বরিশাল সদর আসনে মুখোমুখি মন্ত্রী ও সাবেক মেয়র, আতঙ্কে ভোটাররা

বরিশাল অফিস: আগেভাগেই জমে উঠেছে বরিশাল-৫ আসনের নির্বাচন। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সদ্য বিদায়ী সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। বহু আগে থেকেই মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সঙ্গে দলীয় প্রার্থী জাহিদ ফারুকের তিক্ত সম্পর্ক রয়েছে। সাদিকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে প্রার্থী হওয়া তাঁর অধিকার।

এদিকে প্রভাবশালী দুই নেতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে কিছুটা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন ভোটাররা। তাঁদের মতে, ভোটকেন্দ্রে ভোটার বাড়াতে আওয়ামী লীগ নিজ দলে একাধিক প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনের যে অবস্থা তৈরি করছে তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। একই দলের পরস্পর বিরোধী অবস্থানে আতঙ্কে আছেন তাঁরা। এতে ভোটসংখ্যা কমে যাবে বলে ধারণা করছেন ভোটার ও বিশিষ্টজনেরা।

শিক্ষাবীদ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা বলেন, ‘গোড়া রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য যারা তাঁরা নৌকার বিপরীতে স্বতন্ত্র হলে তা কেউ ভালো চোখে দেখে না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন বিভক্তি কর্মীদের একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলবে। এর প্রভাব পড়বে ভোটারদের ওপর। ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে যাবে।’

উন্নয়নকর্মী আফরোজা মিতার বলেন, ‘এমনিতেই মানুষ ভোটকেন্দ্রে আসতে চায় না। এর ওপর আবার ক্ষমতাসীন দলের দুই প্রার্থী দেখলে ভয়ে আরও কেন্দ্রে আসবে না। ভোটকেন্দ্রে ভোটার বেশি করার এই কৌশল মার খাবে। যে পরিমাণ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তাতে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি শূন্যের কোঠায় নেমে যাবে।’

এদিকে বিষয়টিকে পীড়াদায়ক পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন বরিশালে সুশীল সমাজের নেতৃত্বদানকারী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কাজ করা ব্যক্তিরা। অতিসত্বর এক দল এক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা চেয়েছেন তাঁরা।

বরিশাল সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘এক দলে বহু প্রার্থীর ঘোষণায় একটি রোমহর্ষক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় দলের মধ্যে কোন্দল আরও স্পষ্ট হবে। প্রকাশ্যে রূপ নেবে হানাহানি। অবিলম্বে আওয়ামী লীগের উচিত এক দল এক প্রার্থীর ঘোষণা দেওয়া। তা না হলে দলীয় বিরোধ ঘরে ঘরে কোন্দল সৃষ্টি করবে।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনং সাদিক আব্দুল্লাহর নির্বাচনী মুখপাত্র নঈমুল হোসেন লিটু বলেন, ‘আমরা পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচনে আসিনি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সুযোগ দিয়েছেন প্রার্থী হতে, আমরা বিদ্রোহী নই। যার জনপ্রিয়তা থাকবে, সে বিজয়ী হবে। বিএনপি–জামায়াতের ভোট বিনষ্টের চেষ্টার বিপরীতে এটা আমাদের শক্ত অবস্থান।

চন্দ্রদীপ নিউজ/ এস এল টি 




বিশ্লেষণ: তফসিল পেছালেই কি সমঝোতা সম্ভব?

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক ::  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর)। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগ মুহূর্তেও বিএনপি নির্বাচনে আসে কিনা তা নিয়ে দিনভর সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি কৌতূহল ছিল। সেই কৌতূহল থেকেই বিএনপি আজ মনোনয়নপত্র জমা দেয় কিনা তা দেখতে অনেকেই উৎসুক হয়ে অপেক্ষা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি আজ কোনো মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি একটি জানার উৎসাহ থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আগেই বুঝতে পারছিলেন যে, বিএনপি নির্বাচনে আসছে না। কারণ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনেও তারা হরতাল পালন করেছে। তাছাড়া বিএনপির পক্ষে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য কোনো ধরনের প্রস্তুতিও নেই।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতারা এখন কারাগারে। এই অবস্থায় নির্বাচন নিয়ে সংলাপ হওয়াটাও অসম্ভব। কারণ সংলাপের জন্য কথা বলার মতো নেতা কেউ কারাগারের বাইরে নেই।

কথা হচ্ছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা অতিক্রম করার পর প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নির্বাচনে আসার কিংবা সমঝোতার আর কি কোনো সুযোগ রয়েছে কিনা। আজ দিন শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়নি। তার মানে বিএনপিকে ছাড়াই কি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অথচ একাধিক নির্বাচন কমিশনার বারবারই বলছিলেন বিএনপি নির্বাচনে এলে তফসিল পিছিয়ে দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তফসিল পেছানো এখনো সম্ভব। আর নির্বাচন কমিশনের হাতে সেই ক্ষমতাও রয়েছে। যদিও ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ৪৫ দিন সময় থাকার প্রয়োজন। সেই হিসেবে এবার নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এক সপ্তাহ সময় হাতে রয়েছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল পেছানো যেতে পারে। বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের ওপর। তবে বিএনপি যদি নির্বাচনে না-ই আসে তাহলে তফসিল পিছিয়ে কি লাভ তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা কারাগারে আর যারা বাইরে রয়েছেন তারাও প্রকাশ্যে আসছেন না। এ অবস্থায় আলোচনা বা সংলাপে বসার মতো পরিস্থিতি নেই। রাজনৈতিক যে পরিবেশ এখন বিরাজ করছে কিংবা বিদেশি কোনো দেশের পক্ষ থেকেও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তফসিল পেছানো যেতে পারে। তফসিল শুধু পেছানোই নয়, চাইলে নির্বাচন কমিশন তা বাতিলও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে কমিশনকে অনেক সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অতীতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনো কমিশনকে নিতে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও আর কোনো ধরনের উদ্যোগ নেই। যদিও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সময়সীমা ঠিক রেখে যদি তফসিল সমন্বয় করে সেটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। অর্থাৎ সরকারের পক্ষ থেকে একটি সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের পর সেই সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

এদিকে সরকারের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ আগে থেকেই পুনঃতফসিলের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে সরকারের কাছে রওশন এরশাদের এই দাবি আদৌ প্রাধান্য পাবে না বলেই অনুমিত।

যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি এবং ইউরোপের সাতটি দেশের রাষ্ট্রদূতরা বুধবার নির্বাচন কমিশনে গিয়েছেন এবং বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূতরা গণতান্ত্রিক, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলেছেন। তবে নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন।

বিএনপি নেতারা অবশ্য বলছেন, তারা যেহেতু সরকারের পদত্যাগের আন্দোলন করছেন, তাই তফসিল পেছানো হোক না হোক এ বিষয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, তারা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন চান। এখানে মনোনয়ন জমার সময়সীমা বাড়ালেই তাদের দাবি অর্জিত হবে না।

সবকিছু বিবেচনা করে এবং বিএনপি-আওয়ামী লীগের অনড় অবস্থানে এটা স্পষ্ট যে, তফসিল পেছালেই দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হবে না। এজন্য চাই আন্তরিক উদ্যোগ এবং শর্তহীন সংলাপ।

চন্দ্রদীপ নিউজ/ এস এল টি




দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন: আসন প্রতি লড়বে ৯ জন

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক :  আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি রাজনৈতিক দলের ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ২৭৪১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩০০টি আসনের জন্য আজ (৩০ নভেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত ২৭৪১ জন মোট মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। মোট দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র সমূহে ৩০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে।

তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন। এদিন বিকেল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মোট ২৭৪১ জন প্রার্থীর মধ্যে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৭৩জন।

২৭৪১ জন প্রার্থীর মধ্যে ফেনী-১ আসনে সর্বোচ্চ ৪০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। সর্বনিম্ন ৪ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন একাধিক আসনে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিভিন্ন দলের ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি দলেই অংশ নেয়। মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিল ৪৯৮টি আর দলীয় মনোনয়নপত্র ছিল ২৫৬৭টি। অনলাইনে মাত্র ৩৯টি মনোনয়নপত্র জমা হয়, বাকিগুলো প্রচলিত পদ্ধতিতে সরাসরি রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে।

চন্দ্রদীপ নিউজ/ এস এল টি




বরিশালে দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন মেনন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন সাদিক ও পংকজ

 বরিশাল অফিস: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বরিশাল-৫ (সদর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সদ্য বিদায়ী মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। একইভাবে শুরু থেকে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথা বললেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য পংকজ নাথ। তিনি এলাকায় না এসে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

অন্যদিকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের পক্ষে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) ও বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতারা। রাশেদ খান মেনন ঢাকা-৮ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। এবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে সেখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মহাজোটে এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই মেননের পক্ষে বরিশাল-২ ও ৩ আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলো।

রাশেদ খান মেননের পক্ষে গতকাল বুধবার প্রথমে বরিশাল-৩ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন স্থানীয় নেতারা। পরে আজ বৃহস্পতিবার বরিশাল-২ আসনেও তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জাম্মেল হক। বরিশাল-২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে জহিরুল ইসলাম ও বরিশাল-৩ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতানও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই দুই আসনে তালুকদার মো. ইউনুস ও সরদার খালেদ হোসেনকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

বরিশালের বাবুগঞ্জের বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে রাশেদ খান মেননের পৈতৃক বাড়ি। জাতীয় রাজনীতির বর্ষীয়ান এই নেতা ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালে এ অঞ্চল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য পংকজ নাথ এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহম্মেদকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর পংকজের অনুসারী নেতারা বলেছিলেন, তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন না। কিন্তু আকস্মিকভাবে আজ অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন পংকজ নাথ। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পংকজ নাথের বিরুদ্ধে দলের প্রার্থীর বিপক্ষে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী দাঁড় করানো, বিপক্ষে গেলে হামলা চালিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া, কোপানোর হুমকিসহ নানা অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। দলের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ তোলার পর গত বছর দলের সব পদ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। এবার তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তিনি এই আসনে ২০১৪ ও ২০১৮ দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বরিশালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন পংকজ নাথ :

এ বিষয়ে জানতে পংকজ নাথের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কেটে দেন। পরে খুদে বার্তা দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। পংকজ নাথের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সুভাষ চন্দ্র সরকার  চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেন, ‘তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন না বলে জানিয়েছিলেন। এরপর প্রার্থী হয়েছেন কি না, জানি না।’

সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র জমা :

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর পক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগে গত মঙ্গলবার তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।

মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সদর আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলাম। আজ তা জমা দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। তাঁদের মধ্যে কোনো শঙ্কা নেই। গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁদের পরবর্তী কার্যক্রম দেখতে পাবেন।

সাদিক আবদুল্লাহ এবার সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি। এরপর বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুককে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর সাদিক আবদুল্লাহকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে উৎসাহ দিচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বরিশাল সিটির নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ও আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে ছিটকে পড়া নেতা-কর্মীরা।

চন্দ্রদীপ নিউজ/ এস এল টি




জেল থেকে বেরিয়ে নৌকা প্রতীক পেলেন বিএনপি নেতা শাহজাহান ওমর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঝালকাঠি-১ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন।



রোববার থেকে ফের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ বিএনপির

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বাতিল ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবিতে নবম ধাপে দেশব্যাপী আরও ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। রোববার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত সড়ক, নৌ ও রেলপথে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, রোববার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। সব সমমনা দল ও জোটের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি সফল করবেন। আমাদের আন্দোলন বিজয়ের পথে ধাবিত হচ্ছে। বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সারাদেশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলা মামলা ও নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে বলে জানান রিজভী। তবুও নেতাকর্মীরা দৃঢ়তার সঙ্গে রাজপথে থেকে সর্বাত্মকভাবে কর্মসূচি সফল করছেন। এজন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রিজভী।

গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির মহাসমাবেশ পুলিশ পণ্ড করে দিলে তারা এ সরকারের পদত্যাগের একদফাসহ মহাসমাবেশে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে। সমমনা জোটগুলোও এই কর্মসূচির যুগপৎভাবে পালন করেছে। এরপর থেকে পর্যায়ের ক্রমে তারা প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার এবং শুক্রবার-শনিবার ছুটির দুইদিন বিরতি দিয়ে ৪৮ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচি করে যাচ্ছে। এই পর্যন্ত তারা ৮ম দফায় অবরোধের কর্মসূচি পালন করেছে।




বিএনপি এখন আকাশ আর পশ্চিমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে : তথ্যমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচনী আমেজে বিএনপির সমস্ত কর্মসূচি হাওয়ায় মিলে গেছে। আমি আশা করব বিএনপি এই অপরাজনীতির পথ থেকে বের হয়ে আসবে। বিএনপি এখন আকাশ আর পশ্চিমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। সেখান থেকে যদি কিছু হয়। আসলে এভাবে একটি দল টিকে থাকতে পারে না।



বরিশালের ৬টি আসনের ১৭ জনের মনোনয়নপত্র দাখিল

বরিশাল অফিস :: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বেলা ১২টা পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর থেকে তথ্য জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০) নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে বরিশাল-৫ আসন থেকে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বরিশাল-৫ ও বরিশাল-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় জাপা যুগ্ম মহাচিব ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস, বরিশাল-২ এবং বরিশাল-৩ আসন থেকে বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন, বরিশাল-২ আসন থেকে বিএনপি তৃনমূল প্রার্থী শাজাহান সিরাজ মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

সকালে বরিশাল-২ এবং বরিশাল-৫ আসন থেকে মনোনয়ন জমা দেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলে বরিশাল মহানগর জাতীয়পার্টি আহবায়ক অধ্যাপক মহসিন- উল- ইসলাম হাবুল। এরপর বরিশাল-২ ও বরিশাল-৩ আসেনে বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন এর পক্ষে বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নিলু ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.শেখ মো: টিপু সুলতান মনোনয়ন পত্র জমা দেন। এরপর বরিশাল-২ আসন থেকে বিএনপি তৃনমূলের প্রার্থী মো : শাজাহান সিরাজ মনোনয়ন পত্র জমা দেন। পরে বেলা ১২ টার দিকে বরিশাল-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ পক্ষে নেতৃবৃন্দ মনোনয়ন জমা দেন।

এ সময় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, সহ-সভাপতি ও সাবেক বিসিসি প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হাসান লিটু, বরিশাল জেলা আওয়মী লীগের সহ-সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, আওয়ামী লীগ নেতা ও বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, বিসিসি সাবেক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন,বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদিপ কুমার ঘোষ পুতুল, সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে না জাতিসংঘ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  আগামী ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিককে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে কি না সে বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়।

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণ যেন নির্বিঘ্নে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডুজারিক বলেন, সুনির্দিষ্ট ‘ম্যান্ডেট’ ছাড়া আমরা এমন সিদ্ধান্ত খুব কম, খুবই কম নিয়ে থাকি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আবারও নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি যেন লোকজন তাদের ভোট এবং মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়।




স্যাংশনের ভয়ে আছে নির্বাচন কমিশন : এবি পার্টি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  এবি পার্টির সদস্য-সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের প্রেসক্রিপশনে ৭ জানুয়ারি যে একতরফা প্রহসনের নির্বাচন করতে যাচ্ছে তা হবে আওয়ামী লীগের জন্য চিরস্থায়ী গলার কাঁটা। বিএনপি নেতাদের জেলে ঢুকিয়ে সরকার এখন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে কল্পিত প্রতিপক্ষ বানিয়ে ভয়ে কাঁপছে।