ঢিলেঢালা নির্বাচন, জমাতে প্রয়োজন সাদিক আবদুল্লাহকে!

বরিশাল অফিস :: নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততোই উৎসবমূখর হওয়ার কথা থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ যেন বরিশাল সদর আসনে বইছেই না। নির্বাচনী উৎসব তৈরি করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেও সুফল মিলছে না এ আসনে।

দেশের অন্যান্য এলাকায় কিছুটা নির্বাচনী আমেজ তৈরি হলেও বরিশাল-৫ সদর আসনের প্রেক্ষাপট অনেকটা ভিন্ন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগের পরিস্থিতির সাথে বর্তমানের মিল খুঁজে পাচ্ছে না স্থানীয়রা।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বিএনপিসহ অন্যান্য শক্তিশালী দল এবার নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সদ্য সমাপ্তি সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ দ্বাদশ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু দলের বৃহৎ একটি অংশ বিরোধীতা করায় সেই সুযোগটিও হারিয়ে ফেলেন তিনি।

এরপর দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৌশলী নির্দেশে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন সাদিক আবদুল্লাহ। এ খবর শোনা মাত্রাই নির্বাচনী আমেজ শুরু হয় নগরজুড়ে।

অন্যদিকে চিন্তিত হন আওয়ামী লীগ থেকে নৌকার টিকিট পাওয়া বর্তমান সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুক শামীম। এরপর সাদিকে ঠেকাতে শুরু হয় আইনী লড়াই। জাহিদ ফারুক শামীম তাঁর রাজনৈতিক কৌশলে সাদিক আবদুল্লাহকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরতেও বাধ্য করেন।

উল্লেখ্য, বর্তমান সাংসদ জাহিদ ফারুক শামীমের দলীয় মনোয়ন লাভ এবং সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এখানকার ভোটার ও সাধারণ মানুষ মনে করেছিল বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও এই আসনে লড়াই হবে জাহিদ-সাদিকের মধ্যে।

কিন্তু সাদিক আবদুল্লাহকে নিয়ে আইনী জটিলতায় নির্বাচনী উৎসব থেকে বঞ্চিত হন সাধারণ মানুষ। কোনভাবেই নির্বাচনী আমেজ তৈরি হচ্ছে না বরিশাল সদর আসনে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছে, জাহিদ ফারুক ও সাদিক আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা।

এর আগে তাঁরা দুই জনেই জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও ব্যাপক। সাদিক আবদুল্লাহ নির্বাচনে অংশ নিলে বরিশাল সদর আসনে জমজমাট নির্বাচন হতো। এই নির্বাচন উৎসবে পরিণত করতে সাদিক আব্দুল্লাহকে প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।




আজ আমার টাকা অবৈধ নয় – সতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিপন

বরিশাল অফিস :: আসন্ন দ্বাদস জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর (৫) আসনের সতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিপন বলেছেন, আজ অনেকেই বলে বেড়ায় আমার টাকা নাকি অবৈধ। আমি বলতে চাই ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২দিন পূর্বে বর্তমান সংসদ ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আমার কাছ থেকে বিশাল অংকের টাকা নিয়ে তার নির্বাচনী কাজে ব্যায় করেছিলেন যদি আমার টাকা অবৈধ হয় তিনি তাহলে অবৈধ

টাকা নিয়ে ছিল।

আমি আপনাদের কাছ থেকে যে ভালবাসা পেয়েছি তা কোনদিন ভুলবার নয়। আমি সাধারন মানুষের কাঙ্গাল আমি যেদিন আমার সাধারন মানুষের ভালবাসা পাব সেদিন মনে করব আমি আমার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীকে পরাজিত করতে পেরেছে।

তিনি এ সময় আরো বলেন, ৭ই জানুয়ারীর পর আমরা সবাই একসাথে থাকব। আমি কোন সহিংসতা প্রতিহিংসার ভোটের রাজনীতি করতে আসি নাই।

তিনি এ সময় আরো বলেন, আমার মা-বোনেরা যারা আমাকে ভালবাসেন আমি চাই তারা আমার সাথে আপনাদের নিয়ে মানীয় প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় অংশ গ্রহন করব। আজ বুধবার (২৭) ডিসেম্বর বিকালে বরিশাল বন্দর থানাধীন মৌলভীর হাট হিজলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তার ট্রাক প্রতীকের জন্য ভোট প্রার্থনা করে নির্বাচনী উঠান বৈঠক সভায় তিনি একথা বলেন।

এরপরপরই সালাউদ্দিন রিপন নগরীর বগুরোডস্থ চৈতন্য স্কুল মাঠে মহিলাদের ভোটারদের সাথে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য রেখে তার ট্রাক প্রতীকে ভোট কামনা করেন। এর আগে সকালে বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন গত ১৮তারিখের পর থেকে আমার প্রতি বরিশালের মা-বোনদের ভালবাসা দেখে নৌকার সমর্থক সদস্যরা বিভিন্নভাবে মা-বোনদের ভয়ভিতি দেখিয়ে আতংক সৃষ্টি করছে যাতে করে নির্বাচনের দিন মহিলা ভোটাররা কেন্দ্রে না যায়।

এছাড়া আমার প্রতিটি নির্বাচনী সভার পূর্বে আমার কর্মীদের উপর হামলা মারধর করা হচ্ছে। এমনকি আগামী ২৯ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরিশালে আসা উপলক্ষে আমি একজন আওয়ামী লীগের সাধারন কর্মী হিসাবে প্রচার প্রচারনার মাইক নামিয়েছি সেই প্রচারনার গাগি ভাংচুর করা হয়েছে। যা আমি প্রতিটি মুহুর্তে জেলা রিটানিং অফিসার সহ প্রশাসনকে তাৎক্ষনিকভাবে অবগত করে যাচ্ছি। আমি গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে বলছি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যশা কামনা করছি।




প্রধানমন্ত্রীর বরিশালে আগমনে সাজ সাজ রব

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: প্রায় পাঁচ বছর পর আগামী ২৯ ডিসেম্বর বরিশালে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এদিন দুপুরে বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানের মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। মূলত তার সরকারের উন্নয়নের বার্তা আর আগামী নির্বাচন নিয়ে এ জনসভা।

এর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী এই মাঠেই জনসভা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ভীষন ব্যাস্ত সময় পার করছেন আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকরা পাশাপাশি জনসভা ঘিরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বরিশাল নগরীর বিভিন্ন সড়ক জুড়ে শুধু তোরন আর তোরন। নানা রকমের প্লাকার্ড ব্যানার আর ফেষ্টুনে ভরে গেছে নগরী। চলছে মাইকিং ও। জনসভার স্থান বঙ্গবন্ধু উদ্যানের মাঠেও কাজ চলছে। মেয়রসহ জেলা, মহানগর নেতৃবৃন্দ প্রচার মিছিল ও গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণ করছেন।

ইতোমধ্যে আয়োজিত জনসভা সফল করার লক্ষ্যে ছয় সদস্য বিশিষ্ট সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদা) আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ কে প্রধান সমন্বয়ক করা হয়েছে।

বাকি সমন্বয়করা হলেন, বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত), মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. একে এম জাহাঙ্গীর, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. বলরাম পোদ্দার ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এছাড়া যোগাযোগ ও আপ্যায়ন কমিটিতে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাড. তালুুকদার মো. ইউনুস ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. লস্কর নুরুল হক। জনসভা সফল করতে গঠিত শৃংখলা কমিটিতে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, অ্যাড. একে এম জাহাঙ্গীর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. আফজালুল করিম।

জনসভাকে সফল করতে দফায় দফায় সভা করছে। বিভাগের ৬ জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ আনার প্রস্তুতি চলছে। সবার লক্ষ্য জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপান্তর করা।

১০ লাখের বেশী জনসমাগমের প্রত্যাশা। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন দলীয় প্রধানের আগমন বার্তায় দলের সর্ব পর্যায়ের নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। মহল্লায় মহল্লায় প্রচার মিছিল হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সাধারন মানুষের মধ্যে আগ্রহ কম নয়।

এদিকে নগরীর রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা নতুন করে সড়কে আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। যাতে করে অন্য জেলা-উপজেলা থেকে আসা মানুষ নতুন এক বরিশাল নগরী দেখতে পান।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনসভা সফল করার লক্ষ্যে সমন্বয় কমিটির প্রধান আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বরিশালে ১০ লাখ লোকের জনসমাগম হবে। গত ১৫ বছরে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে যে উন্নয়ন হয়েছে তার (প্রধানমন্ত্রী) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে মানুষ জনসমাবেশে আসবেন।

বরিশাল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, আগামী ২৯ ডিসেম্বর বরিশালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসবেন বরিশাল বিভাগের নৌকার প্রার্থীরা মঞ্চে থাকবে এই বিশাল জনসভায় দক্ষিণাঞ্চলের জনগন আসবেন সেখানে আমাদের নির্বাচনের প্রচারণা হবে।

 




‘নির্বাচিত হতে পারলে অবহেলিত বাবুগঞ্জ-মুলাদীর চিত্র পাল্টে দিব’

বরিশাল অফিস :: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসেন গনসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেছেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুর রহমান।

২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল থেকে মুলাদী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গনসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেছেন তিনি। বিকেলে মুলাদী উপজেলার হাসপাতল রোড থেকে ট্রাক প্রতীকের সর্মথনে একটি মিছিল বের করে পৌর মেয়র সড়ক হয়ে মুলাদী সড়কে গিয়ে শেষ হয়।

পরে মুলাদী বাজারের গনসংযোগ করেন। সন্ধায় গাছুয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মৌলভী বাড়িতে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উঠান বৈঠকে আনোয়ার হোসেন ফরাজী এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরিশাল-৩ আসনের ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ আতিকুর রহমান বলেন,আমি প্রার্থী হিসেবে বাবুগঞ্জ-মুলাদীর সাধারণ মানুষের সাথে মিশে জানতে পেরেছি সাধারণ মানুষ আমাকে তাদের হৃদয়দিয়ে কিভাবে বরণ করে নিয়েছে। মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা আমি শুনেছি। এই দুই উপজেলার মানুষ কতটুকু অবহেলিত তা আমি বুঝতে পেরেছি। তাই আগামী ৭ জানুয়ারী ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে সংসদে পাঠালেই অবহেলিত বাবুগঞ্জ-মুলাদীর চিত্র উন্নয়নের মধ্যদিয়ে পাল্টে দিব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মফিজুর রহমান পিন্টু সিকদার, বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাসুম রেজা(মাঝি), কেদারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শিবলুর রহমান বাদল বিশ্বাস, রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম নয়ন, গাছুয়া ইউনিয়নের সমাজসেবক মোঃ দুলাল প্যাদা, মাস্টার বাবুল হোসেন, এলেম সরদার, সাবেক ইউপি সদস্য জাহিদুর রহমান, মাস্টার মোঃ আবুল বাশার, মাস্টার মোঃ খোকন হাওলাদারসহ মুলাদী উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও কাজিরচর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের রেইনট্রি তলা এলাকায় উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্বে করেন মোঃ মোনাসেফ উদ্দিন হাওলাদার।




একটিও জাল ভোট ধরা পড়লে চাকরি থাকবে না – ইসি আহসান হাবিব

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোথাও জাল ভোটের প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিসাইডিং, পোলিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে সাসপেন্ড করা হবে। এছাড়া চাকরিচ্যুত করার জন্য যা যা করা দরকার, তাই করা হবে।

তবে এখন প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তারা সবাই পরীক্ষিত, তাদের দ্বারা কোনো অনিয়ম হবে না। এখন প্রার্থীদের ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।

আমাকে তারা আশ্বস্ত করছেন, তারাও সহযোগিতা করবেন।

তিনি বলেন, এখন ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা আছে অ্যাসিস্ট্যান্ট পোলিং অফিসার দেখবেন চেহারা, ছবি মেলাবেন, তারপর ভোটাররা ভোট দেবেন, একটি ব্যক্তি যেন না বলেন যে আমার ভোট তো দেওয়া হয়ে গেছে।

এমন একটি কেসও যদি পাওয়া যায়, তাহলে সেই অফিসারদের কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড করা হবে এবং পরে চাকরিচ্যুত করা হবে। এর জন্য আমাদের যা যা করা দরকার, সবই করা হবে।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পটুয়াখালীর চারটি আসনের প্রার্থীরা ও নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সদস্যরাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসি আহসান এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, কোনো টলারেন্স নেই, জিরো টলারেন্স, সততা, স্বচ্ছতা এবং সুন্দর ভোটের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। এর জন্য কিন্তু সবার সহযোগিতা দরকার।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা দরকার, আপনারা কেন্দ্রের সামনে ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন। আর আপনারা কেন্দ্র ভাগ করে নেবেন, ভোট দিয়ে আসার পর ভোটারদের জিজ্ঞেস করবেন, ‘মা কেমন ভোট হলো’, মা বলবেন, ‘বাবা এত সুন্দর ভোট কখনো দেখি নাই। ’ এটা যদি বলে তাহলে ১০০ তে ১০০ প্রচার করেন। আবার যদি তিনি বলেন, ‘বাবা আমার ভোট কে যেন দিয়ে গেছে, আর ভেতরে কে যেন সিল মারছে শুধু,’ তখন আপনারা প্রচার করেন। যেই হোক, যার পক্ষে বা বিপক্ষে হোক, সেটা প্রচার করেন, যদি সৎসাহস থাকে। আপনাদের এ সহযোগিতা দরকার।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইয়োলো জার্নালিজম না। এ পর্যন্ত আপনারা সহায়তা করে এসেছেন। দেখেন বড় পত্রিকায় নিউজ হওয়ার পর লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুজন চাকরিচ্যুত হতে যাচ্ছেন। আপনাদের মিডিয়ার খবর আমাদের পর্যন্ত আসতে হবে। সবার সহযোগিতায় ইনশাআল্লাহ পৃথিবীর কাছে, বাংলাদেশের ভোটারদের কাছে, আমাদের বিবেকের কাছে, যেন প্রমাণ করতে পারি, অতীতে এমন নির্বাচন হয় নাই। এ নির্বাচন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ও আগামী নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে অনুকরণীয় অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

এসময় পটুয়াখালী জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম, পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা খান আনি শাহানুর খানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।




পটুয়াখালী -১ আসনে জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন, অন্য প্রার্থীর খোঁজ নেই

 

মো: আল-আমিন, পটুৃযাখালী: পটুয়াখালী -১ (মির্জাগঞ্জ-পটুয়াখালী সদর- দুমকি) আসনে কাগজে ছয়টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন। মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বাস্তবে লাঙ্গলের প্রার্থী জাতীয় পার্টি (জাপা) ছাড়া কারও নামই জানা নেই সাধারণ ভোটারদের। কিছুটা প্রচারও আছে লাঙ্গল মার্কার । সড়কের লাঙলের পোস্টার কিছুটা লাগানো হলেও তেমন চোখে পড়েনি অন্যদের পোস্টার। নির্বাচনী প্রতীক পাওয়ার পরে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে দলীয় কার্যালয়ে খুলেছেন লাঙ্গল সমর্থকরা। অন্য কোন প্রার্থীর নির্বাচনী কোন ক্যাম্প নেই এই উপজেলায়। দিনভর মাইকিং চললেও মিছিল কিংবা উঠান বৈঠকের কোন খবর পাওয়া যায়নি। মাঝে মাঝে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত ডাব মার্কার প্রার্থীর মাইকিং শোনা গেলেও বাকি প্রার্থীরা হাওয়া। বুধবার (২৭ডিসেম্বর) সরেজমিন এসব চিত্র দেখা গেছে।

পটুয়াখালী-১ আসনের বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। জাতীয় পার্টির এবিএম রুহুল আমিন প্রার্থী হওয়ায় তাকে এই আসন ছেড়ে দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। ফলে এখানে নৌকা প্রতীকের কেউই নির্বাচনে অংশ নেয় নি। এখানে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা হলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল – জাসদের কে এম আনোয়ারুজ্জামান মিয়া(মশাল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের মহিউদ্দিন মামুন (ছড়ি), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন- বিটিএফ এর মোঃ খলিল ( ফুলের মালা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনসিপি-র নজরুল ইসলাম(আম), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোঃ নাসির উদ্দিন তালুকদার (ডাব)। কিন্তু মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বসবাসকারী অধিকাংশ লোকেরাই প্রার্থীকে চেনা দূরে থাক, নাম শোনেননি বলে জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এসব প্রার্থীর কেউ ভোট চাইতেও আসেননি।

প্রশ্ন রেখে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এ উপজেলায় নির্বাচন আছে নাকি? মাঝে মাঝে লাঙ্গল প্রতীকের মাইকিং শুনতে পাই, কয়েকটা জায়গায় এর অফিসও আছে।

এক অটোরিকশা চালক জানান, প্রচার শুরুর পর থেকে যেসব এলাকায় রিকশা নিয়ে গেছেন, লাঙ্গল ছাড়া কোনো প্রার্থীর পোস্টার দেখেননি। অন্য কারও ক্যাম্প চোখে পড়েনি। অবশ্য উপজেলা সদরে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত নাসির উদ্দিন তালুকদারের ডাব মার্কার কিছু পোস্টার দেখা গেছে।




আওয়ামী লীগের ইশতেহার : ২০৩০ সালের মধ্যে দেড় কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে দেড় কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন।



শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে বরিশালে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মাঠ পরিদর্শন

বরিশাল অফিস :: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ২৯ ডিসেম্বর বরিশালে আগমন উপলক্ষে বুধবার বিকালে জনসভার মাঠ পরিদর্শন করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা।

বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানের জনসভাস্থল পরিদর্শন করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর সফর কমিটির মুখপাত্র আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, দক্ষিণাঞ্চল বাংলাদেশের উন্নয়নের রোল মডেল। পদ্মা সেতু পায়রা বন্দর থেকে শুরু করে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তার জনসভায় কমপক্ষে ১০ লাখ লোক সমাগমের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও জনসভার সভাপতি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি, সমন্বয়ক বরিশাল সিটি করপোরশেনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজালুল হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ প্রমুখ।




গলাচিপায় উন্নয়ন হবে নৌকায় ভোট দিলে এস.এম শাহজাদা

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় উন্নয়ন হবে নৌকায় ভোট দিলে-বললেন এস.এম শাহজাদা। গলাচিপা-দশমিনা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রাম থেকে শুরু করে পৌর শহরে বর্তমান সরকারের আমলে ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তা ঘাট, ভেরিবাঁধ নির্মান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ মাঠ, মন্দির, কবরস্থান উন্নয়নে কাজ চলছে।

গ্রামের প্রতিটি প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাটের যে পরিমান উন্নয়ন হয়েছে তা অন্য কোন সরকারের সময়ে হয় নি। নৌকায় ভোট দিলেই উন্নয়ন হয় এবং এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চাইলেন ১১৩ পটুয়াখালী-৩ গলাচিপা-দশমিনা আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী এস.এম শাহজাদা।

গলাচিপায় রামনাবাদ নদীর উপর ব্রিজ এর কার্যক্রম চলমান এবং নৌকা বিজয়ী হলে ব্রিজের কাজ অচিরেই শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। গলাচিপায় আমরা শতভাগ ভাতার আওতায় এনেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিনাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এই উন্নয়নকে আপনারাই পারেন বেগবান করতে। তাই নৌকায় ভোট দেয়ার কোন বিকল্প নাই। আপনারা আবারো নৌকায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের স্বপ্নকে বজায় রাখবেন।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় গলাচিপার চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। পরে বিকেলে চিকনিকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চিকনিকান্দী ইউনিয়নে বারবার নির্বাচিত চেয়ারমান ত্যাগী নেতা সাজ্জাদ হোসেন রিয়াদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস.এম শাহজাদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মু. শাহিন শাহ।

আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাজী মু. মজিবর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার মো. শাহ আলম, গলাচিপা কেন্দ্রীয় কালিবাড়ী কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দিলিপ কুমার বনিক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কাওসার আহমেদ তালুকদার, ডাকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারমান বিশ্বজিৎ রায় সহ উপজেলা আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

01739




২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো : প্রধানমন্ত্রী

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশ থিমে ‘উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’ স্লোগানে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারে ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতায় আনা। আবারও ক্ষমতায় এলে এসব বিষয় বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছে দলটি।

osdlfm();