পরিকল্পিতভাবে পুরাতন মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়: আ.লীগ

বরিশাল অফিস :: পরিকল্পিতভাবে কিছু পুরাতন মোটরসাইকেল আগে থেকে এনে রেখে, তাতে অগ্নিসংযোগ করেছে স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা; এমনটাই দাবি করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক।

মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বানারীপাড়া পৌর খেয়াঘাট এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা তুলে ধরেন তিনি।

গোলাম ফারুক বলেন, চারদিকে নৌকার জোয়ার দেখে আওয়ামী লীগকে দায়ী করার জন্যই এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বরিশাল-২ আসনে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে সভা করেছেন এবং জোড়ালোভাবে কাজ করার জন্য বলেছেন।

যার প্রেক্ষিতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে এবং ফলশ্রুতিতে বানারীপাড়া পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নৌকার গণজোয়ার উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, এটা টের পেয়ে স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা মঙ্গলবার ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মহড়া দেয়। মহড়ার সময় তারা রামদা, হাতুড়িসহ দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত ছিল।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বেলা ১২টার দিকে বিশারকান্দির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা সাইফুল ইসলাম শান্তসহ ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে বটতলা এলাকায় নৌকার পক্ষে গণসংযোগ চালানো হয়।

ওই সময় স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলা চালিয়ে তারা বাইশারিতে এসে আমার এলাকায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কিছু পুরাতন মোটরসাইকেল রেখে, তাতে অগ্নিসংযোগ করে।

চারদিকে নৌকার জোয়ার দেখে আওয়ামী লীগকে দায়ী করার জন্যই এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা হয়েছে।

বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানা বলেন, বিশারকান্দিতে আমাদের আহত ৯ নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তাদের ওপর যদি হামলা হতো, তাহলে সেই আহতরা কোথায়? তাদের আহত একজনও দেখলাম না হাসপাতালে।

তিনি বলেন, যখন মানুষ দুপুরের খাবার খাবে নয়তো খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিতে নিজ নিজ বাড়িতে ব্যস্ত ছিল, তখন একটি নাটক সাজিয়ে এখন দায় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর চাপাচ্ছে। কিছু পুরনো গাড়ি জমায়েত করে ওখানে আগুন দিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এর সঠিক তদন্ত করা হোক।

যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাইয়াজুল হক রাজু জানান, ঈগল প্রতীকের পক্ষে মোটরসাইকেলে মিছিল নিয়ে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার মরিচবুনিয়া থেকে বানারীপাড়া পৌর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়। বাইশারি কলেজের উত্তর পাশে পৌঁছালে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানাসহ লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি ছুঁড়ে। এতে তাদের অন্তত ৪০ জন কর্মী আহত হন। এছাড়া হামলাকারীরা ১২টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং চারটি মোটরসাইকেলে পিটিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে।

এদিকে ঘটনার পরপরই ওই এলাকায় র‌্যাব-পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শক করেছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পৌর শহরে পাল্টাপাল্টি মিছিল করেছে দুই পক্ষ। এদিকে উভয় পক্ষই মামলা দায়েরের কথা জানিয়েছেন।

 




বরিশালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা, দুই নারীসহ আহত ৬

বরিশাল অফিস :: বরিশাল সদর-৫ আসনের নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে মারামারিতে আহত হয়েছেন দুই নারীসহ ৬জন। এছাড়া ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপনের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে উঠেছে নৌকার কর্মী- সমর্থকদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) বিকালে সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদে হবিনগগর এলাকায় এঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে, নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ড নভগ্রাম রোডস্থ সালাউদ্দিন রিপনের স্ত্রী লুনা সালাউদ্দিন ও সাথে থাকা মহিলা কর্মীরা গেলে তাদের প্রচারনা কাজে বাধা প্রদান করার পাশাপাশি শ্লীলতাহানি করার চেষ্ঠার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একই বাড়ির আত্মীয়-স্বজনরা নৌকা ও ট্রাক প্রতীকের সমর্থক। ট্রাকের
কর্মীদের কটুক্তি নিয়ে তর্ক হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষ মারামারি করেছে। অন্য ঘটনায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত
অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 




পটুয়াখালী-৪, লড়াই জমিয়ে তুলেছেন মামাতো-ফুফাতে ভাই

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : সাগর পারের সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-৪ আসনে তুমুল লড়াই জমিয়ে তুলেছেন দুই মামাতো-ফুপাতো ভাই। তাদের এক জন বর্তমান সংসদ সদস্য আবারো পেয়েছেন নৌকার মনোনয়ন। অন্যজনও একই দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী, হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেও পিছপা হচ্ছেন না তারা।
কলাপাড়া আর রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন পাটুয়াখালী-৪। এই নির্বাচনী এলাকার সাগরকন্যা কুয়াকাটা, পায়রা সমুদ্র বন্দর আর চর মোন্তাজের মত দুর্গম এলাকায় ভোটারদের দরজায় যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

১৯৯৬ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচবার আসনটি দখলে রেখেছে আওয়ামী লীগ। এরমধ্যে ২০০১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত তিনবার জয়ী মাহবুবুর রহমান ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। তবে ২০১৮ সালে তার বদলে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন মহিব্বুর রহমান, এবারো মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
তবে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান। তিনি ও বর্তমান সংসদ সদস্য মামাতো-ফুপাতো ভাই, কিন্তু ভোট যুদ্ধে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগেরই আরেক সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ইসলাম লিটন। ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন তিনিও।

এরই মধ্যে এই তিন প্রার্থীর সমর্থকদের তৈরি হয়েছে উত্তেজনা, ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। তবে ভোটারদের ধারণা শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করবেন দুই মামাতো-ফুপাতো ভাই।

এই তিনজন ছাড়াও পটুয়াখালী-৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি, জাসদ ও বাংলাদেশ কংগ্রেস। তবে ভোটের মাঠে তাদের তেমন কোন প্রচারই নেই।




আগুন সন্ত্রাসীদের চিরদিনের জন্য রুখে দিতে হবে : আবুল হাসানাত

রফিকুল রেজা :: বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে সর্বাধিক সংখ্যক ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদানের মাধ্যমে আগুন সন্ত্রাসীদের চিরদিনের জন্য রুখে দিতে হবে।

মঙ্গলবার (২রা জানুয়ারি) বিকেলে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে গৈলা শিশু নিকেতন উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিগতদিনে বরিশাল অঞ্চলে বিএনপি ও জামায়াতের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন,শেখ হাসিনার আমলে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে দিকে যাচ্ছে।




বরিশালে প্রতিদ্বন্ধিতায় জমে উঠেছে ভোটের মাঠ

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: ভোটের দিন যতো ঘনিয়ে আসছে, ততোই বাড়ছে বরিশাল জেলার ছয়টি নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্ধিতায় থাকা প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার হিসেব নিকেশ। সেই হিসেবে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া বরিশালের একটি আসনসহ দুইটি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া দুইজন প্রার্থীর জনপ্রিয়তা এখন বেশ তুঙ্গে। ফলে ওই দুইটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক ট্রাক আতঙ্কে রয়েছেন জাপা মনোনীত দুইজন প্রার্থীর প্রতীক লাঙ্গল।

নির্বাচনের মাঠে দেখা গেছে, বরিশাল-১ আসনে নৌকার বিজয় অনেকটা সুনিশ্চিত। কারণ ওই আসনে প্রতিদ্বন্ধিতায় থাকা দুইজন প্রার্থীর পক্ষে তেমন কোন প্রচার-প্রচারনা ও কর্মী সমর্থকদের মাঠে দেখা যায়নি। এমনটি জাপার স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে লাঙ্গলের প্রার্থীকে নির্বাচনী এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। এনপিপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে এজেন্ট দেওয়ার মতো কোন কর্মী সমর্থক নেই।

বরিশাল-২ আসনে নৌকার সাথে ত্রিমুখী ভোটের লড়াই হওয়ার আভাস মিলেছে। ওই আসনে নৌকার প্রার্থী রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া শেরে বাংলার দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মনোনীত গামছা মার্কার প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস ভোটের মাঠে বেশ আলোচনায় রয়েছেন।

বরিশাল-৩ আসনটি মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ায় ওই আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে জাপা প্রার্থীর চরম বিরোধ চলে আসায় এখনও তিনি ভোটের মাঠে তেমন কোন সুবিধা করতে পারেনি। তবে এ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ট্রাক মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করা মোঃ আতিকুর রহমান তৃণমূল ভোটারদের জনসমর্থনে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এ আসনের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের ভোটাররা আতিকুর রহমানকে জনতার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে প্রচার-প্রচারনায় মাঠ সরগরম করে রেখেছেন।

আতিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১৫ বছরে দেশ আজ উন্নয়নের মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু বরিশাল-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি না থাকায় সবধরনের উন্নয়ন থেকে আমরা বঞ্ছিত রয়েছি। তাই এই নির্বাচনী এলাকার অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ধারাকে আরো গতিশীল করতে সর্বস্তরের ভোটারদের অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি। ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠে বেশ সারাও পেয়েছি।

তিনি বলেন-‘উন্নয়নের স্বার্থে পরিবর্তন চাই’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জ-মুলাদীবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ভোটারদের মাঝে ট্রাক মার্কা যে সাড়া জুগিয়েছে তাতে সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি।

বরিশাল-৪ আসনে দ্বৈত্য নাগরিকত্বের কারণে মঙ্গলবার আদালত চূড়ান্তভাবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. শাম্মি আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিলের রায় বহাল রেখেছেন। ফলে তিনি (শাম্মি) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। যেকারণে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও ঈগল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ।

বরিশাল-৫ আসনেও দ্বৈত্য নাগরিকত্বের কারণে মঙ্গলবার আদালত চূড়ান্তভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। ফলে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। বর্তমান সিটি মেয়র ও তার সহধর্মীনি দিনরাত সমান তালে আধুনিক বরিশাল গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নৌকা মার্কার প্রার্থী বর্তমান সাংসদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের পক্ষে মাঠ সরগরম করে রেখেছেন। তবে ওই আসনে ট্রাক মার্কার অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ সালাহউদ্দিন রিপন নির্বাচনী মাঠে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।

সচেতন বরিশালবাসীর মতে, সাদিক আব্দুল্লাহ চূড়ান্তভাবে নির্বাচন থেকে ছিটকে পরায় এবার তার সমর্থকরা ট্রাক মার্কার প্রার্থীর ওপর ভর করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এ আসনে নৌকা ও ট্রাকের সাথে হাড্ডাহাড্ডি ভোটের লড়াই হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

বরিশাল-৬ আসনের বর্তমান সাংসদ জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা আমিনের লাঙ্গল মার্কার সাথে ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন নৌকা মার্কার প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক এবং ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ শামসুল আলম চুন্নু। উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা ট্রাক মার্কার ওপর প্রকাশে ভর করায় এখানে সুষ্ঠু ভোট হলে ট্রাক মার্কার বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা।




নির্বাচনের দিন চলবে গণপরিবহন ও প্রাইভেটকার : জননিরাপত্তা সচিব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণপরিবহন, রেগুলার লাইনের বাস ও প্রাইভেটকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার এসব যানবাহন চলাচলের বিষয়ে কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে।




বরিশাল-৫: নৌকার বিপক্ষে দাপুটে অবস্থানে ট্রাক

বরিশাল অফিস : দিন যত সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, ততোই প্রচার-প্রচারণার সময় কমে আসছে। এ অবস্থায় কৌশলী প্রচারণা চালাচ্ছে বরিশালের ছয়টি আসনের ৩৫ জন প্রার্থী।

বিশেষ করে আলোচনায় উঠে আসা বরিশাল-৫ (সদর) আসনে প্রচারণার মাঠে নৌকার বিপক্ষে ট্রাক অনেকটাই দাপুটে অবস্থান দেখিয়ে দিচ্ছে।

আলোচিত এ আসনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পরে অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে ছিল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহিদ ফারুক।

এরপর জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় মাঠ অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রচারণার মাঠ দাবড়ে বেড়ানো দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত অপর স্বতন্ত্র ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপনই যেন এখন অস্বস্তির কারণ নৌকার শিবিরে।
বরিশাল সদরের ভোটাররা বলছেন, যদি ভোট প্রয়োগে কোনো বাধা না আসে তাহলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাকের সঙ্গে এ আসনে নৌকার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। আর যদি সাদিক আব্দুল্লাহ প্রার্থিতা ফিরে পায় তাহলে ভোটের লড়াইটা ত্রিমুখী হতে পারে, সেই হিসেবেও ট্রাক ভালো অবস্থানেই থাকবে।

নগরের খান সড়কের বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজ মুখে বলে গেছেন, নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুককে সৎ ও ভালো লোক। এ নিয়ে ভোটারদেরও হয়তো সন্দেহ নেই, কারণ গত ৫ বছরে তার তেমন কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি। আবার ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন কেমন লোক সেটাও সবাই জানেন। করোনার সময় ব্যক্তি উদ্যোগে বরিশালবাসীর পাশে থাকার পাশাপাশি তিনি বিনে পয়সায় হাজার হাজার লোকের চোখের চিকিৎসা করিয়ে যাচ্ছেন। অসহায় নারীসহ পরিবারের পাশেও তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন বটবৃক্ষের মতো। এ অবস্থায় বরিশালবাসীও তাকে ভালো জানেন। যেক্ষেত্রে উভয়কেই আলাদা আলাদা কারণে পছন্দ করেন ভোটাররা। এখন ভোটার উপস্থিতি ও অবাধে ভোট প্রয়োগ করতে পারলে দুজনের লড়াই শেষে ফলাফল বলে দিবে জয়ের হাঁসি কে হাসবে।

তবে সাদিক আব্দুল্লাহ মাঠে থাকলে হিসেব ত্রিমুখী অর্থাৎ ভিন্ন হতো বলে দাবি করে সদর উপজেলার চরবাড়িয়ার বাসিন্দা রাসেল হোসেন বলেন, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ কর্মীবান্ধব হওয়ায় দলের নেতা-কর্মীদের যে সমর্থন তার রয়েছে, নিঃসন্দেহে তা মাঠে থাকা অন্য কোনো প্রার্থীর নেই। আবার গত সংসদ নির্বাচনে গোটা বরিশালবাসী দেখেছে সাদিক আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুকের বিজয়ে দৃশ্য। আর এবার সেই সাদিক আব্দুল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকার পাশে নেই।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাদিক আব্দুল্লাহ ফিরে এলেও নৌকার অস্বস্তি, আবার না ফিরে এলেও যে তা কাটবে এমন নয়। কারণ সাদিক বিহীন মাঠে ট্রাকও অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। প্রচারণার মাঠে ইতোমধ্যে রিপন ও তার কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, কিন্তু আওয়ামী লীগের বিভেদে এ কাজটি কঠিন হয়ে যাচ্ছে নৌকার জন্য। তার ওপর ট্রাকের প্রচার-প্রচারণায় বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া ও কর্মীদের হুমকি ধামকি দেওয়ায় ট্রাকের আলোচনা তৃণমূলে আরও বেড়েছে।

ভোটাররা ভোট দিতে পারলে ট্রাকের সালাহউদ্দিন রিপনও কম ভোট পাবেন না জানিয়ে এই কর্মজীবী বলেন, অবাধ ভোট হলে এখন ট্রাকই নৌকার যত শঙ্কা।

এদিকে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপনও সুষ্ঠু ভোট হলে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পাবেন জানিয়ে বলেন, বাধা-বিপত্তির পরও এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আমি যাইনি। সব জায়গাতে মানুষ আমাকে ভালোবেসে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। তাতে জয়ের বিষয়ে আমি আশাবাদী। তবে প্রশাসন যেভাবে সুষ্ঠু ভোটের আশ্বাস দিচ্ছে সেটি ৭ তারিখ ভোটের দিন পর্যন্ত বজায় রাখতে হবে।

আর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় সাধারণ মানুষ ভোট দেবে বলে আশাবাদী জাহিদ ফারুক।




বরিশাল ৪ আসনে শতভাগ আশাবাদী লাঙ্গলের মিজান

বরিশাল অফিস :: মিজান অনেক ভালো পোলা, অনেক নম্রতা ভদ্রতা ও আদব কায়দা সম্পুর্ন পোলা সে, তারে ভোট দিয়া এবার জিতামু, সে আমাগো এলাকার জন্য কাম করবো। এভাবেই বলছিলেন, ষাটোর্ধ আলকাছ বেপারী। নির্বাচন আসলে যেনো এক উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরি হয় নির্বাচনী এলাকায়। এর ব্যতিক্রম হয় নি বরিশাল ০৪ আসনে।

বরিশাল ০৪ আসনে সর্বমোট তিনজন প্রার্থী নির্বাচন করছেন, জাতীয় পার্টি থেকে মোঃ মিজানুর রহমান মনোনয়ন পেয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় বেশ শক্তপোক্ত ভাবে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করে আসছে। গেলো বছরে ১৮ ডিসেম্বর থেকে প্রচারণার কাজে মেহেন্দিগঞ্জ – হিজলা – কাজিরহাট এর সকল ইউনিয়নে সর্বসাধারণের দোরগোড়ায় লাঙ্গলের বার্তা পৌছে দিয়েছেন, এবং তার কর্মী সমর্থকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি প্রচার প্রচারণার কাজে লেগে থাকেন।

সাধারণ জনগণের সাথে আলাপকালে তারা এভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন যে, জাতীয় পার্টির মিজান ভাই অনেক ভালো লোক, তিনি আমাদের এলাকায় আসেন, খোজ খবর নেন, সবার ভালো মন্দ শোনেন  এবার আমরা সবাই তাকেই ভোট দিয়ে জেতাবো।

লাঙ্গল প্রতীকের মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, বরিশাল ০৪ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে এসেছি, এই এলাকার মানুষের সাথে মিলেমিশে কাজ করার জন্য একতাবদ্ধ, এই নদী বেষ্টিত অঞ্চলের মানুষের হয়ে কাজ করতে চাই, এখানকার মানুষ অনেক অবহেলিত, নিষ্পেষিত, আমি এদের পাশে থেকে দেখিয়ে দিতে চাই, মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে ও মানুষের ভালোবাসা নিয়ে কিভাবে বেঁচে থাকা যায়।

 নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য কতো ভাগ আশাবাদী, এমন প্রশ্নের জবাবে মিজান বলেন, ইনশাআল্লাহ আমি শতভাগ আশাবাদী, কারন সাধারণ জনগণ আমার পাশে আছে।




আপিল বিভাগেও প্রার্থিতা ফিরে পেলেন না আ.লীগের শাম্মী আহম্মেদ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাম্মী আহম্মেদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমতি চেয়ে করা লিভ টু আপিল আবেদন তৃতীয় বারের মতো খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে শাম্মীর পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক।

গত ২৬ ডিসেম্বর প্রার্থিতা ফেরত পেতে ও প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে তৃতীয় বারের মতো শাম্মী আহমেদের লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম আদালত এ আদেশ দেন।

সেদিন আদালতে শাম্মী আহম্মেদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন, মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, মোতাহার হোসেন সাজুসহ ১২ জনের মতো সিনিয়র আইনজীবী। আইনজীবীরা আদালতে বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া শাম্মী আহম্মেদের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গ্রহণ করেছে। সবদিক বিবেচনা করে অন্তত আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত শাম্মী আহম্মেদকে নির্বাচনের মাঠে থাকার সুযোগ দিন। তখন চেম্বার বিচারপতি বলেন, আমার আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আপনারা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। এসব বিষয়ে তো আমি একা সিদ্ধান্ত দিতে পারবো না। আগামী ২ জানুয়ারি আপিল বিভাগের সব বিচারপতি মিলে শুনব।

এর আগে সকালে প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে আবারও চেম্বার আদালতে আবেদন করেন বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদ।

গত ২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার প্রার্থিতা ফিরে পেতে বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদের আবেদনে সাড়া না দিয়ে আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আগামী ২ জানুয়ারি নির্ধারণ করেন আদালত। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।

আদালতে শাম্মীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন ফকির, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, ব্যারিস্টার হারুনুর রশিদ।

এর আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ফের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদ। আবেদনে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়েছেন তিনি।

গত ১৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে শাম্মী আহমেদের রিট খারিজ করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তা করার ক্ষেত্রে তার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখে আদেশ দেন।

গত ১৮ ডিসেম্বর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে শাম্মী আহমেদের রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. ইকবাল কবীর ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন শাম্মী আহমেদ।

এর আগে ১৫ ডিসেম্বর দ্বৈত নাগরিকত্বে অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল হয় শাম্মী আহমেদের। আর একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের প্রার্থিতা বহালই থাকল। আপিল আবেদন শুনানি করে এমন রায় দেন কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন (ইসি)। পরে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করেন শাম্মী আহমেদ।

এর আগে শাম্মী আহমেদ এবং একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ-সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ পরস্পরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন ইসিতে। শাম্মী আহমেদ অষ্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেও তা গোপন করেছেন বলে অভিযোগ ছিল পঙ্কজের।




সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিলই থাকবে : আপিল বিভাগ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ২০ ডিসেম্বর বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে ফের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন। আবেদনে হাইকোর্টের আদেশে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চাওয়া হয়।

আগেরদিন ১৯ ডিসেম্বর সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।

আদালতে সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম।

এর আগে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কর্নেল জাহিদ ফারুক।

তার আগে ১৮ ডিসেম্বর সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আবু তাহের সাইফু র রহমান ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিটের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

গত ১৫ ডিসেম্বর বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে এই রায় দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আওয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন।

দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেন একই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কর্নেল জাহিদ ফারুক।