বাউফলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতে পথসভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীর বাউফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতের লক্ষ্যে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর বাজারে এ পথসভা আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফলের সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার। সভার সভাপতিত্ব করেন বাউফল গার্লস হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন

পথসভায় সহিদুল আলম তালুকদার বলেন, “আমি সারাজীবন মানুষের পাশে থেকেছি, সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি। রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়— এটি মানুষের সেবা ও ভালোবাসা অর্জনের পথ।”

তিনি আরও বলেন, “আজ দেশ এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া অপরিহার্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত এই দল মানুষের মুক্তির প্রতীক। ধানের শীষ মানে স্বাধীনতার প্রতীক, মানুষের অধিকারের প্রতীক। তাই আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই— এই প্রতীকের বিজয়ই হবে মানুষের বিজয়।”

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “আগামী দিনে যদি সুযোগ পাই, আগের মতোই আপনাদের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে কাজ করে যাব। আমি কথা দিচ্ছি, এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করবো।”

পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফল পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য অধ্যাপক মাসুদুর রহমান, এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী গিয়াস প্রমুখ।

নেতাকর্মীরা বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা ছাড়া বিকল্প নেই। তারা জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগামী নির্বাচনে কয়েদিরাও ভোট দিতে পারবেন: নির্বাচন কমিশনার

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাগারে থাকা কয়েদিদেরও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে পটুয়াখালী সার্কিট হাউসে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে সকালে তিনি “নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জসমূহ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়” শীর্ষক কর্মশালায় অংশ নিতে পটুয়াখালী আসেন। শনিবার সকালে কুয়াকাটার সিওডিইসি ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য ওই কর্মশালায়ও তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে আমরা সারা দেশে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছি, যাতে তারা দায়িত্ব পালনে আরও দক্ষ হতে পারেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তাদের মাঝে কিছুটা দ্বিধা ও আশঙ্কা কাজ করছে, তবে আমরা আশাবাদী—সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

তিনি আরও জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নীতিমালা, আসনবিন্যাসসহ প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও ইসির সংলাপ সম্পন্ন হয়েছে।

গণভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণভোটের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ইসির কাছে আসেনি। সরকার যদি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, জনগণ অবশ্যই তা জানতে পারবে।”

এ সময় কমিশনার আরও জানান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। “বর্তমানে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, যা আছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব,” বলেন তিনি।

প্রতীকের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা কিছু পুরোনো প্রতীক বাদ দিয়ে আরও সুন্দর ও সহজবোধ্য প্রতীক নির্ধারণ করেছি, যাতে ভোটাররা সহজে চিনতে পারেন।”

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. অহিদুজ্জামান মুন্সি, জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। সাক্ষাৎকার শেষে কমিশনার কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় যুক্ত হলো ‘শাপলা কলি’

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন প্রতীক ‘শাপলা কলি’। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮ সংশোধন করে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে ইসি।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, “১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮-এর সংশোধনী যুক্ত করেছে।”
নতুন সংশোধন অনুসারে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এখন থেকে বিদ্যমান তালিকায় থাকা প্রতীকগুলোর পাশাপাশি ‘শাপলা কলি’ প্রতীকও বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দীর্ঘদিন ধরে শাপলা প্রতীক বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আসছিল। এ নিয়ে দলটির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কয়েক দফা চিঠি আদানপ্রদান ও বৈঠক হয়।
গত ৭ অক্টোবর এনসিপি কমিশনের কাছে শাপলা প্রতীকসহ সাতটি নমুনাচিত্র পাঠালেও, তখন ইসি তা অনুমোদন দেয়নি। পরবর্তীতে কমিশন জানায়, নির্ধারিত তালিকা থেকেই প্রতীক বেছে নিতে হবে, অন্যথায় কমিশন নিজ সিদ্ধান্তে প্রতীক বরাদ্দ করবে।

গত ১৯ অক্টোবর ছিল প্রতীক পছন্দের শেষ সময়সীমা। তবে এনসিপি তখনও জানায়, তারা শাপলা প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক গ্রহণ করবে না।
অবশেষে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার ইসি প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করে, যা আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা যাবে।

এ বিষয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “আমাদের দীর্ঘ দাবির পর অবশেষে নির্বাচন কমিশন ‘শাপলা কলি’ প্রতীক অনুমোদন দিয়েছে। আমরা এই প্রতীক নিয়েই আগামী নির্বাচনে অংশ নেব।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সরকারের ঐকমত্য প্রস্তাব জাতির সঙ্গে প্রতারণা: ফখরুল

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ফলাফলকে ‘একপেশে, জবরদস্তিমূলক ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ফখরুল বলেন, দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা শেষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও সরকারের প্রস্তাব পুরোপুরি একপেশে এবং পরিকল্পিতভাবে অর্থহীন করে তোলা হয়েছে। তার দাবি, সরকারের প্রস্তাবিত ‘বাস্তবায়ন আদেশ’ সংবিধান, সংসদীয় সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর খসড়ায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারা গোপনে পরিবর্তন করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরকারি ও বেসরকারি অফিসে টানানোর বাধ্যবাধকতা বাতিলের বিষয়ে অধিকাংশ দল একমত হলেও, তা সনদের চূড়ান্ত কপিতে রাখা হয়নি। একইভাবে সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদের (পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল) বিলুপ্তির প্রস্তাবও বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আমরা ঐতিহাসিক অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিলাম। কিন্তু সনদের চূড়ান্ত কপি আর আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।”

ফখরুলের দাবি, সরকার এখন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ নামে একটি আদেশ জারি করতে যাচ্ছে, যা সংবিধানের পরিপন্থী। “সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘আদেশ’ আইনের মর্যাদাসম্পন্ন এবং সেটি জারি করার এখতিয়ার কেবল রাষ্ট্রপতির। সরকার নিজে থেকে এটি জারি করলে তা হবে অসাংবিধানিক পদক্ষেপ,” বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব আরও অভিযোগ করেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদনে ৪৮টি দফা গণভোটে তোলার প্রস্তাব থাকলেও, সেখানে রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

তার ভাষায়, “এক বছরের আলোচনার পর যা সামনে এসেছে, তা গণতন্ত্র ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নজরুল ইসলাম খানসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিতে যুদ্ধ থেমেছে : ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামাতে ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। যা এখন পর্যন্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আপনি যদি ভারত ও পাকিস্তানের দিকে তাকান তারা তখন মুখোমুখি অবস্থায় ছিল। সাতটি বিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল, অবস্থা ছিল ভয়াবহ। ট্রাম্পের দাবি, মে মাসে সীমান্তে সংঘর্ষ বাড়লে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের নেতাদের ফোন করে সতর্ক করেন। বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে এবং ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি বলেছিলাম, আমি তোমাদের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক বসাবো। মানে, তোমরা আর ব্যবসা করতে পারবে না। বক্তব্যের সময় তার এই মন্তব্যে উপস্থিত শ্রোতারা করতালি দেন।




ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেজানা যাবে ভোটের দিনক্ষন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার,(২৯ অক্টোবর ২০২৫) যমুনায় প্রথম সমন্বয় সভা করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন বানচালে ভেতর থেকে, বাইরে থেকে অনেক শক্তি কাজ করবে। ছোটখাটো নয়, বড় শক্তির কাছ থেকে আক্রমণ চলে আসতে পারে। এই নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। যত ঝড় আসুক না কেন, আমাদের সেটা অতিক্রম করতে হবে।’

সভা শেষে বিকেলে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে সভার আলোচ্য বিষয়গুলো জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে বলেছে যে তারা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তারিখ জানাবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের হঠাৎ আক্রমণের আশঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, ‘এই আক্রমণ বলতে শুধু শারীরিক আক্রমণ নয়, বরং সাইবার অ্যাটাক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিজ ইনফরমেশন (অপতথ্য) ছড়ানোকেও বোঝানো হচ্ছে। যারা পতিত স্বৈরাচার এবং তার দোসর, তারা দেশে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, তা চাইবে না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’




জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার না হওয়া অবদি নির্বাচন নয়: নাহিদ ইসলাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বুধবার সন্ধ্যায় (২৯ অক্টোবর) রংপুর নগরীর পর্যটন মেট্রোর হলরুমে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম   এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই যেন নির্বাচন হয়। এ জন্য সব পক্ষকেই কাজ করতে হবে। পতিত শক্তি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। যদি ক্ষমতার লোভে কোনো দল কিংবা কোনো শক্তি যদি মনে করে তারা এককভাবেই সব কিছু করবে বা জাতীয় ঐক্য ভেঙে দেবে বা জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে দাঁড়াবে, তাহলে হিতে বিপরীত হবে। তারা সংসদ টেকাতে পারবে না। সংসদ টেকাতে তাদের কষ্ট হবে এবং জনগণের আস্থা তারা পাবে না। তাই সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান করব, সংস্কারের পক্ষে থাকার।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই সনদ শুধু একটি দলীয় প্রস্তাব নয়, এটি জনগণের মুক্তির দলিল। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া এই দেশের গণতন্ত্র পূর্ণতা পাবে না। আমরা শুনেছি, ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ দেওয়া হবে। আমরা চাই যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বা কমিশন যেসব বিষয়কে সংবিধান সংস্কারের জন্য লিপিবদ্ধ করেছে, সেসব বিষয় গণভোটে যাক। জনগণই রায় দেবে, কী থাকবে আর কী বদলাবে।

তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্ট বলে কিছু থাকবে না। সংস্কারের রূপরেখা জনগণের হাতে যাবে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। গণভোট ছাড়া কোনো সনদ বাস্তবায়নের অর্থ জনগণের মতামত উপেক্ষা করা।

নাহিদ আরও বলেন, গণহত্যার বিচার না হলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কোনো অর্থ নেই। এই বিচার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা, কাগজের সাইন, যার মূল্য কেবলই কাগজে। বাংলাদেশের ইতিহাসে আমরা নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরেও দেখেছি, ত্রিদলীয় রূপরেখা শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার পথ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। জনগণের রক্তের ত্যাগ ভুলে যাওয়া হয়েছে। আমরা সেই ভুল আর করব না।

তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্ট বলে কিছু থাকবে না। সংস্কারের রূপরেখা জনগণের হাতে যাবে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। গণভোট ছাড়া কোনো সনদ বাস্তবায়নের অর্থ জনগণের মতামত উপেক্ষা করা।

     




বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ: জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সব দলের ঐক্য জরুরি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ কার্যকর করার জন্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানাতে হবে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গণ অধিকার পরিষদের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জনগণের সাংবিধানিক ক্ষমতা গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাই জাতীয় সংসদ সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রশ্ন বা আইনি জটিলতা সৃষ্টি না হয়। সবকিছুই সবার ঐক্যের ভিত্তিতে করা প্রয়োজন।”

তিনি জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের প্রতি বলেন, “বাস্তবতার আলোকে কথা বলতে হবে। এমন কোনো প্রস্তাব বা আদেশ দেওয়া যাবে না যা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। পুরো প্রক্রিয়াকে বৈধ ও স্থায়ী ভিত্তিতে রচনা করতে হবে, যেন ১০-১৫ বছর পরও কেউ আদালতে যেতে না পারে।”

সালাহউদ্দিন আরও জানান, এনসিপিসহ কিছু দলের স্বাক্ষর না দেওয়ার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। আশা করা যায়, সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে তারা সনদে স্বাক্ষর করবেন। এই সনদ বাস্তবায়ন হলে তা রাজনীতিতে সমঝোতার একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে চিহ্নিত হবে।

তিনি যোগ করেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত জাতীয় সংসদই সুনির্দিষ্ট ফোরাম। নোট অব ডিসেন্টসহ স্বাক্ষরিত সনদ অনুযায়ী জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে, যাতে কোনো সংসদ সদস্য বা দল সেখান থেকে সরতে না পারে।”

সালাহউদ্দিন আহমদ আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অনেকে আবেগের বশে দাবি করেন যে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী বৈপ্লবিক আদেশ জারি করা যায়। এগুলো আবেগপূর্ণ বক্তব্য। সংবিধানের আশ্রয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্র এখনও সাংবিধানিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।”

তিনি সবাইকে ‘ফ্যাসিবাদের’ প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক, মুখপাত্র ফারুক হাসান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জাগপা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এনডিপি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিনিধি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

 

আল-আমিন



নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই: ইসি সচিব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এখন পর্যন্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আখতার আহমেদ বলেন, “ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক নয়। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কিছু বিষয়ে সমন্বয় করতে হয়। কিছু কাজ আগেই শেষ হয়েছে, আবার কিছু বিষয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সময় অনুযায়ী সব কিছু নির্দিষ্ট দিনক্ষণে করা সব সময় সম্ভব হয় না।”

তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্রের তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতাও চলতি সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করা হবে।

নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাঠপর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যগুলো আমরা পর্যালোচনা করছি। ইনশাআল্লাহ এই সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।”

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সচিব বলেন, “সবকিছু শতভাগ পরিকল্পনা অনুযায়ী করা সব সময় সম্ভব নয়। বাস্তব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কিছু বিষয় সামঞ্জস্য করতে হয়। এখন পর্যন্ত কোনো রকম আতঙ্ক বা দুশ্চিন্তার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমার মনে হয় না এখন এমন কোনো অবস্থা এসেছে যে তা নিয়ে কেউ উদ্বিগ্ন হবে।”

বিএনপি কর্তৃক আরপিও সংশোধন বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে পাঠানো চিঠি সম্পর্কে তিনি বলেন, “বিএনপি একটি চিঠি দিয়েছে। কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।”

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগেই প্রাথমিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে কমিশনের।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর বিএনপি প্রার্থীদের গুলশান ডাক: আজ তারেক রহমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়নপ্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোচ্ছে। এবার পটুয়াখালীর চারটি আসনের আটজন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে ডেকেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রতিটি আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে ( ভিডিও কনফারেন্স)  এর মাধ্যমে সরাসরি কথা বলবেন তারেক রহমান। এই বৈঠককে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই প্রার্থীরা চূড়ান্ত মনোনয়নের সবুজ সংকেত পাবেন।

পটুয়াখালী জেলা থেকে গুলশান বৈঠকে ডাকা হয়েছে—

পটুয়াখালী-১ (সদর-দুমকী-মির্জাগঞ্জ) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদারকে।

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন এবং

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন ও কলাপাড়া বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনিরকে।

বাউফল আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মুনির হোসেন বলেন,
“আমাদের সোমবার বিকেল ৪টায় গুলশান অফিসে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তবে কে মনোনয়ন পাবেন বা কবে চূড়ান্ত হবে—এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।”

একই কথা বলেন সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার ও জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। তাদের ভাষ্য, বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন,
“এটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ। বিএনপির মতো বড় দলে প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য নেতা রয়েছেন। সবাই মনোনয়ন পাবেন না, দলীয় পদ্ধতিই চূড়ান্ত করবে যোগ্য প্রার্থীকে।”

তিনি আরও বলেন,
“বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এমপি হওয়াই শেষ কথা নয়—ধানের শীষের বিজয়ই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

দলীয় একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে শুধুমাত্র মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান ও নির্বাচনী সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এরপরেই মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই বৈঠক আসন্ন নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চল—বিশেষ করে পটুয়াখালী জেলায় প্রার্থিতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম