বরিশাল ৫ আসনে ২ প্রার্থী নির্বাচনে সরব থাকলেও বাকিরা নিরব

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের একমাত্র ভিআইপি ও মর্যাদার বরিশাল-৫ (সদর) আসনে প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন ছয়জন প্রার্থী। বিভাগীয় শহরের এ আসনে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে দেখা মিলেছে শুধুমাত্র নৌকা ও ট্রাক প্রতীকের দুইজন প্রার্থীকে। অন্য চারজন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের এখন পর্যন্ত মাঠে দেখা মেলেনি।

সূত্রমতে, গত ১৮ ডিসেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হয়ে প্রতীক গ্রহণ করেছেন ছয়জন প্রার্থী। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম নৌকা, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস লাঙ্গল, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া আলহাজ¦ মোঃ সালাহ উদ্দিন রিপন পেয়েছেন ট্রাক, এনপিপির আবদুল হান্নান আম, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির মাহাতাব হোসেন ডাব, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী মোঃ আসাদুজ্জামান ছড়ি প্রতীক পেয়েছেন। এ ছাড়া দ্বৈত্য নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে স্বতন্ত্র আরেক প্রার্থী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা ঝুলে রয়েছে। এ ব্যাপারে দায়ের করা আপিলের শুনানী আগামী ২ জানুয়ারি। ওইদিন জানা যাবে তিনি (সাদিক) নির্বাচন করতে পারবেন কিনা।

সূত্রে আরও জানা গেছে, এ আসনে ইতোমধ্যে নৌকা ও ট্রাকের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ এবং উঠান বৈঠক সবার দৃষ্টি কাড়লেও লাঙ্গল, আম, ডাব ও ছড়ি প্রতীকের প্রার্থী কিংবা তাদের কোনো কর্মী সমর্থকদের প্রচার প্রচারণায় দেখা যায়নি। এমনকি মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কোন নেতৃবৃন্দকে নৌকার পক্ষেও মাঠে দেখা মেলেনি।

এ ব্যাপারে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাগাভাগির এই নির্বাচন আমি প্রত্যাখ্যান করেছি। যেখানে ভোটের আগেই আসন ভাগ করে আওয়ামী লীগ তাদের মনোনীত প্রার্থীদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে, তাতেই স্পষ্ট হয় যে ফলাফল নির্ধারিত।

আর ছড়ি প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, আমার পক্ষে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আম ও ডাব মার্কার প্রার্থীরা এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। গত ২৩ ডিসেম্বর বরিশালের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ও নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম বরিশালের ছয় আসনের প্রার্থীদের সাথে বৈঠক করেছেন। এ সময় সদর আসনের ছড়ি ও ট্রাক মার্কার প্রার্থীদের দেখা গেলেও আর কোনো প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন না। ওই বৈঠকে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহ উদ্দিন রিপন তার নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ করেন। এ আসনে অনেক প্রার্থীদের কোনো প্রচার প্রচারণা নেই, তারা প্রতীক নিয়ে বসে আছেন জানালে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভোটারদের উপস্থিতি। আর এই ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার দায়িত্ব প্রার্থীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ আসনের নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীমের সহধর্মীনির মৃত্যুতে প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে তার বিশাল কর্মী সমর্থক এবং সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের সহধর্মীনি লুনা আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে দিনরাত সমানতালে গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারনা ও উঠান বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। নৌকা মার্কার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীমের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত মহানগর যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক মোঃ মাহমুদুল হক খান মামুন বলেন, শোককে শক্তিতে পরিনত করে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে নৌকার প্রার্থী পূর্ণরায় নির্বাচনী মাঠে নামবেন। একইসাথে আগামী ২৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফরকে শতভাগ সফল করতে মাঠে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।

নৌকার প্রার্থীর একাধিক কর্মীরা অভিযোগ করেন, সাদিক আব্দুল্লাহ প্রার্থী হতে না পারলে তার কর্মী-সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিপনের ট্রাকে ওঠার আভাস মিলেছে। যেকারণে অদ্যবর্ধি মহানগর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ সাদিক অনুসারি নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে মাঠে নামেননি। তবে শেষপর্যন্ত উন্নয়নের পক্ষে বরিশাল সদর আসনের সর্বস্তরের ভোটাররা নৌকা মার্কার ওপরই আস্থা রাখবেন। আগামী ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরিশাল সফরের মধ্যদিয়ে যার প্রতিফলন ঘটবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

অপরদিকে ভারতের চেন্নাইর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যুরদিন বিকেলে বরিশাল সদর উপজেলার সাহেবেরহাট এলাকায় অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, আমি আমার স্ত্রীর লাশ নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। তাই তাকে ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। সকলের কাছে মরহুমা স্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়ে তিনি আরও বলেন, এত কষ্টের মাঝেও আমি আমার দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। আপনাদের সাথে যদি কথা না বলি, তাহলে প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা সঠিকভাবে পালন করা হবেনা। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী একের অধিক হতে পারে, অন্যদল থেকেও হতে পারে। সেটা নিয়ে চিন্তা নেই। আমি জনগনের ওপর নির্ভরশীল। বিগত পাঁচবছরের মূল্যায়ন করে জনগণ যদি আমাকে ভোট দেয় তাহলে আমি নির্বাচিত হবো এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মানে নিজেকে উৎস্বর্গ করবো।

জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, প্রার্থীদের মূল্যায়ন করবে জনগন, তারা জানে কাকে কীভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। গত পাঁচ বছরে বরিশালবাসী বুঝতে পেরেছে কে নির্ভরশীল ব্যক্তি আর কার ওপরে আস্থা রাখা যায়। তারা জানে কার ওপর আস্থা রাখলে বরিশালের উন্নয়ন করা যায়। তিনি আরও বলেন, বরিশালবাসী আমার প্রতি যে ভালোবাসা ও বিশ্বাস দেখিয়েছেন, সেই বিশ্বাস ও ভালোবাসায় আস্থা রেখেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পুনরায় বরিশাল-৫ আসনের মানুষের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি কথা দিচ্ছি, যদি বিজয়ী হয়ে আসতে পারি তাহলে করোনাকালীন সংকট সময়ে যেসব কাজ করা সম্ভব হয়নি, সেগুলোসহ চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবো।

আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য বরিশালের কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন, সে যেই হোক না কেন, তাকে বিজয়ী করতে দলের সবাইকে একযোগ হয়ে কাজ করতে হবে। বলরাম পোদ্দার আরও বলেন, যারা প্রধানমন্ত্রীকে মনে প্রাণে ভালবাসেন তাদের নৌকার বিপক্ষে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। দলের পদ-পদবীধারী যারা নৌকার বিপক্ষে যাবেন, তারা প্রধানমন্ত্রীকে শুধু মুখে মুখে ভালবাসেন এমনটাই ধরে নেওয়া হবে।

অপরদিকে বরিশাল-৫ সদর আসনের প্রচারণার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, নৌকার পক্ষে যারা মাঠে সরব রয়েছেন তারা সবাই সদর আসনের বর্তমান সাংসদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীমের ঘনিষ্ঠজন। সেইসাথে সাদিক আব্দুল্লাহর একমাত্র চাচা ও বর্তমান সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত এবং সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণের অনুসারীরাও রয়েছেন নৌকা মার্কার প্রচার-প্রচারনায়। অপরদিকে প্রচরণার মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ সালাহ উদ্দিন রিপন। নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত এই প্রার্থী দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে তিনি বিজয়ী হবেন। সচেতন বরিশালবাসীর মতে, সাদিক আব্দুল্লাহ নির্বাচনের মাঠে শেষপর্যন্ত না থাকতে পারলে তার সমর্থনটা ট্রাক মার্কার এই প্রার্থীর ওপরই ভর করতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রার্থী মন্তব্য করেননি।

১৯৭৩ থেকে ২০১৮ এর নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, বরিশাল-৫ (সদর) আসন থেকে ১৯৯১ ও ২০১৪ সালের উপনির্বাচন ছাড়া বিএনপি সাতবার, আওয়ামী লীগ তিনবার ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী একবার বিজয়ী হয়েছে। সেই হিসেবে বিএনপির সমর্থকদের ভোট একটা ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহ উদ্দিন রিপন দীর্ঘবছর ধরে বরিশালে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ট্রাস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে রয়েছেন। সেইসব হিসেব মিলিয়ে নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের বাগে আনতে ট্রাক মার্কার সমর্থকরা কাজ করছেন। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলার ছয়টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ভোটার সংখ্যা মহানগর ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ আসনে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৯ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৯১১ জন এবং হিজড়া ভোটার তিনজন।

 




স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের হলেও ‌‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ভাবতে হবে : কাদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের দলের হলেও তাদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই ভাবতে হবে।



বরিশালে অবশেষে একই মঞ্চে চাচা-ভাতিজা

বরিশাল অফিস : অবশেষে একই মঞ্চে পাশাপাশি বসলেন সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত ও সাবেক মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

এপ্রিলের মাঝামাঝি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মনোনয়ন নিয়ে বিরোধের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা গেল দুজনকে। সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা এ দুজন বিসিসির মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত নৌকা পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন খোকন সেরনিয়াবাত।

২৯ ডিসেম্বর বরিশালে আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তার আগমন সফল করতে শনিবার অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের বরিশাল বিভাগীয় বর্ধিত সভা। এ সভাতেই একত্র হন খোকন-সাদিক। দলীয় সভাপতির জনসভায় ১০ লাখ লোক সমাগমের সিদ্ধান্ত হয় সেখানে।

সিটি নির্বাচনের সময় থেকেই খোকন-সাদিক গ্রুপে ভাগ হয়ে আছে বরিশাল আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনের পুরো সময় বরিশালে আসেননি সাদিক আব্দুল্লাহ। ভোটে চাচা খোকনের বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। স্বয়ং খোকন নিজেও সে সময় বহুবার ওই অভিযোগ করেন।

নির্বাচনের পর বরিশালে এসে নগর সম্পাদকের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করেন সাদিক। দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর খোকনও নেমে পড়েন নগর উন্নয়ন কাজে। তবে সব স্বাভাবিক মনে হলেও দুপক্ষের বিরোধের আঁচ ঠিকই উত্তাপ ছড়াতে থাকে নগরে। পালটাপালটি দলীয় কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে এর জানান দিতে থাকেন। এভাবে রেখেঢেকে চলা বিরোধের বিস্ফোরণ ঘটে শেখ হাসিনার বরিশালে আসার কর্মসূচি ঘোষণার পর।

কর্মসূচি সফলে বুধবার স্থানীয় সার্কিট হাউজে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগ নেতারা। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা মঞ্চে যাতে সাদিককে উঠতে দেওয়া না হয় তার দাবি জানান বরিশাল-৫ আসনের এমপি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামিম। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করে সাদিক দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় রাজনীতিতে মেয়র খোকনের ঘনিষ্ঠ জাহিদের এ দাবির পাশাপাশি সাদিক অনুসারী নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীরকেও মঞ্চে উঠতে না দেওয়ার দাবি ওঠে। এ খবর ছড়ালে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয় দুপক্ষে। এছাড়া গত এক সপ্তাহে জাহিদ ও সাদিক অনুসারীদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হন দলের অন্তত ১১ নেতাকর্মী।

চাচা-ভাতিজার এ বিরোধের মধ্যেই শনিবার নগরের বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ বিশেষ বর্ধিত সভা। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন এমপি, বিসিসি মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত ও সাবেক মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আব্দুল্লাহ।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং সদ্য আওয়ামী লীগে আসা শাহজাহান ওমরসহ বরিশাল বিভাগের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রায় সব এমপি, জেলা-উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক, জেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পৌর মেয়ররা উপস্থিত ছিলেন।

সঞ্চালনা করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুস। সভায় বরিশালে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি জনসভা সফলে প্রয়োজনীয় নানা বিষয় আলোচনা হয়। সবাই একমত হন, সমাবেশে ১০ লাখ লোক সমাগমের টার্গেট নিয়ে কাজ করবেন নেতাকর্মীরা।

সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফলে একটি কমিটি গঠন করেন। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে প্রধান সমন্বয়ক করা হয়। এছাড়া সমন্বয়ক করা হয় খোকন সেরনিয়াবাত, জাহিদ ফারুক, একেএম জাহাঙ্গীর, দলের জাতীয় কমিটির সদস্য বলরাম পোদ্দার এবং সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে। যোগাযোগ ও আপ্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তালুকদার মো. ইউনুস এবং লস্কর নুরুল হককে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীরবিক্রম, নগর সভাপতি একেএমএ জাহাঙ্গীর এবং নগর সহসভাপতি আফজালুল করিমকে শৃঙ্খলা কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 




আজ থেকে বিএনপি’র অবরোধ কর্মসূচি শুরু

 




বিএনপি জামাত ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্র রুখে জনগণ নৌকার উন্নয়নের ধরা অব্যাহত রাখবে -মেনন

এস এল টি তুহিন ,বরিশাল ::
বরিশাল ২ আসনের ১৪ দলের সমর্থিত নৌকা মার্কার প্রার্থী রাশেদ খান মেনন বলেন, নৌকা হক-ভাসানীর প্রতীক, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক, শেখ হাসিনার প্রতীক। নৌকা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতীক।

আজ (২৩ ডিসেম্বর) বরিশাল-২ (উজিরপুর বানারীপাড়া) নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বিকাল বিকালে চাখার ফজলুল হক ইনস্টিটিউশন মাঠে উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় আনার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত যে হত্যা ও জ্বালাও পোড়াও এর রাজনীতি করছে, সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের অপতৎপরতা সফল হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খিজির সরদারের সভাপতিত্বে, উপজেলা সহসভাপতি সৈয়দ মজিবুর ইসলাম টুকুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক মন্টু লাল কুন্ডু,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানা,উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক,বানারীপাড়া পৌর চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা এড.শুভাষ চন্দ্র শীল,আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মুস্তফা আলি প্রমুখ।




৬ জেলার জনসভায় ভার্চুয়াল শেখ হাসিনা বিএনপি ভোট ঠেকানোর নামে অগ্নিসন্ত্রাসের ভয়ংকর রূপ নিয়ে নেমেছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিটি জায়গা আমরা উন্নয়ন করেছি। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। আজ বিএনপি নির্বাচনে আসেনি। তারা ভোট ঠেকানোর নামে ২০১৩-১৪ সালে যে অগ্নিসন্ত্রাস করছিল, সেই ভয়ংকর রূপ নিয়ে আবার নেমেছে।



৬ জেলায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা




সোনার নৌকায় দৈত্য ঢুকেছে

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া- রাঙ্গাবালী) আসনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তিন বারের এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার বলেছেন, আমরা নৌকার পক্ষে আছি। শেখ হাসিনার পক্ষে আছি। কিন্তু সোনার নৌকার মধ্যে দৈত্য ঢুকেছে। যা পায়, তাই খায়। তাই সোনা রূপার পানি দিয়ে সেই নৌকা ধুতে হবে।’

শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরের বাহেরচর বাজারে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এমপি হবার জন্য নির্বাচনে নামিনি। নৌকা থেকে দৈত্য নামাতে হবে।’

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে এই জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করব। রাঙ্গাবালীকে গলাচিপা ও কলাপাড়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনতে ফেরি চালু করব।’

ঈগল প্রতীকের সমর্থনে রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামলী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে  এ সভার আয়োজন করা হয়।

এতে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকার টিকেট পেয়েছেন বর্তমান এমপি মহিব্বুর রহমান মহিব।




তিনদিন মোটরসাইকেল, একদিন সব যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে ৫ জানুয়ারি দিনগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৮ জানুয়ারি দিনগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ৬ জানুয়ারি দিনগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৭ জানুয়ারি দিনগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, পিকআপভ্যান, ট্রাক, লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত বোটসহ (নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী ব্যতীত) অন্য সব যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।




২৯ ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামছে সেনা, থাকবে র‍্যাব-পুলিশ-বিজিবিও

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ১৩ দিনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্য বাহিনীগুলোও এসময়ে মাঠে থাকবে।  

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক-৬ পরিপত্র জারি করেছে।

সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ১৫ থেকে ১৭ জন নিরাপত্তা রক্ষাকারী সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

সেখানে আরও বলা হয়, নির্বাচনকালীন পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আর্মড পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন ও কোস্টগার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনী ভোটের আগে-পরে ১৩ দিনের জন্য মোতায়েন থাকবে।

২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলাবাহিনী রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনী মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।