আজ ৫ জেলার নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নাটোর, পাবনা ও খাগড়াছড়ি জেলার নির্বাচনী জনসভায় বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি এসব জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন তিনি।



প্রধানমন্ত্রী সিলেটবাসীর কাছে ভোট চাইলেন




বরিশালে তিনটি আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

এস এল টি তুহিন, বরিশাল : জেলার ছয়টি আসনের ৩৫ জন প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারনার দেখা গেছে নৌকা, ট্রাক ও ঈগল মার্কার জয়জয়কার। ছয়টি আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনের মাঠে এখনও তারা জোরালো কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। অন্যান্য প্রার্থীদের পক্ষে এখনও শুরু হয়নি কোন প্রচার-প্রচারনা। ছয়টি আসনের মধ্যে বরিশাল-১ ও ৫ আসনে আওয়ামী লীগ ও নৌকা বিহীন বরিশাল-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অনেকটা বিজয়ের পথে। বাকি তিনটি আসনে ত্রিমুখী লড়াই বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। এসব আসনের প্রবীণ প্রার্থীদের সাথে পাল্লাদিয়ে বেশ এগিয়ে গেছেন নবীন প্রার্থীরা।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) : এ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার হেভিওয়েট প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে ও বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। এখানে নেই কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে তার (হাসানাত) বিজয় অনেকটা সু-নিশ্চিত। কারণ ওই আসনে জাতীয় পার্টির সেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী লাঙ্গল ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মোঃ তুহিন আম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও দুই উপজেলার নির্বাচনী এলাকাতো দূরের কথা নিজ ভোট কেন্দ্রেও ওই দুই প্রার্থীর এজেন্ট দেওয়ার মতো কোন কর্মী-সমর্থক নেই।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) : এ আসনে প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিলো জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ক্লিন ইমেজের দুইবারের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুসকে। শেষপর্যন্ত মহাজোটের সাথে আসন ভাগাভাগির কারণে ১৪ দলের শরীক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে ওই আসনটি ছেড়ে দিতে হয়েছে। যদিও রাশেদ খান মেনন নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন। তালুকদার ইউনুস সভা করে নৌকার প্রার্থী রাশেদ খান মেননের পক্ষে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার জন্য অনুরোধ করলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিষয়টি এখনও মেনে নিতে পারেননি। ওই আসনের হতাশ আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, যাকে এ আসনে নৌকা প্রতীক ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তিনি হলেন বরিশাল-৩ আসনের বাসিন্দা। তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে এখানে নৌকা প্রতীক না দেয়ায় সবার মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পাশাপাশি এ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিতের পর ঢেঁকি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মনিরুল ইসলাম এবং ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন শেরে বাংলার দৌহিত্র একে ফাইয়াজুল হক। ইতোমধ্যে বানারীপাড়ায় রাশেদ খান মেননের সভা চলাকালীন সময় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সূত্রমতে, ওই আসনের আওয়ামী লীগের বৃহত অংশের নেতাকর্মীরা নৌকা ছেড়ে ঈগল মার্কার পক্ষে কাজ শুরু করছেন। এই আসনে অপর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা হলেন-কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী নকুল কুমার বিশ্বাস গামছা, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস লাঙ্গল, তৃণমূল বিএনপির আলহাজ¦ মোঃ শাহজাহান সিরাজ সোনালী আঁশ ও এনপিপি’র সাহেব আলী আম।

বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) : এখানে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে অনেকটা নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে নিয়েছিলেন নৌকার প্রার্থী সরদার মোঃ খালেদ হোসেন স্বপন। কিন্তু তা বেশিদিন টিকেনি। শেষপর্যন্ত তিনিও (স্বপন) মহাজোটের সাথে আসন ভাগাভাগির কবলে পরে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। এখানে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি (টিপু) লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন। আওয়ামী লীগের বৃহত অংশের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, এখনো মহাজোটের প্রার্থী তাদের কাউকে ডাকেনি। বিগতদিনের ন্যায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তিনি কোণঠাসা করে রাখতে চাচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে তারা এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে নৌকা মার্কার প্রার্থী না থাকায় ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য মোঃ আতিকুর রহমানের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছেন। বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাসুম মাঝি বলেন, এ আসনে নৌকা প্রতীক না থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশ। তাই এখানকার উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য আতিকুর রহমানের সাথে মাঠে নেমেছেন।
তবে নদীর কারণে বিচ্ছিন্ন এ আসনের মুলাদী উপজেলার অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, উন্নয়নের স্বার্থে দীর্ঘদিন থেকে তারা মুলাদী উপজেলার কোন বাসিন্দাকে দলীয় এমপি বানাতে চেয়েছেন। কিন্তু বরাবরেই বাবুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দাদের প্রার্থী দেয়ায় তারা হতাশ হয়েছেন। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মুলাদীর বাটামারা ইউনিয়নের বাসিন্দা ড. মোহাম্মদ আমিনুল হক কবির ঈগল মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তাই তারা একজোট হয়ে ঈগল মার্কার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ঈগল মার্কার বিজয় নিশ্চিত করে তারা সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় বরিশাল-৩ আসনকে সম্পৃক্ত করবেন। তবে ভোটের মাঠে এর কোনো প্রভাব পড়বে না দাবি করে জাতীয় পার্টির বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, গোলাম কিবরিয়া টিপু এর আগেও এ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এখানে জাতীয় পার্টির একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীই জয়লাভ করবে। এই আসনে অপর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা হলেন-ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট শেখ মোঃ টিপু সুলতান হাতুড়ি, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আজমুল হাসান জিহাদ ছড়ি ও তৃণমূল বিএনপির শাহানাজ হোসেন সোনালী আঁশ।
বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) ॥ একসময়ের বিএনপি ও জামায়াত অধ্যুষিত এ আসনটি নানা কৌশলে বাগিয়ে আনেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ। টানা দুইবারের এমপি পঙ্কজ দেবনাথ ওই আসনে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিনত করেছেন। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের সাথে তার বিরোধের সূত্রধরে নানা অপপ্রচারের কারণে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয় দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মি আহমেদকে। শুরু থেকেই বর্তমান সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ বলে আসছিলেন, তিনি নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করবেন না। কিন্তু শাম্মি আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়ার পর পরই পঙ্কজ অনুসারীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা। ফলে উপায়অন্তুর না পেয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অনুরোধে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন শেষসময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনলাইনের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন পঙ্কজ দেবনাথ। এরপরই ভাগ্য খুলতে শুরু করে পঙ্কজ দেবনাথের। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় তিনি (পঙ্কজ) নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত্য নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ এনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। যার প্রমান পাওয়ায় নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ রায়ের বিরুদ্ধে নৌকার প্রার্থী ইসির কাছে আপিল করেও কোন সুফল না পেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। সেখানেও নৌকার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। ফলে ভাগ্য খুলতে শুরু করেছে ঈগল মার্কা নিয়ে নির্বাচনী মাঠের পাকা খেলোয়াড় বর্তমান সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের। ওই আসনে জাতীয় পার্টির মিজানুর রহমান লাঙ্গল, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের হৃদয় ইসলাম চুন্নু ছড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও তাদের তেমন কোন কর্মী সমর্থক নেই।

বরিশাল-৫ (সদর) : নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ১৯ ডিসেম্বরের এ রায়ের কারণে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। যেকারণে এ আসনে অনেকটা বিজয়ে পথে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচরনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুরো নির্বাচনী এলাকা সরগরম করে রেখেছেন। নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের পাশাপাশি এ আসনে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ট্রাক মার্কার প্রার্থী আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন রিপন। তার (রিপন) প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী এস.আর সমাজ কল্যাণ সংস্থা বিগত ২০ বছর ধরে বরিশাল সদর আসনের অসহায় ও দরিদ্র প্রায় দশ হাজার পরিবারকে পুরোপুরি স্বাবলম্ভী করেছে। সালাহউদ্দিন রিপন আরো ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। অতীত কর্মকান্ডের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ট্রাক মার্কার প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন। নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ আসনে নৌকার প্রার্থীর সাথে ট্রাক মার্কার প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্ধিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ আসনের অপর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা হলেন-জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস লাঙ্গল, এনপিপি’র আবদুল হান্নান সিকদার আম, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মোঃ আসাদুজ্জামান ছড়ি ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহাতাব হোসেন ডাব।

তবে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা ফিরে পেতে আবারও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবীর মাধ্যমে সাদিক আব্দুল্লাহ হাইকোর্টের আদেশের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদনটি দাখিল করেছেন। শেষপর্যন্ত সাদিক আব্দুল্লাহ তার প্রার্থীতা ফিরে পেলে পাল্টে যেতে পারে বর্তমানের নির্বাচনী মাঠের হিসেব নিকেশ।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) : টানা ২২ বছর পর দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক প্রচারণার মাঠে ভোট চাচ্ছেন। তবে জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনার পাশাপাশি বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চুন্নু স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এ আসনে নৌকার প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার পথটা মসৃণ হবেনা। সূত্রমতে, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এরপর টানা ২৩ বছর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মাঝের ২২ বছরে চারবার বিএনপি ও একবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। আর ১৯৯৬ সালের পর ২০০১ সালেও বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হন। এরপর টানা তিনবার এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচবার বিএনপি, চারবার জাতীয় পার্টি ও দুইবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসনটি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগে ভর করেই জাতীয় পার্টিকে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে হয়েছে। তবে টানা তিন বার জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার স্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা এই আসনের সংসদ সদস্য থাকায় তাদের অবস্থানের সাথে দলেরও অবস্থান বেশ জোরালো হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতারা। হিসেব বলছে, ভোটের দিনের আগে মাত্র একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে নিজ দলের কোন্দল মেটাতে হবে নৌকার প্রার্থীকে। তা না হলে সদ্য অব্যাহতির পর ট্রাক মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল আলম চুন্নু নৌকার প্রার্থীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। কারণ ২০০৯ ও ২০১৪ সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় তিনি (চুন্নু) বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। এরপর ২০১৯ সালে এক যুগের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চুন্নু বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ বলছেন, ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫১২ ভোটের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সংসদীয় আসনের যে সীমানা, উপজেলা নির্বাচনেও একই সীমানা। তাই সেই হিসেবে শামসুল আলম চুন্নু এখন ভোটের মাঠের পাকা খেলোয়াড়। নৌকাকে জিততে হলে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল আলম চুন্নুর সাথেও হিসেবটা চুকিয়ে নিতে হবে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শামসুল আলম চুন্নু বলেন, দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ আমাকে সাপোর্ট দিচ্ছেন এবং দেবেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্ধিতামূলক করতে চাই। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে আমি বিজয়ী হবো। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এখনই কিছু বলতে নারাজ হলেও তার সমর্থকরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। অপরদিকে নৌকা মার্কার প্রার্থী আবদুল হাফিজ মল্লিক বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার সাথে আছেন এবং যারা নেই তারাও অচিরে নৌকার পক্ষে কাজ শুরু করবেন। এ আসনের অপর প্রার্থীরা হলেন-তৃণমুল বিএনপির টিএম জহিরুল হক সোনালী আঁশ, এনপিপি’র মোঃ মোশারফ হোসেন আম, জাসদের মোহাম্মদ মোহসীন মশাল, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোঃ মাইনুল ইসলাম ডাব, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শাহবাজ মিঞা ঈগল, কামরুল ইসলাম খান তরমুজ ও জাকির খান সাগর রকেট।

 

 

 




বরিশালের দখিণের ভোটের মাঠে মাতাল হাওয়া

এল টি তুহিন,বরিশাল : দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটের বাকিমাত্র কয়েকদিন। দখিণাঞ্চলে ইতিমধ্যে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। ভোটে অংশ নিতে এখনও আইনি লড়াই চলিয়ে যাচ্ছেন অনেক প্রার্থী। বরিশাল- ৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন না বলেই এক প্রকার ধরে নেওয়া যায়। যদিও তিনি এর বিরুদ্ধে আবার আপিল

করছেন। অপরদিকে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদের রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও সুযোগ নেই।

 

এদিকে ১৮ই ডিসেম্বর থেকেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সহ দলীয় সমর্থক সদস্যরা ও প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই নির্বাচন প্রচারে নেমে পড়েছেন। অনেকে নির্বাচনি পোস্টার আগেই ছেপে রেখেছিলেন, নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় তা টানানো শুরু হয়েছে। বরিশালের অধিকাংশ আসনেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। প্রচারণার শুরুতে বরিশালে সংঘাত-সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

ফারুক ও সাদিক কর্মীদের সংঘাত-রক্তপাত :
প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীমের কর্মীরা শহরের পলাশপুরে প্রচারণা চালাতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারীদের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয়প্রার্থীর প্রায় ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে জাহিদ ফারুক অনুসারী হালিম, রবিউল, মেহেদী, রফিকুল এবং সাদিক আব্দুল্লাহ’র কর্মী রাব্বি, আমিন ও আসিফকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার দিকে কাউনিয়া থানাধীন এলাকার পলাশপুরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বরিশাল সদর ৫ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহিদ ফারুক সোমবার নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরে হালিম এবং আরও কয়েকজন প্রচারণা চালান। এবং তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকের অনুসারীদের উদ্দেশে তীর্যক মন্তব্য করেন। বিপরিতে সাদিক অনুসারীরা রাব্বিও পাল্টা অবস্থান নিয়ে নেতার পক্ষে প্রচারণা চালান এবং জাহিদ ফারুকের কর্মীদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেন। এনিয়ে উভয় প্রার্থীর কর্মীরা পলাশপুরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে কোপাকুপিতে দু’গ্ররুপের অন্তত ১০ কর্মী রক্তাক্ত হন। তাদের মধ্যে সাতজনকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনার পরপরই পুলিশ গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে সংঘাতের কারণ হিসেবে পুলিশ প্রাথমিক কিছু বলতে না পারলেও জাহিদ ফারুক এবং সাদিক আব্দুল্লাহ’র কর্মীরা পরস্পরবিরোধী পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, ‘দুটি পক্ষের সাতজন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে পলাশপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ব্যবস্থাগ্রহণ করেছে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এবং ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নৌকার ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে অলিগলি : প্রতিটি মহল্লার চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে অফিস সবখানেই আলোচনা
আসন্ন নির্বাচনের ভোট নিয়ে। এর মধ্যে শুরু হয়ে গেছে প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বরিশাল নগরীর প্রতিটি অলিগলি ছেয়ে গেছে বরিশাল-৫ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীমের পোস্টারে। এমন চিত্র দেখা গেছে দখিণের প্রতিটি জেলা-উপজেলা ও পাড়া- মহল্লায়। প্রতীক নিশ্চিত হওয়ায় অনেকে আগেই পোস্টার ছাপানোর কাজ শেষ করে রেখেছেন। সরজমিনে দেখা গেছে বিভিন্ন বয়সের কর্মীরা ব্যানার- পোস্টার টাঙ্গানোয় ব্যস্ত।

প্রচরণার আগে মুজিব কোট জড়িয়ে ওমর গেলেন বঙ্গবন্ধুর মাজারে :

এই প্রথম বার মুজিব কোট গায়ে জড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতের মধ্যেদিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে মাঠে নামলেন সাবেক বিএনপি নেতা সদ্য আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর বীর উত্তম। মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করেন ঝালকাঠি ১ (রাজাপুর- কাঠালিয়া) আসনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত এই প্রার্থী। পরে রাজাপুর বাইপাস মোড়ে দলিও কার্যালয় এসে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এসময় কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার, কাঠালিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল বাশার বাদশাহ, রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম খলিফা, চন্দ্র শেখর হালদার সহ নেতাকর্মী গন উপস্থিত ছিলেন ।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম ঝালকাঠি-১ আসন থেকে ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ২৯ নভেম্বর জেল থেকে জামিনে বের হয়ে ৩০ ডিসেম্বর দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপর এই আসনে নৌকা মার্কার মনোনয়ন দেওয়া হয় তাকে। ওইদিন অনলাইনে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে এ আসনে নৌকা প্রতীক পাওয়া গত তিনবারের এমপি বজলুল হক হারুন নৌকা মার্কার প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজের প্রার্থিতা করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ আসনে নৌকার সাথে মূল লড়াই হবে ঈগল প্রতীকের। ঈগল প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ উপকমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুজ্জামান মনির। ঝালকাঠি এক আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

মোট ভোটার দুই লাখ ১২ হাজার আটজন। জয়ের জন্য মেননের ভরসা আ.লীগ : আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে নৌকা প্রতীকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। এ আসনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম তেমন একটা না থাকলেও নৌকার ওপর ভরসা করে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী মেনন অনুসারীরা। এদিকে সূত্রও বলছে, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ঘনিষ্টজন খ্যাত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশায় আগে থেকেই বরিশাল-২ আসনের দুটি উপজেলাতেই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বেশ সু-সংগঠিত। সেই হিসেবে আওয়ামী লীগের সমর্থনের কারণেই মেননই জয় ছিনিয়ে আনবেন।

আর বানারীপাড়া ও উজিরপুরের আওয়ামী লীগ নেতারাও বলছেন, নেত্রীর নির্দেশ শিরোধার্য। এর ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই। আর জেলা থেকেও পৌর এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এরইমধ্যে।

যদিও বানারীপাড়া-উজিরপুর উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মো. মনিরুল ইসলাম, শেরে বাংলা এ.কে.এম. ফজলুল হকের দৌহিত্র বানারীপাড়া উপজেলা
আওয়ামী লীগের সদস্য এ.কে ফাইয়াজুল হক, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেনের মতো প্রার্থীসহ আরও ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন নির্বাচনের মাঠে। ফলে কাউকে অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই এ আসনে। তবে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্ব›দ্বী সব প্রার্থীকে সমান ভেবেই কাজ করার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বরিশাল জেলা কমিটির নেতারা।


বরিশাল জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জাম্মেল হক ফিরোজ বলেন, আমরা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের উপস্থিতিতে বরিশাল-২ আসনের আওয়ামী লীগের বন্ধুদের (নেতাদের) সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট এবং আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার আশাও করছি।

এদিকে উজিরপুরে সাংগঠনিক অবস্থা ভালো থাকলেও বানারীপাড়ায় নাজুক বললেই চলে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান।

বাকেরগঞ্জ জাপার সঙ্গে নৌকার আরেক উদ্বেগ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী : টানা ২২ বছর পর দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রচারণার মাঠে ভোট চাচ্ছেন। তবে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনার পাশাপাশি বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এ আসনে জয়ী হওয়ার পথটা মসৃণ হবে না নৌকার প্রার্থীর।

হিসাব বলছে, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এরপর টানা ২৩ বছর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হন। মাঝের ২২ বছরে ৪ বার বিএনপি ও একবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ আসনে নির্বাচিত হন। আর ১৯৯৬ সালের পর ২০০১ সালেও বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হন, এরপর টানা তিনবার এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ বার বিএনপি, এরপর ৪ বার জাতীয় পার্টি ও দুই বার আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসনটি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনী ফলাফলের হিসাবে, এক সময়ের বিএনপির ঘাঁটি খ্যাত
বাকেরগঞ্জ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পার্টির হাতে চলে যায়। যদিও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সংসদ নির্বাচনে জোটের স্বার্থে আসনটি গত তিন বার জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগকেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগে ভর করেই জাতীয় পার্টিকে বিগত তিন সংসদ নির্বাচনে জয়ী হতে হয়েছে। বাকেরগঞ্জ জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হলে, উপজেলা কিংবা পৌর নির্বাচনে জোটের সহযোগিতা ছাড়াই
নৌকার প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে পারতেন না। তবে টানা তিন বার জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল
আমিন হাওলাদার ও তার স্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা এই আসনের সংসদ সদস্য থাকায় তাদের অবস্থানের সঙ্গে দলেরও অবস্থান বেশ জোরালো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাদের। হিসাব বলছে, ভোটের দিনের আগে মাত্র একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে নিজ দলের কোন্দল মেটাতে হবে নৌকার প্রার্থীকে।

 

তা না হলে সংসদ নির্বাচনের জন্য সদ্য অব্যাহতি নেওয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল আলম গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। কারণ ২০০৯ ও ২০১৪ সালে সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন, আর ২০১৯ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের একযুগের এই সভাপতি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ বলছেন, ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫১২ ভোটের আসন বাকেরগঞ্জ উপজেলার সংসদীয় আসনের যে সীমানা, উপজেলা নির্বাচনেরও সমীনা তাই, আর এ হিসেবে মোহাম্মদ শামসুল আলম ভোটের মাঠের পাকা খেলোয়াড় এখন। নৌকাকে জিততে হলে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শামসুল আলমের সঙ্গেও হিসাবটা চুকিয়ে নিতে হবে। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শামসুল আলম বলছেন, দলের নেতাকর্মীরা তাকে সাপোর্ট দিচ্ছেন এবং দেবেন। নেত্রীর
নির্দেশ অনুযায়ী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলক করতে চান তিনি। আর নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে তিনি। যদিও জাতীয় পার্টির প্রার্থী এখনই কিছু বলতে নারাজ, তবে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী তার কর্মী-সমর্থকরা।

 




২১ – ২৩ গণসংযোগ ও ২৪ ডিসেম্বর অবরোধ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এবং নির্বাচন বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী- আগামী বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার (২১, ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর) টানা তিনদিন ঢাকাসহ সারাদেশে গণসংযোগ এবং রোববার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

তিনি বলেন, এক দফার দাবিতে নির্বাচন বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো। বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো একই কর্মসূচি পালন করবে।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবিতে এবং দুর্নীতি, মহাদুর্নীতি ও দুঃশাসনের প্রতিবাদে বিএনপির চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো।

তিনি জানান, অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে, খালেদা জিয়াসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের মুক্তি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হবে।

এর আগে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদও পৃথকভাবে একই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এদিন দুপুরে সরকারের পদত্যাগ দাবিতে সারাদেশে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয় বিএনপি।

গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় বিএনপি। এরপরই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ একাধিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের অনেকেই বর্তমানে কারাগারে। সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে নভেম্বরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ধারবাহিকভাবে হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি দিচ্ছে বিএনপি। তাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা অন্য দলগুলোও একই ধরনের কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে।




এবার ‘অসহযোগ আন্দোলনে’র ডাক বিএনপির

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বর্তমান সরকারকে এখন থেকে আর কোনো সহযোগিতা না করতে প্রশাসন ও দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি আগামী ৭ জানুয়ারির ভোট বর্জনের আহ্বানও জানিয়েছে দলটি।



শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন আজ




শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন আগামীকাল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগামীকাল বুধবার থেকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  তিনি আগামীকাল সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.) ও শাহপরানের (র.) মাজার জিয়ারত ও জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন।



হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না সাদিক

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-৫ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে তিনি (সাদিক) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে এ আদেশ দিয়েছেন।

আদালতে সাদিক আব্দুল্লাহর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। এর আগে বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি।

সোমবার সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিটের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দিয়েছিলেন। সূত্রমতে, গত ১৫ ডিসেম্বর বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তার আগে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে আপিল করেন একই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম।




হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত নির্বাচন করতে পারবেন না সাদিক আব্দুল্লাহ

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা ফিরিয়ে বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। এর ফলে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন না।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আদেশ দেন।

 মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয় বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।

এর আগে বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে সাদিক আবদুল্লাহর নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই।

দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিটের শুনানি শেষে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি আবু তাহের সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান।

নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে এ আদেশ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেন একই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কর্নেল জাহিদ ফারুক।

এদিকে, সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ৭ জানুয়ারি হবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।