বরিশাল অফিস :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী হয়েছেন ৪জন। এর মধ্যে কেবল বরিশাল-৩ আসনে সমঝোতার ভিত্তিতে জাপা সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুকে এই আসনটি ছেড়ে দিয়েছে শাসকদল আওয়ামী লীগ। তবে ছাড় পেলেও ভোটের মাঠে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পরেছেন টিপু। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতান।
জানা গেছে, বরিশাল-১ আসনে আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। এই আসনে জাপার প্রার্থী সেকান্দার আলী। এর বাইরে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. তুহিন আম প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
এই আসনে জাপা প্রার্থী টিপুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। গত বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী সেরনিয়াবাত ছেকেন্দার আলী বলেন, যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা দালাল। গত ৩৫ বছর ধরে পকেট কমিটি করে জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করেছে।
বরিশালের বিভিন্ন আসন ঘুরে জানা গেছে, জাপার প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চেয়ে প্রচার প্রচারণায় পিছিয়ে আছেন। এমনকি এসব এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাটেও জাপা প্রার্থীদের পোস্টার, লিফলেটও তেমন চোখে পরেনি।
এদিকে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) এবার ৭ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। এই আসনের জাপা প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন তাপস। তিনি বরিশাল-৫ সদর আসনেও জাপা থেকে নির্বাচন করছেন। কিন্ত এই দুটি আসনের কোথাও তার প্রচারণা, গণসংযোগ কিংবা উঠান বৈঠকও চোখে পড়েনি। হাতেগোনা কিছু পোস্টার সাঁটানো হলেও তা চোখে পড়ছে কম।
জানা গেছে, বরিশাল-২ আসনটি আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইনুসও তার অনুসারীদের নিয়ে মেননের নির্বাচন করছেন।
অপর দিকে বরিশাল-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল অব. জাহিদ ফারুক শামীম প্রার্থী হয়েছেন। এই আসন থেকে তাপস যেকোনো সময় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন রয়েছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন কি না এমন ইকবাল হোসেন তাপস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে এখনই বলা যাচ্ছে না। আমর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে বরিশাল কলেজ সংলগ্ন রজনিগন্ধা ক্লাবে সভা করব। ওই সভায় সিদ্ধান্ত আসবে।’
অপরদিকে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থী পঙ্কজ নাথ নির্বাচনী মাঠ দখলে রেখেছেন। এই আসনটিতেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও তাকে নির্বাচনী মাঠে দেখা যাচ্ছে না। এমনকি নির্বাচনী প্রচার-প্রারণার জন্য পোস্টার, লিফলেট ছাড়াও কোথাও মাইকিং করতেও দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই আসনের নির্বাচনী মাঠে হেভিওয়েট প্রার্থী পঙ্কজ নাথের যে অভিজ্ঞতা রয়েছে তা জাতীয় পার্টির প্রার্থী বরিশাল-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মো. মিজানুর রহমানের নেই। এমনকি তাকে এলাকার মানুষও চিনেন না-জানে না।
এছাড়াও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনেও ঢিলেঢালা ভাবে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে লাঙল প্রতীকের প্রার্থী নাসরিন জাহান রতনা। গুটিকয়েক অনুসারী ও নিজের স্বামীকে নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।