বিরোধী দলীয় নেতা-উপনেতা-চিফ হুইপ পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত করল জাপা




প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় শেখ হাসিনাকে ইইউয়ের অভিনন্দন




নির্বাচনে নিয়ে টিআইবির রিপোর্ট অসত্য: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

চন্দ্রদীপ নিউজ: তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেছেন, নির্বাচনে নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) রিপোর্ট অসত্য। তাদের তথ্য গোজামিলে ভরা ও বিভ্রান্তিকর।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ করে বলেন, আন্তর্জাতিক কোনো জার্নাল তাদের এই গবেষণা প্রকাশ করবে না। যদি প্রকাশ করে তাহলে প্রমাণ হবে তাদের এই গবেষণা সঠিক। এই গবেষণায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, তারা মানুষের মতামতকে তথ্য হিসেবে দেখিয়েছে। ৪২ হাজার কেন্দ্র থেকে মাত্র ৫০টি কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে পুরো নির্বাচন ঘিরে তৈরি রিপোর্ট কখনো সঠিক হতে পারে না।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, এত অল্প কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে কি করে এমন রিপোর্ট প্রকাশ করা সম্ভব?




নেতানিয়াহু নাকি এরদোগান এসময়ের হিটলার?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : গত বছরের ডিসেম্বরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান নেতানিয়াহুর উদ্দেশে বলেছিলেন,‘হিটলারের সঙ্গে আপনার পার্থক্য কী?…হিটলার যা করেছেন, আপনি কি কোনো অংশে তার কম কিছু করেছেন?’ সূত্র: আলজাজিরা।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি হত্যার বিচারও হবে বলে জানিয়েছিলেন।  ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ কথা শুনে চুপ ছিলেন না। তিনি প্রতিউত্তরে বলেছিলেন, ‘ আপনিও তো কুর্দিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছিলেন? আপনিও তো সেমেটিকবিরোধী।

আপনি কেনিএ যুগের হিটলার নন? সূত্র: হাফিংটনপোস্ট।

এই বাকযুদ্ধের পর কিছুটা পরষ্পরকে আক্রমণ থেমে এলেও মুসলিম বিশ্বের অনেকে মনে করছেন,ইসরায়েল প্রশ্নে তুরস্ক চরম অবস্থান নেবে। ফিলিস্তিনিদের পাশে তুরস্ক দাড়াবে শক্তিশালী ভুমিকায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

১৪ জানুয়ারি ছিল গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ১০০ দিন। এদিনে আঙ্কারা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগে থেকে নির্ধারিত আঙ্কারা সফর বাতিল করেন। তেল আবিবে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ডেকে আনেন। পাইপলাইনের মাধ্যমে ইসরায়েলে গ্যাস সরবরাহের যে আলোচনাটি থেমে আছে, সেটা কীভাবে চালু করা যাবে, তা নিয়ে সলাপরামর্শ করা হয়। এই একটি ঘটনায় বোঝা যায়, বাণিজ্যের প্রশ্নে ইসরায়েলের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্ক ছেদে বিশ্বাসী নয় তুরস্ক ।

এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে তা ফিলিস্তিনিদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এমনকি ২০১০ সালে ইসরায়েলি সেনারা মাভি মারমারা গণহত্যা করার পরও আঙ্কারা তেল আবিবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুরোপুরি ছেদ করেনি।

ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য না করার জন্য অনেকে আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু তুরস্ক সেই আহ্বানে সাড়া দেবে বলে মনে হয় না।

এরদোগান চান যুদ্ধ চলুক, তিনি মুসলিম বিশ্বের পক্ষে কথা বলবেন আবার তুরস্কের ব্যবসাটাও চালিয়ে যাবেন। বড়ো কথা শান্তি স্থাপকের ভুমিকায় তিনি নিজেকে রাখতে চান।

মিডলইস্ট আই’তে তুরস্কের সাংবাদিক রাগিপ সয়লুর লেখা প্রতিবেদন অবলম্বনে




মালদ্বীপের মুইজ্জুর ভারতবিরোধিতার খুঁটির জোর কোথায় ?

চীনপন্থী বলে পরিচিতি আছে মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর। নির্বাচিত হওয়ার পর কয়েক মাসে তাঁর বক্তব্য ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তে এর প্রতিফলন মিলেছে। ভারতের বিরুদ্ধে জোরালো মন্তব্য ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি। মুইজ্জুর খুঁটির জোর কোথায়- এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে ভারত ও চীনের গণমাধ্যমগুলো। ভাষান্তর করেছেন মোহাম্মদ খান

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই মুইজ্জু মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সেনাদের সরিয়ে দুই মাসের সময় বেঁধে দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে হাইড্রোগ্রাফিক চুক্তিও বাতিল করেছে এই দ্বীপদেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাক্ষা দ্বীপ সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সরকার তো বটেই জনগণের মধ্যেও সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুইজ্জুর চীন সফরের পর ভারত-মালদ্বীপ সম্পর্ক নিয়ে আরো নতুন করে ভাবছেন বিশ্লেষকরা।

মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিবেচনায় তাঁদের ধারণা, মুইজ্জু তাঁর পূর্বসূরির ভারতঘেঁষা নীতি থেকে বেরিয়ে আসবেন। অবশ্য এরই মধ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম স্লোগানই ছিল ‘ভারত হটাও’। ভারতীয় বিশ্লেষকদের অনুমান, মালদ্বীপের পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেস ও প্রগ্রেসিভ পার্টির জোট সরকার সামনের দিনগুলোতে চীন ঘেঁষা নীতিই অনুসরণ করবে।

জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মুইজ্জু চীন সফরে যান। সেখানে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ অবকাঠামো ও পর্যটন খাত নিয়ে সরকার-সরকার সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে চীন-মালদ্বীপ অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কর্মপরিকল্পনা স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি বেল্ট অ্যান্ড রোড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনগণের জীবিকা, সবুজ উন্নয়ন এবং ব্লু ও ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ে সহযোগিতার নথিপত্রও স্বাক্ষরিত হয়।

গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রচারের সময় মোহাম্মদ মুইজ্জু অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ দেশে ভারতের প্রভাব বাড়াচ্ছেন। সে সময় মুইজ্জু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি দেশে ভারতের প্রভাব কমাবেন। তারই ধারাবাহিকতায় মালদ্বীপ থেকে ভারতের সেনা সরিয়ে নেওয়ার আল্টিমেটাম, হাইড্রোগ্রাফিক সমীক্ষা চুক্তি বাতিল এবং মুইজ্জুর চীন সফর।

মালদ্বীপের জনগণের মধ্যেও ভারতবিরোধী মনোভাব বেশ স্পষ্ট। তার একটি উদাহরণ হলো—মালদ্বীপের রাজধানী মালের কাছে উথুরু থাইলাফালহুতে ভারতের সহায়তায় নির্মাণাধীন একটি ডকইয়ার্ড। এই বিষয়ে মালদ্বীপের জনমনে ধারণা, সেখানে ভারত ডকইয়ার্ডের আড়ালে মূলত একটি নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে।

সর্বশেষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদৌলতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে করা ‘কটূক্তির’ পরিপ্রেক্ষিতে মালদ্বীপের ৩ মন্ত্রীর বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টিও ভালোভাবে নেয়নি মালদ্বীপের জনগণ। বিষয়টি ভারতের বিপরীতে মালদ্বীপের জনগণকে বিরূপ করে তুলেছে। বিপরীতে ভারতীয় সাধারণ জনগণও মালদ্বীপ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন। স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে, সরকার-সরকার তো বটেই জনগণের পর্যায়েও দুই দেশের সম্পর্ক আর আগের জায়গায় নেই।

ভারতের সঙ্গে যখন মালদ্বীপের বিরোধ তুঙ্গে, ঠিক তখনই চীনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে মসৃণ গতিতে। এ বিষয়ে মুইজ্জুর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, তিনি চীনে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ব্যাপক সম্মানিত হয়েছেন এবং চলতি বছর প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে চীন সফর করার পর বেইজিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে যে গুরুত্ব দিচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ পেয়েছেন।

বৈঠকে মুইজ্জু চীনা প্রেসিডেন্টকে বলেন, চীন তাঁর দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মূল্যবান সহায়তা প্রদান করেছে। মালদ্বীপের জনগণ বিআরআই থেকে অনেক উপকৃত হয়েছে, মালদ্বীপ-চীন মৈত্রী সেতুকে দুই দেশের মধ্যে বন্ধনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের কথা থেকে স্পষ্ট, ভারতের পরিবর্তে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতেই আগ্রহী দেশটি এবং চীনা সমর্থন তাঁর ভারতবিরোধী মনোভাবের অন্যতম খুঁটি।

চীনের তরফ থেকে মুইজ্জু ও তাঁর সরকারকে চীনের অকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত হয় সির বক্তব্য থেকে। মুইজ্জুর সঙ্গে বৈঠকে সি বলেছিলেন, চীন মালদ্বীপের সঙ্গে সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে, উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় শক্তিশালী করতে, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার এগিয়ে নিতে এবং চীন-মালদ্বীপের বন্ধুত্বের এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে প্রস্তুত। এই নতুন মানদণ্ডের একটি শর্ত যে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে নেওয়া তা সাদা চোখেই বোঝা যায়।

মালদ্বীপে চীনের প্রভাব বাড়ানোর ভূকৌশলগত গুরুত্বও আছে। ভারত মহাসাগরে চীনের জন্য মালদ্বীপ কৌশলগত দিক থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য মহাসড়কের এমন এক অবস্থানে আছে, যেখান দিয়ে চীনের জ্বালানি তেলের ৮০ শতাংশই পরিবাহিত হয়। ফলে চীন এই সরবরাহ লাইনে বরাবর নিজের উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করবে তাই স্বাভাবিক।

তবে চীনের জন্য বিষয়টি লাভজনক হলেও এই অবস্থা অবশ্যই ভারতের জন্য উদ্বেগজনক। দলমত-নির্বিশেষে মালদ্বীপ যে ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়টি স্বীকার করবেন। যেমনটা স্বীকার করেছেন, ক্ষমতাসীন বিজেপি প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শশী থারুর।

মালদ্বীপে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করে শশী থারুর বলেছেন, ‘চীন যে আমাদের চারপাশ ঘিরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রতিবেশী প্রতিটি দেশে সঙ্গে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাব দৃশ্যমান।’

তথ্যসূত্র: গ্লোবাল টাইমস, দ্য ওয়্যার, এনডিটিভি ও চায়না ডেইলি




উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে আধিপত্য ধরে রাখছে ইরান

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে বুধবার সকালে গুরুতর অভিযোগ এনেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ বিমান হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে দুই শিশু নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ সামনে আনার পর প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ পাকিস্তানের ভূখণ্ডে কেন হামলা চালাল ইরান? মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আগে থেকেই উত্তপ্ত।

এর মধ্য কী এমন ঘটল যে তেহরান প্রতিবেশী দেশের ওপর হামলা চালিয়ে বসল?

কয়েক দিন ধরে ইরাক ও সিরিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে ইরান। তেহরানের দাবি, ‘ইরানবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ বিরুদ্ধে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও সিরিয়ার পর একই কারণে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ইরানের এই হামলা চালাল।

যদিও ‘বিনা উসকানিতে আকাশসীমা লঙ্ঘনের’ ঘটনায় ক্ষোভ জানাতে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে পাকিস্তান সরকার।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এসব কর্মকাণ্ডের পেছনের কারণ জানতে হলে বুঝতে হবে ইরানের বিগত বছরের রাজনৈতিক কলাকৗশল। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে ওপেন কানাডায় প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বিষয়টি উঠে আসে।

কী করছে ইরান?

গেল বছরের শুরুতে সৌদি আরব-ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চুক্তির মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করে তেহরান। এটি আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল। যেখানে বিবাদমান সরকারগুলো বছরের পর বছর নিজেদের মধ্যকার তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সাংঘর্ষিক সম্পর্ক দূরে সরিয়ে দিয়ে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ইরান এবং এর সহযোগীরা এই নতুন অবস্থা থেকে সবচেয়ে বেশি ফায়দা লুফে নিচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে, অনেক আরব সরকার এখন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে জোরদার করতে চাইছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, আরব সরকারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাই করে নিতে অর্থপূর্ণ কোনো ছাড়ই দেয়নি তেহরান। কিন্তু তবুও যুদ্ধপ্রবণ এই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ধীরে ধীরে তেহরানের সাথে সম্পর্ক গড়ার পক্ষে।

সামরিক শক্তি
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার বা জিএফপির র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বে সামরিক শক্তির তালিকায় ইরানের অবস্থান বর্তমানে ১৪-তে।  প্রয়োজনে সেনাবাহিনীতে সার্ভিস দিতে পারে সেরকম জনসংখ্যা আছে ইরানের ৪ কোটি। ইরানের সেনাবাহিনীর অ্যাক্টিভ মেম্বার রয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার। ইরানের আছে ৩ লাখ ৫০ হাজার রিজার্ভ সেনার বিশাল বহর।

এয়ার পাওয়ারেও ইরানের ফাইটার এয়ারক্রাফট আছে ১৯৬টি অন্যদিকে হেলিকপ্টার রয়েছে ১২৬টি। ইরানের হাতে আছে ৪ হাজার ৭১টি ট্যাংক।  মোবাইল রকেট প্রজেক্টর আছে ইরানের ১ হাজার । নৌ-শক্তিতেও এগিয়ে ইরান। তেহরানের কাছে রয়েছে ১৯ থেকে ২৪টি সাবমেরিন। ইরানের আছে ৫টি ফ্রিগেটও। আর তেহরানের ১টি মাইন ওয়ারফেয়ারও আছে।

নিজস্ব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে ইরান। সেই সঙ্গে ইরাক, সিরিয়া, লেবানন এবং ইয়েমেনে তার প্রক্সি বাহিনীর নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার মাধ্যমে এই অঞ্চলে তার প্রভাব বলয়কে আরও গভীরতর করে যাচ্ছে। এসব সহযোগী ও মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো হরহামেশাই এই দেশগুলোকে অস্থিতিশীল রাখতে নেপথ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে বিষয়ক পশ্চিমা বিভিন্ন বিশ্লেষক জেনারেল কাশেম সোলাইমানির মৃত্যুর পর বলছিলেন, সোলাইমানি যুগের পরে ইরান আর সেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অনন্য দেশে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা তাদের বিশ্লেষণ ভুল প্রমাণ করছে।

পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন হচ্ছে?
পরিস্থিতি যাই হোক, সৌদি আরবসহ বাহরাইন, জর্ডান এবং মিশর এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব বলয় স্বল্পমাত্রায় মেনে নিয়েছে। গত বছর (২০২৩ সালে) ইরান কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সফলতা অর্জন করে। এদের একটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফল বন্দী বিনিময়  এবং অন্যটি ইউক্রেন যুদ্ধের আড়ালে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা গভীর করেছে ইরান।

সেই সঙ্গে পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানানো ব্রিকস জোটের শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ পায় ইরান। এসব বিবেচনায় ২০২৩ সালকে ধরা হচ্ছে বৈশ্বিক পর্যায়ে তেহরানের কূটনৈতিক সফলতার বছর। তেহরানের এসব অর্জনগুলোকে বৈদেশিক নীতির সাফল্য হিসেবে ধরা হলেও এসব অর্জনই তার প্রতিবেশী এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতাকে পরোক্ষভাবে উসকে দিচ্ছে।

ইরানের ভবিষ্যত পদক্ষেপ কী হতে পারে সেগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে চাইলে প্রথমতই জানা থাকা উচিত দেশটির বৈদেশিক বা কূটনীতির ভিত যেসব মূল নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের ভেতর এবং বাইরে থেকে সব ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে শাসনগোষ্ঠীকে সুদৃঢ়ভাবে অবস্থান টিকিয়ে রাখতে হবে।

বছরের পর বছর ধরে, তেহরানের শাসকদল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে এবং হচ্ছে। সেখানে তারা মুখোমুখি সংঘাত এড়িয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তা ভিন্ন কৌশলে মোকাবিলা করে।

ইরানের এই কূটকৌশলের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করা যা ইরানের শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে থাকে। এই ভারসাম্য তত্ত্বকে কূটনীতির ভাষায় বলা হয় ব্যালেন্স অফ পাওয়ার। এই ব্যবস্থায় সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে প্রতিপক্ষকে এমন স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয় যে তার মূলভূখণ্ড আক্রান্ত হলে পাল্টা আক্রমণ হবে সর্বাত্মক যুদ্ধ যেখানে ব্যবহার হবে পারমাণবিক বোমা।  তেহরানের কূটকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারটি হচ্ছে প্রতিবেশী দেশে সাম্প্রদায়িকতাকে উত্সাহিত করা এবং স্থানীয় সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোকে লালন করা যারা সংকটকালে ইরানের স্বার্থে লড়বে।




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের রেজিম চেঞ্জ: মেনন

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বরিশাল-২ আসনের নবনির্বাচিত রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের রেজিম চেঞ্জ এবং বিএনপি জামাতের ষড়যন্ত্র জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রতিহত করেছে, তারা মাটিতে শুয়ে পরে বলছে আমরা শুয়ে পরি নাই,তাদের কথা অক্ষমের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বরিশাল জেলা আয়োজিত ঐক্যবন্ধ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, তেভাগা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ কমরেড অমল সেনের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন,অমল সেনের আদর্শকে ধারণ করে লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পার্টিকে এগিয়ে নিতে পার্টি কমরেডসদের প্রতি আহবান জানান। স্মরণসভার শুরুতেই কমরেড অমল সেনের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে পার্টি নেতৃবৃন্দ রেড স্যালুট প্রদান করেন।

বরিশাল জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড নজরুল হক নীলুর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ টিপু সুলতানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পার্টির প্রবীণ জেলা নেতা কমরেড অধ্যাপক বিশ্বজিৎ বাড়ৈ,জেলা নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক ফিরোজ,অধ্যাপক মোতালেব হাওলাদার, জাকির হোসেন,শামিল শাহরোখ তমাল প্রমুখ।




সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।




‘বাংলাদেশের সঙ্গে শিগগিরই অংশীদারত্ব চুক্তি করবে ইইউ’

চন্দ্রদীপ নিউজ: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের সঙ্গে খুব শিগগিরই একটি অংশীদারত্ব চুক্তি করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সংস্থাটির রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। তিনি বলেন, এই চুক্তির ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে চার্লস হোয়াইটলি বলেন, আমাদের মধ্যে খুবই ফলপ্রসূ ও প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে। নিরাপত্তাসহ নানা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন, ইন্টারনেট সিকিউরিটি, অর্গ্যানাইজড ক্রাইম, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক, নিরাপত্তা ও প্রত্যাবাসনের দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি, যার মূল ভিত্তি গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার। সামনে আমরা অংশীদারত্ব সহযোগিতা চুক্তি করবো।

বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, মূলত দুটি কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায় ইইউ। এক. বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দুই. ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান।

তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে আমরা ইইউর পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়েছি। আমরা সরকারকে স্বাগত জানিয়েছি।




নাশকতার মামলায় ফখরুল-খসরুর জামিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাজধানীর পল্টন থানায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দুই মামলায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।