ট্রাককে বিজয়ী করতে একট্টা বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ

বরিশাল অফিস :: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বরিশাল সদর-৫ আসনের নির্বাচনের ৪৮ ঘন্টা পূর্বে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ নৌকার মাঝি মাল্লারা নৌকা ছেড়ে সতন্ত্র প্রার্থীর ট্রাকের স্টারিং ধরায় জমে উঠেছে নৌকা ও ট্রাকের নির্বাচনি লড়াই।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ঠা) জানুয়ারী বিকালে নগরীর বিএম স্কুল মাঠে সতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিপনের নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় সালাউদ্দিন রিপনকে সমর্থন দিয়ে একে একে ট্রাকের মঞ্চে উপস্থি হন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাহবুব উদ্দিন বীর বিক্রম সহ জেলা ও মহানগরের শ্রমিকলীগ,মহিলা লীগ,যুবলীগ, ছাত্র লীগ ও বর্তমান সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও সাবেক কাউন্সিলর বৃন্দরা অংশ গ্রহন করে।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদ সদস্য মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

জনসমুদ্র হওয়া মহিলা ভোটারদের উর্দেশ্যে এসময় তিনি বলেন সতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিপনকে আগামী ৭ই জানুয়ারী ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে জাতির জনকের কণ্যা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করার আহবান জানান।

এসময় তিনি আরো বলেন এই রিপন বেশ কয়েক বছর ধরে বরিশাল সদর ৫ আসনের মা-বোন সহ সাধারন ও নিন্মমধ্য বিত্ত অসহায় পরিবারের সহযোগীতা করা সহ সব সময় তাদের সার্বিক খোঁজ খবর নিতেন যা অন্য কেহ করে নাই।

তাই আপনারা কোন ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সালাউদ্দিন রিপনকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে জাতীয় সংসদে পাঠাবেন।

এসময় নির্বাচনী সভায় সতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিপন বলেন তাকে নির্বাচিত করা হলে আগামী দিন হবে তারুণ্যের বরিশাল এই বরিশালে কোন বহিরাগতদের স্থান হবে না।

 

এর পূর্বে বরিশাল মহানগরের ত্রিশটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক সহ শ্রমিক লীগ,মহিলা লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ ও সাধারন সদস্যরা বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থল বিএমস্কুল মাঠে হাজির হয়।

 

এখানে আরো হাজির হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আরেফিন মোল্লা,সাবেক সিটি প্যানেল মেয়র ও বর্তমান কাউন্সিলর এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন, কাউন্সিলর কেফায়েত হোসেন রনি, কাউন্সিলর মুন্না,মহানগর মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল, মহানগর যুগ্ম সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, শ্রমিক লীগ সভাপতি বাবু পরিমল চন্দ্র দাস, সাধারন সম্পাদক রইস আহমেদ মান্না, ছাত্রলীগ সহ সভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিম, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদ সভাপতি তমাল মালাকার, সাধারন সম্পাদক চঞ্চল দাস পাপ্পা, মহিলা নেত্রী নিগার সুলতানা হনুফা, সাবেক কাউন্সিলর গায়েত্রী সরকার পাখি সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ট্রাকের প্রতি সমর্থন দিয়ে উঠান বৈঠকে অংশ গ্রহন করে একাত্তা প্রকাশ করেন।




বরিশালে প্রার্থীর জন্য ভোট চাইতে প্রচারণার মাঠে স্ত্রী-সন্তানরা

বরিশাল অফিস :: মাত্র দুদিন, এরপরই অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে কৌশলী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা।

প্রচারণা চালাতে কোনো কোনো প্রার্থীর স্ত্রী-সন্তানরাও মাঠে নেমেছেন।
নির্বাচনের দিন ঠিক হওয়ার পর থেকে বরিশাল-৫ (সদর) আসনের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে স্বামীর জন্য ভোট চাইছেন মিফতাহুল জান্নাত লুনা। তিনি আসনের আলোচিত প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপনের স্ত্রী। সালাহউদ্দিন রিপন স্বতন্ত্র প্রার্থী, তার প্রতীক ট্রাক।

মিফতাহুল জান্নাত লুনা বলেন, আমার স্বামী একজন সৎ ও ভালো মনের মানুষ। তিনি পরিশ্রম করে উপার্জন করে সেই অর্থ অসহায় ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেন। যা অন্য কাউকে করতে আমি দেখিনি। তিনি বিনা খরচে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের চোখের চিকিৎসা করিয়েছেন, একজন ভালো মনের মানুষ না হলে এটা কে করতেন? আমি মনে করি এ অঞ্চলের উন্নয়নে ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে তার মতো নির্লোভ মানুষের প্রয়োজন রয়েছে। আর তাই এরকম একজন ভালো মানুষের প্রচারণায় নামতে পারাটাও নিজেকে ভিন্ন এক প্রশান্তি পাইয়ে দিচ্ছে।

তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকদের কারণে প্রচারণার মাঠে নারী হয়েও বারবার বাধার সম্মুখীন হওয়াটা কষ্টের বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ আসনে মাঠে থাকা নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কর্মী-সমর্থকদের বাইরে সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারীরাও ভোট চাইছেন। সেইসাথে খোকন সেরনিয়াবাতের সহধর্মিণী লুনা আব্দুল্লাহ ও নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ নাথের স্ত্রী মনিকা নাথ, বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে মহাজোটের নৌকার প্রার্থী রাশেদ খান মেননের স্ত্রী লুৎফুন্নেছা খান বিউটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের গামছা প্রতীকের প্রার্থী নকুল কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী গৌরী বিশ্বাসও স্বামীর পাশে থাকছেন এবং ভোট চাইছেন।

এ আসনে স্বতন্ত্র (ঈগল প্রতীক) প্রার্থী একে ফাইয়াজুল হক রাজুর মেয়ে তাহরিন হক, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে আবদুল হাফিজ মল্লিকের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা তানভীর মাহমুদ ও মেয়ে সাদিয়া আফরোজ মল্লিকও বাবার জন্য ভোট চাইছেন।

প্রচারণার মাঠে বাবার জন্য ভোট চেয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ নাথের দুই কন্যা প্রিয়তা ও প্রত্যুষা নাথ। বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে নৌকার প্রার্থী আলহাজ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর জন্য ভোট চাইতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন একমাত্র মেয়ে কান্তা আব্দুল্লাহ। সেইসাথে তার দুই ছেলে সেরনিয়াবাত মঈন আব্দুল্লাহ ও সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহও নির্বাচনী এলাকায় সমানতালে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ আসনে লাঙল প্রতীকের প্রার্থী নাসরিন জাহান রতনার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে ভোট চেয়েছেন তার স্বামী ও পটুয়াখালী-১ আসনে লাঙলের প্রার্থী এ বিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

এমন প্রচারণায় পারিবারিক বন্ধনের বিষয়টি যেমন ফুটে উঠছে, তেমনি প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফাতেহা খানুন। তিনি বলেন, একজন প্রার্থী হয়ত সবার কাছে যেতে পারেন না, তাই কর্মীরা ছুটে বেড়ান। অনেক জায়গায় কর্মীরাও যেতে পারে না। সেক্ষেত্রে প্রার্থীর দেখা বা বার্তা পান না ভোটাররা। কিন্তু যখন পরিবারের লোকজন প্রার্থীর সাথে থাকে তখন মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি বার্তাটাও পৌঁছে যায় সব জায়গায়।

লাখ লাখ টাকা খরচ করে কর্মীদের দিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া দেওয়ানো কিংবা পেশীশক্তির ভয় দেখানোর চেয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের আপনজনদের প্রার্থীর হয়ে ছুটে বেড়ানো নিঃসন্দেহে ভালো দিক বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা। বরিশাল-৬ আসনের বাসিন্দা ও শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, এখন আর মানুষ পেশীশক্তিকে ভয় করে না, দূরে থাকে; ঘৃণা করে। আর ভালোবাসাই ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে। আমাদের আসনে হাফিজ মল্লিকের সন্তানদের নির্বাচনী মাঠে দেখে সাধারণ মানুষ খুবই খুঁশি। তারা যেভাবে সবাইকে আপন করে নিয়েছেন, অন্য কেউ হয়তো পারতো না।




৭ জানুয়ারি হবে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির বিজয়ের দিন: মেনন

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিজয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির বিজয় হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ রা জানুয়ারি) উজিরপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নির্বাচনী গনমিছিল পরবর্তী সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে এদেশের তরুনরা এই আশা ব্যক্ত করে মেনন বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশের পথ পেড়িয়ে দেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষে এগোচ্ছে। আগামি ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে তরুন ভোটাররা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের প্রতিক নৌকায় ভোট দিয়ে সে লক্ষ্যকে এগিয়ে নিবে।

সভায় নৌকা প্রতিকে সমর্থন আহ্বান করে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক তালুকদার মো: ইউনুস বলেন, উজিরপুর বানারীপাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঘাটি, এখানে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির স্থান হবে না। নির্বাচনের যে স্বতঃস্ফূর্ততা চলছে তার ধারাবাহিকতায় নৌকা প্রতিক বিপুলভাবে জয়ী হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবে।

আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সকল ষড়যন্ত্রেকারীদের সকল অপচেষ্টা রুখে দিয়ে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নৌকা প্রতীকে রাশেদ খান মেননকে সমর্থন করেন। সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শেখ হাসিনার পাশে দাড়ানোর আহবান জানান তিনি।

এর আগে উজিরপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে উৎসব মুখর ভাবে মিছিল করে সভা স্থলে উপস্থিত হন হাজার হাজার মানুষ। গনমিছিলের পরে এ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত সাংসদ লুতফুন্নেসা খান বিউটি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ আল হাসান, উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বেপারী,উজিরপুর উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ফায়জুল হক বালী,ভাইস চেয়ারম্যান সীমা রানী শীল প্রমূখ। এছারাও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।




৬ জানুয়ারি সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  নির্বাচন বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে আগামী ৬ জানুয়ারি সকাল ৬টা থেকে ৮ জানুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত (৪৮ ঘণ্টা) দেশব্যাপী সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।



ভোটাররা সংশয়ে আছেন, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত : জিএম কাদের




আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা




কলাপাড়া-কুয়াকাটা হবে বরিশাল বিভাগের উন্নয়নের মডেল

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও ফ্রেস গ্রুপ অব কোম্পানি’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান সিআইপি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে এ অঞ্চলের চিত্র। গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্পায়ন। নির্মাণ হবে রাস্তাঘাট,সেতু,কালভার্ট।

বুধবার(৩ জানুয়ারী) সকাল ১১ টায় পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় অবস্থিত অভিজাত হোটেল সিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলাস’র সভাকক্ষে সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তবে তিনি এ কথা বলেন।

ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান সিআইপি আরও বলেন, পটুয়াখালী-৪ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হলে কুয়াকাটা-কলাপাড়া হবে বরিশাল বিভাগের উন্নয়নের রোড মডেল। এ উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উত্তীর্ণ করণ, ডায়াবেটিকস হাসপাতাল নির্মাণ, কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে উন্নতি করণের তিনি কাজ করবেন বলে জানান। এসময় বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

এ সুধী সমাবেশে সংসদ সদস্য মহিববুর রহমান ও কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র মো.আনোয়ার হাওলাদার, কলাপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, সাধারন সম্পাদক এস এম মোশারফ হোসেন মিন্টু, সাবেক সভাপতি শামছুল আলম, সাংবাদিক মেজবাহ উদ্দিন মান্নু, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন বিপ্লব, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ক্লাব সভাপতি এইচ আর মুক্তা, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক মো.ফরিদ উদ্দিন বিপু,মহিপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম সহ কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




পটুয়াখালী-৩ আসনে শাহজাদা-আবুল সমানে সমান

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচনী লড়াই ক্রমে হাড্ডা হাড্ডি রূপ নিয়েছে। বিশেষত নৌকা ও ঈগল মার্কার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুঙ্গে উঠেছে। চলছে বাক্যবাণের প্রতিযোগিতা। তারা ছুটছেন এলাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। কর্মীরাও নাওয়া-খাওয়া ভুলে মাঠে নেমে পড়েছে। দিন-রাত একাকার করে চলছে প্রচার। তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হয়ে দিচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি। উঠান বৈঠক, পথসভা থেকে শুরু করে ব্যক্তি পর্যায়ে যোগাযোগসহ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য চলছে নানামুখী কর্মসূচি। মোট কথা এলাকা এখন নির্বাচনী প্রচারে সরগরম হয়ে উঠেছে।

গলাচিপা ও দশমিনা দুই উপজেলা নিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৫২ হাজার ২৬১ জন। একটি পৌরসভা ও ১৯টি ইউনিয়নের এই আসনে ১২৪টি ভোট কেন্দ্রের ৮২৯টি ভোটকক্ষে এবার ভোটাররা ভোট দেবেন।

এবারের সংসদ নির্বাচনে ৬ প্রার্থী হলেও ভোটারদের আলোচনায় আছেন দুইজন প্রার্থী। বাকিরা সকলেই এলাকায় অপরিচিত এবং তাদের তেমন কোনো তৎপরতা নেই বলে ভোটাররা জানিয়েছেন।

এবার এ আসনে আওয়ামী লীগে ২১ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি এসএম শাহজাদা। তিনি লড়ছেন নৌকা মার্কা নিয়ে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক মহাপরিচালক ও রাষ্ট্রপতির সাবেক সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবুল হোসেন। তিনিও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন না পেয়ে ঈগল মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।




বাউফলে নৌকার পথসভা যেন জনসমুদ্র

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে আ.লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের বাজেমহল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে কেশবপুর ইউনিয়ন আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক চীফ হুইপ ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আ স ম ফিরোজ এমপি।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ স ম ফিরোজ বলেন, বাউফলে আমি ১৯৭৯ সাল থেকে এমপি এই বার নিয়ে আমার দল বাংলাদেশ আ.লীগ ১০ (দশ) বার আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, এর মধ্যে আমি ০৭ (সাত) বার নির্বাচিত হয়েছি, ২০০১ সালে জোর করে আমাকে হারানো হয়েছে। আগামী ৭ই জানুয়ারি আপনাদের ভোটে অষ্টম (৮) বার নির্বাচিত হব ইনশাআল্লাহ।

সাত মানে লাকি সেভেন, যদি আপনারা মনে করেন ভোট কেন্দ্রে আপনারা না গেলে আ স ম ফিরোজ নির্বাচিত হবে এটা হবে বড় ভূল, আমার নেত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক বিশ্ব কে দেখাতে চায় যে বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে এবং জনগন ভোট দিয়েছে, যে বিশ্ব প্রতি নিয়ত বিভিন্ন দেশের শান্তি নষ্ট করছে, আমেরিকা আমার দেশের স্বাধীনতা হরণ করার লক্ষে উঠে পড়ে লেগেছে, ৭১ সালের দোসররা আবার একজোট হয়েছে দেশটাকে ধংস করতে। বিশ্বের কোন দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় না বাংলাদেশে ও হবে না। কোর্ট থেকে রায় দিয়েছে নির্বাচন হবে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। নির্বাচন কালীন নির্বাচন কমিশন হবে সব থেকে শক্তিশালী, আপনারা লক্ষ করবেন যে নির্বাচন শিডিউল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসিকে পরিবর্তন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসতে চায় না কারণ খালেদা জিয়া এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করার কারনে তার নামে মামলা হয় মামলা ১০ (দশ) বছর চলার পরও তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে পারেনি, তিনি এখন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তার ছেলে তারেক জিয়া দশ (১০) ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তাদের দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো নেতা নেই।

আ স ম ফিরোজ আরো বলেন, আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে, বয়স্ক ভাতা,বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা,মাতৃকালীন ভাতা চালু করেছে। রাস্তা ঘাট,পোল, ব্রিজ, বই উৎসব, ছেলে মেয়েদের উপবৃত্তি দিয়েছে শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ উন্নয়নে বিশ্বাসী, তাই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী ৭ই জানুয়ারি নৌকায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।

এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, আ স ম ফিরোজ এমপির সহধর্মিণী মোসাম্মত দেলোয়ারা ফিরোজ, ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম তারেক, ছেলে আশকার শিহাব,কন্যা সাবরিনা সান, উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ শাজাহান সিরাজ, কেশবপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যাক্ষ হাবিবুর রহমান, কেশবপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল বশার খান, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল ইসলাম টিটু, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আ.লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক (অপু), আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ছিয়ানুর হাওলাদার রনি, সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দীন সুজন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম মাতুব্বর, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক সিকদার প্রমুখ, এছাড়াও ইউনিয়নের প্রায় চার (৪) হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।




‘বরিশাল-৬ আসনে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী চুন্নুর ট্রাক’

বরিশাল অফিস :: “সুখে দুঃখে যাকে পাই, সে আমাদের চুন্নু ভাই’ ‘চুন্নু ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’ ‘সাত তারিখে কেন্দ্রে যান, ট্রাক মার্কায় ভোট দেন’ ‘ উন্নয়নের সুযোগ দিন, ট্রাক মার্কায় ভোট দিন” সহস্রাধিক জনগণের হর্ষধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১২ নং রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ‘আউলিয়ারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ’ সংলগ্ন এলাকার আকাশ-বাতাস। ৩ জানুয়ারী বুধবার বিকেলে বরিশাল-৬ আসনের ট্রাক মার্কা স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নুর উঠান বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন বাসিন্দাদের আয়োজিত এ উঠান বৈঠকে চারদিক থেকে প্রায় দু’ ডজন মিছিল নিয়ে আসে স্থানীয় জনগণ।

উঠান বৈঠকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু বলেন, যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন আমি জনগনের সেবা করে যাবো। এখানে এসে আমার আশা নয়, বিশ্বাস হল- আগামী সাত তারিখে আপনার ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন। আমি সব-সময় আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জনগণের কাছে এটা আমার ওয়াদা। জনগণের সেবার মধ্যেই নিজের অস্তিত্ব বিলীন করতে চাই।

বাকেরগঞ্জ পৌর মেয়র ও উপজেলা আ.লীগের সম্পাদক মো. লোকমান হোনে ডাকুয়া বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৬ আসনে প্রার্থী হবার পূর্বে বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু বাকেরগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সভাপতিসহ টানা তিনবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২২ সালে বরিশাল বিভাগের উপজেলা পর্যায় শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ সালে তিনি বিনাপ্রতিদ্বদ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। রানিং ওই চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জনগন সব-সময়ই তার পাশে আছে এবং থাকবে। সে জন্যই ৭ তারিখ ট্রাক মার্কার জয় হবে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও থানা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, শামসুল আলম চুন্নু একজন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক মানুষ। তার জনপ্রিয়তার জন্যই তিনি বারবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। জনগণের পাশাপশি অনেক নেতাও তার সাথে আছে।

এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন, আ. কুদ্দুস মন্টু, শওকত হোসেন, মজিবুর রহমান, আবুল হোসেন ও আনোয়ারুল হক ভূইয়া প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও ইউনিয়নের আ.লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীরা।