নির্বাচনে হারলেন আ. লীগের ৩ প্রতিমন্ত্রী ও ১১ এমপি




মুরাদ-মাহি-মমতাজ হারের বৃত্তে, লজ্জায় ডুবেছেন হিরো আলম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯ আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে হেরে গেছেন আলোচনার শীর্ষে থাকা অনেকেই। একদিকে আওয়ামী লীগের মতাদর্শের প্রার্থীরা যেমন হেরেছেন, অন্যদিকে নৌকা পেয়েও শেষ রক্ষা হয়নি গায়িকা মমতাজ বেগমের।



স্বতন্ত্রের কাছে পরাজয় হলেন যেসব হেভিওয়েট প্রার্থী

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : অনেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রের কাছে গেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে কম ভোট পেয়েছেন। তবে এর মাঝেও চমক দেখিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। নৌকা প্রতীক না পেয়েও দেশজুড়ে জয় লাভ করেছেন ষাটটিরও বেশি আসনে।

আর পরাজয়ের তালিকায় রয়েছেন হেভিওয়েট বেশ কয়েকজন প্রার্থীও।

যেখানে আলোচিত নাম জাসদের হাসানুল হক ইনু। সাবেক এ তথ্যমন্ত্রী কুষ্টিয়া ২ আসন থেকে এবারও নৌকা প্রতীকে দাঁড়িয়েছিলেন। ট্রাক প্রতীকের কামরুল আরেফিনের কাছে ২৭ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন এ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।

প্রথমবারের মতো আসন হাতছাড়া করেছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জুও। জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান হওয়া স্বত্তেও নৌকা প্রতীক নিয়ে হেরে গেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দীন মহারাজের কাছে।

প্রথমবার হারের মুখ দেখেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। টাঙ্গাইল ৮ আসন থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত অনুপম শাহজাহান।

এদিকে এক বাদশাহ হেরে গেছেন আরেক বাদশাহর কাছে। রাজশাহী ২ সদরে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান বাদশা কাঁচি প্রতীক নিয়ে জয় পেয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাকে বিরূদ্ধে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ আরেও একবার হেরে গেছেন নিক্সন চৌধুরির কাছে। ফরিদপুর ৪ আসন থেকে ২৩ হাজার ৯৬৯ ভোটের ব্যবধানে ঈগল প্রতীক নিয়ে জয় লাভ করেছেন নিক্সন, টানা তৃতীয়বার।

হবিগঞ্জ ৪ আসনে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন প্রথমবারেই বাজিমাত করেছেন। ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রায় এক এক লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন সাবেক বিমান প্রতীমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ মাহবুব আলীকে

অঘটনের শিকার আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পদক আব্দুস সোবহান গোলাপ। মাদারীপুর তিন আসন থেকে হেরে গেছেন ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়াই করা তাহমিনা বেগমের কাছে।

আওয়ামীলীগের ছেড়ে দেয়া ঢাকা ১৮ আসন থেকে ভরাডুবি হয়েছে জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরীফা কাদেরের। মাত্র ছয় হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন শেরীফা। এই আসন থেকে কেতলির খসরু চৌধুরী নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন।

মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর, হরিরামপুর ও সদরের একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের জাহিদ আহমেদ টুলুর কাছে হেরেছেন তিনি।

এবার নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলো ১১ কোটি ৯৭ লাখ। এর মধ্যে ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন পুরুষ, ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন নারী এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৮৫২। মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ১০৩টি। ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২টি।

ইসির দেওয়া তথ্যমতে, নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে ২৯৯ আসনে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নওগাঁ-২ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। নির্বাচনে ২৮টি দল অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৫৩৪ জন এবং স্বতন্ত্র ৪৩৬ জন। নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ২৬৬ জন প্রার্থী ছিল আওয়ামী লীগের। এ ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬৫ জন প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৩৫ জন প্রার্থী রয়েছেন ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আসা তৃণমূল বিএনপি।

এদিকে বিএনপিসহ ৬০টি দল নির্বাচন বর্জন করেছে। দলটি সরকার পতনের এক দফা দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে সফলতা না পেয়ে নির্বাচনের দুই মাস আগ থেকে হরতাল-অবরোধের পথ বেছে নেয়। এতে সরকারকে চাপে ফেলতে না পেরে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে গত ২০ ডিসেম্বর ‘অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেয় দলটি। পাশাপাশি সরকারকে সকল প্রকার কর, খাজনা, পানি, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ বিল দেওয়া স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায় দলটি।




বরিশালের ৬টি আসনে জয়ী হলেন যারা

বরিশাল অফিস :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে নৌকা ও একটি আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। রবিবার (৭ জানুয়ারি) রাতে জেলা রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

জানা গেছে, বরিশাল-১: (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) নির্বাচনী এলাকায় নৌকা মার্কার প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী পেয়েছেন ৪ হাজার ১২২ ভোট।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে মহাজোটের প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ২২ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ঈগল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী একে ফাইয়াজুল হক রাজু পেয়েছেন ৩১ হাজার ৩৯৭ ভোট।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ায় ওই আসনের লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু ৫১ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আতিকুর রহমান পেয়েছেন ২৪ হাজার ৬২৪ ভোট।

বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনের ঈগল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ ১ লাখ ৬১ হাজার ৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি জাতীয় পার্টির লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী মোঃ মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৪৫ ভোট।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম ৯৭ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ সালাহউদ্দিন রিপন পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৭০ ভোট।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের মোট ১১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ঘোষিত ৯১টির ফলাফলে নৌকা মার্কার প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ মল্লিক পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শামসুল আলম চুন্নু ৯১টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৪৫৯ ভোট। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম।




বরগুনা-২ আসনে সুলতানা নাদিরা নির্বাচিত

বরিশাল অফিস :: বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনে সুলতানা নাদিরা নৌকা প্রতীকে ৪৬ হাজার ৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রার্থী নোঙ্গর প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) মনোনীত প্রার্থী দলের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ড. আব্দুর রহমান খোকন পেয়েছেন ১ হাজার ২৭ ভোট।

তাছাড়া ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান ৫১৫ ভোট, একতারা প্রতীকে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক ২০৮ ভোট, হাতুড়ি প্রতীকে ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন ৯০ ভোট,সোনালী আঁশ প্রতীকে তৃণমূল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান লিটন ৮৪ ভোট ও ফুলের মালা প্রতীক পেয়েছেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম ৭৬ ভোট পান।




শেষ হলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। রোববার সকাল ৮টা থেকে দেশজুড়ে ৪২ হাজার ১০৩টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত




ভোট স্বাভাবিক হবে না, সেই আবহ তৈরি করা হচ্ছে : জিএম কাদের




ভোট বর্জনকারীদের ভোটাররা বর্জন করেছে : ওবায়দুল কাদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বসুরহাট পৌরসভার এক নং ওয়ার্ডের বড় রাজাপুর গ্রামের উদয়ন প্রি ক্যাডেট একাডেমি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন তিনি। এর আগে সকাল ১০টায় তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করে ভোটকেন্দ্রে আসেন।



অল্প অল্প ভোট পড়ছে: সিইসি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের প্রত্যেকটা ভোটকেন্দ্রে অল্প অল্প ভোট পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি।

রোববার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মনিটরিং সেল পরিদর্শন করে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

দেশের ২৯৯ আসনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। দেশের ৪৪ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৮টি দল ভোটে অংশ নিচ্ছে। বিএনপিসহ সমমনা ১৬টি রাজনৈতিক দল ভোট বর্জন করেছে।

অন্যদিকে, নরসিংদী-৪ আসনের ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট বাতিল ও কিশোরগঞ্জ -৬ আসনে বধুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে

মনিটরিং সেল পরিদর্শন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘মাত্র শুরু হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি আশা করি আরো বাড়বে। প্রত্যেকটা সেন্টারে আমি খোঁজ নিয়েছি। ভোট হয়েছে অল্প অল্প। কোথাও ২৫টি কোথাও ৪০টি।’

হরতাল ও সহিংসতার কারণে ভোটে প্রভাব পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারবো না। আমরা শুধু ভোটটা ম্যানেজ করছি। ভোটাররা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে সে ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করবো না।’

সিইসি যে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন সেই কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আসলে মনে হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিপক্ষ প্রার্থী যারা তাদের পোলিং এজেন্ট দেওয়ার সামর্থ্য নেই।

পোলিং এজেন্টের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, আমরা খুব জোর দিয়ে বলেছিলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট হতে হলে কেন্দ্রে অবশ্যই প্রত্যেকটা প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট থাকতে হবে। আমি যেগুলো পেয়েছি সবাই একই দলের। বাদ-বাকি প্রার্থীদের কোনো লোকজন দেখি নাই।




পটুয়াখালীতে নাব্য সংকট চরমে, ঝুঁকি নিয়ে চলছে নৌযান

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর নৌপথ ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুটে নাব্য সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌ চলাচল।
জেলার বিভিন্ন নদীতে জেগে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য ডুবোচর। ভাটার সময় এসব নৌ চ্যানেল দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নৌযান চলাচল করে। নৌযান নিয়ে প্রায়ই আটকে পড়ে ডুবোচরে। তখন নিরুপায় হয়ে অপেক্ষা করতে হয় জোয়ারের। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। পটুয়াখালী টার্মিনালের অবস্থাও বেহাল।

পটুয়াখালী নদীবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-পটুয়াখালী-গলাচিপা নৌপথে কবাই থেকে কারখানা, ঝিলনার মোড়ে টেকের চর, রৈহালিয়-লাউকাঠি নদীর মোহনা হতে পটুয়াখালী টার্মিনাল হয়ে লাউকাঠি খেয়াঘাট চ্যানেলে, লাউকাঠি নদীর মোহনা হতে জৈনকাঠি মোড় ও ভুরিয়া লঞ্চঘাট হতে কলাগাছিয়া লঞ্চঘাট পর্যন্ত ডুবোচর থাকায় বিআইডব্লিউটিএ বরাবর ড্রেজিংয়ের জন্য পটুয়াখালী নদীবন্দর থেকে আবেদন পাঠানো হয়েছে।

এমভি ছত্তার খান-১ লঞ্চের মাস্টার আবদুল মালেক জানান,পটুয়াখালী-ঢাকা নৌপথে ডুবো চরের কারণেই যত সমস্যা। সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছুতে না পারায় যাত্রীদের দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায়ই ডুবো চরে আটকে যায় লঞ্চ। জোয়ার না আসলে গন্তব্যে যাওয়া যায় না।  আমরা নৌ পরিবহন বরাবরে ডুবো চরে পানির পরিমাণ ও স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছি। তাই ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুটে লঞ্চ নিয়ে ঠিকমতো আসা-যাওয়া করা যাচ্ছে না। আর পটুয়াখালী টার্মিনাল ঘাটের অবস্থা বেহাল। জোয়ার না আসলে টার্মিনাল থেকে লঞ্চ ছাড়া যাচ্ছে না। টার্মিনাল থেকে লঞ্চ ছাড়ার সময় সাড়ে ৫ টা। কিন্তু অনেক সময় লঞ্চ সন্ধ্যা ৭টায় ছাড়তে হয়। অনেক যাত্রীদের পরীক্ষা থাকে, অফিস থাকে। তাদের সময় মতো পৌঁছে দিতে না পারলে যাত্রীদের কথা শুনতে হয়। বিষয়টি যদি সংশ্লিষ্ট দফতর নজরে না নেয় তাহলে ডুবো চরের সমাধান হবে না।

নৌপথযাত্রী নোমান জানান, পটুয়াখালী থেকে ঢাকা যাওয়ায় উত্তম মাধ্যম লঞ্চ। কিন্তু শীতের সময় নদীতে অসংখ্য ডুবোচর সৃষ্টি হয়। আর এতে প্রায়ই লঞ্চগুলো ডুবো চরে আটকে পড়ে। ফলে আমরা সময় মতো গন্তব্য স্থলে পৌঁছুতে পারি না। দ্রুত ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা নিলে যাত্রীরা হয়রানির স্বীকার হবে না। স্বাভাবিক গতি আসবে নৌরুট গুলোতে।

এমভি প্রিন্স আওলাদ ৭ লঞ্চের মাস্টার ইসরাফিল জানান, কারখানা ও ঝিলনা মোড় পার হওয়া অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। পটুয়াখালী টার্মিনাল থেকে ১০ হাত পরিমাণ পেছনে গেলে চরে আটকে পড়ে লঞ্চ একদিকে কাত হয়ে থাকে। এতে যে কোনও মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নৌপথে অনেক জায়গায় বয়া, মার্কার ও সিগন্যাল বাতি নাই। ডুবো চরের স্থানে কোনও লাইটিং বাতি নেই। বাতি থাকলে আমরা বুঝতে পারতাম যে এ স্থানে ডুবোচর আছে। আমাদের আসলে ধারণা করে লঞ্চ চালাতে হয়। নৌমন্ত্রীর কাছে আবেদন যে চরগুলো অতি দ্রুত ড্রেজিং ও নৌপথ চিহ্নিত করে দেওয়া হোক।

পটুয়াখালী নৌবন্দর কর্মকর্তা খাজা সাদিকুর রহমান জানান, ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুটের বিভিন্ন পয়েন্টে নাব্যতা সংকটের কারণে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে নদীগুলাকে নাব্য সংকট থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিং করতে ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন যায়গায় ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খুব দ্রুত নদী পথের নাব্য সংকট সমাধান হবে।

নদীবন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবু বাকের সিদ্দিক জানান, যেখানে যেখানে নাব্য সংকট রয়েছে সেখানে ড্রেজিং করা হচ্ছে। পটুয়াখালী টার্মিনাল ঘাটে অতি শিগগিরই ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হবে।