বরিশালে শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র, চ্যালেঞ্জে জাপা

বরিশাল অফিস:: দলীয় ভোট ব্যাংক তলানিতে থাকলেও মহাজোটের সমর্থনে ২০০৮ সাল থেকে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনটি জাতীয় পার্টির (জাপা) দখলে। দলটির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার প্রথমবার এমপি হন এবং পরের দু’বার হয়েছেন তাঁর স্ত্রী ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান রত্না আমিন। এবারও তিনি প্রার্থী। আসন ভাগাভাগিতে এ আসনটি জাপার ঘরে যাবে– ভোটের মাঠে স্থানীয় বিশ্লেষণ এমনই ছিল।

তবে এ হিসাব ওলটপালট হয়ে গেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নু নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায়। অন্যদিকে ১৪ দলের আসন সমঝোতা প্রশ্নে আসনটির আরেক দাবিদার জাসদ (ইনু) প্রার্থী মো. মহসীনও আছেন শক্ত অবস্থানে। জাপাকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নে নারাজ চুন্নু ও মহসীন। এ দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে জোটের সমর্থন পেলেও আসনটি ধরে রাখা জাপার জন্য কঠিন হবে বলে মনে করে স্থানীয় সচেতন মহল।

এ আসনে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিক। ২০০৮, ’১৪ ও ’১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। মহাজোটের আসন সমঝোতায় তাঁকে শেষ পর্যন্ত সরে যেতে হয়। এবারও তাঁর পরিণতি পুরোটাই কেন্দ্রীয় সমঝোতার ওপর নির্ভরশীল।

স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল আলম চুন্নু বলেন, বাকেরগঞ্জ আসনটি আওয়ামী লীগের। জাপা পরবাসীর মতো আওয়ামী লীগের ওপর ভর করে এমপি হচ্ছে। তারা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের আসন পুনরুদ্ধারে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকব। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধা নেই।

জাসদের মো. মহসীন বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকলে তাদের সঙ্গে আমার তথা জাসদের সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু জাপা প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আসনটি জাপাকে দেওয়া হলে আমি সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকব। জনগণ আমার সঙ্গে আছে। তিনি অভিযোগ করেন, পাশের দুমকী উপজেলার রুহুল আমিন বাকেরগঞ্জে ‘উড়ে এসে জুড়ে’ বসেছেন। এবার ছাড় দেওয়া হবে না।

দুই প্রার্থী জাপার হুমকি যে কারণে::

বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের এবং জাপা ও ইসলামী আন্দোলনের একজন করে। গত ৩০ নভেম্বর চুন্নু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ৭ জন চেয়ারম্যান। এর দু’দিন আগে হাফিজ মল্লিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শুধু নিজের এলাকা ফরিদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সঙ্গে ছিলেন। জানা গেছে, বর্তমানে পাদ্রীশিবপুর, ভরপাশা, রঙ্গশ্রী ও ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ মল্লিকের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন ডাকুয়া এবং কলসকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান আছেন নীরব ভূমিকায়।

চুন্নু ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ১৯ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়েছিলেন। ওই বছর ধানের শীষের কাছে ১৩ হাজার ১৪৬ ভোটে হারেন নৌকার প্রার্থী। ২০০৯ সাল থেকে চুন্নু টানা ৩ বার উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ে তাঁর রয়েছে আলাদা পরিচিতি।

জাপার নির্বাচনী ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচনে একক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাপার প্রার্থী ছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার। প্রতিটি নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে থাকা এ প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল যথাক্রমে ১৯ হাজার ৪৮৬, ১৫ হাজার ৬৬১ এবং ২০ হাজার ১২০টি।

জাসদের মো. মহসীন জনপ্রতিনিধি হতে না পারলেও এলাকার কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখায় তাঁর রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। প্রকল্পগুলো হলো– নির্মাণাধীন গোমা ও নেহালগঞ্জ সেতু, বরিশাল-বাউফল সড়ক নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ প্রকল্প ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহুতল ভবন নির্মাণ। গত এক বছরে উপজেলার সব ইউনিয়নে জাসদের সম্মেলন ও কমিটি গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড-বাকেরগঞ্জ উপজেলার সভাপতি ফরুক হোসেন মল্লিক বলেন, জাপার বিরুদ্ধে যিনি শক্তিশালী প্রার্থী থাকবেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা চুন্নুর সঙ্গে আছি।

জাপার প্রার্থী নাসরিন জাহান রত্না আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাপার প্রস্তাবনা রয়েছে যারা বর্তমান এমপি আছেন, তাদের সবাইকে মহাজোটের প্রার্থী করার জন্য। এ বিষয় চূড়ান্ত হবে ১৭ ডিসেম্বর।




বরিশালে আ.লীগ প্রার্থীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

বরিশাল অফিস:: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ভোটযুদ্ধের আগেই প্রার্থীদের মধ্যে চলছে জোটের মনোনয়নযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন এ আসনে নৌকা প্রতীকের কান্ডারি-এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। টানা দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনে ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ খান মেনন এমপি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস এ আসনে প্রার্থী হওয়ায় ‘প্রার্থিতা’ নিয়ে জোটগত লড়াই শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পাঁচবারের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ খান মেননের প্রার্থিতা নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস ও দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরেও তারা অস্বস্তিতে রয়েছেন।

এ ছাড়াও এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুল ইসলাম মনি ও শেরেবাংলার দৌহিত্র একে ফাইয়াজুল হক রাজু। আওয়ামী লীগ কিংবা তার শরিক দল থেকে যিনিই চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন-তার জন্য তারা দুজনও দুশ্চিন্তা ও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবেন। মনোনয়ন প্রশ্নে জোটের আসন ভাগাভাগিতে নাটকীয় কোনো সিদ্ধান্ত হলে এ আসনে ভোটের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাবে। এ আসনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের তিন সংসদ সদস্য গত ১৫ বছরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

একসময়ের চরমপন্থি সর্বহারা ও সন্ত্রাসীদের চারণভূমি বানারীপাড়া ও উজিরপুরে গত দেড় দশক ধরে বিরাজ করছে শান্তিময় পরিবেশ। গ্রামীণ জনপদগুলো রূপ নিয়েছে শহুরে জনপদে। এসব কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ সাধারণ ভোটাররা মুখিয়ে আছেন। এখানে ওয়ার্কার্স পার্টির অবস্থান খুবই নাজুক। আওয়ামী লীগের ওপর ভর করে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়তে চান রাশেদ খান মেনন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। তারা আওয়ামী লীগের দুর্গে পরিণত হওয়া এ আসনে দলীয় প্রার্থীর বাইরে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দিতে নারাজ।

গুঞ্জন রয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত একটি পক্ষ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসকে ঠেকিয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে রাশেদ খান মেননকে এ আসনে নৌকার প্রার্থী করার চেষ্টা-তদবির করছেন। শেষ পর্যন্ত সেটা হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী কারও কপাল খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা অপেক্ষায় রয়েছেন, জোটের মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

তাদের অভিমত এ আসন জোটের প্রার্থী রাশেদ খান মেননকে ছেড়ে দেওয়া হলে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকবেন। কারণ এ আসনে জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পাটির সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক।

পূর্বের বরিশাল-২ (বাবুগঞ্জ-উজিরপুর) আসনে ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে হাতুড়ি প্রতীকে রাশেদ খান মেনন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম ফারুক অভির কাছে পরাজিত হন। এরপর তিনি আর এ আসনমুখী না হয়ে পরে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ঢাকা-৮ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মেনন এবার বরিশাল-২ ও বরিশাল-৩ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদি) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। এবারও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বাবুগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার খালেদ হোসেন স্বপন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি দুদলই নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। মেনন ছাড়াও এ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মো. টিপু সুলতান।

অন্যদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংশোধিত বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম মনি, দশম সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে মো. শাহে আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও প্রথমে অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগিতে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছিলেন ইউনুস। তখন এ আসনে প্রথমে জাপার প্রার্থী চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ সোহেল রানাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বিদ্যুৎ বিল খেলাপিতে হওয়ার কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। ফলে শেষ মুহূর্তে নৌকার টিকেট পেয়ে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য হন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহে আলম। এবার তিনি মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন।

বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা বলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস একজন জনদরদী, নির্মোহ ও ক্লিন ইমেজের কর্মীবান্ধব নেতা। তার বিজয় নিশ্চিত করতে আমরা একাট্টা হয়ে কাজ করছি। তাকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আবেগ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। নবরূপে তারা উজ্জীবিত হয়েছেন। ইতিমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্র কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ আসন আওয়ামী লীগের দুর্গ। দলকে বাঁচাতে তার বিকল্প নেই।

ওয়ার্কার্স পার্টির উজিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান সীমা রানী শীল বলেন, ১৪ দলীয় জোট রাশেদ খান মেননকে এ আসনে মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

বানারীপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মিজানুর রহমান চোকদার বলেন, এ আসন একসময় আমাদের দখলে ছিল। জাতীয় পাটির প্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপসকে এ আসন ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি বিজয়ী হবেন-এটা সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রার্থী প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাসের বিজয় নিয়েও তার কর্মী-সমর্থক ও ভক্ত-অনুরাগীরা স্বপ্নের জাল বুনছেন। প্রসঙ্গত, বরিশাল-২ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাইতে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

 




বরিশালের সংসদ সদস্যদের সম্পদের পাহাড়

বরিশাল অফিস: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ৪৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন বর্তমান সংসদ সদস্য ও একজন সদ্য সাবেক সিটি মেয়র। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ওই ছয়জনের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিগত পাঁচ বছরের ব্যবধানে সম্পদে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন পাঁচজন। তবে একজন সংসদ সদস্যর আয় কমেছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখিত ছয়জন প্রার্থীরা হলেন, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ এমপি, বরিশাল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত নাসরিন জাহান রতনা এমপি এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। হলনামার প্রাথমিক হিসেবে দেখা গেছে, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাপা মনোনীত প্রার্থী নাসরিন জাহান রতনার আয় কমেছে। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও জাহিদ ফারুক শামীমের পাঁচ বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে কোটি টাকার বেশি। সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বেড়েছে নগদ টাকা। গোলাম কিবরিয়া টিপুর বেড়েছে দ্বিগুণ আয়। পঙ্কজ দেবনাথের আয় বাড়লেও তা কোটির ঘর অতিক্রম করতে পারেনি।

আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ : চারবারের নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে। তার বাবা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত মন্ত্রী ছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামায় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, তার কাছে নগদ টাকার পরিমাণ ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৪ টাকা। পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০২৩ সালে এসে তিনি নগদ অর্থ উল্লেখ করেছেন ১ কোটি ৪৭ লাখ ১৯ হাজার ৫০৯ টাকা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার বাৎসরিক আয় ২ কোটি ৪৮ লাখ ৫৮ হাজার ১৩৭ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, বাড়িভাড়া বাবদ আয় ৭ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৬ টাকা, ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৮৫ টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৪ টাকা, ব্যাংকে জমা ২ কোটি ৭৯ লাখ ২২ হাজার ৫৮৯ টাকা, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। একটি প্রাইভেট কার ও একটি জিপ রয়েছে, যার মূল্য ৭৯ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৯ টাকা। ১০০ ভরি স্বর্ণ, ২ লাখ টাকার ইলেক্ট্রনিক ও আসবাবপত্র, কৃষি জমি ২০ একর, অকৃষি জমি ৪০ একর এবং ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৫ হাজার ২৮৫ টাকা মূল্যের একটি দালান রয়েছে নিজ নামে। এছাড়া স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫৮৪ টাকা, ব্যাংকে জমা ১ কোটি ২ লাখ টাকা, শেয়ার ৮ লাখ টাকা, ১৮ লাখ টাকার একটি কার, স্বর্ণ ৬০ তোলা, ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও অকৃষি জমি রয়েছে ৫২ ডেসিমাইল। ২০২৩ সালের হলফনামায় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, তার বাৎসরিক আয় ৪ কোটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৬৫১ টাকা। যা ২০১৮ সালের হলফনামায় প্রদর্শিত আয়ের চেয়ে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৯৩ হাজার ৫১৪ টাকা বেশি। এবার তিনি উল্লেখ করেছেন, কৃষিখাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫৩ টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত ৬৫ লাখ ৩ হাজার ৮৯৮ টাকা, চাকরি থেকে আয় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ১৯ হাজার ৫০৯ টাকা, ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৯ টাকা, শেয়ার রয়েছে ৫১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র ৩ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১ কোটি ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকার দুটি জিপ, ৫০ ভরি স্বর্ণ, আসবাবপত্র ২ লাখ টাকার, কৃষি জমি ১৭ একর, অকৃষি জমি ৪১ একর, ঢাকার কলাবাগানে একটি দালান রয়েছে, যার মূল্য ৮৯ লাখ ১১ হাজার ৫৭৫ টাকা। তার জামানতবিহীন ঋণ রয়েছে ৫ কোটি ৬০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ : আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বড় ছেলে সাদিক আব্দুল্লাহ ২০১৮-২৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এবারও তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ২০১৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের হলফনামা অনুসারে-সাদিক আব্দুল্লাহর কাছে ছিল নগদ ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা। সে সময় বাড়িভাড়া থেকে তার বাৎসরিক আয় ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৪০০ টাকা, চাকরি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও সঞ্চয়পত্র ২ লাখ টাকার। সে সময় বস্তুগত সম্পত্তি হিসেবে তিনি দেখিয়েছিলেন একটি রিকন্ডিশন মাইক্রোবাস, খাট, আলমারি, সোফা ও ডাইনিং টেবিল, পূর্বাচলে রাজউকের আবাসিক প্লট এবং গুলশানের নিকেতনে একটি আবাসিক ফ্ল্যাট। কিন্তু তিনি মেয়র হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করার পর এবার ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি মৎস্য চাষী ও রাখি মালের ব্যবসায়ী। তার কাছে নগদ রয়েছে ২ কোটি ২২ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৫ টাকা। বাড়ি ভাড়া থেকে তার আয় হয় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। নিজ পেশা থেকে আয় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মেয়র সম্মানী ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। শেয়ার ও ডিবেঞ্জার ২ লাখ টাকা। ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকার অকৃষি জমি ও গুলশানের নিকেতনে একটি আবাসিক ফ্ল্যাট, যার মূল্য ১০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনে সাদিকের স্ত্রী লিপি আব্দুল্লাহর নামে কোনো সম্পদ না থাকলেও ৫ বছরের ব্যবধানে স্ত্রীর নামে সম্পদ হয়েছে ১০ ভরি স্বর্ণ এবং ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৬৫ শতাংশ অকৃষি জমি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে সম্মানী নেবেন না। এরপর নির্বাচিত হওয়ার পর গত পাঁচ বছর তিনি বলে আসছিলেন, মেয়র সম্মানী না নিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পর জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি আয়ের খাতে উল্লেখ করেছেন, মেয়র সম্মানী ভাতা বাবদ বার্ষিকভাবে পেয়েছেন ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে তিনি ১৭ হাজার টাকা সম্মানী নিয়েছেন।

জাহিদ ফারুক শামীম : সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীম ২০১৮ সালে বরিশাল-৫ (সদর) আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। ওইসময় তার বাৎসরিক আয় ছিল ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮০২ টাকা। নগদ ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৯২৫ টাকা, গাড়ির মূল্য ২৬ লাখ ৮৯ হাজার ৪৫০ টাকা, স্বর্ণ ২০ ভরি, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র ৪ লাখ টাকা, অকৃষি জমি ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিল। স্ত্রীর নামে ছিল আরও ৩০ ভরি স্বর্ণ। এছাড়া ওইসময় তার গাড়ি ক্রয় বাবদ প্রায় ৭ লাখ টাকার ঋণও ছিল। পাঁচ বছরের ব্যবধানে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় জাহিদ ফারুক শামীম তার বাৎসরিক আয় উল্লেখ করেছেন ১ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা। এরমধ্যে পেনশন ও সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া ভাতা থেকে বাৎসরিক আয় ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৬ টাকা। ব্যাংক মুনাফা ও ফ্ল্যাট বিক্রি করে আয় ১ কোটি ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৯০২ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে তার বাৎসরিক আয় বেড়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৮ হাজার ৮৫৬ টাকা। এছাড়া তার নগদ অর্থ রয়েছে ৫৮ লাখ ১১ হাজার ৬০৩ টাকা, ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ২৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৫০ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেট কার, স্বর্ণ ২০ তোলা, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র ৭০ হাজার টাকার। বরিশাল নগরীর আলেকান্দায় দুটি বাড়ি এবং কক্সবাজার ও ঢাকার বারিধারায় তার দুটি দালান রয়েছে, যার মূল্য ১ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ টাকা। জাহিদ ফারুক শামীমের স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ রয়েছে ৯২ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৫ টাকা, ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ ৫৬ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ৭০ লাখ টাকা, ১০ তোলা স্বর্ণ এবং একটি পিস্তল রয়েছে যার মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

গোলাম কিবরিয়া টিপু : বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ৬ কোটি ১০ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬৪ টাকা। এরমধ্যে ব্যবসা থেকে ৬ কোটি ৮৪ হাজার ৪৬৪ টাকা এবং করমুক্ত মৎস্য ব্যবসা থেকে ১০ লাখ টাকা। এছাড়া তার ছিল নগদ ৪ লাখ ৪ হাজার ৬৬৮ টাকা, ব্যাংকে জমা ২ কোটি ৩০ লাখ ৮ হাজার ১০৮ টাকা। সুদবিহীন বিনিয়োগ ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯১ টাকা। তার ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৬ টাকা মূল্যের চারটি গাড়ি রয়েছে। ২০২৩ সালে এসে গোলাম কিবরিয়া টিপুর বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৭৭ লাখ ৩ হাজার ৭৯২ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে তার আয় বেড়েছে ১২ কোটি ৬৬ লাখ ১৯ হাজার ৩২৮ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে বছরে ৩ কোটি ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮০৬ টাকা আয়, শেয়ার-সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে ১৪ কোটি ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭১ টাকা আয়। বাড়ি ও অন্যান্য ভাড়া বাবদ বছরে আয় ৩ কোটি ৩০ লাখ ৯ হাজার টাকা। এছাড়া সম্মানী ভাতা পান ৯ লাখ ৫ হাজার টাকা। ব্যাংক সুদ ও অন্যান্য খাত থেকে ৫৯ লাখ ২১ হাজার ৬৯০ টাকা এবং পার্লামেন্ট থেকে প্রাপ্ত আয় ১৭ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৫ টাকা। তার নগদ ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৫ টাকা রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৬ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৯২ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৫ টাকা। বন্ড ও সঞ্চয়পত্রে ১৪ কোটি ৬৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮৬ হাজার ৩২৬ টাকা রয়েছে। স্থায়ী আমানত রয়েছে ৭ কোটি ৭১ লাখ ৬২ হাজার ৬৪৬ টাকা। দুইটি জিপ গাড়ি, বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি রয়েছে ৯১ লাখ টাকার। নিজের ১৫০ ভরি স্বর্ণও রয়েছে। এছাড়াও তার একটি শর্টগান ও একটি পিস্তল রয়েছে।

পঙ্কজ দেবনাথ : ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ। ২০২৩ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনী এলাকায় বেশ সুবিধাজনক অবস্থানেও রয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পঙ্কজ দেবনাথ তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার প্রধান আয়ের উৎস ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় ছিল ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার ১২৩ টাকা। ব্যবসা থেকে তার আয় হয় ৩৬ হাজার টাকা। সংসদ সদস্যর সম্মানী ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ টাকা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে পারিতোষিক ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ব্যাংক সুদ থেকে ২০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৩ টাকা। নগদ টাকা ছিল ১৭ লাখ ৬৮ হাজার ৫৫৯ টাকা। ব্যাংক ব্যালেন্স ২৭ লাখ ৫১ হাজার ৪৯৯ টাকা। বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার ছিল ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ডিপিএস ছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার। যানবাহনে ৬৩ লাখ ১১ হাজার ৮১৫ টাকা। স্বর্ণ ৬০ তোলা। বিয়ের উপহার হিসেবে আসবাব পেয়েছেন ৭০ হাজার টাকার। স্ত্রীকে ঋণ প্রদান ও ব্যক্তি মালিকানার মূলধন ছিল ৫ লাখ ২৯ হাজার ৬১৪ টাকা। পূর্বাচলে প্লটের মূল্য ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং একটি ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ টাকার ফ্ল্যাট রয়েছে। কিন্তু পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০২৩ সালে এসে পঙ্কজ দেবনাথের বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ৪৩ লাখ ৮৫০ টাকা। যা ২০১৮ সালের চেয়ে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭২৭ টাকা বেশি। এবছর তিনি দেখিয়েছেন ব্যবসা থেকে আয় ১৯ লাখ ৫০ হাজার এবং সম্মানী ভাতা ২৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৫০ টাকা। তার নগদ ৬ লাখ ৬২৬ টাকা রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৮ লাখ ৬২ হাজার ৬৫৩ টাকা। স্থায়ী আমানত রয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ৭৭ টাকা। বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি, মালগাড়ি রয়েছে ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ৮১৫ টাকার। ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার। নিজের ৬৭ ভরি স্বর্ণও রয়েছে।

নাসরিন জাহান রতনা : বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনা। ২০১৮ সালে তার বার্ষিক আয় ছিল ৫৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯৬ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাত থেকে ১১ লাখ ৯৬ হাজার ৮০০ টাকা, ব্যবসা থেকে ১৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫০ টাকা, সংসদ সদস্যর সম্মানী ভাতা ২৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫শ’ টাকা, ব্যাংক সুদ থেকে ৪১ হাজার ৪শ’ ৪৬ টাকা আয় হয়। ২০২৩ সালের উত্থাপিত হলফনামায় তার আয় কমেছে প্রায় ২৫ লাখ ২০ হাজার ১৭ টাকা। এবার তিনি বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৩০ লাখ ৬৮ হাজার ৫৭৯ টাকা। তার পেশা ব্যবসা হলেও তিনি এক টাকাও ব্যবসা খাত থেকে আয় করেন না। তবে শেয়ার-সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে ৫৫ হাজার ৩৭ টাকা আয়। বাড়ি ও অন্যান্য ভাড়া বাবদ বছরে আয় ৬ লাখ ২৮ হাজার ৪২ টাকা। এছাড়া সম্মানী ভাতা ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ব্যাংক সুদ ও অন্যান্য খাত থেকে ১৭ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেন। এছাড়াও তার অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে রয়েছে নগদ ২৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪৬৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৮১ টাকা, বন্ড ও সঞ্চয়পত্রে ১ কোটি ৫০ লাখ ১৫ হাজার টাকা, স্থায়ী আমানত রয়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩১ টাকা। দুটি জিপ গাড়ি, বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি রয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩০ টাকা, নিজের নামে ১০০ তোলা স্বর্ণও রয়েছে। ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে ৯ লাখ টাকার। এছাড়া ১০ লাখ টাকা মূল্যের দালান ও তার ৭৯ লাখ ৭৭ হাজার ৯৪২ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে।




চতুর্থ দিনে ইসিতে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪৮ জন




আপিলেও টিকল না বিকল্পধারার মান্নানের প্রার্থিতা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল মান্নানের মনোনয়নপত্র আপিলেও বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ খেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।



প্রার্থিতা ফিরে পেতে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ছাড়লেন শাম্মী

বরিশাল অফিস:: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ছেড়েছেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ। এসংক্রান্ত আবেদন গত ৮ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া সরকার গ্রহণ করেছে। শাম্মীর ওই আবেদনের একটি কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ড. শাম্মী বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন।মনোনয়ন বাছাইয়ে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম তার প্রার্থিতা বাতিল করেন। তবে ইসিতে করা তার আপিলের শুনানি হবে বুধবার (১৩ ডিসেম্বর)।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ত্র দাখিলের আগে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয়। ড. শাম্মী গত ৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

তখনও তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ছিলেন। সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আবেদনের কপিতে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ান সরকার ড. শাম্মীর অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করার আবেদন গত ৮ ডিসেম্বর গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে ড. শাম্মী বলেন, তিনি ২৭ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছেন। সে দেশের সরকার ৮ ডিসেম্বর আবেদন গ্রহণ করেছে।প্রমাণপত্র প্রসঙ্গে শাম্মী বলেন, যেহেতু বিষয়টা ইসিতে বিচারাধীন, তাই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করছি না। ইসির রায় ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলন করব।

ড. শাম্মীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকের অভিযোগ করেন ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ নাথ। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব থাকা অবস্থায় শাম্মী নির্বাচনী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সাংবিধানিকভাবে তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ নেই।

 




দিল্লি যেতে দেওয়া হলো না মেজর হাফিজকে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।  চিকিৎসার জন্য ভারতের দিল্লিতে যেতে চাইলে মঙ্গলবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ না দেখিয়ে তাকে যেতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।



বরিশাল-১ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আবুল হাসানাত

বরিশাল অফিস:: বরিশাল জেলার প্রবেশদ্বারের নির্বাচনী আসন বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বিজয় ঘোষণা শুধু অপেক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটের মাধ্যমে পঞ্চম বারের মতো এমপি হতে যাচ্ছেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরাবরের মতো এ আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। শুধু নিজ নির্বাচনী এলাকায়ই নয়; গোটা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের রূপকার হিসেবে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর খ্যাতি রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী লীগের একমাত্র অভিভাবকও তিনি। ফলে এ আসনে কেউ তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী হতে চায়না।

তারপরেও গতানুগতিকভাবে এখানে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন অ্যাডভোকেট ছেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী ও এনপিপি মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন মোঃ তুহিন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে ওই দুই প্রার্থীকে আর নির্বাচনী মাঠে দেখা যায়নি। এমনকি তাদের পক্ষে কোন কর্মী-সমর্থকদেরও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জাপা মনোনীত প্রার্থীর নিজ উপজেলা আগৈলঝাড়ার জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল একাধিক নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন, জাপা থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সেই প্রার্থী আমাদের সাথে কোনধরনের যোগাযোগ করেননি। কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। এছাড়া তার (প্রার্থীর) সাথে নির্বাচনী এলাকার জাপার নেতাকর্মীদের কোনধরনের সম্পর্কও নেই। একই কথা জানিয়েছেন, গৌরনদী উপজেলা জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দরা।

জাপা প্রার্থীর নিজ এলাকা সেরাল গ্রামের বাসিন্দা সাগর সেরনিয়াবাত বলেন, পুরো নির্বাচনী আসনতো দূরের কথা জাপা প্রার্থীর নিজ গ্রামের ভোট কেন্দ্রেও এজেন্ট দেওয়ার মতো তার কোন লোক নেই। সূত্রমতে, বরিশাল-১ আসনে জাতীয় পার্টির এককভাবে একহাজার ভোটও নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ আসনে এনপিপির নেই কোন কমিটি। কখনও কোনদিন ওই পার্টির সভা-সমাবেশও হয়নি। পুরো নির্বাচনী এলাকায় এনপিপি’র একশ’ ভোটও নেই। এনপিপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ তুহিনের প্রতিবেশী আশোকাঠী গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশার, মিজানুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, তুহিনের তার নিজ গ্রামের ভোট কেন্দ্রেও এজেন্ট দেওয়ার লোক নেই।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নির্দেশে আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে শতভাগ গ্রহণযোগ্য করতে সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। ইতোমধ্যে আগৈলঝাড়ার পাঁচটি ইউনিয়নে বিশেষ সাংগঠনিক সভা করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। ১১ ডিসেম্বর বাগধা ইউনিয়নের বিশেষ সাংগঠনিক সভার মাধ্যমে পাঁচ ইউনিয়নে সভা সম্পন্ন করা হয়েছে। ওই সভায় ভোট কেন্দ্রের জন্য কমিটি গঠণ থেকে শুরু করে নির্বাচনের সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মোঃ লিটন বলেন, আমরা কোন দলের প্রার্থীকে ছোট করে দেখছিনা। আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তাই আমাদের প্রার্থীর নির্দেশে ইতোমধ্যে আমরা নির্বাচনের সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছি।

উল্লেখ্য, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বরিশাল-১ আসন থেকে ১৯৯১ সালে প্রথম, ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয়, ২০১৪ সালে তৃতীয় ও ২০১৮ সালে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে রওশন এরশাদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে গেছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি গণভবনে যান বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র তা নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, রওশন এরশাদের সঙ্গে তার ছেলে সাদ এরশাদ রয়েছেন। তারা দুপুর ১টায় গণভবনে যান।



নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই: চুন্নু

চন্দ্রদ্বীপ অনলাইন: পশ্চিমারা যেটা চায়, সেটা বাংলাদেশের জনগণও চায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, বিশেষ করে ইউএস বলেন, অস্ট্রেলিয়া বলেন, তারা নির্বাচনের বিষয়ে যেসব কথা বলছে, সেগুলো বাংলাদেশের মানুষের মনের কথা এবং আমারও মনের কথা। যদিও আমরা চাই না বাইরের কেউ আমাদের বিষয়ে এভাবে কথা বলুক। আমার মনে হয়, এই সুযোগটা আমাদের মতো রাজনৈতিক দলগুলো করে দিয়েছে। এর জন্য আমরাই দায়ী। তবে তাদের বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত।