উপজেলা নির্বাচনে নৌকা থাকছে না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কাউকে দলীয় প্রতীক নৌকা দেবে না বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।



আটবার সাংসদ আ স ম ফিরোজ, বাউফলবাসীর চাওয়া মন্ত্রী

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে নৌকার জয়জকার। স্বাধীনতার পর থেকে দশবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আ স ম ফিরোজ। যার মধ্যে আটবার নির্বাচিত হন প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ। এর মধ্যে চারবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও মন্ত্রীর আসনে স্থান হয়নি তার। স্বাধীনতার পর কোনো সরকারের আমলেই বাউফলে মন্ত্রী হননি কেউ।

বাউফল উপজেলার জনগণনের দাবি, জেলার সব আসনে বিভিন্ন সরকারের আমলে মন্ত্রী পেলেও বাউফল পায়নি। যার ফলে এবার আ স ম ফিরোজকে মন্ত্রী পরিষদে চান উপজেলার মানুষ।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর ৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন প্রয়াত আজিজ খন্দকার। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ১৯৭৯ সালে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে প্রথমবার নির্বাচিত হন আ স ম ফিরোজ। সেই ১৯৭৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নয়বার মনোনয়ন পান তিনি। নির্বাচিত হন সাতবার। শুধু ২০০১ সালে তিনি বিএনপির শহিদুল আলম তালুকদারে কাছে পরাজিত হন। আর ২০০৬ সালে দলীয় মনোনয়ন পেলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সাতবার নির্বাচিত হলেও চারবার (১৯৯৬, ২০০৮,২০১৪ ও ২০১৮) সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। বাকি তিনবার (১৯৭৯, ১৯৮৬ ও ১৯৯১) ছিলেন বিরোধী দলে।

দীর্ঘদিন প্রায় ৩৫ বছর এমপি হলেও মন্ত্রীপরিষদে স্থান হয়নি বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদের। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদে হুইপ ও ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৮ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে শেষ বাজেট অধিবেশেনে প্যানেল স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন  আ স ম ফিরোজ। ছিলেন সংসদীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতিও।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশমবারের মত নৌকার টিকেট নিয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৪১ ভোটের ব্যবধানে অষ্টমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আ স ম ফিরোজ।

 




সরকারদলীয় হুইপ হচ্ছেন মাশরাফিসহ ৫ জন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের হুইপ হচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি মাশরাফি বিন মুর্তজাসহ (নড়াইল-২) পাঁচ এমপি। সংসদ সচিবালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।



বরিশালে আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ফেসবুকে সরব

বরিশাল অফিস :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রচন্ড শীতের মাঝে সারাদেশের মতো বরিশালে বইছে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। জেলাজুড়েই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চলছে নির্বাচনী তোড়জোড়। কেউ কেউ এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করে জনগনের মনজয় করার চেষ্টা করছেন।

পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটছেন এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জেলা থেকে কেন্দ্রীর নেতাদের কাছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে শুরু হয়েছে লবিং ও তদবির। তুমুল প্রচারনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

অনেক প্রার্থী সাধারণ জনগনের সমর্থন পেতে এলাকায় ব্যাপক পোস্টারিংও করেছেন। তবে এবার আর দলীয় প্রতীকে নির্বাচন চাচ্ছেন না সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীরা। এমনকি অধিকাংশ সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দলীয় প্রতীকের বাহিরে নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী মার্চে সারাদেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যে চলতি মাসের শেষার্ধে প্রথমধাপের নির্বাচনের তফসলি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এ খবরেই বরিশালের দশটি উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা আটঘাট বেঁধে ক্ষমতাসীন দলেয় মনোয়ন পেতে লবিং ও তদবির শুরু করেছেন। সেক্ষেত্রে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি কিংবা প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিতে এখনো নির্বাচন ঘিরে কোন তৎপরতা দেখা যায়নি।

সূত্রমতে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনটি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মতো উন্মুক্ত রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে নৌকা প্রতীক থাকবে কি থাকবেনা তা নিয়ে দলের ভেতরে চলছে আলাপ-আলোচনা। একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ও সচেতন ভোটাররা জানিয়েছেন, স্থানীয় এ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক থাকলে নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবেনা। তাই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে নৌকা প্রতীকের বাহিরে থেকে সম্ভাব্য সকল প্রার্থীকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে। এরমাধ্যমে নির্বাচন যেমন গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তেমনি প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতাও প্রকাশ পাবে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, অধিকাংশ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যানদের ওপর আস্থা রাখতে চাচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা। তবে কয়েকটি উপজেলায় নতুন মুখের প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। আবার আওয়ামী লীগের কতিপয় সুবিধাভোগী নেতা অত্যন্ত সু-কৌশলে ভেতরে ভেতরে সংসদ সদস্যদের সাথে পাল্লা দিতে ষড়যন্ত্র করে দলের একাধিক নেতাদের সম্ভাব্য প্রার্থী করে ফেসবুকে প্রচারনা শুরু করেছেন। এমনকি কতিপয় সম্ভাব্য প্রার্থী সরকার দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে অর্থের মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলেও এলাকায় চাউর হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলায় এবার আওয়ামী লীগের নতুন মুখের প্রার্থী আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ও এর আগের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ওই উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু’র বিরুদ্ধে নৌকার বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। যেকারণে খোঁদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ওই আসনে দলীয় মনোনয়নে সম্ভাব্য চেয়াম্যান প্রার্থী হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীরা মহানগর যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুনের নাম জোরেশোরে প্রচার করছেন। সড়কপথে জেলার প্রবেশদ্বারের উপজেলা গৌরনদীতে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপি-জামায়াতের হাতে রাজপথে একাধিকবারের নির্যাতিতা নারী নেত্রী সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী’র পাশাপাশি এবার সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী ফেসবুকে প্রচারনা চালাচ্ছেন। তারা হলেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচএম জয়নাল আবেদীন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইটালী প্রবাসী কামরুল ইসলাম দিলীপ, উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মামুন মোল্লা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান।

সম্ভাব্য ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাজী মোস্তাফিজুর রহমান রনি, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন। আগৈলঝাড়া উপজেলায় এখন পর্যন্ত বর্তমান চেয়াম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রইচ সেরনিয়াবাতের বাহিরে কোন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ পায়নি। উজিরপুর উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সিকদার বাচ্চু ও সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল।

বানারীপাড়ার বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক। বাবুগঞ্জে বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল, সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান মৌরিন আক্তার আশা মনি।

মুলাদী উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান তারিকুল হাসান খান মিঠুর প্রতিদ্বন্ধী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুলাদী পৌরসভা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এইচএম আমিনুল ইসলাম নাগর। তিনি (নাগর) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি।

হিজলা উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ টিপু ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান একেএম মাহফুজ উল আলমের পাশাপাশি ওই দুটি উপজেলায় এবার শক্ত প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করার আভাস মিলেছে। বাকেরগঞ্জের তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ শামসুল আলম চুন্নু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে নৌকার প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন।

নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ওই আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যর সাথে তার বিরোধ চলে আসলেও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আবারও প্রার্থী হবেন।

পাশাপাশি ওই উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ফেসবুকে প্রচারনা চালাচ্ছেন সংসদ সদস্যর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা।

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ দল। তাই দলে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও বেশী। তবে জনসমর্থন, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বিচার বিবেচনা করে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে বলে আমরা শতভাগ বিশ্বাস করছি। পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হবে আমরা স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করবো।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। সদ্য সমাপ্ত সরকারের পাতানো দ্বাদশ নির্বাচনে বিশ্ব দেখেছে তাদের (আওয়ামী লীগের) দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে ব্যালটে সিলমারা হয়েছে। যা খোঁদ স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই অভিযোগ করেছেন। তাই এ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেনা।




দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল কে হচ্ছে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল কে হচ্ছে? নির্বাচনের ১৫ দিন পার হলেও বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। আগামী ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। তার আগেরই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।




রামমন্দিরের উদ্বোধন আজ




শেখ হাসিনাকে বেলারুশের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বেলারুশের প্রধানমন্ত্রী রোমান গোলভচেঙ্কো।



৯ মার্চ পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ঠিক ৫ বছর পরেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এ ভোটগ্রহণের মাধ্যমে পটুয়াখালী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

রোববার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন আগামী ৯’ই মার্চ দেশের ৯টি পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে পৌরসভাগুলোতে ভোটগ্রহণ করতে কমিশন ফাইল অনুমোদন করেছে।

তিনি আরও বলেন, সবগুলো পৌরসভাতেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে নির্বাচনের খবর ছড়িয়ে পরায়, পটুয়াখালী পৌর এলাকায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।




পটুয়াখালী-৪: নির্বাচনের পরও থামছে না সহিংসতা, আত্মগোপনে অনেক নেতাকর্মী

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অুনষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের আগে থেকেই পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া – রাঙ্গাবালী) আসনের মহিপুরের কয়েকটি ইউনিয়নে ছড়িয়ে পরে উত্তেজনা। নির্বাচনের ১৫ দিন পার হলেও থামছে না সহিংসতা। এখন পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন। মারধরের ভয়ে এখনও বাজার ঘাটে উঠতে পারছেন না অনেকে। আত্মগোপনে চলে গেছেন বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতা। মামলা করতেও সাহস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। যার ফলে কোণঠাসা হয়ে পরেছে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত আওয়ামী লীগের নেতারা। এতে ঝিমিয়ে পড়েছেন মাঠ পর্যায়ের সাধারণ কর্মীরা।

সর্বশেষ গত শুক্রবার সন্ধ্যায় লতাচাপলী ইউনিয়নের ডংকুপাড়া গ্রামের বটতলা নামক স্থানে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন বরিশাল বিএম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আসাদ মোল্লা। নৌকার প্রতীকের কর্মী আব্দুর রহিম মুসুল্লী ও তার ছেলে রাব্বী মুসুল্লী কুপিয়ে আসাদ মোল্লাকে রক্তাক্ত জখম করেছেন। তার মাথায় ছয়টি ও হাতে একটি কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত আসাদ বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আসাদ মোল্লা লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা এবং কুয়াকাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার ভাতিজা। তার বাবার নাম ফারুক মোল্লা। এ ঘটনায় আসাদ মোল্লার মামা নাসির গাজী বাদী হয়ে মহিপুর থানায় চারজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছে।

এ প্রসঙ্গে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, শুক্রবার রাতেই থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার একই সময় আলীপুর থ্রিপয়েন্ট এলাকায় হামলার শিকার হন ইসমাইল ফরাজী নামের এক যুবক। নৌকার কর্মীরা হাতুরি দ্বারা পিটিয়ে ইসমাইল ফরাজীর দুই পায়ের হাটু পর্যন্ত থেতলে দিয়েছেন। ইসমাইল ফরাজী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সে লতাচাপলী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের পান্না মিয়া ফরাজীর ছেলে।

এর আগে নির্বাচনের পরদিন আলীপুর চৌরাস্তায় নৌকার কর্মীদের হামলার শিকার হন মোশাররফ মোল্লা। তাকেও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই পায়ের হাটু পর্যন্ত থেতলে দেয়া হয়েছে। সপ্তাহখানেক বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় আনা হয়েছে। হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানের ক্ষত ভালো হলে দু’পায়ের অপারেশনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন চিকিৎসক। মোশাররফ মোল্লা লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো.আনছার উদ্দিন মোল্লা এবং কুয়াকাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার ছোট ভাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি (রোববার) রাতে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে আজ সোমবার (২২ জানুয়ারি) এখন পর্যন্ত পটুয়াখালী-৪ আসনের মহিপুরের লতাচাপলী, মহিপুর, ধুলাসার, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন ও কুয়াকাটা পৌর এলাকায় অন্ততপক্ষে অর্ধশত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের সমর্থক বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারছেন না। এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া পরিবহন কাউন্টার ও শ্রমিক সংগঠনগুলোতে এসেছে নতুন নেতৃত্ব।

লতাচাপলী ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান তালুকদারের আলীপুরস্থ নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর, প্রদীপ ও স্বপন নামের ২ জন সংখ্যালঘুর বাড়িতে হামলা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়ছে।

এছাড়া আলীপুরের বাজার পাহারাদার আব্দুর রহিম, ভ্যানচালক হাচান প্যাদা, মুরগী ব্যবসায়ী আলী হোসেন, মাছ ব্যবসায়ী সোহাগ, ইউপি সদস্য মিজান মুসুল্লী হামলার শিকার হয়েছেন। এখনো দোকান খুলতে পারছেন না অপু গাজী, আবু বক্কর মল্লিক। এমন অভিযোগ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লাসহ অনেক নেতারা।

এ বিষয়ে লতাচাপলী ইউনিয়ন আ. লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, প্রতিনিয়ত আমার হাত, পা কেটে ফেলার বিভিন্ন হুমকি ধামকি আসছে। আমি চাই এই প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করা হোক। সুষ্ঠু ধারায় রাজনীতি চলুক।

লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমান বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বিষয়গুলো উপজেলা নেতাদের অবহিত করা হচ্ছে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

এদিকে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থাকা নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস পৌর আ’লীগের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টানিয়েছেন পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার। তবে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ লাভ করতে পারেন নি। কুয়াকাটা পৌরসভায় দু’টি দলীয় কার্যালয় হওয়ায় বিভ্রান্তিতে পরেছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করার জন্য বর্তমান মেয়র নির্বাচনী অফিস দলীয় কার্যালয় বানিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি। তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্য পদ পাননি। বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীরকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন।

এ প্রসঙ্গে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব তালুকদার বলেন, কুয়াকাটায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় একটি। মেয়র আনোয়ার হাওলাদার যেটি করেছেন ওটি নির্বাচনী অফিস।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরবর্তী যারা সহিংসতা করছে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনী পরবর্তী কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে স্বীকার করে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতা রোধে মহিপুর থানা পুলিশ সবসময় সতর্ক আছে। যারা সহিংসতা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৪ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়ে টানা দ্বিতীয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মহিববুর রহমান মহিব। তিনি বর্তমানে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থী সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান তালুকদার। হেভিওয়েট এ দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা জড়িয়ে পরেছেন নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায়।




জরুরি সভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জরুরি সভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ। সোমবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা অংশ নেবেন। রোববার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বিষয়টি জানিয়েছেন।