এবার দেশের সব ইউএনওকে বদলির নির্দেশ ইসির




দেশের সব থানার ওসি বদলির নির্দেশ ইসির

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  দেশের সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদলি করতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে উদ্দেশ্য করে এ নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।



নির্বাচনে মনোনয়ন জমা ২৭১৩টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭৪৭ জন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ৩০০টি আসনে মোট ২ হাজার ৭১৩টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩২টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৯৬৬ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ৭৪৭ জন।



‘রাতের আঁধারে ফসল কেটে ঘরে তুলতে দেবোনা’

 বরিশাল অফিস :: আমরা ফসল উৎপাদন করবো আর সেই ফসল রাতের আঁধারে আরেকজন কেটে ঘরে তুলবে, আমরা সেটা চাই না। আমাদের ফসল আমাদের ঘরে রাখতে চাই। আমরা কোনো বহিরাগতর ঘরে ফসল নিতে দেবো না।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর হোসেনের এ বক্তব্য নিয়ে গত তিনদিন ধরে ব্যাপক তোলপাড় চলছে গোটা বরিশালজুড়ে। যা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরেছেন চরম বিব্রতকর অবস্থায়।

শুক্রবার সকালে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট লস্কর নুরুল হক বলেন, এ বক্তব্য যে দিয়েছেন, তিনি আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তার মতো দায়িত্বশীল মানুষের মুখে এ ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য বেমানান। তার এই বক্তব্য পুরো আওয়ামী লীগের ওপর গিয়ে পরেছে। তিনি আরও বলেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের সামিল। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়েছে। এখন আমরা কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছি, তারা কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেন সে বিষয়টি দেখার জন্য।

উল্লেখ্য, নগরীতে শান্তি সমাবেশের নামে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সদস্য সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নির্বাচনী প্রচারনায় গত ২৯ নভেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেছেন, কোনো প্রশাসন ব্যবহার করে আপনারা বাক্স ভরবেন সেই সুযোগটি নেই, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের নির্যাতন করেছে, সেই সুযোগ এবার নেই। এ ধরনের বক্তব্যটি বিভিন্ন মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিজ দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।




বরিশালে ৬ টি আসনে ৫৬ প্রার্থী

বরিশাল অফিস ::  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনে ৫৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এরমধ্যে দুইজন প্রার্থী দুইটি করে আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে এই মনোনয়নপত্রগুলো দাখিল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, বরিশাল-১ আসনে চারজন প্রার্থী, বরিশাল-২ আসনে ১৩ জন, বরিশাল-৩ আসনে নয়জন, বরিশাল-৪ আসনে ছয়জন, বরিশাল-৫ আসনে আটজন এবং বরিশাল-৬ আসনে সর্বোচ্চ ১৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে বরিশাল-২ ও ৩ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং বরিশাল-২ ও ৫ আসনে জাপা মনোনীত ইকবাল হোসেন তাপস মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া শেষসময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, আমি আগে থেকেই মনোনয়নপত্র ক্রয় করতে চাইনি। তবে নেতাকর্মীদের কারণে শেষসময়ের কিছু আগে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ। তিনি ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে ড. শাম্মী আহমেদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। তিনি একসাথে অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের নাগরিক। বিধি অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব সারেন্ডার করার কথা থাকলেও তিনি সেটি করেননি। আর তা যদি সত্যিই হয়, তাহলে তার জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বরিশাল-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী ডক্টর শাম্মী আহমেদ বলেন, আমি বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন মেনে সব কিছু করেছি। সংবিধান পরিপন্থি কোনো কাজ কারিনি। নির্বাচন কমিশন চাইলে বিষয়টি জানতে পারবে। এটা গোপনীয় ও কঠিন কোনো বিষয় না। যারা এসব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চন্দ্রদীপ নিউজ/ এস এল টি




বিএনপি-সমমনা নেতারা ‘তামাশার নির্বাচন’ প্রতিরোধ ছাড়া বিকল্প নেই

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলগুলোর নেতারা এমন মন্তব্য করেন। একতরফা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহের যৌথসভায় এ কথা বলেন তারা।

সভায় বক্তারা বলেন, আমরা রাজপথে সক্রিয় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করে আসছি। এজন্য আমরা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, জাতীয় সংসদের বিলুপ্তি, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তার রাজবন্দিদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ব্যবস্থা ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে যুগপৎ ধারায় এক আন্দোলনে আছি আমরা। এসব দাবি এরই মধ্যে গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।

তারা বলেন, গণদাবির এই আন্দোলনে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পরিকল্পিত সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে সরকার ও সরকারি দল গত ২৮ অক্টোবর বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর মহাসমাবেশ পণ্ড করে দেয়। বিএনপিসহ বিরোধীদের ওপর এই দায় চাপিয়ে গত একমাস দমন, নিপীড়ন ও গ্রেফতারের পথে দেশব্যাপী তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সরকার ও সরকারি দলের এসব নৃশংসতায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের জন্য আমরা গভীর শোক প্রকাশ করি। নিহত, আহত ও কারাবন্দিদের পরিবারের প্রতি আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।

বক্তারা বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি সরকারের পদত্যাগের গণদাবি উপেক্ষা করে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আরেকটি একতরফা নীলনকশার নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে। সরকারের এই রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সরকারের সহযোগী হিসেবে নির্বাচন কমিশন আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। পাতানো এই নির্বাচনের অংশ হিসেবে আজ কথিত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখও নির্ধারণ করেছে। জনগণের ভোটের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সমগ্র এই নির্বাচনের তফসিলকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

তারা বলেন, আমরা অনতিবিলম্বে ৭ জানুয়ারি ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমরা অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অনতিবিলম্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাই।

বক্তারা আরও বলেন, আমরা সরকার ও সরকারি দলের সব ধরনের উসকানি, সহিংসতা ও পরিকল্পিত নাশকতা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে চলমান গণসংগ্রামকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই। এই আন্দোলনে সব বিরোধী রাজনৈতিক দল, শ্রেণি-পেশা ও সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তারা।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণদলের চেয়ারম্যান এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী, জাগপা সভাপতি খন্দকার লুতফর রহমান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি মুহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান এম এন শাওন সাদেকী, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির মহাসচিব মো. আবুল কাশেম, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. নেয়ামুল বশির, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের মহাসচিব হারুন আল রশিদ খান।

আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) সাধারণ সম্পাদক হারুন চৌধুরী, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির কো-চেয়ারম্যান পারভীন নাসের ভাসানী, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানী) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল আহাদ প্রমুখ

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন- অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল করিম, রাশেদ প্রধান, মো. ফারুক রহমান, শাহাদাত হোসেন সেলিম, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ডা. সামছুল আলম, ফারুক হাসান, আবুল কালাম আজাদ, বাবুল সরকার চাখারী।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আরও অংশ নেন- শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, সুব্রত চৌধুরী, কারি আবু তাহের, সাইফুল হক, জাভেদ সালাউদ্দিন, শাহ আহমেদ বাদল, ব্যারিস্টার নাসিম খান, কমরেড ডা. নুরুল ইসলাম, খোকন চন্দ্র দাস প্রমুখ।




যে কারণে বিএনপি ছাড়লেন শাহজাহান ওমর

চন্দ্রদীপ নিউজ :: কারামুক্তির পরদিনই অনেকটা নাটকীয়ভাবে বিএনপি থেকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ওমর বীরউত্তম।

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিজের আইন পেশার চেম্বারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আপালকালে শাহজাহান ওমর বলেন, এই মুহূর্ত থেকে আমি আর ‘বিএনপি ম্যান’ নই।

হঠাৎ করে দল বদল করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে শাহজাহান ওমর বলেন, আর কতবার নির্বাচনের বাইরে থাকব। এসময় তিনি বলেন, বিএনপির ২০১৪ সালের নির্বাচনে যাওয়া উচিত ছিল।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি যেন ভোটে আসে, সেজন্য কারাগারে দলের মহাসচি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য শীর্ষ নেতাদের বলেছেন বলে জানান তিনি। ওই সময় তারা ইতিবাচক মনোভাবও দেখিয়েছিলেন বলে দাবি শাহজাহান ওমরের।

বিএনপির ভোট বর্জনের নীতির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে দলটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আর কতবার আমরা নির্বাচনের বাইরে থাকব? বিএনপির দোষ-গুণ বিবেচনার সামর্থ্য আমার নাই। আমি মনে করি, বিএনপির ২০১৪ সালে নির্বাচনে যাওয়া উচিত ছিল। ২০১৮ সালে যাওয়া মিসটেক ছিল এবং এবার যাওয়া উচিত ছিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ওমর বিএনপির টিকিটে ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

জোট সরকারের আমলে তিনি আইন প্রতিমন্ত্রী ও ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ না পাওয়ায় এবং ঝালকাঠি জেলা বিএনপির নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে তারেক রহমানের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।

চন্দ্রদীপ নিউজ/ এস এল টি




নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৩০টি রাজনৈতিক দল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ৩০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে, প্রার্থী সংখ্যা প্রায় পৌনে তিন হাজার।



পটুয়াখালীর চারটি সংসদীয় আসনে ২৮ প্রার্থী

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী-৪ টি সংসদীয় আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছে ।

এর মধ্যে পটুয়াখালী -১ আসনে ৮ জন, পটুয়াখালী -২ আসনে ৬ জন, পটুয়াখালী-৩ আসনে ৭ জন এবং পটুয়াখালী-৪ আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছে । মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিনে অধিকাংশরা মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের রিটার্নি কর্মকর্তা মোঃ নূর কুতুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পটুয়াখালী-১ (সদর,দুমকি ও মির্জাগঞ্জ উপজেলা) আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছেন আওয়ামীলীগের এড. আফজাল হোসেন, জাতীয় পার্টির এ.বি.এম রুহুল আমিন হাওলাদার, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন এর মোঃ খলিল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এর মোঃ নজরুল ইসলাম, জাকের পার্টির মোঃ মিজানুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর কে এম অনোয়ারুজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ কংগ্রেস এর মোঃ নাসির উদ্দিন তালুকদার, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট এর মহিউদ্দিন মামুন।

পটুয়াখালী- ২ (বাউফল উপজেলা) আসন থেকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন আ.স.ম ফিরোজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিব আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর মোহম্মদ হাওলাদার, তৃনমূল বিএনপি এর মাহবুবুল আলম, জাতীয় পার্টির মোঃ মহসীন হাওলাদার, বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট এর মোঃ জোবায়ের হোসেন।

পটুয়াখালী- ৩ (গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা) আসন থেকে আওয়ামীলীগ এর এস.এম শাহজাদা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আবুল হোসেন, তৃনমূল বিএনপি এর মোঃ ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মোঃ নজরুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোঃ সাইফুর রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোঃ নূরে আলম, বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট এর এওয়াই এম কামরুল ইসলাম ।

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা) আওয়ামীলীগের মুহিববুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান তালুকদার, স্বতন্ত্র আব্দুল্লাহ আল ইসলাম লিটন, স্বতন্ত্র হাবিবুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ এর বিশ্বাস সিহাব পারভেজ মিঠু, জাতীয় পার্টির আব্দুল মন্নান হাওলাদার, বাংলাদেশ কংগ্রেস এর জাহাংগীর হোসেন।




নির্বাচনে এল না বিএনপি, জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর

 চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক:: আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার। শেষ পর্যন্ত দলগতভাবে নির্বাচনে আসেনি বিএনপি। বরং একদফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী রোব ও সোমবার আবারও অবরোধ ঘোষণা করেছে দলটি। অন্যদিকে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পুরোনো গৃহবিবাদ। দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে নির্বাচনে আসেননি বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ ও তাঁর ছেলে সাদ এরশাদ। দলটির একাংশের আশঙ্কা, এই বিবাদকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টি আবারও ভাঙনের মুখে পড়তে পারে।

বিএনপি নির্বাচনে না এলেও দলটির অনেক নেতাই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসছেন। নির্বাচনে আসতে অনেকেই আবার যোগ দিয়েছেন অন্য দলে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমরকে ঝালকাঠি–১ আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী।

সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনসহ কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই অংশ নেয়নি দলটি। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনেই অংশ নেবেন না তারা। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তাদের একটি বড় অংশকে এরই মধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপি ভোট বর্জন করলেও দলটির অনেক নেতা–কর্মীই নির্বাচনে আসার আগ্রহ দেখিয়েছেন। শাহজাহান ওমর ছাড়াও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি।

এ ছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ শোকরানা, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরকার বাদল এবং জেলা বিএনপির সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি বেগম। এর মধ্যে আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ–২ আসনের জন্য, শোকরানা বগুড়া–১, বিউটি বেগম বগুড়া–২ ও বাদল বগুড়া–৭ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

আখতারুজ্জামান ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে কিশোরগঞ্জ–২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগেও কয়েকবার তিনি দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন আবার ফিরেও এসেছেন। সর্বশেষ বহিষ্কার হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য দলীয় নেতাদের সমালোচনা করে।

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে যাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ–তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক রাবেয়া সিরাজ এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. মাহাবুবুল হাসানও। তাঁদের দুজনকেই বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

অন্যদিকে দলটির অনেক নেতা–কর্মীই নির্বাচনে প্রার্থী হতে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। এরই মধ্যে বিএনএমে যোগ দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সি এম সাফি মাহমুদ ও বিএনপিপন্থী সংগীতশিল্পী ডলি সায়ন্তনী। এর আগে আরও পাঁচজন সাবেক সংসদ সদস্য বিএনএমে যোগ দিয়েছেন। এরা হলেন—জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, আবদুল ওহাব, আবু জাফর, দেওয়ান শামসুল আবেদীন, আবদুর রহমান।

এদিকে গত সেপ্টেম্বরে বিএনপির সাবেক দুই নেতা শমসের মবিন চৌধুরী ও তৈমুর আলম খন্দকারকে চেয়ারপারসন ও মহাসচিব করে জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করে নতুন রাজনৈতিক দল তৃণমূল বিএনপি। এই দুই নেতার নেতৃত্বে তৃণমুল বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। চমক দেখাতে পারেনি তৃণমূল বিএনপি–বিএনএমচমক দেখাতে পারেনি তৃণমূল বিএনপি–বিএনএম

শমসের মবিন চৌধুরী বিএন পি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে পররাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও। অবসরের পর ২০০৮ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। এর পরের বছরই দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হন।

আর তৈমুর আলম খন্দকার দীর্ঘসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হন। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটির প্রথম নির্বাচনের তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ২০২২ সালে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

জাতীয় পার্টিতে ফিরে এসেছে পুরোনো দ্বন্দ্ব :
দলীয় কোন্দলের জেরে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। শেষ দিনেও মনোনায়ন জমা দেননি তিনি। জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছাড়াও রওশন জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী। দলের একটি অংশে তাঁর বেশ প্রভাব আছে বলে মনে করা হয়।

গত সোমবার ২৮৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে জাতীয় পার্টি। এবার জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দুটি আসন ঢাকা–১৭ এবং রংপুর–৩ থেকে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

এরশাদের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের অক্টোবরে রংপুর–৩ আসনে হওয়া উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তাঁর ছেলে রাহগির আলমাহি সাদ এরশাদ। ধারণা করা হয়েছিল, এবারও তিনি এই আসনে মনোনয়ন পাবেন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের জন্য ময়মনসিংহ-৪ আসন খালি রাখা হয়। কিন্তু পছন্দের আসনে মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচন করতে অস্বীকৃতি জানান রওশন এরশাদ ও সাদ এরশাদ। রওশন নির্বাচনে না আসায় গত বুধবার রাতে এই আসনটিতে ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা সরকারকে মনোনয়ন দিয়েছে জাতীয় পার্টি।

যে কারণে নির্বাচনে যাচ্ছেন না রওশন যে কারণে নির্বাচনে যাচ্ছেন না রওশন জাতীয় পার্টির একাংশের নেতাদের অভিযোগ, দলে রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত নেতা–কর্মীদের এবার নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। বিরোধী দলীয় নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টা গোলাম মসীহ জানান, রওশন এরশাদকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে ষড়যন্ত্র করেছেন দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের। গোলাম মসীহ বলেন, ‘তাঁর আপন ঘরের লোকের জন্যই আজকে এই অবস্থা। তিনি (রওশন) বললেন যে, শেষ পর্যন্ত এত চক্রান্ত হলো পার্টির ভেতরে যে আমি আগে কখনো হার মানিনি। শেষ পর্যন্ত দেবরের (জি এম কাদের) কাছে আমার হার মানতে হলো।’

অবশ্য দলটির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুর দাবি, প্রধান পৃষ্ঠপোষককে নির্বাচনে আনতে সব চেষ্টাই তাঁরা করেছেন। চুন্নু বলেন, ‘ইলেকশন যদি তিনি (রওশন) না করেন, সেখানে তো আমাদের কিছু করার নাই। আমরা কী করব? ম্যাডামের জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, উনি আসেন নাই। ওনার এই স্বাধীনতা আছে—তিনি ইলেকশন করবেন কি করবেন না।’ জাতীয় পার্টিতে গৃহবিবাদ নতুন কিছু নয়। ২০১৯ সালে এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে আসেন তাঁর ছোট ভাই জি এম কাদের। শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন রওশন। দুজনই নিজেদের দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে অবশ্য সমঝোতার মাধ্যমে জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান ও রওশন এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা করা হয়।

জাতীয় পার্টিতে পঞ্চম দফা ভাঙন কি এখন সময়ের ব্যাপার?জাতীয় পার্টিতে পঞ্চম দফা ভাঙন কি এখন সময়ের ব্যাপার?

এর পর ২০২২ সালে আবারও দলের এই গৃহবিবাদ প্রকাশ্যে আসে। সে সময় এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ ছিল আওয়ামী লীগের সাথে জোটে থাকা-না থাকাকে কেন্দ্র করে। জি এম কাদেরপন্থীদের চাওয়া ছিল মহাজোট থেকে বের হয়ে বিএনপির সাথে বা আলাদা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। অন্যদিকে রওশনপন্থীদের চাওয়া ছিল মহাজোটেই থেকে যাওয়া। একপর্যায়ে ওই বছরের আগস্টে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই রওশন এরশাদ কেন্দ্রীয় সম্মেলন ডাকেন। সে সময় রওশনের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

জি এম কাদেরের চেয়ারম্যান পদে থাকাকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলাও করা হয়। এতে শুরুতে জি এম কাদেরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদালত। পরে অবশ্য উচ্চ আদালতের রায়ে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান জি এম কাদের।

নির্বাচনে ৩০ রাজনৈতিক দল :

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মোট মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭৪১ জন প্রার্থী। সে হিসেবে ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে লড়বেন ৯ জনেরও বেশি প্রার্থী। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৪১ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মোট দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র সমূহে ৩০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে।

নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি দলটির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতা–কর্মী এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আসছেন। আর ২৮৮টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি। এবারই নির্বাচনে প্রথম আসা তৃণমুল বিএনপির প্রার্থীরা ২৩০ আসনে নির্বাচন করছেন।

নির্বাচনে প্রতি আসনে প্রার্থী ৯ জনের বেশিনির্বাচনে প্রতি আসনে প্রার্থী ৯ জনের বেশি এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের দলগুলোর মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ৯০ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য তিন মন্ত্রীসহ ১৫ প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ইসি।

গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তফসিল অনুযায়ী ভোট হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। প্রচার শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে। চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।

 চন্দ্রদীপ নিউজ/ এস এল টি তুহিন