বাঁচার আকুতি, ট্রেনের জানালায় আটকে ভস্মীভূত যাত্রী




বরিশাল-৬ আসন: নির্বাচনে জয়ী হলে জনগণকে দেয়া ওয়াদা রাখবো- মুক্তিযোদ্ধা চুন্নু

রিশাল অফিস :: জীবনের অস্তিত্ব আর যতদিন আছে, ততোদিন মানুষের সেবা করে যাবো। যেখানেই প্রচার-প্রচারণা করেছিলাম সেখানের জনগণদের এই ওয়াদা দিয়েছি। নির্বাচিত হলে জনগণকে দেয়া ওয়াদা সর্ব প্রথম রক্ষা করবো প্রতিবেদককে এমন কথা বলেছেন বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের ট্রাক মার্কা স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু । তার সাথে থাকা বাকেরগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. লোকমান হোসেন ডাকুয়া বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক উন্নত হয়েছে। শহর ও গ্রামে আগের তুলনায় শিক্ষার হার বেড়েছে। তাছাড়া পাশের ফলাফলে একধিকবার দেশ সেরা হয়েছে বরিশাল। এ সব শিক্ষর্থীরা যখনই শুনে শামসুল আলম চুন্নু একজন বীর-মুক্তিযোদ্ধা, আ.লীগ নেতাসহ তার উপজেলায় উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

এ সব শুনেই অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা সেচ্ছায় চুন্নু ট্রাক প্রতীকের পক্ষ নিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বরিশাল- ৬ আসনে ট্রাক প্রার্থী জনপ্রিয়তায় ও সমর্থন শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। আশা নয় বিশ্বাস করি, বিপুল ভোটে ট্রাক প্রতীকের জয় হবে। একইভাবে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও থানা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান বলেন,বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু ভালো মনের একজন মানুষ।

জনগণ তাকে ভালোবাসে বলেই একই পদে পরপর তিনবার তাকে নির্বাচিত হয়েছিল। তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বাকেরগঞ্জ সদর উপজেলাসহ অধিকাংশ ইউনিয়নের আ.লীগর নেতাকর্মী। তিনি মনে করেন, উপজেলার মতই জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জনগণ ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে মুক্তিযোদ্ধ চুন্নুকে জয়ী করবে।

৫ ডিসেম্বর শুক্রবার চরাদি, চরামদ্দি, ফরিদপুর ও নলুয়া সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, চায়ের দোকান ও নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বসতঘরের সামনে ট্রাক মার্কার পোস্টার লাগিয়ে জনগণ প্রার্থীর পক্ষের লোক বলে জনান দিচ্ছে। পাশাপাশি চায়ের দোকানগুলোতে আসা মানুষগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনা ঝড় তুলেছে। তারা প্রার্থীদের বর্তমান ও অতীত কার্যক্রম নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলেছেন।

আয়নাল খান, রাজিব হোসেন, রুবেল হাওলাদার ও শহিদুল ইসলামসহ ১০/১২ জনে বলছেন, যুদ্ধ করে এ দেশের মানুষদের স্বাধীনতা অর্জন করে দিয়েছিলেন চুন্নু মত হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা। সেই মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের দল আ.লীগের সমর্থক হয়ে যুগ ধরে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ছিলেন।

আবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে হ্যাট্রিক অর্জন করেছেন চুন্নু। জনপ্রিয়তা না থাকলে তিন এতদূর পর্যন্ত এগিয়ে আসতে পারতেন না। তারা দেশ প্রেমিক চুন্নু সমর্থন বলে প্রকাশ্যে জানান দেয়। আলোচনায় উঠে এসেছে, উপজেলা আ.লীগের সভাপতিসহ পরপর তিনবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু। তিনি রানিং চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে হয়েছেন এমপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী।

সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাও করছেন উপজেলা আ.লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী। জনসমর্থনে ট্রাক মার্কা রয়েছে অনেক এগিয়ে। অনেকেরই ধারণা, এ আসনটিতে বিপুল ভোটে জয় অর্জন করার সম্ভবনা রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা চুন্নুর। কেননা, জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছেন তিনি।

 




প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ




পটুয়াখালী-২ নৌকার শেষ পথসভায় জনতার ঢল

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক চীফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ এমপির শেষ নির্বাচনী পথসভায় জনতার ঢল নেমেছে।

বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মিছিল- শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পথসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে কালাইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান মোসারেফ হোসেন খানের সভাপতিত্বে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ.স.ম ফিরোজ বলেন, অ্যামেরিকা কখনো বাংলাদেশের মঙ্গল চায় না। তারা ৭১’এ আমাদের বিরোধিতা করছেন। পাকিস্তানী বাহিনীর নির্বিচার হত্যাজ্ঞ, ধর্ষণ ও লাটপাটকে অ্যামেরিকা সমর্থন করেছিল সেই সাম্রজ্যবাদ শক্তি এবার আমাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চায়। তারা স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে হটিয়ে তাদের পুতুল সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়। এজন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিসয়ে নাকগলাচ্ছে। তবে বাংলার জনগণ কোনো মোড়লের বরদাস্ত করবে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সকল দেশে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আমাদের দেশেও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের দোষর জামায়াত ছাড়া প্রায় সকল দলের অংশ গ্রহণে সারাদেশে নির্বাচনী আমেজ বইছে। ভোটারদের মধ্যে উৎসহ-উদ্দীপণা বিরাজ করছে। কিন্তু বিএনপি লন্ডনে পালাতক তারেক রহমানের নিদের্শে নির্বাচন আসেনি। তারা নির্বাচনে না এসে নির্বাচন বানচাল করতে আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছেন। মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। ভোটারদের কেন্দ্র যেতে বাঁধা দিচ্ছেন। তবে বাংলার জনগণ তাদের বাঁধায় কর্ণপাত করবে না। ৭ তারিখ মানুষ দলে দলে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চাই, বিএনপি নামক সন্ত্রাসী দলের অংশ গ্রহণ কোনো বড় বিষয় নয়, জনগণের অংশগ্রহণই বড় বিষয়।

পথসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে আ.স.ম ফিরোজ বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবেন। আপনাদের এক একটি ভোট সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আ.স.ম ফিরোজের সহধর্মিণী দেলোয়রা ফিরোজ, জেষ্ঠ্য পুত্র ও নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট রায়হান শাকিব, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম শাহীন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক তানভীর হাসান আরিফ ও উপজেলা যুবলীগ সাধারন সম্পাদক কালাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম ফয়সাল আহম্মেদ প্রমূখ।




হেলিকপ্টারে এসে জরিমানা গুনলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভাই

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী-৪ আসনে হেলিকপ্টারে করে নির্বাচনি প্রচারে এসে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন নৌকা প্রার্থীর এক ভাই।

দণ্ড পাওয়া তৌহিদুর রহমান পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া – রাঙ্গাবালী) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মহিব্বুর রহমানের বড় ভাই।

নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে এ জরিমানা করেন রাঙ্গাবালী উপজেলার দায়িত্বে থাকা নির্বাহী হাকিম মো. জিয়াউল হাসান সৌরভ।

তিনি বলেন, “অনুমতি ছাড়া প্রার্থীর প্রচারে হেলিকপ্টার নিয়ে আসেন তৌহিদুর। শুধু মাত্র দলীয় প্রধান হেলিকপ্টার নিয়ে আসতে পারবেন। এ ছাড়া সরকারি দপ্তরের সামনে অনুমতি ছাড়া হেলিকপ্টার অবতরণ এবং আচরণ বিধি ভঙ্গ করায় নৌকা প্রার্থীর ভাইকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”
পরে তিনি হেলিকপ্টার নিয়ে ফিরে গেছেন বলে জানান নির্বাহী হাকিম জিয়াউল।

স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, বেলা ৩টার পর সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমানের ভাই ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর হেলিকপ্টার যোগে রাঙ্গাবালীতে নামেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মহিব্বুর তার ভাইকে অভ্যর্থনা জানান। পরে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন নৌকার নির্বাচনি কার্যালয়ে যান তারা।
বিকাল ৪টায় রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নৌকার নির্বাচনি জনসভা ছিল। সেই সভায় অংশ নিতে এসেছিলেন তৌহিদুর। তবে জরিমানার মুখে সভায় যোগ না দিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে তাকে।




পটুয়াখালী-৪ আসনে নৌকা প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী-৪ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোঃ মহিববুর রহমান বৃহস্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠায় কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী-মহিপুর- কুয়াকাটা শীর্ষক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৪ ঘোষনা করেছেন।

এসময় দলীয় নেতা কর্মী সহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা অবগত রয়েছেন, পটুয়াখালী- ৪ আসনটি দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনে মেগা প্রজেক্টসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কর্মকান্ড মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমি শুধু বিগত পাঁচটি বছর সরকারের এসব উন্নয়ন বাস্তবায়নের সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছি।
করোনাকালীন দূর্যোগেও আমি আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জীবন – ঝুঁকির মধ্যে সার্বক্ষণিক বিভিন্ন ধরনের সহায়তা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। এই জনপদকে শান্তির জনপদে পরিণত করার চেষ্টায় সর্বাত্মক সচেষ্ট ছিলাম। আজ অবধি আপনাদের পাশে রয়েছি, থাকবো আজীবন।

তিনি আরও বলেন, আমি প্রধানত কলাপাড়াকে জেলায় উন্নীত করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে এই ইশতেহারের কার্যক্রম শুরু করি। যে কাজটি করার জন্য আমি দুই যুগ আগে থেকে চেষ্টা করে আসছি। এর পরেই সামগ্রিক উন্নয়নের মধ্যে মহিপুরকে উপজেলা এবং রাঙ্গাবালী সদরকে পৌরসভায় উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছি। যা আমার অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়নের মধ্যে আমি এই জনপদের মানুষের মৌলিক অধিকার খাদ্য নিরাপত্তা, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জননিরাপত্তা বিধানে ইতিপূর্বে যেভাবে কাজ করেছি ভবিষ্যতে আবার নির্বাচিত হলে আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাবো।
আমি মূলত এই আসনের প্রতিটি জনপদকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, সিন্ডিকেট, মাদক ও ভূমিদস্যু মুক্ত শান্তিময় জনপদ গড়ে তোলার মানসিকতা নিয়ে কাজ করে গেছি। যা করতে প্রায় শতভাগ সফল হয়েছি। আমি আপনাদের ও জনগণের পূর্ণ সহায়তা পেলে জনমানুষের শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুরোপুরি সফল হবো, ইনশাআল্লাহ। আমি এই ইশতেহারে খাদ্য ও কৃষিখাত, যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা, জননিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, ও বেকারত্ব দূরীকরণ, ধর্মীয় খাত, বিদ্যুৎ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, পর্যটন, বন ও পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যেসব কর্মকান্ড বাস্তবায়ন অসমাপ্ত রয়েছে আগামী পাঁচ বছরে সেসব কাজ করবো।

তিনি আরো বলেন, আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘোষিত নির্বাচনী কেন্দ্রীয় ইশতেহারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের ১১ টি পরিকল্পনার কথা আমার ইশতেহারে তুলে ধরেছি। জননেত্রীর ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করবো বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। তাই শেখ হাসিনা’র স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমানে আগামী ৭ জানুয়ারী আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে সেবা করার সুযোগ দিলে এলাকার উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি শতাভাগ নিশ্চিত করবো – ইনশাআল্লাহ।




দুমকিতে লাঙ্গল ও ডাব সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৮

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দুমকিতে লাঙ্গল ও ডাব মার্কার সমর্থকদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের লাঙ্গল প্রতীকের মিছিল ও বালুর মাঠে সভা শেষে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাসুদ আল মামুনের নেতৃত্বে রাত ৮টায় দুমকির পীরতলা বাজারে লিফলেট বিতরণ করার সময় পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম মৃধ্যা ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাবু শৈলেন চন্দ্রের নেতৃত্বে ডাব প্রতীকের সমর্থনে গনসংযোগ করার সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ৮ জন আহত হয়। আহতদের দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন লাঙ্গল প্রতীকের রিপন হাওলাদার (৪০), মানসুর আলম (৩৩), শাহিন গাজী (৩১), ডাব প্রতীকের মো: বেল্লাল (৩৫), শহিদুল ইসলাম(২৪)।

গুরুতর আহত রিপন হালদারকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুর শৈলেনচন্দ্রের সাথে থাকা আওয়ামীলীগ নেতা ইউনুস আলী মৃধ্যা ও মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের সাথে দুমকির পিরতলা বাজারে ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছিলাম এমন সময় উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাসুদ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল কর্মী আমাদের ছাত্রলীগ কর্মীদের উপরে হামলা চালায় এতে ছাত্রলীগের ৫ জন নেতা কর্মী আহত হয়।

উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাসুদ আল মামুন বলেন, আমরা বালুর মাঠে জনসভা শেষে দুমকির পীরতলা বাজারে লিফলেট বিতরণ করতে গেলে আমাদের উপর ডাব মার্কার সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায় এতে আমাদের ৫ জন নেতা কর্মী আহত হয়। গুরুতর আহত ৩জনকে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বাকেরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা চুন্নুর জনপ্রিয়তা হিংসায় জ্বলছে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের ট্রাক মার্কা স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নুর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়ন ইউনিয়নের ‘কামারখালী কেএসইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ মাঠে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উঠান বৈঠকে জনগনকে উদ্দেশ্য করে বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু বলেছেন, আমি নির্বাচিত হলে এ আসনে উন্নয়নমূলক কাজ করব। এবং জনসেবায় নিয়োজিত থাকবো।

সকল জনগণের জন্য আমার দরজা খোলা। আপনাদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে আগামী সাত তারিখে আপনারা ট্রাক প্রতীককে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন। আপনারা আমার পাশে থাকেন আমিও আপনাদের পাশে আমৃত্যু পর্যন্ত থাকবো। এটাই আমার ওয়াদা। আমার জনপিয়তা দেখে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা হিংসায় জ্বলছে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. লোকমান হোসেন ডাকুয়া বলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে জয়ের হ্যাটট্রিক অর্জন করেছেন। জন সেবামূলক কাজ করায় তাকে ২০২২ সালে বিভাগের উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছিল।

এখন তিনি জনসেবার কেন্দ্র পরিধি বাড়াতে ওই চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে বরিশাল-৬ আসনে উন্নয়নের পাশাপাশি নিজেকে জন সেবামূলক কাজ করতে চায়। তাই সকল জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপনার সাত তারিখ ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে চুন্নু ভাইকে নির্বাচিত করবেন। দিনে দিনে ট্রাক সমর্থক বেড়েই চলেছে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও থানা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ৭১ এর বীর-মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম চুন্নু। দেশ স্বাধীনের পরও তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে সমাজে উন্নয়নমূলক কাজসহ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা থাকায় তিনি তিনবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ভাল একজন মানুষ না হলে সে কখনই একই পদে পরপর তিনবার নির্বাচিত হতে পারে না। কেননা, জনগনই ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছিল।স্বদেশ প্রেম ভুক্ত মানুষকে আপনারা ভোট দিয়ে জয়ী করবেন।

এটাই আপনাদের কাছে চাওয়া। দাড়িয়াল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি সহিদুল ইসলাম হাওলাদারের সভাপতিত্বে আরো রাখেন, বরিশাল জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইরিন রেজা,

বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন, বাবু অমল চন্দ্র দাস শিবু, নেয়ামত আব্দুল্লাহ পলাশ, দপ্তর সম্পাদক আবু হোসেন খলিফা প্রমুখ।

 




বরগুনা-১ আসনে নৌকার বিকল্প নেই

বরিশাল অফিস :: আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন ঘিরে চলছে ব্যাপক জল্পনাকল্পনা। বরগুনা-১ আসনে ৯ জন প্রার্থী হলেও মূল আলোচনায় চারজন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পাঁচবারের সংসদ সদস্য বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য গোলাম সরোয়ার ফোরকান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, এই চারজনের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কৃষক, শ্রমিক সাধারণ জনগণের মাঝে ও চায়ের দোকানে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

এ আসনে ভোটার সংখ্যা রয়েছে চার লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৬। টানা ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় দেশে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। সেদিক থেকে বরগুনা এক আসনে টুকিটাকি কাজ ছাড়া বড় ধরনের প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সাড়ে ৭০০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে এ আসনে। সদর উপজেলার এমএ লতি বলেন, দল মত নির্বিশেষে জনসাধারণের জনমত এবারও আমরা নৌকা মার্কায় ভোট দিব এই নৌকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার। নৌকা মার্কায় ভোট দিলে দেশের উন্নয়ন হয় গরীব অসহায় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আগামী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নৌকা মার্কার বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বরগুনা-১ আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য গরীব অসহায় এই জনপদের জনগণের জনবান্ধব অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শন্ভুকে এবার ও আমরা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করব ইনশাল্লাহ।

তিনি এমপি থাকলে সকল দলের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, জনগণ তার কাছে গিয়ে সুখ-দুঃখের কথা বলতে পারেন। বরগুনার প্রতিটি উপজেলায় রয়েছে তার চল্লিশ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। কেউ কেউ আবার বলছেন নৌকা মার্কার প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ঈগল মার্কার প্রার্থীর সাথে। আবার কেউ বলছেন নৌকা মার্কার প্রার্থীর সাথে কাচি মার্কার প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী হবে। নানান জল্পনাকল্পনার মাঝে রয়েছে নৌকা। তৃণমূলের নৌকা প্রেমীরা এবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিতে ভুল করবেন না এমনটাই উঠে আসে জনসাধারণের জরিপে ।




আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা: র‌্যাব-৮

বরিশাল অফিস ::

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে টহল বাড়িয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৮)।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় নগরের সিএন্ডবি রোডসহ বিভিন্ন জায়গায় টহল শেষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী যুবায়ের আলম বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলিট ফোর্স র‌্যাব সর্বত্র কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৮ বরিশালে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের স্বাভাবিক টহল ও অভিযানিক কর্যক্রমগুলোর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা রোবাস্ট পেট্রোলিং করছে। গত কয়েকদিন ধরে আমরা এটি করে আসছি।

তিনি বলেন, এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সহিংসতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সে তথ্য পাওয়া মাত্রই আমরা সেখানে ফোর্স মোতায়েন করছি এবং দ্রুততার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পেরেছি।

কাজী যুবায়ের আলম বলেন, নির্বাচন ঘিরে বরিশাল বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৮ অনেক আগে থেকেই নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে এবং সুষ্ঠু ও পরিবেশবান্ধব পরিবেশে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে টহল কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে র‌্যাব-৮।

নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্বাচনবিরোধী অপপ্রচারণা প্রতিরোধ, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি কার্যক্রমসহ সার্বক্ষণিক র‌্যাবের ৫৪টি টহল দল দিবা-রাত্রি টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। র‌্যাব-৮ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতকল্পে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটাকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা।

তিনি বলেন, এলিট ফোর্স নির্বাচনকালীন যেকোনো সহিংসতা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও বরিশাল বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৮ এর সতর্কতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।