যে কারণে পেছাতে পারে নির্বাচন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  ভোটের ৫২ দিন আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১৫ নভেম্বর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছে। ৩০০ আসনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে মনোনয়ন ফরম দিচ্ছে এবারের নির্বাচনে আলোচনায় আসা তৃণমূল বিএনপিও। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও তাদের জোট মিত্রদের অনেকের অবস্থান এখনো বিপরীত মেরুতে। তারা তফসিল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে।

এমন অবস্থানে দাঁড়িয়ে বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে কি না, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো সমঝোতা হবে কি না কিংবা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বৃহৎ স্বার্থে পুনঃতফসিল বা ভোটের তারিখ পেছানো হতে পারে কি না- এসব নিয়েই এখন চুলছেড়া বিশ্লেষণ চলছে রাজনৈতিক মহলে।চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসলেও তাতে সাড়া মেলেনি বিএনপির। দলটির নেতারা শুরু থেকেই বলে আসছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। তাদের দাবি, নির্বাচনের আগে সংসদ বিলুপ্ত এবং ইসি পুনর্গঠন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। বিএনপি ও তাদের জোট শরিকরা এবং বিরোধী অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও এ দাবির পক্ষে সরব। কিন্তু বিএনপি যদি ভোটে অংশগ্রহণ করে তবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে পুনঃতফসিল তথা নির্বাচনও পেছানো হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছে ইসি।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে সংকট উত্তরণের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হতে পারে সংলাপ। যদিও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের অনেকে এখন বলছেন, তফসিল হয়ে গেছে। এখন আর সংলাপের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু তফসিল হলেও বৃহৎ স্বার্থে সংলাপের সেই সুযোগ যে একেবারেই নেই তেমনটিও বলা হচ্ছে বেশ স্পষ্টভাবেই। আবার কিছুক্ষেত্রে এমনটিও বলা হচ্ছে, সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের ভেতরে ভেতরে এক ধরনের আলোচনা চলছে। যদিও এখন পর্যন্ত বাইরে সেটির কোনো আভাস বুঝতে পারছে না মানুষ।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের সময় যত ঘনাচ্ছে, রাজনৈতিক আশু পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশাও তত ঘনীভূত হচ্ছে। ফলে হরতাল-অবরোধ দিয়ে দাবি আদায় আদৌ সম্ভব কি না বা বৃহৎ জনসমর্থিত রাজপথের প্রধান বিরোধীশক্তিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে ভোট করলে সেটা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে কতটা ইতিবাচক সমর্থন পাবে, এ বিষয়গুলোও এখন রাজনীতির মাঠে আলোচনায় অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ একটা জিনিস চায়- সেটা হলো ভোটের সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং নিজের ভোট নিজে দেওয়ার নিশ্চয়তা।

বিরোধীদের বক্তব্য, সরকার একতরফাভাবে নির্বাচন করলে দেশের জনগণ সেটা মেনে নেবে না। আন্তর্জাতিকভাবে এরকম নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্যও করা যাবে না। ফলে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে তারা লাগাতার হরতাল-অবরোধ নিয়ে রাজপথে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে হরতাল-অবরোধ প্রতিহতের কর্মসূচি ছেড়ে নির্বাচন সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা। তবে, বিএনপির মতো বড় দলবিহীন নির্বাচন একতরফা হবে কি না বা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কি না, এমন প্রশ্নের মধ্যেও ক্ষণে ক্ষণে পাল্টাচ্ছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। গত শনিবার পর্যন্ত আওয়ামী লীগসহ ১০টি দল জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনের কথা বললেও গতকাল বুধবার পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়েছে।

গতকাল বুধবার (২২ নভেম্বর) জাতীয় পার্টি (জাপা) ৩০০ আসনে এককভাবে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই দিনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১২ দলীয় জোটের সঙ্গ ছেড়ে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক তিনটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাদের জোট অন্তত ১০০টি আসনে প্রার্থী দিতে পারে। অন্যদিকে বুধবার পর্যন্ত তৃণমূল বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৩৫০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাদের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২৭২ জন

গত রোববার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। সাবেক এই ফার্স্ট লেডি মনে করেন, সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। সাক্ষাৎকালে তফসিলের বিরোধিতা করা দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো আলোচনা হতে পারে কি না, সে বিষয়টিও তুলে ধরেছেন রওশন। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ৩০ নভেম্বর থেকে কিছুটা পেছানো এবং প্রয়োজনে তফসিল পেছানোর বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে তিনি অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে।

কিন্তু তফসিল এবং নির্বাচন পেছানোর মতো কোনো পরিবেশ বা চাপ বিরোধী দলগুলো সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর তৈরি করতে পেরেছে কি না, এটিও এখন বড় প্রশ্নের জায়গা। ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আভাস না দিলে তফসিল বা ভোটের তারিখ কোনোটাই হয়তো পেছাবে না। অন্যথায় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। সরকারের ভেতর মহলেও এ ধরনের অপেক্ষা বা প্রস্তুতি থাকতে পারে, বলছেন কেউ কেউ।

এদিকে একই দিনে জাতীয় পার্টির ভোটে আসার ঘোষণা এবং ১২ দলীয় জোট ভেঙে যুক্তফ্রন্টের আত্মপ্রকাশের পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বুধবার দলের এক সমন্বয় সভায় বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসর জমে গেছে। যারা মনে করেছিল কে আসে কে না আসে…ফুল কিন্তু ফুটতে শুরু করেছে। আরও অনেক ফুল ফুটবে। মনোনয়ন ফরম সরকারিভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া পর্যন্ত শত ফুল ফুটবে। কাজেই এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। উই আর হ্যাপি।

এর আগে তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১৬ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখের আগে অনেক দল ও ব্যক্তির নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইঙ্গিত করেন। ওইদিন তিনি বলেছিলেন, সামনের কয়েকটা দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (ক্রুশিয়াল)। ৩০ নভেম্বর মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। এর মধ্যে কত ফুল ফুটবে। আর শীতকাল তো এসে গেছে, কিছু কিছু ফুল ফোটার সময়ও এসে গেছে। এখন কোন ফুল কোথায় ফুটছে…হঠাৎ জেগে উঠবে। অপেক্ষা করুন।

এদিকে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের পক্ষে জাতীয় পার্টির ভোটে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্নভাবে এবং বিভিন্ন সংস্থা ও মাধ্যমে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। কোনো রকম হস্তক্ষেপ করা হবে না। ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাররা ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তাদের এই আশ্বাসের কারণে, তাদের প্রতি আমাদের বিশ্বাস সৃষ্টি হওয়ার কারণে আমাদের মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার পক্ষ থেকে আপনাদের সামনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করছি। এবার কোনো জোটের মধ্যে না থেকে ৩০০ আসনেই এককভাবে প্রার্থী দেবে জাপা।

একই দিন বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সৈয়দ ইবরাহিমের কল্যাণ পার্টির নেতৃত্বে নবগঠিত যুক্তফ্রন্টও নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। যুক্তফ্রন্টের সভাপতিও হয়েছেন তিনি। যুক্তফ্রন্টে অন্য দুটি দল হলো- জাতীয় পার্টি (মতিন) ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল)।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দিয়ে সৈয়দ ইবরাহিম বলেন, যুক্তফ্রন্ট আগামী নির্বাচনে ১০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ ৩০ নভেম্বর থেকে পেছানো হতে পারে, নাও হতে পারে। যদি মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন বিলম্ব হয়, তাহলে বাকি তারিখগুলো আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে। আমরা যুক্ত ফ্রন্ট এখানে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেবো।

তিনি বলেন, আমরা তার জন্য বড় রিস্ক নিচ্ছি। অতীতেও আন্দোলনের অংশ হিসেবে বড় বড় দল, ছোট ছোট দল অংশ নিয়েছে। আমরা অনেক বড় দল নই, ছোট দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবো আশঙ্কা নিয়ে। আশঙ্কার উত্তর হচ্ছে সরকারের ওয়াদা…। এবার ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনকে জাতির সামনে, বিশ্বের সামনে গ্রহণযোগ্য করতে চাই।

তবে তফসিল বা নির্বাচনের তারিখ পেছানো হতে পারে কি না- এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তফসিল পেছানো বা নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। সময়সীমার মধ্যে তারা তাদের যে কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন। এখানে আওয়ামী লীগ বা সরকারের কিছু বলার নেই। নির্বাচনের বিষয়ে ৩০ নভেম্বরের পর সবকিছু স্বচ্ছ হয়ে যাবে। নির্বাচন কিভাবে করবে সেটি পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। নির্বাচন সম্পন্ন করার একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। এ সময়সীমার ভেতরে থেকে ভোট সম্পন্ন করতে হবে। কমিশন যদি মনে করে ভোট কিছুদিন পেছানো দরকার সেটি তারা করতে পারে।

এদিকে, এখনো তফসিল পেছানোর সুযোগ আছে বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশন। তবে যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে। বুধবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠান শেষে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে এলে তফসিল পেছানোর সুযোগ আছে। তারা (বিএনপিসহ বড় দলগুলো) নির্বাচনে আসতে চাচ্ছে, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছি এমন কথা। যদি তারা পর্দার অন্তরালে আলাপ-আলোচনা বা জোটবদ্ধ হয় তাহলে তফসিল পেছানোর সুযোগ আছে।

‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যা যা করা দরকার, সেসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়। এটার দায়িত্ব প্রার্থীর। ভোটার যা-ই উপস্থিত হোক, সেটাকে ফল হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ভোটারের উপস্থিতি বেশি হলে আমরা সন্তুষ্ট হবো। প্রার্থীদের কাছে আবেদন থাকবে, তারা যেন ভোটারদের কেন্দ্রে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন’- বলেন ইসি আনিছুর।

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে পরে তা পেছানোর নজির অতীতেও ছিল। কিন্তু এবার সেটা হবে কি না, কিংবা বিএনপি আদৌ নির্বাচনে আসবে কি না- তা এখনো চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ বলছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

গত সোমবার (২০ নভেম্বর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা জানিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচনে এলে আইন মেনে পুনঃতফসিলের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তবে এ নিয়ে অগ্রিম কিছু বলা যাচ্ছে না। ওনারা (বিএনপি) যদি নির্বাচনে আসেন আমরা ওয়েলকাম করবো।

এ বিষয়ে বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী  বলেন, নির্বাচনের বিষয়টি একান্ত নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। এ নিয়ে আমাদের কথা বলার সুযোগ নেই।

দেশে নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি সবচেয়ে বড় ভুল করেছিল। সেটার খেসারত গত ১৫ বছর ধরে দিতে হচ্ছে। ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেও দলের সাংগঠনিক ভিত্তি ও নির্বাচনী পরিকল্পনা ছিল অন্তত দুর্বল। এবার যদি দলটি নির্বাচনে না আসে তবে সেটা হবে আরও বড় ভুল। নতুন অনেক দল ভোটে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপির হাতে খুব বেশি সময় নেই।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া যাবে। ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই করা হবে। বাছাইয়ে কারও মনোনয়ন ফরম বাতিল হলে তিনি আপিল করার সুযোগ পাবেন। কোনো প্রার্থী ইচ্ছা করলে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম প্রত্যাহার করতে পারবেন। আর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ১৮ ডিসেম্বর।

নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, রাজনৈতিক দলগুলো দাবি করলে সংবিধানের মধ্যে থেকেই তারা তফসিল পেছাতে পারবেন। তবে, এটা বিএনপি ভোটে এলে এক চিত্র হবে, বিএনপি না এলে ভিন্ন হবে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে বাকি দলগুলো চাইলে ভোটের তারিখ ঠিক রেখে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য সময় বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। আর বিএনপি এলে আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচন পেছানো হতে পারে। তবে সবই আইনের মধ্যে থেকে করার সুযোগ আছে ইসির।

তবে, বিএনপি নির্বাচনে না আসার বিষয়ে এখনো অনড় অবস্থানে। অন্যদিকে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অক্ষুণ্ন রাখতে ঝুঁকি নিয়েই নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। যে করেই হোক যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে ক্ষমতাসীনরা।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদের সঙ্গে বুধবার রাতে বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তিনি  বলেন, আমার মনে হয় না নির্বাচন পেছাবে। নির্বাচন কমিশন তিন দফা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে। যত প্রস্তুতি আছে তাদের, রাজনৈতিক দলগুলোকে অবগত করেছে। সব ঠিকঠাক করে তারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। এরপর নির্বাচন পেছানোর যৌক্তিকতা নেই।




চরমোনাই দরবারের তিনদিনব্যাপী মাহফিল শুরু: ‘দুনিয়া হলো মাকাল ফলের মত’ : উদ্বোধনী বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই

এস এল টি তুহিন, বরিশাল : আমিরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, দুনিয়া হলো মাকাল ফলের মত। এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার পাগল হয়ে চিরস্থায়ী আখিরাতকে নষ্ট করা যাবেনা। দুনিয়ার সকল মানুষই পাগল। কেউ পদ-পদবীর জন্য পাগল, কেউ এমপি-মন্ত্রী হওয়ার পাগল, কিন্তু একদল আছে মাওলা পাকের পাগল। চরমোনাই মাহফিল মূলত মানুষকে মাওলা পাকের পাগল বানিয়ে ছেড়ে দেয়। এতে মানুষ দুনিয়ার মোহ ছেড়ে দিয়ে দ্বীনের পাগল হয়ে যায়। এজন্য আমাদের সবাইকে দুনিয়ার হাকিকত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। সবাইকে চিন্তা করতে হবে। মুরাকাবা করতে হবে। দুনিয়ার সকল মানুষ এমনকি রাজা-বাদশা এবং রাস্তার ফকির সবাই বিবস্ত্র অবস্থায় দুনিয়ার জমিনে জন্মগ্রহণ করেছেন। আবার দুনিয়ার সফর শেষে কবর পথেও একই অবস্থা তথা তিন টুকরা সাদা কাপড় নিয়েই বিদায় নিতে হবে। দুনিয়ায় ভাগ্যক্রমে কেউ ধনবান হয়ে চিরস্থায়ী জগতে জান্নাতের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়া যাবেনা। দুনিয়ার সময়টাকে কাজে লাগিয়ে চিরস্থায়ী জগতের সামান জোগাড় করতে হবে।

পীর সাহেব চরমোনাই মাহফিলে আগত নতুনদের উদ্দেশ্যে বলেন, চরমোনাইতে এসে নিয়তকে পরিবর্তন করে ৩দিন বয়ান শুনে মনের অবস্থা পরিবর্তন করতে হবে। দিলের মধ্য থেকে দুনিয়ার ধ্যান-খেয়াল বিদায় করে দিয়ে আখেরাতের খেয়াল-ধ্যান অন্তরে জায়গা দেন। দিল থেকে বড়ত্ব এবং আমিত্ব ভাব বের করে দিয়ে আল্লাহর কুদরতি পায়ে নিজেকে বিলীন করে দিতে হবে। সদা-সর্বদা আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে দিলকে তরতাজা রেখে আল্লাহর ওলী হয়ে চরমোনাই থেকে বিদায় নেয়ার প্রস্ততি নিতে হবে। এক মূহুর্তও যেন নেক আমলের বাহিরে না কাটে। মনে রাখতে হবে, চরমোনাই মাহফিল প্রতিষ্ঠাই করা হয়েছে মানুষের দিলের অবস্থা পরিবর্তন করে আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য। সুতরাং সে উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই এই বিশাল আয়োজন।

তিনি আরো বলেন, চরমোনাইতে লোক ভারি করার দরকার নেই। যারা চরমোনাইর লেবেল ব্যবহার করে দুনিয়াবী উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় তারা মূলত চরমোনাইর মুরীদ নয়, বরং এরা ধান্দাবাজ। কেউ নির্বাচন এলে দুনিয়াবী নেতা-নেত্রীদের খুশী করার জন্য বলে যে, এই দুইমাস আমি চরমোনাইর মুরিদ না। এরা মূলত এই দরবারকে হাসি-তামাশার খোড়াক বানাতে চায়। এদের চরমোনাইর মুরিদ হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

পীর সাহেব চরমোনাই এসব নামধারী মুরীদদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বুধবার (২২ নভেম্বার) বাদ জোহর ও বাদ মাগরীব ঐতিহাসিক চরমোনাই ময়দানে ১০০তম বার্ষিক অগ্রহায়ণ মাহফিলের উদ্বোধনী বয়ানে উপরোক্ত কথা বলেন পীর সাহেব চরমোনাই।

পীর সাহেব চরমোনাই তাঁর উদ্বোধনী বয়ান শেষে মাহফিলের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা করেন। মাহফিলের দোকান-পাট ব্যবাসায়ীদের নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দেন। অনৈতিক কোনপ্রকার দ্রব্য কেনা-বেচা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সাথে মাহফিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দদের ধন্যবাদ জানান।

মাহফিলের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে গঠিত এক বিশাল বাহিনী চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে চরমোনাইতে এসে পৌঁছেছেন। তাদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও খিদমতের দায়িত্বে আলাদাভাবে দায়িত্ব বন্টন করে দেয়া হয়েছে।

মাহফিলে আগত মুসল্লীদের চিকিৎসার জন্য ৪০ জন অভিজ্ঞ চিকিৎসক টিমের মাধ্যমে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মাহফিল হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক ৫টি এ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। মাহফিলের ২য় দিন সকাল ১০টায় স্টেজে জাতীয় ওলামা সম্মেলন এবং ৩য় দিন সকাল ১০টায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ নভেম্বর শনিবার আনুমানিক সকাল ৮টায় আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে।

ওলামা সম্মেলনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ওলামায়ে কেরাম ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়াও দারুল উলুম দেওবন্দ (ভারত) এর দুইজন সিনিয়র মুহাদ্দিস ওলামা সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। মাহফিলে মূল ৭টি বয়ান করবেন যথাক্রমে আমীরুল মুজাহদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই এবং নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই।




বরিশালে ‘আলহামদুলিল্লাহা‘য় সরগরম ফেসবুক, ৫ আসনে কে হচ্ছে নৌকার মাজি

এস এল টি তুহিন, বরিশাল : বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কে ? এখনো কাউকে চুড়ান্ত করা হয়নি। নির্ভরযোগ্য কেউ নিশ্চিতও করেনি। তবু এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের দুই নেতার অনুসারীরা সরব ফেসবুকে।

দুই নেতার অনুসারীরা ফেসবুকে “আলহামদুলিল্লাহ” লিখে প্রচারে ব্যস্ত। কিন্তু বরিশাল- ৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে ১০ জন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আজ মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সিদ্বান্ত নেয়া হবে কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন।

দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির তৃতীয় দিনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানকের নামে ফরম সংগ্রহ করার পর বরিশালে শুরু হয় তোলপাড়। মঙ্গলবার মনোনয়ন ক্রয় ও জমা দেয়ার দিন শেষ হওয়ার পরেই শুরু হয় বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল অব. জাহিদ ফারুক শামীম এবং সদ্য সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারীদের ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বানী প্রচার। সকলেই শুধু আলহামদুলিল্লাহ লিখেছেন। এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দুই নেতার অন্য অনুসারীরা।

মঙ্গলবার আলহামদুলিল্লাহ লিখে পোষ্ট দিয়েছেন কর্নেল অব. জাহিদ ফারুক শামীম এমপি অনুসারী জেলা ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি জোবায়ের আব্দুল্লাহ জিন্নাহ।

তার সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, জ্বি শতভাগ নিশ্চিত হয়েছি। আমাদের নেতা (কর্নেল অব. জাহিদ ফারুক শামীম) বহাল। তার পোষ্টে মন্তব্য করেছেন ৫৯ জন। তাদের সিংহভাগও জবাব দিয়েছেন আলহামদুল্লিাহ লিখে। কেউ দিয়েছেন কর্নেল অব. শামীমের ছবি, কেউ দিয়েছেন তার পক্ষে সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার ছবিও।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান মনির বুধবার তিনবার আলহামদুলিল্লাহ লিখে একটি পোষ্ট দিয়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সদ্য সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ অনুসারী এ নেতার পোষ্টে ৫৮ জন কমেন্টস করেছেন। ৮ জন শেয়ার করেছেন। কমেন্টকারীর সিংহভাগ আলহামদুলিল্লাহ লিখেছেন। একজন লিখেছেন বরিশালের মাটি সাদিক ভাই ঘাটি তাকেই মাননীয় নেত্রী নৌকা তার হাতেই দেন। এভাবে দুই নেতার অনুসারীরা ফেসবুকে নেতার পক্ষে প্রচারনা করছে।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. লস্কর নুরুল হক বলেন, গত ৮/৯ দিন ধরে ফেসবুকে ঢুকি না। তবে শুনেছি ফেসবুকে দুই নেতার অনুসারীরা আলহামদুলিল্লাহ লিখে ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছে। আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। বৃহস্পতিবার দলটির মনোনয়ন বোর্ড বৈঠক করবে। বৈঠকের পর কে প্রার্থী হবেন মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান প্রার্থীতা ঘোষণা করবেন। সেটা দুইদিন হতে পারে আবার তিনদিন। এর পর আমরা আলহামদুল্লিাহ বলতে পারি।এর আগে কেউ নিশ্চিত করে আলহামদুলিল্লাহ লিখতে পারেন না। কর্নেল অব. জাহিদ ফারুক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। আমার ধারনা প্রধানমন্ত্রী তাকে দলের মনোনয়ন দেবেন বলে আশা করছি । প্রধানমন্ত্রী যদি কোন কারণে পরিবর্তন করেন, যাকে প্রার্থী করবেন তার পক্ষে কাজ করবো ।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি এ্যাড. ফয়েজুল হক ফয়েজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যাকে দলীয় মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কাজ করবো। তবে সংগঠন টিকিয়ে রাখতে বরিশাল-৫ আসনে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে মনোনয়ন দিলে ভালো হয়। সোমবার শেষ বিকেলে বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানকের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। এ নিয়ে বরিশালে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। তখন এ্যাড. নানক জানিয়েছেন, তিনি সংগ্রহ করেননি। কোন শুভাকঙ্খী হয়তো কিনেছেন। বিষয়টি তিনি জানেন না।

এ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানকের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হলেও তা জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহীন সিকদার। বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শাহীন সিকদার বলেন, তিনি সারাদেশের রাজনীতি করেন। বরিশালের রাজনীতিতে তিনি আসেন না। তার পক্ষে কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলো। কিন্তু সেই ফরম জমা দেয়া হয়নি। এ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক ফরম জমা না দেয়ার খবরে আবারো চাঙ্গা হয়েছে বরিশালের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মন্ত্রী ও মেয়র অনুসারীরা। যা সোমবার থেকে ভাটিতে ছিলো। দুই অনুসারীর বাইরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে জোরেসোরে উচ্চারিত হয় মাহাবুবউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টুর নাম।

মনোনয়নের দৌঁড়ে থাকা মাহাবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, অন্য প্রার্থী সম্পর্কে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমার ক্ষেত্রে আমি শতভাগ আশাবাদী। এ আসনে নেত্রী তাকে মনোনয়ন দেবেন।

বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, কাকে মনোনয়ন দেবেন সেটা প্রধানমন্ত্রী ভালো জানেন। এ জন্য বৃহস্পতিবার সভা করা হবে। এর আগে এ ধরনের পোষ্ট দেওয়া ঠিক নয়। আমি আশাবাদী। তবে মনোনয়ন না পেলে যাকে দেওয়া হবে তার পক্ষে কাজ করবো। বিগত দিনে কাজ করেছি। ভবিষ্যতে কাজ করবো।




বরিশাল-২ আসনে নৌকা প্রতীকের ২০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী

এস এল টি তুহিন, বরিশাল : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকারী দল আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বরিশাল বিভাগে সবোর্চ্চ ২০ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন বরিশাল -২ আসনটিতে। তারা সকলেই নৌকার মাঝি হতে চান ।

এক ও অভিন্ন লক্ষ্যে ২০ জন প্রার্থী নৌকা প্রতীকের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করে জমা দিয়েছেন দলের নীতি নির্ধারকদের কাছে। সকলেই তাকিয়ে আছেন দলের প্রধানের সিদ্ধান্তের দিকে। নানা কারণে এ আসনটিতে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন চাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রায় ২ ডজন রাজনৈতিক নেতারা। তার মধ্যে দুজন বর্তমান সংসদ সদস্য ও দুজন সাবেক সংসদ সদস্য ও দুজন সাংবাদিক রয়েছেন।

দলের মনোনয়ন প্রত্র জমা দিযেছেন তারা হলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক সংসদ এ্যাড. তালুকদার মো: ইউনুস, বর্তমান এমপি শাহে আলম, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সৈয়দা রুবিনা মীরা, সাবেক সংসদ মনিরুল ইসলাম মনি, শেরে বাংলার দৌহিত্র আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সদস্য ফায়জুল হক রাজু, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য আনিসুর রহমান, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবিদ আল হাসান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুখেন্দু শেখর বৈদ্য, বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম ফারুক, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানা, পৌরসভার মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য হাবিবুর রহমান খান, বিটিভি সাংবাদিক সুজন হালদার, সাংবাদিক সোহেল সানি, আওয়ামী লীগ উপ কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ক্যাপ্টেন মেয়াজ্জেম হোসেন, উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হাকিম সন্যামত, ইদ্রিস মোল্লা ও আব্দুল হক , মাজাহারুল হক মিরাজ।

সন্ধ্যা নদীর বুক চিরে দু’প্রান্তে উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল -২ আসনটি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারী দল আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন প্রায় ২ ডজন খানেক আওয়ামী লীগ নেতা।

এ আসনটির বর্তমান সংসদ মো: শাহে আলমের নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে ও ক্ষমতার দাপটে দিশেহারা নির্বাচনী এলাকার মানুষ। এলাকার নিজ দলের নেতাকর্মীরাও তার কাছ থেকে মূখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি এখন প্রায় জনবিচ্ছিন হয়ে পরায় এ আাসনটিতে প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম ফারুক।

তিনি আরও বলেন, নানা নটকীয়তায় ২০১৮ সালে হঠাৎ করে বরিশাল -২ আসনে শাহে আলম দলীয় মনোনয় পান তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া পর তার নিজ উপজেলা বানারীপাড়ায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জমি দখল। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর নির্মম নির্যাতন। দু উপজেলায় বেশ কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে দলের প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করা, তার উপস্থিতিতে উজিরপুরে দলের এক সিনিয়র নেতাকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন বসানো নিয়ে দূর্নীতি ও দুই উপজেলা উজিরপুর ও বানারী পাড়ায় দলের নেতা কর্মীদের সাথে বিরোধ ঘটনায় বেশ সমালোচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য শাহে আলম। সর্বশেষ তাকে রাজাকার পুত্র আখ্যা দিয়ে তাকে মনোনয়ন না দেয়ার দাবীতে ৩২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধারা বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেন।

বরিশাল উজিরপুর উপজেলা আওযামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, এ আসনটিতে একজন পরিচ্ছন্ন নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হোক। যার কাছে নৌকা প্রতীক থাকবে নিরাপদ। বর্তমান সংসদ সদস্য শাহে আলমের নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে এ আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী’র সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী হিন্দু বৈদ্ধ খ্রিষ্টান পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ও স্বেচ্ছাস্বেচ্চাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুখেন্দু শেখর বৈদ্য বলেন সাংসদ শাহে আলম’র নির্যাতনের কারণে তিনি নিজে প্রার্থী হয়েছেন। তার মতো হাজারো নৌকা প্রতীকের নেতাকর্মী এমপি শাহে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশীর ভাগ নেতারাই মনোনয়ন প্রশ্নে শাহে আলম বিরোধী।

বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানা বলেন, শাহে আলম জীবনে প্রথম প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক পেয়ে সহজে জয় লাভ করার পর এমপি হিসাবে তার কর্মকান্ডে দলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সে কারণে আসনটিতে দলের মনোনয়ন প্রত্যশীর সংখ্যা বেড়েছে তবে দলের নীতি নিধারকের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।

একজন ভাল কর্মী বান্ধব নেতাকে দলের মনোনয়ন দেয়ার দাবী জানান তিনি। মনোনয়ন প্রত্যাশী সংরক্ষিত সংসদ সৈয়দা রুবিনা মীরা বলেন, তিনি উজিরপুর ও বানারী পাড়ায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন জনগন তার উপর আস্থা রেখেছেন সে কারণে তিনি সরাসরি ভোট যুদ্ধে প্রার্থী হতে দলের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।




সংসদ নির্বাচন : মনোনয়নপ্রত্যাশী ৩৩৬২, ইতিবাচক মনে করছে আওয়ামী লীগ

আসনপ্রতি দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী ১১ জনেরও বেশি। এত সংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী তৃণমূলে বিভাজন ও দ্বন্দ্বের কারণ হবে কি না- এমন প্রশ্ন ছিল দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে।

জবাবে তারা বলছেন, বিষয়টি ইতিবাচক। নেতিবাচক মনে করার কোনো কারণ নেই। আওয়ামী লীগের মতো বড় দলে এটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য হলো, দলীয় স্বার্থ ও সিদ্ধান্তে নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যান। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও তাই হবে।

গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত টানা চার দিন মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে আওয়ামী লীগ। এতে ৩ হাজার ৩৬২টি ফরম বিক্রি হয়, যা থেকে আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

তবে আগের বারের তুলনায় এবার দলটির মনোনয়ন ফরম বিক্রি কম হয়েছে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪ হাজার ২৩টি ফরম বিক্রি হয়েছিল। হিসাব অনুযায়ী, গত বারের তুলনায় এবার ৬৬১টি ফরম কম বিক্রি হয়েছে।

তবে আগের চেয়ে কম হলেও এবার মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে আওয়ামী লীগের আয় বেশি হয়েছে। এবার ফরমপ্রতি ৫০ হাজার টাকা হারে ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা আয় করেছে দলটি। ২০১৮ সালে তারা মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে আয় করেছিল ১২ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সেবার ফরমপ্রতি দাম ছিল ৩০ হাজার টাকা।

এবার গড়ে প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ১১ জন। গত সংসদ নির্বাচনে প্রতি আসনের বিপরীতে দলটির মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন ১৩ জন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি হবে ভোট গ্রহণ। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে দলের মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে।




পৌনে ১৭ কোটি আ.লীগের ৩৩৬২ মনোনয়ন ফরম বিক্রি, আয় পৌনে ১৭ কোটি

চন্দ্রদীপ নিউজ: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের ৩ হাজার ৩৬২ মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে দলটি আয় করেছে ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দলটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

গত শনিবার থেকে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত দলটির মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলে।

প্রথম দিনে ১ হাজার ৭৪টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন প্রার্থীরা। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০টি মনোনয়ন ফরম সরাসরি সংগ্রহ করা হয়েছে। আর অনলাইনে ১৪ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। দ্বিতীয় দিনে ১ হাজার ২১২টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে দলটি। এর মধ্যে সরাসরি সংগ্রহ করা হয় ১ হাজার ১৮০টি। আর অনলাইনে বিক্রি হয়েছে ৩২টি। তৃতীয় দিনে ৭৩৩ জন দলটির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এর মধ্যে সরাসরি মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৭০৯ জন। বাকি ২৪ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন অনলাইনে। আর শেষ দিনে মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয় ৩৪৩টি।

এর মধ্যে বিভাগ অনুযায়ী ঢাকায় ৭৩০টি, চট্টগ্রামে ৬৫৯টি, রাজশাহীতে ৪০৯টি, খুলনায় ৪১৬টি, রংপুরে ৩০২টি, ময়মনসিংহে ২৯৫টি, সিলেট ১৭২টি এবং বরিশালে ২৫৮টি মনোনয়ন বিক্রি করে দলটি। অনলাইনে মোট মনোনয়ন ফরম বিক্রি ১২১টি৷

ইসি ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই চলবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়ন আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়ে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত চলবে।

এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনতে প্রার্থীদের গুণতে হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা রয়েছে। এই বোর্ড যাচাই বাছাই করে এবারের নির্বাচনে দলটির প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।




নৌকার মনোনয়নপত্র কিনলেন রোকেয়া প্রাচী

চন্দদ্বীপ  বিনোদন ডেস্ক:  আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন অভিনয়শিল্পী, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ রোকেয়া প্রাচী।সোমবার (২০ নভেম্বর) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে একইদিনে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে রোকেয়া প্রাচী বলেন, ‌‌‌‘আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত দীর্ঘদিন ধরে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে মুক্তিযুুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বড় হয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের প্রতিনিধিত্ব করছি। নারী হিসেবে নারীদের প্রতিনিধিত্ব করছি, সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদের প্রতিনিধিত্ব করছি। একই সঙ্গে শ্রমিক নেত্রী হিসেবে শ্রমিক ফেডারেশন ও তৃণমূলের শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করছি। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তবে অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নেবো।’

‘আর যদি সে সুযোগ নাও পাই তারপরও কাজ করবো। আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী আমি বা যে কেউ হোক, সেটা বড় কথা নয়। প্রার্থী যেই হোক ভোট চাই নৌকায়। বিজয় হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তাই নৌকার বিজয়ের লক্ষ্যে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছি’,যোগ করেন রোকেয়া প্রাচী।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভুঁইয়া) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন রোকেয়া প্রাচী। আসনটি মহাজোটকে ছেড়ে দেওয়ায় আওয়ামী লীগের কেউ মনোনয়ন পায়নি।




বরিশাল-৩ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন সাইফুল আলম

বরিশাল অফিস: আগামী জাতীয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক বাবুগঞ্জে কৃতিসন্তান এম সাইফুল আলম।

সকাল ১১ টায় বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মীকে সাথে নিয়ে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডের নেতৃবৃন্দের হাতে মনোনয়ন ফরমটি জমা দেন তিনি।

এসময় এক প্রতিক্রিয়ায় এম সাইফুল আলম বলেন, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে পুনরায় দেশের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবেন ’ এ আশাবাদ ব্যক্ত করে এম সাইফুল আলম বরিশাল-৩ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন।

মনোনয়ন পেলে জয়লাভের আশা ব্যক্ত করে পিছিয়ে পড়া বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনকে আধুনিক ও স্মার্ট গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাবুগঞ্জ-মুলাদীর সার্বিক উন্নয়নে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাব। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পূর্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগ নেতা এম সাইফুল আলম।

এ সময় তার সাথে কেন্দ্রীয় যুবলীগের ও বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ যুবলীগসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এম সাইফুল আলম বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের হাজী মোহাম্মদ হোসেন মোল্লার কনিষ্ঠ পুত্র। স্কুল জীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন এম সাইফুল আলম। সরকারী বাংলা কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। পরে আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরেন। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক হিসেবে রয়েছে।

এম সাইফুল আলম বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী-একদিকে সফল রাজনীতিবিদ অন্যদিকে সফল ব্যবসায়ী, অত্যান্ত বিণয়ী ও পরোপকারী সাইফুল আলম সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন একজন দক্ষ ব্যবসায়ী, সম্জ সেবক এবং আদর্শিক রাজনীতিবিদ হিসেবে।

তিনি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত সান সিটি গ্রুপ অব কম্পানির দুবাই ও কাতারে ব্যাপক সুনামের সাথে দীর্ঘদিন ব্যবসা করে আসছেন। বাবুগঞ্জের সন্তান এম সাইফুল আলম অসহায়দের সাহায্যের হাত বাড়িতে দিতে এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যান মন্ত্রাণালয় অনুমোদিত সমাজসেবা মূলক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ওয়েল ফেয়ার অর্গানাইজেশন। সমাজ সেবার মহান ব্রত নিয়ে নিজ গ্রামে নিজ অর্থে প্রতিষ্ঠা করেছেন জামে মসজিদ, গরীব দুঃখীদের সাহায্যে তার হাত রেখেছেন খোলা। তাই সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে সুখ দুঃখের অংশীদার হতে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনায়ন প্রত্যাশা করেন এম সাইফুল আলম। নৌকার মাঝি হয়ে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়ন ঘটাতে চান তিনি।




এই শুভ দিনে আমার সঙ্গে লোক আসবেই : মাহি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য গত ১৮ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। আজ (সোমবার) বিকেলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজির হয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেন তিনি।



‘কেউ নির্বাচন করতে না চাইলে তাকে নিয়ে আসা সরকারের দায়িত্ব না’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : কেউ নির্বাচন করতে না চাইলে তাকে নিয়ে আসা সরকারের দায়িত্ব না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার (২০ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয়াদি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।