা চালাচ্ছেন।

পিরোজপুরের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য প্রয়াত শেখ এ্যানি রহমানের ছেলে শেখ খালিদ অরিন্দম তান সাম্প্রতিক সময়ে সদর আসনের বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ করছেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ।

দলীয় সূত্র জানায়, বিরোধী দল বিএনপি থেকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলার সাবেক সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল। মাঠে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গণসংযোগ করছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আলমগীর হোসেন এবং মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী এলিজা জামান।

গত নির্বাচনে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন জামায়াত নেতা প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম বিন সাঈদী। তবে সাঈদীর জানাজায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রয়াতের অপর ছেলে মাসুদ বিন সাঈদীকে পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন।

একাধীক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানান, আগামী নির্বাচনে এ আসনে দলটির জয় নিশ্চিত। তবে দলীয়ভাবে কাকে বেছে নেওয়া হবে, তা নিয়ে তাঁরা এখনো ধোঁয়াশায়। দলীয়ভাবে একজন মনোনয়ন পেলে আরেকজন যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হন তাহলে বিপদে পড়তে হবে তাঁদের। সে ক্ষেত্রে দুই ভাগ হয়ে যাবে আওয়ামী লীগ। হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তবে প্রধান দুই নেতার কথায় এমন কোনো আভাস মিলছে না।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম এ আউয়াল বলেন, আমি আন্দোলন সংগ্রামসহ সারা বছর নেতাকর্মীদের পাশে থাকি।

আমি এ আসন থেকে আগেও দুইবার নির্বাচিত হয়েছি। এবারও নির্বাচন করতে চাই। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই মনোনয়ন দিবেন। আমার বিশ্বাস, নেত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। ভালো প্রার্থী দরকার, যাঁর কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কর্মীদের বিপদ-আপদে যে পাশে থাকেন, এমন প্রার্থী দরকার। মনোনয়ন পেলে নৌকাকে বিজয়ী করতে পারব বলে আশা করছি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম বলেন, আমি এ আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার পর যত উন্নয়ন প্রকল্প এনেছি, গত চল্লিশ বছরেও কেউ আনতে পারেনি। তাই আমি আশাবাদী, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিলে এ আসনটিতে বিজয়ী হব।




সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  একতরফা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে ও সরকার পতনের দাবিতে বিরোধী জোটের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়েছে। রোবারর (১৯ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) ভোর ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে সর্বাত্মক এই হরতাল কর্মসূচি চলবে।



বরিশালে ২১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ৭৫ নেতার আ. লীগের ফরম সংগ্রহ

বরিশাল অফিস: আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে বরিশাল বিভাগের ৭৫ জন নেতা ফরম সংগ্রহ করেছে। শনিবার প্রথমদিনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। মনোয়ন বোর্ডের এক সদস্য জানান, শনিবার সকাল ১০ টা থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। বিকেল ৫ টা পর্যন্ত বিক্রি চলে। এতে ৭৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরম সংগ্রহ করেছেন।

বরিশাল বিভাগে ২১ সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে বরিশালে ছয়টি, ভোলায় চারটি, পটুয়াখালীতে চারটি, বরগুনায় তিনটি, পিরোজপুরে তিনটি ও ঝালকাঠিতে দুটি করে আসন।

এ্যাড. বলরাম পোদ্দার জানান, প্রথম দিনের প্রথম ফরমটি সংগহ করেছেন ভোলা-১ আসনের জন্য মো. হেমায়েত উদ্দিন। সর্বশেষটি সংগ্রহ করেছে বরিশাল-২ আসনের জন্য আব্দুর রাজ্জাক।
বিভাগের মধ্যে মর্যাদাপূর্ন বরিশাল-৫ আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন চারজন। তারা হলেন, মুজিব নগর সরকারের তৎকালীন এসপি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম (এসপি মাহবুব), বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মো. মশিউর রহমান খান, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আরিফ হোসেন (আরিফিন মোল্লা) এবং কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এ্যাড. মোর্শেদা বেগম।
বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরম সংগ্রহকারীরা হলেন বরিশাল-২ আসনে আবুল হাকিম সন্যামত, হাবিবুর রহমান খান, সৈয়দা রুবিনা মীরা, মনিরুল ইসলাম, বরিশাল-৩ আসনে ড. মোহাম্মদ আমিনুল হক কবির, মো. শাফায়েত হোসেন, মিজানুর রহমান ও আতিকুর রহমান, বরিশাল-৪ আসনে হেমায়েতউদ্দিন খান, আফজালুল করিম, বরিশাল-৬ থেকে খান আলতাফ হোসেন ভুলু।

ভোলা-১ ফজলুল কাদের মনজু, ভোলা-২ মো. আব্দুল কাদের খান, মো. মাকসুদ আলম, আশিকুর রহমান, ভোলা-৩ মো. ফখরুল আলম, একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, হেদায়েতুল ইসলাম মিন্টু মিয়া, এমএ কাশেম, নুরন্নবী চৌধুরী শাওন, আবু নোমান হাওলাদার, মো. জসিমউদ্দিন, মোশারেফ হোসেন দুলাল, মো. হোসেন হাওলাদার, ভোলা-৪ মোস্তাফিজুর রহমান, মেজবাহউদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম,আকম জামালউদ্দিন, আবু শাকের মোহাম্মদ তানিন, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব।

পটুয়াখালী-২ আসনে আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, খন্দকার শামসুল হক, পটুয়াখালী-৩ আসনে ইকবাল মাহমুদ, সন্তোষ কুমার দে, মু. ফখরুল ইসলাম, এসএম ফজলুল হক, মো. ফোরকান মিয়া, হিরন আহম্মেদ, আবুল হোসেন, পটুয়াখালী-৪ আসনে সৈয়দ নাসিরউদ্দিন, এসএম রাকিবুল আহসান, মহিবুর রহমান, শহিদুল্লাহ ওসমানী, জুনায়েদ মোহাম্মদ হাসিব, হাবিবুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম লিটন , ফাতেমা আক্তার।

পিরোজপুর ১ ইসাহাক আলী খান পান্না, শ ম রেজাউল করিম, রোজিনা নাছরিন, পিরোজপুর-২ আসনে মহিউদ্দিন মহারাজ, সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, কানাই লাল বিশ্বাস, মো. জাহিদুল হক, ইসাহাক আলী খান পান্না, মোহাম্মদ কবির হোসেন হাওলাদার, পিরোজপুর-৩ মহিউদ্দিন মহারাজ, মোসা. নাসরিন।

ঝালকাঠি-১ বজলুল হক হারুন, মোহাম্মদ ইসমাইল, মনিরুজ্জামান, ঝালকাঠি-২ মো. মিল্লাত হোসেন।
বরগুনা-১ আসনে এসএম মশিউর রহমান, রফিকুল ইসলাম, মো. খলিলুর রহমান, গোলাম সরোয়ার টুকু, রফিকুল ইসলাম, বরগুনা ২ আব্দুল মালেক।