পটুয়াখালী-৪ আসনের ১টিতে নৌকা-ঈগল লড়াই : দুটিতে নৌকা অন্যটিতে লাঙ্গল এগিয়ে

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার ৪টি আসনের মধ্যে তিনটিতেই ভালো অবস্থায় রয়েছে নৌকা। পটুয়াখালী-১ আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে।

পটুয়াখালী-২ আসনে সাতবারের সংসদ সদস্য ও নৌকার প্রার্থী আ স ম ফিরোজের জয় নিশ্চিত।

পটুয়াখালী-৩ আসনে নৌকার বিপরীতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না ঈগল।

তবে পটুয়াখালীর-৪ আসনে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান সাংসদ মুহিবুর রহমান মুহিব ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদারের দিকে সবার নজর। এখানে নৌকার সঙ্গে ঈগলের লড়াই হলেও শেষ হাসির সম্ভাবনা রয়েছে নৌকারই।

পটুয়াখালী-১ : পটুয়াখালী সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকী নিয়ে জাতীয় সংসদের এই আসনটি গঠিত হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার কোনো প্রার্থী নেই; ছেড়ে দেয়া হয়েছে সমঝোতার প্রার্থী জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ফলে এই আসনে রুহুল আমিন হাওলাদার যে বিজয়ী হবেন তা বলাই যেতে পারে। রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে যারা লড়ছেন- তাদের মধ্যে রয়েছেন জাসদের (মশাল) কে এম আনোয়ারুজ্জামান মিয়া, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (ছড়ি) মহিউদ্দিন মামুন, তরিকত ফেডারেশনের (ফুলের মালা) মো. খলিল, এনপিপির (আম) নজরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের (ডাব) নাসির উদ্দিন তালুকদার।

বিগত সময়ের একাধিকবারের এমপি রুহুল আমিন হাওলাদারের বিপক্ষে এরা সবাই অনভিজ্ঞ ও নতুন প্রার্থী। তাছাড়া আওয়ামী লীগের সমর্থনে তিনি সবার চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে আছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার মৃত্যুতে এই আসনটি শূন্য হয়। এরপর উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে আফজাল হোসেনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। নির্বাচনে আফজাল হোসেন বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হন।

এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে প্রথমে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু মহাজোটের সঙ্গে আসন সমঝোতায় আফজাল হোসেন বাদ পড়ে যান। মহাজোটের একক প্রার্থী হন এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। আওয়ামী লীগের অর্ধেকের বেশি নেতাকর্মী ইতোমধ্যেই রুহুল আমিন হাওলাদারের পক্ষে এলাকায় কাজ শুরু করেছেন। অন্য যেসব প্রার্থীরা দাঁড়িয়েছেন তাদের কারোরই রুহুল আমিন হাওলাদারের শক্ত প্রতিদ্ব›দ্বী হয়ে ওঠার সক্ষমতা নেই।

পটুয়াখালী-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৩ হাজার ২৫৭ জন।

পটুয়াখালী-২ : শুধু বাউফল উপজেলাটি নিয়ে জাতীয় সংসদের এই নির্বাচনী আসন। এখানে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ। তিনি গত দশটি নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এর মধ্যে সাতবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এই আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ এ আসনটি ধরে রেখেছে। এর পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে আ স ম ফিরোজের। জাতীয় সংসদের হুইপ, চিফ হুইপসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন সংসদ সদস্য।
তিনি ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পটুয়াখালী-২ আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন।
বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকায় তার নিজস্ব বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে।
তার প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে তৃণমূল বিএনপির (সোনালি আঁশ) মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (টেলিভিশন) জোবায়ের হোসেন ও জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মহসীন হাওলাদার প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।

পটুয়াখালীর অন্য আসনে ভোট নিয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতা থাকলেও পটুয়াখালী-২ আসনে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দেয়ার মতো কোনো প্রার্থী নেই। আ স ম ফিরোজ এ আসনে নিশ্চিন্তে জয়লাভ করবেন বলেই জানিয়েছেন এলাকার ভোটাররা।

পটুয়াখালী-২ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৪ জন।

পটুয়াখালী-৩ : গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে জাতীয় সংসদের এই আসনে নৌকার বিপরীতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না ঈগল। ১৯৯১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত এই আসনটি দখলে রেখেছে। কিন্তু তারপরও এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। দলীয় কোন্দল এতটাই চরমে যে, এই আসনে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের ২১ জন নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। এদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদাও ছিলেন। শাহজাদা দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। তবে তার সহজ জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া প্রভাবশালী একসময়ের সরকারি কর্মকর্তা আবুল হোসেন।

এলাকাবাসী জানান, গলাচিপা দশমিনা এলাকার মানুষের অপরিচিত আবুল হোসেনের ঈগল প্রতীক নিয়ে দেশের অন্যান্য নির্বাচনী এলাকার মতো নৌকায় ছোবল মারার মতো অবস্থা নেই।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা সাবেক নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার ভাগ্নে। ১৯৯১ সালের পর থেকে পটুয়াখালী-৩ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। একসময় আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন আওয়ামী লীগ ও নৌকার হাল ধরে রেখেছিলেন। তারপরও ২০০৮ সালে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। ওই সময় অপেক্ষাকৃত তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মাওলা রনিকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়। নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন মঞ্চে রনি আওয়ামী লীগ বিরোধী কথা বলতে থাকেন। এছাড়া দখলবাজি, চাঁদাবাজি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন। তার এসব আচরণে গণমাধ্যমকর্মীরা সোচ্চার হলে তিনি তাদের ওপর চড়াও হন। গণমাধ্যমকর্মীরা মারধরের শিকার হয়। দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করে। এরপর ২০১৪ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগ আবারো মনোনয়ন দেয় আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেনকে। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার ভাগ্নে এস এম শাহজাদাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিগত পাঁচ বছরে শাহজাদা এলাকায় তার একটি নিজস্ব বলয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর তেমন কোনো অভিযোগও নেই। তাই এবারো শাহজাদাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বর্তমান সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা আবারো নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
নৌকার বিপরীতে শাহজাদার অন্য প্রতিদ্ব›দ্বীরা হলেন- বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (টেলিভিশন) এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম, এনপিপির (আম) ছাইফুর রহমান, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) নজরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (একতারা) নূরে আলম এবং ঈগল প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হোসেন।

গলাচিপা উপজেলার বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, বর্তমান আবারো মনোনয়ন পাওয়া শাহজাদার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেন শক্তিশালী প্রার্থী। তবে নৌকাকে পরাজিত করার মতো শক্তি তার নেই। এলাকার মানুষের কাছেও তিনি অপরিচিত। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী তার পক্ষে নেমেছেন। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে আবুল হোসেন কিছু মানুষের জনসমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। তার কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছেন। তাই বলে নৌকার নিশ্চিত জয়ের পথে বড় বাধা হতে পারবে না।

এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবুল হোসেন একসময় সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, বিজিবি মহাপরিচালক ও রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। কিন্তু পটুয়াখালীতে নির্বাচনী এলাকায় তার যাতায়াত ছিল না। ফলে এলাকার মানুষের কাছে তার পরিচিতি নেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ আবুল হোসেনের পক্ষে নেমেছেন। দশমিনা উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের পক্ষে নেমেছেন। কিন্তু তাদের ওপর ভোটারদের আস্থা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, গলাচিপার যুদ্ধাপরাধী ও সাজাপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আত্মীয়স্বজন ঈগল প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেনের পক্ষে কাজ করছে।

অপরদিকে ওই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা সন্তোষ বাবুসহ একটি বড় অংশ বর্তমান সংসদ সদস্য শাহজাদার পক্ষে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। গত পাঁচ বছরে এলাকায় তার নিজস্ব একটি বলয় গড়ে তুলেছেন শাহজাদা। এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। এই আসনের ভোটে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনও নৌকার বিপরীতে ঈগলকে ভোট দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে আছে। বিএনপি-জামাতের লোকজন নৌকার প্রার্থীর বিজয় ঠেকাতে উঠে পড়ে লেগেছে।

পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৩৬৭ জন। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন ২১ জন।

পটুয়াখালী-৪ : কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী নিয়ে গঠিত এই আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মহিববুর রহমান। তার প্রতিদ্ব›িদ্বতা সঙ্গে মূল প্রতিদ্ব›িদ্বতায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার। এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নির্বাচন ঘিরে এলাকায় তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনের মধ্যে কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীর আসনটি সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখানেও দলীয় কোন্দল রয়েছে। এই আসনে দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি অংশ নৌকার পক্ষে এবং অপর একটি অংশ ঈগল প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার ও বর্তমান সাংসদ মুহিবুর রহমান মুহিবের মধ্যে প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখানে ঈগলকে হটিয়ে সহজে নৌকার জয় হবে এটা অকপটে বলা যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সাল থেকে টানা তিনবার এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন পান কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান তালুকদার। তবে ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় ধুলাসার জালাল উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুহিবুর রহমান মুহিবকে। আসন্ন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ থেকে তার ওপরই আস্থা রেখেছে।

রাঙ্গাবালীর বাসিন্দা জুবায়ের আহমেদ জানান, এই আসনটি পটুয়াখালী জেলার মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন নগরী কুয়াকাটা, পায়রা সমুদ্রবন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও শেরেবাংলা নৌঘাঁটিসহ মেগা প্রকল্পে ভরপুর কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী সংসদীয় এলাকাটি। রাঙ্গাবালী উপজেলার চর হেয়ার, চর মন্তাজ, সোনার চরসহ বিভিন্ন চর এলাকায় পর্যটকদের ভিড় জমতে শুরু করেছে। দু-এক বছরের মধ্যে এই এলাকাগুলো পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে উঠবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এখানে আসছেন। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেনের মহাসড়ক হয়ে গেলে এলাকার গুরুত্ব আরো বাড়বে। বর্তমান সংসদ মুহিবুর রহমান মুহিব বিগত পাঁচ বছর এলাকার উন্নয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো তাকে এই অঞ্চলের নৌকার মাঝি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন।

কলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা উত্তম দাস বলেন, পটুয়াখালী-৪ আসনটি সব সময় আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এখানে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগে ভালো পদ-পদবি না পাওয়া কিছু নেতা নৌকার বিরুদ্ধে ঈগলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এলাকার মানুষ নৌকার বাইরে যাবে না, তারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নৌকাতেই ভোট দেবে। বর্তমান সংসদ সদস্য মুহিব ভালো মানুষ। তার বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই। এই আসনে তিনি অনেক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। শেষ পর্যন্ত নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করবেন।
এ আসনে অন্য প্রতিদ্ব›দ্বীরা হলেন- স্বতন্ত্র ট্রাক প্রতীকের আব্দুল্লাহ আল ইসলাম লিটন, জাতীয় পার্টি মনোনীত আব্দুল মান্নান হাওলাদার, বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত জাহাঙ্গীর হোসাইন ও জাসদের বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

পটুয়াখালী-৪ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯৪ জন।

এই এলাকার ৪টি আসনের নিরাপত্তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে মনিটরিং করছে জেলা নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন আগামী ৭ জানুয়ারি গলাচিপা-রাঙ্গাবালী আসনের দিকে সবচেয়ে বেশি নজরদারি চলবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন-সংশ্লিষ্টরা।




প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা উন্মাদ হয়ে গেছেন : শ.ম. রেজাউল

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুর-১ আসনের নৌকা মার্কার প্রার্থী মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর নৌকা, শেখ হাসিনার নৌকা, মুক্তিযুদ্ধের নৌকা, আওয়ামী লীগের নৌকা, নৌকার গণজোয়ার দেখে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অনেকটা উন্মাদ হয়ে নৌকার জোয়ার ঠেকাবার জন্য সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছেন। বিষয়টা প্রশাসনকে জানিয়েছি যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে মানুষই তাদের রুখে দাঁড়াবে।

সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে ইন্দুরকানী উপজেলার রাজিয়া রশিদ মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী পথসভায় এ কথা বলেন।

শ.ম.রেজাউল করিম বলেন, নৌকার গণ জোয়ার দেখে ঈগল মার্কার প্রার্থী আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে দমন করার চেষ্টা করছে। গতকয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে তারা আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানী) আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম (নৌকা) প্রতীক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম এ আউয়াল (ঈগল) প্রতিক, জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. নজরুল ইসলাম (লাঙ্গল) প্রতীক এবং তৃণমূল বিএনপি মনোনীত ইয়ার হোসেন রিপন (সোনালী আঁশ) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

পিরোজপুর-১ আসন ২১ টি ইউনিয়ন ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩০৪ এবং নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৩৩ জন।




বরিশাল-৩ আসনে বেড়েই চলেছে আতিকুর রহমানের জনপ্রিয়তা

বরিশাল অফিস :: ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততোই বাড়ছে বরিশাল-৩ আসনের জনতার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুর রহমানের জনপ্রিয়তা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বিরামহীন গণসংযোগ, প্রচারণা, উঠান বৈঠক ও নির্বাচনী সভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, শুনছেন তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা, দিচ্ছেন সমাধানের প্রতিশ্রুতি।

স্থানীয়রা বলছেন, বাবুগঞ্জ মুলাদীতে এখন আর দল কিংবা মার্কা বিশেষ নয়, ভোটের মাঠে ব্যক্তি আতিকুর রহমানের অবস্থান তুঙ্গে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, দেশ আজ উন্নয়নের মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু বরিশাল ৩ আসনে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী না থাকায় এই নির্বাচনী এলাকায় তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তাই এই নির্বাচনী এলাকার অবহেলিত মানুষের ভাগ্যন্নয়ন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের এই ধারাকে আরো গতিশীল করতে আমি নির্বাচনে এসেছি।

উন্নয়নের স্বার্থে পরিবর্তন চাই এই স্লোগান কে সামনে রেখে বাবুগঞ্জ মুলাদীবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ভোটারদের মাঝে ট্রাক প্রতীক বেশ সাড়া ফেলেছে। সুষ্ঠু ভোট হলে বিজয়ী হবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মোঃ আতিকুর রহমান।




নৌকা নির্বাচিত হলে বরিশাল হবে অর্থনৈতিক জোন: কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-৫ (সদর) আসনের নৌকা মার্কার প্রার্থী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার কাজের মুল্যায়ন করেছেন, এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি মনে করি একজন রাজনীতিবিদদের জন্য এটা একটা বড় প্রাপ্যের। বরিশালবাসীর জন্যও এটা গৌরবের।

তবে এদ্বারা আমার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা বেড়ে গেছে। আমি আশাকরি বরিশালবাসী আমাকে আবারো ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। বরিশাল সদর উপজেলার উন্নয়ন করার সুযোগ করে দেবেন। বরিশাল সদর উপজেলাকে শহরের আদলে নিয়ে আসতে চাই। যে উন্নয়নগুলো হয়নি তা সমাপ্ত করতে চাই। আমি সদর উপজেলার নদী ভাঙ্গন এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ দিয়েছি।

নদী ভাঙ্গন থেকে ঐ এলাকার বাসিন্দারা রক্ষা পেয়েছে। ওই এলাকা এখন পর্যটনকেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। কীর্তনখোলা তীরবর্তী চরকাউয়ায় নদী রক্ষা বাধ নির্মানের জন্য ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনী ক্যাম্প তৈরী করেছে। তারা শীগ্রই কাজ শুরু করবে। বরিশাল একটি আধুনিক শহর হবে। আমরা বরিশালকে নিয়ে গর্ব করতে পারবো। ভোলা থেকে গ্যাস আসবে।

এখানে শিল্প কারখানা হবে। যুবসমাজ চাকরি পাবে। নৌকা নির্বাচিত হলে বরিশাল একটি অর্থনৈতিক জোন হবে। সবাই ভালো থাকবে নিরাপদ থাকবে। চাঁদাবাজমুক্ত বরিশাল হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যাপারে বলেন, তাকে আমি চিনিনা। অনেকের সাথেই আলাপ করেছি তারাও চিনেননা। জাকাত দেয়া আর রাজনীতি ও জনসেবা করা একনা।

সোমবার (১ জানুয়ারি) সকালে বরিশাল কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন তিনি তার বাসভবনে সার্বজনীন নাগরীক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন। বিকালে নগরীর চৈতন্য স্কুল মাঠে জনসভায় ১৫,১৬,১৭ ও ১৮ নং ওয়ার্ড জনসাধারনের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সন্ধ্যায় নগরীর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকায় ২২ ও ২৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আয়োজনে জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

এসব কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন, নৌকা মার্কার নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কেবিএস আহমেদ কবির, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট আনিচ উদ্দিন সহিদ, এ্যাডভোকেট লস্কর নুরুল হক ও এ্যাডভোকেট গোলাম মাসউদ বাবলু

 




ভোলায় নৌকার পথসভায় জনতার ঢল

বরিশাল অফিস :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলা-১ আসনের নৌকার পথসভায় হাজারও জনতার ঢল নেমেছে। সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে ইলিশা নিজাম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত ওই পথসভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও ভোলা -১ আসনের নৌকার প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ ।

পথসভায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজারও নারী-পুরুষের ঢল নামে। এ সময় নৌকা মার্কার স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে পথসভা। বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল ও ঢাক-ঢোল পিটিয়ে পথসভায় যোগ দেন কর্মী-সমর্থকরা।

ইলিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হোসেন শহীদ সরোয়ারদি’র সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য রাখেন ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দলি মমিন টুলু, সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম গোলদার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ, ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটনসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ভোলা-১ আসনের নৌকার প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে বলেন, ‘নৌকা শান্তির প্রতীক, উন্নয়নের ও আদর্শের প্রতীক। নৌকা বঙ্গবন্ধুর মার্কা, শেখ হাসিনার মার্কা। আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করি। সেই আদর্শ হলো বঙ্গবন্ধুর নৌকা।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি গত ৫ বছর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে আপনাদের বিপদে-আপদে পাশে ছিলাম বিধায় দল আমাকে আবারও আপনাদের খেদমতের জন্য মনোনয়ন দিয়ে পাঠিয়েছে। সুতরাং নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য ভোটারদের প্রতি অনুরোধ রইল।

ভোলা সদর নিয়ে গঠিত ভোলা -১ আসন। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত আসনটিতে স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সময়ে নৌকা প্রতীক জয়লাভ করেছে




নির্বাচিত হলে স্মার্ট বাংলাদেশ যাত্রার উদাহরণ হবে বরিশাল : সালাউদ্দিন রিপন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-৫ সদর আসন প্রতিটি গ্রাম ও শহর এলাকা স্মার্ট বাংলাদেশ যাত্রার উদাহরণ তৈরির পাশাপাশি উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ ১৯ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিপন।

সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

১৯ দফা ইশতেহারে সালাউদ্দিন রিপন বলেন, এই আসনের আওতায় সকল ইউনিয়ন এবং সিটি এলাকাকে টেকসই উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই আমি আজ নির্বাচনী মাঠে। নির্বাচিত হলে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ যুক্ত করে এই আসনের মানুষের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চাই। আমার নীতি হচ্ছে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। নির্বাচিত হলে আমার প্রতিটি পদক্ষেপে ছাপ দেখতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। বরিশাল-৫ (সদর) আসনটিকে স্মার্ট গ্রাম ও স্মার্ট নগরায়ণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে আমি গোটা দেশে পরিচিত করে তুলতে চাই।

এসময় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমি নির্বাচিত হতে পারলে প্রথমেই তিনটি বিষয়ের উপর জোর দেবো। এর মধ্যে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রদান। আমি বরিশালের অনেক স্থানে গিয়ে দেখেছি নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে পারছে না ফলে এসব খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের সন্তানরা অশিক্ষিত রয়ে যায়। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এই আসনের সকল ইউনিয়ন এবং সিটি এলাকাতে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হবে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণে আর্থিক সহায়তা, বোর্ড ফি প্রদান ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ব্যাপকভাবে সহায়তা অব্যাহত রাখবো।

রিপন আরও বলেন, এছাড়াও বর্তমানে অনেক মায়েরাই জরায়ুর মত ক্যান্সারে ভূগছে। অনেকে লজ্জায় বলতে পারে না। এমনি এ রোগটির কারণে অনেক মায়ের সংসার ভেঙ্গে যায়। এর মধ্যে যারা আবার নিম্ন আয়ের তারা চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। একারণে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করবো। আমি নির্বাচিত হলে সরকারের পাশাপাশি আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগেও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। সরকারের নানা উদ্যোগের মধ্যে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রদান করা হয়। এখানে যাতে সঠিকভাবে এবং সঠিক মানুষকে এ সেবা দেওয়া যায় আমি এটির উপর বিশেষভাবে জোর দেবো।

এসময় তিনি তার ইশতেহারে আরও বলেন, আমি নির্বাচিত হলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীমুক্ত সমাজ গঠন, সেবা অ্যাপ চালু করা, খেলাধুলায় উৎকর্ষ সাধন, পার্ক, জলাশয় ও খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা, উন্নত কৃষি ব্যবস্থা, দারিদ্র বিমোচন করা, গৃহ মেরামত ও নির্মাণে সহায়তা, ধর্মীয় সহায়তা, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা, নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের পুনর্বাসন, জেলে পল্লীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান ও সর্বোপরি ফ্রিল্যান্সার তৈরির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে আমার প্রধান কাজ। আমার লক্ষ্য বরিশাল সদর-৫ (সদর) আসনটির অর্ন্তভূক্ত প্রতিটি এলাকাকে নিরাপদ ও শান্তিময় আবাসভূমি হিসেবে গড়ে তোলা। নতুন প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণ আমার স্বপ্ন। আমাকে ভোট দিয়ে আপনাদেরকেও এই স্বপ্নের যাত্রার সারথি হতে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

 




আপনাদের আত্মার আত্মীয় হয়েই থাকতে চাই -আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ

বরিশাল অফিস :: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য, মন্ত্রী মর্যাদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি বলেছেন- আমি আপনাদেরই লোক। আমার বাবা আপনাদের পাশে ছিল, আমিও সারাজীবন আপনাদের পাশে রয়েছি; থাকবো। আমি আপনাদের আত্মার আত্মীয়। সকল দূর্যোগে পাশে আছি, থাকবো।

বাকাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সোমবার দুপুরে কোদালধোয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সর্বস্তরের জনগনের প্রতি আহবান জানিয়ে এসব কথা বলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে আপনাদের উপর কি জুলুম-নির্যাতন হয়েছিল তা আপনারাই স্বাক্ষী। তখন আপনার কেমন ছিলেন আর আজ কেমন আছেন সেটা আপনারাই জানেন। এখন ভোর রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে ভারতে চিকিৎসার জন্য বেনাপোলের গাড়িতে উঠলেও কেউ সম্প্রদায় নিয়ে গালি দিয়ে বলে না যে কোথায় যাস ? মানুষ এখন শান্তিতে আছে। এই শান্তি আর উন্নয়নরে জন্য শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে পুণরায় নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। আমি এমপি হলে আপনাদের কিছু চাইতে হবে না, আপনাদের যা দরকার তা আমি জানি এবং সেই অনুযায়ি এলাকায় উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নৌকার কোন বিকল্প নেই।

বিএনপি’র প্রতি ইঙ্গিত করে মন্ত্রী আরও বলেন- আজ ওরা মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলে ? সেদিন কোথায় ছিল গণতন্ত্র আর মানবাধিকার? যেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেছিল। সেই হত্যার বিচার কার্যক্রম আইন করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কোথায় ছিল সেদিন মানবাধিকার?

আসলে যারা দেশকে ভালবাসতে পারে না তাদের দিয়ে দেশের কোন উন্নয়ন হয় না। শেখ হাসিনা ছাড়া আর কোন প্রধানমন্ত্রীই এই দেশে জন্ম গ্রহন করেননি। তাই এই দেশের জন্য তাদের কোন দরদ ছিল না। শেখ হাসিনার ধমনীতে বঙ্গবন্ধুর রক্ত প্রবাহিত তাই তার দ্বারাই দেশ রক্ষা সম্ভব। তাই আগামী ৭ জানুয়ারি সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে দেশ রক্ষা করুন।

মন্ত্রীর বক্তব্য শোনার জন্য, কাছে থেকে তাকে পাবার জন্য মতবিনিময় সভা নারী পুরুষের জনসমাগমে জনসভায় রুপান্তরিত হয়।

বাকাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রমেশ চন্দ্র অধিকারীর সভাপতিত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন এর সঞ্চালনায় উঠান বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা ও এফবিসিসিআই পরিচালক মন্ত্রীপুত্র মঈন উদ্দীন আবদুল্লাহ, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুনীল কুমার বাড়ৈ, সাবেক।




মঙ্গলবার ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে শাম্মী-শামীম-সাদিকের

ঢাকা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণ খেলাপি ও এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনে গড়মিলসহ বিভিন্ন কারণে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া অন্তত ১৮ প্রার্থীর বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতে মঙ্গলবার শুনানি হবে।

এদিন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃ্ত্বে ছয় বিচারপতি বেঞ্চে শুনানির জন্য এসব আবেদন কার‌্যতালিকায় উঠেছে।

এর মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী এ কে আজাদ। শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক বলে অভিযোগ আনেন তিনি।

এরপর শুনানি শেষে ১৫ ডিসেম্বর আপিল মঞ্জুর করে শামীম হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয় ইসি। তার বিরুদ্ধে রিট করেন শামীম হক। ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তার রিট সরাসরি খারিজ করে দেন। পরে ১৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে শামীম হক আবেদন করেন।

ওই দিন চেম্বার আদালত তার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেন। এরপর এ আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন এ কে আজাদ। যে আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২ জানুয়ারি দিন ধার‌্য রয়েছে। আবেদনটি কা্যতালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।
বরিশাল-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী শাম্মী আহমেদ ও একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ পরস্পরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন ইসিতে। শাম্মী আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেও তা গোপন করেছেন বলে অভিযোগ ছিল পঙ্কজের।

নির্বাচন কমিশন বর্ণিত আপিলকারীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কে তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকার অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের সহায়তায় সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দেয়।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের সহায়তায় শাম্মী আহমেদের অস্ট্রেলিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে জরুরি ভিত্তিতে ১৪ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর পর ১৫ ডিসেম্বর শাম্মী আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করে দেন। আর একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের প্রার্থিতা বহাল রাখেন।

পরে শাম্মী আহমেদ হাইকোর্টে রিট করেন। যেটি ১৭ ডিসেম্বর সোমবার খারিজ হয়ে যায়।

পরদিন তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন। শুনানি শেষে চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’র আদেশ দেন। ফলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থেকে যায়।

ফলে আর নির্বাচনের সুযোগ থাকছেনা শাম্মী আহমেদের। এরপর তিনি ফের আবেদন করেন। তার আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকার ৪ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক। ১৫ ডিসেম্বর নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরে এ আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সাদিক আব্দুল্লাহ।

তার করা রিটের শুনানি নিয়ে ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ। ফলে সাদিক আবদুল্লাহর মনোয়নপত্র বৈধতা পায়। পরদিন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন জাহিদ ফারুক। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। এর ফলে সাদিক আব্দুল্লাহর নির্বাচন আটকে যায়। পরে তিনি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন। যেটির শুনানির জন্য ৩ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

এছাড়া যশোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক বাবুল, গাজীপুর-৪ আসনে তাজউদ্দীন আহমদের ভাগিনা আলম আহমেদসহ আরও প্রার্থীদের নিয়েও আবেদনগুলো শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত রয়েছে।




আমি কখনও নৌকার বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইনি:পঙ্কজ দেবনাথ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ঈগল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ বলেছেন, আমি কখনও নৌকার বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইনি। কিন্তু ত্যাগী ও নির্যাতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অব্যাহতভাবে অমানুষিক নির্যাতনের কারণে বাধ্য হয়ে শেষপর্যন্ত আমাকে প্রার্থী হতে হয়েছে।

সোমবার (১) লা জানুয়ারী বিকালে জেলার হিজলা উপজেলার বাংলাবাজারে অনুষ্ঠিত এক সভায় পঙ্কজ এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি যদি প্রার্থী না হতাম আর আজকের মতো শাম্মী আহমেদের মনোনয়নপত্রটা যদি বাতিল হয়ে যেতো, তাহলে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের মানুষের কি অবস্থা হতো। তারা অসহায় হয়ে থাকতো। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এতিমের মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতো। উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হতো।

দেবনাথ আরও বলেন, আমরা সুখ-শান্তি স্বস্তি চেয়েছিলাম, মাত্র কয়েকদিনে মধ্যে শাম্মীর সহযোগিরা ত্যাগী ও নির্যাতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিশ্চিহ্ন করার তান্ডবে মেতে উঠেছিল।

বিভিন্ন ঘটনার উদহারণ টেনে পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, লুট, গণধর্ষণের মামলার আসামিদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে এখন শেল্টার দিচ্ছে শাম্মী আহমেদ। আর এ লোকগুলোই ২৯ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় আমাদের মিছিলকারীদের ওপর হামলা করেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো মাঠের ভেতর প্লাকার্ড প্রবেশ আগে থেকেই নিষেধ ছিল কিন্তু সেই প্লাকার্ডের নামেই লাঠি, ইটের টুকরো, কাচের বোতল নিয়ে শাম্মী আহমেদের অনুসারীরা আমার কর্মীদের ওপর আঘাত করেছে।

এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




শ্বশুরের পক্ষে ভোট চাইতে ভোলায় অস্ট্রেলিয়ান পুত্রবধূ

বরিশাল অফিস:: শ্বশুরের পক্ষে ভোট চাইতে সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ভোলা-২ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলী আজম মুকুলের পুত্রবধূ (ছেলের বউ) ফাহমিনা আক্তার হক সারা।

রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট এলাকায় নারী ভোটারদের মধ্যে নৌকা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করতে দেখা যায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্টেলিয়ান নাগরিক সারাকে।

এ সময় উঠান বৈঠকে অংশ নিতে আসা বিভিন্ন বয়সী নারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন সারা তার শ্বশুর আলী আজম মুকুলের পক্ষে ভোট চান। তার স্বামী রায়হান আবিদ অমি, শাশুড়ি জাহানারা বুলুসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি নারী ভোটারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকেও বক্তব্য রাখেন।

সারা অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। বসবাস করেন সিডনিতে। তার পূর্ব পুরুষের বাড়ি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলায়। বছর দুয়েক আগে ভোলা-২ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুলের একমাত্র ছেলে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রায়হান আবিদ অমির সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

জানা গেছে, ফাহমিনা আক্তার হক সারা গত এক সপ্তাহ শ্বশুরের নির্বাচনী এলাকা বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখানে গণসংযোগ করে নৌকা প্রতীকে ভোট চান। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কাছে বেশি যাচ্ছেন সারা। বিদেশিনীর এমন ভোট চাওয়াকে বেশ উপভোগ করছেন সবাই।

সারা জানান, শ্বশুরের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গত ২২ ডিসেম্বর স্বামীর সঙ্গে বাংলাদেশে আসেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনে এমন প্রচারণা হয় না। সম্পূর্ণ আলাদা ক্যাম্পিং হয়। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে বেশ ভালো লেগেছে তার। নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপশি প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে গল্প করেন তিনি।

এ সময় সারা ৭ জানুয়ারি নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানান।

সারার স্বামী অমি জানান, বাবার নির্বাচনের প্রচারণা জন্য স্ত্রী সন্তান নিয়ে দেশে এসেছেন। এবার তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নির্বাচন দেখতে যাচ্ছেন। এটাকে তিনি ইনজয় করছেন।

এ দিকে সারার নির্বাচনী প্রচারণায় খুশি তার শাশুড়ি জাহানারা বুলু। ভোলা-২ আসনকে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে তারা সপরিবারে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।