নিজ দলের কর্মীদের ওপর হামলায় ক্ষুব্ধ আন্দালিব পার্থ

নিজ দলের কর্মীদের ওপর বিএনপির হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

শনিবার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

পার্থ জানান, ভোলা সদরে বিজেপির একটি বৃহৎ নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করে। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর জোহরের নামাজের আগে অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। ঠিক তখনই ঈর্ষান্বিত হয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন বিএনপি নেতাকর্মী হঠাৎ করে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং বিজেপির কার্যালয় ভাঙচুর করে।

তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। এমন আচরণ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

পার্থ আরও সতর্ক করে বলেন, “এভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা চলতে থাকলে জাতীয়তাবাদী শক্তির সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।”

এদিকে, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



“আমরা বিএনপি নই, জামায়াতও নই; আমরা মধ্যপন্থায় আছি” — হাসনাত আব্দুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, “আমাদের কেউ বিএনপি বলে, কেউ আবার জামায়াত বলে— এর মানে আমরা সঠিক পথেই আছি। আমরা কোনো দলের অনুসারী নই, আমরা নিজেদের আদর্শে বিশ্বাসী। আমরা বিএনপি নই, জামায়াতও নই; আমরা মধ্যপন্থায় অবস্থান করছি।”

শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এনসিপির জেলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “কেউ কেউ বিপ্লবের সার্টিফিকেট নিতে চায় ‘চুপ্পুর’ কাছ থেকে। এটা যেন ছোট হাসিনার কাছ থেকে বড় সার্টিফিকেট নেওয়ার মতো ব্যাপার। কিন্তু একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কখনোই এমন সার্টিফিকেট নিতে রাজি হবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কখনোই আমাদের মৌলিক অবস্থান থেকে সরে যাইনি। সংস্কার, তথ্যপ্রবাহ ও সংবিধান সংস্কারের পক্ষে যারা থাকবে, আমরা তাদের সঙ্গেই নতুন বাংলাদেশ গড়ব।”

এসময় তিনি বলেন, “অনেকে এখন এমন সনদে সই করছেন যেটি আমরা আগেই সমালোচনা করেছিলাম। আমরা তখন বলেছিলাম— আগে দেখাতে হবে, তারপর সিদ্ধান্ত নেব। এখন তারাই আমাদের অবস্থানে ফিরে আসছে।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু, ও যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও পটুয়াখালী জেলা সমন্বয়কারী জহিরুল ইসলাম মুসা

এছাড়াও সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আল-আমিন



সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত: নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম

সরকার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, “সরকার এবং নির্বাচন কমিশন—দুই পক্ষই সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে বদ্ধপরিকর।”

শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় কোডেক ট্রেনিং সেন্টারের সভাকক্ষে ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জসমূহ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, “বর্তমান নির্বাচনী আইন (আরপিও)-এ সংশোধন আনা হয়েছে। এখন থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তারা চাইলে তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করার ক্ষমতা রাখবেন।” তিনি আরও বলেন, “কোনো ভয় নয়, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করুন।”

প্রসঙ্গত, কর্মশালাটি আয়োজন করে পটুয়াখালী জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিস। এতে জেলার আট উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-প্রধান মুহাম্মদ মোস্তফা হাসান।

কর্মশালায় বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

 

আল-আমিন

 




গায়ের জোরে জুলাই সনদ সংশোধন, প্রতারণা হয়েছে: মান্না

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, “সনদ সইয়ের পর সংশোধনের অধিকার সরকারকে কেউ দেয়নি। গায়ের জোরে মূর্খের মতো সনদ সংশোধন করা হয়েছে।”

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট-এ গণসংহতি আন্দোলনের জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মান্না জানান, জুলাই মাসে তৈরি সনদ থেকে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি, তার কথায়, একটি প্রতারণা। সনদ স্বাক্ষরের দিনই ৫ নম্বর দফা পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সনদে পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের সুযোগ জানিয়েছিল, কিন্তু স্বাক্ষরের পর সেটি পরিবর্তনের অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।

মান্না আরও উল্লেখ করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংস্কার প্রক্রিয়ায় পুরো বিষয়টি এলোমেলো করে ফেলেছেন। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ থেকে গণতান্ত্রিক উন্নয়নে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। যারা পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) চান, তারা বাহ্যিকভাবে শান্ত মনে হলেও ভেতরে তুষের আগুন পুষে রেখেছেন।

তার বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও সনদ সংশোধন নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক নীতি ও স্বচ্ছতা রক্ষায় সমস্যা রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মির্জা ফখরুলের সরাসরি আহ্বান: জনগণের কাছে যেতে ব্যবস্থা করুন

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন—“যা হওয়ার হয়েছে, সমস্যাগুলো সমাধান করে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে চলুন। জনগণের কাছে যেতে যেন পারি, সেই ব্যবস্থা করুন।”

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণসংহতি আন্দোলনের সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতি ও সংকট থেকে উত্তরণের পথ সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিরের প্রতি ব্যক্তিগত মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,

“জোনায়েদ সাকিরের সঙ্গে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যাই। তার দৃঢ়তা দেখে বুঝলাম, সে সত্যিই পরিবর্তন আনতে চায়।”

এই ব্যক্তিগত মন্তব্যের পর তিনি জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বারোপ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন,

“দেশের মানুষ পরাজয় বরণ করে না। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের তৈরি সংকট কাটিয়ে যাবে।”

তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান—মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন,

“সব রাজনৈতিক দলকে মনে রাখতে হবে, সবার আগে বাংলাদেশ। সরকারকে মনে করিয়ে দিচ্ছি, এই সংকট থেকে বের হওয়ার দায়িত্ব তাদের। অতীতেও আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, সামনেও থাকব। কিন্তু যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তা থেকে আপনাদেরই বের হয়ে আসতে হবে।”

মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিএনপির অবস্থান—দেশের সংকট মোকাবিলা ও জনগণের কাছে পৌঁছানোই এখন প্রাধান্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতে পথসভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীর বাউফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতের লক্ষ্যে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর বাজারে এ পথসভা আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফলের সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার। সভার সভাপতিত্ব করেন বাউফল গার্লস হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন

পথসভায় সহিদুল আলম তালুকদার বলেন, “আমি সারাজীবন মানুষের পাশে থেকেছি, সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি। রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়— এটি মানুষের সেবা ও ভালোবাসা অর্জনের পথ।”

তিনি আরও বলেন, “আজ দেশ এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া অপরিহার্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত এই দল মানুষের মুক্তির প্রতীক। ধানের শীষ মানে স্বাধীনতার প্রতীক, মানুষের অধিকারের প্রতীক। তাই আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই— এই প্রতীকের বিজয়ই হবে মানুষের বিজয়।”

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “আগামী দিনে যদি সুযোগ পাই, আগের মতোই আপনাদের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে কাজ করে যাব। আমি কথা দিচ্ছি, এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করবো।”

পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফল পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য অধ্যাপক মাসুদুর রহমান, এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী গিয়াস প্রমুখ।

নেতাকর্মীরা বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা ছাড়া বিকল্প নেই। তারা জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগামী নির্বাচনে কয়েদিরাও ভোট দিতে পারবেন: নির্বাচন কমিশনার

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাগারে থাকা কয়েদিদেরও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে পটুয়াখালী সার্কিট হাউসে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে সকালে তিনি “নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জসমূহ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়” শীর্ষক কর্মশালায় অংশ নিতে পটুয়াখালী আসেন। শনিবার সকালে কুয়াকাটার সিওডিইসি ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য ওই কর্মশালায়ও তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে আমরা সারা দেশে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছি, যাতে তারা দায়িত্ব পালনে আরও দক্ষ হতে পারেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তাদের মাঝে কিছুটা দ্বিধা ও আশঙ্কা কাজ করছে, তবে আমরা আশাবাদী—সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

তিনি আরও জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নীতিমালা, আসনবিন্যাসসহ প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও ইসির সংলাপ সম্পন্ন হয়েছে।

গণভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণভোটের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ইসির কাছে আসেনি। সরকার যদি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, জনগণ অবশ্যই তা জানতে পারবে।”

এ সময় কমিশনার আরও জানান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। “বর্তমানে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, যা আছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব,” বলেন তিনি।

প্রতীকের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা কিছু পুরোনো প্রতীক বাদ দিয়ে আরও সুন্দর ও সহজবোধ্য প্রতীক নির্ধারণ করেছি, যাতে ভোটাররা সহজে চিনতে পারেন।”

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. অহিদুজ্জামান মুন্সি, জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। সাক্ষাৎকার শেষে কমিশনার কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় যুক্ত হলো ‘শাপলা কলি’

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন প্রতীক ‘শাপলা কলি’। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮ সংশোধন করে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে ইসি।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, “১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮-এর সংশোধনী যুক্ত করেছে।”
নতুন সংশোধন অনুসারে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এখন থেকে বিদ্যমান তালিকায় থাকা প্রতীকগুলোর পাশাপাশি ‘শাপলা কলি’ প্রতীকও বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দীর্ঘদিন ধরে শাপলা প্রতীক বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আসছিল। এ নিয়ে দলটির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কয়েক দফা চিঠি আদানপ্রদান ও বৈঠক হয়।
গত ৭ অক্টোবর এনসিপি কমিশনের কাছে শাপলা প্রতীকসহ সাতটি নমুনাচিত্র পাঠালেও, তখন ইসি তা অনুমোদন দেয়নি। পরবর্তীতে কমিশন জানায়, নির্ধারিত তালিকা থেকেই প্রতীক বেছে নিতে হবে, অন্যথায় কমিশন নিজ সিদ্ধান্তে প্রতীক বরাদ্দ করবে।

গত ১৯ অক্টোবর ছিল প্রতীক পছন্দের শেষ সময়সীমা। তবে এনসিপি তখনও জানায়, তারা শাপলা প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক গ্রহণ করবে না।
অবশেষে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার ইসি প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করে, যা আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা যাবে।

এ বিষয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “আমাদের দীর্ঘ দাবির পর অবশেষে নির্বাচন কমিশন ‘শাপলা কলি’ প্রতীক অনুমোদন দিয়েছে। আমরা এই প্রতীক নিয়েই আগামী নির্বাচনে অংশ নেব।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সরকারের ঐকমত্য প্রস্তাব জাতির সঙ্গে প্রতারণা: ফখরুল

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ফলাফলকে ‘একপেশে, জবরদস্তিমূলক ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ফখরুল বলেন, দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা শেষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও সরকারের প্রস্তাব পুরোপুরি একপেশে এবং পরিকল্পিতভাবে অর্থহীন করে তোলা হয়েছে। তার দাবি, সরকারের প্রস্তাবিত ‘বাস্তবায়ন আদেশ’ সংবিধান, সংসদীয় সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর খসড়ায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারা গোপনে পরিবর্তন করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরকারি ও বেসরকারি অফিসে টানানোর বাধ্যবাধকতা বাতিলের বিষয়ে অধিকাংশ দল একমত হলেও, তা সনদের চূড়ান্ত কপিতে রাখা হয়নি। একইভাবে সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদের (পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল) বিলুপ্তির প্রস্তাবও বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আমরা ঐতিহাসিক অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিলাম। কিন্তু সনদের চূড়ান্ত কপি আর আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।”

ফখরুলের দাবি, সরকার এখন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ নামে একটি আদেশ জারি করতে যাচ্ছে, যা সংবিধানের পরিপন্থী। “সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘আদেশ’ আইনের মর্যাদাসম্পন্ন এবং সেটি জারি করার এখতিয়ার কেবল রাষ্ট্রপতির। সরকার নিজে থেকে এটি জারি করলে তা হবে অসাংবিধানিক পদক্ষেপ,” বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব আরও অভিযোগ করেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদনে ৪৮টি দফা গণভোটে তোলার প্রস্তাব থাকলেও, সেখানে রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

তার ভাষায়, “এক বছরের আলোচনার পর যা সামনে এসেছে, তা গণতন্ত্র ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নজরুল ইসলাম খানসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিতে যুদ্ধ থেমেছে : ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামাতে ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। যা এখন পর্যন্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আপনি যদি ভারত ও পাকিস্তানের দিকে তাকান তারা তখন মুখোমুখি অবস্থায় ছিল। সাতটি বিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল, অবস্থা ছিল ভয়াবহ। ট্রাম্পের দাবি, মে মাসে সীমান্তে সংঘর্ষ বাড়লে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের নেতাদের ফোন করে সতর্ক করেন। বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে এবং ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি বলেছিলাম, আমি তোমাদের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক বসাবো। মানে, তোমরা আর ব্যবসা করতে পারবে না। বক্তব্যের সময় তার এই মন্তব্যে উপস্থিত শ্রোতারা করতালি দেন।