গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে : ওবায়দুল কাদের

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থে একটি মহল শ্রমিকদের ব্যবহারের পাঁয়তারা করছে। আমাদের অর্থনৈতিক স্বার্থে গার্মেন্টসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখতে হবে।



চুন্নুর প্রার্থিতা বাতিলে নৌকার প্রার্থীর আপিল




যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থাকার পরেও সাদিক আব্দুল্লার বৈধপ্রার্থী, আপিল

বরিশাল অফিস::  বরিশাল-৫ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, সদ্য বিদায়ী সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার মার্কার প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের সমর্থকরা।

এজন্য সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেছেন নৌকার সমর্থক কেবিএস আহমেদ কবীর। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বিপক্ষে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তার (সাদিক) চাচা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। এরপর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাদিক আব্দুল্লাহ।

আওয়ামী লীগ মনোনীত জাহিদ ফারুক শামীমের সমর্থকরা জানিয়েছেন, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও ভোটার। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার আইডি কার্ডে তার নাম সেরনিয়াবাত এস আব্দুল্লাহ। তিনি নিউইয়র্ক সিটির ভোটার। তার ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর ৪১০৯০৪০০৭। এছাড়াও সাদিক আব্দুল্লাহ রিটানিং কর্মকর্তার কাছে দেয়া হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তাদের দাবি, সাদিক আব্দুল্লাহর স্ত্রী লিপি আব্দুল্লাহসহ সন্তানরাও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। নিউইয়র্ক শহরের কুইন ভিলেজে লিপি আব্দুল্লাহর নামে বাড়ি রয়েছে। এসব তথ্য প্রমাণসহ সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা বাতিলের জন্য আপিল করা হয়েছে।

আপিলকারী আওয়ামী লীগ নেতা কেবিএস আহমেদ কবীর বলেন, হলফনামায় অসত্য তথ্য দেয়ার পরেও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। বিষয়টি তখন তাদের নজরে আনা হলেও সেখানে বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় ইসিতে আপিল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানি করে সঠিক রায় দেবেন বলেও তিনি আশা করেন।

সূত্রমতে, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ বড় একটি অংশ শেখ হাসিনা মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরোধীতায় নেমেছেন। তারা প্রকাশ্যে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যও করেছেন। এনিয়ে সাদিক বিরোধী পক্ষ নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও করেছে। সার্বিক বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় নাগরিকত্ব থাকার কারণে বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম।




জাপার সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নয়, রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে নির্বাচনের আসন ভাগাভাগির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে, রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।



ভোট পর্যবেক্ষণে বিদেশিদের আবেদনের সময় শেষ আজ

 চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের আবেদনের সময় শেষ হচ্ছে আজ।বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনপত্র পাঠাতে পারবেন বিদেশি পর্যবেক্ষকরা। এর আগে গত অক্টোবরে ইসি বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন আহ্বান করেছিল। আগ্রহীদের ২১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। তখন সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনের সময় ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ায় ইসি।

এদিকে, ৩৪টি ও চারটি সংস্থাটির ১১৪ জন পর্যবেক্ষককে ভোট দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি।




জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে এই বৈঠক হয়। জাতীয় পার্টির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।



বরিশালে আ.লীগের নৌকার প্রতিদ্বন্ধী আ.লীগ

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যাদাপূর্ণ বিভাগীয় শহর বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা) আসনসহ পাঁচটি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। এসব প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তারা বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ায় জেলার একটি আসন ব্যতিত বাকি পাঁচটি আসনে এখন নৌকার প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগ।

বরিশালের ছয়টি আসনে সর্বমোট বিভিন্ন দলের ৫৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে আওয়ামী লীগ মনোনীত এক প্রার্থীসহ ১০ জনের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। ফলে এখন মাঠে থাকা ৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে হেভিওয়েটের সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

এরমধ্যে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী বরিশাল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবেখ্যাত কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। তার মূল প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সদ্য বিদায়ী সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং স্বেচ্ছাসেবী এসআর সমাজ কল্যান সংস্থার চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ সালাহউদ্দিন রিপন। যেকারণে নৌকা পেলেই যে খুব সহজে জেতা যাচ্ছে, এবার আর তা হচ্ছেনা। কারণ নিজ দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে পরেছেন। যার প্রমানও মিলতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গির হোসেন নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছেন। যেকারণে তাকে দলীয় পদ থেকে বহিঃস্কারের দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। একইসাথে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইতোমধ্যে বরিশাল-৪ আসনে একাধিক সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার পর শাম্মি আহমেদের কতিপয় সমর্থকরা বর্তমান সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথের অনুসারীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে তালাবদ্ধ করে দেওয়াসহ এমপির সমর্থক নেতাকর্মীদের মারধর করেছে। এমনকি পঙ্কজ দেবনাথের অনুসারীরাও শাম্মি আহমেদের লোকজনকে মারধর করেছে। সর্বশেষ মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করার পর কাজিরহাট থানা এলাকায় শাম্মি আহমেদের অনুসারীরা গত ৫ ডিসেম্বর শো-ডাউন করে পঙ্কজ সমর্থকদের বিভিন্নধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘিরে দলে বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দিতে শুরু করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার মার্কার প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। কারণ ওই আসনে তিনি একমাত্র দলীয় প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন এবং তিনিই মনোনয়ন পেয়েছেন। সেখানে দলীয় কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকলেও নামেমাত্র প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত ছেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী এবং গৌরনদী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীরের বড়ভাইয়ের ছেলে মোঃ তুহিন হয়েছেন এনপিপি মনোনীত প্রার্থী। ওই দুই প্রার্থী তাদের নিজ ভোট কেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়ার কর্মীও খুঁজে পাচ্ছেন না বলে এলাকায় চাউর হয়েছে।

বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস। দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তার প্রতিদ্বন্ধী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সাংসদ মনিরুল ইসলাম মনি ও শের-ই বাংলার দৌহিত্র একে ফাইয়াজুল হক। বরিশাল-৩ আসনের নৌকা মার্কার প্রার্থী সরদার মোঃ খালেদ হোসেন স্বপনের সাথে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে প্রতিদ্বন্ধী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান।

বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. শাম্মি আহমেদ দুই দেশের নাগরিক হওয়ায় তার প্রার্থীতা প্রাথমিকভাবে বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তিনি বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। এর বাহিরে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন হেভিওয়েটের প্রার্থী বর্তমান সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ। বরিশাল-৬ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ মল্লিকের সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করার জন্য দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চুন্নু। এরমধ্যে ঋণ খেলাপীর দায়ে শামসুল আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করার পর তিনি আবার আপিল করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে হলে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষসময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বরিশাল-২ ও ৩ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও ওই দুই আসনে তার দলের আরো দুইজন প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া মেনন ঢাকার একটি আসনেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। পাশাপাশি বরিশাল-৩ ও ৬ আসনে জাতীয় পার্টির হেভিওয়েটের দুইজন প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বর্তমানে ওই দুই আসনের সাংসদ এবারও প্রার্থী হয়েছেন। শেষপর্যন্ত মহাজোটের আসন ভাগাভাগি হলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সে পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

সার্বিক বিষয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে। নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সমালোচনামূলক কথা বলতেও নিষেধ করেছেন। এটা থেকেই তো পরিস্কার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নৌকার বিরুদ্ধে যাওয়া যাবেনা।

তিনি বলেন, রাজনীতির মাঠে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার দল আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকে শতভাগ গ্রহণযোগ্য করার একটি কৌশল হচ্ছে ডামি প্রার্থী করা। ভোটের মাঠের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আসবে। সেইসব সিদ্ধান্ত দলের সবাইকে মেনে নিতে হবে। তাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্ধ ও বিভক্তিসহ কাঁদাছোড়াছুড়ি না করার জন্য তিনি (বলরাম পোদ্দার) দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কাছে আহবান করেছেন।

উল্লেখ্য, ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষদিন আগামী ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। ওইদিন থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ হবে ৫ জানুয়ারি সকালে এবং ভোটগ্রহণ করা হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। এবার তিনশ’ আসনেই ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।

সাদিকের প্রার্থীতা বাতিলের দাবিতে আপিল : বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম। বুধবার জাহিদ ফারুকের পক্ষে তার মনোনয়নপত্রের সমর্থনকারী কেবিএস আহমেদ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এ আপিল করেছেন।

বরিশাল ৫ আসনের নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার পরেও রিটার্নিং অফিসার স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। আমরা বিষয়টি তখন নজর এনেছিলাম। সেখানে বিষয়টি আমলে নেয়নি রিটার্নিং কর্মকর্তা। এজন্য ইসিতে আপিল করা হয়েছে। আশা করছি নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানি করে সঠিক রায় ঘোষণা করবেন।




বরিশালের ৬ টি আসনে পাঁচ লাখ টাকার কম আয় ১৩ জনের,কোটি ছাড়িয়েছে ৬ জনের

বরিশাল অফিস:: বরিশাল জেলার ছয় আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে আছেন ৪৫ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে দাখিল করা হলফনামার তথ্যানুযায়ী, বাৎসরিক আয়ের গড় হিসাবে বেশি ধনী বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থীরা। ছয় আসন মিলিয়ে পাঁচ লাখ টাকার কম বাৎসরিক আয় ১৩ জনের, ১০ লাখ টাকার কম আয় পাঁচজনের, ২০ লাখ টাকার কম আটজনের, ৩০ লাখ টাকার কম পাঁচজনের, ৪০ লাখ টাকার কম তিনজনের, ৫০ লাখ টাকার কম একজনের, ৯০ লাখ টাকার কম দুজনের। আর কোটি টাকার বেশি আয় চারজনের। তিন কোটি টাকার বেশি আয় একজনের, আর চার কোটি টাকার বেশি আয় একজনের। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাৎসরিক আয় সোয়া চার কোটি টাকারও বেশি, জাতীয় পার্টির ছেরনিয়াবাত সেকান্দার আলীর বাৎসরিক আয় প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ টাকা এবং এনপিপির মো. তুহিনের আয় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার মো. ইউনুসের বাৎসরিক আয় ১১ লাখ টাকা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননের প্রায় সাত লাখ টাকা, একই দলের অপর প্রার্থী মো. জহুরুল ইসলামের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নকুল কুমার বিশ্বাসের প্রায় ১১ লাখ টাকা, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেনের প্রায় ৮৪ লাখ টাকা।

জাতীয় পার্টির অপর প্রার্থী রজিত কুমার বাড়ৈর আয় সাড়ে চার লাখ টাকা, জাকের পার্টির স্বপন মৃধার প্রায় সোয়া ৪ লাখ টাকা, তৃণমূল বিএনপির মো. শাহজাহান সিরাজের সাড়ে তিন লাখ টাকা, এনপিপির সাহেব আলীর সাড়ে ২৭ লাখ টাকার বেশি, স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে ফাইয়াজুল হকের প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। মো. মনিরুল ইসলামের বাৎসরিক আয় সোয়া ১৯ লাখ টাকা।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরদার মো. খালেদ হোসেনের বাৎসরিক আয় ২৫ লাখ ২৯ হাজার টাকার বেশি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননের প্রায় সাত লাখ টাকা এবং একই দলের অপর প্রার্থী টিপু সুলতানের প্রায় সোয়া ১০ লাখ টাকা, জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপুর প্রায় ১৯ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আজমুল হাসান জিহাদের সাড়ে ৩ লাখ, তৃণমূল বিএনপির শাহানাজ হোসেনের তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা, জাকের পার্টির মিজানুর রহমান বাচ্চুর প্রায় সোয়া ১৮ লাখ টাকা। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল হকের আয় প্রায় দুই কোটি টাকা এবং মো. আতিকুর রহমানের প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা।

বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে জাতীয় পার্টির মিজানুর রহমানের বাৎসরিক আয় কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের হৃদয় ইসলাম চুন্নু হলফনামায় বাৎসরিক আয়ের কথা উল্লেখ করেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ নাথের বাৎসরিক আয় ৪৩ লাখ টাকার কিছু বেশি।
বরিশাল-৫ (বরিশাল সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুকের বাৎসরিক আয় দেড় কোটি টাকার বেশি। জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেনের আয় প্রায় ৮৪ লাখ টাকা, জাকের পার্টির মো. আবুল হোসাইনের প্রায় ১০ লাখ টাকা, এনপিপির আব্দুল হান্নানের প্রায় ৩৫ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আসাদুজ্জামানের তিন লাখ টাকা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহাতাব হোসেনের প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা, স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বাৎসরিক আয় সাড়ে ২০ লাখ টাকা। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সালাহউদ্দিন রিপনের হলফনামায় বাৎসরিক আয়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল হাফিজ মল্লিকের বাৎসরিক আয় প্রায় সাড়ে ২৫ লাখ টাকা, জাতীয় পার্টির নাসরিন জাহান রত্মার সাড়ে ৩০ লাখ টাকা, তৃণমূল বিএনপির টি এম জহিরুল হক তুহিনের সাত লাখ টাকার বেশি, এনপিপির মো. মোশারফ হোসেনের আড়াই লাখ টাকা, জাসদের মোহম্মদ মোহসীনের সাড়ে ছয় লাখ টাকা, জাকের পার্টির মো. হুমায়ুন কবির সিকদারের আয় এক লাখ টাকা।
এ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মাইনুল ইসলামের আয় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা, স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজিব আহম্মদ তালুকদারের প্রায় ২০ লাখ টাকা, মো. শাহবাজ মিঞার ৫ লাখ টাকা, মো. কামরুল ইসলাম খানের সাড়ে ৪ লাখ টাকা, খান আলতাফ হোসেনের আয় প্রায় ১২ লাখ টাকা।




১০ম দফায় বিএনপির ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শুরু

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক:  দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল বাতিল, বেগম খালেদা জিয়াসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের মুক্তি ও সরকার পতনের একদফা দাবিতে বিএনপির দশম দফায় ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে বুধবার (৬ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা থেকে। চলবে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা পর্যন্ত। একই সঙ্গে ১০ ডিসেম্বর (রোববার) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা সদরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে দলটি।



গণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক:  স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ ৬ ডিসেম্বর। দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের এ দিনটিতে পতন ঘটে তৎকালীন স্বৈরশাসকের।