জরুরি সভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ



চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬ উপদেষ্টার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। রোববার (২১ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়েছেন ৬ জন। এদের মধ্যে পাঁচজন আগেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন। এবার নতুন করে উপদেষ্টা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
আগেরবার ছিলেন, এবারও উপদেষ্টা হলেন যারা— ড. মসিউর রহমান, গওহর রিজভী, তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী, সালমান এফ রহমান ও মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হয়েছেন ড. মসিউর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা হয়েছেন ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা হয়েছেন ড. গওহর রিজভী, বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা হয়েছেন সালমান ফজলুর রহমান, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা হয়েছেন ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি রাতে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ৬ জনকে উপদেষ্টা নিয়োগের তথ্য নিশ্চিত করেন। সেসময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেসের ক্ষমতাবলে এই ৬ উপদেষ্টাকে নিয়োগ দিয়েছেন। উপদেষ্টারা মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতনভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে পেরেছি। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটের মাধ্যমে আমাদের আবার ক্ষমতা বা সেবা করার সুযোগ দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৯৬ সাল থেকে যখন সরকার গঠন করেছি সেখান থেকে একটা প্রচেষ্টা, আর্থসামাজিকভাবে বাংলাদেশকে উন্নত করা। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। বাংলাদেশের মানুষ যেন বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে পারে, সে পদক্ষেপ নেওয়া।
শেখ হাসিনা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের যদি প্রসার না ঘটে, কোনো দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা দিয়েছিলাম, আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট একোয়া আমরা উৎক্ষেপণ করেছি। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা। আমরা প্রমাণ করেছি, বাংলাদেশের জনগণকে কেউ চ্যালেঞ্জ দিয়ে দাবায় রাখতে পারবে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস-চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুব আলম।

শনিবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুর নগরীর সেনপাড়ার স্কাই ভিউ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিন দিনের ব্যক্তিগত সফরে শনিবার রংপুর এসে প্রথমে পল্লী নিবাসে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত করেন জিএম কাদের। পরে স্কাই ভিউতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলেন।
এ সময় বিরোধী দলে থাকা প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, আমরা গত সংসদে প্রধান বিরোধী দল ছিলাম। দেশ ও জাতির কল্যাণে সবসময় আমরা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছি। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা এবং আমাদের সুপারিশসহ অনিয়ম-দুর্নীতি ও জনগণের পক্ষে যেসব দাবি উত্থাপন করার কথা সেগুলো আমরা তুলে ধরেছি। এখনো আমরা সেই রাজনীতি করছি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদে প্রধান দুটি দলের মধ্যে একটি আওয়ামী লীগ। নৌকা মার্কা নিয়ে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠন করেছে। তারপরই লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির আমরা ১১ জন সংসদ সদস্য আলাদা আরেকটি রাজনৈতিক দল। আর যারা রয়েছেন তারা আওয়ামী লীগের সহমতের আওতার ভেতরে। সেই কারণে আমরা মনে করি সরকারের বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, সরকার যদি জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান নাও দেয় তারপরও দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকারের বিরুদ্ধে একমাত্র দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব থাকবে সরকারের সমালোচনা করা। জনগণের চোখে সরকারের যেসব ভুল-ত্রুটি ধরা পড়ছে সেগুলোকে সংসদে তুলে ধরা এবং সেগুলো সম্পর্কে সুপারিশ দিয়ে সরকারকে সহায়তা করে সঠিক পথে চালনা করা। কাজেই যে কোনো পর্যায়েই আমাদের সিদ্ধান্ত হলো আমরা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব। এই মুহূর্তে এটা বেশি জরুরি।

বরিশাল অফিস :: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি বলেছেন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশকে একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ এখন আর অবহেলিত দেশ নয় বাংলাদেশ এখন একটি উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশ ২ হাজার ৪১ সালের ভিতরে স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন।
নৌর্কা মার্কা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আয়োজনে শনিবার (২০ জানুয়ারি) বিকালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের সভাপতিত্বে বরিশাল নগরীর শহীদ মিনারে প্রঙ্গনে জনসাধারণের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
তিনি বলেন,আমরা বরিশালবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবো যতদিন পদ্মা নদীর উপরে থাকবে সেতু থাকবে। আজ আমরা দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ বরিশাল থেকে তিন ঘন্টায় ঢাকা যেতে পারছি। বরিশালের মানুষ কখনো ভাবি নাই যে বরিশালে পায়রা বন্দর হবে।এই পায়রা বন্দর বাংলাদেশের সাথে বিশ্ববাসীর সংযুক্ত করেছে। এখানে বিদেশি জাহাজ পায়রা বন্ধরে আসা শুরু করেছে। এই পায়রা বন্ধরের কারণে বরিশালে বিভাগীয় শহরে বিভিন্ন বিদেশীরা এসে অফিস করবেন। বরিশালের বিভিন্ন যুবকের কর্মসংস্থান হবে।
তিনি আরো বলেন, আগামী ছয় মাসের ভিতরেই ভোলা থেকে বরিশালে গ্যাস আসবে। আমরা আশা করতে পারি এই গ্যাসের কাজ সম্পূর্ণ হলে বরিশালের শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। অনেক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে। দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কথা চিন্তা করেন। আমাদের নতুন প্রজন্মের কথা চিন্তা করেন।
বরিশাল একটি বিভাগীয় শহর হলেও পাশের জেলা পটুয়াখালী থেকে আমরা উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছনে রয়েছি। আমরা আর পিছিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। আমরা বরিশালকে একটি আধুনিক শহর হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা বরিশাল সদরের গ্রাম গুলোকে শহরের রূপন্তিত করতে চাই।
ইতিমধ্যে বরিশাল শহরের জন্য ৫শত কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই কাজ শুরু হয়ে গেছে। আগামী ২ এক বছরের মধ্যে উন্নয়ন দৃশ্যমান দেখতে পারবেন। বর্তমান অবহেলিত বরিশালের ছবি তুলে আপনাদের ফোরে রেখে দেন। উন্নয়নের ফলে ২ বছর পড়ে আপনার এমন বরিশাল দেখতে পারবেন না। বরিশাল হবে একটি আধুনিক শহর।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখছেন সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ আর এই সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের সকলকে একাবদ্ধতা হয় মিলে মিশে কাজ করতে হবে। আমরা সকলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী কেউ যদি মনে করে আমরা নেতা হয়ে গেছি আপনারা ভুল করছেন তা কেউ হয়নি। নেতা হলো একজন বঙ্গবন্ধুর পরে সেটা দ্বিতীয় নেতা হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরে আর কোন নেতা নাই।
আমরা সকলেই কর্মী। কেউ যদি নিজেকে নেতা না মনে করে। আমরা কেউ সিংহ পুরুষ না আমরা কেউ দক্ষিণাঞ্চলের নেতা না সবাইনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। এই দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সকলকে একসাথে মিলেমিশে থাকতে হবে। বিএনপি জামাত যদি কখনো কিছু করে সেই আগুন লাগানো তাদের যে কর্মকাণ্ড আমাদের সকলকে একসাথে প্রতিহত করতে হবে।
এ সম তিনি বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দেশকে যেভাবে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আজকে সরকারি দল বিরোধী দল সবাই চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অন্য সরকার তো এভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার ওমহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, স্থানীয় ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিহতরা হলেন- উপজেলার নিজপাট লামাপাড়া গ্রামের জহুরুল মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহসান (২৬), নিজপাট তোয়াসীহাটি গ্রামের রনদিপ পালের ছেলে নিহাল পাল (২৫), নিজপাট পানিহারাহাটি গ্রামের আরজু মিয়ার ছেলে মেহেদী হোসেন তমাল (২৪) ও নিজপাট জাঙ্গালহাটি গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে সুমন আহমদ (২৫) ৷ নিহতরা সবাই জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে।
এদিকে এ ঘটনায় জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা য়ায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের সময় জৈন্তাপুর থেকে প্রাইভেটকার নিয়ে জাফলংয়ে যাচ্ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের ৪ কর্মী ৷ ৪ নম্বর বাংলাবাজার এলাকায় পৌঁছালে তাদের প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের নিচে পড়ে যায়।দুর্ঘটনার বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, নিহতরা সবাই তামাবিল স্থলবন্দরে যাচ্ছিলেন ৷ ৪নং বাংলাবাজার এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকার নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে পাঠান ৷ সিলেটে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও দুইজন মারা যান।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শনিবার (২০ জানুয়ারি) শহীদ আসাদ দিবস, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একটি দিন। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্রসমাজের ১১-দফা দাবি আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদ। ‘আজকের এদিনে আমি শহীদ আসাদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি’।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ আসাদ একটি অমর নাম এ কথা উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদের আত্মত্যাগ আন্দোলনকে বেগবান করে। জেল-জুলুম উপেক্ষা করে স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয় এবং গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। স্বৈরশাসক আইয়ুব ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন, পতন হয় স্বৈরশাসনের।
তিনি বলেন, ‘এ গণঅভ্যুত্থানের পথ ধরেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ও নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি শহীদ আসাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আইয়ামে জাহেলিয়াতে আরবরা ছিল প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত : মরুবাসী বেদুইন যাযাবর ও আরব উপদ্বীপের শহরবাসী। শহরবাসীর নগররাষ্ট্র, সরকার ও সংস্কৃতির অস্তিত্ব ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, মক্কাবাসীদের ‘দারুণ নদওয়া’ নামক City Hall (সম্মেলনকেন্দ্র) ছিল।
আরো ২১টি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেছেন ড. হামিদুল্লাহ।
যথা : ১) নদওয়া, ২) মশওরা, ৩) কিয়াদাহ, ৪) সেদানা, ৫) হিজাবা, ৬) সেকায়া, ৭) ইমারাতুল বাইত, ৮) ইফাদা, ৯) ইজাজাহ, ১০) নসি, ১১) কুব্বা, ১২) আন্নাহ, ১৩) রিফাদাহ, ১৪) আমওয়ালে মাহজরা, ১৫) ইসার, ১৬) এশনাক, ১৭) হুকুমাহ, ১৮) সেফারা, ১৯) ইকাব, ২০) বুয়া এবং ২১) হিলওয়া নুন নফর।
মদিনা সনদের গুরুত্ব : অন্যদিকে জনমত ও ন্যূনতম মানবিক মূল্যবোধে শান্তির লক্ষ্যে ৪৭টি শর্ত সংবলিত মদিনা সনদের ভিত্তিতে প্রিয় নবী (সা.) ‘ইসলামী রাষ্ট্রদর্শন’-এর সূত্রপাত করেন। ‘মদিনা সনদ’ হলো সংস্কৃতির Social contract, মানব-ইতিহাসের প্রথম Written constitution। মদিনা সনদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ‘Peace & Submission’ (শান্তি ও আনুগত্য-আত্মসমর্পণ)।
ফলে প্রিয় নবী (সা.) গোত্রপ্রধান শাসিত ১০/১১ লাখ বর্গমাইলের বেশি এলাকার ২৭৬টি দেশীয় রাজ্যকে একত্র করেন। তাঁর জীবদ্দশায়ই এ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রায় ১৯ লাখ বর্গমাইল এলাকায় বিস্তৃত হয়।
প্রিয় নবী (সা.) তাঁর শাসনব্যবস্থা ১০টি প্রদেশে বিভক্ত করে নিয়োগ করেন : আল-ওয়ালি (গভর্নর), আল-আমিল (কর আদায়কারী), আল-কাজি (বিচারক)। কেন্দ্রীয় প্রশাসনে প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন আবু বকর, ওমর, ওসমান ও আলী (রা.)।
খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) ছিলেন স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান। স্বভাব কবি জায়েদ বিন সাবিত (রা.) ছিলেন প্রিয় নবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত সচিব, প্রধান ওহি লেখক, রাষ্ট্রীয় পত্রলেখক, সভাকবি ও দোভাষী। হানজালা বিন আল রাবি ছিলেন প্রিয় নবী (সা.)-এর সিলমোহর ও প্রশাসনিক গোপন তথ্যাদির সংরক্ষক।
মহানবী (সা.)-এর মন্ত্রিসভার সদস্য :
প্রিয় নবী (সা.)-এর মন্ত্রিসভায় অন্যতম সদস্যরা ছিলেন—
১. জাকাত ও সদকার সংরক্ষণ : জুবায়ের বিন আল আওয়াম এবং জুহায়ির বিন আল সালত (রা.)।
২. খেজুর বৃক্ষের কর : হুজায়ফা বিন আল ইয়ামান (রা.)।
৩. রাষ্ট্রীয় হিসাব সংরক্ষণ : মুয়ান কিব বিন আবী ফাতিমা (রা.)।
৪. বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসূত্র রক্ষা : মুগিরা বিন শুবা ও হুসায়েন বিন নুমির (রা.)।
৫. সেচ ও আনসারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় : আবদুল্লাহ বিন আকরাম এবং আল বিন উকবা (রা.)।
প্রিয় নবী (সা.)-এর গভর্নরবৃন্দ
১. হাজরামাউত : জিয়াদ বিন লাবিদ। ২. নাজরান : আলী বিন আবু তালিব। ৩. ইয়েমেন : মুয়াজ বিন জাবাল। ৪. আল জানাদ : ইয়ালা বিন উমাইয়া। ৫. বাহরাইন : আলবিন হাজরানি।
অন্যান্য প্রদেশ হলো : মক্কা, তায়মা, বনুকিন্দা অঞ্চল, ওমান প্রভৃতি। (সূত্র : মুসলিম প্রশাসন ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ, অধ্যাপক ড. আলী আসগর খান প্রমুখ)।

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: আজ ২০ জানুয়ারি, শহীদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের আজকের এই দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তায় ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।
দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এটি তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ আন্দোলনে যোগ করে নতুন মাত্রা। বাঙালির স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়, যা পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদের আত্মত্যাগ ৬৯ এর আন্দোলনকে বেগবান করে। জেল-জুলুম উপেক্ষা করে স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয় এবং গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। স্বৈরশাসক আইয়ুব ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন, পতন হয় স্বৈরশাসনের।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদ আসাদ এ দেশের গণতন্ত্রপ্রেমী, মুক্তিকামী মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার আত্মত্যাগ সবসময় আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে প্রেরণা যোগাবে।

শেখ হাসিনাকে লেখা চিঠিতে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, ‘পুনরায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
‘জাতিসংঘ বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা সম্পর্ককে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে। যার মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি উদারতা এবং একটি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা।’
মহাসচিব গুতেরেস প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে আরও বলেছেন, ‘গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপে আপনার উপস্থিতি ও আপনার ওপর থাকা বিশ্বাসকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমি আশা করতে পারি, বৈশ্বিক সমস্যাগুলোতে আপনাকে পূর্বের ন্যায় পাব। যার মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামো।’
‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে জাতিসংঘ আপনার সরকারের সঙ্গে কাজ করতে বদ্ধপরিকর,’ যোগ করেন গুতেরেস।
গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২২৩ আসনে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১১টি আসন। বাকি ৬৫ আসনের মধ্যে ৬২টিতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আর জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও কল্যাণ পার্টি পেয়েছে একটি করে আসন।